ভিসা সাক্ষাৎকারের আগে বন্ড পরিশোধ নয় : মার্কিন দূতাবাস

ডেস্ক নিউজঃ বাংলাদেশের নাগরিক যারা পর্যটন বা ব্যবসার উদ্দেশে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে চান তাদের জন্য বুধবার থেকে ভিসা বন্ড নীতি কার্যকর হবে। তবে ভিসা সাক্ষাৎকারের আগে কোনোভাবেই বন্ড পরিশোধ না করার জন্য আবেদনকারীদের স্পষ্টভাবে সতর্ক করেছে ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস। সোমবার মার্কিন দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের মধ্যে যারা ব্যবসা বা পর্যটন ভিসা (বি-১/বি-২) আবেদন করে অনুমোদন পাবেন, তাদের সর্বোচ্চ ১৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে। তবে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারির আগে ইস্যু করা বৈধ বি-১/বি-২ ভিসাধারীদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ভিসা সাক্ষাৎকারের আগে বন্ড পরিশোধ করবেন না। আগাম বন্ড পরিশোধ করলে তা ভিসা পাওয়ার কোনো নিশ্চয়তা দেয় না। এ ছাড়া তৃতীয় পক্ষের ওয়েবসাইট প্রতারণামূলক হতে পারে। সাক্ষাৎকারের আগে পরিশোধ করা কোনো অর্থ ফেরতযোগ্য নয়। তবে ভিসার শর্তাবলি যথাযথভাবে অনুসরণ করলে পরবর্তীতে বন্ডের অর্থ ফেরত দেওয়া হবে।

এর আগে, ৬ জানুয়ারি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ভ্রমণবিষয়ক ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আবেদনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশসহ মোট ৩৮টি দেশের নাগরিকদের জন্য সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।




চানখারপুলে ৬ শিক্ষার্থী হত্যা মামলার রায়ের তারিখ পেছাল

ডেস্ক নিউজঃ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে রাজধানীর চানখারপুলে ৬ শিক্ষার্থী হত্যা মামলার রায়ের তারিখ পিছিয়েছে। নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ২৬ জানুয়ারি। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ রায়ের এ নতুন তারিখ ধার্য করেন।

এদিকে, আজ মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) এই রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারিত ছিল। জুলাই-আগস্ট হত্যাযজ্ঞ মামলার এটি ছিল দ্বিতীয় রায়।

সাবেক ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ এই মামলায় অভিযুক্ত ৮ পুলিশ সদস্যের সর্বোচ্চ শাস্তির প্রত্যাশা প্রসিকিউশনের।

জেআইসি সেলে গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সোমবার (১৯ জানুয়ারি) ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেন ভুক্তভোগী হুম্মাম কাদের চৌধুরী। সাক্ষ্যপ্রদান শেষে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও গুমের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সুষ্ঠু বিচার চান তিনি।

এ ছাড়া, সোমবার জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নারায়ণগঞ্জে ১০ জনকে হত্যা মামলায় সাবেক এমপি শামীম ওসমানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।




নিরাপদ দেশ গড়তে চাইলে হ্যাঁ ভোট দিন : স্বাস্থ্য উপদেষ্টা

ডেস্ক নিউজঃ অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নুরজাহান বেগম বলেছেন, ন্যায় বিচার, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজমুক্ত এবং ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য নিরাপদ দেশ রেখে যেতে চাইলে হ্যাঁ ভোট দিন।

সোমবার বিকেলে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসনের কালেক্টরেট চত্বরে গণভোট ২০২৬ উপলক্ষে ভোটের গাড়ি ক্যারাভানের মাধ্যমে গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচিতে তিনি এ  কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমাদের একটা সুযোগ এসেছে। এই সুযোগে যদি সঠিকভাবে ভোটটা না দিতে পারি, তাহলে অতীতের সব কিছুই আরো কঠোর হয়ে বীরদর্পে ফিরে আসবে। মনে রাখবেন আমরা একেবারে খাদের কিনারায় অবস্থান করছি। আমাদের যেন খাদে পড়ে যেতে না হয়, সেজন্য হ্যাঁ ভোট দিতে হবে।

তিনি বলেন, ন্যায্যতার ভিত্তিতে বিচার ও সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাইলে সবাইকে হ্যাঁ ভোট দিতে হবে। কোন জেলার মানুষ কত হ্যাঁ ভোট দিলেন আমরা কিন্তু সেটাও মনিটরিং করব।
এ ছাড়াও দেশব্যাপী স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতের অব্যবস্থাপনার চিত্র তুলে ধরে আগামী সংসদ সদস্য নির্বাচনে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে যে ভালো করতে পারবে সেই রকম সৎ ও ভালো মানুষদের ভোট দেওয়ারও আহ্বান জানান স্বাস্থ্য উপদেষ্টা।

সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. সাইদুর রহমান বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন।

সভায় সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন নুরুল আমিন, পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চুসহ জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে এনসিপির প্রতিনিধিদলের বৈঠক

ডেস্ক নিউজঃ প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চার সদস্যদের প্রতিনিধি দল।

সোমবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে এতে অংশ নেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া, সেক্রেটারি মনিরা শারমিন এবং আইনি সহায়তাবিষয়ক উপকমিটির প্রধান জহিরুল ইসলাম মূসা।

এসময় সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে নির্বাচন নিয়ে পর্যবেক্ষণ ও বিভিন্ন উদ্বেগ জানান এনসিপি নেতৃবৃন্দ। তারা বলেন, গণভোটে “হ্যাঁ” এর পক্ষে এনসিপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা প্রচারণা করছেন।

এনসিপির নেতৃবৃন্দ নির্বাচন সম্পর্কিত কয়েকটি বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং নির্বাচনে যেন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত হয় সে ব্যাপারে সরকারকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘নির্বাচন সম্পর্কিত যেকোনো অভিযোগ ও পরামর্শ তাৎক্ষণিকভাবে সরকারকে জানাবেন। সরকারের পক্ষ থেকে যে ধরনের ব্যবস্থা নেয়া যায়, সরকার তা নেবে। কেউ যেন আইন অমান্য না করতে পারে সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘নিরপেক্ষতা নিশ্চিতের জন্যই লটারির মাধ্যমে মাঠ প্রশাসনে রদবদল করা হয়েছে। এ নির্বাচনে কোনো পক্ষপাতিত্বের সুযোগ নেই। এই নির্বাচন দেশের ভাগ্য নির্ধারণের নির্বাচন। এ নির্বাচন দেশ পাল্টে দেওয়ার নির্বাচন। এই নির্বাচন সুষ্ঠু হতেই হবে।’

অধিকাংশ কেন্দ্র জানুয়ারির মধ্যেই সিসি ক্যামেরার আওতাধীন আনা হবে বলে জানান প্রধান উপদেষ্টা। এছাড়া ঝুঁকির আশঙ্কা আছে এমন কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বডি ক্যামেরা থাকবে। কন্ট্রোল রুম থেকে এগুলো সব মনিটর করা হবে বলেও জানান তিনি।

গণভোটে “হ্যাঁ” ভোটের পক্ষে সরকার আইনসম্মতভাবেই প্রচারণা করছে জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘গণভোটে “হ্যাঁ” ভোট কেন দেওয়া প্রয়োজন, “হ্যাঁ” ভোট দিলে কী হবে আমরা তা জনগণকে বোঝানোর চেষ্টা করছি। এ ব্যাপারে সকল রাজনৈতিক দলকেও আহ্বান জানিয়েছি। এবারের নির্বাচন যাতে সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে হয় এই দায়িত্ব সকলের-সরকার, নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দল-আমাদের সবার। এ ব্যাপারে সকল রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা কামনা করেন প্রধান উপদেষ্টা।




নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক চলছে

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেল ৩টা ৫৬ মিনিটে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে বৈঠকটি শুরু হয়।

বৈঠকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চেয়ারপারসনের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য হুমায়ুন কবির এবং উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মাহাদি আমিন উপস্থিত ছিলেন।

ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের একাধিক কর্মকর্তাও রয়েছেন।

ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন ওয়াশিংটন ডিসিতে শপথ গ্রহণের দুই দিন পর গত ১২ জানুয়ারি ঢাকায় পৌঁছান।




আজ জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী

ডেস্ক নিউজঃ বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী আজ ১৯ জানুয়ারি। ১৯৩৬ সালে বগুড়ার গাবতলীর বাগবাড়ীর এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন জিয়াউর রহমান। শিক্ষাজীবন শেষে ১৯৫৩ সালে তিনি যোগ দেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তান সামরিক বাহিনী এ দেশের (তত্কালীন পূর্ব পাকিস্তান) জনগণের ওপর আক্রমণ করার পর তিনি পাকিস্তানি অধিনায়ককে বন্দি করে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। ২৬ মার্চ তিনি চট্টগ্রাম কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশে যখন মানুষের বাক্ ও মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে হরণ করে গণতন্ত্রকে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছিল, তেমন এক সংকটকালে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সৈনিক জনতার এক বিপ্লবের মাধ্যমে জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রক্ষমতার হাল ধরেন।

ক্ষমতায় এসেই তিনি বিচার বিভাগ ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিয়ে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। তিনি শুরু করেছিলেন উত্পাদনের রাজনীতি, দেশকে স্বনির্ভর করে গড়ে তুলতে কৃষি বিপ্লব, গণশিক্ষা বিপ্লব ও শিল্প উত্পাদনে বিপ্লব, সেচ ব্যবস্থা আধুনিকীকরণ ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে স্বেচ্ছাশ্রম ও সরকারি সহায়তার সমন্বয় ঘটিয়ে ১৪০০ খাল খনন ও পুনর্খনন করেন। গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রবর্তন করে অতি অল্প সময়ে ৪০ লাখ মানুষকে অক্ষরজ্ঞান দান করেন। এছাড়া গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী গঠন করে গ্রামাঞ্চলে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার ব্যবস্থা করেন।

জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন। তার প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপি তিন বার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ছিল। বর্তমানে দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন জিয়াউর রহমানের জ্যেষ্ঠপুত্র তারেক রহমান।

শহীদ জিয়াউর রহমানের জন্মদিন উপলক্ষ্যে বাণী দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, জিয়াউর রহমান ছিলেন তার জীবদ্দশায় সকল ক্রান্তিকাল উত্তরণে অন্যতম দিশারী। রণনায়ক হিসেবে জিয়াউর রহমান ছিলেন দেশাবাসীর কাছে সমাদৃত ও সম্মানিত। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ হানাদার বাহিনীর নৃশংস গণহত্যার বিরুদ্ধে তিনি সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। ২৬ মার্চ চট্টগ্রাম কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে জিয়া বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে তিনি মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। দীর্ঘ ৯ মাস অসীম বীরত্বে দেশমাতৃকার মুক্তির জন্য লড়াই চালিয়ে যান।

কর্মসূচি :আজ সকাল ১১টায় দিবসটি উপলক্ষ্যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শেরেবাংলা নগরস্থ মাজারে বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যবৃন্দসহ সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করবেন। আগামীকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টায় কাকরাইলস্থ ইন্সটিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স-বাংলাদেশ-এর মাল্টিপারপাস মিলনায়তনে আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হবে। আলোচনাসভায় বিএনপির জাতীয় নেতৃবৃন্দসহ দেশের বরেণ্য ব্যক্তিবর্গ বক্তব্য রাখবেন।

জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশে দলীয় কার্যালয়গুলোতে আজ দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনগুলোর উদ্যোগে দেশের সকল জেলা, মহানগর, উপজেলা, থানা ও বিভিন্ন ইউনিটসমূহে স্থানীয় সুবিধা অনুযায়ী আলোচনাসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।




প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে জামায়াত

ডেস্ক নিউজঃ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের প্রতিনিধি দল রোববারর (১৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টা ১৭ মিনিটে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনাতে প্রবেশ করেছেন। তারা প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

দলের পক্ষ থেকে আমিরের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। এর আগে অন্য একটি গাড়িতে যমুনায় প্রবেশ করেন দলের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান।

ধারণা করা হচ্ছে, এই বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, নির্বাচনী প্রস্তুতি ও অন্যান্য সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হবে।




গণভোটের পক্ষে সরকারের প্রকাশ্য সমর্থন নিয়ে সমালোচনা, ব্যাখ্যা দিল প্রেস উইং

ডেস্ক নিউজঃ জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ বাস্তবায়ন বিষয়ে আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অন্তর্বর্তী সরকার ও প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের প্রকাশ্য সমর্থন গণতান্ত্রিক আদর্শের পরিপন্থি নয় বলে দাবি করেছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে পাঠানো এক বিবৃতিতে প্রেস উইং জানায়, অন্তর্বর্তী সরকারের এই অবস্থান কোনোভাবেই নিরপেক্ষতার লঙ্ঘন নয়; বরং এটি সরকারের দায়িত্ব ও সংস্কারমূলক ম্যান্ডেটের স্বাভাবিক বহিঃপ্রকাশ।

বার্তায় বলা হয়, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার শুধু দৈনন্দিন রাষ্ট্র পরিচালনা বা নির্বাচন আয়োজনের জন্য গঠিত হয়নি। দীর্ঘদিনের অপশাসন, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা ও গণতান্ত্রিক সংকটের প্রেক্ষাপটে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে এই সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। সরকারের মূল দায়িত্ব হলো রাষ্ট্রকে স্থিতিশীল করা, গণতান্ত্রিক বিশ্বাসযোগ্যতা পুনরুদ্ধার করা এবং নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের আগে প্রয়োজনীয় সংস্কারের একটি গ্রহণযোগ্য কাঠামো প্রস্তুত করা।

প্রেস উইং আরও জানায়, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস গত প্রায় ১৮ মাস ধরে রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, পেশাজীবী ও তরুণদের সঙ্গে ধারাবাহিক পরামর্শের মাধ্যমে যে সংস্কার প্রস্তাব তৈরি করেছেন, বর্তমান সংস্কার প্যাকেজ তারই প্রতিফলন। ফলে এই সংস্কারের পক্ষে তার অবস্থান নেওয়াকে অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলা যায় না।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, আন্তর্জাতিক গণতান্ত্রিক চর্চায় সরকারপ্রধানদের গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক বা প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তন নিয়ে প্রকাশ্যে মতামত দেওয়া অস্বাভাবিক নয়। গণভোটের ক্ষেত্রে নেতারা তাদের অবস্থান জনগণের সামনে ব্যাখ্যা করেন এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ভোটারদের ওপর ছেড়ে দেন— এটাই গণতান্ত্রিক রীতি।

প্রেস উইং জানায়, গণতান্ত্রিক বৈধতার মূল প্রশ্ন হলো— ভোটাররা স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে পারছেন কি না, বিরোধী পক্ষ সমানভাবে প্রচারের সুযোগ পাচ্ছে কি না এবং পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য কি না। বর্তমান পরিস্থিতিতে এসব শর্ত অক্ষুণ্ণ রয়েছে বলে দাবি করা হয়।

সংস্কার গণভোটকে দীর্ঘদিনের শাসনব্যর্থতার জবাব হিসেবে উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, এই মুহূর্তে নীরবতা নিরপেক্ষতার প্রতীক নয়; বরং তা দায়িত্বশীল নেতৃত্বের অভাব নির্দেশ করে। যে অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব সংস্কারের দায়িত্ব নিয়ে গঠিত, তাদের পক্ষে সংস্কারের পক্ষে কথা বলা পক্ষপাত নয়, বরং প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব।

আন্তর্জাতিক উদাহরণ টেনে প্রেস উইং জানায়, যুক্তরাজ্য, স্কটল্যান্ড, ফ্রান্স, তুরস্ক ও কিরগিজস্তানের মতো দেশে সরকারপ্রধানরা গুরুত্বপূর্ণ গণভোটে প্রকাশ্যে পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, যা গণতান্ত্রিক রীতির অংশ হিসেবে স্বীকৃত।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আরও বলা হয়, এই গণভোটের ফলাফলের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো নির্বাচনী স্বার্থ জড়িত নয়। সংস্কার গৃহীত বা প্রত্যাখ্যাত হলে তার বাস্তবায়নের দায়িত্ব থাকবে ভবিষ্যৎ নির্বাচিত সরকারের ওপর।

জেলা পর্যায়ে সরকারি সম্পৃক্ততা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবে প্রেস উইং জানায়, প্রশাসনের মাধ্যমে পরিচালিত কার্যক্রমের লক্ষ্য হলো সংস্কারের বিষয়বস্তু জনগণের কাছে স্পষ্ট করা, বিভ্রান্তি দূর করা এবং ভোটারদের সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করা।

বিবৃতির শেষে বলা হয়, সংস্কার প্রশ্নে দ্বিধা বা নীরবতাই এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি। ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রধান উপদেষ্টার অবস্থান অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কারমূলক ম্যান্ডেট, আন্তর্জাতিক গণতান্ত্রিক চর্চা এবং ভোটারদের প্রতি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত থাকবে জনগণের হাতেই— এটাই গণতন্ত্রের প্রকৃত নিশ্চয়তা।




যথেষ্ট সংস্কার হয়েছে: আসিফ নজরুল

ডেস্ক নিউজঃ কিছু মানুষের কাছে সংস্কার নিয়ে নেতিবাচক কথা উদ্দীপকের মতো বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। তিনি বলেছেন, ‘কোনো সংস্কার হয় নাই, এটা ঠিক নয়। যথেষ্ট হয়েছে। এক্সপেকটেশন যদি ১০ থাকে, অন্তত চার তো অর্জন করতে পেরেছি।’

রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং আইনের শাসন’ শীর্ষক নীতি সংলাপে আসিফ নজরুল এ কথাগুলো বলেন।

সংস্কার প্রসঙ্গে আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘অনেকে বলেন, সরকার কারও সঙ্গে কোনো পরামর্শ করেনি। এটা খুব হাস্যকর একটা কথা। যে কমিশনগুলো করা হয়েছে, এত এক্সটেনসিভ লেভেলে কনসালটেশন ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন করার সময়ও করা হয়নি।’

নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে আসিফ নজরুল বলেন, বলা হয় যে তাদের কথা রাখা হয়নি। তারা ১০টা কথা বললে, অন্তত ৬টা রাখা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘প্লিজ, সত্য কথা বলেন।’

তিনি বলেন, ‘শুধুমাত্র ১০ বছর জয় বাংলা আর বাংলাদেশ জিন্দাবাদ বললে বিচারক হতে পারবেন না। উচ্চ আদালতেও কিছু সংস্কারের প্রয়োজন, সেটা উচ্চ আদালত থেকেই হবে।’

আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য যা যা আইন করা দরকার, সবই আমরা করেছি। এর ধারাবাহিকতায় রুল অব ল প্রতিষ্ঠায় আরও ৫/১০ বছর লাগবে। আমরা সংস্কারের পথে এগিয়েছি। নির্বাচিত সরকার এ ধারা ধরে রাখলে জনগণ সংস্কারের সুফল পাবে।’




আজ শাবানের চাঁদ দেখা যাবে কি, শবেবরাত কবে?

ডেস্ক নিউজঃ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে আজ রবিবার (১৮ জানুয়ারি) হিজরি ১৪৪৭ সনের শাবান মাসের চাঁদের সন্ধান করা হবে। বর্তমানে ওই অঞ্চলে রজব মাসের ২৯তম দিন চলছে। শাবান মাসের ১৫তম রাতে মুসলমানদের ধর্মীয় রাত শবেবরাত পালিত হয়।

সংবাদমাধ্যম গালফ টুডে জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিদ্যা কেন্দ্রের হিসাব অনুযায়ী আজ মধ্যপ্রাচ্যের কোথাও শাবানের চাঁদ দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। ফলে রজব মাস ৩০ দিনে পূর্ণ হতে পারে এবং আগামী মঙ্গলবার থেকে শাবান মাস শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিদ্যা কেন্দ্রের পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মেদ শওকত ওদেহ জানান, আজ শাবানের চাঁদের জন্ম হলেও সূর্যাস্তের আগেই তা অস্ত যাবে। এ কারণে আজ খালি চোখে চাঁদ দেখা সম্ভব নয়। তবে আগামীকাল সোমবার খালি চোখেই চাঁদ দেখা যেতে পারে।

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ওমান, জর্ডান, সিরিয়া, লিবিয়া, মরক্কো, মৌরিতানিয়া ও আলবেনিয়ায় সোমবার টেলিস্কোপের মাধ্যমে শাবানের চাঁদ দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এই হিসাবে মধ্যপ্রাচ্যে শবেবরাত পালিত হতে পারে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি রাতে। বাংলাদেশেও যদি সোমবার শাবানের চাঁদ দেখা যায়, তাহলে একই রাতে শবেবরাত পালিত হবে। তবে চাঁদ দেখা না গেলে দেশে শবেবরাত পালিত হতে পারে ৪ ফেব্রুয়ারি রাতে।

সূত্র: গালফ টুডে