গণপূর্তে লটারিভিত্তিক গণবদলি নিয়ে ক্ষোভ: নীতিমালার ব্যত্যয় ও কেপিআই নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

বিশেষ প্রতিনিধি: গণপূর্ত অধিদপ্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার কথা বলে লটারির মাধ্যমে গণবদলি প্রক্রিয়া শুরু হলেও তা নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। কর্মকর্তাদের অভিযোগ—অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও ব্যক্তিগত বাস্তবতাকে গুরুত্ব না দিয়ে স্রেফ লটারির ভিত্তিতে পদায়নের ফলে অধিদপ্তরে প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে রাষ্ট্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা (কেপিআই) ও ভিআইপি এলাকার রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরির আশঙ্কায় চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে। তবে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বিতর্কিত কিছু পোস্টিং পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে দপ্তর সূত্রে জানা গেছে।

  • ধাপে ধাপে গণবদলি

অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ৩০ জুলাই প্রথম দফায় ৭৬৭ জন সিভিল উপসহকারী প্রকৌশলীকে লটারির মাধ্যমে বদলি করা হয়। এরপর ৩ আগস্ট ইলেকট্রিক ও মেকানিক্যাল (ই/এম) শাখার ২৫৪ জন উপসহকারী প্রকৌশলীকে একইভাবে পদায়ন করা হয়।

সিভিল বিভাগ: ঢাকা বিভাগে ৩১৭ জন, চট্টগ্রামে ১৩৩, রাজশাহীতে ৭৩, খুলনায় ৭৪, বরিশালে ৪৪, সিলেটে ৩৩, ময়মনসিংহে ২৯ এবং রংপুরে ৬৪ জন।

ই/এম শাখা: ঢাকা বিভাগে ১১৯ জনসহ অন্যান্য বিভাগে কর্মকর্তাদের বদলি করা হয়।

পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী, ১১ আগস্ট সহকারী ও উপবিভাগীয় প্রকৌশলীদের এবং চলতি মাসের শেষ নাগাদ নির্বাহী প্রকৌশলীদেরও লটারির মাধ্যমে বদলি করার কথা রয়েছে।

  • নীতিমালার ব্যত্যয় ও মানবিকতার অবহেলা

বদলীকৃত প্রকৌশলীদের একাংশের দাবি, এই গণবদলি প্রক্রিয়া গণপূর্ত অধিদপ্তরের ‘কর্মকর্তাদের বদলি/পদায়ন নীতিমালা ২০২৫’-এর সরাসরি লঙ্ঘন। নীতিমালায় একই কর্মস্থলে তিন বছর (বিশেষ ক্ষেত্রে দুই বছর) দায়িত্ব পালনের স্পষ্ট বিধান থাকলেও, মাত্র এক মাস থেকে এক বছর কর্মরত থাকা কর্মকর্তাদেরও লটারির নামে বদলি করা হয়েছে।

এছাড়া গুরুতর অসুস্থতা (যেমন ক্যানসারে আক্রান্ত স্বজনের চিকিৎসা), চাকরিজীবী স্বামী-স্ত্রীকে কাছাকাছি কর্মস্থলে রাখা এবং বিভিন্ন মানবিক ও পারিবারিক বিবেচনাগুলো এ প্রক্রিয়ায় পুরোপুরি উপেক্ষিত হয়েছে বলে ক্ষুব্ধ কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন।

  • কেপিআই ও ভিআইপি এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা

লটারিভিত্তিক পদায়নে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা তৈরি হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ কেপিআই ও ভিআইপি সেকশনগুলোকে ঘিরে। অভিযোগ উঠেছে, লটারির ফলাফলে ২০১৯ ও ২০২২ ব্যাচের বেশ কয়েকজন তরুণ ও অনভিজ্ঞ ডিপ্লোমা প্রকৌশলী এবং কার্য সহকারী বা ড্রাফটসম্যান থেকে পদোন্নতি পাওয়া উপসহকারী প্রকৌশলীদের রাষ্ট্রের সংবেদনশীল স্থাপনায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

যেমন—একজন পদোন্নতিপ্রাপ্ত নারী প্রকৌশলীকে গুলশানের ভিআইপি সেকশনে এবং গোপালগঞ্জের বাসিন্দা উপসহকারী প্রকৌশলী নিমিতোষ ওঝাকে গুলশানে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলীদের মতে, পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা ও সঠিক প্রাক্কলন (ইস্টিমেট) তৈরির দক্ষতা না থাকলে এসব এলাকার রক্ষণাবেক্ষণ ব্যাহত হবে। পাশাপাশি কেপিআই এলাকার দায়িত্ব বণ্টনে গোপনীয়তা ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার বিষয়টিও প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।

  • চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়ার ঝুঁকি

সংক্রান্ত কর্মকর্তাদের মতে, এমন আকস্মিক ও দূরবর্তী বদলির ফলে অধিদপ্তরের দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক ‘চেইন অব কমান্ড’ ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ভবিষ্যতে লটারির মাধ্যমে বদলির স্পষ্ট কোনো মানদণ্ড বা নীতিমালা নির্দেশিত না থাকায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে বৈষম্য ও অসন্তোষ ক্রমশ দানা বাঁধছে।

  • প্রধান প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ

লটারি বিতর্ক ছাড়াও গণপূর্ত অধিদপ্তরের চলতি দায়িত্বে থাকা প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরীকে ঘিরেও ব্যাপক অভিযোগ উঠেছে। তাঁর বিরুদ্ধে পোস্টিং বাণিজ্য, কথিত সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ, আত্মীয়দের ঠিকাদারি কাজ পাইয়ে দেওয়া, গোপন স্থানে দপ্তর পরিচালনা, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার, দ্বৈত নাগরিকত্ব এবং দেশে-বিদেশে অবৈধ সম্পত্তি অর্জনের অভিযোগ তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র সত্যতা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরীর সঙ্গে মোবাইল ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

  • দ্রুত পর্যালোচনার দাবি

সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের মতে, বদলি নীতিমালা উপেক্ষা করে শুধু লটারির ওপর নির্ভর করায় প্রশাসনে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা দ্রুত কাটিয়ে ওঠা জরুরি। বিশেষ করে কেপিআই এলাকার নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণ স্বার্থে বিতর্কিত পদায়নগুলো দ্রুত পর্যালোচনা করা এবং প্রধান প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়মের নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।




সব সরকারি দফতরের জন্য জরুরি নির্দেশনা জারি

সরকারি দফতরগুলোতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বৃদ্ধির নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ। এ বিষয়ে সোমবার পরিপত্র জারি করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদের উপসচিব তানিয়া আফরোজ স্বাক্ষরিত পরিপত্রে এ তথ্য পাওয়া যায়।

এতে বলা হয়েছে, সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে যে, বঙ্গভবন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, পরিকল্পনা কমিশন এবং অর্থ বিভাগে দাফতরিক কাজে ব্যবহার্য বিদ্যুতের সিংহভাগ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করতে হবে। অন্যান্য সরকারি দফতরে পর্যায়ক্রমে সৌরবিদ্যুতের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

অবিলম্বে এ আদেশ কার্যকর হবে বলে পরিপত্রে উল্লেখ আছে।

এর আগে ৩ আগস্ট সচিবালয়ে সৌর বিদ্যুৎবিষয়ক এক সভায় জ্বালানি সংকট মোকাবিলা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনগুলোতে পর্যায়ক্রমে সৌর প্যানেল স্থাপনের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

একই সঙ্গে দেশে সোলার ইনভার্টার উৎপাদনের কাঁচামাল আমদানিতে সরকারি সহায়তা এবং সাধারণ মানুষের জন্য সৌর বিদ্যুৎকে সাশ্রয়ী, সহজলভ্য ও লাভজনক করতে কার্যকর অর্থনৈতিক মডেল প্রণয়নের নির্দেশ দেন তিনি।

ওই সভার সিদ্ধান্তে জানানো হয়, প্রথম পর্যায়ে বঙ্গভবন, তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, জাতীয় সংসদ ভবন, সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের ভবন, পরিকল্পনা কমিশন ভবনসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনায় পর্যায়ক্রমে সৌর প্যানেল স্থাপন করা হবে।




মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে ছোট করার চেষ্টা করছে স্বাধীনতাবিরোধীরা: রিজভী

স্বাধীনতাবিরোধীরা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে ছোট করার চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ‘আমার পরিচিতি বাংলাদেশি। এটা ৭১-এর অর্জন। আমরা তাদের উত্তরসূরি, যারা যুদ্ধ করেছেন।’

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে ছোট করার চেষ্টা কারা করছে, সে প্রশ্ন তুলে রিজভী বলেন, ‘যারা সেদিন স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে। এদের বীরত্বের ইতিহাস নাই, শুধু আছে দালালির ইতিহাস।’

মঙ্গলবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক সমাবেশে তিনি এসব মন্তব্য করেন।  ‘১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী জামায়াতে ইসলামীর ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে’ সংবাদ সম্মেলন, বিক্ষোভ মিছিল ও এই সংক্ষিপ্ত সমাবেশের আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল ও মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম।

প্রথমে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন হয়। পরে রিপোর্টার্স ইউনিটি থেকে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল করেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এরপর সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করা হয়।

এসময় রিজভী আরও বলেন, আওয়ামী লীগের কৃপা পাওয়ার জন্য জামায়াতে ইসলামী সব সময় চেষ্টা করেছে। ১৯৮৬ সালে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করে নির্বাচনে গেছে। ২০০৮ সালের পাতানো নির্বাচনে হুমকি দিয়ে বিএনপিকে নির্বাচন করার জন্য বাধ্য করেছে।

তিনি বলেন, জামায়াত জোরেশোরে বলেছে, পার্শ্ববর্তী দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলবে। যারা আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করছে, যে ভারতে প্রতিদিন মুসলমানদের ওপর অত্যাচার হচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী এক কোটির মতো মুসলমানকে তাড়িয়ে দেবে বলেছে, যারা ইসরায়েলকে তাদের পিতৃভূমি বলে, তাদের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী আঁতাত করতে চায়।

জামায়াতে ইসলামীর প্রধানের বাসভবনে আয়োজিত চিত্র প্রদর্শনীর প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সেখানে ‘সর্বশ্রেষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধা’র কোনো ছবি নেই। সেখানে ৭ মার্চের শেখ মুজিবের ভাষণের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, ‘এখানেই বোঝা যায়।’

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবিরের দাঁড়িপাল্লা আঁকার প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, ‘৭১-কে হালকা করে দেখিয়েছে। এগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। একাত্তরের চেতনা আমাদের বুকের মধ্যে ছিল বলেই আমাদের সন্তানরা ২৪-এ শেখ হাসিনার মতো ফ্যাসিস্টকে তাড়িয়ে দিয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ‘আজকে খুবই চক্রান্তমূলকভাবে কোনটা বড়, কোনটা ছোট, এটা যাচাই করার চেষ্টা করছেন। এটাতে কোনো লাভ হবে না। এই জাতি স্বাধীনতা রক্ষা করতে জানে।’




সব সরকারি দপ্তরের জন্য জরুরি নির্দেশনা দিয়ে পরিপত্র জারি

ডেস্ক নিউজঃ সরকারি কার্যালয়গুলোতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে নির্দেশনা জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। 

সোমবার (১০ আগস্ট) এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদের উপসচিব তানিয়া আফরোজ স্বাক্ষরিত পরিপত্র জারি করা হয়েছে।

পরিপত্রে বলা হয়েছে, সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে যে, বঙ্গভবন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, পরিকল্পনা কমিশন এবং অর্থ বিভাগে দাপ্তরিক কাজে ব্যবহার্য বিদ্যুতের সিংহভাগ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করতে হবে। অন্যান্য সরকারি দপ্তরে পর্যায়ক্রমে সৌরবিদ্যুতের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

পরিপত্র অনুযায়ী, নির্দেশনাটি জারির সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর হবে।

এর আগে গত ৩ আগস্ট সচিবালয়ে সৌরবিদ্যুৎ নিয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে পর্যায়ক্রমে সৌর প্যানেল বসানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। ওই সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ নির্দেশ দেন।

সভায় দেশে সৌর ইনভার্টার উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আমদানিতে সরকারি সহায়তা দেওয়ার বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাছে সৌরবিদ্যুৎকে আরও সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য করার পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক করতে একটি কার্যকর মডেল তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সভায় নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রথম ধাপে বঙ্গভবন, তেজগাঁওয়ের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, জাতীয় সংসদ ভবন, সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের ভবন এবং পরিকল্পনা কমিশন ভবনসহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনায় পর্যায়ক্রমে সৌর প্যানেল স্থাপন করা হবে।

সরকারের এই উদ্যোগের লক্ষ্য জ্বালানি সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি সরকারি পর্যায়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণ করা।




যেকোনো সময় ভারত সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজঃ প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যেকোনো সময় ভারত সফরে যেতে পারেন।’

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘বিমসটেকের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত। ভারতের পক্ষ থেকেও আলাদাভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আর প্রধানমন্ত্রী যেকোনো সময় ভারতে যেতে পারেন।’

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক প্রসঙ্গে জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘বন্ধু পাল্টানো যায়, কিন্তু প্রতিবেশী পাল্টানো যায় না।’

দুই দেশের গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে যোগাযোগ ও কথাবার্তা হতে পারে বলেও জানান তিনি।

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং (র)-এর একজন প্রতিনিধি ঢাকায় এসেছেন। দুই দেশের গোয়েন্দা প্রধানদের মধ্যে বৈঠক হতে পারে। ‘র’ প্রধানের বাংলাদেশ সফর গোপন কোনো বিষয় নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক এখন নতুন করে তৈরি হবে। গত ১৭ বছর যেভাবে দুই দেশের সম্পর্ক পরিচালিত হয়েছে, তার বাইরে গিয়ে সমতার ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ক গড়ে তোলা হবে।

শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকার সময়ের মতো ভারতের কোনো সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানকে বাংলাদেশে কাজ করতে দেয়া হবে না বলেও জানান তথ্য উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘এখন থেকে সবকিছু স্বাধীন, সার্বভৌম ও আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে আলোচনার মাধ্যমে করা হবে।’




এক দিন পেছাল হাসিনাসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ

ডেস্ক নিউজঃ জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টারে গুম-নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনাসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ এক দিন পিছিয়েছে। ১২ আগস্ট সাক্ষ্যগ্রহণের নতুন দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল। সাক্ষী অসুস্থ থাকায় সাক্ষ্যগ্রহণ পেছানো হয়েছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চ এ দিন ধার্য করেন।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে সময় চান প্রসিকিউটর শাইখ মাহদী। তিনি বলেন, এ মামলায় আজ মঙ্গলবার সাক্ষ্যগ্রহণের দিন নির্ধারিত ছিল। কিন্তু সাক্ষী অসুস্থ থাকায় সময় চেয়ে আবেদন করা হয়। পরে আবেদনটি মঞ্জুর করে আগামীকাল বুধবার দিন ঠিক করেন আদালত।

এ মামলায় ১৩ আসামির মধ্যে গ্রেপ্তার রয়েছেন তিনজন। তারা হলেন- ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী। তাদের মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকালে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

পলাতক ১০ আসামির মধ্যে পাঁচজনই বিভিন্ন সময়ে ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তারা হলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আকবর হোসেন, মেজর জেনারেল (অব.) সাইফুল আবেদিন, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. সাইফুল আলম, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আহমেদ তাবরেজ শামস চৌধুরী ও মেজর জেনারেল (অব.) হামিদুল হক।

বাকি আসামিরা হলেন শেখ হাসিনার প্রতিরক্ষাবিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ তৌহিদুল উল ইসলাম, মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মখছুরুল হক।

২০২৫ সালের ৮ অক্টোবর এ মামলায় ১৩ আসামির বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের দেওয়া অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-১। পরে ১৮ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়।




বিএনপির রাষ্ট্রপতি প্রার্থী এখনো চূড়ান্ত হয়নি: চিফ হুইপ

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম মনি জানিয়েছেন, ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির পক্ষ থেকে কে প্রার্থী হচ্ছেন, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত করা হয়নি।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিষয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

এক প্রশ্নের জবাবে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে দলের ভেতরে ও স্থায়ী কমিটিতে আলোচনা চলছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব ও নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে আরও কয়েক দফা বৈঠক হবে।

গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই আমরা যোগ্য প্রার্থীর নাম যথাসময়ে দেশবাসীর সামনে তুলে ধরবো।

রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে কেমন প্রার্থীকে দেখা যেতে পারে-এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপির এ ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, বিএনপি সব সময় যোগ্য এবং সর্বজন গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে মূল্যায়ন করে।

রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে এমন একজনকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে, যিনি দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে দেশ ও জনগণের স্বার্থে কাজ করতে পারবেন। এ বিষয়ে দলের চেয়ারম্যানের নির্দেশনাই চূড়ান্ত।




রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: জাতীয় সংসদে প্রস্তুতিমূলক সভা

আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন-২০২৬ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে জাতীয় সংসদ সচিবালয়। নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি পর্যালোচনার উদ্দেশ্যে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শুরু হয়েছে।

সভায় সভাপতিত্ব করছেন জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের সদস্য বা সংসদ সদস্যদের ভোটের মাধ্যমে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার অংশ হিসেবে নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে নতুন নির্বাচন পরিচালনা করতে হয়।

এই নির্বাচন প্রক্রিয়ার কার্যসূচি নির্ধারণ, সংসদ সদস্যদের উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ, ভোটগ্রহণের দিনক্ষণ ও অন্যান্য প্রশাসনিক প্রস্তুতি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে এই প্রস্তুতিমূলক বৈঠক করা হচ্ছে। জাতীয় সংসদ সচিবালয় ও নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তারাও এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

মঙ্গলবারের এই বৈঠক থেকেই পরবর্তী দিকনির্দেশনা ও মূল কার্যক্রম চূড়ান্ত করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্টরা।




প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ভিসার এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ডিজিটাল পেমেন্ট নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠান ভিসার এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট স্টিফেন কারপিন।

আজ মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন স্টিফেন কারপিন।

এসময় তারা বাংলাদেশে ডিজিটাল কমার্সের গতি বাড়াতে, পেমেন্ট নিরাপত্তা আরও মজবুত করা এবং দেশের ডিজিটাল রূপান্তরে করণীয় নিয়ে আলাপ করেন।

এর আগে তিন দিনের সফরে সোমবার বাংলাদেশে আসেন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ডিজিটাল পেমেন্ট নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠান ভিসার এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট স্টিফেন কারপিন।

আগামী ১২ আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশে অবস্থান করবেন তিনি। তার সঙ্গে আছেন ভিসার ভারত ও দক্ষিণ এশিয়ার গ্রুপ কান্ট্রি ম্যানেজার সুরেশ শেঠি।




সংসদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতিমূলক সভা শুরু

ডেস্ক নিউজঃ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে জাতীয় সংসদ ভবনে প্রস্তুতিমূলক সভা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বেলা ১১টায় ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে এ সভা শুরু হয়।

এদিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নিতে বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিএনপি দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে। গত রোববার (৯ আগস্ট) নির্বাচন কমিশনের (ইসি) রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে দলটির পক্ষ থেকে মনোনয়নপত্র দুটি সংগ্রহ করা হয়।

রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে। পাশাপাশি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের নামও আলোচনায় রয়েছে। এছাড়া স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরীর নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় এসেছে।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট রাষ্ট্রপতি পদে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে প্রার্থী করেছে। সোমবার (১০ আগস্ট) জোটের একটি প্রতিনিধিদল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইসির রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে তাঁর জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে।

পরে এক ব্রিফিংয়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, জয়-পরাজয় নয়, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়াই তাদের মূল লক্ষ্য। গণতান্ত্রিক ধারার সুস্থ চর্চা ফিরিয়ে আনতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়া হয়েছে।

গত ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে ইসি। তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ১৩ আগস্ট। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে ১৬ আগস্ট এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৮ আগস্ট বিকেল ৪টা।

আগামী ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

এর আগে গত ২৪ জুলাই দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেন। এরপর ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করে নির্বাচন কমিশন। এ নির্বাচনের বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন এরই মধ্যে জাতীয় সংসদের স্পিকারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।