সাগরপথে মালয়েশিয়া পাচারকালে টেকনাফে নারী ও শিশুসহ উদ্ধার ২৮

ডেস্ক নিউজঃ কক্সবাজারের টেকনাফের বাহারছড়ায় কোস্টগার্ড ও পুলিশের যৌথ অভিযানে মালয়েশিয়ায় পাচারকালে নারী ও শিশুসহ ২৮ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। 

মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) দুপুরে কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক এ তথ্য জানান। এর আগে সোমবার দিবাগত রাত ১টার দিকে টেকনাফের বাহারছড়ার কচ্ছপিয়া ঘাট সংলগ্ন বিচ এলাকা থেকে তাদের উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে কোস্টগার্ড।

কোস্টগার্ড জানায়- গোপন সূত্রে খবর আসে, সাগরপথে মালয়েশিয়া পাচারের জন্য নারী ও শিশুসহ বিপুল সংখ্যক ব্যক্তি নিয়ে কচ্ছপিয়া ঘাট সংলগ্ন বিচ এলাকায় অবস্থান করছে পাচারকারীরা। ওই তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার দিবাগত রাতে কোস্টগার্ড আউটপোস্ট বাহারছড়া ও পুলিশের সমন্বয়ে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে বিচে অবস্থানরত ২৮ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।

পরে উদ্ধারকারীদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, কয়েকটি সংঘবদ্ধ পাচারকারী চক্র বিদেশে উন্নত জীবনযাপনের স্বপ্ন, উচ্চ বেতনের চাকরি এবং অল্প খরচে বিদেশ যাত্রার প্রলোভন দেখিয়ে টেকনাফসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা নাগরিকদের মালয়েশিয়ায় নেওয়ার প্রলোভনে সাগরপথে যাত্রার পরিকল্পনা করছিল। তবে যৌথ বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারকারীরা পালিয়ে যায়।

লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক বলেন, মানবপাচার রোধে কোস্টগার্ডের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। নারী-শিশুসহ ২৮ জনকে উদ্ধার করা হলেও পাচারকারীরা পালিয়ে গেছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং জড়িতদের শনাক্ত ও আটকে অভিযান চলছে।




ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য চাইলো সরকার

ডেস্ক নিউজঃ ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য চেয়েছে সরকার। দেশের বিভিন্ন জায়গায় হাইস্কুল, কলেজ, মাদরাসা, কারিগরি প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যাওয়ায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো জরুরি ভিত্তিতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছে তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে। 

রোববার (২৩ নভেম্বর) শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ এবং কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের অধীনে থাকা প্রতিষ্ঠানের তথ্য জানতে জেলা পর্যায়ের অফিসগুলোকে নির্দেশ পাঠায়।

প্রধান প্রকৌশলী (রুটিন দায়িত্ব) মো. তারেক আনোয়ার জাহেদীর স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানের তথ্য ও একাধিক ছবি সংযুক্ত করে আজকের মধ্যে প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জেলা অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলীদের।

এদিকে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তথ্য সংগ্রহে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরও মাঠপর্যায়ে চিঠি দিয়েছে। অধিদপ্তরের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন শাখার পরিচালক মিরাজুল ইসলাম উকিল স্বাক্ষরিত চিঠিতে বিভাগীয় উপপরিচালকদের ২৭ নভেম্বরের মধ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য পাঠাতে বলা হয়েছে।

অধিদপ্তর জানিয়েছে, ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে।

মূলত, গত শুক্রবার ও শনিবার পরপর চার দফা ভূমিকম্প অনুভূত হয় দেশে। এরপর নিরাপত্তার বিবেচনায় গত রোববার কয়েকটি স্কুল-কলেজ ক্লাস বন্ধ রাখলেও সোমবার থেকে শিক্ষাক্রম স্বাভাবিক হয়েছে। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ করে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে।




ভূমিকম্পে আতংকিত না হয়ে সচেতনতার আহ্বান বিশেষজ্ঞদের

ডেস্ক নিউজঃ সাম্প্রতিক কয়েক দফা ভূমিকম্পে দেশে আতঙ্ক বাড়লেও এ নিয়ে ভয় না পেয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও সচেতনতা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন দেশের শীর্ষ বিশেষজ্ঞ, গবেষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকরা। সোমবার (২৪ নভেম্বর) প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জরুরি বৈঠকে তারা এ সুপারিশ করেন।

বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বিশেষজ্ঞদের দ্রুত লিখিত সুপারিশ পাঠানোর অনুরোধ জানিয়ে বলেন, “আমরা হাত গুটিয়ে বসে থাকতে চাই না, আবার অবৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্তও নেব না। আপনারা যা প্রয়োজন মনে করেন, তা লিখিত দিন; সরকার সব ধরনের প্রস্তুতি নিতে প্রস্তুত।” তিনি জানান, ভূমিকম্প–সংক্রান্ত করণীয় নির্ধারণে বিশেষজ্ঞ কমিটি ও টাস্কফোর্স গঠনের কাজ চলছে।

গুজব নয়, বিজ্ঞানভিত্তিক তথ্যের ওপর ভরসা

বিশেষজ্ঞরা বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় ৪৮ ঘণ্টা, ১০ দিন বা ১ মাসের মধ্যে বড় ভূমিকম্প হবে—এ ধরনের অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তাদের মতে, ভূমিকম্পের সুনির্দিষ্ট দিন–তারিখ অনুমান করা সম্ভব নয়। তবে পূর্বের তথ্য দেখে ঝুঁকি মূল্যায়ন করা যায়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জিল্লুর রহমান জানান, বাংলাদেশ তুলনামূলকভাবে স্বল্প ভূমিকম্প–প্রবণ এলাকা হলেও প্রস্তুতি বাড়ানো জরুরি।
অধ্যাপক ড. হুমায়ুন আখতার তরুণদের অংশগ্রহণে চার স্তরে (ইনডোর–আউটডোর–ব্যক্তিগত–প্রাতিষ্ঠানিক) করণীয় পরিকল্পনা তৈরির পরামর্শ দেন।

চুয়েটের অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিদ্যুৎ–গ্যাসসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার মূল্যায়নের ওপর জোর দেন।
এমআইএসটি’র অধ্যাপক জয়নুল আবেদীন বলেন, জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে করণীয় সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দিতে হবে—খোলা জায়গার তালিকা, মহড়া, বাসা–বাড়ি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণ—এসব কার্যক্রম জরুরি।

ফাটল ধরা ভবনের মূল্যায়ন শুরু

গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান জানান, সফটওয়্যারের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের ছবি সংগ্রহ ও মূল্যায়ন চলছে। ইতোমধ্যে দুই শতাধিক ভবন পরিদর্শনে দেখা গেছে—বেশিরভাগ ক্ষতি পার্টিশন দেয়ালে।

টাস্কফোর্স গঠনের সিদ্ধান্ত

বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিশেষজ্ঞদের লিখিত সুপারিশ পাওয়ার পর দ্রুত টাস্কফোর্স গঠন করা হবে। এতে সরকারি–বেসরকারি কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।




ভূমিকম্পের প্রস্তুতি নিয়ে জরুরি বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা

ডেস্ক নিউজঃ সম্প্রতি কয়েক দফা ভূমিকম্পে সারা দেশে আতঙ্ক তৈরি হওয়ায় ভূমিকম্প প্রস্তুতি–সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সোমবার (২৪ নভেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে এ বৈঠক শুরু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর।

সরকারি সূত্র জানায়, শুক্রবার ও শনিবার (২১–২২ নভেম্বর) দুই দিনে চার দফা ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার পর এই জরুরি বৈঠক আহ্বান করা হয়। এ বৈঠকে রাজধানীসহ সারাদেশের ঝুঁকিপূর্ণ ভবন, উদ্ধার সক্ষমতা, জরুরি প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে করণীয় বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

শুক্রবার সকালে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী ভূমিকম্প আঘাত হানে বাংলাদেশে। রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীর মাধবদী, যা ঢাকা থেকে মাত্র ১৩ কিলোমিটার দূরে। ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে।

এই ভূমিকম্পে তিন জেলায় অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয় এবং ছয় শতাধিক মানুষ আহত হন। ঢাকার বহু ভবনে ফাটল দেখা দেয় এবং কোথাও কোথাও ভবন হেলে পড়ার ঘটনাও ঘটে। এরপর শনিবার কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে আবার তিন দফা ভূমিকম্প অনুভূত হলে আতঙ্ক আরও বাড়ে।

প্রধান উপদেষ্টা ভূমিকম্প–পরবর্তী ঝুঁকি মূল্যায়ন, ভবন নিরাপত্তা, জনসচেতনতা, জরুরি সাড়া–দানের সক্ষমতা ও সমন্বিত প্রস্তুতি–পরিকল্পনা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করছেন বলে জানা গেছে।




ঢাকা ত্যাগ করেছেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজঃ তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষে ঢাকা ছেড়েছেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে। সোমবার (২৪ নভেম্বর) সকালে তিনি ঢাকা ছাড়েন।

এর আগে শনিবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে ভুটানের প্রধানমন্ত্রীকে প্রধান উপদেষ্টা স্বাগত জানান। এছাড়া গার্ড অব অনার এবং তোপধ্বনি দেওয়া হয়। পরে তিনি সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে যান, শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং সেখানে একটি গাছের চারা রোপণ করেন।

ভুটানের প্রধানমন্ত্রী তোবগে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন এবং বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন আলাদাভাবে সফররত ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

শনিবার ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা উষ্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করেন। বৈঠকে তারা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা করেন, বিশেষ গুরুত্ব দেন বাণিজ্য, সংযোগ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও জনগণের মধ্যে সম্পর্ক বাড়াতে।

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী তোবগের সঙ্গে এই সফরে ছিলেন ভুটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিয়নপো ডি এন ধুঙ্গিয়েল, শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী লিয়নপো নামগিয়াল দরজি এবং ভুটানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।




রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ

ডেস্ক নিউজঃ রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে বঙ্গভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ সফররত ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে।

রোববার (২৩ নভেম্বর) দুপুরে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গভবনে আসলে রাষ্ট্রপ্রধান তাকে স্বাগত জানান। পরে বঙ্গভবনের ক্রেডেনসিয়াল হলে তারা এক আনুষ্ঠানিক আলোচনায় বসেন।

ভুটানের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি।

সাহাবুদ্দিন বলেন, ভবিষ্যতে উভয় দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরো গভীর হবে। তিনি আশা করেন যে, আগামী দিনে বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে ব্যবসা, বাণিজ্য, জলবিদ্যুৎ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সম্পর্ক আরও জোরদার হবে।

ভুটানের প্রধানমন্ত্রী তার দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য বাংলাদেশের মেডিকেল কলেজে আসন বাড়ানো এবং প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন সংরক্ষণ করায় বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়ন ও অগ্রগতির ভূয়সী প্রশংসা করেন। প্রধানমন্ত্রী আশা করেন যে, আগামী দিনে উভয় দেশের সম্পর্ক আরও বৃদ্ধির পাবে।




বড় আকারের ভূমিকম্প মোকাবিলা নিয়ে উদ্বেগ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার

ডেস্ক নিউজঃ দেশে বড় আকারের ভূমিকম্প হলে তা মোকাবিলায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। রোববার (২৩ নভেম্বর) সচিবালয়ে মন্ত্রণালয় সভাকক্ষে আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত কোর কমিটির সভা শেষে ব্রিফিংয়ে তিনি এই  উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার কোনো শঙ্কা আছে কি না জানতে চাইলে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, এমন কোনো শঙ্কা নেই। ‘আজকে দেখেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে যাচ্ছে। কিন্তু নির্বাচনের সময় যতই ঘনিয়ে আসবে, সেই সময়ে বিভিন্ন দলের বিক্ষোভ-মিছিলের সংখ্যা বেড়ে যাবে। সভা-সমিতির সংখ্যাও বেড়ে যাবে।’

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা যখন দায়িত্ব নিয়েছি, তখন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির মধ্যেই ছিল। পরে গেল দেড় বছরের চেষ্টায় উন্নতির দিকে গেছে’।

একজন নিরাপত্তা বিশ্লেষক বলছেন, দেশে যে পরিমাণ অপরাধ চলছে, তাতে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আমরা ক্রান্তিকাল পার করছি কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা একজন নিরাপত্তা বিশ্লেষকের মন্তব্য। আর সে কীভাবে নিরাপত্তা বিশ্লেষক হলো, সেটাও আমি জানি না। এখন আমাদের দেশে সবাই বিভিন্ন বিষয়ে বিশ্লেষক। কিন্তু কে কোন যোগ্যতায় হয়েছে, তা আমার জানা নেই। আর না জানলে আমি তার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে পারবো না।’

ভূমিকম্প নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘অন্য কোনো দেশে ভূমিকম্প নিয়ে কোনো আগাম সতর্কতা আছে কি না, আমার জানা নেই। তবে আমাদের দেশে নেই। অনেক দেশে নাকি একটা অ্যাপ আছে, যে দশ সেকেন্ড আগে সতর্কতা দেওয়া যায়। এমন একটা অ্যাপ খোলা যায় কি না, আমরাও সেই চিন্তা করছি।’

তিনি বলেন, ‘অনেকে বলে, একটা ভূমিকম্প হওয়ার পরে এক-দেড় ঘণ্টা পর আরেকটা হওয়ার শঙ্কা থাকে। এক-দেড় ঘণ্টা পর সেই শঙ্কা কমে যায়। কিন্তু আমাদের দেশে তো একটা হওয়ার পর ছোট আকারে আরেকটা হয়েছে। আমরা এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ নই। পরবর্তীতে আবহাওয়াবিদদের সঙ্গে কথা বলবো।’

পাশাপাশি সবার প্রতি বিল্ডিং কোড মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘জলাশয় ভরাট করে ভবন করা হচ্ছে। এতে ঝুঁকি বেশি থাকে। ভূমিকম্প হলে লোকজন গিয়ে কোথাও দাঁড়াবে, তেমন কোনো মাঠও নেই। ভবিষ্যতে এ বিষয়ে নজর দিতে হবে।’

মধ্যরাতে এক সাংবাদিককে ডিবি তুলে নিয়ে যাওয়া নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকদের মধ্যেও এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বলা হয়েছে, তিনি যে কাজটি করেছেন, সেটা সাংবাদিক হিসেবে না, সেটা ছিল অন্য ধরনের কাজ।’




হাসিনার রায় নিয়ে ছড়িয়ে পড়া বিচারকদের ছবি সরানোর নির্দেশ ট্রাইব্যুনালের

ডেস্ক নিউজঃ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের রায়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিচারকদের ছবি এবং ভিডিওর সঙ্গে অবমাননাকর মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ায় তা দ্রুত সরানোর নির্দেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে আগামী ৩ ডিসেম্বরের মধ্যে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দেওয়ার জন্যও বলা হয়েছে।

রোববার (২৩ নভেম্বর) ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে গঠিত দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই আদেশ দেন। প্যানেলের অন্য সদস্য হলেন অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনা ও কামালকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন। রায়টি ১৩ নভেম্বর ঘোষণা করা হয়।

রায়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারকদের ছবি ব্যবহার করে অবমাননাকর মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ে, যা নজরে আসে ট্রাইব্যুনালের। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদার বিটিআরসির চেয়ারম্যান ও তথ্য সচিবকে এসব ছবি এবং মন্তব্য মুছে ফেলার নির্দেশ দেন।

ট্রাইব্যুনাল আডিশনে বলেন, মুক্ত চিন্তা ও বাক স্বাধীনতা সবাইকে প্রাপ্য, তবে তা অবশ্যই দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী এবং কাউকে অবমাননা না করে প্রকাশ করতে হবে।

আদেশের সময় ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, গাজী এমএইচ তামিমসহ অন্যান্য প্রসিকিউশনের সদস্যরা। এছাড়া আসামিপক্ষের আইনজীবী এবং সাংবাদিকরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।




স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর

ডেস্ক নিউজঃ বাংলাদেশে সফররত ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে শনিবার (২২ নভেম্বর) সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধের মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে স্মৃতিসৌধের বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। 

পরে তিনি দর্শনার্থী বইয়ে স্বাক্ষর এবং একটি গাছের চারা রোপণ করেন।

প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার এ তথ্য জানান।

শনিবার (২২ নভেম্বর) ভুটানের প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী ড্রুকএয়ারের বিমানটি সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (এইচএসআইএ) অবতরণ করে।

বিমানবন্দরে তাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এ সময় ভুটানের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।




ঢাকায় এসেই ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির খোঁজ নিলেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজঃ ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে আজ রাষ্ট্রীয় সফরে ঢাকায় এসেছেন। বিমানবন্দরে নামার পর প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত বৈঠক করেন তিনি। এ সময় গতকাল শুক্রবারের ভূমিকম্পে হওয়া ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির বিষয়ে জানতে চান এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

শনিবার (২২ নভেম্বর) সকাল সোয়া ৮টায় ড্রুকএয়ারের একটি ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান ভুটানের প্রধানমন্ত্রী।

এ সময় লাল গালিচায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস তাকে স্বাগত জানান।

এরপর বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে দুই নেতার মধ্যে সংক্ষিপ্ত বৈঠক হয়।

বৈঠকে তোবগে ভূমিকম্পে হওয়া ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির বিষয়ে জানতে চান এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। বৈঠক শেষে তোবগেকে ১৯ বন্দুক স্যালুট এবং গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।

বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে রওনা হন। তিনি স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন এবং স্মারক বইতে স্বাক্ষর করবেন।

জানা গেছে, দুপুরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ও বাণিজ্য উপদেষ্টা ভুটানের এই নেতার সঙ্গে বৈঠক করবেন। এরপর বিকেল ৩টার দিকে তেজগাঁওয়ের প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে একান্ত বৈঠক হবে। সন্ধ্যায় আয়োজিত এক সরকারি নৈশভোজেও যোগ দেবেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী।

গত বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র সচিব মো. আসাদ আলম সিয়াম বলেন, প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী একান্ত বৈঠকের পর দুদেশের মধ্যে প্রতিনিধি পর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, যোগাযোগ, শিক্ষা, কৃষি, স্বাস্থ্য, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ, টেলিযোগাযোগ, পর্যটন, সংস্কৃতি, যুব ও ক্রীড়া, শিল্পসহ দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা করা হবে।

পররাষ্ট্রসচিব বলেন, দুদেশের মধ্যে প্রতিনিধি পর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বাংলাদেশ কর্তৃক দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার জন্য কিছু সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব উত্থাপন করার সুযোগ রয়েছে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ভুটানকে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বাণিজ্য, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কৃষি, পর্যটন ও ক্রীড়া বিষয়ক কয়েকটি সহযোগিতার প্রস্তাব দিতে পারে এবং ভুটানে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, পানি ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশি পেশাদারদের নিয়োগে ভুটান সরকারের সহযোগিতা চাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক বিষয়েও আলোচনা হবে বলে আশা করা যায়।

তিনি আরও বলেন, বৈঠক শেষে ভুটানের সঙ্গে আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ, ভুটানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ এবং কৃষি সহযোগিতা বিষয়ক তিনটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পরদিন ২৩ নভেম্বরে তিনি বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। বাংলাদেশ সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টা ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করার সম্ভাবনা রয়েছে।