অন্তর্বর্তী সরকারের উচিত ছিল রাজু ভাস্কর্য বা শহীদ মিনারে দাঁড়িয়ে শপথ নেওয়া: ফরহাদ মজহার

ডেস্ক নিউজঃ ফরহাদ মজহার বলেন, গণ–অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের সময় বঙ্গভবনে শপথ নেওয়া ছিল “মারাত্মক ভুল।” তার মতে, শপথ নেওয়া উচিত ছিল রাজু ভাস্কর্য বা শহীদ মিনারে দাঁড়িয়ে।

শুক্রবার (৭ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘নভেম্বর থেকে জুলাই: বিপ্লব থেকে বিপ্লবে’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার। তার মতে, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাংবিধানিক ভিত্তি নেই, ফলে এই সরকার কোনো কমিশন গঠনের এখতিয়ারও রাখে না।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ফরহাদ মজহার বলেন, “বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার সাংবিধানিকভাবে অবৈধ। এই সরকারের কোনো এখতিয়ার নেই জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠনের। এটা একটা ইলিগ্যাল গভর্নমেন্ট।”

তিনি আরও বলেন, “যে সংবিধান শেখ হাসিনার সময়ে তৈরি, সেটি মেনে শপথ নিলে তা রক্ষা করতে হবে। এটিকে পরিবর্তন বা সংস্কার করা যায় না।”

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাবকে ‘গণবিরোধী’ উল্লেখ করে ফরহাদ মজহার বলেন, “যারা এতে অংশ নিয়েছে, তারা গণবিরোধী। কারণ আমাদের আন্দোলন ছিল দলীয় নয়, গণঐক্যের ভিত্তিতে।”

রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতৈক্যের সম্ভাবনা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি। বলেন, “তারা কখনো ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারবে না, কারণ প্রতিটি দল করপোরেট স্বার্থ রক্ষা করে।”

তিনি সংস্কার প্রক্রিয়ায় জনগণ ও নাগরিক সমাজকে অন্তর্ভুক্ত না করারও সমালোচনা করে বলেন, “সংস্কার নিয়ে আলোচনা হয়েছে মাফিয়া শ্রেণির সঙ্গে, জনগণের সঙ্গে নয়। নারীদের সঙ্গেও নয়।”

অন্তর্বর্তী সরকারের স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া তখনকার ভুল স্বীকার করে বলেন, “৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পালানোর পর রাজনৈতিক নেতারা এস্টাবলিশমেন্টের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। তরুণ হিসেবে আমাদেরও ভুল ছিল, তবে আমাদের হাতে তখন তেমন কিছুই ছিল না।”

এ সময় ফরহাদ মজহার আহ্বান জানান, “৫ আগস্ট আমরা ভুল করেছি, কিন্তু আমরা সেটি ঠিক করব। এখনই গণপরিষদ গঠন করে নতুন সংবিধান প্রণয়নের সময়।”

আলোচনায় আরও অংশ নেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, অধ্যাপক আব্দুল লতিফ মাসুম, কর্নেল (অব.) হাসিনুর রহমান, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক জাবেদ রাসিন, পুসাবের স্থায়ী কমিটির সদস্য ফাহমিদুর রহমান, এবং অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট মোহাম্মদ সজল।
বৈঠকের সঞ্চালনা করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি রিফাত রশিদ।




আধুনিক অর্থনীতির ভিত্তি তৈরিতে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়াররা ব্যাপক অবদান রাখছেন: প্রধান উপদেষ্টা

ডেস্ক নিউজঃ প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়াররা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। অবকাঠামো ও শিল্প থেকে শুরু করে সবক্ষেত্রে তাদের সেবা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা আমাদের আধুনিক অর্থনীতির ভিত্তি তৈরিতে ব্যাপক অবদান রাখছে। 

শুক্রবার (৭ নভেম্বর) ‘গণপ্রকৌশল দিবস ও আইডিইবি’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী’ উপলক্ষ্যে এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন।

ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, একটি বৃহত্তর পেশাজীবী সংগঠন হিসেবে আইডিইবি এই দক্ষ কর্মীবাহিনীকে লালন-পালন, কারিগরি শিক্ষার প্রচার এবং টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করছে।

তিনি বলেন, গণপ্রকৌশল দিবস-২০২৫ ও ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি)’র ৫৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সংগঠনের সকল সদস্যকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই।

প্রতিপাদ্যটি অত্যন্ত সময়োপযোগী হয়েছে উল্লেখ করে ড. ইউনূস বলেন, একটি জাতির প্রকৃত শক্তি কেবল তার প্রাকৃতিক সম্পদের মধ্যেই নয়, বরং তার জনগণের জ্ঞান, দক্ষতা ও সৃজনশীলতার মধ্যেও নিহিত।

তিনি বলেন, অব্যাহত প্রতিশ্রুতি, পেশাদারিত্ব এবং উদ্ভাবনের চেতনার মাধ্যমে আইডিইবি’র সদস্যরা আমাদের জাতি গঠনের প্রচেষ্টার অগ্রভাগে থাকবেন। অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন এবং আমাদের জাতীয় আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে অবদান রাখবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।

‘গণপ্রকৌশল দিবস ও আইডিইবি’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী’ উপলক্ষ্যে গৃহীত সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন প্রধান উপদেষ্টা।

আইডিইবি প্রতিবছর ৮ নভেম্বর ‘গণপ্রকৌশল দিবস’ পালন করে থাকে। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য হলো ‘দক্ষ জনশক্তি-দেশ গঠনের মূল ভিত্তি’।




আধুনিক অর্থনীতির ভিত্তি তৈরিতে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়াররা ব্যাপক অবদান রাখছেন: প্রধান উপদেষ্টা

ডেস্ক নিউজঃ প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়াররা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। অবকাঠামো ও শিল্প থেকে শুরু করে সবক্ষেত্রে তাদের সেবা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা আমাদের আধুনিক অর্থনীতির ভিত্তি তৈরিতে ব্যাপক অবদান রাখছে। 

শুক্রবার (৭ নভেম্বর) ‘গণপ্রকৌশল দিবস ও আইডিইবি’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী’ উপলক্ষ্যে এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন।

ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, একটি বৃহত্তর পেশাজীবী সংগঠন হিসেবে আইডিইবি এই দক্ষ কর্মীবাহিনীকে লালন-পালন, কারিগরি শিক্ষার প্রচার এবং টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করছে।

তিনি বলেন, গণপ্রকৌশল দিবস-২০২৫ ও ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি)’র ৫৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সংগঠনের সকল সদস্যকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই।

প্রতিপাদ্যটি অত্যন্ত সময়োপযোগী হয়েছে উল্লেখ করে ড. ইউনূস বলেন, একটি জাতির প্রকৃত শক্তি কেবল তার প্রাকৃতিক সম্পদের মধ্যেই নয়, বরং তার জনগণের জ্ঞান, দক্ষতা ও সৃজনশীলতার মধ্যেও নিহিত।

তিনি বলেন, অব্যাহত প্রতিশ্রুতি, পেশাদারিত্ব এবং উদ্ভাবনের চেতনার মাধ্যমে আইডিইবি’র সদস্যরা আমাদের জাতি গঠনের প্রচেষ্টার অগ্রভাগে থাকবেন। অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন এবং আমাদের জাতীয় আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে অবদান রাখবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।

‘গণপ্রকৌশল দিবস ও আইডিইবি’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী’ উপলক্ষ্যে গৃহীত সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন প্রধান উপদেষ্টা।

আইডিইবি প্রতিবছর ৮ নভেম্বর ‘গণপ্রকৌশল দিবস’ পালন করে থাকে। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য হলো ‘দক্ষ জনশক্তি-দেশ গঠনের মূল ভিত্তি’।




‘চিকেনস নেক’-এর নিরাপত্তায় কৌশলগত পদক্ষেপ ভারতের

ডেস্ক নিউজঃ বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন যখন পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলছে, তখন এতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত। নয়াদিল্লি আশঙ্কা করছে, এই নতুন কূটনৈতিক সমীকরণ তার আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। এ পরিস্থিতিতে ভারত সীমান্তে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পদক্ষেপ নিয়েছে, যা শুধু নিজের নিরাপত্তাই নিশ্চিত করবে না, বরং ঢাকা সরকারের ওপরও চাপ সৃষ্টি করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সিলিগুড়ি শহরকেন্দ্রিক এই সরু ভূখণ্ডটির প্রস্থ সবচেয়ে সংকীর্ণ স্থানে মাত্র ২০–২২ কিলোমিটার। ভৌগোলিকভাবে এটি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্যকে মূল ভারতের সঙ্গে যুক্ত করে। করিডরটির পশ্চিমে নেপাল ও পূর্বে বাংলাদেশ, আর উত্তরে ভুটান অবস্থিত। অঞ্চলটির কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনায় ভারত এখন বিহারের জোগবানি হয়ে নেপালের বিরাটনগর পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গের নিউ মল জংশন পর্যন্ত নতুন রেললাইন স্থাপনের পরিকল্পনাও করছে।

বাংলাদেশ-পাকিস্তান ঘনিষ্ঠতা নিয়ে ভারতের উদ্বেগ
ভারতের আশঙ্কা আরও বেড়েছে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ কমিটির চেয়ারম্যান জেনারেল সাহির শামশাদ মিরজার ঢাকা সফরের পর। তিনি বাংলাদেশ সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেছেন বলে জানা গেছে।

এর আগেও বাংলাদেশের কিছু সরকারি কর্মকর্তা ও অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার বক্তব্যে ভারতের সার্বভৌমত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। বাংলাদেশের সাবেক বর্ডার গার্ড (তৎকালীন বিডিআর) প্রধান মেজর জেনারেল (অব.) এ এল এম ফজলুর রহমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, ‘যদি ভারত পাকিস্তানের ওপর আক্রমণ চালায়, তবে বাংলাদেশ সাতটি উত্তর-পূর্ব রাজ্য দখল করে নেবে। এজন্য চীনের সঙ্গে যৌথ সামরিক ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা শুরু করা প্রয়োজন।’

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মন্তব্যে ক্ষুব্ধ ভারত
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাম্প্রতিক চীন সফরও নয়াদিল্লিতে অস্বস্তি তৈরি করেছে। গত ২৬ থেকে ২৯ মার্চের সফরে তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘ভারতের পূর্বাঞ্চলের সাত রাজ্য, যেগুলোকে “সেভেন সিস্টার্স” বলা হয়, সেগুলো স্থলবেষ্টিত অঞ্চল—সমুদ্রপথে তাদের কোনো সরাসরি প্রবেশাধিকার নেই। আমরা এই অঞ্চলের একমাত্র “সমুদ্র অভিভাবক”।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই অবস্থান আমাদের জন্য বিরাট সম্ভাবনা তৈরি করছে। এটি চীনের অর্থনীতির সম্প্রসারণ হিসেবেও কাজ করতে পারে—উৎপাদন, বিপণন, পণ্য পরিবহন ও রপ্তানিতে নতুন সুযোগ তৈরি হবে।’

নোবেলজয়ী এই অর্থনীতিবিদের বক্তব্যে নয়াদিল্লি মনে করছে, বাংলাদেশ-চীন ঘনিষ্ঠতা এবং পাকিস্তানের সঙ্গে নতুন কূটনৈতিক সম্পর্ক ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক প্রভাবের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সীমান্তে নতুন সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করে ভারত এই পরিস্থিতিতে প্রতিরোধমূলক অবস্থান নিচ্ছে।

কী পদক্ষেপ নিয়েছে ভারত?
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে তিনটি নতুন গ্যারিসন বা সেনাঘাঁটি স্থাপন করেছে ভারত। এগুলো হলো আসমের বামুনি, বিহারের কিশনগঞ্জ ও পশ্চিমবঙ্গের চোপড়ায়। এই ঘাঁটিগুলো স্থাপনের মাধ্যমে নয়াদিল্লি সুরক্ষিত করতে চায় তথাকথিত ‘চিকেনস নেক’ বা ‘সিলিগুড়ি করিডর’—ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের একমাত্র স্থলসংযোগ।




আরও দুই দেশে ভিসা ছাড়াই যেতে পারবে বাংলাদেশিরা

ডেস্ক নিউজঃ বাংলাদেশের কূটনৈতিক, অফিসিয়াল ও সার্ভিস পাসপোর্টধারীদের জন্য তিমুর ও লেস্তে দেশে ভিসা অব্যাহতির চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর ফলে এই পাসপোর্টধারীরা এখন থেকে উক্ত দুই এশীয় দেশে ভিসা ছাড়া যাতায়াত করতে পারবেন।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার লক্ষে বাংলাদেশের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ভিসা অব্যাহতির চুক্তি করা হচ্ছে।

এ পর্যন্ত বাংলাদেশ এশিয়ার ২১টি, ইউরোপের ৪টি, আফ্রিকার ১টি এবং আমেরিকার ৩টি দেশসহ মোট ২৯টি দেশের সঙ্গে ভিসা অব্যাহতির চুক্তি করেছে।




সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকীকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট

ডেস্ক নিউজঃ রাজধানীর শাহবাগ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ তার জামিন মঞ্জুর করে আদেশ দেন। সহকারি অ্যাটর্নি জেনারেল ইব্রাহিম খলিল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে, গত ২৯ আগস্ট শাহবাগ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী ও ঢাবির আইন বিভাগের অধ্যাপক হাফিজুর রহমানসহ ১৬ জনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হকের আদালত এ আদেশ দেন। শাহবাগ থানার এসআই মো. আমিরুল ইসলাম মামলাটি দায়ের করেন।

অন্য আসামিরা হলেন- মো. আব্দুল্লাহ আল আমিন (৭৩), মঞ্জুরুল আলম (৪৯), কাজী এটিএম আনিসুর রহমান বুলবুল (৭২), গোলাম মোস্তফা (৮১), মো. মহিউল ইসলাম ওরফে বাবু (৬৪), মো. জাকির হোসেন (৭৪), মো. তৌছিফুল বারী খাঁন (৭২), মো. আমির হোসেন সুমন (৩৭), মো. আল আমিন (৪০), মো. নাজমুল আহসান (৩৫), সৈয়দ শাহেদ হাসান (৩৬), মো. শফিকুল ইসলাম দেলোয়ার (৬৪), দেওয়ান মোহম্মদ আলী (৫০) ও মো. আব্দুল্লাহীল কাইয়ুম (৬১)।

এদিন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক তৌফিক হাসান আসামিদের কারাগারে রাখার আবেদন করেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী জামিন আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর শামসুদ্দোহা সুমন জামিনের বিরোধিতা করেন। শুনানি শেষে বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ২৮ আগস্ট সকাল ১০টায় ঢাকার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির অডিটরিয়ামে ‘মঞ্চ ৭১’ এর ব্যানারে একটি গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপস্থিত থেকে আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী দেশকে সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে অস্থিতিশীল করে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে উৎখাতের ষড়যন্ত্রমূলক বক্তব্য দেন এবং অন্যদের প্ররোচিত করেন। পরে বৈঠকে অংশ নেওয়া ৭০ থেকে ৮০ জনের মধ্যে থেকে ১৬ জনকে আটক করে পুলিশ।

জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে, ৫ আগস্ট আত্মপ্রকাশ করা সংগঠন ‘মঞ্চ ৭১’-এর লক্ষ্য ছিল মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে জনগণকে আত্মত্যাগের জন্য প্রস্তুত করা।

তবে পুলিশের অভিযোগ, এ প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র করা হচ্ছিল।




চট্টগ্রামে এরশাদ উল্লাহ হামলার লক্ষ্য ছিলেন না: সরকার

ডেস্ক নিউজঃ ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে চট্টগ্রামে বিএনপির ভোটের প্রচারে গুলি চালিয়েছে দুর্বৃত্ত। এতে একজন নিহত ও ওই আসনের বিএনপির প্রার্থীসহ দুই জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনার দৃঢ়ভাবে নিন্দা জানিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার বলেছে, ওই হামলার লক্ষ্য এরশাদ উল্লাহ ছিলেন না। একটি ভ্রান্ত গুলিতে তিনি আহত হয়েছেন।

বুধবার (৫ নভেম্বর) রাতের সাংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় এই খবর জানানো হয়।

সরকারের ওই বার্তা জানানো হয়, প্রধান উপদেষ্টা নিরাপত্তা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন তারা সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে দোষীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে দ্রুত বিচারের মুখোমুখি করে।

সব রাজনৈতিক দল ও তাদের সমর্থকদের শান্ত ও সংযম বজা রেখে ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচন শান্তি, মর্যাদা ও ন্যায্যতার পরিবেশে সম্পন্ন হওয়ার আহবান জানায় সরকার।

বার্তায় বলা হয়, সরকার তার অংশে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, যাতে সারা দেশে অবাধ, নিরপেক্ষ, বিশ্বাসযোগ্য ও উৎসবমুখর নির্বাচনের জন্য নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়।




বাংলাদেশে পুলিশ সংস্কারে সহায়তার প্রস্তাব আয়ারল্যান্ডের

ডেস্ক নিউজঃ আয়ারল্যান্ড বাংলাদেশের চলমান পুলিশ সংস্কার প্রচেষ্টায় অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা ভাগাভাগি করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি ২০২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তীতে দায়িত্বশীল ও অধিকারভিত্তিক শাসন জোরদারের প্রচেষ্টায়ও আয়ারল্যান্ড পাশে দাঁড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে।

বুধবার (৫ নভেম্বর) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাতে এ প্রস্তাব দেন আয়ারল্যান্ডের অনাবাসিক রাষ্ট্রদূত কেভিন কেলি এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডের প্রথম পুলিশ অমবোডসম্যান ব্যারোনেস নুয়ালা ও’লোন।

দুই দিনের বাংলাদেশ সফরে থাকা ব্যারোনেস ও’লোন ১৯৯৮ সালের ‘গুড ফ্রাইডে চুক্তি’র পর সাত বছর উত্তর আয়ারল্যান্ডের পুলিশ ওমবডসম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ঐ সময়ের দীর্ঘকালীন সংঘাতের পর পুলিশের ভূমিকা এবং জনগণের আস্থার নতুন কাঠামো গড়ে ওঠে।

ব্যারোনেস ও’লোন বলেন, ‘আয়ারল্যান্ডের সংঘাত পরবর্তী অভিজ্ঞতা, ধৈর্য, অংশগ্রহণ ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের দীর্ঘমেয়াদি প্রকৃতি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়। আমরা এখানে টেকসই পরিবর্তনের বাস্তবসম্মত সময়সীমা সম্পর্কিত অভিজ্ঞতা ভাগ করতে এসেছি।’

সাক্ষাৎকালে তার সঙ্গে ছিলেন আয়ারল্যান্ডের পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের শান্তি এবং স্থিতিশীলতা ইউনিটের পরিচালক ফিয়োনুলা গিলসেনান। বৈঠকে ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুকও উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ইউনূস আয়ারল্যান্ডের উদ্যোগকে উষ্ণভাবে স্বাগত জানান এবং বাংলাদেশের সংস্কার ও পরিবর্তন প্রক্রিয়াকে সমর্থন দেওয়ার জন্য দেশটির ক্রমাগত অংশগ্রহণের প্রশংসা করেন।

প্রফেসর ইউনূস বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক ও দায়বদ্ধ প্রক্রিয়ার নিশ্চয়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে আয়ারল্যান্ডের সহায়তাকে উচ্চ মূল্য দেই।’

তিনি আগামী বছরের জাতীয় নির্বাচনের আগে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়িয়ে পড়া রোধে রাষ্ট্রদূত কেলির সহযোগিতাও কামনা করেন।

রাষ্ট্রদূত কেলি বাংলাদেশের সঙ্গে আয়ারল্যান্ডের অংশীদারিত্ব গভীর করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন এবং বলেন, উভয় দেশই শান্তি, ন্যায় এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

  • বাসস

 




সংসদের অর্ধেক আসন নারীদের জন্য সংরক্ষণের দাবি নারী নেত্রীদের

ডেস্ক নিউজঃ জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের ৫০ শতাংশ, অর্থাৎ ১৫০টি আসন নারীদের জন্য সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন নারী নেত্রীরা। বুধবার (৫ নভেম্বর) নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠকে এই দাবি জানান তারা।

বৈঠক শেষে উইমেন অন্ট্রাপ্রেনিউরস অব বাংলাদেশ (ওয়েব)–এর প্রেসিডেন্ট নাসরিন ফাতেমা আউয়াল সাংবাদিকদের বলেন,

‘আমরা চাই অন্তত ৫০ শতাংশ, অর্থাৎ ১৫০টি সিট যেন নারীদের জন্য থাকে। নারীরা যেন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন, সেটাই নিশ্চিত করতে চেয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে আমরা সরকারকেও বলতে চাই—নারীরা যারা নির্বাচনে আসছেন তাদের অবশ্যই সহায়তা দিতে হবে। আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশে এমন সহায়তা দেওয়া হয়। নারীরা যেন স্বচ্ছন্দে ভোট দিতে পারেন, সেজন্যও আমরা আলোচনা করেছি।’

নির্বাচনী তহবিল প্রসঙ্গে এই নারী নেত্রী বলেন, ‘নারীদের জন্য এই বিষয়টি অনেক কষ্টকর। পরিবার থেকেও সহজে ফান্ড পাওয়া যায় না, যেখানে পুরুষরা তা সহজে পান। সরকার যদি নারীদের কিছু সহায়তা দেয়, তাহলে অনেক নারীই নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন।’

দলীয় মনোনয়ন প্রক্রিয়ায়ও ভারসাম্য আনার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলো কোথাও ৫ শতাংশ, কোথাও ৬ শতাংশ নারী প্রার্থী মনোনয়ন দেয়। এটা না করে নির্দিষ্ট একটি শতাংশ নিশ্চিত করলে প্রতিনিধিত্ব আরও ভারসাম্যপূর্ণ হবে।’




যমুনা ও সচিবালয় এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ

ডেস্ক নিউজঃ বাংলাদেশ সচিবালয় এবং প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনা এলাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল, গণজমায়েত, মানববন্ধন, ধর্মঘটসহ শোভাযাত্রা নিষিদ্ধ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

বুধবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা জারি করা হয়।

‎বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশ ১৯৭৬-এর ২৯ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে আগামী বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) বৃহস্পতিবার থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।

গণবিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, বাংলাদেশ সচিবালয় ও এর সংলগ্ন এলাকা, প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনা এবং পার্শ্ববর্তী এলাকা, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল এলাকা, কারওয়ান বাজার, মৎস্য ভবন, অফিসার্স ক্লাব ও মিন্টো রোড সংলগ্ন এলাকায় কোনো ধরনের সভা, সমাবেশ, মিছিল, মানববন্ধন, অবস্থান ধর্মঘট বা শোভাযাত্রা করা যাবে না।

‎নিরাপত্তাজনিত কারণে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

এর আগে গত ৯ জুন এক গণবিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ সচিবালয় এবং প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনা এলাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।