মোহাম্মদপুরে মা-মেয়ে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত সেই গৃহকর্মী গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজঃ রাজধানীর মোহাম্মদপুরের শাহজাহান রোডের একটি ফ্ল্যাটে মা ও মেয়েকে হত্যার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত গৃহকর্মী আয়েশাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

বুধবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুরে পুলিশের একটি সূত্র জানায়, বরিশালের নলছিটি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মোহাম্মদপুর থানার ওসি মেজবাহ উদ্দিন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেছেন, মোহাম্মদপুরে মা-মেয়েকে হত্যার ঘটনায় গৃহকর্মীকে ঝালকাঠি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এর আগে এই জোড়া খুনের ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন গৃহকর্মী আয়েশাকে শনাক্ত করেছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

এর আগে পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্র জানায়, তরুণীর পরিচয় শনাক্ত হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে তা গ্রেপ্তারের পর প্রকাশ করা হবে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদেই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে তদন্তসংশ্লিষ্টদের ধারণা।

গত সোমবার (৮ ডিসেম্বর) সকালে শাহজাহান রোডের ১৪ তলা ভবনের সপ্তম তলায় লায়লা আফরোজ (৪৮) ও তার মেয়ে নাফিসা লাওয়াল বিনতে আজিয়াকে (১৫) ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। এই জোড়া হত্যার ঘটনায় সোমবার রাতে নিহত লায়লা আফরোজের স্বামী আ জ ম আজিজুল ইসলাম মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, সোমবার সকাল ৭টার দিকে আজিজুল ইসলাম স্কুলে যাওয়ার পর স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। বাসায় ফিরে তিনি স্ত্রী ও মেয়ের লাশ দেখতে পান। এজাহারে আরও উল্লেখ আছে, বাসা থেকে একটি মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, স্বর্ণালংকার, নগদ টাকাসহ বেশ কিছু মূল্যবান জিনিসপত্র খোয়া গেছে।

ভবনের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, হত্যার পর এক নারী স্কুলড্রেস পরে কাঁধে ব্যাগ নিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছেন। চার দিন আগে আয়েশা পরিচয় দিয়ে গৃহকর্মীর কাজ নেওয়া প্রায় ২০ বছর বয়সী এই তরুণীকে জোড়া খুনের সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহ করছেন স্বজনেরা।

সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী, আয়েশা সেইদিন সকাল ৭টা ৫১ মিনিটে বাসায় প্রবেশ করেন এবং সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে নাফিসার স্কুলড্রেস পরে পালিয়ে যান।

তদন্তসূত্র বলছে, গৃহকর্মী নিজের আসল নাম ও ঠিকানা গোপন করেছিলেন এবং বাসার কাজে যোগ দেওয়ার সময় সঙ্গে কোনো মোবাইল ফোনও ছিল না। পরে যে ফোনটি নিয়ে গেছেন, সেটি বাসা থেকে বেরিয়েই বন্ধ করেন। আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার বেশির ভাগই অচল থাকায় তাকে শনাক্ত করতে ম্যানুয়ালভাবে বিভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়েছে।

সুরতহাল প্রতিবেদনে বলা হয়, লায়লা আফরোজের শরীরে প্রায় ৩০টি এবং নাফিসার দেহে ৪টি ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেজবাহ উদ্দিন জানিয়েছেন, হত্যার কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। ময়নাতদন্ত শেষে মঙ্গলবার সকালে মা-মেয়ের মরদেহ নাটোরে পৌরসভার দক্ষিণ বড়গাছায় নেওয়া হয়। জোহরের নামাজের পর জানাজা শেষে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।




আবু সাঈদ হত্যা মামলায় ট্রাইব্যুনালে আজ সাক্ষ্য দেবেন হাসনাত আবদুল্লাহ

ডেস্ক নিউজঃ জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ, রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলায় আজ নতুন সাক্ষ্য উপস্থাপন করা হবে। মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে দায়ের করা মামলাটিতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ আজ সাক্ষ্য দেবেন।

মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–২–এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চে এ সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে। প্যানেলের অন্য দুই বিচারক হলেন অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

প্রসিকিউশন জানায়, সকাল ১০টার পর ট্রাইব্যুনালে হাজির হতে পারেন হাসনাত আবদুল্লাহ। ২২তম সাক্ষী হিসেবে তিনি জবানবন্দি দেবেন। এই মামলায় সাবেক ভিসি হাসিবুর রশীদসহ মোট ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে। বর্তমানে এএসআই আমির হোসেন, সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী, রাফিউল হাসান রাসেল ও আনোয়ার পারভেজসহ ছয়জন গ্রেপ্তার আছেন।

গত ২৭ নভেম্বর টানা ১৮তম দিনের মতো ২১ নম্বর সাক্ষীর জেরা শেষ হয়। এরপরই আজকের দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল। যদিও ২৪ নভেম্বর পুলিশ বিভাগের এক কর্মকর্তার জবানবন্দি নেওয়ার কথা ছিল, বিশেষ কারণবশত তা হয়নি। এর আগে ২৩ নভেম্বর এক শিক্ষার্থী সাক্ষ্য দিয়ে জানান, তিনিই আহত সাঈদকে হাসপাতালে নেন, আর মৃত ঘোষণার পর পথ থেকে পুলিশ লাশটি নিয়ে যায়। এ ছাড়া পলাতক ২৪ আসামির স্টেট ডিফেন্সসহ গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আইনজীবীরা তাকে জেরা করেন।

১৮ নভেম্বর সাক্ষ্য দেন শিক্ষার্থী শান-এ রওনক বসুনিয়া। একইভাবে ১৬ নভেম্বর মিঠাপুকুর থানার ওসি মো. নূরে আলম সিদ্দিক ১৭তম সাক্ষী হিসেবে ১৬ জুলাইয়ের ঘটনার পূর্ণ বিবরণ তুলে ধরেন। ১৩ নভেম্বর সাক্ষ্য দেন নায়েক আবু বকর সিদ্দিক, আর ১২ নভেম্বর এসআই (সশস্ত্র) আশরাফুল ইসলাম জানান—রংপুর কোতোয়ালি জোনের তৎকালীন এসি আরিফুজ্জামান ও তাজহাট থানার ওসি রবিউল ইসলামের নির্দেশে গুলিতে সাঈদ নিহত হন। ১১ নভেম্বর কারমাইকেল কলেজের শিক্ষার্থী ইমরান আহমেদ ঘটনাস্থলের প্রত্যক্ষ বর্ণনা দেন। ১০ নভেম্বর আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী আকিব রেজা খানও হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তুলে ধরেন।

৪ নভেম্বর, ২১ ও ১৩ অক্টোবর সাক্ষী হাজির না হওয়ায় তিনবার সাক্ষ্যগ্রহণ পিছিয়ে যায়। ৬ অক্টোবর নবম দিনের সাক্ষ্যগ্রহণে দুই উপপরিদর্শক—এসআই রফিক ও এসআই রায়হানুল রাজ দুলাল—জবানবন্দি দেন। এর আগে ২৮ আগস্ট প্রথম দিন শহীদ সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন ও সাংবাদিক মঈনুল হক সাক্ষ্য দেন।

চলতি বছরের ২৭ আগস্ট সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। এর আগে ৬ আগস্ট ৩০ আসামির বিরুদ্ধে ফরমাল চার্জ গঠন করা হয়। তবে সাবেক ভিসিসহ ২৪ আসামি এখনও পলাতক। তাদের পক্ষে ২২ জুলাই রাষ্ট্রীয় ব্যয়ে চার আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়।

৩০ জুলাই পলাতকদের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীরা শুনানি করেন; এর মধ্যে পাঁচজনের পক্ষে লড়েন সুজাদ মিয়া এবং ছাত্রলীগের নিষিদ্ধ ঘোষিত নেতাদের পক্ষে ছিলেন মামুনুর রশীদ। অন্যদিকে ইশরাত জাহান ও শহিদুল ইসলামও শুনানিতে অংশ নেন।

২৯ জুলাই তিন গ্রেপ্তার আসামির পক্ষে শুনানি হয়—শরিফুলের পক্ষে আমিনুল গণি টিটো, কনস্টেবল সুজনের পক্ষে আজিজুর রহমান দুলু এবং ইমরানের পক্ষে সালাহউদ্দিন রিগ্যান বক্তব্য রাখেন। এর আগে ২৮ জুলাই অভিযোগ গঠনের ওপর প্রসিকিউশনের শুনানি শেষ হয়। ৩০ জুন চার্জ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল এবং ২৪ জুন তদন্ত সংস্থা প্রতিবেদন জমা দেয়। মামলায় মোট সাক্ষী ৬২ জন।




বিজয় দিবসে টিকিট ছাড়াই ঘুরে দেখা যাবে জাদুঘর

ডেস্ক নিউজঃ রাজধানীসহ সারাদেশের সব সরকারি ও বেসরকারি অথবা স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার জাদুঘরে আগামী ১৬ ডিসেম্বর সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিনা টিকিটে জনসাধারণ প্রবেশ করতে পারবে। পাশাপাশি দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি বিনোদনমূলক স্থান শিশুদের জন্য সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উন্মুক্ত রাখা ও বিনা টিকেটে প্রবেশের ব্যবস্থা থাকবে।

মহান বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে সোমবার (৮ ডিসেম্বর) বিকেলে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম। এতে অংশ নেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব সিরাজউদ্দিন মিয়া, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গণি, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হক, প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।




শীতের অনুভূতি বাড়িয়ে ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ঢাকার সকাল

ডেস্ক নিউজঃ রাজধানী ঢাকায় শীতের অনুভূতি বাড়ছে। মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর তাপমাত্রা নেমে এসেছে ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা গত কয়েকদিনের তুলনায় কিছুটা বেশি শীতল আবহাওয়া তৈরি করেছে।  

তবে দিনের বাকি সময়ের আবহাওয়া শুষ্কই থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত আজ সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ৬ ঘণ্টার জন্য ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আবহাওয়া পূর্বাভাসে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে, তবে কোথাও বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা নেই। এসময় উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬ থেকে ১২ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রায়ও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

তথ্য অনুযায়ী, ঢাকায় আজ সকাল ৬টায় তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ১৭.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সকাল ৬টায় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৮৯ শতাংশ। গতকাল ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং গত ২৪ ঘণ্টায় কোনো বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়নি।

অন্যদিকে, সোমবার রাতে আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে প্রকাশিত পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, আজ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকলেও রাতের তাপমাত্রা কমতে পারে।




৪ নারীর হাতে বেগম রোকেয়া পদক তুলে দিলেন প্রধান উপদেষ্টা

ডেস্ক নিউজঃ প্রতি বছরের মতো এবারও নারীশিক্ষা, নারী অধিকার, মানবাধিকার এবং নারী জাগরণে অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ চার বিশিষ্ট নারীকে সম্মানিত করা হলো রোকেয়া পদকে।

মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস তাদের হাতে পদক তুলে দেন।

এবার যারা পদক পেলেন তারা হলেন– নারীশিক্ষা শ্রেণিতে (গবেষণা) রুভানা রাকিব, নারী অধিকার শ্রেণিতে (শ্রম অধিকার) কল্পনা আক্তার, মানবাধিকার শ্রেণিতে নাবিলা ইদ্রিস ও নারী জাগরণ শ্রেণিতে (ক্রীড়া) ঋতুপর্ণা চাকমা।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি পালন করছে। রোকেয়া দিবস উপলক্ষে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় নানা কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে।




বিজয় দিবসে সর্বাধিক পতাকা হাতে প্যারাস্যুটিং করে বিশ্ব রেকর্ড গড়ার প্রস্তুতি

ডেস্ক নিউজঃ ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উদ্‌যাপন উপলক্ষে ব্যাপক আকারে বিশেষ কর্মসূচির প্রস্তুতি চলছে। যথাযথ মর্যাদায় দিবসটি পালনের জন্য অন্যান্য আয়োজনের পাশাপাশি এবার সর্বাধিক পতাকা উড়িয়ে প্যারাস্যুটিং করে বিশ্ব রেকর্ড গড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। এতে বলা হয়, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনীর যৌথ উদ্যোগে স্বাধীনতার ৫৪ বছর উদ্‌যাপনে ৫৪ জন প্যারাট্রুপার পতাকা হাতে স্কাই ডাইভিং করবেন। এটিই হবে বিশ্বের বুকে সর্বাধিক পতাকা হাতে প্যারাস্যুটিং, যা গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়বে।

মহান বিজয় দিবস ২০২৫ যথাযোগ্য মর্যাদায় উদ্‌যাপন উপলক্ষে গতকাল সোমবার বিকেলে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক–ই–আজম।

সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান, প্রধান উপদেষ্টার মুখ্যসচিব সিরাজউদ্দিন মিয়া, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হক, প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব-ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

সভায় অংশগ্রহণকারীরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ব্যাপক আকারে বিশেষ বিশেষ কর্মসূচির প্রস্তুতির বিষয়ে আলোচনা করেন।

বিজয় দিবসের দিন বেলা ১১টা থেকে ঢাকার তেজগাঁওয়ে পুরাতন বিমানবন্দরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী পৃথকভাবে ফ্লাই পাস্ট মহড়া পরিচালনা করবে। চলবে বিজয় দিবসের বিশেষ ব্যান্ড শো।

বেলা ১১টা ৪০ মিনিট থেকে ‘টিম বাংলাদেশ’-এর ৫৪ জন প্যারাট্রুপার স্বাধীনতার ৫৪ বছর উদ্‌যাপনে পতাকা হাতে প্যারাস্যুটিং করবেন। জনসাধারণের জন্য এ বিশেষ আয়োজন উন্মুক্ত থাকবে।

দেশের অন্যান্য শহরেও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী ফ্লাই পাস্ট মহড়া পরিচালনা করবে। সারা দেশে সশস্ত্র বাহিনীর পাশাপাশি পুলিশ, বিজিবি, আনসার বাহিনী ব্যান্ড শোয়ের আয়োজন করবে। প্রতিটি আয়োজন জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে গত বছরের মতো এবারও দেশের সব জেলা-উপজেলায় তিন দিনব্যাপী বিজয়মেলা অনুষ্ঠিত হবে।

পাশাপাশি জেলা-উপজেলা পর্যায়ে শিশুদের অংশগ্রহণে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক রচনা, আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়।

অপর দিকে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ১৫ ডিসেম্বর বেলা তিনটায় ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অ্যাক্রোবেটিক শো হবে। সন্ধ্যা ছয়টায় হবে যাত্রাপালা ‘জেনারেল ওসমানী’।

১৬ ডিসেম্বর বেলা তিনটা থেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পরিবেশিত হবে বিজয় দিবসের গান। পাশাপাশি দেশের ৬৪ জেলায় একযোগে স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্রের গান পরিবেশন করবেন নতুন প্রজন্মের শিল্পীরা।

গতকালের বৈঠকে মহান বিজয় দিবস উদ্‌যাপনের প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা শেষে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক–ই–আজম। তিনি বলেন, বিজয় দিবস বাংলাদেশের গৌরবময় দিন। এ বছর বিজয় উদ্‌যাপনে ধর্ম, বর্ণ, বয়স, জাতি, শ্রেণিনির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ব্যাপক আকারে প্রস্তুতি চলছে। এবার পুরো জাতি একসঙ্গে বিজয়ের উৎসবে অংশ নেবে।

সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, ‘চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে অনুপ্রেরণাদায়ী বেশির ভাগ গানই ছিল স্বাধীনতাযুদ্ধের সময়ের। আমি নিশ্চিত, এটা অর্গানিকভাবেই হয়েছে। এটাই বলে দেয় এই প্রজন্মের কাছে দেশ, দেশের অস্তিত্ব কতটা গুরুত্বপূর্ণ। এবারের বিজয় দিবসে দেশব্যাপী বিজয়মেলা, এই প্রজন্মের শিল্পীদের কণ্ঠে স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্রের গান, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যাত্রাপালা “জেনারেল ওসমানী”, কনসার্ট ও পুরাতন এয়ারপোর্টে এয়ার শো এবং ৫৪টা পতাকা নিয়ে ৫৪ জন প্যারাট্রুপারের জাম্প—এসব মিলিয়ে নতুন প্রজন্ম এক স্মরণীয় বিজয় দিবস উদ্‌যাপন করতে যাচ্ছে। আশা করছি, এবারের বিজয় উদ্‌যাপন অতীতের সব উদ্‌যাপনকে ছাড়িয়ে যাবে।’

দিবসটি উপলক্ষে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে তথ্য মন্ত্রণালয়। বিধি অনুযায়ী, এদিন সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, বেসরকারি ভবনসহ বিদেশে অবস্থানরত দূতাবাস-মিশনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। বিভিন্ন ভবন ও স্থাপনায় আলোকসজ্জা করা হবে। প্রতিবছরের মতো এবারেও ৩১ বার তোপধ্বনি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বিশেষ অনুষ্ঠান, জেলা-উপজেলায় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানে সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হবে।

এ ছাড়া চট্টগ্রাম, খুলনা, মোংলা ও পায়রা বন্দর, ঢাকার সদরঘাট, পাগলা, বরিশালসহ বিআইডব্লিউটিসির ঘাটে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও বাংলাদেশ কোস্টগার্ড একক বা যৌথভাবে জাহাজগুলো সকাল নয়টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত জনসাধারণের দর্শনের জন্য উন্মুক্ত রাখবে।

ঢাকাসহ দেশের সিনেমা হলগুলোতে ছাত্রছাত্রীদের বিনা টিকিটে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শনী এবং মিলনায়তন ও উন্মুক্ত স্থানে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে।

সরকারি, বেসরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার জাদুঘরগুলো সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিনা টিকিটে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে।

দেশের সব সরকারি-বেসরকারি বিনোদনমূলক স্থান শিশুদের জন্য সকাল-সন্ধ্যা উন্মুক্ত রাখা ও বিনা টিকিটে প্রবেশের ব্যবস্থা থাকবে।

সারা দেশে মসজিদে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের সুস্বাস্থ্য কামনা করে বিশেষ মোনাজাত হবে। মন্দির, গির্জা, প্যাগোডা ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে হবে বিশেষ প্রার্থনা।

দেশের সব হাসপাতাল, কারাগার, বৃদ্ধাশ্রম, এতিমখানা, পথশিশু পুনর্বাসনকেন্দ্র, প্রতিবন্ধী কল্যাণকেন্দ্র, ডে–কেয়ার, শিশুবিকাশ কেন্দ্র, শিশু পরিবার ও ভবঘুরে প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রীতিভোজের আয়োজন থাকবে। বাসস




হত্যা বন্ধে আমার কাছে কোনো রকম ম্যাজিক নেই: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

ডেস্ক নিউজঃ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, হত্যা বন্ধে আমার কাছে কোনো ম্যাজিক বা সুইচ অন-অফের মতো কিছু নেই। এ রকম কিছু থাকলে সব বন্ধ করে দিতাম। 

সোমবার (৮ অক্টোবর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আইনশৃঙ্খলাসংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এ কথা বলেন উপদেষ্টা।

রংপুরে নিজ বাসায় মুক্তিযোদ্ধা ও তার স্ত্রী হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে এক সাংবাদিক জানতে চান, নির্বাচনের আগে এ ধরনের হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে তিনি কীভাবে দেখেন। উত্তরে উপদেষ্টা বলেন, ‘নির্বাচন বলে নয়, নির্বাচনের আগেও এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। এটা অস্বীকার করার সুযোগ নেই।’

উপদেষ্টা বলেন, ‘নির্বাচনের আগে এগুলো সব বন্ধ হয়ে যাবে তা-ও আমি বলতে পারি না। যদি আমার কাছে কোনো ম্যাজিক থাকত বা সুইচ লাইট অন–অফের মতো কিছু থাকত, আমি বন্ধ করে দিতাম। যে লাইট অফ এখন আর কোনো কিলিং হবে না। আমার কাছে এ রকম কোনো ম্যাজিক নেই।’

উপদেষ্টা বলেন, রংপুরে যে দুজনকে হত্যা করা হয়েছে, তাদের এক সন্তান পুলিশে আরেকজন র‍্যাবে কর্মরত। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে হত্যাকারীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জাতীয় নির্বাচনে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে বিদ্যুতের ব্যবস্থা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান উপদেষ্টা। যদি কোথাও বিদ্যুৎ না থাকে, সেখানে বিকল্প ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে বলেন তিনি।

নির্বাচনের প্রস্তুতির বিষয়ে আরেক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, ‘নির্বাচনের প্রস্তুতি ভালো। সব বাহিনী প্রশিক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা তাদের প্রশিক্ষণের মান দেখতে যাব। জানুয়ারির মধ্যে প্রশিক্ষণ শেষ হবে। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য অবাধ উৎসবমুখর নির্বাচনের জন্য যত ধরনের প্রস্তুতি দরকার তাই নিচ্ছি।’

নির্বাচন নিয়ে বেশির ভাগ মানুষের মধ্যে সন্দেহ রয়েছে এ বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, ‘এটা দূর করতে পারছি না শুধু আপনাদের (গণমাধ্যম) জন্য। আপনারা খালি বলবেন যে এই নির্বাচন হবে। আপনারা প্রচার করে থাকবেন’। উপদেষ্টা বলেন, ‘নির্বাচনের জন্য বডি ক্যামেরা কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনে বডি ক্যামেরা থাকবে।’




পেঁয়াজের দাম নিয়ে কারসাজি করলে চাকরি থাকবে না: উপদেষ্টা

ডেস্ক নিউজঃ পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির পেছনে কারসাজিতে কৃষি কর্মকর্তাদের যুক্ত থাকার প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কৃষি ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। 

তিনি বলেন, যারা কারসাজি করবেন তাদের চাকরি থাকবে না। আমার আমলে যত শাস্তি হয়েছে, এর আগে কখনও এতটা হয়নি। কৃষি কর্মকর্তাদের যদি কোনও যোগসাজশ থাকে, তাহলে তারা ধরা খাবেন।

রবিবার (৭ ডিসেম্বর) বিকেলে সচিবালয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, গতকাল হঠাৎ পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেছে। এ কারসাজি যারা করছেন, সেই চক্রটিকে খুঁজে বের করতে হবে। অনেকেই পেঁয়াজ আমদানি করতে পাগল হয়ে গেছেন। কিন্তু আমাদের গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ প্রায় ওঠানো হয়ে গেছে। মুড়িঘাটা পেঁয়াজও উঠানো শুরু হয়েছে। এই মুহূর্তে পেঁয়াজের কোনও সংকটও নেই। বাজারে প্রচুর পেঁয়াজ আছে। কিন্তু দাম বেড়ে গেছে। ভোক্তাদের কষ্ট পেতে হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল রাখতেই আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পেঁয়াজের দাম বাড়ানোর কারসাজিতে কৃষি কর্মকর্তাদের যুক্ত থাকার প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এসপিদের মতো কৃষি কর্মকর্তাদেরও লটারিতে বদলী করা হবে বলে জানান তিনি।

আলুচাষিরা খুবই ভোগান্তি পেয়েছে জানিয়ে তাদের ভর্তুকি দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। উপদেষ্টা বলেন, আমাদের আলু রপ্তানি হয়। কিন্তু আলুর মান ভালো না। কাজেই যে আলুতে চিপস হয়, সেটা আমাদের এখানে কম উৎপাদন হয়। কাজেই এখন গবেষণা করে আলুর জাত উন্নত করতে হবে। যাতে এটা বিভিন্নভাবে ব্যবহার করতে হবে।




মোবাইল ব্যবসায়ীদের আন্দোলন: বিটিআরসি ঘেরাও, অবরুদ্ধ চেয়ারম্যানসহ কর্মকর্তারা

ডেস্ক নিউজঃ ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্ট্রার (এনইআইআর) সংস্কারসহ কয়েকটি দাবিতে কঠোর কর্মসূচিতে নেমেছেন মোবাইল ব্যবসায়ীরা। রোববার (৭ ডিসেম্বর) সকাল ১০টার দিকে ‘বাংলাদেশ মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি’-র ব্যানারে শত শত ব্যবসায়ী আগারগাঁওয়ে বিটিআরসি ভবনের সামনে জড়ো হয়ে অবস্থান নেন। 

অবস্থান কর্মসূচির কারণে সড়কের এক পাশের যান চলাচল বন্ধ হয়ে তীব্র যানজট ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়। ব্যবসায়ীরা বিটিআরসি ঘেরাও করে চেয়ারম্যানসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ভবনের ভেতরে অবরুদ্ধ করে রাখেন।

রোববার (৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় আগারগাঁও মোড় থেকে বিটিআরসি ভবন পর্যন্ত অন্তত চারটি স্থানে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ জানান মোবাইল ব্যবসায়ীরা।

মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ (এমবিসিবি)-এর সেক্রেটারি আবু সায়ীদ পিয়াস বলেন, আমরা বহুবার সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বৈঠকের জন্য অনুরোধ করেছি। কিন্তু একবারও আমাদের ডাকা হয়নি। আলোচনার সুযোগ পেলে সমাধান সম্ভব ছিল। এখন পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গেছে। সারা দেশের খুচরা ব্যবসায়ীরা দোকান বন্ধ রেখেছেন।

ব্যবসায়ীদের মূল দাবির মধ্যে রয়েছে— এনইআইআর সংস্কার, সিন্ডিকেট প্রথা বাতিল এবং মোবাইল ফোন আমদানির সুযোগ উন্মুক্ত করা। তাদের অভিযোগ, এনইআইআর পুরোপুরি বাস্তবায়ন হলে লাখো খুচরা ব্যবসায়ী ও তাদের পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হবে। নতুন নিয়মে একটি বিশেষ গোষ্ঠী লাভবান হবে এবং অতিরিক্ত করের চাপ গ্রাহকের ওপর পড়বে, ফলে মোবাইল ফোনের দামও বেড়ে যাবে।

এমবিসিবির যমুনা ফিউচার পার্ক শাখার সভাপতি হুমায়ুন কবীর বলেন, এনইআইআর পূর্ণমাত্রায় বাস্তবায়িত হলে লক্ষাধিক ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। নতুন এই ব্যবস্থায় বিশেষ একটি গোষ্ঠী লাভবান হবে, আর বাড়তি কর ও জটিল প্রক্রিয়ার কারণে গ্রাহক পর্যায়ে মোবাইল ফোনের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে।

তিনি বলেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

তেজগাঁও ট্রাফিক বিভাগের (শেরে-বাংলা নগর জোন) সহকারী কমিশনার (এসি) জাকির হোসেন বলেন, বিটিআরসি ভবনের সামনে মোবাইল ব্যবসায়ীদের সড়ক অবরোধের কারণে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। আমরা ডাইভারশন দিয়ে অন্য রাস্তায় যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করেছি। আগারগাঁও একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। এটি বন্ধ থাকায় অন্য রাস্তায় ব্যাপক চাপ পড়েছে। বিভিন্ন সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। আমরা যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছি।

এর আগে গত ৩০ নভেম্বর সকাল ১০টায় পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে দোকান বন্ধ রেখে রাজধানীর কারওয়ান বাজার-পান্থপথ এলাকায় জড়ো হয়ে মানববন্ধন করেছিলেন বিভিন্ন শপিং মলের মোবাইল ব্যবসায়ী ও কর্মচারীরা।

উল্লেখ্য, সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী টেলিযোগাযোগ খাতে নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং অনিবন্ধিত মোবাইল ফোনের ব্যবহার রোধ করতে আগামী ১৬ ডিসেম্বর থেকে এনইআইআর ব্যবস্থা চালু হওয়ার কথা রয়েছে। এর ফলে দেশের মোবাইল নেটওয়ার্কে নিবন্ধনবিহীন, চুরি হওয়া বা অনুমোদনহীন আমদানি করা মোবাইল ফোনের ব্যবহার বন্ধ হয়ে যাবে। এর ঠিক আগেই বড় ধরনের আন্দোলনে নামলেন ব্যবসায়ীরা।




নির্বাচন ও গণভোটের প্রস্তুতি সম্পর্কে প্রধান উপদেষ্টাকে জানালেন সিইসি

ডেস্ক নিউজঃ আগামী সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রস্তুতি সম্পর্কে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে অবহিত করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। 

রোববার (৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কমিশনারগণ রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎকালে নির্বাচন আয়োজনের অগ্রগতি সম্পর্কে জানান।

বৈঠকে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, তাহমিদা আহমদ, মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এবং নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

অপরদিকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান এবং প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে সিইসি নাসির উদ্দিন জানান, নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে সব ধরনের প্রস্তুতি সঠিক ও সুন্দরভাবে এগোচ্ছে এবং ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচন ও একই দিনে গণভোট আয়োজনের জন্য কমিশন সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

প্রস্তুতিকালে ইসিকে পূর্ণ সহযোগিতা প্রদানের জন্য প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানান সিইসি ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনাররা। নির্বাচনের প্রস্তুতিকালে সর্বাত্মক সহযোগিতা করায় তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সেনাবাহিনীর সদস্যদেরও প্রধান উপদেষ্টার মাধ্যমে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে নাগরিকরা নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে নিজেদের সম্পৃক্ত করেছেন, যা দেশে নির্বাচনী আমেজ সৃষ্টি করেছে।

এ সময় নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে নির্বাচন কমিশনকে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে সরকার। জাতির জন্য প্রতীক্ষিত এই নির্বাচনে আপনারা (ইসি) চালকের আসনে আছেন। আমাদেরকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতেই হবে।’

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জাতিকে একটি সুন্দর নির্বাচন দিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতিকে আমরা ইতিহাসের সেরা নির্বাচন উপহার প্রত‍্যয়ে এগিয়ে চলছি।