আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় : কাদের গনি চৌধুরী

ডেস্ক নিউজ : দেশের ও জাতির সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য প্রথমেই শিক্ষাখাতে মনোযোগ দেওয়া জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী। তিনি বলেন, শিক্ষা হলো অন্ধকার থেকে আলোর দিকে যাত্রা। শিক্ষা ছাড়া কোনো জাতির উন্নতি অসম্ভব।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের কনফারেন্স হলে অ্যাসোসিয়েশন ফর ম্যাস অ্যাডভান্সমেন্ট নেটওয়ার্ক-আমান আয়োজিত ছাত্রবৃত্তির চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে কাদের গনি চৌধুরী এসব বলেন।

তিনি বলেন, শিক্ষায় সফলতার জন্য যার যার জায়গা থেকে নিজের দায়িত্বটুকু সম্পর্কে যত্নবান হতে হবে। নিজ নিজ দায়িত্ব ঠিকঠাক পালন করলে শিক্ষাক্ষেত্রে অসামান্য সাফল্য অর্জন সম্ভব।

আমান’র নির্বাহী পরিচালক ড. মুহাম্মদ আবু ইউসুফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন কারিগরি ও শিক্ষা বিভাগের সচিব দাউদ মিয়া, ইকো ইউএসএ’র প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ জামান, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম, মানারাত ইউনিভার্সিটির চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান প্রমুখ।

সারা বিশ্বে শিক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা উল্লেখ করে এই সাংবাদিক নেতা বলেন, এর কারণ শিক্ষা হলো অন্ধকার থেকে আলোর দিকে যাত্রা। শিক্ষা ছাড়া সভ্যতা আসে না। শিক্ষা ছাড়া জাতির উন্নয়ন ও অগ্রগতি সম্ভব নয়। শিক্ষায় সফলতার জন্য যার যার জায়গা থেকে নিজের দায়িত্বটুকু সম্পর্কে যত্নবান হওয়া উচিত বলে মনে করেন কাদের গনি চৌধুরী।

তিনি বলেন, শিক্ষার উন্নয়নে আমি একটি কথা বলি, যার যার দায়িত্ব আমরা ঠিকঠাক পালন করলে শিক্ষাক্ষেত্রে আমরা অসামান্য সাফল্য অর্জন করতে পারি। এখানে শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব হলো নিয়মিত পড়ালেখা করা। পাঠে মনোযোগী হওয়া। হোমওয়ার্ক নিয়মিত করা। শিক্ষকদের দায়িত্ব হলো নিয়মিত পাঠদান করা। সততার শিক্ষা দেওয়া। আর পরিবারের দায়িত্ব সন্তানকে শিক্ষালয়ে পাঠানো। হোমওয়ার্ক করছে কিনা দেখা। সন্তান কার সঙ্গে মিশছে নজর রাখা।

অভিভাবকদের দায়িত্ব বেশি হলেও অনেক অভিভাবক সন্তানকে স্কুল-কলেজে পাঠিয়ে মনে করেন দায়িত্ব শেষ- এটা ঠিক নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সন্তানকে সুশিক্ষিত ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলায় পরিবারের ভূমিকার কথা তুলে ধরে কাদের গনি চৌধুরী বলেন, পরিবার হলো একটি প্রতিষ্ঠান, যেখানে পরিবারের সদস্যরা প্রেম-প্রীতি, ভালোবাসা ও মায়া-মমতার বন্ধনে আবদ্ধ থাকে। পরিবারকে বলা হয় ‘জ্ঞানচর্চার সূতিকাগার’। পরিবার হলো ‘শাশ্বত বিদ্যালয়’, ‘চিরন্তন মাতৃসদন’। মানুষ তার সামগ্রিক জীবনে যত জ্ঞান, শিক্ষা, ঐশ্বর্য অর্জন করে তার সূচনাই হয় পরিবার থেকে। মায়ের কোলে হয় শিশুশিক্ষার হাতেখড়ি। তাই সন্তানের মূল্যবোধ, চরিত্র, চেতনা ও বিশ্বাস জন্ম নেয় পরিবার থেকেই।




পবিত্র জিলকদ মাসের চাঁদ দেখা যায়নি

ডেস্ক নিউজ : বাংলাদেশের আকাশে আজ কোথাও ১৪৪৭ হিজরি সনের জিলকদ মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে পবিত্র শাওয়াল মাস ৩০ দিন পূর্ণ হবে এবং আগামী রোববার (১৯ এপ্রিল) শাওয়াল মাসের সমাপ্তি ঘটবে। সে হিসেবে আগামী ২০ এপ্রিল সোমবার থেকে জিলকদ মাস গণনা শুরু হবে।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যায় রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ।

সভায় ১৪৪৭ হিজরি সনের পবিত্র জিলকদ মাসের চাঁদ দেখা সম্পর্কে দেশের সব জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়সমূহ, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো) থেকে প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সব তথ্য বিশ্লেষণ করে চাঁদ দেখা না যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি এই ঘোষণা দেয়।

সভায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আ. ছালাম খান, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আবদুল মালেক, বাংলাদেশ ওয়াকফ প্রশাসক মো. শাহীন হোসেন, প্রধান তথ্য অফিসার ইয়াকুব আলী, ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ ওবায়দুল হক, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের দ্বীনি দাওয়াত ও সংস্কৃতি বিভাগের পরিচালক ড. মোহাম্মদ হারুনূর রশীদ, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মমিনুল ইসলাম, স্পারসোর মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. খোরশেদ আলম খান, ঢাকা জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ওয়ারেছ আনসারী, চরমোনাই আহছানাবাদ রশিদিয়া কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সৈয়দ মোহাম্মদ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী ও জামিয়াতুল উলুমিল ইসলামিয়ার উপাধ্যক্ষ আবদুল গাফফারসহ কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।




প্রধানমন্ত্রী দেশের সেবা করতেই সরকার পরিচালনার দায়িত্বে এসেছেন: আতিকুর রহমান রুমন

ডেস্ক নিউজ : প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের সেবা করতেই সরকার পরিচালনার দায়িত্বে এসেছেন।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিকালে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যে মুগ্ধকর স্বভাবসুলভ আচরণ, তার ড্রেস আপ সবকিছুই অতি সাধারণ। তিনি আসলে দেশ সেবা করার জন্যই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তিনি চান দেশের সব ভালো কাজগুলো হোক।’

আতিকুর রহমান রুমন বলেন, সরকার পরিচালনার দায়িত্বে আসার পর থেকে আমাদের সাফল্যগুলোর মধ্যে একটি জিনিসই বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে, সেটা হলো- একটি যুদ্ধের কারণে তেলের দামসহ কিছু জিনিসের দাম বৃদ্ধির দিকে। এটা ছাড়া অন্যান্য প্রশাসনিক কাজ বা দুষ্টু লোকেরা যে খারাপ কাজগুলো করছিল, এগুলো তুলনামূলক অনেক কমে গেছে।




৮ জেলায় হতে পারে ঝড়

ডেস্ক নিউজ : দেশের ৮টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৮০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আজ শনিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে দিবাগত রাত ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দর সমূহের জন্য দেওয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক জানান, রংপুর, রাজশাহী, বগুড়া, পাবনা, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দর সমূহকে এক নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।




হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ : দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে নিশ্চিত হামে কোনো মৃত্যু নেই। শনিবার (১৮ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে সর্বশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

সরকারের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ৮৬ জনের। গত ১৫ মার্চ থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত হাম শনাক্ত হয়েছে ৩ হাজার ২৭৮ জনের। গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৯৪২ জন। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬২৪ জন।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কোনো মৃত্যু নেই। ১৫ মার্চ থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে চারজনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৫ মার্চ থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে মৃত্যু হয়েছে ১৭৮ জনের।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, ১৫ মার্চ থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৪ হাজার ৫২২ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে ছাড়া পেয়েছে ১১ হাজার ৭৫১ জন।

উল্লেখ্য, গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত তথ্যে নিশ্চিত মৃত্যুর সংখ্যা ৩৭ বলা হলেও আজ তা সংশোধন করে ৩৫ করা হয়েছে। বরগুনা জেলায় ভুলক্রমে দুজনের মৃত্যুকে নিশ্চিত হাম হিসেবে গণনা করা হয়েছিল বলে জানানো হয়।




২০২৫ সালে আন্দামান-বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে ৯০০ রোহিঙ্গার মৃত্যু বা নিখোঁজ

ডেস্ক নিউজঃ আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে ২০২৫ সালে প্রায় ৯০০ রোহিঙ্গা শরণার্থী মারা গেছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সমুদ্রপথে চলাচলের ক্ষেত্রে এটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে প্রাণঘাতী বছর।

শুক্রবার জেনেভায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র বাবার বালোচ এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ২০২৫ সালে সাড়ে ছয় হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথ পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তাদের মধ্যে প্রতি সাতজনে একজন নিখোঁজ বা মৃত বলে জানা গেছে, যা বিশ্বের যেকোনো প্রধান সমুদ্রপথের মধ্যে সর্বোচ্চ মৃত্যুহার।

ইউএনএইচসিআরের তথ্যমতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই পথে যাত্রা করা মানুষের অর্ধেকেরও বেশি নারী ও শিশু। এই ধারা ২০২৬ সালেও অব্যাহত রয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১৩ এপ্রিলের মধ্যে ২ হাজার ৮০০ জনেরও বেশি রোহিঙ্গা বিপজ্জনক সমুদ্রযাত্রা করেছেন।

সাম্প্রতিক এক মর্মান্তিক ঘটনায় পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট হয়েছে। গত ২৬ মার্চ বাংলাদেশ থেকে ছেড়ে যাওয়া অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই একটি নৌকা আন্দামান সাগরে ডুবে যায়। এতে আনুমানিক ২৫০ জন নিখোঁজ হন। পরে ৯ এপ্রিল আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের কাছে ৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, বেঁচে যাওয়া রোহিঙ্গাদের কাউন্সেলিং, চিকিৎসা ও মনোসামাজিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করা হচ্ছে।

মানব পাচার, শোষণ ও সমুদ্রে মৃত্যুর মতো ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও হাজার হাজার রোহিঙ্গা এই যাত্রা অব্যাহত রেখেছেন। সাধারণত অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই ও নিরাপত্তাহীন নৌকা বাংলাদেশর কক্সবাজার বা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে ইন্দোনেশিয়া বা মালয়েশিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যায়।

বিশ্লেষকদের মতে, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের সুযোগ না থাকায় রোহিঙ্গারা বাধ্য হয়ে এই ঝুঁকিপূর্ণ পথে পা বাড়াচ্ছেন। চলমান সংঘাত, নিপীড়ন ও নাগরিকত্ব সংকট তাদের সামনে কোনো বাস্তব বিকল্প রাখছে না।

এদিকে তহবিল সংকটের কারণে বাংলাদেশে মানবিক সহায়তাও কমে গেছে। ক্যাম্পে অস্থিরতা, শিক্ষা ও জীবিকার অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

ইউএনএইচসিআর রাষ্ট্রগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, বাস্তুচ্যুতির মূল কারণগুলো মোকাবিলা, নিরাপদ ও বৈধ পথ সম্প্রসারণ এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের মাধ্যমে জীবনরক্ষা ও মানব পাচার প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

বর্তমানে এই অঞ্চলে ১৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় ১২ লাখ বাংলাদেশে আশ্রিত। ২০২৫ সালের যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনা মাত্র ৫৩ শতাংশ অর্থায়ন পাওয়ায় আন্তর্জাতিক সহায়তা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা আরও জোরালো হয়েছে।




জামায়াতে ইসলামী ভদ্র দল, সংসদে তারা খুব ভালো ব্যবহার করে: স্পিকার

ডেস্ক নিউজঃ জামায়াতে ইসলামীর প্রশংসা করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। তিনি বলেছেন, ‘জামায়াতে ইসলামী ভদ্র দল, সংসদে তারা খুবই ডিসিপ্লিন্ড, সবার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করে।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকালে ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এক গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে উপজেলা বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে স্পিকারকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।

এদিন রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘দলবাজি আর করবেন না। রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে কাউকে হয়রানি করবেন না।’

তিনি জামায়াতে ইসলামীর প্রশংসা করে বলেছেন, ‘জামায়াতে ইসলামী ভদ্র দল, সংসদে তারা খুবই ডিসিপ্লিন্ড, সবার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করে। তারা পাশের লোকের সঙ্গেও কথা বলেন না। নিয়মকানন মেনে চলেন। একসময় তারা আমাদেরই মিত্র দল ছিল। তাদেরকে অনুরোধ করব, আপনারা ও বিএনপি মিলেমিশে চলবেন।’

স্পিকার আরও বলেন, তিনি সংবর্ধনা গ্রহণের জন্য নয়, বরং এলাকার জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে এসেছেন।

তিনি বলেন, ‘ভোলা-৩ আসনের মানুষ সব সময় আমার পাশে থেকেছেন। তাদের ভালোবাসা ও সমর্থনেই আজ আমি এ অবস্থানে পৌঁছেছি। এলাকার উন্নয়নে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে এবং ভবিষ্যতেও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।’

তিনি বলেন, ‘স্পিকারের হয়তো প্রশাসনিক বিশাল কোনো ক্ষমতা নেই, কিন্তু এই পদের অনেক সম্মান আছে। আপনারা আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে সেই সম্মানের আসনে বসার সুযোগ করে দিয়েছেন। আমি স্পিকার হই আর যাই হই, দিনশেষে আমি আপনাদেরই সংসদ সদস্য।’

স্পিকার বলেন, ‘আওয়ামী লীগের উদাহরণ আমাদের চোখের সামনে আছে। অন্যায়, অবিচার, লুটপাট ও সন্ত্রাস করলে কী ফলাফল হয়, তা তো দেখছেন। ছয়বারের এমপিকে ঘর থেকে বের হতে দেয়নি। তারা ভেবেছিল এভাবেই দিন যাবে। সে জন্যই আল্লাহর গজব তাদের ওপর পড়েছে।’ এ সময় তিনি ছাত্রসমাজকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তারা মাফিয়া সরকারকে বিদায় করে বাংলাদেশের উন্নয়নের পথকে সুগম করেছে।

স্পিকার আরও বলেন, ‘যারা মাফিয়া সরকারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ ছিল, এই ঐক্য যেন আর না ভাঙে। এ ঐক্য ভাঙলে আবার ভারত থেকে দাদারা চলে আসবে। তারা এসে এ দেশে আবারও আগের মতো লুণ্ঠনের রাজত্ব কায়েম করতে চাইবে। আমরা আর এ ধরনের বাংলাদেশ দেখতে চাই না; যেখানে মানুষ গুম হবে, ভয়ে থাকবে, আতঙ্কে ঘুমাতে পারবে না। এ অবস্থার অবসান চাই।’

ক্ষমতাসীন দল বিএনপির দায়িত্ব অনেক বেশি উল্লেখ করে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘জনগণকে আশ্বস্ত করতে হবে যে, এটা আওয়ামী লীগ নয়। আমরা সম্পদ লুটপাট করে বিদেশে পাচার করব না। আগামী দিনে স্থানীয় সরকার বা যেকোনো নির্বাচন হোক, আমরা সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করব; যাতে করে আপনারা সঠিকভাবে ভোট দিতে পারেন।’

অনুষ্ঠানে তজুমদ্দিন উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম মোস্তফা মিন্টু, সাধারণ সম্পাদক ওমর আসাদ রিন্টু, ভোলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আমিরুল ইসলাম বাছেত, উপজেলা বিএনপি নেতা হাসান মাকসুদুর রহমান, জাকির হোসেন হাওলাদারসহ স্থানীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন। এতে রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।




সরকারের ২ মাস পূর্তিতে সংবাদ সম্মেলন আজ

ডেস্ক নিউজঃ সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের দুই মাস পূর্তি উপলক্ষে আজ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। 

শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করবী হলে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন, প্রেস সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র সালেহ শিবলী। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ প্রেস উইংয়ের সদস্যরা।

সংবাদ সম্মেলনে সরকারের গত দুই মাসের কার্যক্রম, অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরা হতে পারে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি সমসাময়িক বিভিন্ন ইস্যুতেও বক্তব্য আসতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিতে সাংবাদিকদের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ৪ নম্বর গেট দিয়ে প্রবেশ করতে বলা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।




হজ ফ্লাইট কার্যক্রমের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজঃ আসন্ন ২০২৬ সালের পবিত্র হজ মৌসুমকে সামনে রেখে বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে হজ ফ্লাইটের কার্যক্রম। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাতে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আয়োজিত এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সৌদি সরকার ঘোষিত হজ ব্যবস্থাপনার বিশেষ ‘রোডম্যাপ’ অনুসরণ করে এবার আগেভাগেই ফ্লাইট কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, হজযাত্রীদের সেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের পবিত্র দায়িত্ব। তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে হজযাত্রীদের সাথে সর্বোচ্চ ধৈর্য ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে আচরণ করার নির্দেশ দেন।

২০২৬ সালের হজের রোডম্যাপ অনুযায়ী, এবার হজযাত্রীদের সৌদি আরবের ইমিগ্রেশন কার্যক্রম বাংলাদেশেই (রুট-টু-মক্কা ইনিশিয়েটিভের আওতায়) সম্পন্ন করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এতে করে সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর হাজিদের দীর্ঘ সময় বিমানবন্দরে অপেক্ষা করতে হবে না। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে হজযাত্রীদের সুস্বাস্থ্য ও নিরাপদ সফরের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ধর্ম মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, সৌদি দূতাবাসের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সির মালিকরা উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী প্রথম হজ ফ্লাইটের যাত্রীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের হাতে উপহার সামগ্রী তুলে দেন।

ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশ থেকে এ বছরের প্রথম হজ ফ্লাইটটি ১৮ এপ্রিল রাত ১২টা ২০ মিনিটে যাত্রা করবে। ৪১৯ জন হজযাত্রী নিয়ে ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সৌদি আরবের জেদ্দার বাদশাহ আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে।

প্রথম দিনে মোট ১৪টি ফ্লাইট পরিচালনার কথা রয়েছে। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ৬টি, সাউদিয়ার ৩টি এবং ফ্লাইনাসের ৩টি ফ্লাইট থাকবে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, বর্ধিত ফ্লাইট শিডিউল ও বিমান ভাড়া কমানোসহ সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পরই হজ ফ্লাইট শুরু হচ্ছে।

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ হজ যাত্রী পাঠানো দেশ হিসেবে বাংলাদেশ থেকে এ বছর প্রায় ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজযাত্রী সৌদি আরব যাবেন। তাদের মধ্যে ৪ হাজার ৫৬৫ জন সরকারি ব্যবস্থাপনায় এবং ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন বেসরকারি অ্যাজেন্সির মাধ্যমে হজ পালন করবেন।

আগামী ২১ মে হজ পূর্ব ফ্লাইট শেষ হবে। এ বছর মোট ২০৭টি হজ পূর্ব ফ্লাইট নির্ধারিত রয়েছে। যার মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ১০২টি, সাউদিয়া ৭৫টি এবং ফ্লাইনাস ৩০টি ফ্লাইট পরিচালনা করবে। মোট হজযাত্রীর প্রায় ৫০ শতাংশ বহন করবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। বাকি হজযাত্রীদের বহন করবে সাউদিয়া এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স।

চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে আগামী ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগামী ৩০ মে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে, এটি চলবে ১ জুলাই পর্যন্ত।




এবারও হরমুজ পার হতে পারল না বাংলার জয়যাত্রা

ডেস্ক নিউজঃ এবারও হরমুজ পাড়ি দিতে পারল না বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ এমভি বাংলার জয়যাত্রা। যাত্রা শুরুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বেতারবার্তায় ইরানের বাহিনী জাহাজটি পারস্য উপসাগরে ফেরত যাওয়ার নির্দেশনা দেয়। নির্দেশনা পেয়ে আবারও পারস্য উপসাগরে নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরে যাচ্ছে জাহাজটি।

জাহাজের ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলাম খান শুক্রবার রাত পৌনে একটায় গণমাধ্যমকে বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘোষণা শুনে আমরা শুক্রবার রাতে হরমুজ পাড়ি দিতে রওনা হয়েছিলাম। তবে ইরানের বাহিনী জাহাজটি হরমুজ পার হওয়ার অনুমতি দেয়নি। জাহাজটি ফেরত নেওয়ার নির্দেশনা পাওয়ার পর আমরা আগের জায়গায় অর্থাৎ পারস্য উপসাগরে ফেরত যাচ্ছি।’

জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা মেরিন ট্রাফিকের ওয়েবসাইটে শুক্রবার রাত ১১টায় দেখা যায়, ইরানের কর্তৃপক্ষ এই প্রণালি উন্মুক্ত ঘোষণার পর পারস্য উপসাগরে আটকে থাকা একের পর এক জাহাজ নোঙর তুলতে শুরু করে। শতাধিক জাহাজ পূর্ণ গতিতে হরমুজ প্রণালির দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। তবে রাত পৌনে একটায় মেরিন ট্রাফিকের ওয়েবসাইটে দেখা যায়, সব কটি জাহাজ আবার পারস্য উপসাগরে ফেরত যাচ্ছে। এই তালিকায় বাংলার জয়যাত্রাও রয়েছে।

এর আগে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক জানিয়েছিলেন, পারস্য উপসাগর থেকে বাংলাদেশ সময় শুক্রবার রাত ১১টা ৫০ মিনিটে বাংলার জয়যাত্রা হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ করেছে। রাত তিনটা নাগাদ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে পারে।