বাংলাদেশিদের জন্য ট্যুরিস্ট ভিসা চালু করলো ভারত

ডেস্ক নিউজঃ প্রায় দুই বছর পর বাংলাদেশিদের জন্য আবার ট্যুরিস্ট ভিসা চালু করল ভারত। এজন্য আবেদন করা যাবে আগামী ২৮ জুন থেকে। ভিসা প্রদান শুরু হবে ১ জুলাই থেকে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কে ঢাকার ভারতীয় ভিসা কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান ঢাকায় নিযুক্ত ভারতে নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।

তিনি জানান, ট্যুরিস্ট ভিসার পাশাপাশি বাংলাদেশিদের জন্য মেডিকেল ভিসা কার্যক্রমও চালু থাকবে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা ও সিলেটের পাঁচটি ভিসা সেন্টার থেকে আবেদনকারীরা সেবা নিতে পারবেন।হাইকমিশনার আরও বলেন, ভবিষ্যতে ভিসা সেন্টারের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি মেডিকেল ভিসাপ্রত্যাশী, শিশু ও প্রতিবন্ধী আবেদনকারীদের জন্য বিশেষ সুবিধা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এদিকে ভারত সরকার দীনেশ ত্রিবেদীকে মন্ত্রীর সমমর্যাদা প্রদান করেছে বলে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশি ভ্রমণপ্রত্যাশীদের জন্য ট্যুরিস্ট ভিসা পুনরায় চালুর এ সিদ্ধান্ত দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ ও পর্যটন কার্যক্রম আরও জোরদার করবে বলে মনে করা হচ্ছে।




চীনে বাংলাদেশের প্রথম বিনিয়োগ কার্যালয় খোলার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

ডেস্ক নিউজঃ চীনে শিগগিরই বাংলাদেশের প্রথম বিনিয়োগ কার্যালয় খোলার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেই সঙ্গে বাংলাদেশে ভ্যালু চেইন সম্প্রসারণে চীনা কোম্পানিগুলোকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ বিনিয়োগ ফোরামে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা শিগগিরই চীনে আমাদের প্রথম ‘বিনিয়োগ কার্যালয’ খুলতে যাচ্ছি। আমাদের উদ্দেশ্য খুবই সহজ। চীনা বিনিয়োগকারীদের সহায়তা পাওয়ার জন্য বাংলাদেশে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে না। আমরা আপনাদের আরও কাছাকাছি থাকতে, আপনাদের সাথে আরও নিয়মিত কথা বলতে এবং আগ্রহ থেকে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করতে আপনাদের সাহায্য করতে চাই।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বহু দশকের একটি সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। এটি আস্থা, শ্রদ্ধা এবং বাস্তব সহযোগিতার একটি সম্পর্ক।  বিগত বছরগুলোতে এই সম্পর্কটি কূটনীতি থেকে উন্নয়নে, উন্নয়ন থেকে বাণিজ্যে এবং এখন বাণিজ্য থেকে আরও গভীর শিল্প অংশীদারিত্বে রূপান্তরিত হয়েছে। আজ আমি সেই পরবর্তী অধ্যায়টি নিয়ে কথা বলতে চাই।

সরকারপ্রধান বলেন, বাংলাদেশ এক বিশাল অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আমরা আমাদের যাত্রাপথের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছি এবং আমি স্পষ্টভাবে বলতে পারি যে, বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত, ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত এবং আমাদের অন্যতম দীর্ঘদিনের ও বিশ্বস্ত বন্ধু চীনের সাথে কাজ করতে আগ্রহী।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ এখন বৈশ্বিক ব্যবসার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। বিনিয়োগ আকর্ষণে আমলাতান্ত্রিক জড়তা দূর করতে তার সরকার ইতোমধ্যে ১৮০ দিনের কঠোর কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এখন থেকে মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে নতুন ব্যবসার লাইসেন্স অনুমোদন করা হবে। বিদেশী বিনিয়োগকারীরা বৈষম্যহীন আচরণ, আমাদের আইন ও প্রবিধান অনুযায়ী মূলধন ও লভ্যাংশ ফেরত এবং শক্তিশালী আইনি সুরক্ষা আশা করতে পারেন।

এছাড়াও চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য চট্টগ্রামের আনোয়ারায় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং মোংলায় দ্বিতীয় জোনের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে বলে জানান সরকারপ্রধান। এই স্থানগুলো লজিস্টিকস, বন্দর সংযোগ, পরিষেবা, কর্মী, সরবরাহকারী এবং একটি দীর্ঘমেয়াদী ইকোসিস্টেম প্রদান করে বলে উল্লেখ করেন তারেক রহমান।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি, আইটি, উন্নত বস্ত্রশিল্প ও ফার্মাসিউটিক্যালস খাতে বিশেষ নীতিগত সুবিধা ও প্রণোদনার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা লভ্যাংশ ফেরত নেওয়া ও আইনি সুরক্ষার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবেন।

এসময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনা কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশের পরবর্তী অর্থনৈতিক বিস্ময়ের অংশীদার হওয়ার জোর আহ্বান জানান।




নবম পে-স্কেল চূড়ান্ত, এলপিআর- এ থাকা কর্মকর্তারাও পেতে পারেন সুবিধা

ডেস্ক নিউজঃ সরকারি চাকরিজীবীদের জীবনযাত্রার মান ও বর্তমান বাজারদরের সাথে সামঞ্জস্য রেখে এই নতুন পে স্কেল প্রবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সভা সূত্রে জানা গেছে, জনপ্রশাসন সংক্রান্ত পে কমিশনের সুপারিশগুলো চূড়ান্ত রূপ পেলেও বিচার বিভাগ ও সশস্ত্র বাহিনীর বেতন কাঠামো নিয়ে বিশেষ গুরুত্ব সহকারে পর্যালোচনা চলছে। এই দুই খাতের জন্য করা সুপারিশগুলো নিয়ে সভায় বিস্তর আলোচনা হয়েছে। প্রশাসনিক জটিলতা কাটিয়ে এবং সব পক্ষের যৌক্তিক দাবি বিবেচনায় নিয়ে খুব দ্রুতই তাদের জন্য চূড়ান্ত প্রস্তাবনা পেশ করা হবে। এ লক্ষ্যে সচিব কমিটি আরেকটি জরুরি সভার ডাক দিতে পারে বলে জানা গেছে।
নতুন বেতন স্কেলে পিআরএল বা এলপিআর (অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটি) ভোগরত কর্মকর্তাদের জন্য বড় সুখবর রয়েছে।

জানা যায়, যারা বর্তমানে অবসর-উত্তর ছুটিতে বা এলপিআর সুবিধায় রয়েছেন, তারাও নবম পে স্কেলের আওতায় সুবিধাভোগী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হবেন। সরকারের এই মানবিক ও যুগোপযোগী সিদ্ধান্তের ফলে অবসরগামী কর্মকর্তাদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হতে যাচ্ছে।

বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও স্বস্তি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন এই পে স্কেল কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। তবে প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কিছুটা সময়ের প্রয়োজন হওয়ায় বর্ধিত বেতনের আর্থিক সুবিধা হাতে পেতে সরকারি চাকরিজীবীদের অক্টোবর মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। জুলাই মাস থেকে ধাপে ধাপে এটি বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে, যা সরকারি খরচের সামঞ্জস্য বজায় রেখে ধাপে ধাপে সম্পন্ন করা হবে।

নবম পে স্কেলে ঠিক কত শতাংশ হারে মূল বেতন বৃদ্ধি পাবে, তা নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসলেও অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে সরকার তিনটি ভিন্ন বিকল্প নিয়ে কাজ করছে।

প্রথম প্রস্তাবনা অনুযায়ী, সব গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতনের ওপর ৫০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির একটি রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। দ্বিতীয় বিকল্পে ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তাদের জন্য ৪০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য ৬০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিকল্প হিসেবে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের কথা মাথায় রেখে তাদের মূল বেতন শতভাগ পর্যন্ত বৃদ্ধির একটি বিশেষ প্রস্তাবনাও সচিব কমিটির বিবেচনায় রয়েছে।

মুদ্রাস্ফীতি ও বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সরকার এমন একটি ভারসাম্যপূর্ণ বেতন কাঠামো প্রবর্তনের চেষ্টা করছে, যাতে সর্বস্তরের সরকারি চাকরিজীবীরা অর্থনৈতিকভাবে উপকৃত হন এবং কর্মক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা বৃদ্ধি পায়।




জামায়াতপন্থী আইন কর্মকর্তাদের পদত্যাগকে ‘পলিটিক্যাল স্টান্টবাজি’ বলছে বিএনপি

ডেস্ক নিউজ : জামায়াতপন্থী ১৮ আইন কর্মকর্তার একযোগে পদত্যাগকে রাজনৈতিক স্টান্টবাজি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার এম বদরুদ্দোজা বাদল। আজ বুধবার সুপ্রিম কোর্টের এনেক্স ভবনের সামনে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক বলেন, ‘যখনই সরকার পরিবর্তন হয়, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এবং অ্যাটর্নি জেনারেল পদে থাকা ব্যক্তিরা স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করে চলে যান, এটাই বাংলাদেশে সবসময় হয়ে এসেছে। ইন্টারেস্টিং বিষয় হলো, যে বন্ধুরা গতকাল পদত্যাগ করেছেন, উনারা এই সরকারের অধীনে আইন কর্মকর্তা হিসেবে চার মাস কাজ করেছেন, বেতন নিয়েছেন, সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন, পদ-পদবি ব্যবহার করেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইন্টারেস্টিং বিষয় হল, যে বন্ধুরা গতকাল পদত্যাগ করেছেন, উনারা এই সরকারের অধীনে আইন কর্মকর্তা হিসেবে চার মাস কাজ করেছেন, বেতন নিয়েছেন, সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন, পদ-পদবি ব্যবহার করেছেন। চার মাস পরে উনাদের মনে হল যে এখন তো আসলে পদত্যাগ করা দরকার অথবা রিমুভড হবেন। এইজন্য উনারা রাজনৈতিক কিছু বিষয় নিয়ে এসেছেন, যেটা খুবই অনাকাঙ্ক্ষিত।’

একযোগে এই পদত্যাগের বিষয়টিকে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ আখ্যায়িত করে বদরুদ্দোজা বাদল বলেন, ‘উনাদের ওই বক্তব্যটা টোটালি পলিটিক্যাল স্ট্যান্টবাজি, রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত। তারা যদি সরকারের বিরুদ্ধে আচরণই করত, তারা যদি সরকারের সুযোগ-সুবিধাই না নিত, তাহলে সরকার গঠন হওয়ার পরদিনই তাদের পদত্যাগ করে চলে যাওয়ার কথা।”

বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক বলেন, ‘আমি অ্যাটর্নি জেনারেল সাহেবকে আপনাদের মাধ্যমে বলতে চাই যে, এই চার মাস উনারা সরকারের পক্ষে কাজ করেছে, নাকি সরকারের বিপক্ষে স্যাবোটাজ করেছে? এই চার মাসের যতগুলো ফাইল ছিল, সবগুলো ফাইল যেন উনারা একটু খোঁজখবর নিয়ে দেখা হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘সরকারের কাছ থেকে বেতন-ভাতা, সুযোগ-সুবিধা সব নিয়ে, আর চার মাস কাজ করে, দিনশেষে পদত্যাগ করে আবার সরকারের বিরুদ্ধেই অবস্থান নেবে; এতে মনে হচ্ছে তারা অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিসে সরকারের স্বার্থ রক্ষার জন্য কাজ করেনি। আপিলের ক্ষেত্রে তারা কী নোট দিয়েছেন বা সরকারের স্বার্থ রক্ষা করেছেন কি না, সেটি এখন দেখা দরকার।’

প্রসঙ্গত, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করা, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগ অধ্যাদেশ পাস না করার প্রতিবাদে গতকাল মঙ্গলবার পদত্যাগ করেছেন রাষ্ট্রের ১৮ জন আইন কর্মকর্তা।

তাদের মধ্যে ৭ জন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) এবং ১১ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল (এএজি) । জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক এই আইন কর্মকর্তারা অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নিয়োগ পেয়েছিলেন।

পদত্যাগকারী সাতজন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) হলেন— মো. ইউসুফ আলী, মুহাম্মদ শফিকুর রহমান, মুহাম্মদ আবদুল করিম, ফরিদ উদ্দিন খান, মো. গোলাম রহমান ভূঁইয়া, মো. আসাদ উদ্দিন ও মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।

এ ছাড়া ১১ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল (এএজি) হলেন— ইমরুল কায়েছ, মো. হুমায়ুন কবির, মো. আবদুল কাইয়ুম ভুঁইয়া, আবদুল্লাহিল মারফ ফাহিম, মো. জোবায়দুর রহমান, মোহাম্মদ শামসিল আরেফিন, মাহাবুবা আক্তার রলী, মীর এ কে এম নূরুননবী, আল রেজা মো. আমির, মো. রেজাউল ইসলাম ও মো. জাকির হোসেন।




৬ মাসের মধ্যে শেষ হবে কাঁচপুর টার্মিনালের কাজ, যানজটমুক্ত হবে ঢাকা

ডেস্ক নিউজ : রাজধানীর যানজট নিরসন ও যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে আগামী ছয় মাসের মধ্যে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর বাস টার্মিনালের নির্মাণকাজ শেষ করার ঘোষণা দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ। বুধবার (২৪ জুন) বিকেলে সোনারগাঁও উপজেলার কাঁচপুরে নির্মাণাধীন এই বাস টার্মিনাল প্রকল্প পরিদর্শন শেষে তিনি এ তথ্য জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঢাকাকে যানজটমুক্ত রাখার সমন্বিত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সায়েদাবাদ ও যাত্রাবাড়ী বাস টার্মিনালের চাপ কমাতে এর কিছু অংশ কেরানীগঞ্জ ও কাঁচপুরে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে টার্মিনালটির কার্যক্রম পুরোপুরি চালু করে নাগরিকদের প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

বিগত সরকারের সমালোচনা করে হাবিবুর রশীদ বলেন, আগের সরকারের আমলে চারটি বাস টার্মিনালকে ডিপো হিসেবে ব্যবহার করায় সাধারণ মানুষকে দীর্ঘ সময় যানজটের ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। বর্তমান সরকার রাজধানী ও পার্শ্ববর্তী এলাকার যানজট কমাতে যেসব উদ্যোগ নিয়েছে, তার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের অংশ হিসেবেই এই পরিদর্শন।

সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের চলমান উন্নয়নকাজের ৪৮ শতাংশ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। দেশের সব মহাসড়কের কাজ দ্রুততম সময়ে শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার এগোচ্ছে। পাশাপাশি ঢাকার সিগন্যাল পয়েন্টগুলোতে পর্যায়ক্রমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ট্রাফিক ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হবে।

পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ জিয়াউল হক, প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ ময়নুল হাসান, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান, জেলা প্রশাসক রায়হান কবির এবং সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আল জিনাতসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



মাদকমুক্ত প্রজন্ম গঠনে শিক্ষার ওপর জোর ডেপুটি স্পিকারের

ডেস্ক নিউজ : জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড। আগামী দিনের নেতৃত্ব গড়ে তুলতে শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত হতে হবে।

বুধবার ডেপুটি স্পিকার রাজধানীর ডন বস্কো স্কুল পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি বিদ্যালয়ের অবকাঠামো ঘুরে দেখেন এবং শিক্ষার্থী, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও অভিভাবকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা ও মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন।

শিক্ষার্থীদের মনোযোগসহকারে পড়াশোনা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ডন বস্কো স্কুলে বিভিন্ন ধর্মের শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে পড়াশোনা করছে, যা সম্প্রীতি ও সংস্কৃতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত। শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনো ধরনের বৈষম্যের সুযোগ থাকা উচিত নয়। পাশাপাশি শিশুদের বাংলাদেশি কৃষ্টি-সংস্কৃতি, খেলাধুলা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ডেপুটি স্পিকার শিশু-কিশোরদের মাদকের কবল থেকে রক্ষায় পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বিদ্যালয়ের উন্নয়নে সরকারি সহায়তার আশ্বাসও দেন।

পরিদর্শন শেষে তিনি শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন এবং শিক্ষার্থীদের অটোগ্রাফ দেন। এ সময় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, অভিভাবক প্রতিনিধি, সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।




বেইজিংয়ে প্রধানমন্ত্রীকে লাল গালিচা সংবর্ধনা

ডেস্ক নিউজঃ চীনের দালিয়ান থেকে বেইজিংয়ের চাউমিং রেলওয়ে স্টেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। বুধবার (২৪ জুন) স্থানীয় সময় বিকেল  ৫ টা ৩৫ মিনিটে বেইজিংয়ের চাউমিং রেলওয়ে স্টেশনে এসে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। 
চাউমিং রেলওয়ে স্টেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণীকে লাল গালিচা সংবর্ধনার পাশাপাশি গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। রেলস্টেশন থেকে থেকে প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষ মোটর শোভাযাত্রা সহকারে চীনের দিয়াওইউতাই গেস্ট হাউসে (রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন) নিয়ে যাওয়া হয়। বেইজিংয়ে প্রধানমন্ত্রী ও তার সহধর্মিণীসহ সফর সঙ্গীরা এই গেস্ট হাউসেই থাকবেন।
এর আগে স্থানীয় সময় দুপুর ১ টা ৫৮ মিনিটে দালিয়ান উত্তর রেলওয়ে স্টেশন থেকে হাই স্পিড ট্রেনযোগে (বুলেট ট্রেন) বেইজিংয়ের উদ্দেশে যাত্রা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এসময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম রনি প্রমুখ।
বেইজিংয়ে আসার আগে সকালে চীনের দালিয়ানে ‘ডালিয়ান আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে’ স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ) আয়োজিত ‘গ্রীষ্মকালীন দাভোসে’ বার্ষিক সভায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। গত সোমবার মালয়েশিয়ায় দুইদিনের সফর শেষ করে সফরসঙ্গীদের নিয়ে চীনের দালিয়ানে আসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার প্রধানের দায়িত্ব নিয়ে মালয়েশিয়া ও চীনে এটা তার প্রথম সফর।



নবম পে-স্কেল নিয়ে সচিব কমিটির বৈঠক আজ, আসতে পারে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত

ডেস্ক নিউজঃ আগামী ১ জুলাই থেকে নবম পে-স্কেল কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। ফলে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য প্রস্তাবিত নবম জাতীয় পে-স্কেলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় চূড়ান্ত করতে পে-স্কেল সংক্রান্ত সচিব কমিটি বৈঠকে বসছে বুধবার (২৪ জুন)। কারিগরি ও আইনি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পে-স্কেল কমিটি আজ এ বৈঠক ডেকেছে বলে জানা গেছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগের প্রাথমিক প্রস্তাবনায় ৩টি ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের চিন্তাভাবনা করা হলেও, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জোরালো দাবির মুখে এটি কমিয়ে ২ ধাপে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা যায় কিনা, তা নিয়ে আগামীকাল গভীরভাবে আলোচনা করা হবে।

বেতন বৃদ্ধি, গেজেট প্রকাশ, পে-স্কেল বাস্তবায়নের ধাপ নির্ধারণ, ভাতা বৃদ্ধি, বেতন বৈষম্য নিরসন এবং কারিগরি ও আইনি জটিলতা দূরীকরণসহ নানা বিষয়ে এ বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সূত্রের তথ্য বলছে, শুধু বেসিকের বিষয়টিই নয়; সচিব কমিটির সভায় পে-কমিশনের সুপারিশের কতটুকু কার্যকর করা হবে অর্থাৎ পে-কমিশন বেতন বৃদ্ধির যে সুপারিশ করেছিল তার কতটুকু বাস্তবায়ন করা হবে সে বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করা হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন ভাতা কত টাকা বৃদ্ধি করা হবে সেটিও আলোচনা করা হবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি বলেন, বুধবার সচিব কমিটির সভা হওয়ার দিন রয়েছে। সভায় নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি চাকরিজীবীদের নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গঠিত সচিব কমিটির এ বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পাবে ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন বৈষম্য দূর করার বিষয়টি। একইসঙ্গে আইনি ভেটিংয়ের মাধ্যমে এ-সংক্রান্ত পূর্বের বিধিমালা সংশোধন এবং পে-স্কেলের জটিল হিসাব-নিকাশ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম আইবাস++-এর মাধ্যমে সহজ ও দ্রুত সম্পন্ন করার বিষয়েও আলোচনা হবে।

এ বিষয়ে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের এক কর্মকর্তা বলেন, আগামী ১ জুলাই থেকেই নতুন পে-স্কেল কার্যকর হবে। তবে বেসিকের ৫০ শতাংশ নাকি শতভাগ বৃদ্ধি পাবে সেটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। জুলাই থেকে পে-স্কেল কার্যকর হলেও টাকা পেতে দুই থেকে তিন মাস সময় লাগবে। সচিব কমিটির সভায় অনেক কিছুই চূড়ান্ত হবে বলেও আশা করা যাচ্ছে।

এর আগে, গত ১৮ জুন অনুষ্ঠিত বৈঠকে জাতীয় বেতন কমিশন, জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন এবং সশস্ত্র বাহিনীর বেতন কাঠামো সংক্রান্ত প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করা হয়।

সচিবালয়ে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন পুনর্গঠিত সচিব কমিটির সব সদস্যকে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, নতুন পে-স্কেলের প্রথম ধাপে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের তুলনায় নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন বেশি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে সরকার। সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলায় নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের সহায়তা করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী আগামী অর্থবছর থেকে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডভুক্ত কর্মচারীদের বেতন তুলনামূলক বেশি বাড়তে পারে। অন্যদিকে ১ম থেকে ৯ম গ্রেডভুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির হার তুলনামূলক কম রাখা হতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেড-১ থেকে গ্রেড-৯ পর্যন্ত কর্মকর্তাদের মূল বেতন যতটা বৃদ্ধি করা হবে, তার ৪০ শতাংশ আগামী অর্থবছরে কার্যকর করা হতে পারে। অন্যদিকে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত কর্মচারীদের ক্ষেত্রে বেতন বৃদ্ধির ৬০ শতাংশ কার্যকর করার প্রস্তাব আলোচনায় রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

সূত্রে জানা যায়, নতুন পে-স্কেলের প্রথম ধাপে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের তুলনায় নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন বেশি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে সরকার। সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলায় নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের সহায়তা করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী আগামী অর্থবছর থেকে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডভুক্ত কর্মচারীদের বেতন তুলনামূলক বেশি বাড়তে পারে। অন্যদিকে ১ম থেকে ৯ম গ্রেডভুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির হার তুলনামূলক কম রাখা হতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেড-১ থেকে গ্রেড-৯ পর্যন্ত কর্মকর্তাদের মূল বেতন যতটা বৃদ্ধি করা হবে, তার ৪০ শতাংশ আগামী অর্থবছরে কার্যকর করা হতে পারে। অন্যদিকে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত কর্মচারীদের ক্ষেত্রে বেতন বৃদ্ধির ৬০ শতাংশ কার্যকর করার প্রস্তাব আলোচনায় রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।




প্রবাসীদের জন্য বিশেষ অ্যাকাউন্ট সুবিধা চালু করলো বাংলাদেশ ব্যাংক

ডেস্ক নিউজঃ প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ানো এবং বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রবাহ আরও গতিশীল করতে নতুন হিসাব সুবিধা চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে প্রবাসীরা দেশের ব্যাংকগুলোতে ‘অনিবাসী বিনিময়যোগ্য টাকা হিসাব’ খুলতে পারবেন।

এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার মঙ্গলবার (২৩ জুন) জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতে বলা হয়েছে, অফশোর ব্যাংকিং কার্যক্রম সম্প্রসারণ, রেমিট্যান্স প্রবাহ সহজ করা এবং প্রবাসীদের সঙ্গে দেশের বিনিয়োগ খাতের সংযোগ জোরদার করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

নতুন ব্যবস্থার আওতায় ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতে অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের মাধ্যমে এ হিসাব খোলা যাবে। গ্রাহকরা সঞ্চয়ী, চলতি অথবা স্থায়ী আমানত হিসাব হিসেবে এটি পরিচালনা করতে পারবেন।

সার্কুলার অনুযায়ী, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স, অন্যান্য অনিবাসী বিনিময়যোগ্য হিসাব থেকে স্থানান্তরিত অর্থ, সুদ বা মুনাফা, অনুমোদিত বিনিয়োগের আয়, শেয়ার সাবস্ক্রিপশনের ফেরত অর্থসহ বৈদেশিক মুদ্রা-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তহবিল এ হিসাবে জমা রাখা যাবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এ হিসাবে জমাকৃত অর্থ এবং অর্জিত সুদ বা মুনাফা সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাবাসনযোগ্য। ফলে প্রবাসীরা প্রয়োজন অনুযায়ী যেকোনো সময় অর্থ বিদেশে স্থানান্তর করতে পারবেন।

এ ছাড়া হিসাবের অর্থ স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা যাবে। এর মধ্যে রয়েছে স্থানীয় পরিশোধ, অন্য অনিবাসী হিসাবগুলোতে অর্থ স্থানান্তর, বৈদেশিক মুদ্রা হিসাবে রূপান্তর এবং দেশে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ বা পোর্টফোলিও বিনিয়োগ।

নতুন এই সার্কুলারের একটি বড় দিক হলো, এই হিসাবে জমাকৃত তহবিল ব্যবহার করে দেশের বিশেষায়িত অঞ্চলের (যেমন- ইপিজেড, বেজা) ‘টাইপ-এ’ শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে স্থানীয় টাকা বা কারেন্সিতে ঋণ দেওয়া যাবে। তবে এই ঋণ সুবিধা শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত চলতি ব্যয়, যেমন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন, মজুরি এবং ইউটিলিটি বিল পরিশোধের জন্য ব্যবহার করা যাবে। আর এই ঋণের টাকা অবশ্যই ওই প্রতিষ্ঠানের রপ্তানি আয় থেকে পরিশোধ করতে হবে।

এ ছাড়া এ হিসাবের বিপরীতে জামানত রেখে প্রবাসী বা তাদের মনোনীত ব্যক্তি ব্যক্তিগত কিংবা ব্যবসায়িক প্রয়োজনে ঋণ নিতে পারবেন। তবে কৃষি, বাগান ও আবাসন খাতে এ ঋণের অর্থ বিনিয়োগ করা যাবে না।

ব্যাংকিং ও ব্যবসায়িক মহল বাংলাদেশ ব্যাংকের এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। তাদের মতে, নতুন হিসাব ব্যবস্থা রেমিট্যান্স ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করবে, অফশোর ব্যাংকিং সম্প্রসারণে সহায়তা করবে এবং প্রবাসীদের দেশীয় অর্থনীতি ও বিনিয়োগে অংশগ্রহণের নতুন সুযোগ তৈরি করবে।




চীনের দালিয়ান থেকে বুলেট ট্রেনে বেইজিংয়ের পথে প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজঃ ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) ‘গ্রীষ্মকালীন দাভোস’ সম্মেলনে অংশগ্রহণ শেষে চীনের দালিয়ান থেকে হাই-স্পিড (বুলেট) ট্রেনে বেইজিংয়ের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরসঙ্গী হিসেবে তার সঙ্গে রয়েছেন সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান।

বুধবার (২৪ জুন) স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে চীনের লিয়াওনিং প্রদেশের দালিয়ান শহর থেকে হাই-স্পিড (বুলেট) ট্রেনে বেইজিংয়ের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এর আগে একই দিন সকালে দালিয়ান আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ‘গ্রীষ্মকালীন দাভোস’ সম্মেলনের প্ল্যানারি সেশনে অংশ নেন তিনি। ‘ইনোভেটিং অ্যাট স্কেল’ শীর্ষক ওই অধিবেশনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান ও নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে বৈশ্বিক অর্থনীতি, উদ্ভাবন ও সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।

সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী কিম মিন-সেওক, কাজাখস্তানের প্রধানমন্ত্রী ওলঝাস বেকতেনভ, মঙ্গোলিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিয়াম-ওসর উচরাল, মন্টিনিগ্রোর প্রধানমন্ত্রী মিলোইকো স্পাইজিচ এবং গিনির প্রধানমন্ত্রী আমাদু উরি বাহ অংশ নেন।

ডব্লিউইএফের তথ্য অনুযায়ী, ৯০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চল থেকে প্রায় ১ হাজার ৭০০ প্রতিনিধি এ সম্মেলনে যোগ দেন। তাঁদের মধ্যে রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী, শিক্ষাবিদ ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত সোমবার (২২ জুন) চীনের দালিয়ানে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দালিয়ানের কর্মসূচি শেষে এখন বেইজিং পর্বের সফর শুরু হলো তাঁর।