সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশীর মৃত্যুতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর শোক

সৌদি আরবের রিয়াদে একটি সোফা তৈরির কারখানায় গতকাল সংঘটিত মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে ১৬ জন বাংলাদেশী নাগরিক নিহত হয়েছেন। এ প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক ও আন্তরিক সমবেদনা প্রকাশ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ।

মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী নিহত বাংলাদেশী নাগরিকদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সহমর্মিতা জ্ঞাপন করেছেন এবং তাদের এ অপূরণীয় ক্ষতি ও শোকের সময়ে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পরররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, দুর্ঘটনার সংবাদ পাওয়ার পর পরই রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। নিহতদের পরিচয় শনাক্তকরণ এবং মরদেহের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে বাংলাদেশ দূতাবাস সংশ্লিষ্ট সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সমন্বয় করে কাজ করছে।




এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার ৬২.২৫ শতাংশ

প্রকাশ হয়েছে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে (১১টি শিক্ষা বোর্ড) গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ।

আজ সকালে ১০টার দিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ফলাফল উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

এবার জিপিএ–৫ পেয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ৯ জন পরীক্ষার্থী, যা গত বছর ছিল ১ লাখ ২৫ হাজার ১৮ জন।

৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৬৪ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। গত বছর এসএসসিতে পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ। এবার সেই তুলনায় পাসের হার ৩ দশমিক ৯৯ শতাংশ কমেছে।

অন্যদিকে মাদ্রাসা বোর্ডে পাসের হার ৫৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৫৮ দশমিক ২০ শতাংশ।

এ বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিতে মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করেছিল। এর মধ্যে সাধারণ ৯টি শিক্ষা বোর্ডের অধীন এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন। যাদের মধ্যে ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৫ জন ছাত্র এবং ৯ লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন ছাত্রী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে।

সারা দেশে ৩ হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্রে ৩০ হাজার ৬৬৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নেয়।

নির্ধারিত ওয়েবসাইট ও এসএমএসের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেও ফল সংগ্রহ করা যাচ্ছে।




অতীতের মতো ‘গুপ্তবাহিনী’ বিশৃঙ্খলা ও বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ : অতীতের মতো আবারও ‘গুপ্তবাহিনী’ বিভ্রান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে এবং জনগণের কাছে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রোববার (৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের হাটহাজারী কলেজ মাঠে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ দেশের মানুষের ভাগ্যের উন্নয়নের জন্য কোনো দল রাজনীতি করে থাকলে সেই দলটির নাম বিএনপি। কিন্তু কিছু সংখ্যক রাজনৈতিক দল বিভ্রান্তি ছড়িয়ে এই উন্নয়নকর্মে বাধা দেয়ার চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, যারা রাজপথ বন্ধ করতে চায়, মানুষকে বিভ্রান্ত করতে যায়, তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া যায়, তা নির্ধারণ করবে দেশের জনগণ।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, মানুষের ভাগ্য নিয়ে আর ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া যাবে না। দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে।

উন্নয়নের জন্য চট্টগ্রামে যা যা প্রয়োজন, পর্যায়ক্রমে তা বাস্তবায়ন করা হবে বলেও জানান তারেক রহমান।




দেশের ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতি ও বিপর্যস্ত প্রশাসনকে ঢেলে সাজাতে বর্তমান সরকার চেষ্টা করছেঃ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতি ও বিপর্যস্ত প্রশাসনকে ঢেলে সাজাতে বর্তমান সরকার চেষ্টা করছে। তবে এত তাড়াতাড়ি এসব বাস্তবায়ন হয় না। রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে রংপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক চ্যারিটি সংস্থার লাভ শেয়ার বিডি আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

সুবিধাবঞ্চিতদের স্বাবলম্বীকরণ প্রকল্পের আওতায় রংপুর অঞ্চলের ২৫টি দুস্থ পরিবারকে চায়ের দোকান হস্তান্তর উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

এলজিআরডি মন্ত্রী বলেন, আমাদের একটা বিরোধী দল আছে। দুর্ভাগ্যক্রমে তারা আবার সেই আগের মতোই ভূমিকা পালন করতে শুরু করেছে। হাসিনা যে ভাষায় কথা বলতো, তারাও সেই ভাষায় কথা বলছে। করতে দিবো না, চলতে দিবো না, শেষ করতে দিবো না। এ ধরনের রাজনীতি দেশের জন্য কল্যাণকর নয়।

তিনি আরো বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসন শেষে দেশ গঠনের সুযোগ এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে অব্যবস্থাপনা ও সংকটে থাকা প্রশাসনকে নতুন করে গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে। তবে এত বড় একটি ব্যবস্থাকে স্বল্প সময়ে পুরোপুরি পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।

দেশে জ্বালানি সমস্যা রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার গত ১৫ বছরে দেশে একটিও গ্যাস ও তেলের খনি অনুসন্ধান করেনি। তারা বাপেক্সকে পঙ্গু করে রেখেছিল। আমরা দায়িত্ব পাওয়ার পর দেশে তেল ও গ্যাসের কূপ খননের চেষ্টা করছি। কূপ খননের জন্য টেন্ডার হয়েছে বলে জানান মির্জা ফখরুল।

তেল-গ্যাস আমদানি নিয়ে তিনি বলেন, তেল ও গ্যাস বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে সেটার দাম বেড়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের কারণে আমাদের তেল-গ্যাস আমদানিতে ৪ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়েছে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনের আগের দেয়া প্রতিশ্রুতি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম দাবি করেন, চার-পাঁচ মাসে অনেক পরিবর্তন হয়েছে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকার বিভিন্ন খাতে সংস্কার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। প্রশাসন, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা এবং জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকর ও জনমুখী করতে ধারাবাহিক উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

গণমাধ্যমের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের আমলে লিখতে না পারলেও এখন সত্য-মিথ্যা সবই লিখতে পারছে। বিএনপি সরকার দায়িত্ব পাওয়ার পর দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয়েছে, সংসদে কথা বলার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

লাভ শেয়ার বিডির পরিচালক জাহিদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রেজেকা সুলতানা ফেন্সি। এছাড়া, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভা শেষে রংপুর অঞ্চলের ২৫টি সুবিধাবঞ্চিত ব্যক্তির মাঝে ২৫টি চা দোকান ঘর হস্তান্তর করা হয়।




প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রীর সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ

শোষণ, অনিয়মিত অভিবাসন এবং মানবপাচার প্রতিরোধে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে জোর দেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। একই সঙ্গে মন্ত্রী দক্ষ ও মানসম্পন্ন মানব সম্পদ তৈরি, নিরাপদ ও মানসম্পন্ন কর্মসংস্থান এবং অভিবাসী কর্মীদের অধিকার, মর্যাদা ও সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিতে সরকারের দৃঢ় প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

রোববার (৯ আগস্ট) প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ।

যুক্তরাজ্যের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানের জনশক্তি তৈরিতে ইংরেজি ভাষা, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণে যুক্তরাজ্যের সহায়তা প্রত্যাশা করে মন্ত্রী বলেন, দেশে বিদ্যমান কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজির সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ‘গ্রিন স্কিল’ ও ‘ডিজিটাল স্কিল’ প্রশিক্ষণে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি এফসিডিও, আইএলও ও বিশ্বব্যাংকের অংশীদারিত্বে চলমান ‘রাইজ’ প্রজেক্টের মাধ্যমে বিদেশফেরত কর্মীদের টেকসই পুনর্বাসন ও সামাজিক পুনঃএকত্রীকরণ ধারাবাহিকতা বজায় রাখার গুরুত্ব ব্যক্ত করেন। এর পাশাপাশি দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় আলোচনা বাস্তবে রূপদান এবং অভিবাসন ও দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম তদারকির জন্য একটি ‘যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ ‘ গঠনের উপর গুরুত্বারোপ করেন।

বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক বলেন, ইউরোপের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানের জনশক্তি তৈরি করতে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে দেশের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোর সংযোগ স্থাপন করা যেতে পারে। এসব প্রতিষ্ঠানের আন্তর্জাতিক মানের সনদপ্রাপ্ত কর্মী বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাঠালে তা তরুণদের বৈধ পথে অভিবাসনে আরো উৎসাহিত করবে।

সাক্ষাৎকালে ব্রিটিশ হাই কমিশনার সারাহ কুক জানান, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা মোতাবেক বাংলাদেশে দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের সরকারের সাথে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ ব্যক্ত করেন।

তিনি বাংলাদেশ থেকে নিরাপদ ও নিয়মিত এবং যৌক্তিক ব্যয়ে শ্রম অভিবাসন নিয়ে যুক্তরাজ্যের উদ্বেগ তুলে ধরেন এবং অভিবাসন ব্যবস্থা উন্নয়নে সহযোগিতা জোরদার করার তথ্য জানান।

যুক্তরাজ্যে অনিয়মিত অভিবাসন প্রসঙ্গে হাই কমিশনার জানান, ব্রিটেনে আশ্রয়প্রার্থীদের বিষয়ে সেদেশের সরকার ও জনগণ অত্যন্ত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। বর্তমানে যুক্তরাজ্যের আশ্রয়প্রার্থীদের তালিকায় শীর্ষ পাঁচটি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম; সম্প্রতি যারা সেখানে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন তাদের মধ্যে অল্প সংখ্যক আবেদন মঞ্জুর হয়েছে এবং বাকিদের নিজ নিজ দেশে ডিপোর্ট করা হচ্ছে।

তিনি আরো উল্লেখ করেন, আবেদন নামঞ্জুর হওয়া ব্যক্তি স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে চাইলে পুনর্বাসনের জন্য ৩ হাজার পাউন্ড আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়, তবে আইনি প্রক্রিয়ায় ডিপোর্ট করা হলে এ সুবিধা প্রযোজ্য হবে না।




রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনা বিএনপির চার নেতার কার কী অবদান

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে রাষ্ট্রপতি পদে সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই। ক্ষমতাসীন বিএনপির নীতিনির্ধারণী মহলে একাধিক নাম আলোচনায় থাকলেও সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে চারজন নেতার নাম। এদের মধ্যে আলোচনায় এগিয়ে রয়েছেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অন্য তিন নেতা হলেন-স্থায়ী কমিটির প্রবীণ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খান এবং ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম। তাদের বাইরে আলোচনায় থাকলেও ড. মুহাম্মদ ইউনূস রাষ্ট্রপতি হতে রাজি নন। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মানবাধিকারকর্মী জাতিসংঘে বাংলাদেশি স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত আইরিন খানের নাম এখন আর আলোচনায় নেই বলে সরকারের ভেতরের একটি সূত্র দাবি করেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. বদিউল আলম মজুমদারের মতে, আলোচনায় থাকা সবারই অবদান রয়েছে। প্রত্যেক মানুষই একজন আরেকজন থেকে আলাদা। তাদের চিন্তাচেতনা, মূল্যবোধ, অভিজ্ঞতা, শিক্ষাদীক্ষা-সবদিক থেকেই ভিন্ন। তাই ব্যক্তির মধ্যে তুলনা করা প্রায় অসম্ভব। তিনি বলেন, আলোচনায় থাকা চারজনের প্রত্যেকেই অভিজ্ঞ, যোগ্য, উচ্চশিক্ষিত এবং তাদের রাষ্ট্রপতি হওয়ার যোগ্যতা আছে। আমি যতটুকু শুনেছি, রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে দলের প্রধান এবং প্রধানমন্ত্রীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তার সর্বোচ্চ বিবেচনা শক্তি ব্যবহার করে তাদের মধ্য থেকেই বেছে নিয়ে একজনের নাম রাষ্ট্রপতি পদে চূড়ান্ত করবেন।

 

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মনে করেন, রাষ্ট্রের মর্যাদা যেন দেশে এবং বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে পারেন-এমন ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষকেই রাষ্ট্রপতি করা উচিত হবে। এখানে বিএনপিকেই চিন্তা করতে হবে। তিনি বলেন, বিএনপির যে চিন্তা, আদর্শ এবং প্রধানমন্ত্রী যে কমিটমেন্ট করে ক্ষমতায় এসেছেন, সেগুলোকে বাস্তবায়ন করার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি কার্যালয়েরও একটা সহযোগিতা তারেক রহমানের লাগবে। তাছাড়া যিনি জনগণ ও রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ভারসাম্য রক্ষা করতে পারবেন, তাকেই মনোনয়ন দেওয়া উচিত হবে।

কোন নেতার কী অবদান

রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় থাকা চার নেতার প্রত্যেকেরই দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, দলের প্রতি আনুগত্য ও অবদান রয়েছে। এককথায় এই চারজনই বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের অধিকারী। তাই বিএনপি নেতাকর্মীদের পাশাপাশি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনেও এখন তাদের নিয়ে নানামুখী আলোচনা চলছে। বিএনপির পাশাপাশি দেশের রাজনীতিতে কার কী অবদান, তা নিয়ে চলছে মূল্যায়নও। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এসব মূল্যায়ন বিবেচনায় নিয়েই রাষ্ট্রপতি পদের মনোনয়ন ঠিক করবেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদনেতা তারেক রহমান। ফলে সবার নজর এখন তারেক রহমানের দিকে। ১ আগস্ট বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে পরবর্তী রাষ্ট্রপতির নাম চূড়ান্ত করার দায়িত্ব চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ওপর দিয়েছেন দলটির নেতারা। বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রবীণ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন রাজনীতির পাশাপাশি একজন ভূতত্ত্ববিদ, শিক্ষাবিদ ও লেখক হিসাবেও পরিচিত। ১৯৭৯ সালে তিনি রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আহ্বানে সারা দিয়ে বিএনপিতে যোগ দেন এবং বিএনপির প্রথম ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক হন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে পাঁচবার সংসদ-সদস্য এবং তিনবার মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি ১৯৯৪ সাল থেকে। দল পুনর্গঠন ও সংকটের সময় তার অবদান অনস্বীকার্র্য। প্রবীণ এই নেতা সংকটকালে কখনো দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেননি। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে এবং ওয়ান-ইলেভেনসহ বিভিন্ন সময়ে প্রায় পাঁচ বছর কারাগারে ছিলেন। হাসিনা সরকারের সময় তার বিরুদ্ধে ১৭টি মামলা হয়।

 

রাজনীতির বাইরেও তার রয়েছে সমৃদ্ধ একাডেমিক জীবন। ১৯৬৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৭০ সালে লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজ থেকে আরেকটি ডিগ্রি নেন। ১৯৭৩ সালে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভূতত্ত্বে পিএইচডি এবং ১৯৭৪ সালে ইম্পেরিয়াল কলেজ থেকে ডিআইসি ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৬৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগে জুনিয়র লেকচারার হিসাবে শিক্ষকতা শুরু করে সহকারী অধ্যাপক ও অধ্যাপক হন। ১৯৮৭ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিশ্ব জনমত গঠনে তিনি প্রবাসীদের সংগঠিত করেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় লন্ডনে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক হিসাবেও নেতৃত্ব দেন।

২০০১ সালের চারদলীয় জোট সরকারের ‘কিচেন ক্যাবিনেট’-এর অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। দলের প্রবীণ নেতা হিসাবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের সভাপতি হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ফলে দলের ভেতরে ও বাইরে অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় এই নেতার নাম রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় আসা স্বাভাবিক বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট সবাই। তবে বর্তমানে শারীরিকভাবে কিছুটা অসুস্থতা থাকার কারণে তার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে নানা দিক থেকে চিন্তা করতে হচ্ছে।

 

 

রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় সবচেয়ে বেশি এগিয়ে আছেন দলের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় ও আন্দোলনে তার ভূমিকা সর্বজনবিদিত। বিশেষ করে গত ১৭ বছরের কঠিন সময়ে বিএনপিকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে তার সক্রিয় ভূমিকার কথা সর্বস্তরে প্রশংসিত। মহাসচিব হিসাবে দায়িত্ব পালন করে দলের ভেতরে-বাইরে সমান গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেছেন তিনি।

একজন পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির রাজনীতিক হিসাবেও মির্জা ফখরুলের আলাদা পরিচিতি রয়েছে। দলীয় প্রধান তারেক রহমানের সঙ্গেও তার দীর্ঘ রাজনৈতিক সম্পর্ক ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার সম্পর্ক আলোচনায় রয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ারও অত্যন্ত পছন্দ ও স্নেহভাজন ছিলেন তিনি। মির্জা ফখরুল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। পরে শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হন। এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৯২ সালে বিএনপির ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সভাপতি নির্বাচিত হন। একই সময়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সহসভাপতির দায়িত্বও পালন করেন তিনি।

তিনবার সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হয়ে বিএনপির এই মহাসচিব বিভিন্ন সময়ে মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছেন। নানা প্রোপাগান্ডায় এক-এগারোর আগে ও পরে বিএনপি কিছুটা ভাবমূর্তির সংকটে পড়লে স্বচ্ছ ইমেজের নেতা হিসাবে মির্জা ফখরুলকে সামনে আনা হয়। ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে বিএনপির পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিরোধী দলের মুখপাত্র হিসাবে গণমাধ্যমে তার পরিচিতি আরও বাড়ে।

২০১১ সালের ২০ মার্চ বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব খন্দকার দেলওয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর খালেদা জিয়া তাকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেন। ২০১৬ সালের ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে তিনি বিএনপির মহাসচিব নির্বাচিত হন।

 

১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামে তার বিরুদ্ধে ১১১টি মামলা হয়েছে এবং ১১ বার তিনি কারাবরণ করেছেন। হাসিনা সরকার দল ভাঙতে মির্জা ফখরুলকে চাপের পাশাপাশি বিভিন্ন সময় নানা প্রলোভনও দিয়েছেন বলে দেশের রাজনীতিতে আলোচনা আছে। কিন্তু তাকে টলাতে পারেননি। অনেকের মতে, নির্লোভ ফখরুল দলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেননি। তারেক রহমান লন্ডনে এবং বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে থাকার সময় দেশে দল ও আন্দোলনের দৃশ্যমান নেতৃত্বের অন্যতম মুখ ছিলেন মির্জা ফখরুল। এসব কারণে রাষ্ট্রপতি পদে তার নামই বর্তমানে সবচেয়ে বেশি আলোচনায়।

এ দুজনের বাইরে ড. আবদুল মঈন খানের পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির পাশাপাশি দেশ-বিদেশে তার রয়েছে দীর্ঘ রাজনৈতিক ও একাডেমিক পরিচিতি। যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্বের অত্যন্ত পছন্দের লোক হিসাবে পরিচিত তিনি। রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় তার বাসায় প্রায় বিদেশি কূটনীতিকরা বৈঠকে বসতেন। একজন সৎ ও সজ্জন ব্যক্তি হিসাবেও রাজনৈতিক অঙ্গনে তার সুনাম রয়েছে।

 

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মেধাবী ছাত্র ড. খান একই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন। তিনি ইংল্যান্ডের সাসেক্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়া দেশে-বিদেশে বিভিন্ন পুরস্কার ও ফেলোশিপও পেয়েছেন।

ইংল্যান্ডে পিএইচডি গবেষণার সময় বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন। এর পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার তার বৃত্তি ও নাগরিকত্ব বাতিল করে। পরে ব্রিটিশ সরকারের বৃত্তির সহায়তায় তিনি উচ্চশিক্ষা অব্যাহত রাখেন। স্বাধীনতার পর তিনি বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ফিরে পান। রাজনৈতিক জীবনে পাঁচবার সংসদ-সদস্য এবং তিনবার মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০৯ সালে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হন।

বিএনপির আন্দোলনের সময় পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার ক্ষেত্রেও তার ভূমিকা ছিল। দীর্ঘদিন দলের প্রতি আনুগত্য ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গ্রহণযোগ্যতার কারণে রাষ্ট্রপতি পদে অন্যতম দাবিদার হিসাবে তার নামও বিবেচনা করা হচ্ছে।

এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ছাত্র মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের কর্মময় জীবন যেন সাফল্যের এক বিশাল ক্যানভাস। তিনি একাধারে ফিফা-স্বীকৃত ফুটবলার, বীরবিক্রম খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা, সামরিক কর্মকর্তা, সাতবারের নির্বাচিত সংসদ-সদস্য এবং একাধিকবারের অভিজ্ঞ মন্ত্রী।

ছয় দশকের বেশি সময়ের কর্মজীবনে তিনি রাজনীতি, সামরিক বাহিনী, ক্রীড়া ও জনপ্রশাসনে গুরুপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। ১৯৯২ সালে বিএনপিতে যোগ দিয়ে সর্বশেষ তিনি বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন। রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্ন সময় নানা চাপ ও প্রলোভন সত্ত্বেও শেষ পরীক্ষায় তিনি উত্তীর্ণ হয়েছেন। তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে প্রথমে সংসদ-সদস্য পদে মনোনয়ন, পরে মন্ত্রী এবং সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন। অনেকের মতে, রাজনৈতিক প্রজ্ঞার কারণে সংসদের স্পিকার হিসাবে হাফিজ উদ্দিনকে বেছে নিয়েছেন সংসদনেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকায় রাষ্ট্রপতি হিসাবে তার নাম ব্যাপকভাবে আলোচনায় আছে।




বাঁশখালীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে ঘরের চাবি তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাঁশখালীর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে টিনের নতুন ঘরের চাবি তুলে দিয়েছেন। আজ দুপুর ১টা ২০ মিনিটে বাহারছড়া ইউনিয়নের পশ্চিম বাঁশখালীর বন্যা কবলিত এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে টিনের নতুন ঘরের চাবি তাদের হাতে তুলে দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী এসময় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের পরিবারের খোঁজ-খবর নেন। এর আগে, তিনি সেখানে একটি মেহগনি গাছের চারা রোপণ করেন। এ সময়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অন্যান্যের মধ্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, ত্রাণ ও দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত ৭ জুলাই থেকে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চল এবং নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। বন্যায় জলাবদ্ধতায় এসব এলাকার শত শত মানুষের ঘর-বাড়ি, পুকুর, জলাশয় ও ঘেরের মাছ পানিতে ভেসে যায়।

এখানে কর্মসূচি শেষ করে প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি যাবেন। সেখানে আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে।




রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী অলি আহমদ

আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব) অলি আহমদকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য।

আজ বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানের সরকারি বাসভবনে ১১ দলের বৈঠক শেষে এ ঘোষণা দেয়া হয়।

জোটের অন্যতম শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন।

বিষয়টি  নিশ্চিত করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য আতাউর রহমান সরকার। আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে।

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুসারে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য মনোনয়ন দাখিলের শেষ সময় ১৩ আগস্ট, যাচাইবাছাই ১৬ আগস্ট, আর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৮ আগস্ট বলে জানান আখতার আহমেদ।

গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন। সেই পদেই এখন ভোটের প্রস্তুতি চলছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে শুধু সংসদ সদস্যরা ভোট দিয়ে থাকেন।

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিধান আছে।

সংবিধানের ক্ষমতাবলে, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম।




রাষ্ট্রপতি নির্বাচন দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ বিএনপির

২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে ক্ষমতাসীন বিএনপি। আজ রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র দুটি সংগ্রহ করেন বিএনপি সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রী উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী আহমেদ এবং জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বিএনপি ভাইস চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম মণি।

তবে বিএনপির পক্ষ থেকে কারা মনোনয়ন পাচ্ছেন তার ঘোষণা আসেনি। অন্যদিকে ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে এসেছে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব) অলি আহমদের নাম।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন।

ওই সময় ইসি সচিব বলেন, ‘তফসিল অনুযায়ী, ১৩ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার/নির্বাচন কর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করা যাবে। ১৬ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠিত হবে। ১৮ আগস্ট বিকেল ৪টা পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহার করা যাবে। আর, ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে ভোট অনুষ্ঠিত হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য ভোটার তালিকা এরই মধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে। তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও অন্যান্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।’

উল্লেখ্য, গত ২৪ জুলাই বিকাল ৫টার দিকে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পদত্যাগ জমা দেন তিনি। এরপর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে ইসি।




হেলিকপ্টারে চড়ে মহেশখালীর পথে প্রধানমন্ত্রী

হেলিকপ্টারে চড়ে কক্সবাজারের মহেশখালীর উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে তিনি তেজগাঁও বিমান বন্দর থেকে মহেশখালীর উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মহেশখালীতে মাতাবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর, কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম পরিদর্শন করবেন। সেখান থেকে প্রধানমন্ত্রী বন্যাকবলিত বাঁশখালী ও হাটহাজারী এলাকায় যাবেন এবং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে নতুন ঘর হস্তান্তর করবেন।’

প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচি

সকাল সাড়ে ১০টায় মহেশখালীর মাতাবাড়ির গভীর সমুদ্র বন্দর, কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প ও মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যক্রম পরিদর্শন, বেলা সাড়ে ১২টায় মহেশখালীর বাহারছড়া ইউনিয়নের পশ্চিম বাশখালী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে আয়োজিত সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের অনুষ্ঠানে যোগদান, দুপুর ২টায় ফটিকছড়ির আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলম বাবুনগর মাদ্রাসায় আল্লাম শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ, সোয়া ৩টায় হাটহাজারীর আল জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় আল্লামা শাহ আহমদ শফীর কবর জিয়ারত, বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে হাটহাজারী ডাকবাংলোয় যাত্রা বিরতি, বিকাল ৫টায় হাটহাজারী সরকারি কলেজ মাঠে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের অনুষ্ঠানে যোগদান, সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে চট্টগ্রামের ‘রেডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে ভিউ’ হোটেল মিলনায়তনে সাংগঠনিক সভায় যোগদান।

প্রধানমন্ত্রী ঢাকা থেকে মহেশখালী যাচ্ছেন হেলিকপ্টারে এবং ফটিকছড়ি থেকে সড়ক পথে চট্টগ্রামে যাবেন। সব কর্মসূচি শেষ করে রাত সাড়ে ৯টায় হযরত শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড়োজাহাজে ঢাকায় ফিরবেন তিনি।