সকালে ঢাকা ছাড়লেন ভুটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজঃ বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে শেষ শ্রদ্ধা জানি‌য়ে ঢাকা ত্যাগ ক‌রে‌ছেন ভুটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিয়েন পো ডিএন ডুঙ্গেল।

বৃহস্প‌তিবার (১ জানুয়া‌রি) সকা‌লে ঢাকা ছে‌ড়ে গে‌ছেন ভুটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ঢাকার ভুটান দূতাবাস এই তথ্য জা‌নি‌য়ে‌ছে।

ভুটান দূতাবাস জানায়, বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠা‌নে অংশগ্রহণ ক‌রে আজ (বৃহস্প‌তিবার) সকা‌লে ঢাকা ত্যাগ ক‌রে‌ছেন ভুটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিয়েন পো ডিএন ডুঙ্গেল।




বছরের প্রথম দিনেই ১৩ ডিগ্রিতে ঢাকার সকাল

ডেস্ক নিউজঃ পৌষের মাঝামাঝি সময়ে এসে রাজধানী ঢাকায় শীতের তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। বছরের প্রথম দিন বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) ভোরে ঢাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। 

আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত সর্বশেষ পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে যে, আজ দিনের প্রথমার্ধে আকাশ সাময়িকভাবে মেঘাচ্ছন্ন থাকলেও দুপুরের দিকে তাপমাত্রা গতকালের তুলনায় কিছুটা বাড়তে পারে।

এর ফলে দিনের বেলা শীতের প্রকোপ গত কয়েক দিনের তুলনায় সামান্য কম অনুভূত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় কোনো বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা না হলেও বাতাসে জলীয় বাষ্পের আধিক্য এবং কুয়াশার কারণে জনজীবনে কনকনে শীতের আমেজ বজায় রয়েছে।

সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ৬ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, দুপুর পর্যন্ত আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে এবং আবহাওয়া মূলত শুষ্ক থাকবে। এ সময় উত্তর অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৫ থেকে ১০ কিলোমিটার বেগে ঠান্ডা বাতাস প্রবাহিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সকাল ৬টায় ঢাকার বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৫ শতাংশ, যা ঘন কুয়াশা সৃষ্টির প্রধান কারণ। গতকাল ঢাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২১ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে যে, আজ সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৫টা ২২ মিনিটে এবং আগামীকাল শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সূর্যোদয় হবে ভোর ৬টা ৪২ মিনিটে।

সারাদেশের আবহাওয়ার পরিস্থিতির ওপর দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় অধিদপ্তর জানিয়েছে যে, সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা থাকতে পারে এবং সারাদেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকবে। তবে মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের অনেক জায়গায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত দীর্ঘায়িত হতে পারে।

 এই ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন এবং সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছে। কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কারণে দিনের বেলা রোদের তেজ কম থাকায় সারাদেশে শীতের অনুভূতি অব্যাহত থাকবে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, সারাদেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেলেও কুয়াশার চাদরে ঢাকা প্রকৃতিতে শীতের কামড় খুব একটা কমবে না। বিশেষ করে নদী অববাহিকা ও উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে ঘন কুয়াশা জনজীবনকে আরও বিপর্যস্ত করে তুলতে পারে।




বিধি নিষেধ উপেক্ষা করে আতশবাজির ঝলকানিতে নতুন বছরকে আলিঙ্গন

ডেস্ক নিউজঃ রাষ্ট্র সংস্কারের নানা চেষ্টা, মব সন্ত্রাস, প্রাণঘাতী ভূমিকম্প, তারেক রহমানের দেশে ফেরা ও খালেদা জিয়ার মৃত্যুসহ নানা ঘটনার পরম্পরায় শুরু হলো আরেকটি বছর। 

খ্রিষ্টীয় ২০২৬ সালকে বরণ করে নিতে বুধবার রাত ১২টা বাজতে না বাজতেই ঢাকার আকাশে দেখা যায় বর্ণিল আলোর ঝলকানি।

এবার এমন সময় নতুন বছর কড়া নাড়ল, যখন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দেশজুড়ে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক চলছে।

শোকের এ সময়ে খ্রিষ্টীয় নতুন বছর বরণে নানা বিধিনিষেধের কথা জানিয়েছিল ডিএমপি।

মঙ্গলবার ডিএমপির গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “রাষ্ট্রীয় শোকের সময়ে ঢাকা মহানগর এলাকায় সব ধরনের আতশবাজি, পটকা ফোটানো, ফানুস ও গ্যাস বেলুন ওড়ানো নিষিদ্ধ থাকবে।”

উন্মুক্ত স্থানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ডিজে পার্টি ও শোভাযাত্রা না করার কথাও বলা হয় বিজ্ঞপ্তিতে।

কিন্তু শোকের আবহ ও এসব বিধিনিষেধের মধ্যেও ঢাকায় রাতের আকাশে দেখা যায় রঙিন আলোর ঝলকানি, ফানুস ও গ্যাস বেলুন।

থার্টি ফার্স্ট নাইটে বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবগুলো প্রবেশপথে। এসব পথ দিয়ে বুধবার রাতে বাইরের কোনো ব্যক্তি বা যানবাহনকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।




নতুন বছরে আরও জোরদার হোক সম্প্রীতি, সৌহার্দ ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন: প্রধান উপদেষ্টা

ডেস্ক নিউজঃ নববর্ষ ২০২৬ উপলক্ষ্যে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস দেশে ও বিদেশে বসবাসরত সকল বাংলাদেশিসহ সমগ্র বিশ্ববাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

‘ইংরেজি নববর্ষ’ উপলক্ষ্যে বুধবার দেওয়া এক বাণীতে প্রধান উপদেষ্টা এই শুভেচ্ছা জানান।

মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘নতুন বছরে আরও জোরদার হোক সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন। নতুন বছর সকলের জীবনে বয়ে আনুক অনাবিল সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি। সবাইকে শুভ নববর্ষ।’
তিনি বলেন, ‘নববর্ষ মানেই নতুন স্বপ্ন, নতুন আশা ও নতুন সম্ভাবনার সূচনা। নতুনের এ আগমনি বার্তা আমাদের উদ্বেলিত করে। সব গ্লানি ভুলে সুন্দর আগামীর পথচলার জন্য যোগায় নবোদ্যম ও অনুপ্রেরণা।’
একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে আমরা সবাই দেশকে ভালোবেসে মানুষের কল্যাণে সর্বশক্তি নিয়োগ করবো এমন আশা প্রকাশ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘নতুন বছরে সকল চ্যালেঞ্জ একসাথে মোকাবিলা করে একটি সাম্য ও ন্যায়ভিত্তিক বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলব।’
মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে নতুন বছর আমাদের জাতীয় জীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ত্রুটিপূর্ণ রাষ্ট্রব্যবস্থাকে মেরামত করে গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথে যে যাত্রা আমরা শুরু করেছি, নতুন বছরে একটি জাতীয় নির্বাচন ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের ওপর গণভোট আয়োজনের মধ্য দিয়ে তা পূর্ণতা পাবে বলে আমরা আশা করছি।’
বাণীতে তিনি বলেন, সকল ষড়যন্ত্রকে প্রতিহত করে এ নির্বাচন ও গণভোট আমাদের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করবে-নতুন বছরে এটিই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা।



২০২৬ সালে বিদ্যালয়ে সরকারি ছুটি ৬৪ দিন, তালিকা প্রকাশ

ডেস্ক নিউজঃ ২০২৬ সালের সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছুটি তালিকা প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। রবিবার মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সরকারি মাধ্যমিক-১ শাখা থেকে এই তালিকা প্রকাশ করা হয়।

তালিকা অনুযায়ী, এ বছর মোট ছুটি রয়েছে ৬৪ দিন। এরমধ্যে সবচেয়ে বড় ছুটি আগামী ৮ থেকে ২৬ মার্চ মোট ১৯ দিনের। এসব ছুটি রমজান, ঈদ ও স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে।




ওসমান হাদির খুনি ফয়সালের দুই সহযোগী ভারতে আটক

ডেস্ক নিউজঃ  ঢাকার ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহিদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় হামলাকারীর দুই সহযোগী ভারতে আটক হয়েছে। এই তথ্য জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম।

রোববার (২৮ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডটি পূর্ব-পরিকল্পিত। মূল সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম ওরফে দাউদ খান দেশে নেই; তিনি ভারতের মেঘালয়ে পালিয়ে গেছেন। ফয়সালকে সহায়তা করার অভিযোগে পুত্তি এবং স্বামী নামের তার দুই সহযোগী ভারতের মেঘালয়ে আটক হয়েছে।

ডিএমপি জানায়, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের মধ্যে ছয় জন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। দ্রুত মামলার চার্জশিট দাখিলের পরিকল্পনা রয়েছে; আগামী ৭–১০ দিনের মধ্যে অভিযোগপত্র দেওয়া হবে এবং ৭ জানুয়ারির মধ্যে তা চূড়ান্ত করা হবে।

তদন্তে পুলিশ দুটি বিদেশি পিস্তল, ৫২ রাউন্ড গুলি, মোটরসাইকেল, ভুয়া নম্বর প্লেট এবং ৫৩টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিপরীতে ২১৮ কোটি টাকার চেক উদ্ধার করেছে। তবে হত্যার উদ্দেশ্য (মোটিভ) এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। নজরুল ইসলাম জানান, মূল সন্দেহভাজনকে এখনও গ্রেপ্তার করা যায়নি বলে মোটিভ সম্পর্কেও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

তিনি আরও বলেন, মেঘালয় পুলিশের সঙ্গে ‘অনানুষ্ঠানিক চ্যানেলে’ যোগাযোগ করে ফয়সালকে সহায়তা করার জন্য দুই সহযোগীকে আটক করা হয়েছে।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে তদন্ত চলমান রয়েছে, এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থা আশা করছে, মূল সন্দেহভাজন ফয়সালকে শিগগিরই গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।

আগামী ৭ জানুয়ারির মধ্যে মামলার চার্জশিট দেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

গত ১২ ডিসেম্বর দুপুর আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে পল্টন থানার বক্স কালভার্ট রোডে হামলার শিকার হন শরিফ ওসমান হাদি। মতিঝিল মসজিদ থেকে জুমার নামাজ শেষে প্রচারণা চালিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেলে আসা প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ রাহুল দাউদ ও তার অজ্ঞাত পরিচয় সহযোগী হাদিকে লক্ষ্য করে চলন্ত অবস্থায় গুলি চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে তিনি মারা যান।

এ ঘটনায় গত ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে পল্টন থানায় হত্যাচেষ্টার মামলা করেন। মামলায় অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, হত্যাচেষ্টা ও বিপজ্জনক অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়। তবে হাদির মৃত্যুর পর গত ২০ ডিসেম্বর আদালতের আদেশে মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা (হত্যা) সংযোজনের আদেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সিদ্দিক আজাদ।



হাদির খুনি ভারতে থাকলে তারা ফেরত দেবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে: উপদেষ্টা রিজওয়ানা

ডেস্ক নিউজঃ ভারত সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে তাকে (খুনিকে) যদি ভারতে খুঁজে পাওয়া যায়, তারা অবশ্যই বাংলাদেশকে সহায়তা করবেন- এমনটাই জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) রাতে রাজধানীর শাহবাগে ওসমান হাদির খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে আন্দোলনরতদের সামনে গিয়ে তিনি এ তথ্য জানান।

রিজওয়ানা হাসান বলেন, হাদিকে যারা আমাদের কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছে, তারা বাংলাদেশ থেকে চলে গিয়ে থাকলে আমরা অবশ্যই যেন তাদের ফিরিয়ে আনতে পারি- এই বার্তা কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে ভারত সরকারকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ভারত সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, হত্যাকারীকে ভারতে খুঁজে পাওয়া গেলে তারা বাংলাদেশকে সহায়তা করবে।

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, আশ্বস্ত করছি, ওসমান হাদিকে যারা খুন করেছে, চিহ্নিত খুনি, এর পেছনে যারা ছিল, সকলকে বিচারের মুখোমুখি করতে কাজ করে যাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। আমরা একটা শত্রুপক্ষের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে কাজটা করছি।

উপদেষ্টা বলেন, আগামী ৭ জানুয়ারির মধ্যে এই হত্যাকাণ্ডের চার্জশিট দেওয়া হবে। এই চার্জশিট দেওয়ার পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার থাকাকালীন সময়ে যেন বিচার করে যাওয়া যায়, সেটার নিশ্চয়তা আমি দিচ্ছি। আমরা থাকতে থাকতে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার পরদিন গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে মাথায় গুলিবিদ্ধ হন ওসমান হাদি। পরে ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।




২৬তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নিলেন জুবায়ের রহমান চৌধুরী

ডেস্ক নিউজঃ বাংলাদেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাকে প্রধান বিচারপতির শপথ বাক্য পাঠ করান।

এর আগে গত ২০ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে আইন সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সংবিধানের ৯৫ (১) অনুচ্ছেদে দেয়া ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি আপিল বিভাগের বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীকে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। এই নিয়োগ শপথের তারিখ থেকে কার্যকর হবে।

বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ১৯৮৫ সালে জজ কোর্টে আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে ১৯৮৭ সালে তিনি সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। ২০০৩ সালের ২৭ আগস্ট তিনি হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান এবং দুই বছর পর স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ১২ আগস্ট তিনি আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিযুক্ত হন।

শিক্ষাজীবনে বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি (সম্মান) ও এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে তিনি যুক্তরাজ্যে আন্তর্জাতিক আইনে এলএলএম সম্পন্ন করেন।




ঘন কুয়াশায় ঢাকায় নামতে পারলো না আন্তর্জাতিক ১০ ফ্লাইট

ডেস্ক নিউজঃ রাজধানীর আকাশে ঘন কুয়াশার চাদর জেঁকে বসায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে ১০টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট। 

শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকালে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দৃষ্টিসীমা বা ভিজিবিলিটি অনেক কমে যাওয়ায় রানওয়েতে নিরাপদ অবতরণ অসম্ভব হয়ে পড়ে। এই পরিস্থিতির কারণে ঢাকা অভিমুখী ফ্লাইটগুলোকে বিকল্প হিসেবে পার্শ্ববর্তী চট্টগ্রাম, ভারতের কলকাতা এবং থাইল্যান্ডের ব্যাংকক বিমানবন্দরে ডাইভার্ট করা হয়েছে।

বৈরী আবহাওয়ার কারণে হঠাৎ এই সূচি বিপর্যয়ে চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন এসব ফ্লাইটের কয়েক হাজার যাত্রী। বিমানবন্দর সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, কুয়াশার তীব্রতা না কমা পর্যন্ত বিমান চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

ঢাকাসহ দেশের সর্বত্র বর্তমানে তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার প্রভাবে জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে এবং মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে বিরাজমান থাকায় শীতের তীব্রতা বহুগুণ বেড়ে গেছে।

কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ায় সারা দেশে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া শুষ্ক থাকলেও মধ্যরাত থেকে দুপুর পর্যন্ত অনেক স্থানে ঘন কুয়াশা অব্যাহত থাকছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, এই কুয়াশাচ্ছন্ন পরিস্থিতির কারণে কেবল বিমান চলাচলই নয়, বরং অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন এবং সড়ক যোগাযোগও সাময়িকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যা দুর্ঘটনা বাড়ানোর ঝুঁকি তৈরি করেছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ পূর্বাভাসে বলা হয়েছে যে, আগামী পাঁচ দিনে সারা দেশের তাপমাত্রা আরও হ্রাস পেতে পারে এবং শৈত্যপ্রবাহ জেঁকে বসার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চল ও নদী অববাহিকায় কুয়াশার প্রকোপ দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে সড়কপথে চালকদের হেডলাইট জ্বালিয়ে সাবধানে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং নৌপথে চলাচলের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে।

পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) জানিয়েছে, কুয়াশার ঘনত্ব কমে দৃশ্যমানতা ৮০০ থেকে ১০০০ মিটারের ওপরে গেলেই কেবল রানওয়েতে বিমান ওঠানামা শুরু করার অনুমতি দেওয়া হবে।

ফ্লাইট ডাইভার্ট হওয়ার ফলে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছাতে বাড়তি সময় ও ভোগান্তির বিষয়ে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করছে। বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের আত্মীয়-স্বজনরা বিমানবন্দরে দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষায় থাকায় টার্মিনাল এলাকায় ভিড় ও অস্থিরতা লক্ষ্য করা গেছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, জানুয়ারির শুরুতে শীতের প্রকোপ আরও বাড়তে পারে, যা বিমান চলাচলের সূচিতে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে। বর্তমানে বিমানবন্দরগুলোতে পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে যাতে কুয়াশা কাটার সঙ্গে সঙ্গেই দ্রুত কার্যক্রম শুরু করা যায়।




শহরের চেয়ে মফস্সলে বেশি মানুষ তামাক সেবন করছে

নিজস্ব ডেস্কঃ শহরের তুলনায় তামাক বা তামাকজাত দ্রব্য সেবনে আসক্তি বাড়ছে মফস্সলে। শহরাঞ্চলে তামাক সেবনের হার ২৪ দশমিক ১ শতাংশ। মফস্সলের এটি প্রায় ২৭ দশমিক ৭ শতাংশ। আর আট বিভাগে সবচেয়ে বেশি তামাক সেবন হচ্ছে সিলেট ও ময়মনসিংহে। দেশে তামাক ব্যবহারে পুরুষের সংখ্যা ৩৭ দশমিক ৯ শতাংশ এবং নারীদের এই হার ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ। সম্প্রতি বাংলাদেশ পরিসংখ্যান উন্নয়ন ব্যুরোর হেলথ অ্যান্ড মরবিডিটি স্ট্যাটাস সার্ভে-২০২৫-এর এসব তথ্য উঠে এসেছে।

তথ্যমতে, দেশে তামাক ব্যবহারে স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও উত্পাদনশীলতার যে আর্থিক ক্ষতি হয়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় সাড়ে ৮৭ হাজার ৫৪৪ কোটি টাকা।

জরিপে দেখা যায়, ১৫ বছর বা  তদূর্ধ্ব বয়সিদের মধ্যে তামাক বা তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারের হার ছিল ২৬ দশমিক ৭ শতাংশ। লিঙ্গভেদে প্রতিটি অঞ্চলে পুরুষদের মধ্যে তামাক ব্যবহারের হার নারীদের তুলনায় দ্বিগুণ বা তারও বেশি। বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায় যে, ময়মনসিংহ তামাক ব্যবহার হচ্ছে ৩৮ দশমিক ৭ শতাংশ;  সিলেটে ৩৮ দশমিক ৭ শতাংশ; বরিশালে ৩৪ দশমিক ৬ শতাংশ; রংপুরে ২৮ দশমিক ৮ শতাংশ; চট্টগ্রামে ২৫ দশমিক ৭ শতাংশ; রাজশাহীতে ২৪ দশমিক ৪ শতাংশ; খুলনায় ২৩ দশমিক ৮ শতাংশ আর ঢাকায় ২৩ দশমিক ৩ শতাংশ।

জরিপে আরো দেখা যায়, বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তামাক ব্যবহারের প্রবণতাও বৃদ্ধি পায়। ১৫-১৯ বছর বয়সিদের মধ্যে তামাক ব্যবহারের হার ৪ শতাংশ। ৫০-৫৪ বছর বয়সিদের এই হার ৪২ দশমিক ৩ শতাংশ এবং ৬০ বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সে সর্বোচ্চ হার ৪৮ দশমিক ৪ শতাংশ। এছাড়া ৩০-৩৪ বছর বয়সি পুরুষদের হার ৩৯ দশমিক ২ শতাংশ, যেখানে নারীদের হার ১০ দশমিক ৯ শতাংশ। ৪৫-৪৯ বছর বয়সিদের মধ্যে পুরুষদের হার ৪১ দশমিক ৩ শতাংশ।

জরিপের তথ্যমতে, জর্দা ও গুলে তামাক ব্যবহার হচ্ছে ৪১ দশমিক ৬ শতাংশ, ধূমপানে ব্যবহূত তামাক ৪০ দশমিক ৭ শতাংশ। সরাসরি তামাক পাতা সেবনের হার ১৪ দশমিক ২ শতাংশ এবং হুক্কা ব্যবহারের হার ১ শতাংশ। ধূমপানের সূচনা সবচেয়ে বেশি ঘটে ২০-২৪ বছর বয়সে। এরপরে রয়েছে ১৫-১৯ বছর বয়সিরা। নারীরা তুলনামূলকভাবে পরে ধূমপান শুরু করে ২৫-২৯ বছর বয়সে। আবার ৩০ বছরের পর নতুনভাবে ধূমপান শুরু করার নিম্নমুখী প্রবণতাও দেখা গেছে।

এদিকে, তামাক ব্যবহারের কারণে দেশে স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও উত্পাদনশীলতার যে অর্থনৈতিক ক্ষতি ঘটে, তার পরিমাণের ওপর গবেষণা চালায় ইকোনমিকস ফর হেলথ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব হেলথ ইকোনমিকস। তাদের গবেষণা অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারের কারণে স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতি প্রায় ৮৭ হাজার ৫৪৪ কোটি টাকা। আর সরকার তামাকজাত পণ্য থেকে রাজস্ব পেয়েছে ৪১ হাজার কোটি টাকা।

গবেষণায় তথ্যমতে, স্বাস্থ্যক্ষেত্রে তামাকের কারণে হওয়া ক্ষতি সবচেয়ে বেশি। এই ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৭৩ হাজার কোটি টাকা। তামাকের কারণে পরিবেশ সম্পর্কিত ক্ষতিও কম নয়। বন উজাড়, ভূমিক্ষয়, অগ্নিকা্ল, সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতিসহ বিভিন্ন পরিবেশগত ঝুঁকির কারণে আর্থিক ক্ষতি মোট ক্ষতির প্রায় ১৬ শতাংশ।

জানা যায়, দেশে এক-তৃতীয়াংশের বেশি প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি তামাক ব্যবহার করেন। তামাকের প্রভাব শুধু স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে না, বরং সামগ্রিক অর্থনীতি ও সমাজের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে।

পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, ‘সম্প্রতি আমরা একটি গবেষণা পরিচালনা করেছি যেখানে দেখা যায়, বেশির ভাগ বিদ্যালয়ের আশপাশের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাকজাত পণ্যের বিক্রয়কেন্দ্র রয়েছে। চায়ের দোকান, মুদি দোকান, ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতা। দোকানগুলোতে তামাক বিক্রেতারা শিশুদের মনোযোগ আকর্ষণে বিক্রয়কেন্দ্রে তামাকজাত পণ্য এমনভাবে রাখা হয়, যেন তা শিশুদের চোখের উচ্চতা বা সীমার মধ্যে থাকে। যেগুলো নিয়ে কাজ করা জরুরি।’

তিনি আরো বলেন, ‘তামাক সমস্যা দীর্ঘমেয়াদি। এটি মোকাবিলায় ধারাবাহিক, প্রমাণভিত্তিক ও কৌশলগত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। যুব প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখা একটি জাতীয় দায়িত্ব। এ জন্য আইন সংস্কার এবং কার্যকর তামাক কর কাঠামো অপরিহার্য।’