খেলাধুলার পাশাপাশি লেখাপড়াতেও এগিয়ে যেতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ : ২২ লাখ ছেলে মেয়ে গত দেড় মাসে গোল্ডকাপে ১ লাখ ২৩ হাজার ইভেন্ট খেলেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আয়োজকদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, আপনারা গিনেজ বুক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, যাতে আমাদের এ কাজগুলো তারা গিনেজ বুকে দিতে পারে।

শনিবার (২০ জুন) বিকেলে রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, ছোট বন্ধুরা, তোমাদের শুধু খেললে হবে না। আমি জানি তোমাদের অনেকে ভালো গান গাইতে পারো, কুরআন তেলাওয়াত করতে পারো। তোমরা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। কাজেই তোমাদের সবকিছুতে পারদর্শী হতে হবে। তোমরা যদি পারদর্শী হয়ে উঠতে পারো তবেই একটি সুন্দর বাংলাদেশ, একটি স্ট্রং বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। তোমরা যখন বড় হবে তোমাদেরকেই বাংলাদেশ ভালোভাবে চালাতে হবে।

এ সময় উপস্থিত ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রশ্ন রেখে তারেক রহমান বলেন, দেখি তোমাদের কার কার মধ্যে এমন আত্মবিশ্বাস আছে, যারা খুব ভালোভাবে দেশ চালাতে পারবে। বিশ্বকাপ চলছে। রোনালদো ভালো খেলছে, মেসি খেলছে, এমবাপ্পে খেলছে। তোমাদের এমন ভালো খেলোয়ার হতে হবে। অলিম্পিকে যেন আমাদের রেজাল্ট ভালো হয়, এ জন্য এরই মধ্যে আমরা পরিকল্পনা করে ফেলেছি।

তিনি বলেন, খেলাধুলার মাধ্যমে আমাদের অনেকদূর এগিয়ে যেতে হবে। যেমন ক্রিকেট। ক্রিকেটের মাধ্যমে সারাবিশ্ব বাংলাদেশকে চেনে। তাই শুধু ক্রিকেট দিয়ে নয়, ফুটবল দিয়ে আমাদের সবাই চিনবে ইনশাল্লাহ, হকি দিয়ে, সুইমিং দিয়ে, টেনিস দিয়েও সবাই আমাদের চিনবে। তোমরা সারাবিশ্বে বাংলাদেশের এ্যাম্বাসেডর হবে। বাংলাদেশকে তোমাদের এগিয়ে নিতে হবে, বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে হবে। তোমরা আমাদের চেয়ে অনেক ভালো দেশ গড়তে পারবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন থেকে লেখাপড়াও করতে হবে, তবে খেলা ছাড়লে হবে না। যে যেই খেলা পছন্দ করবে সে সেইটা খেলবে। খেলাধুলার চর্চা ধরে রাখতে হবে। উদ্ভাবনের চেষ্টা করতে হবে। আমি শুধু বিজয়ী না এই খেলায় সহযোগিতায় যারা ছিলেন সবাইকে অভিনন্দন জানাই, একইসঙ্গে স্কুলের শিক্ষক, অবিভাবক সবাইকে ধন্যবাদ দিতে চাই।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, তোমাদের খেলা ছাড়লে চলবে না। তোমাদের আত্মবিশ্বাসী মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার সব ব্যবস্থা আমরা করবো। তোমাদের কোনো কিছু নিয়ে চিন্তা করতে হবে না। তোমাদের সব বিষয়ে পারদর্শী হয়ে উঠতে হবে। কিছুদিন পর ঢাকার চীনমৈত্রীতে একটি উদ্ভাবনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। সেখানে তোমাদের মতো বয়সী শিশুরা অংশ নেবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। বাংলাদেশকে একটি ফেমাস দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এটা তোমাদের করতে হবে। কারণ এটা তোমাদের ভবিষ্যৎ, এটা তোমাদের বাংলাদেশ। করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান, ময়মনসিংহ-৭ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মো. মাহবুবুর রহমান লিটন, বরিশাল-৬ আসনের এমপি আবুল হোসেন খান প্রমুখ।

বক্তব্য শেষে প্রতিযোগিতায় বিজয়ী দল, রানাস আপ দল, সেরা খেলোয়ার, সর্বোচ্চ গোলদাতাদের হাতে পুরস্কার হিসেবে নগদ অর্থ ও পদক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। পুরস্কৃত করা হয় রেফারিদেরও।

দেশের প্রাথমিক শিক্ষার সবচেয়ে বড় এ ক্রীড়া আয়োজন গত ৬ এপ্রিল শুরু হয়। এ প্রতিযোগিতায় দেশের ৬৫ হাজার ৩৪২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ১১ লাখের বেশি ছাত্র এবং ১১ লাখের বেশি ছাত্রী অংশগ্রহণ করেছে। গ্রাম পর্যায় থেকে শুরু হয়ে ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা শেষে চারটি দল জাতীয় পর্যায়ের ফাইনালে জায়গা করে নেয়।

প্রাথমিক স্তরে ক্রীড়া চর্চা ও প্রতিভা বিকাশের লক্ষ্যে আয়োজিত এ টুর্নামেন্টে ভবিষ্যতে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫০ লাখে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।




আরও কমলো স্বর্ণের দাম

ডেস্ক নিউজঃ দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এবার ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা কমিয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৬ হাজার ৩৪০ টাকা নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি।

শনিবার (২০ জুন) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। নতুন এ দাম সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য কমেছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।




১ আগস্ট থেকে গণপরিবহনে জিপিএস বাধ্যতামূলক, না থাকলে মিলবে না ফিটনেস সনদ

ডেস্ক নিউজঃ দেশের সড়ক পরিবহন ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ, আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে গণপরিবহনে জিপিএস (গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম) সংযুক্তি বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। এ লক্ষ্যে গণপরিবহনের ফিটনেস সনদ ইস্যু ও নবায়নের সঙ্গে জিপিএস সংযুক্তির বিষয়টি যুক্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ সম্প্রতি এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। বাসসের খবরে বলা হয়, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সহকারী সচিব মো. জসিম উদ্দিন স্বাক্ষরিত এ নির্দেশনা আগামী ১ আগস্ট ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ধারা ৪৪ ও ধারা ১২৪(১)(খ)-এর আওতায় জনস্বার্থে নিরাপদ সড়ক পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ১ আগস্ট থেকে সব ধরনের গণপরিবহনে জিপিএস ডিভাইস সংযুক্ত করতে হবে এবং যানবাহন চলাচলের সময় সেটি সচল রাখতে হবে।

এছাড়া ফিটনেস সনদ ইস্যু ও নবায়নের সময় জিপিএস সংযুক্তি নিশ্চিত না হলে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) সংশ্লিষ্ট যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন ও ফিটনেস নবায়ন করবে না।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ধারা ২৫ এবং সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২-এর বিধি ৫৫ অনুযায়ী যানবাহনের অন্যান্য কারিগরি বিষয় যাচাইয়ের পাশাপাশি জিপিএস সংযুক্তির বিষয়টিও পরীক্ষা করা হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, জিপিএস প্রযুক্তির মাধ্যমে গণপরিবহনের অবস্থান, গতি ও নির্ধারিত রুট সহজেই পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। এর ফলে অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণ, দুর্ঘটনা প্রতিরোধ, যানবাহন ট্র্যাকিং এবং অপরাধ দমনে কার্যকর ভূমিকা রাখা যাবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গণপরিবহনে জিপিএস বাধ্যতামূলক করা হলে পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা বাড়বে। একই সঙ্গে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দুর্ঘটনা বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট যানবাহনের গতিপথ ও অবস্থান সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া সহজ হবে।

এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় গণসচেতনতা সৃষ্টি ও বাস্তবায়ন কার্যক্রম তদারকির জন্য বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) পৃথক গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নির্দেশনার অনুলিপি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, বাংলাদেশ পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ, ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ), বিআরটিসি, বিআরটিএ, সরকারি যানবাহন অধিদপ্তর এবং দেশের সব বিভাগীয় কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে পাঠানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ও কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকারের এ উদ্যোগ সড়ক পরিবহন খাতে নিরাপত্তা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।




বগুড়ার সেই দুই ইউনিয়নের নাম বদলানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ডেস্ক নিউজঃ দেশজুড়ে আলোচনায় আসা বগুড়ার নবগঠিত মোকামতলা উপজেলার ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান।

শুক্রবার (১৯ জুন) তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের দুই ছেলের নামের সঙ্গে মিল রেখে নামকরণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে বগুড়ার এই দুই ইউনিয়নের নাম আলোচনায় আসে। বিষয়টি নিয়ে জাতীয় সংসদেও আলোচনা হয়েছে।

বগুড়া জেলা প্রশাসক বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ইউনিয়ন দুটির নাম পরিবর্তনের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। নতুন নাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগণের মতামত, এলাকার ইতিহাস-ঐতিহ্য এবং ভৌগোলিক পরিচিতিকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। এ জন্য পুনরায় গণশুনানির আয়োজন করা হবে। নতুন নাম চূড়ান্ত হওয়ার পর প্রচলিত বিধি অনুসরণ করে তা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে ।’

সূত্রে জানা গেছে, প্রতিমন্ত্রীর ছেলেদের নামের সঙ্গে ইউনিয়নের নাম হওয়াকে কেন্দ্র করে বিরূপ সমালোচনার পরে প্রতিমন্ত্রী নিজেও বিব্রত বোধ করেন। ইউনিয়নের নামকরণ নিয়ে কোনো ধরনের ভুল ব্যাখ্যা বা অপপ্রচারের সুযোগ না রাখতে তিনি নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে অনুরোধ জানান।

এর আগে ১১ জুন বগুড়ার জেলা প্রশাসকের সই করা প্রজ্ঞাপনে শিবগঞ্জ ও নবগঠিত মোকামতলা উপজেলার প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্গঠনের কথা জানানো হয়। এতে চারটি নতুন ইউনিয়ন গঠন করা হয়। শিবগঞ্জ উপজেলায় নতুন ইউনিয়নের নাম দেওয়া হয় ‘মীরবাড়ী’।

অন্যদিকে নবগঠিত মোকামতলা উপজেলায় গঠন করা তিনটি ইউনিয়নের নাম রাখা হয় ‘সীমান্ত’, ‘দিগন্ত’ ও ‘স্বর্ণগ্রাম’। চারটি নতুন ইউনিয়নের মধ্যে মীরবাড়ী, সীমান্ত ও দিগন্ত—এই তিনটির নাম নিয়ে মূলত বিতর্ক তৈরি হয়।

অভিযোগ ওঠে, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের পৈতৃক বাড়ির নাম ‘মীরবাড়ী’। তার বড় ছেলে মীর শাকরুল আলম সীমান্ত এবং ছোট ছেলে মীর সাকলাইন আলম দিগন্তের নামের সঙ্গে নবগঠিত সীমান্ত ও দিগন্ত ইউনিয়নের নামকরণ করা হয়েছে।

নামকরণের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন মহলে সমালোচনা শুরু হয়। রাজনৈতিক অঙ্গনেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। পরে নামকরণের প্রক্রিয়া ও গণশুনানি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বিষয়টি জাতীয় সংসদেও তোলা হয়।

সংসদে প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম দাবি করেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক যাচাই-বাছাই এবং গণশুনানির মাধ্যমে নতুন ইউনিয়নগুলোর নাম নির্ধারণ করেছেন। নাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্থানীয় মানুষের মতামত নেওয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সৈয়দপুর ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট এলাকা গাবতলী ও সোনাতলা উপজেলার সীমান্তে হওয়ায় নতুন ইউনিয়নের নাম ‘সীমান্ত’ রাখা হয়েছে। অন্য এলাকার ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনায় ‘দিগন্ত’ নাম দেওয়া হয়েছে। তাঁর দুই ছেলের নামের সঙ্গে ইউনিয়ন দুটির নাম মিলে যাওয়াকে তিনি কাকতালীয় বলে দাবি করেন।




মালয়েশিয়ায় উন্মুক্ত শ্রমবাজার ও অবকাঠামো নির্মাণে চীনা সহায়তা চাইবে বাংলাদেশ

ডেস্ক নিউজঃ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তারেক রহমান তার প্রথম বিদেশ সফর শুরু করতে যাচ্ছেন মালয়েশিয়া দিয়ে। আগামীকাল রবিবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় সফরে ঢাকা থেকে মালয়েশিয়ায় যাবেন। সফরের দ্বিতীয় দিন অর্থাত্ ২২ জুন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসবেন তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর দুই দিনব্যাপী মালয়েশিয়া সফরকে কেন্দ্র করে দুই বছর ধরে বন্ধ থাকা শ্রমবাজার আবার উন্মুক্ত হতে পারে।

একাধিক জনশক্তি রপ্তানিকারক এমন অভিমত ব্যক্ত করেছেন। আগামী ২৩ জুন প্রধানমন্ত্রী কুয়ালালামপুর থেকেই বেইজিং যাবেন। ২৬ জুন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাত্ শেষে ঢাকায় ফিরবেন। চীন সফরে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অবকাঠামো খাতে সেতু, উড়ালসড়ক ও পাতাল রেল নির্মাণসংক্রান্ত বেশ কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পে চীনের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা চাওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরের মাধ্যমে মালয়েশিয়া ও চীনের সঙ্গে সম্পর্কের গতি আরো বাড়বে, যার মাধ্যমে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে জটিলতার অবসান ও বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর ক্ষেত্র তৈরির সুযোগ তৈরি হতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফরের বিষয়ে আজ শনিবার প্রেস বিফ্রিংয়ে বিস্তারিত তুলে ধরবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহাদী আমিন এবং পররাষ্ট্র সচিবসহ উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে থাকবেন।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথম বিদেশ সফরে কোন দেশে যাবেন, তা নিয়ে গত তিন মাস নানা আলোচনা চলছিল। ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং এই অঞ্চলের প্রধান শক্তিগুলোর সঙ্গে একটি সতর্ক কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখার কৌশল হিসেবে সরকারপ্রধান দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ মালয়েশিয়ায় প্রথম সফর বেছে নিলেন।

মালয়েশিয়ার সঙ্গে দুটি সমঝোতা স্মারক সই হবে :প্রধানমন্ত্রীর সফরকালে মালয়েশিয়ার সঙ্গে কালচারাল এবং তথ্য ও সম্প্রচার সংক্রান্ত দুটি এমওইউ সই হতে পারে। এছাড়া কাউন্টার টেরোরিজম, এফটিএ নেগোসিয়েশনসহ আরো কয়েকটি নোট অব এক্সচেঞ্জ করা হতে পারে। মালয়েশিয়ায় প্রায় ১০ লাখেরও বেশি বাংলাদেশি কর্মী রয়েছেন। ফলে প্রবাসীদের নিরাপদ অভিবাসনসহ কর্মী নেওয়ার বিষয়ে দুই সরকারপ্রধান আলোচনা করবেন। মালয়েশিয়ায় তারেক রহমান বাংলাদেশ কমিউনিটির সঙ্গেও বৈঠক করবেন। এছাড়া ব্যবসায়ী প্রতিনিধিসহ কয়েকটি কার্যক্রমে অংশ নেবেন।

মালয়েশিয়া থেকে চীন যাবেন প্রধানমন্ত্রী :২৩ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দালিয়ানে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের অ্যানুয়াল মিটিং অব দ্য নিউ চ্যাম্পিয়ন্সে অংশ নেবেন। প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব অর্থনীতি, উদ্ভাবন, টেকনোলজি এবং এশিয়ার ভবিষ্যত্ নিয়ে আলোচনায় যোগ দেবেন। এখানে বিভিন্ন দেশের নেতা ও ব্যবসায়ীরা উপস্থিত থাকবেন। ফোরামের ফাঁকে গুরুত্বপূর্ণ সাইড লাইন বৈঠকেরও সম্ভাবনা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী দালিয়ান থেকে বিকালে বুলেট ট্রেনে তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে বেইজিং যাবেন। সূত্রমতে, ২৫ জুন চীনের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন তারেক রহমান। আনুষ্ঠানিক বৈঠকের পর দুই দেশের সরকারপ্রধানদের মধ্যে ওয়ান টু ওয়ান বৈঠকও হবে বলে জানা গেছে। একই দিনে তিনি আরো কয়েকটি কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। ২৬ জুন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাত্ শেষে ঐ দিন ঢাকায় ফিরবেন সরকারপ্রধান।

চীনের সঙ্গে সই হবে ১৫টি সমঝোতা স্মারক :পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, সফরকালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং উভয়ের সঙ্গেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পৃথক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সম্প্রতি বেইজিং সফর করেছেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম। তিনি চীনের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুয়া চুনইংয়ের সঙ্গে তারেক রহমানের চীন সফরের নানা কর্মসূচি, আলোচ্যসূচি, সম্ভাব্য চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকসহ সার্বিক বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন উচ্চপর্যায়ের সফরকে কেন্দ্র করে বহুমাত্রিক সহযোগিতা জোরদার করার লক্ষ্যে একাধিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সইয়ের প্রস্তুতি চলছে। বেইজিংয়ের নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানায়, চীনের সঙ্গে ঢাকার প্রায় ১৫টি সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে। উভয় দেশ এরই মধ্যে বিভিন্ন খাতভিত্তিক খসড়া বিনিময় করেছে এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলো দ্রুত মতামত প্রদান ও আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের জন্য কাজ করছে। শিক্ষা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, কৃষি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, গণমাধ্যম, উন্নয়ন সহযোগিতাসহ প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ খাতকে অন্তর্ভুক্ত করে এমওইউ সইয়ের প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। চীনা কমিউনিস্ট পার্টি ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের মধ্যে বিনিময় ও সহযোগিতা সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে। এছাড়া চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে যৌথভাবে ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ উদ্যোগ প্রচারে সহযোগিতা পরিকল্পনা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য সমঝোতা স্মারক, বাংলাদেশ থেকে চীনে উচ্চমানের পণ্য রপ্তানির যৌথ কর্মপরিকল্পনা, মুক্ত বাণিজ্য ও বহুপক্ষীয় সমর্থনের জন্য সমঝোতা স্মারক, সবুজ উন্নয়নে বিনিয়োগ সহযোগিতা প্রচারের জন্য সমঝোতা স্মারক, বৈশ্বিক উন্নয়ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন প্রচারের জন্য সমঝোতা স্মারক, চীন ও বাংলাদেশের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমঝোতা স্মারক, মানবসম্পদ উন্নয়ন সহযোগিতা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সমঝোতা স্মারক, অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার কাঠামো চুক্তি, মোংলা সুবিধা প্রকল্প, চায়না মিডিয়া গ্রুপ ও বাংলাদেশ তথ্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সহযোগিতাসহ আরো কয়েকটি এমওইউ সই হতে পারে।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আবার উন্মুক্ত হওয়ার আশা :প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, শ্রমবাজার চালুর বিষয়ে এখনো কোনো খবর জানা নেই। তবে দেশটিতে প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষ্যে এটি হতেও পারে। শিগিগরই মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলার একটি ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী বলেছিলেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলে যাবে। প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য মালয়েশিয়া সফর প্রসঙ্গে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী বলেন, এ নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে মালয়েশিয়ার সঙ্গে নতুন কোনো সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বা চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত তথ্য তার কাছে নেই।

গত ২ জুন সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক বলেন, বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে কোনো ধরনের সিন্ডিকেট বা দুর্নীতির সুযোগ থাকবে না। জনশক্তি রপ্তানি খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করবে। ২০২৪ সাল থেকে মালয়েশিয়ায় জনশক্তির বাজার বন্ধ বাংলাদেশের। ঐ বছর মালয়েশিয়ার সরকার ঘোষণা করেছিল, আগে থেকে অনুমোদন পাওয়া বাংলাদেশের কর্মীদের ৩১ মের মধ্যে দেশটিতে যেতে হবে। এরপর কর্মী ভিসায় আর কেউ সেখানে ঢুকতে পারবেন না। ঐ তারিখের পর থেকে আর কোনো কর্মী যেতে পারেননি দেশটিতে। এরপর বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দফায় দফায় চেষ্টা করেও এই শ্রমবাজার উন্মুক্ত করা সম্ভব হয়নি।

বিএনপি সরকার গঠনের পর গুরুত্বপূর্ণ এই জনশক্তি বাজার আবার উন্মুক্ত করার উদ্যোগ নেয়। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে গত এপ্রিলে মালয়েশিয়া সফর করেন প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন। এর পর থেকে বিভিন্ন সময়ে প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী ও উপদেষ্টা দ্রুতই বাংলাদেশিদের জন্য শ্রমবাজারটি খোলার কথা বলে আসছেন। বাংলাদেশের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার প্রথম বার বন্ধ হয় ২০০৮ সালে। এরপর ২০১৬ সালে শ্রমবাজারটি আবার খোলা হলেও দুর্নীতির অভিযোগের মুখে ২০১৮ সালে ফের বন্ধ করে দেওয়া হয়। তারপর ২০২২ সালে বাজারটি আবার খুললেও ২০২৪ সালে আবারও বন্ধ হয়ে যায়। ২০১৮ এবং ২০২২ সালে সই করা সমঝোতায় স্মারকে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর কাজে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। রিক্রুটিং এজেন্সি ও অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদ্যমান সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া চললে আবারও পুরোনো সিন্ডিকেট সক্রিয় হতে পারে। কারণ ঐ চুক্তিতে যোগ্য এজেন্সি বেছে নেওয়ার ক্ষমতা মালয়েশিয়াকে দেওয়া হয়েছিল। এটি হলে অতীতের সেই বিতর্কিত সিন্ডিকেট ব্যবস্থারই পুনরাবৃত্তি হবে।

২০২৫ সালের ২৮ অক্টোবর মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশকে একটি চিঠি দেয়। তাতে ১০টি বাধ্যতামূলক শর্তের ভিত্তিতে কর্মী পাঠাতে সক্ষম রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর তালিকা চাওয়া হয়। পরে মালয়েশিয়াকে অন্তত তিনটি শর্ত শিথিল করার অনুরোধ জানায় বাংলাদেশ। এই শর্তগুলো হলো— গত পাঁচ বছরে অন্তত ৩ হাজার প্রবাসীকর্মী পাঠানোর অভিজ্ঞতা, নিজস্ব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থাকা ও তিন বছর ধরে অন্তত ১০ হাজার বর্গফুটের একটি স্থায়ী অফিস স্পেস থাকা। বাকি শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—অন্তত পাঁচ বছরের বৈধ লাইসেন্স থাকা, কমপক্ষে তিনটি দেশে কর্মী পাঠানোর অভিজ্ঞতা, গুড কন্ডাক্ট সার্টিফিকেট ও বলপূর্বক শ্রম বা মানব পাচারে জড়িত থাকার কোনো রেকর্ড না থাকা। বাংলাদেশে আড়াই হাজার এজেন্সি সরকারি নিয়ম-কানুন মেনে লাইসেন্স পেয়েছে। এর মধ্যে ৪২৩টি রিক্রুটিং এজেন্সির একটি তালিকা মালয়েশিয়া সরকারকে দিয়েছে বাংলাদেশ।

প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন মালয়েশিয়া সফরকে কেন্দ্র করে দেশটির শ্রমবাজারকে সিন্ডিকেটমুক্ত, স্বচ্ছ এবং সব বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির জন্য সমান সুযোগভিত্তিক উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিস (বায়রা)। গত ১৭ জুন রবিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বরাবর পাঠানো এক আবেদনে বায়রার ৬৫ জন সদস্যের পক্ষে এই দাবি জানানো হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, কুয়ালালামপুর সফরকালে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইবরাহিমের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পাশাপাশি মালয়েশিয়ার অন্তত দুজন মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত্ করতে পারেন। মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, শ্রমবাজার খোলার একটি বিষয় আছে সেজন্য অভিবাসন ইস্যু অগ্রাধিকারে থাকবে। এ ছাড়া, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ, জ্বালানি, উচ্চশিক্ষা, রোহিঙ্গা সংকট, কৃষি, হালাল খাদ্য, সুনীল অর্থনীতি, আসিয়ান, মধ্যপ্রাচ্যে সংকটসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দুই দেশের সহযোগিতার মতো নানা ইস্যু আলোচনায় আসতে পারে।

উল্লেখ্য, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস গত বছরের (২০২৫) আগস্টে মালয়েশিয়া সফর করেছিলন। এর আগে ২০২৪ সালে অক্টোবরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইবরাহিম ঢাকা সফর করেন।

মালয়েশিয়ায় কর্মরত প্রবাসীরা আশা করছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে শ্রমবাজার, কলিং ভিসা, অবৈধ কর্মীদের বৈধতা এবং প্রবাসীদের কল্যাণ সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আলোচনায় স্থান পাবে। কুয়ালালামপুরের ভেস্ট-মার্কেটিং এসডিএনবিএইচডির পরিচালক মো. রুহুল আমিন বলেন, বন্ধ মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্তকরণে বর্তমান সরকার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেশটিতে সফরকালে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার সরকার যদি সরাসরি এবং স্বচ্ছ পদ্ধতিতে কর্মী নিয়োগের ব্যবস্থা করে, তাহলে সাধারণ শ্রমিকরা কম খরচে বিদেশে আসার সুযোগ পাবেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন মালয়েশিয়া সফরের মধ্য দিয়ে বন্ধ শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে বড় সুযোগ তৈরির কথা বলেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক। সম্প্রতি তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ আছে। প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন মালয়েশিয়া সফরের মধ্য দিয়ে শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে বড় সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।’ বিদেশে শ্রম বাজার সম্প্রসারণ নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এ প্রত্যাশার কথা জানান তিনি।

মালয়েশিয়ার সিন্ডিকেট বন্ধসহ ছয় দাবিতে মানববন্ধন: মালয়েশিয়ায় অভিবাসন ব্যবস্থায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের সুরক্ষায় সংস্কার এবং শ্রমিকদের শোষণকারী রিক্রুটমেন্ট সিন্ডিকেট বিলুপ্তসহ ছয় দাবিতে মানববন্ধন করেছেন মালয়েশিয়াফেরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা। প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়া সফর উপলক্ষ্যে এসব সমস্যায় শীঘ্রই সমাধান চাওয়া হয়েছে। গত বুধবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘মাইগ্র্যান্ট ওয়েলফেয়ার নেটওয়ার্ক’ ব্যানারে বাংলাদেশ থেকে মালেশিয়ায় যাওয়া বাংলাদেশিদের ওপর চলমান ঋণদাসত্ব, এজেন্সিগুলোর দুর্নীতি এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে তুলে ধরা হয়। মালয়েশিয়ায় ১৪টি উত্স দেশ থেকে শ্রমিক নিয়োগ হলেও বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন সিন্ডিকেট ভিত্তিক নিয়োগ হয়ে আসছে। শ্রমিকদের পাসপোর্ট জব্দ, বেতন কম দেওয়া, অতিরিক্ত কর্মঘণ্টাসহ মিথ্যা চাকরির প্রতিশ্রুতি এবং অস্তিত্বহীন নিয়োগকর্তার বিষয়ে অভিযোগ জানান তারা। মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের জবাবদিহিতা, কার্যকারিতা ও সেবার মান বৃদ্ধিতে জোর দেয়া হয়। এ সময় সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে স্থায়ী ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবিও জানানো হয়।




কবি আল মুজাহিদীর মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

ডেস্ক নিউজ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৯৬০-এর দশকের বিশিষ্ট ছাত্রনেতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, খ্যাতিমান সাংবাদিক ও একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি আল মুজাহিদীর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

শুক্রবার এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

তারেক রহমান বলেন, মুজাহিদী আজীবন গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে দৃঢ় ভূমিকা পালন করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার মৃত্যু আমাদের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এক গভীর শূন্যতা সৃষ্টি করেছে, যা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।

একুশে পদকপ্রাপ্ত এই কবি আজ দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।




বাজেটে অভিযোজন খাতে জলবায়ু ব্যয়ের ৭৫ শতাংশ বরাদ্দ

ডেস্ক নিউজ : ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে জলবায়ু অভিযোজন খাতে ৩৮ হাজার ৯০৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে বাংলাদেশ। এই বরাদ্দ মোট জলবায়ু-সংক্রান্ত ব্যয়ের ৭৫.২ শতাংশ। বাংলাদেশ জলবায়ু বাজেট প্রতিবেদন ২০২৬-২৭- এ তথ্য উঠে এসেছে।

এ বরাদ্দের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলা, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা এবং বন্যা ব্যবস্থাপনা, পানি সম্পদ উন্নয়ন, উপকূলীয় সুরক্ষা, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস, জলবায়ু-সহনশীল কৃষি ও জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে বিনিয়োগের ওপর সরকারের বিশেষ গুরুত্ব প্রতিফলিত হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জলবায়ু-সংশ্লিষ্ট ব্যয়ের সবচেয়ে বড় অংশই অভিযোজন খাতে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের পাশাপাশি জলবায়ুজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশের অগ্রাধিকার স্পষ্ট হয়েছে।

অভিযোজন খাতের ব্যয়ের একটি বড় অংশ দেশীয় উৎস থেকে অর্থায়ন করা হচ্ছে। প্রায় ৭০ শতাংশ অভিযোজন প্রকল্প বাংলাদেশ সরকার নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন করছে, যা জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং জলবায়ুজনিত ঝুঁকি কমাতে সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার বিভাগ, কৃষি এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় জলবায়ু ব্যয়ের প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক চালিকাশক্তি। এ তিনটি প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে দেশের মোট জলবায়ু-সংশ্লিষ্ট ব্যয়ের ৫৩ শতাংশের বেশি পরিচালনা করছে, যা অভিযোজনমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নে তাদের কেন্দ্রীয় ভূমিকার ইঙ্গিত দেয়।

তাদের কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু-সহনশীল কৃষি উদ্যোগ, স্থানীয় পর্যায়ের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং জলবায়ুজনিত ঝুঁকি থেকে জনগণকে সুরক্ষার বিভিন্ন ব্যবস্থা।

‘বাংলাদেশ ক্লাইমেট বাজেট রিপোর্ট ২০২৬-২৭’-এর ভূমিকায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বাংলাদেশের উন্নয়ন ও পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় জলবায়ু অর্থায়নের ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ বর্তমানে এমন এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে জলবায়ু ঝুঁকি এবং টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের অভিযাত্রা এক বিন্দুতে মিলিত হয়েছে।

এ প্রেক্ষাপটে জলবায়ু অর্থায়ন শুধু সহায়তার উৎস নয়; বরং এটি সহনশীলতা, উদ্ভাবন এবং টেকসই উন্নয়ন এগিয়ে নেওয়ার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।

অভিযোজনকেন্দ্রিক এ বরাদ্দ ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে বর্ণিত সরকারের বৃহত্তর নীতিগত অগ্রাধিকারের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।

গত ১১ জুন অর্থমন্ত্রী জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করেন।

বাজেট বক্তৃতায় তিনি জলবায়ু সহনশীলতা এবং পরিবেশ ব্যবস্থাপনাকে দেশের অন্যতম প্রধান কৌশলগত অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ‘জাতীয় বাজেট ১০টি কৌশলগত অগ্রাধিকারকে কেন্দ্র করে প্রণয়ন করা হয়েছে। এর মধ্যে জীবন, প্রকৃতি, পরিবেশ ও পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব থেকে দেশকে রক্ষা করা এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের মাধ্যমে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি টেকসই, সবুজ, জলবায়ু-সহনশীল ও বাসযোগ্য ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা অন্যতম।’

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তোলা সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।’

অভিযোজন খাতে বরাদ্দ এ নীতিগত লক্ষ্য বাস্তবায়নেরই প্রতিফলন, যেখানে জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করা হয়েছে। বিশেষ করে বন্যা ব্যবস্থাপনা ও পানি সম্পদ উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, যাতে জলবায়ুজনিত পানিসংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশের সক্ষমতা বাড়ে।

পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও অভিযোজন বিষয়ে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সেচ, বন্যা ব্যবস্থাপনা, নদীভাঙন প্রতিরোধ, ভূমি পুনরুদ্ধার, জলাবদ্ধতা নিরসন, লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণ এবং টেকসই পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকার প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করছে।’

জলবায়ু বাজেটে বন্যা নিয়ন্ত্রণ, সেচ, নদীতীর সংরক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের ওপর যে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, তা চলমান উদ্যোগের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসও অভিযোজন ব্যয়ের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। প্রতিবেদনে উপকূলীয় সুরক্ষা ও দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসকে জলবায়ু অর্থায়নের প্রধান খাত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যার লক্ষ্য জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে প্রস্তুতি ও সহনশীলতা বৃদ্ধি করা।

অর্থমন্ত্রী এ প্রসঙ্গে বাজেট বক্তৃতায় বলেন, ‘তাই সরকার টেকসই দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে অধিক গুরুত্বারোপ করেছে।’

অভিযোজন কৌশলের আওতায় জলবায়ুর প্রভাবে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাতে তারা পরিবেশগত অভিঘাত মোকাবিলা করতে পারে।

বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলগুলোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে, যেখানে জলবায়ুজনিত ঝুঁকি এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে। উপকূলীয় সুরক্ষায় জলবায়ু বাজেটের অগ্রাধিকার সরকারের বৃহত্তর উদ্যোগের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যার লক্ষ্য এসব অঞ্চলের মানুষের জীবন, জীবিকা ও অবকাঠামো রক্ষা করা।

এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘উপকূলীয় এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়ন কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে। মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের প্রভাব মোকাবিলায় টেকসই বাঁধ, নদীতীর সংরক্ষণ প্রকল্প এবং ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।’

বন্যা ব্যবস্থাপনা, পানি সম্পদ, উপকূলীয় সুরক্ষা, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস, জলবায়ু-সহনশীল কৃষি এবং সামাজিক সুরক্ষাকে বাংলাদেশের জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধির প্রধান উপাদান হিসেবে বিবেচনা করছে সরকার। আর জলবায়ুসংশ্লিষ্ট মোট ব্যয়ের তিন-চতুর্থাংশেরও বেশি অভিযোজন খাতে বরাদ্দ এবং এর বড় অংশ দেশীয় অর্থায়নে বাস্তবায়নের মাধ্যমে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জলবায়ু বাজেট এটাই স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।




সাবেক প্রতিমন্ত্রী হারুন অর রশীদ আর নেই

ডেস্ক নিউজ : ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সাবেক পাঁচবারের সংসদ সদস্য, সাবেক প্রতিমন্ত্রী, বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট হারুন-অর-রশিদ আর নেই।

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টায় ঢাকার বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই পুত্র, এক কন্যা ও নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন এবং গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
হারুন-অর-রশিদ বেশ কিছুদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন এবং শেষ সময়ে ঢাকার বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন।

তার ইন্তেকালের বিষয়টি নিশ্চিত করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম জানান, অ্যাডভোকেট হারুন-অর-রশিদ দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। বৃহস্পতিবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুতে বিএনপি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রাজনীতিতে অপূরণীয় শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে।

উল্লেখ্য, অ্যাডভোকেট হারুন-অর-রশিদ ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রাজনীতির অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) একজন প্রবীণ নেতা। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি জাতীয় সংসদ সদস্য, একাধিক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, সংসদের গুরুত্বপূর্ণ পদধারী এবং দলের কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসন থেকে পাঁচবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেন। পরবর্তীতে তিনি ওই আসনের অন্যতম জনপ্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

রাজনৈতিক জীবনে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে দলের যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্বও পালন করেছিলেন। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করে জেলার দলীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

সংসদ সদস্য থাকাকালে তিনি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া জাতীয় সংসদের প্রধান হুইপ, ফিন্যান্সিয়াল অ্যাডভাইজরি কমিটির চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেছিলেন।

পেশাগত জীবনে তিনি একজন আইনজীবী ছিলেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আদালত অঙ্গনে আইন পেশার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করে ধীরে ধীরে জাতীয় রাজনীতিতে নিজস্ব অবস্থান তৈরি করেন। তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও দলীয় সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকার জন্য তিনি নেতাকর্মীদের কাছে একজন অভিভাবকতুল্য নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

তার মৃত্যুতে ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। মরহুম অ্যাডভোকেট হারুন-অর-রশিদের জানাজা ও দাফনের সময়সূচি পরে জানানো হবে বলে পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে।




পে স্কেল বাস্তবায়নের কৌশল নির্ধারণে কমিটির বৈঠক শেষ, যা জানা গেল

ডেস্ক নিউজঃ সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের কৌশল চূড়ান্ত করতে সচিব কমিটির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে পুনর্গঠিত সচিব কমিটির এ বৈঠকে জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ, সচিব কমিটির পর্যবেক্ষণ, জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশনের প্রস্তাব এবং সশস্ত্র বাহিনীর বেতন কাঠামো-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নবম পে স্কেল দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আরও কয়েকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এ ধারাবাহিকতার পরবর্তী বৈঠক আগামী ২৪ জুন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত নবম পে স্কেল আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত রয়েছে। তবে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় লাগায় বর্ধিত বেতনের অর্থ হাতে পেতে অক্টোবর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।

গত ১১ জুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনের সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আনুষ্ঠানিকভাবে নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন। অর্থ বিভাগের একাধিক সূত্র বলছে, ঘোষণার পর থেকেই বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত প্রস্তুতি দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

নতুন পে স্কেলের আওতায় প্রশাসন ক্যাডারের পাশাপাশি শিক্ষক, পুলিশ, স্বাস্থ্যকর্মী, মাঠ প্রশাসন, বিচার বিভাগীয় কর্মচারী এবং স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও অন্তর্ভুক্ত হবেন।

অর্থ বিভাগের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, বাজেটে প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান রাখা হয়েছে। এখন প্রজ্ঞাপন জারি, বিধি সংশোধনসহ আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে। এসব প্রক্রিয়া শেষ হলে জুলাই থেকে কার্যকর হওয়া বর্ধিত বেতন অক্টোবরের মধ্যে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যাংক হিসাবে জমা হতে পারে।

বিশেষ সুবিধা বাতিল হচ্ছে

বর্তমানে মূল্যস্ফীতির প্রভাব মোকাবিলায় সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ১০ থেকে ১৫ শতাংশ হারে বিশেষ সুবিধা (ইনসেনটিভ) দেওয়া হচ্ছে। নতুন পে স্কেল কার্যকর হলে এ সুবিধা পৃথকভাবে আর বহাল থাকবে না। বরং তা নতুন মূল বেতনের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

বর্তমানে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা মূল বেতনের ১৫ শতাংশ এবং ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তারা ১০ শতাংশ হারে বিশেষ সুবিধা পাচ্ছেন। নতুন ব্যবস্থায় মূল বেতন সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়লেও বিশেষ সুবিধা বাদ দেওয়ার ফলে প্রকৃত বেতন বৃদ্ধি হবে তুলনামূলক কম। হিসাব অনুযায়ী, ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের চাকরিজীবীদের কার্যকর বেতন বৃদ্ধি হবে প্রায় ৩৫ শতাংশ এবং ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে তা হবে প্রায় ৪০ শতাংশ।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, বিভিন্ন অস্থায়ী সুবিধা ও ভাতার পরিবর্তে মূল বেতন বৃদ্ধি করলে পেনশন, গ্র্যাচুইটি এবং অন্যান্য অবসর-পরবর্তী সুবিধার পরিমাণও বাড়বে।

বাজেটে বড় বরাদ্দ

প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ মোট ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পেনশন ও গ্র্যাচুইটিসহ এ বরাদ্দের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৫ হাজার ৫১৫ কোটি টাকায়।

এর মধ্যে কর্মকর্তাদের বেতনের জন্য ১৪ হাজার ৪ কোটি টাকা, কর্মচারীদের বেতনের জন্য ৩০ হাজার ৭০৬ কোটি টাকা এবং বিভিন্ন ভাতার জন্য ৪৫ হাজার ১২৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

এদিকে জনপ্রশাসন খাতে মোট বরাদ্দ বাড়িয়ে ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা করা হয়েছে, যা সংশোধিত বাজেটের তুলনায় প্রায় ৫৫ হাজার কোটি টাকা বেশি। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে, অতিরিক্ত এই অর্থের বড় একটি অংশ থোক বরাদ্দ হিসেবে রাখা হয়েছে। সেখান থেকে প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নে ব্যয় করা হবে।




জনগণের ভালোবাসা বড় শক্তি, নিরাপত্তা কড়াকড়ি যেন দূরত্ব তৈরি না করে: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজঃ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘সরকার প্রধান হিসেবে জনগণের বিশ্বাস ও ভালোবাসার ওপর আমার সবচেয়ে বেশি নির্ভরতা। তাই নিরাপত্তার ঘেরাটোপ যাতে সরকার প্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেয়, উন্নত বাহিনী হিসেবে সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখার জন্য ‘এসএসএফ’ প্রতি আহ্বান জানাই।’

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ)-এর ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে এসএসএফ সদস্যদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেবেন। তবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে জনগণ যাতে দুর্ব্যবহারের শিকার না হয় সে দিকেও বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে।’

প্রতিষ্ঠাকালীন এসএসএফ আর বর্তমান সময়ের এসএসএফ এর মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘বর্তমানে আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক অবস্থা, ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ বিকাশের ফলে বহুমাত্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। এইসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজেদের সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা জরুরি। একটি বিশেষায়িত বাহিনী হিসেবে সাহস, দক্ষতা, কৌশল এবং সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে এসএসএফ-এর পিছিয়ে থাকার কোনো সুযোগ নেই।’

তিনি বলেন, ‘আজ থেকে ৪০ বছর আগে সময়ের প্রয়োজনে এই বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে ১৯৯১ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর নাম পরিবর্তন করে ‘এসএসএফ’ নামে এই বিশেষ বাহিনী যাত্রা শুরু করে।’

প্রতিষ্ঠাকাল থেকে আজ পর্যন্ত এই বিশেষ নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে যারা যুক্ত ছিলেন ও আছেন সবাইকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শুভেচ্ছা জানাই।

এসএসএফ এর অসাধারণ ভূমিকার বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া বিভিন্ন মেয়াদে সরকার প্রধান থাকাকালে এবং সর্বশেষ জীবনের শেষদিনগুলোতে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় এসএসএফ অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে।’

তিনি বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম নামাজে জানাজা আয়োজনের ক্ষেত্রেও প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে এসএসএফ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার প্রধান হিসেবে প্রতিদিন, প্রতি মুহূর্তে এসএসএফে’র কার্যক্রম সরাসরি প্রত্যক্ষ করছি। এসএসএফে’র কার্যক্রমের সঙ্গে আমার পরিচয় নতুন নয়। মরহুমা প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া যখন সরকার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তখন থেকেই অর্থাৎ আমার তরুণ বেলা থেকেই আমি এসএসএফ’র কার্যক্রমের সঙ্গে পরিচিত।’

তিনি বলেন, ‘গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য বিএনপি জনগণের রায় পায়। এরপর ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছে। রাষ্ট্রীয় নিয়ম অনুযায়ী, সরকার প্রধানের জন্য এসএসএফ সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণের দুর্ভোগ লাঘব করে সড়কে যানবাহনের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে আমার গাড়িবহরের আকার সীমিত করেছি। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সদস্য সংখ্যা বাড়ানোর পরিবর্তে এসএসএফকে দক্ষতা ও নিরাপত্তা কৌশলের উপর বেশি জোর দিতে হচ্ছে। আপনারা সুন্দরভাবে দায়িত্ব পালন করছেন।’

তিনি বলেন, ‘একটি গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান হিসেবে রাজধানী ঢাকা ও ঢাকার বাইরে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রায়ই জনসভা ও বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে অংশ গ্রহণ করতে হয়। এই ধরনের অনুষ্ঠানে ব্যাপক জনসমাগমের মধ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কিছুটা জটিল।’

এ ধরনের পরিস্থিতিতে একদিকে সরকার প্রধানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রাখা অপরদিকে নাগরিক জীবনের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত রাখা এই দুটির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করেই এসএসএফ-কে নিরাপত্তা কৌশল প্রণয়ন করতে হয়। এ ধরণের পরিস্থিতিতে সুষ্ঠু ও সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে এসএসএফে’র কর্মদক্ষতাও প্রতিভাত হয়ে ওঠে।

এসএসএফ-এর নবনির্মিত অত্যাধুনিক ফায়ারিং রেঞ্জ এর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পেশাগত কর্মদক্ষতা বাড়াতে নবনির্মিত এই ফায়ারিং রেঞ্জ নিঃসন্দেহে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। নিরাপত্তা কৌশল প্রণয়ন ও পেশাগত কর্মদক্ষতা বাড়াতে আপনারা এই ফায়ারিং রেঞ্জের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করবেন।’

রেড বুকের নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করা জরুরি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০২ সালের পর এসএসএফ’এর ‘রেড বুক’ পুনরায় সংস্কার করে বর্তমানে আরও আধুনিক ও সময়োপযোগী করা হয়েছে। এটি এসএসএফে’র কর্মপদ্ধতির নীতিমালা প্রদানের পাশাপাশি আইনি সুরক্ষাও নিশ্চিত করেছে।

তিনি বলেন, ‘এসএসএফ’র মত বিশেষায়িত বাহিনীর জন্য আধুনিক নিরাপত্তা কৌশল ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি প্রতিটি সদস্যের সাহস, সততা, বিশ্বস্ততা সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব এবং সর্বোপরি ‘চেইন অফ কমান্ড’ এর বিষয়গুলো কঠোরভাবে মেনে চলা অপরিহার্য।’

তারেক রহমান বলেন, ‘রাষ্ট্র প্রধান, সরকার প্রধান এবং দেশে-বিদেশে রাষ্ট্রঘোষিত বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সঙ্গে দেশের জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টিও জড়িত।’

তিনি বলেন, ‘নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুদৃঢ় করতে দেশের অন্য নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমেই এসএসএফ-কে নিরাপত্তা কৌশল নিশ্চিত করতে হয়। সমন্বয় যত বেশি করা যায়, নিরাপত্তা ব্যবস্থাও ততবেশি সুচারুভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের সেনা, নৌ, বিমান, পুলিশ এবং আনসার বাহিনীর মধ্য থেকে দক্ষ কর্মকর্তাদের বাছাই করেই এসএসএফ গঠন করা হয়। এরপর গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তার উপর আপনাদের দেশে বিদেশে উন্নত মানের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হয়।’

আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এসএসএফ-কে আরও কর্মদক্ষ করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন তিনি।

এসএসএফ সদস্যদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গণতান্ত্রিক রীতিনীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে, দেশপ্রেমের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে আপনারা সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবেন, এই প্রত্যাশা করছি।’

অনুষ্ঠানে মন্ত্রীপরিষদ সদস্যবৃন্দ, সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর প্রধানগণ, এসএসএফ প্রধান এবং বিভিন্ন কর্মকর্তা ও সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।