‘সব জায়গায় বসে থাকবে আর খালি আগুন দিবে’, কাদেরকে শেখ হাসিনা

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়কার মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে পঞ্চম দিনের মতো আজ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করবে প্রসিকিউশন।

মঙ্গলবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করবে প্রসিকিউশন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন- বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

শুনানিতে শেখ হাসিনার সঙ্গে ওবায়দুল কাদের ও তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদের একটি ফোনালাপ বাজিয়ে শোনানোর কথা রয়েছে।

ওবায়দুল কাদেরসহ মামলার অন্য আসামিরা হলেন- কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, নিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।

ফোনকলে হাছান মাহমুদ বলেন: জি আপা, আসসালামু আলাইকুম।
শেখ হাসিনা: ফোন করছিলে।

হাছান মাহমুদ: না না তখন চাপ পড়ে গেছিল, সরি।
শেখ হাসিনা: ও হো।

হাছান মাহমুদ: কাদের ভাই রেখেছিল । তখন আবার চাপ পড়ে গেছিল। সরি।
শেখ হাসিনা : ওরা কিন্তু সব ওই জায়গায় আবার তৈরি হচ্ছে, শুধু আগুন দিয়ে পুড়াবে সব।

হাছান মাহমুদ: হ্যাঁ হ্যাঁ।
শেখ হাসিনা: বুঝছো?

হাছান মাহমুদ: জি আপা, আপনি কাদের ভাইকে যেভাবে নির্দেশ দিয়েছিলেন……
শেখ হাসিনা : না, আমাদের লোক থাকতে বলো…। ওরা আগুন দিয়ে পুড়াবে তো, তাদের বাড়ি-গাড়ি আছে, এখন সেগুলো পাবলিক দিয়ে পুড়াবে আর কী করবে।

হাছান মাহমুদ: জ্বি, জ্বি।
শেখ হাসিনা : আমাদের অন্য কিছু করে লাভ নাই। তোরাও পুড়াবি আয়, আমরাও পুড়াব।

হাছান মাহমুদ: জ্বি জ্বি রাইট, এইটাই টিট ফর ট্যাট। জ্বি আপা। কাদের ভাই আছে । জাস্ট একটা গায়েবানা জানাজা পড়ে আমরা চলে আসব, যেহেতু প্রেগ্রাম দিয়ে দেওয়া হইছে।…যার যার গন্তব্যে মহল্লায় মহল্লায় চলে যাব।
শেখ হাসিনা: না, যার যার এলাকায়।

হাছান মাহমুদ: জ্বি জ্বি রাইট। যার যার এলাকায়।
শেখ হাসিনা: বিভিন্ন এলাকায় লোক ঠিক করো…সব নেতা-কর্মীদের এইভাবে ব্যবস্থা কর।

হাছান মাহমুদ: কাদের ভাইকে একটু দিচ্ছি।
শেখ হাসিনা: প্রত্যেকটা এমপিকে ডাক, খবর দাও। প্রত্যেক এলাকায় যার যার প্রটেকশন দিতে হবে।

ওবায়দুল কাদের: জ্বি, জ্বি।
শেখ হাসিনা: না, ওই যে তোমার সেতু ভবনে আবার আগুন লাগাচ্ছে। আমি র‌্যাব পাঠাচ্ছি আর আমি বলছি যে, যেখানে যেখানে গ্যাদারিং আছে, সব জায়গায় র‌্যাব….। আর ওরা আগুন দিচ্ছে, ওদের বাড়িঘর আছে না, এখন আর বসে থাকার সময় নাই। আমাদেরও বাড়িঘরে আগুন দিচ্ছে, ওদের বাড়িঘরে আগুন পাবলিক দিবে। ওদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান কী কী আছে খুঁজে বের করো। আজকে তাদের একটাই কাজ, সব জায়গায় বসে থাকবে আর খালি আগুন দিবে…।’

ওবায়দুল কাদের: সেটাই, পুলিশ কমিশনার সে কথাই বলল। জ্বি, আমাদের তো ঠেকাইতে হবে।




রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ও সিইসির বৈঠক আজ

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়ে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বেলা ১১টা থেকে জাতীয় সংসদ ভবনে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

সংসদ সচিবালয় ও নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এক কর্মকর্তা জানান, মঙ্গলবার সকালে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার, সংসদ সচিবালয়ের সচিবসহ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে সিইসিসহ নির্বাচন কমিশনার ও ইসি সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হবে।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী একাধিক প্রার্থী হলে ২০ আগস্ট বেলা ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সংসদকক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট অনুষ্ঠিত হবে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে এরই মধ্যে এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে মনোনয়ন দিয়েছে জাতীয় সংসদের বিরোধী দল জামায়াত ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন বিএনপি এখনো প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি।




চাঁদপুরে বালুবাহী ট্রাকের সঙ্গে বাসের সংঘর্ষ, নিহত ৩

চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের বানিয়াচোঁ এলাকায় যাত্রীবাহী আল-আরাফাহ পরিবহন ও বালুবাহী ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ১৫ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

আজ সকালে বানিয়াচোঁ এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে বাস ও ট্রাকের একপাশে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে মহাসড়কে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে চাঁদপুর ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।

চাঁদপুর জেলা ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক মো. আব্দুল্লাহ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দুর্ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

তবে নিহত ও আহতদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। দুর্ঘটনার কারণ এবং হতাহতদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য উদ্ধারের পর জানা যাবে।




শূন্য পাস করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে: শিক্ষামন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ : শূন্য পাস করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

তিনি বলেছেন, ‘শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে আমরা খুব শীঘ্রই পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করব, আপনাদের সামনে তার ইতিবাচক পরিবর্তন দৃশ্যমান হবে।’

সোমবার (৮ আগস্ট) সচিবালয়ের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘কোনো পরীক্ষার্থী যদি ন্যায্য নম্বর থেকে বঞ্চিত হয়ে থাকে কিংবা নম্বর প্রদানে কোনো ত্রুটি-বিচ্যুতি হয়ে থাকে, তবে রিভিউ কমিটির মাধ্যমে তার সঠিক মূল্যায়ন করা হবে।’

ফল পুনর্নিরীক্ষণ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘অতীতে ফল পুনর্নিরীক্ষণের ক্ষেত্রে শুধু নম্বর যোগ-বিয়োগের আনুষ্ঠানিকতা পালন করা হতো। কিন্তু এবার আমরা আইনগত পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রতিটি শিক্ষার্থীর খাতা যথাযথভাবে পুনর্নিরীক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করেছি। যদি কোনো শিক্ষক মূল্যায়নকালে যথাযথ নম্বর না দিয়ে থাকেন বা অসাবধানতাবশত ত্রুটি হয়ে থাকে, তবে অভিজ্ঞ রিভিউ কমিটির সম্মুখে সেই খাতা পুনরায় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে রিভিউ করা হবে। পরীক্ষার্থীকে তার প্রাপ্য নম্বর বুঝিয়ে দেওয়া হবে।’

চলতি বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় শতভাগ ফেল করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘২০০১ থেকে ২০০৬ মেয়াদে যখন আমরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলাম এবং কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমে পরীক্ষাকেন্দ্রে নকল নির্মূল করেছিলাম, তখনও প্রাথমিক অবস্থায় শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা প্রায় চার থেকে পাঁচ গুণ বেড়ে গিয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে ধারাবাহিক ও কঠোর তদারকির মাধ্যমে সেই সংখ্যা আমরা সফলভাবে কমিয়ে এনেছিলাম এবং সামগ্রিক পাসের হার ২৮ শতাংশ থেকে ৭৭ শতাংশে উন্নীত করতে সক্ষম হয়েছিলাম। সেই অভিজ্ঞতা আমাদের রয়েছে।’

ঢাকা ও দেশের অন্যান্য বিশেষ করে উপকূলীয় বা পিছিয়ে পড়া অঞ্চলের মধ্যে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বৈষম্য সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সামাজিক-অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামোগত পার্থক্যের কারণে ফলের ক্ষেত্রে এ ধরনের ভিন্নতা তৈরি হয়, যা বিশ্বের যে কোনো দেশেই বিদ্যমান। তবে শিক্ষার সার্বিক গুণগত মান বাড়িয়ে এ বৈষম্য দূর করতে সরকারের পক্ষ থেকে স্থানীয় পর্যায় থেকে বিশেষ তদারকি জোরদার করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।




সৌদিতে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৬ বাংলাদেশির পরিবার পাবে ‘বিশেষ মানবিক অনুদান’

ডেস্ক নিউজ : সৌদি আরবের রিয়াদে সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৬ বাংলাদেশি শ্রমিকের পরিবারের জন্য এককালীন বিশেষ মানবিক অনুদান দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

গতকাল রবিবার রিয়াদের একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশি মারা যান। এ ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। একইসঙ্গে নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে উচ্চপর্যায়ের আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় পররাষ্ট্র সচিব, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব, রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রতিনিধি, পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড, বিএমইটি ও বাংলাদেশ বিমানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।

সভায় নিহতদের মরদেহ দ্রুত শনাক্ত করে দেশে আনা এবং তাদের পরিবারকে প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সৌদি কর্তৃপক্ষ ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে নিহতদের মরদেহ দ্রুত শনাক্ত করার ব্যবস্থা নেবে বাংলাদেশ দূতাবাস। শনাক্তকরণ শেষে সৌদি কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা ও আনুষ্ঠানিকতা অনুসরণ করে নিহতদের মরদেহ সরকারি ব্যবস্থাপনায় ও খরচে সৎকার করা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী নিহত ১৬ জনের প্রত্যেকের পরিবারের জন্য এককালীন বিশেষ মানবিক অনুদান দেওয়া হবে।

এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। প্রত্যেক পরিবারকে তাৎক্ষণিকভাবে ২০ হাজার টাকা করে বিশেষ অনুদান দেওয়া হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বাংলাদেশ দূতাবাস ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নিহত শ্রমিকদের পরিবারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

সরকার বলছে, এই কঠিন সময়ে নিহতদের পরিবারের পাশে থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখা হবে।




ঢাকায় বাড়তি চাপ কমাতে বাড়বে ঢাকামুখী কমিউটার ট্রেন

ডেস্ক নিউজঃ ঢাকার ওপর জনসংখ্যা ও কর্মসংস্থানের চাপ কমাতে রাজধানীর আশপাশের জেলাগুলোকে দ্রুত কমিউটার ট্রেন নেটওয়ার্কের আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক, রেল ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, এমন যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে, যাতে ঢাকার বাইরে থাকা মানুষ দুই থেকে আড়াই ঘণ্টায় রাজধানীতে এসে দিনের কাজ শেষে নিজ গন্তব্যে ফিরতে পারেন।

সোমবার (১০ আগস্ট) কমলাপুর রেলস্টেশনে ঢাকা-গোপালগঞ্জ-ঢাকা রুটে নতুন ‘অভিযাত্রী কমিউটার’ ট্রেন উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ঢাকার ওপর চাপ কমানো এবং আশপাশের অঞ্চলের মানুষের যোগাযোগ সহজ করাই কমিউটার নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের মূল লক্ষ্য। এ ধরনের রেল যোগাযোগ বাড়লে ঢাকামুখী স্থায়ী আবাসনের প্রবণতাও কমবে।

ঢাকা-গোপালগঞ্জ রুটে পদ্মা সেতু হয়ে চালু হওয়া নতুন ট্রেনটি প্রতিদিন দুই দিক থেকে চলাচল করবে। ১৩৫ নম্বর ‘অভিযাত্রী কমিউটার’ ঢাকা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টায় ছেড়ে গোপালগঞ্জে পৌঁছাবে সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে। আর ১৩৬ নম্বর ট্রেনটি গোপালগঞ্জ থেকে সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে ছেড়ে ঢাকায় পৌঁছাবে রাত ১০টা ২৫ মিনিটে। প্রতি শনিবার ট্রেনটির সাপ্তাহিক বন্ধ থাকবে।

১৪৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এ রুটে ট্রেনটির সাতটি যাত্রাবিরতি রয়েছে। স্টেশনগুলো হলো—কেরানীগঞ্জ, শ্রীনগর, মাওয়া, ভাঙ্গা জংশন, নগরকান্দা, মহেশপুর ও কাশিয়ানী জংশন।

আট কোচের ট্রেনটিতে মোট ৬৩০টি আসন রয়েছে। তবে দাঁড়িয়ে যাত্রী পরিবহনের সুযোগ থাকায় এর মোট যাত্রী ধারণক্ষমতা আরও বেশি হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

শেখ রবিউল আলম বলেন, কোচের সংখ্যা বাড়ানো গেলে যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা আরও বাড়বে। পর্যাপ্ত কোচ ও লোকোমোটিভের সীমাবদ্ধতার কারণে দীর্ঘদিন অনেক রুটে কাঙ্ক্ষিত সেবা চালু করা সম্ভব হয়নি। নতুন কোচ ও লোকোমোটিভ যুক্ত হলে পর্যায়ক্রমে সেবার পরিধি বাড়ানো হবে।

কমিউটার নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে বর্তমানে আট জোড়া ট্রেন চলছে। অবকাঠামোগত কাজ শেষ হলে এ রুটে ১৬ জোড়া ট্রেন চালুর সুযোগ তৈরি হবে। এরপর ঢাকা-নরসিংদী, ঢাকা-টঙ্গী, জয়দেবপুর ও টাঙ্গাইল পর্যন্ত কমিউটার সেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। ভবিষ্যতে মানিকগঞ্জকেও এই নেটওয়ার্কের আওতায় আনার কথা জানান তিনি।

নতুন ট্রেন চালুর ফলে গোপালগঞ্জ ও আশপাশের এলাকার চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ যাত্রীরা স্বল্প ব্যয়ে প্রতিদিন ঢাকায় যাতায়াতের সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে স্থানীয় শাকসবজি, কৃষিপণ্য, মাছসহ বিভিন্ন পণ্য দ্রুত ঢাকার বাজারে পাঠানোর সুযোগ তৈরি হবে বলে জানিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়।

রেলপথের বিদ্যমান সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, পুরোনো রেললাইন ও লোকোমোটিভের কারণে কিছু ক্ষেত্রে ঝুঁকি রয়েছে। ১৯৩০ ও ১৯৪০ সালের অনেক রেললাইন এখনো ব্যবহৃত হচ্ছে। এসব লাইন ধাপে ধাপে মেরামত ও প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে। তাই পুরোনো সব লাইনে ইচ্ছেমতো বেশি ট্রেন বা বেশি লোডের ট্রেন চালানো সম্ভব নয়।

উদ্বোধনী যাত্রায় গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. সেলিমুজ্জামান মোল্যা, গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর এবং গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জিলানীসহ সংশ্লিষ্টরা ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জের উদ্দেশ্যে ট্রেনে যাত্রা করেন।

অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




তিন গ্রামকে ‘এসডিজি ভিলেজ’ হিসেবে উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের লক্ষ্যে দেশের তিনটি গ্রামকে ‘এসডিজি ভিলেজ’ পাইলট প্রকল্প হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টায় চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন।

প্রকল্পের জন্য নির্বাচিত তিনটি গ্রাম হলো—রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার মিতিঙ্গাছড়ি গ্রাম, খুলনার দাকোপ উপজেলার পানখালী গ্রাম এবং দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার নাফানগর গ্রাম। ‘দেশের টেকসই উন্নয়নে অর্থনৈতিক কৌশল পুনর্নির্ধারণ’ শীর্ষক প্রকল্পের অধীনে পরিচালিত এই উদ্যোগের মাধ্যমে এসডিজির ১৭টি লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করা হবে।

এই প্রকল্পের আওতায় গ্রামগুলোতে পর্যায়ক্রমে দারিদ্র্য বিমোচন, জলাবদ্ধতা ও কৃষিজমি নিষ্কাশন সমস্যার সমাধান, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণ, স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন, মাতৃ ও শিশুমৃত্যু হ্রাস এবং বিশুদ্ধ পানীয় জল ও আধুনিক স্যানিটেশন সুবিধা সম্প্রসারণ করা হবে।

সরকারের এই জনকল্যাণমূলক উদ্যোগে অন্তর্ভুক্ত হতে পেরে তিন গ্রামের বাসিন্দারা গভীর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করার পাশাপাশি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।




এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষাঃ ১৯ বছরের মধ্যে পাসের হার এ বছরই সবচেয়ে কম

২০০৭ সালের পর এবারই এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় সবচেয়ে কম শিক্ষার্থী পাস করেছে। এবার সারা দেশে গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। ২০০৭ সালে ছিল ৫৭ দশমিক ৩৭ শতাংশ। অর্থাৎ গত ১৯ বছরের মধ্যে এবারই পাসের হার সর্বনিম্ন।

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় গত বছর পাশের হার ছিল ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে এবার পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ২ শতাংশ পয়েন্ট।

এবারে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে। এবারে জিপিএ-৫ পেয়েছে এক লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ শিক্ষার্থী, যা পাস করা মোট শিক্ষার্থীর ১০ দশমিক ২৪ শতাংশ। গত বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিল এক লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন। সে হিসেবে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে ২২ হাজার ৩৫৬ জন।

বিগত আওয়ামীলীগের সময়ে এসএসসি-এইচএসসির মতো পরীক্ষাগুলোয় উচ্চ পাসের হার দেখা গিয়েছিল। শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ ছিল, নিজেদের অর্জন দেখাতেই ওই সময়ে প্রকৃত ফলাফল আড়াল করে অধিক নম্বর দেয়ার মাধ্যমে পাসের হার বেশি দেখানো হয়েছিল।

শিক্ষাবোর্ড কর্মকর্তাদের তথ্যানুযায়ী, আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের পর বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে উত্তরপত্র মূল্যায়নে পরিবর্তন আনা হয়েছিল এবং নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল কোনো ধরনের গ্রেস নম্বর না দেয়ার। এর জেরে ২০২৫ সালের এসএসসির ফলাফলে বড় ধরনের ধস নামে। বিগত ১৬ বছরের মধ্যে ২০২৫-এ পাসের হার ছিল সর্বনিম্ন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, ২০২১ সালে দেশে রেকর্ড ৯৩ দশমিক ৬ শতাংশ শিক্ষার্থী এসএসসি পাস করেছিল। এছাড়া ২০২২ সালে ৮৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ, ২০২৩ সালে ৮০ দশমিক ৩৯ এবং ২০২৪ সালে ৮৩ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ শিক্ষার্থী এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিল।

২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয় গত ২১ এপ্রিল। গত ২০ মে এসএসসির তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষ হয়। দাখিল এবং এসএসসি ও ভোকেশনালের তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষ হয় ২৪ মে। এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে পাশ করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন।




প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।

সোমবার (১০ আগস্ট) বেলা ১১টায় সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে এ বৈঠক শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি-১ জাহিদুল ইসলাম রনি এ তথ্য জানান।

এর আগে, গতকাল রোববার যমুনা ফিউচার পার্কে অবস্থিত ভারতীয় ভিসা আবেদনকেন্দ্রে (আইভেক) শিশুদের জন্য খেলার জায়গা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আমরা সবাই অনেক সম্মান করি। আমি অনেকবার তার বক্তৃতা শুনেছি। তিনি একজন জনবান্ধব ব্যক্তি। আমাদের প্রধানমন্ত্রীও জনবান্ধব ব্যক্তি।

তিনি বলেন, আমার মনে হচ্ছে, যদি দুই নেতার (প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী) আলোচনা হয়, তখন অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। সমস্যার সমাধান হয় যখন আমরা কথাবার্তা বলি। আমার তো পুরো বিশ্বাস যে মানুষ এক আছে, সমাধান হবে। এখানটায় কোনো নেতিবাচক জিনিস নেই। সব ইতিবাচক।




রাষ্ট্রীয় সম্মানী ভাতার আওতায় আসছে ৮৬ হাজারের বেশি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে রাষ্ট্রীয় সম্মানী ভাতার আওতায় আসছে ৮৬ হাাজার ৭০৯টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে ৮২ হাজার ৬৫৬টি মসজিদ, ৩ হাজার মন্দির, ৭৫২ বৌদ্ধ বিহার ও ৩০১টি গির্জা রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত দুই লাখ ৫৬ হাজার ৭৪ জন ধর্মীয় নেতা রাষ্ট্রীয় এ সুবিধার আওতায় আসবেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চলতি মাসেই এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন বলে ধর্ম মন্ত্রালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানা গেছে।

সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের জন্য মাসিক সম্মানী ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থা চালু করার লক্ষ্যে গঠিত সেলের সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) ও সেলের সভাপতি মো. ইসমাইল জবিউল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার, ধর্মসচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ, সমাজকল্যাণ সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফসহ সেলের অন্যান্য সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

চলতি অর্থবছরে এ সম্মানী ভাতার জন্য প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে ১৫টি মসজিদ নির্বাচন করা হবে। ‘ক’ শ্রেণির পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে চারটি, ‘খ’ শ্রেণির পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে তিনটি এবং ‘গ’ শ্রেণির পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে দুটি মসজিদ নির্বাচন করা হবে। সিটি করপোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে ছয়টি করে মসজিদ নির্বাচন করা হবে। চলতি অর্থবছরে দেশের প্রতিটি উপজেলা হতে পাঁচটি মন্দির নির্বাচন করা হবে, যার মধ্যে ‘ক’ শ্রেণির পৌরসভার প্রতিটি হতে দুটি এবং অন্যান্য শ্রেণির প্রতিটি থেকে একটি মন্দির নির্বাচন করা হবে। অবশিষ্ট মন্দির ইউনিয়ন পর্যায় থেকে নির্বাচন করা হবে। তবে, বৌদ্ধবিহার ও গির্জার সংখ্যা জেলাভিত্তিক ২৫ শতাংশ হারে নির্ধারণ করা হবে।

এ কার্যক্রমের অধীনে নির্বাচিত মসজিদের ইমাম, মন্দিরের পুরোহিত, বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ও গির্জার যাজক প্রত্যেকে পাঁচ হাজার টাকা করে মাসিক সম্মানী পেয়ে থাকেন। অন্যদিকে, মসজিদের মুয়াজ্জিন, মন্দিরের সেবাইত, বৌদ্ধ বিহারের উপাধ্যক্ষ ও গির্জার সহকারী যাজক তিন হাজার টাকা এবং মসজিদের খাদেম মাসিক দুই হাজার টাকা সম্মানী পান। সম্মানীর এই অর্থ সরাসরি উপকারভোগীদের ব্যাংক হিসাবে ইএফটির মাধ্যমে প্রেরণ করা হয়।

মসজিদ ও অন্যান্য উপাসনালয়ে কর্মরত ধর্মীয় নেতাদের মাসিক সম্মানী প্রদানে চলতি অর্থবছরে বাজেটে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এ অর্থবছের প্রায় এক-চতুর্থাংশ ধর্মীয় উপাসনালয় রাষ্ট্রীয় এ সুবিধার আওতায় আসছে। পরবর্তী তিন অর্থবছরে পর্যায়ক্রমে দেশের শতভাগ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান রাষ্ট্রীয় এ সুবিধার আওতায় আসবে।

সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে একটি পাইলট প্রকল্পের আওতায় দেশের ৬ হাজার ১৭টি নির্বাচিত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম, পুরোহিত, সেবাইতসহ অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত মোট ১৩ হাজার ৯৪৯ জনকে প্রথমবারের মতো সম্মানী দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ১৪ মার্চ ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।