বরাদ্দ ফ্ল্যাটের জন্য সংসদে ওয়াশিং মেশিন-ওভেন চাইলেন জামায়াতের সংসদ সদস্য

ডেস্ক নিউজ : সংসদ সদস্যদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া আবাসিক ফ্ল্যাটে ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রো ওভেন ও জানালার পর্দা সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান।

বুধবার (১৭ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ দাবি জানান।

মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমরা বাজেটের ওপর কথা বলছি। সম্পূরক বাজেটও এই মহান জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। মাননীয় স্পিকার, মাননীয় সংসদ সদস্যরা অনেক টাকার সম্পূরক বাজেটও পাস করেছে। কিন্তু এ সংসদ সদস্যদের আবাসিক ফ্ল্যাটগুলোতে, থাকার জন্য যেটা দেওয়া হয়েছে, তার জানালা–দরজার পর্দাটি এখনো পর্যন্ত ঝোলানো হয়নি।’

স্পিকারের উদ্দেশে মিজানুর রহমান বলেন, ‘সুতরাং জোর দাবি জানাচ্ছি, আমরা শুনেছিলাম যে আমাদের এই ফ্ল্যাটগুলোতে একটি করে ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রো ওভেনও দেওয়া হবে। এই পর্দা, মাইক্রো ওভেন এবং ওয়াশিং মেশিনগুলো আপনার মাধ্যমে পাওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি।’




সংসদে ‘আই হ্যাভ এ প্লান’ এর ব্যাখ্যা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ : ‘আই হ্যাভ অ্য প্লান’ নিয়ে এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংসদে বলেছেন, ‘বর্তমান কৃষি-বান্ধব সরকারের মূল লক্ষ্যে হল— একটি আত্মনির্ভর, জলবায়ু-সহিষ্ণু, প্রযুক্তি নির্ভর ও কৃষক-কেন্দ্রিক আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা। যেখানে উৎপাদন ও বিপণন হবে সম্পূর্ণ তথ্য চালিত, আমাদের প্রান্তিক কৃষক হবেন ক্ষমতায়িত উদ্যোক্তা এবং কৃষিখাত হবে জাতীয় সমৃদ্ধির প্রধান চালিকা শক্তি।’

বুধবার (১৭ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের নবম দিনের প্রশ্নোত্তর পর্বে ‘আই হ্যাভ অ্য প্লান’ শীর্ষক এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। এদিন তার উত্তর সংসদের টেবিলে উত্থাপন করা হয়।

বিকেল ৩টায় শুরু হওয়া অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তবে রাষ্ট্রীয় কাজে ঢাকার বাইরে থাকায় প্রধানমন্ত্রী সংসদে উপস্থিত ছিলেন না।

সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. সেলিম রেজা প্রশ্ন রেখে বলেন, আমাদের কৃষি নির্ভর এই বাংলাদেশে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও মেহনতি কৃষকের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে দেশের জনগণ কর্তৃক সাদরে গৃহীত আপনার বহুল জনপ্রিয় স্লোগান ‘আই হ্যাভ এ প্লান’ কর্মসূচির আওতায় কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে এবং উক্ত পদক্ষেপসমূহ বাস্তবায়িত হলে কৃষিতে অভূতপূর্ব বিপ্লব সাধনে আমরা আশান্বিত হতে পারি কিনা?

এই প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান লিখিতভাবে বলেন, ‘বর্তমান কৃষি-বান্ধব সরকারের মূল লক্ষ্যে হল একটি আত্মনির্ভর, জলবায়ু-সহিষ্ণু, প্রযুক্তি নির্ভর ও কৃষক-কেন্দ্রিক আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা। যেখানে উৎপাদন ও বিপণন হবে সম্পূর্ণ তথ্য চালিত, আমাদের প্রান্তিক কৃষক হবেন ক্ষমতায়িত উদ্যোক্তা এবং কৃষিখাত হবে জাতীয় সমৃদ্ধির প্রধান চালিকা শক্তি।’

কৃষিক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপসমূহ তুলে ধরে বলেন, ‘কৃষির উন্নয়ন ও কৃষকদের ইউনিক পরিচয় নিশ্চিতকরণে ন্যায্য মূল্যে কৃষি উপকরণ, সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা, স্বল্প মূল্যে সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে কৃষি যন্ত্রপাতি প্রদানের লক্ষ্যে ১৪ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। প্রি-পাইলটিং পর্যায়ে দেশের ৮টি বিভাগের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলার ১১টি কৃষি ব্লকে এ কার্যক্রম সম্পাদন করা হচ্ছে। অদ্যাবধি ২০ হাজার ৮৩২টি কৃষক কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। সরকার ইতোমধ্যে শস্য, ফসল, পশুপালন ও মৎস্যখাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সম্পূর্ণ মওকুফ করেছে। এ লক্ষ্যে সরকার চলতি ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ১৫৬৭.৯৬ (এক হাজার পাঁচশত সাতষট্টি কোটি ছিয়ানব্বই লাখ) কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দ করেছে এবং এর ফলে সারাদেশের প্রায় ১৩ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ জন কৃষক উপকৃত হবে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার দেশব্যাপী ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন/পুনঃখননের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর ফলে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমবে, জলাবদ্ধতা নিরসন হবে, সেচ সুবিধা নিশ্চিত হবে এবং গ্রামীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা সুরক্ষিত হবে। ইউরিয়া, ডিএপি, টিএসপি এবং এমওপি সার অত্যন্ত সুলভ মূল্যে সরাসরি কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া, বিএডিসির মাধ্যমে উচ্চফলনশীল ও জলবায়ু সহনশীল বীজের সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।

উচ্চ ফলনশীল ও প্রতিকূলতা সহিষ্ণু জাত উদ্ভাবনের পাশাপাশি স্মার্ট কৃষি ও প্রিসিশন এগ্রিকালচার-এর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান ও গম সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং দেশব্যাপী ‘কৃষকবাজার’ স্থাপন করা হচ্ছে।

কৃষিখাতে সেন্সর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইন্টারনেট অফ থিংস  এবং ড্রোনের মতো আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের লক্ষ্যে কৃষি মন্ত্রণালয় স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করছে।

টাঙ্গাইল-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. রবিউল আওয়াল প্রশ্ন রেখে বলেন, ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে আাদেশ পৃথিবীর অন্যতম একটি দুর্যোগপ্রবণ দেশ এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বিশ্বের ক্ষতিগ্রস্ত দেশসমূহের মধ্যে অন্যতম। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলা এবং বাংলাদেশকে উন্নত দেশে রূপান্তর আবার লক্ষ্যে সরকার কোনও পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে কিনা?

জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ভৌগোলিক অবস্থান, ঘনবসতি, বিস্তৃত নদ-নদী ব্যবস্থা এবং উপকূলীয় বৈশিষ্ট্যের বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে জলোচ্ছ্বাস, বন্যা, আকস্মিক বন্যা, নদীভাঙন, খরা, অতিবৃষ্টি, বজ্রপাত, তাপ ও লবণাক্ততার মতো দুর্যোগের প্রকোপ ও তীব্রতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি, অবকাঠামো, পরিবেশ ও অর্থনীতির ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে।

বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলা পানি সম্পদ খাতে বহুমুখী কর্মপরিকল্পনা ও কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। তারমধ্যে- পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়ন; তিস্তা মহাপরিকল্পনা; নদীভাঙন রোধ; বন্যায় সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ; এবং কৃষিজমিতে লবণাক্ততা হ্রাসকরণ অন্যতম।

গত ১৩ মে ৩৪ হাজার ৩৪৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘পদ্মা ব্যারেজ’ প্রকল্প ১ম পর্যায়ে বাস্তবায়নের জন্য অনুমোদিত হয়েছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে শুষ্ক মৌসুমে পদ্মা নদীতে পানি সংরক্ষণপূর্বক পানির প্রবাহ বৃদ্ধি করে পদ্মানির্ভর এলাকায় নদী সিস্টেমকে পুনরুজ্জীবিত করা হবে। এছাড়া, দক্ষিণাঞ্চলের লবণাক্ততার অনুপ্রবেশ হ্রাস, সুন্দরবন ইকোসিস্টেমের ভারসাম্য পুনরুদ্ধার, নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন ও জলাবদ্ধতা হ্রাস, সেচ সুবিধা বৃদ্ধি এবং পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভবপর হবে। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে ১১৩ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে এবং দেশের জিডিপিতে শতকরা শূন্য দশমিক ৪৫ ভাগ অতিরিক্ত প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে। অধিকন্তু, ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবহার বৃদ্ধি, সেচ ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিসহ পরিবেশ প্রতিবেশ উন্নয়নে বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত ‘দেশব্যাপী নদী-নালা-খাল, জলাধার খনন ও পুনঃখনন’ কর্মসূচি চলমান রয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনজনিত নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় সরকার কর্তৃক বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারেক রহমান।

সরকার কর্তৃক বিভিন্ন উদ্যোগ

তারেক রহমান জানান, আগামী পাঁচ বছরে দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরও জাতীয় পর্যায়সহ সারাদেশে বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বৃক্ষমেলার আয়োজন করা হচ্ছে এবং তিন মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান পরিচালনা করা হবে। বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট কর্তৃক জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রশিক্ষণ ও সম্প্রসারণ কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। যেমন- প্রায় উপকূলীয় জেলাগুলোতে গ্রামীণ প্রাকৃতিক জলাধার গড়ে তোলা হবে যাতে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে পানীয় জলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।




শ্রীমঙ্গলের অনুষ্ঠানে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজঃ মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার দুপুরে আকাশযোগে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে সেখান থেকে সড়কপথে শীমঙ্গলে যান তিনি। এরপর সেখানকার ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শ্রীমঙ্গলের মির্জাপুর ইউনিয়নে ১ নম্বর ওয়ার্ডে সুইলপুর গ্রামের ১৫৫ জনের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু করেছেন। এছাড়া, ক্যানসার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড, জন্মগত হৃদরোগ ও থ্যালাসেমিয়ায় রোগে আক্রান্ত ৫ জনকে ৫০ হাজার টাকা করে অনুদানের চেক দেবেন। পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর পাঁচজনের জীবনমান উন্নয়নে ১০ হাজার টাকা করে এককালীন আর্থিক অনুদান এবং পাঁচ শিক্ষার্থীকে ১০ হাজার টাকা করে এককালীন আর্থিক অনুদান দেবেন।

এছাড়া, দুঃস্থ, অসহায়, অসুস্থ, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি ও গৃহহীন ১০০ জনকে ১০ হাজার টাকা করে বিশেষ অনুদানের চেক প্রদান করবেন। প্রধানমন্ত্রী টেকসই আবাসনের জন্য পাঁচজন চা-শ্রমিকের হাতে ২ লাখ টাকা করে বরাদ্দ পত্রও তুলে দেবেন।

শ্রীমঙ্গল ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে নেতাকর্মীদের পাশাপাশি দলে দলে যোগদান করছেন বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ। নানান রঙের পোশাক পরে সমাবেশস্থলে বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষরাও এসেছেন। মাঠের একপাশে উপকারভোগীদেরকে বসিয়ে রাখা হয়েছে। বিশেষ করে দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীকে পেয়ে অনেকটাই উচ্ছ্বসিত দলীয় নেতাকর্মীরা।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সরকারি দল বিএনপি।

সফরসূচি অনুযায়ী, এদিন সন্ধ্যা পৌনে ৬টায় মৌলভীবাজার থেকে ওসমানী বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাত্রা করবেন প্রধানমন্ত্রী। রাত সাড়ে ৮টায় ফের আকাশপথে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন তিনি।




সিলেট পৌঁছে শ্রীমঙ্গলের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ডেস্ক নিউজঃ মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে কর্মসূচিতে যোগদানের জন্য সিলেটে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বুধবার সকালে সফরের অংশ হিসেবে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি। এরপর সেখান থেকে সড়কপথে শ্রীমঙ্গলের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে সকাল থেকে সড়কের দু’পাশে অবস্থান নিয়েছেন দলের নেতাকর্মীরা। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে।

জানা গেছে, দুপুর ১টায় শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী শ্রীমঙ্গলের মির্জাপুর ইউনিয়নে ১ নম্বর ওয়ার্ডে সুইলপুর গ্রামের ১৫৫ জনের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করবেন। এছাড়া, ক্যানসার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড, জন্মগত হৃদরোগ ও থ্যালাসেমিয়ায় রোগে আক্রান্ত ৫ জনকে ৫০ হাজার টাকা করে অনুদানের চেক দেবেন। পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর পাঁচজনের জীবনমান উন্নয়নে ১০ হাজার টাকা করে এককালীন আর্থিক অনুদান এবং পাঁচ শিক্ষার্থীকে ১০ হাজার টাকা করে এককালীন আর্থিক অনুদান দেবেন।

এছাড়া, দুঃস্থ, অসহায়, অসুস্থ, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি ও গৃহহীন ১০০ জনকে ১০ হাজার টাকা করে বিশেষ অনুদানের চেক প্রদান করবেন। প্রধানমন্ত্রী টেকসই আবাসনের জন্য পাঁচজন চা-শ্রমিকের হাতে ২ লাখ টাকা করে বরাদ্দ পত্রও তুলে দেবেন।

উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. ইয়াকুব আলী বলেন, ১৯৭৮ সালে ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের এই মাঠে এসে বক্তব্য দিয়েছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। আজ ৪৮ বছর পর একই মাঠে এসে বক্তব্য দেবেন জিয়াউর রহমানের পুত্র তারেক রহমান। আমরা এই মহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায় আছি।

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সরকারি দল বিএনপি। দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষজন প্রধানমন্ত্রীকে দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান চৌধুরী তুহিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমনে আমরা আনন্দিত। চায়ের সবুজ গালিচায় প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে আমরা প্রস্তুত আছি।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত। সমাবেশে ৩০/৪০ হাজার মানুষের সমাগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীকে দেখার জন্য সবাই অধীর আগ্রহে আছেন।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান বলেন, উপজেলা ও পৌর প্রশাসন থেকে আমরা সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। আমরা স্থানীয় সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সুশিল সমাজসহ সর্বস্তরের জনগণকে সাথে নিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে প্রধানমন্ত্রীর আগমনের প্রত্যাশা করছি।

মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রীর নিকট ঋণী। উনি মাত্র চার মাসের মাথায় শ্রীমঙ্গলে আসছেন। এটা আমাদের জন্য অনেক খুশির। শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জের মানুষ আনন্দের বন্যায় ভাসছেন প্রধানমন্ত্রীকে এক নজর দেখার জন্য। ঝড়-বৃষ্টি হলেও জনসভার মাঠে মানুষ আসবে সামনে থেকে প্রধানমন্ত্রীর কথা শুনতে।

এদিকে, সফরসূচি অনুযায়ী, এদিন সন্ধ্যা পৌনে ৬টায় মৌলভীবাজার থেকে ওসমানী বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাত্রা করবেন প্রধানমন্ত্রী। রাত সাড়ে ৮টায় ফের আকাশপথে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন তিনি।




‘আপনার বাড়তি সময় শেষ হয়েছে, আগামী বছরের জন্য প্র্যাকটিস করতে থাকেন’

ডেস্ক নিউজ : ঝালকাঠি-২ (সদর-নলছিটি) আসনের জেবা আমিন খানকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বক্তব্য পেশ করার পরামর্শ দিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। মঙ্গলবার (১৬ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের অষ্টম দিনে জেবা আমিনকে এ পরামর্শ দেন স্পিকার।

হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, আপনার বাড়তি সময় শেষ হয়েছে, আগামী বছরের জন্য প্র্যাকটিস করতে থাকেন।

মূলত জেবা আমিন খানকে তার বক্তব্য পেশ করার জন্যে নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তিনি আরও বাড়তি সময় চান। সেই সময় শেষ হয়ে গেলে উনি আবারও স্পিকারের কাছে অনুরোধ করেন। 

পরবর্তীতে স্পিকার তাকে এই পরামর্শ দেন।

উল্লেখ্য, ২০২৬ সালে তিনি বিএনপির পক্ষ থেকে সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন পান এবং সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। দ্বৈত নাগরিকত্ব ইস্যুতে তার প্রার্থিতা ও মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচন কমিশনে ও আদালতে আইনি চ্যালেঞ্জ এলেও শেষ পর্যন্ত তা বৈধ ঘোষিত হয়।




তারেক রহমান বাংলাদেশের জন্য ‘আশার আলো’ : সাইমন ড্যানজাক

ডেস্ক নিউজ : বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন সাবেক ব্রিটিশ এমপি ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক সাইমন ড্যানজাক। বলেছেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলদেশের জন্য আশার আলো।

সম্প্রতি এক গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং যুক্তরাজ্য-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে নিজের মতামত তুলে ধরেন।

সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, গত ১৫ বছরে বাংলাদেশের মানুষ নানা ধরনের রাজনৈতিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। তার মতে, তারেক রহমান দেশের নেতৃত্বে থাকলে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে এবং দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারবেন।

যুক্তরাজ্যের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার-এর সরকারেরও সমালোচনা করেন সাইমন ড্যানজাক। তিনি দাবি করেন, সাবেক ব্রিটিশ মন্ত্রী টিউলিপ সিদ্দিক যুক্তরাজ্য সরকারের সঙ্গে যুক্ত থাকায় বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ ছিল এবং সুবিধা পেয়েছে।

ড্যানজাক আরও বলেন, যুক্তরাজ্যের বর্তমান সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ রয়েছে এবং দেশটির নেতৃত্বে পরিবর্তন আসতে পারে। একই সঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন যে, নেতৃত্বে পবিবর্তন এলে দুই দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পরিবর্তনের ফলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে নতুনভাবে সহযোগিতা ও সুসম্পর্ক গড়ে ওঠার সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, আগামী দিনে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে এবং পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি হবে।

[তবে সাক্ষাৎকারে দেওয়া এসব মন্তব্য সাইমন ড্যানজাকের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক মূল্যায়ন ও মতামত]




হাম ও হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, মোট ৬৫২

ডেস্ক নিউজঃ দেশে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৫২ জনে।

রোববার (১৪ ‍জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে অনুযায়ী, গতকাল শনিবার সকাল ৮টা থেকে আজ রোববার সকাল ৮টার মধ্যে এই চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে ঢাকা, সিলেট, ময়মনসিংহ ও খুলনা বিভাগে একজন করে রয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন বলছে, এ পর্যন্ত হামের উপসর্গে মারা গেছে ৫৬০ শিশু এবং পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হাম রোগে মৃত্যু হয়েছে ৯২ শিশুর। ফলে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৬৫২ জনে পৌঁছেছে।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে আরও ১ হাজার ৫২ জনের শরীরে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত উপসর্গ দেখা দেওয়া রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৮৫ হাজার ৯৫১ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামের রোগী শনাক্তের সংখ্যা ৭৫। এ নিয়ে দেশে মোট নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৩২৩ জনে।

এ ছাড়া ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৭০ হাজার ৫৭৯ জন। তাদের মধ্যে ৬৬ হাজার ৮৪১ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন।

তবে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম রোগে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।




দুদকের মামলায় দুবাইয়ে গ্রেফতার বেনজীর আহমেদ

ডেস্ক নিউজঃ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ে গ্রেফতার হয়েছেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় ইন্টারপোলের সহযোগিতায় তাকে গ্রেফতার করেছে দুবাই পুলিশ। পুলিশ সদর দফতরের একজন ঊধ্বর্তন কর্মকর্তা আজ রবিবার দুপুরে গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

এরপর বিকালে সংসদ অধিবেশনের শুরুতেই ৩০০ বিধিতে দেওয়া বক্তব্যে বেনজীরের গ্রেফতারের বিষয়টি জাতীয় সংসদে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বেনজীর আহমেদকে গ্রেফতারের জন্য ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির আদেশ দেয় আদালত। ঢাকা মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মো. জাকির হোসেন এ আদেশ দেন।

এরপর বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করা হয় গত বছরের এপ্রিলে। আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের ওয়েবসাইটে বেনজীর আহমেদের ছবি ও তথ্য মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় হাইড করে রাখা ছিল।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ভারতে পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে ‘রেড নোটিশ’ জারির জন্য আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের কাছে আবেদন করা হয়। বিদেশে পলাতক ওই ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে পৃথক তিনটি ধাপে আবেদন করে বাংলাদেশ পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি)।

পুলিশের সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, শেখ হাসিনাসহ যে ১২ জনের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারির আবেদন করা হয়েছে, তাদের মধ্যে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে করা আবেদনে আর্থিক অপরাধের অভিযোগ তুলে ধরা হয়। অন্যদের বিরুদ্ধে করা আবেদনে মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার তথ্য-উপাত্ত যুক্ত করা হয়েছে।

অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে বেনজীর ও তার স্ত্রী-কন্যাদের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে পৃথক চারটি মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

এর আগে ৭৪ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ এবং তার স্ত্রী ও দুই মেয়ের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর পৃথক চারটি মামলা করে দুদক।

মামলায় বেনজীর আহমেদের পরিবারের বিরুদ্ধে ৭৪ কোটি ১৩ লাখ ৩৯ হাজার টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং সম্পদের তথ্য গোপন করার অভিযোগ আনা হয়েছিল।

বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুলিশের মহাপরিদর্শক ছিলেন। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার ও র‌্যাবের মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন।




নতুন বাজেট বাস্তবায়ন করে দেশের মানুষের ভাগ্য বদলাতে চাই: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, নতুন বাজেট বাস্তবায়ন করে দেশের মানুষের ভাগ্য বদলাতে চাই। একদিনের সফরে কক্সবাজারে গিয়ে দিনের অন্যান্য কর্মসূচি শেষে চকরিয়ায় এক জনসভা তিনি এ কথা বলেন।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি চকরিয়া উপজেলা ও পৌরসভা শাখা আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান আরও বলেন, কথা একটাই, আমাদের কাজ হচ্ছে দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা।

তিনি বলেন, আমরা সারা দেশের সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০০ বেডে উন্নীত করব। যাতে করে বাংলাদেশের গ্রামের মানুষকে চিকিৎসার জন্য দূরে যেতে না হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে নতুনভাবে বলতে চাই, করব কাজ গড়ব দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ।

শনিবার রাতে পৌর বাস টার্মিনালের সামনের এ সমাবেশ মঞ্চে গিয়ে পৌঁছান সরকারপ্রধান। জেলা বিএনপি আয়োজিত এ সভায় স্থানীয় নেতা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের পর বক্তৃতা দিতে আসেন তারেক রহমান।

এদিন সকালে আকাশপথে কক্সবাজারে যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান। এরপর সরকারপ্রধান পিএমখালী ইউনিয়নে পাতিলী খাল পুনঃখনন কর্মসূচি উদ্বোধন করেন, অংশ নেন সুধী সমাবেশে।

এরপর ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শন শেষে মালুমঘাট সংরক্ষিত বনে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে পেকুয়া উপজেলায় জুলাই শহীদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত করেন তিনি।

এরপরে নবগঠিত পেকুয়া পৌরসভা এবং নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন সরকারপ্রধান। চকরিয়ার জনসভা শেষে তিনি কক্সবাজারে লং বিচ হোটেলে সুধী সমাবেশে যোগদান করবেন। এ কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী আকাশপথে ঢাকায় ফিরবেন।

দেড় দশকের বেশি সময় লন্ডন থাকার পরে গত বছরের ২৫ ডিসেম্ব দেশে ফেরন তারেক রহমান। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যগরিষ্ঠতা অর্জন করে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরে তারেক রহমানের এটিই প্রথম কক্সবাজার সফর।




‘যেই বাজেটে ট্যাক্স কমানো হয়, সেই বাজেটও বিরোধীদল মানে না’

ডেস্ক নিউজঃ দেশে অস্থিতিশীলতা ও অশান্তি তৈরি করতে বিরোধী দল প্রস্তাবিত বাজেটের বিরোধিতা করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, তাদের (বিরোধী দল) লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য দেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানো নয়; তাদের উদ্দেশ্য একটাই, দেশের মধ্যে একটি অস্থিতিশীতা-অশান্তি তৈরি করা, মানুষকে বিভ্রান্ত করা।

শনিবার কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী পাতলীখাল আনুষ্ঠানিক পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খবরের কাগজগুলোতে দেখলাম, আলহামদুলিল্লাহ, এইবার বাজেটের পরে এখন পর্যন্ত কোন জিনিসের দাম বৃদ্ধি পায়নি। কারণ চাল, ডাল, তেল, নুন সব প্রয়োজনীয় যে জিনিসপত্রগুলো আছে তার ওপর যে সকল ট্যাক্স ছিল, বর্তমান সরকার এই দুইদিন আগের বাজেটে ৬০টি পণ্যের উপর থেকে ট্যাক্স তুলে নিয়েছে, যাতে করে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম না বাড়ে। এর উদ্দেশ্য লক্ষ্য একটাই. দেশের মানুষ যাতে ভালো থাকতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘বিরোধী দল বলছে যে এই বাজেট তারা মানে না, এই গণবিরোধ বাজেট তারা মানে না। আপনাদের কাছে আমি প্রশ্ন রেখে যেতে চাই, যেই বাজেটে ট্যাক্স কমানো হয়, সেই বাজেটও বিরোধী দল মানে না। যেই বাজেটে মদের দাম বাড়ানো হয়, যেই বাজেটে সিগারেটের দাম বাড়ানো হয়, সেই বাজেটও বিরোধী দলের পছন্দ নয়। তাহলে এবার বিরোধী দলের উদ্দেশ্য বুঝতে পেরেছেন?’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘তাদের (বিরোধী দল) লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য দেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানো নয়। তাদের উদ্দেশ্য একটাই, সেটা হচ্ছে দেশের মধ্যে একটি অস্থিতিশীতা-অশান্তি তৈরি করা, মানুষকে বিভ্রান্ত করা।’

গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বাজেটে উৎপাদন ও কর্মসংস্থানের ওপর গুরুত্বারোপের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। কিন্তু কৃষির সঙ্গে সঙ্গে আমাদের শিল্প-বাণিজ্য গড়ে তুলতে হবে। শিল্প-বাণিজ্য যদি গড়ে উঠতে পারে, আমাদের সন্তানদের সেখানে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে, তারা চাকরিবাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারবে।

তিনি বলেন, সে কারণেই যেসব দ্রব্য দেশে উৎপাদিত হয়, একই জিনিস যেগুলো বিদেশ থেকে আসে, সেগুলোর ওপর আমরা ট্যাক্স বাড়িয়েছি, যাতে করে দেশে যে দ্রব্যটি উৎপাদিত হচ্ছে, সেই দ্রব্যটি যারা উৎপাদন করে, সেই শিল্প কারখানাটি যাতে সাপোর্ট পেতে পারে, তার ব্যবস্থা আমরা এই বাজেটের মধ্যে রেখেছি। এটিও বিরোধী দলের পছন্দ নয়।

উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, এদেশের মালিক আপনারা। দেশের মালিক কোনো রাজনৈতিক দল নয়, কোনো পরিবার নয়; দেশের মালিক হচ্ছে বাংলাদেশের ২০ কোটি জনগণ।

সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী কোদাল দিয়ে মাটি কেটে পাতালী খাল পুনঃখনন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন এবং খালের পাড়ে একটি চারা রোপণ করেন।

তিনি বলেন, এই দেশই আমাদের প্রথম ঠিকানা, এই দেশই শেষ ঠিকানা। সেজন্যই আমরা বলি, এই দেশকে গড়লে আমরাই ভালো থাকব, আমাদের সন্তানরাই শান্তিতে থাকতে পারবে। দেশকে যদি আমরা গড়তে না পারি তাহলে আমাদের সন্তানরা দুঃখ-কষ্টে থাকবে। কেউ কি চায় নিজের সন্তান কষ্টে থাকুক? কেউ আমরা চাই না। সেজন্যই আমরা একটি কথাই বলি—করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।

সরকারপ্রধান বলেন, বিএনপির রাজনীতি হচ্ছে মানুষের উন্নয়নের জন্য রাজনীতি। এরই ধারাবাহিকতায় সারা দেশে প্রত্যেকটি উপজেলায় ১০ হাজার করে কৃষিকার্ড দেওয়া হবে। কারণ, এই দেশের মানুষ স্বাবলম্বী না হলে দেশ কোনোদিন উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হবে না। ইতিমধ্যে বর্তমান সরকার কৃষিকার্ড, ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া শুরু করেছে।

তিনি বলেন, আমাদের দেশের জনসংখ্যার অর্ধেকই নারী। দেশনেত্রী খালেদা জিয়া মেয়েদের ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত বিনামূল্যে পড়াশোনার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। মেয়েরা শিক্ষিত ও স্বাবলম্বী না হলে দেশ এগোতে পারবে না। তাই বর্তমান সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, স্নাতক বা ডিগ্রি পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা সম্পূর্ণ ফ্রি করা হবে। শুধু তাই নয়, যারা ভালো ফলাফল করবে তাদের জন্য উপবৃত্তির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে বাজেটে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ মানুষ গ্রামে বাস করে। এসব গ্রামীণ পরিবারকে স্বাবলম্বী করতে মায়েদের হাতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ তুলে দেওয়া হবে।

এ সময় কোনো ষড়যন্ত্রে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য দেশের জনগণের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন কক্সবাজার সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল মাবুদ। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানিসহ সরকারের এবং প্রশাসনের নেতৃবৃন্দ ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটাই তার প্রথম কক্সবাজার সফর। সফরসূচি অনুযায়ী, পাতলী খালের খনন উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় জনগণের উদ্দেশে এক পথসভায় বক্তব্য দেন। পরে তিনি ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শন এবং মালুমঘাট সংরক্ষিত বনাঞ্চলে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।

এরপর তিনি পেকুয়ায় গিয়ে জুলাই আন্দোলনে চট্টগ্রামের প্রথম শহীদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত করবেন এবং তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। একই সফরে পেকুয়া পৌরসভা ও মাতামুহুরী উপজেলা প্রতিষ্ঠার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনেরও কথা রয়েছে।

বিকেলে চকরিয়া বাস টার্মিনাল এলাকায় স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জনসভা শেষে তিনি কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সড়ক ও সমুদ্র সৈকত এলাকা পরিদর্শন করবেন। সফরের শেষ পর্যায়ে হোটেল লং বিচের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সুধী সমাবেশে অংশ নেবেন।

সব কর্মসূচি শেষে রাত প্রায় ১০টার দিকে আকাশপথে ঢাকার উদ্দেশে কক্সবাজার ত্যাগ করার কথা রয়েছে তার।

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারজুড়ে জোরদার নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝেও দেখা দিয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। দীর্ঘদিন পর এমন উচ্চপর্যায়ের রাষ্ট্রীয় সফরে নতুন প্রাণচাঞ্চল্যে মুখর হয়ে উঠেছে দেশের প্রধান পর্যটন নগরী কক্সবাজার।