ভোর থেকে কঠোর তল্লাশি, আদালতপাড়ায় সতর্কতা সর্বোচ্চ

ডেস্ক নিউজঃ ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায়কে কেন্দ্র করে আজ সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এবং সুপ্রিম কোর্ট এলাকা কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টনীতে ঘেরা হয়েছে। সকালে সাড়ে আটটা থেকে নয়টার মধ্যে আদালতপাড়া ঘুরে দেখা যায়- পুরো এলাকায় চার বাহিনীর (সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি ও র‍্যাব) অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন রয়েছে। সন্দেহজনক মনে হলেই পথচারীকে থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ, পরিচয়পত্র যাচাই এবং ব্যাগ তল্লাশি করা হচ্ছে।

রায় ঘোষণার দিনকে ‘উচ্চঝুঁকির সকাল’ বিবেচনায় নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সামনে থেকে হাইকোর্ট মোড়, সুপ্রিম কোর্টের মূল গেট থেকে মাজার গেট পর্যন্ত নিরাপত্তা কয়েক স্তরে ভাগ করে বাড়ানো হয়েছে। মোটরসাইকেলের কাগজপত্র পরীক্ষা থেকে শুরু করে পথচারীর গন্তব্য জিজ্ঞেস করা- সর্বত্রই কঠোর নজরদারির উপস্থিতি স্পষ্ট।

মাজার গেট এলাকায় সেনাবাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে। আদালতপাড়ার ভেতরে র‍্যাবের বাড়তি সদস্য মোতায়েন রয়েছে, আর বিজিবির টহল দল সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে ঘুরে ঘুরে নজরদারি চালাচ্ছে।

মগবাজার থেকে আসা আইনজীবী সানজিদা রহমান বলেন, ‘দুই জায়গায় ব্যাগ খুলে দেখাতে হয়েছে। এমন কড়াকড়ি আগে কখনও দেখিনি।’

নিকটবর্তী দোকানকর্মী ইমরান জানান, ‘সকাল থেকেই পরিবেশ অন্যরকম। কেউ দাঁড়ালেই জিজ্ঞাসা করছে কোথায় যাচ্ছেন।’

ট্রাইব্যুনালের ভেতরে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অনুমোদন ছাড়া কাউকেই প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। দায়িত্বপ্রাপ্ত এক নিরাপত্তাসদস্যের ভাষায়, ‘আজ ছাড় দেওয়ার মতো দিন না।’




জুলাই হত্যাকাণ্ডের মামলায় ৫ অভিযোগে ট্রাইব্যুনালের প্রথম রায় আজ

ডেস্ক নিউজঃ জুলাই গণআন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে আজ সোমবার বেলা ১১টায় রায় ঘোষণা করা হবে।

গণ-অভ্যুত্থানের সময় হত্যাকাণ্ডসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় করা এটিই প্রথম মামলা, যার রায় ঘোষণা করতে যাচ্ছেন বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। এই ট্রাইব্যুনালের আরও দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। রায় ঘোষণার জন্য গত ১৩ নভেম্বর এই দিন ধার্য করেন  ট্রাইব্যুনাল।

ট্রাইব্যুনালের রায় ঘোষণা সরাসরি সম্প্রচার করবে বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন। এছাড়া রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন স্থানে বড় পর্দায় দেখানো হবে ট্রাইব্যুনালের রায় ঘোষণা।

এদিকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনার কী শাস্তি হয়, তা দেখার জন্য জনগণের দৃষ্টি আজ ট্রাইব্যুনালের দিকে। রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও এর আশাপাশের এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাশাপাশি এই মামলার অন্য দুই আসামি হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ও পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। তিন আসামির মধ্যে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান পলাতক। দুজনই এখন ভারতে অবস্থান করছেন।

শেখ হাসিনাসহ এ মামলার তিন আসামির বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছে।

অভিযোগগুলো হলো—

গত বছরের ১৪ জুলাই গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনার উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান;

হেলিকপ্টার, ড্রোন ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের নির্মূল করার নির্দেশ প্রদান;

রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা;

রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় ছয় আন্দোলনকারীকে গুলি করে হত্যা এবং

আশুলিয়ায় ছয়জনকে পোড়ানোর অভিযোগ।

এই পাঁচ অভিযোগে তিন আসামির বিরুদ্ধে গত ১০ জুলাই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল। আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের দিন (১০ জুলাই) সাবেক আইজিপি মামুন গণ-অভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। ‘অ্যাপ্রুভার’ (রাজসাক্ষী) হওয়ার আবেদন করেন।

এর আগে গত ১ জুন শেখ হাসিনাসহ এই তিন আসামির বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করে প্রসিকিউশন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় প্রথম মামলাটি (মিসকেস বা বিবিধ মামলা) হয় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে।

গত বছরের ১৭ অক্টোবর পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালের প্রথম বিচারকাজ অনুষ্ঠিত হয়। সেদিনই এ মামলায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। প্রথম দিকে এ মামলায় শেখ হাসিনাই একমাত্র আসামি ছিলেন। চলতি বছরের ১৬ মার্চ এ মামলায় শেখ হাসিনার পাশাপাশি সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে আসামি করার আবেদন করে প্রসিকিউশন (রাষ্ট্রপক্ষ)। ট্রাইব্যুনাল তা মঞ্জুর করেন।

একাধিকবার সময় বাড়ানোর পর চলতি বছরের ১২ মে চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।

গত ১২ অক্টোবর এ মামলায় যুক্তিতর্ক শুরু হয়। যুক্তিতর্ক শেষ হয় ২৩ অক্টোবর। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানের মৃত্যুদণ্ড চান চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম।

আসামি শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামানের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন। তিনি যুক্তিতর্কে এ মামলা থেকে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামানের খালাস আবেদন করেন। রাজসাক্ষী সাবেক আইজিপি মামুনেরও খালাস আবেদন করেন তার আইনজীবী যায়েদ বিন আমজাদ।




রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ট্রাইব্যুনাল এলাকায় সেনা মোতায়েন চেয়ে চিঠি

ডেস্ক নিউজঃ মানবতাবিরোধী অপরাধে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে করা মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও আশেপাশের এলাকায় পর্যাপ্ত সংখ্যক সেনাসদস্য মোতায়েন চেয়ে সেনা সদরে চিঠি দিয়েছেন সুপ্রিমকোর্ট।

বুধবার সুপ্রিমকোর্টের জনসংযোগ কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনালে সেনা মোতায়েন চেয়ে সুপ্রিমকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের অফিস থেকে সেনা সদর দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

এর আগে এই মামলায় রায়ের তারিখ ঘোষণাকে কেন্দ্র করে গত বৃহস্পতিবারও সেনা মোতায়েন করতে চিঠি দেওয়া হয়েছিল সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসন থেকে। সেই অনুযায়ী সেনাও মোতায়েন করা হয়েছিল সুপ্রিমকোর্ট ও ট্রাইব্যুনালে।

দেশের বর্তমান পরিস্থিতি ও মামলাটির সংবেদনশীলতার কারণে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও সুপ্রিমকোর্ট এলাকায় যে কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে। আইন-শৃঙ্খলার অবনতি বা নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির স্বাভাবিক রাখতে ঢাকাসহ চার জেলায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনার পাশাপাশি এ মামলার অপর দুই আসামি হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ও পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। এর মধ্যে সাবেক আইজিপি মামুন ‘অ্যাপ্রুভার’ (রাজসাক্ষী নামে পরিচিত) হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন।




নবান্নের আবহ নিয়ে চলে এলো অগ্রহায়ণ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ টলটলে মুক্তোর মতো শিশির যেন ভোরের আলোর সঙ্গে প্রতিদিন নতুন জন্ম নেয়। ঘাসের ডগায়, ধানের শীষের মাথায় তারা চিকচিক করে ওঠে। দূরদিগন্ত অবধি ছড়িয়ে থাকা ধানক্ষেত তখন সোনালি আভায় দীপশিখার মতো ঝলমল করে। সবুজ স্বপ্নের সঙ্গে হলুদ সোনালি রঙ একাকার হয়ে বাংলার হেমন্তকে সাজিয়ে তোলে এক অপূর্ব মায়াবী আলোয়। অখণ্ড নীল আকাশ, কোমল সোনাঝরা রোদ আর হিমশীতল বাতাস—সব মিলিয়ে প্রকৃতির ভাষা যেন বলে ওঠে, এসেছে অগ্রহায়ণ।

দিনগুলো ছোট হয়ে আসে। শেষ বিকেলে কুয়াশার পাতলা চাদর নেমে আসে নিঃশব্দে, ঠিক শিশিরের মৃদু টুপটাপ শব্দের মতো। নিশিথের গাঢ় নিস্তব্ধতায় সেই শিশির যেন রূপ নেয় অদৃশ্য সংগীতে। আর সে সুরেই ভেসে ওঠে কৃষকের মন—কারণ উঠোনে উঠতে চলেছে নতুন ধানের ম-ম গন্ধ, আসন্ন নবান্নের আনন্দ।

অগ্রহায়ণ মানেই বাংলার অন্ন-উৎসব, কৃষিজীবনকে ঘিরে অনাদিকাল ধরে চলে আসা এক ঐতিহ্যের নবজাগরণ। নতুন আমন ধান ঘরে তুলেই শুরু হয় নবান্ন উৎসব। হিন্দু লোকবিশ্বাসে এই দিনকে ধরা হয় বাৎসরিক মাঙ্গলিক এক শুভক্ষণ হিসেবে। নতুন ধানের ভাত, বিবিধ তরকারি, পিঠেপুলি—সব মিলিয়ে গ্রাম মহল্লা হয়ে ওঠে উৎসবের আসর। অনেক পরিবারে মেয়েদের ডেকে আনা হয় বাপের বাড়িতে; কোথাও হয় মসজিদে শিন্নি বিতরণ, আবার হিন্দু কৃষক পরিবারে চলে পূজার আয়োজন। হিন্দু লোকাচারে পিতৃপুরুষ, দেবতা, এমনকি কাক পর্যন্ত নতুন অন্ন উৎসর্গ করার রীতি আছে। মৃতের আত্মার কাছে খাবার পৌঁছে যায় কাকের মাধ্যমে—এ বিশ্বাসে এই নৈবেদ্য পরিচিত ‘কাকবলী’ নামে।

নবান্নের উচ্ছ্বাস শুধু গ্রামেই থেমে থাকে না। রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের নানা প্রান্তে আয়োজন করা হচ্ছে নবান্ন উৎসব। অগ্রহায়ণের প্রথম দিনকে ‘আদি নববর্ষ’ আখ্যা দিয়ে উদযাপনের ডাক দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। দেশের বহু স্থানে বসছে গ্রামীণ মেলা—যেখানে মানবসমাগমে জমে উঠবে মিলনমেলা।

ধান কাটা মৌসুমে কৃষকের ঘর ভরে ওঠে ‘রাশি রাশি ভারা ভারা সোনার ধানে’। কুয়াশাচ্ছন্ন হেমন্তের সকালে ভেসে আসে ধান ভাঙার গান, ঢেঁকির তাল—যদিও যান্ত্রিকতার যুগে ঢেঁকির শব্দ আর অতটা শোনা যায় না, তবু সেই স্মৃতিই হেমন্তকে রাখে চিরন্তন আবহে। নতুন চালের পিঠার জন্য সংগ্রহ হতে থাকে খেজুরের রস; নতুন রস আর নতুন চালের এই যুগলবন্দী যেন বাঙালি সংস্কৃতির এক অমোঘ অঙ্গ।

লোকগবেষকদের মতে, কৃষিনির্ভর সভ্যতা গড়ে ওঠার পর থেকেই চলে আসছে নবান্নের জনপ্রিয়তা। কখনও অগ্রহায়ণই ছিল বাংলা বছরের প্রথম মাস—‘অগ্র’ মানে প্রথম, ‘হায়ণ’ মানে মাস। অতীতে উৎসবটি পালন করতেন মূলত হিন্দু গৃহস্থরা। আমন ধান কাটার পর অগ্রহায়ণ বা পৌষে ঘরে ঘরে জমত নবান্ন। হেমন্তের প্রকৃতি যে কী অদ্ভুত সুন্দর, তা কবি-সাহিত্যিকেরা দীর্ঘকাল ধরেই বর্ণনা করে আসছেন মুগ্ধ কণ্ঠে। জীবনানন্দ দাশের স্বপ্নময় পঙ্‌ক্তি যেন নবান্নকেই স্মরণ করিয়ে দেয়—
‘আবার আসিব ফিরে ধান সিঁড়িটির তীরে এই বাংলায়/
হয়তো মানুষ নয়—হয়তো শঙ্খচিল, শালিখের বেশে…’।

তার আরেক কবিতায় হেমন্তের প্রাচুর্য ধরা দেয়—
‘চারিদিকে নুয়ে পড়ে ফলেছে ফসল,/
তাদের স্তনের থেকে ফোঁটা ফোঁটা পড়িতেছে শিশিরের জল…।’

বর্তমানে দেশের বহু অঞ্চলে চলছে আগাম আমন ধান কাটা ও মাড়াই। কৃষি মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, এটি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ফসল উৎপাদনের সময়—প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ টন আমন উৎপাদিত হয় এই মৌসুমেই। রবীন্দ্রনাথও নতুন ফসলের আনন্দকে তুলে ধরেছিলেন—
‘ধরার আঁচল ভরে দিলে প্রচুর সোনার ধানে।’

অগ্রহায়ণের সঙ্গে শীতের দশ প্রহরণ শুরু হয়। কুয়াশার পর্দা নামতে থাকে ধীরে ধীরে। জীবনানন্দের ভাষা তখন সত্যি হয়ে ওঠে—
‘শিশির পড়িতেছিল ধীরে ধীরে খসে;/
নিমের শাখার থেকে একাকীতম কে পাখি নামি
উড়ে গেল কুয়াশায়— কুয়াশার থেকে দূর-কুয়াশায় আরও।’

হেমন্তের প্রকৃতি, নতুন ধানের গন্ধ, কৃষকের মুখের হাসি—সব মিলিয়ে নবান্ন শুধু একটি উৎসব নয়; এটি বাংলার জীবন-স্পন্দন, বাংলার মাটির সঙ্গে মানুষের শাশ্বত বন্ধনের অবিচ্ছেদ্য উদযাপন।




পে স্কেলের গেজেট না হলে কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারি সরকারি কর্মচারীদের

ডেস্ক নিউজঃ আগামী সংসদ নির্বাচনের আগেই পে কমিশন বাস্তবায়ন ও নবম পে স্কেল গেজেট জারির দাবি করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ। ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে গেজেট প্রকাশ না করলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে তারা।

শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ প্রতিনিধি সমাবেশ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে বলা হয়, পে স্কেল বাস্তবায়ন করা না হলে ১৮ লাখ কর্মচারী নির্বাচনের দায়িত্ব থেকে বিরত থাকবেন। বর্তমানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী আছেন প্রায় ১৫ লাখ।

সমাবেশে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পরিষদের সমন্বয়ক মো. লুৎফর রহমান। তিনি বলেন, ‘পে কমিশন নির্বাচনের আগেই দিতে হবে। এটির বাস্তবায়ন না হলে কর্মচারীরা কঠোর আন্দোলনে যাবে। ১ ডিসেম্বর থেকে যত দিন পর্যন্ত পে কমিশন বাস্তবায়ন না হবে, তত দিন পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাব।’

কর্মচারী নেতারা পে স্কেলসংক্রান্ত অন্যান্য দীর্ঘদিনের বঞ্চনা দূর করারও দাবি জানিয়ে বক্তারা জানান, ২০১৫ সালের পে স্কেল থেকে বাদ পড়া ৩টি টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহাল করতে হবে। বেতন জ্যেষ্ঠতা ফিরিয়ে আনতে হবে। সব স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে গ্র্যাচুইটির পাশাপাশি পেনশন চালু করতে হবে। বর্তমান গ্র্যাচুইটি হার ৯০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০০ শতাংশ করতে হবে। পেনশন গ্র্যাচুইটিতে প্রতি ১ টাকার সমমান ৫০০ টাকা নির্ধারণ করতে হবে।

ঐক্য পরিষদের মুখ্য সমন্বয়ক মো. ওয়ারেছ আলীর সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সমাবেশে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি এবং গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরসহ বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন এবং কর্মচারীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানান।

অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ গত বুধবার (১২ নভেম্বর) সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে স্কেলের সিদ্ধান্ত অন্তর্বর্তী নয়, বরং আগামী নির্বাচিত সরকার নেবে। তবে অন্তর্বর্তী সরকার বেতন কমিশনের প্রতিবেদন (বেতন কাঠামো) চূড়ান্ত করে যাবে।




বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে ইইউর সমর্থন, ড. ইউনূসের নেতৃত্বকে স্বাগত

ডেস্ক নিউজঃ বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের অধীন চলমান গণতান্ত্রিক উত্তরণের প্রক্রিয়াকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। আগামী নির্বাচন আয়োজনে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বকে স্বাগত জানিয়েছে ইইউ। 

একইসঙ্গে, সব রাজনৈতিক দলকে গঠনমূলকভাবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে উৎসাহিত করেছে ইইউ।

ইইউ এক ফেসবুক পোস্টে জানায়, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে গণতান্ত্রিক নির্বাচনের পথে বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়াকে আমরা সমর্থন করি।’

এতে আরও বলা হয়, ‘আগামী ফেব্রুয়ারিতে অংশগ্রহণমূলক, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের প্রেক্ষিতে আমরা প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বকে স্বাগত জানাই।’

দায়িত্বশীলভাবে কাজ করার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে ইইউ বলেছে, ‘আমরা রাজনৈতিক দলগুলোকে পরবর্তী ধাপে গঠনমূলকভাবে অংশগ্রহণ করতে উৎসাহিত করছি।’




নতুন পোশাকে মাঠে নেমেছে পুলিশ

ডেস্ক নিউজঃ বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের গায়ে নতুন পোশাক উঠেছে। শনিবার (১৫ নভেম্বর) থেকে ঢাকা মহানগর পুলিশসহ (ডিএমপি) দেশের সব মহানগর পুলিশ ও বিশেষায়িত ইউনিটে নতুন পোশাক পরেছে পুলিশ। তবে জেলা পুলিশ এখনো তা পায়নি। পর্যায়ক্রমে তারাও নতুন পোশাক পাবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে দমন-পীড়নের অভিযোগ ওঠার পর থেকে সমালোচনার মুখে থাকা পুলিশ বাহিনীর সংস্কার ও পোশাক পরিবর্তনের দাবি উঠলে অন্তর্বর্তী সরকার নতুন পোশাক অনুমোদন করে। এরই অংশ হিসেবে মহানগর পুলিশে লৌহ রঙের নতুন পোশাক দেওয়া হয়েছে। পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), ট্যুরিস্ট পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ, নৌ এই পোশাক পরবে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, আজ থেকে সব মহানগরে পুলিশের নতুন পোশাক চালু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব সদস্য এই পোশাক পাবেন।

পুলিশ সদর দপ্তরের গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, জেলা ও রেঞ্জ পুলিশ পর্যায়ক্রমে নতুন এই পোশাক পরবেন। তবে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ও স্পেশাল প্রটেকশন ব্যাটালিয়নের (এসপিবিএন) আগের পোশাক থাকবে।

এর আগে, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছিলেন, ‘পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে। পুলিশের জন্য, র‌্যাবের জন্য এবং আনসারের জন্য। তিনটা সিলেক্ট করা হয়েছে। এটা ইমপ্লিমেন্ট হবে আস্তে আস্তে। একসঙ্গে সব করা যাবে না।’

পোশাকের সঙ্গে পুলিশ সদস্যদের মানসিকতারও পরিবর্তন হবে বলে অন্তর্বর্তী সরকার আশা করছে। পুলিশে সংস্কারের উদ্যোগও নিয়েছে এই সরকার। সে জন্য স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠন করা হচ্ছে।




0xc6be24ca

0xc6be24ca




হিরো আলম গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজঃ দেশের আলোচিত কন্টেন্ট ক্রিয়েটর আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম গ্রেপ্তার হয়েছেন। 

শনিবার (১৫ নভেম্বর) দুপুরে স্ত্রী রিয়ামনির দায়ের করা মামলায় তাকে রাজধানীর হাতিরঝিল থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করে।

এর আগে হিরো আলমের স্ত্রী রিয়ামনি হিরো আলম ও আহসান হাবিব সেলিমের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগে হাতিরঝিল থানায় মামলা করেছিলেন।

গত বুধবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ওয়াহিদুজ্জামানের আদালত বাদীর আইনজীবীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ দেন।

বাদী পক্ষের আইনজীবী জিয়াউর রহমান চৌধুরী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আসামিরা জামিনের শর্ত ভঙ্গ করেছেন। তারা ঠিকমতো আদালতে হাজিরা দিচ্ছেন না। এ জন্য আমরা তাদের জামিন বাতিল চেয়ে আবেদন করি। শুনানি শেষে তাদের জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।’

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, সম্প্রতি হিরো আলম ও বাদী রিয়া মনির মধ্যে মনোমালিন্য দেখা দেয়। এরপর হিরো আলম বাদীকে তালাক দিয়ে বাসা থেকে বের করে দেন।

গত ২১ জুন বাদীর পরিবারের সঙ্গে মীমাংসা করার জন্য হাতিরঝিল থানাধীন এলাকায় একটি বাসায় ডাকা হয়েছিল। অভিযোগ করা হয়েছে, সেই সময়ে হিরো আলমসহ ১০-১২ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি বাদী ও তার পরিবারের সদস্যদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন।

পরে তারা বাদীর বর্তমান বাসায় বেআইনিভাবে প্রবেশ করে কাঠের লাঠি দিয়ে মারধর করে। এই হামলায় বাদীর শরীরে জখম সৃষ্টি হয়। এছাড়াও, এসময় তার গলায় থাকা ‘দেড় ভরি’ ওজনের স্বর্ণের চেইন চুরি করে নিয়ে যায় বলেও অভিযোগে বলা হয়েছে। এই ঘটনায় গত ২৩ জুন বাদী রিয়া মনি হাতিরঝিল থানায় মামলাটি দায়ের করেন।




0xfe2e9125

0xfe2e9125