চলতি সপ্তাহেই জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা: ইসি সানাউল্লাহ

ডেস্ক নিউজঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল চলতি সপ্তাহেই ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। রোববার (৭ ডিসেম্বর) নির্বাচন কমিশনের পর্যালোচনা সভা শেষে তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

সানাউল্লাহ জানান, তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে এবং এ বিষয়ে সোমবার বিটিভিকে রেকর্ডিংয়ের জন্য আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হবে। তফসিল ঘোষণার দিন সন্ধ্যায় মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় সভাও অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি আরও বলেন, তফসিল ঘোষণার পর থেকেই প্রতিটি উপজেলায় দুইজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। ভোটের পাঁচ দিন আগে ম্যাজিস্ট্রেটের সংখ্যা বাড়ানো হবে। পাশাপাশি ভোটের আগের রাতে ব্যালট পেপার সকল ভোটকেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হবে।

নির্বাচন কমিশনার জানান, নির্বাচনী কাজে সরকারি, আধা-সরকারি এবং সরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা নিয়োগ করা হবে। তবে বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তাদের এবার দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে না।

এ ছাড়া তফসিল ঘোষণার পর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সব নির্বাচনী পোস্টার অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হবে, না মানলে নেওয়া হবে কঠোর ব্যবস্থা।

তিনি আরও জানান, প্রবাসী ভোটারদের জন্য ব্যালট ছাপানোও শুরু হয়েছে।




কওমী মাদ্রাসার স্বীকৃত ডিগ্রিধারী নিকাহ রেজিস্ট্রার হতে পারবে: আসিফ নজরুল

ডেস্ক নিউজঃ এখন থেকে কওমী মাদ্রাসার স্বীকৃত ডিগ্রিধারীরা নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজী) হতে পারবেন বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। 

রোববার (৭ ডিসেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন।

পোস্টে আসিফ নজরুল বলেন,‘এখন থেকে কওমী মাদ্রাসার স্বীকৃত ডিগ্রিধারীরা নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজী) হতে পারবেন। আগে এই সুযোগ আলিম সনদধারী ব্যক্তিদের জন্য সীমাবদ্ধ ছিলো। আইন মন্ত্রণালয় এই সুযোগ বাড়ানোর জন্য আইন সংশোধন করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজ থেকে কওমী মাদ্রাসার স্বীকৃত বোর্ড হতে দাওরায়ে হাদিস সনদধারী ব্যক্তিরাও এই পদে আবেদন করতে পারবেন।’




রায়েরবাজার থেকে ১১৪ জুলাই শহিদের মরদেহ উত্তোলন করছে সিআইডি

ডেস্ক নিউজঃ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ ১১৪ জনের পরিচয় শনাক্তে রায়েরবাজার কবরস্থান থেকে মরদেহ উত্তোলন শুরু করেছে সিআইডি। রোববার (৭ ডিসেম্বর) সকাল থেকে মরদেহ উত্তোলনের কাজ শুরু করেছে সংস্থাটি। মরদেহগুলো তোলার পর ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ নমুনা নিয়ে আবার যথাযথ প্রক্রিয়ায় দাফন করা হবে।

জানা যায়, যে স্থানে শহিদদের দাফন করা হয়েছে সেই জায়গা সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে বিশেষভাবে মার্বেল পাথর ও টাইলস দিয়ে ঘিরে দেয়া হয়েছে।

সিআইডির গণমাধ্যম শাখার বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান বলেন, ‘মরদেহ উত্তোলনের জন্য আমরা অনেক দিন ধরেই প্রস্তুতি নিচ্ছি। এজন্য আমাদের ক্রাইম সিন ইউনিট মাঝেমধ্যেই সেখানে গেছে।’

এর আগে, গত ৪ আগস্ট মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাহিদুল ইসলামের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান ১১৪টি মরদেহ উত্তোলনের নির্দেশ দেন।

আদালতের আদেশ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে নিহত অজ্ঞাত ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্তের জন্যই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। গত বছর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় নিহত ১১৪ জন শহিদকে অজ্ঞাত পরিচয়ে মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজার কবরস্থানে দাফন করা হয়।




কোথায় থাকবেন নতুন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজঃ জাতীয় সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বাসভবনকে একীভূত করে দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে রূপ দেওয়ার বিষয়ে প্রস্তাব দিয়েছিল সরকারের একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি। যদিও এই কমিটি শুরুতে বলেছিল, রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা এবং হেয়ার রোডের ২৪ ও ২৫ নম্বর বাংলোবাড়িকে সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের জন্য বিবেচনা করা যেতে পারে। কিন্তু এই দুটি প্রস্তাবের মধ্যে এখনো কোনোটির বিষয়েই সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের বিষয়ে পরবর্তী সরকার সিদ্ধান্ত নেবে এমন আলোচনা হচ্ছে বলে জানা গেছে। গণপূর্ত অধিদপ্তরের একজন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জানান, এ ব্যাপারে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

সর্বশেষ আওয়ামী লীগের শাসনামলে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ছিল গণভবন। গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতন হয়। সেদিন বিক্ষুব্ধ জনতা গণভবনে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর করে। এর এক মাস পর গত বছরের ৫ সেপ্টেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে গণভবনকে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ করার সিদ্ধান্ত হয়। পিলখানা হত্যাকাণ্ড, গুম-খুন-আয়নাঘর, ভোট ডাকাতিসহ শেখ হাসিনার ১৬ বছরের দুঃশাসনের সব গল্পই ঐতিহাসিক তথ্য আকারে জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে উপস্থাপন করা হবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়। প্রসঙ্গত, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা।

সরকারের সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, গত ৭ জুলাই নতুন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন নির্ধারণের বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে উচ্চ পর্যায়ের একটি কমিটি করে দেওয়া হয়। নতুন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন কোথায় হবে, সে নিয়ে আলোচনায় শুরু হয়। শুরুতে যমুনা এবং হেয়ার রোডের কিছু বাংলো ব্যবহারের পরিকল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সংসদ চত্বরের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বাসভবন একীভূত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ঐ কমিটির সদস্যরা গত সেপ্টেম্বর মাসে ভবন দুইটি পরিদর্শনও করেন। কিন্তু নানামুখী জটিলতায় জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন নির্মাণের উদ্যোগ থেকে সরকার সরে এসেছে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন তৈরি করা হলে লুই আই কানের নকশার লঙ্ঘন হবে। এরপর স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বাড়ি দুটিকে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন করা হলে নতুন সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার কোথায় থাকবেন, সেই প্রশ্ন ওঠে। সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন। এরপর ঐ মাস কিংবা মার্চ মাসে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বাসভবনের প্রয়োজন হবে। কিন্তু এই স্বল্প সময়ে সেই ব্যবস্থা করা কঠিন হবে। শুধু তা-ই নয়, নতুন বাড়িতে প্রধানমন্ত্রী থাকলেই শুধু হবে না, তার দপ্তরসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও নিরাপত্তাকর্মীরা কোথায় থাকবেন, সে প্রশ্নও আসে। তাদের জন্যও নতুন করে বাড়ি বানাতে হবে। এমন জায়গা কোথায় পাওয়া যাবে, সেটাও বড় প্রশ্ন।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর জন্য বাসভবন নির্মাণ করতে হলে এ সংক্রান্ত প্রকল্প গ্রহণ করতে হয়। এই প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে গণপূর্ত মন্ত্রণালয় বা সংসদ সচিবালয়কে। প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থ বরাদ্দ থাকতে হবে। বরাদ্দ নিশ্চিত করবে অর্থ মন্ত্রণালয়। কিন্তু চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য সরকারের নেওয়া মূল এডিপিতে (বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি) এ ধরনের কোনো প্রকল্প গ্রহণ করা হয়নি। অন্যদিকে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য নেওয়া এডিপিতেও এ ধরনের কোনো প্রকল্প পাওয়া যায়নি। আবার জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকে নেওয়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এডিপিতেও এ সংক্রান্ত কোনো প্রকল্প নেই। ফলে আপাতত সংসদ ভবন এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর জন্য নতুন বাসভবন নির্মাণের কাজ শুরু হচ্ছে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, আগামী সরকারের প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন কোথায় হবে, সেটি ঠিক করবে আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে আসা নতুন সরকার। বিষয়টি সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা দেখভাল করছেন।




টানা ৩ দিনের ছুটি পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা

ডেস্ক নিউজঃ চলতি মাসে সরকারি চাকরিজীবীরা পাচ্ছেন টানা তিন দিনের ছুটি। এ বছর চাকরিজীবীদের জন্য বাকি রয়েছে দুটি সাধারণ ছুটি। এর মধ্যে ডিসেম্বরের ১৬ তারিখ (মঙ্গলবার) বিজয় দিবস এবং ২৫ ডিসেম্বর (বৃহস্পতিবার) যিশুখ্রিস্টের জন্মদিন বা বড়দিনের ছুটি নির্ধারিত আছে।

বড়দিনের ছুটি বৃহস্পতিবার পড়ায় এর সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটি শুক্র ও শনিবার যুক্ত হয়ে সরকারি কর্মজীবীরা উপভোগ করতে পারবেন টানা তিন দিনের ছুটি।

২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ। গত ৬ অক্টোবর বিকালে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।

প্রেস সচিব জানান, আগামী বছরের সরকারি ছুটির তালিকায় মোট ছুটি ২৮ দিন থাকলেও এর মধ্যে ৯ দিন শুক্র ও শনিবারের সঙ্গে মিলে যাওয়ায় কার্যত মূল ছুটি থাকবে ১৯ দিন।

তিনি আরও জানান, ২০২৬ সালের ছুটিগুলোর মধ্যে নির্বাহী আদেশে এবং সাধারণ ছুটি মিলিয়ে মোট ২৮ দিন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা উপদেষ্টা পরিষদ সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত হয়েছে।




খালেদা জিয়ার অবস্থা ‘অপরিবর্তিত’

ডেস্ক নিউজঃ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা মোটাদাগে ‘অপরিবর্তিত’ রয়েছে বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা।

মেডিকেল বোর্ডের একাধিক চিকিৎসক জানিয়েছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন এখনো বিমানযাত্রার সক্ষমতা অর্জন করেনি। সেজন্যই লন্ডনযাত্রা বিলম্ব হচ্ছে।

তবে এক চিকিৎসক এদিন দুপুরে সংবাদমাধ্যমকে জানান, “অনেকগুলো প্যারামিটার পজেটিভ সাইন দিচ্ছে, তবে অবস্থার উন্নতি হয়েছে এমনটা এখনই বলা যাচ্ছে না। আমরা আশা করছি, পজেটিভ সাইন অব্যাহত থাকলে উনি ৯-১০ তারিখের (ডিসেম্বর) দিকে ফ্লাই করার সক্ষমতা অর্জন করতেও পারেন।”

চিকিৎসকরা বলছেন, গত দুই দিনে কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে, সেসব প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হচ্ছে। শুক্রবার দুই দফা মেডিকেল বোর্ড বৈঠক করেছে। প্রতিদিনই খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার নিয়মিত প্রতিবেদনগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

এদিকে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে মেডিকেল বোর্ড সবুজ সংকেত দিলেই কেবল এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ঢাকায় আসবে বলে বিএনপির তরফে জানানো হয়েছে।

খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ড উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে যুক্তরাজ্যে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত দেওয়ার পর জানানো হয়, গত জানুয়ারির মত এবারও কাতারের আমিরের বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে লন্ডনে পাঠানো হবে। বৃহস্পতিবার বিএনপির তরফে বলা হয়েছিল, সেই এয়ার অ্যাম্বুলেন্স শুক্রবার সকালে তাকে নিয়ে লন্ডনের উদ্দেশে যাত্রা করবে।

সেদিনই জানানো হয়, খালেদা জিয়ার বড় পুত্রবধূ জুবাইদা রহমান ঢাকায় আসার পরে তিনিও এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে লন্ডনে যাবেন শাশুড়ির সঙ্গে।

গত ২৩ নভেম্বর থেকে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে মেডিকেল বোর্ড খালেদা জিয়ার চিকিৎসা দিচ্ছেন। এই মেডিকেল বোর্ডে তারেক রহমানের সহধর্মিনী ডা. জুবাইদা রহমানও সদস্য হিসেবে রয়েছেন। তিনি লন্ডন থেকে শুক্রবার ঢাকায় নেমেই শাশুড়িকে দেখতে এভারকেয়ার হাসপাতালে যান।




এবার খালেদা জিয়ার জন্য জার্মানির এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করেছে কাতার সরকার

ডেস্ক নিউজঃ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে নিতে কাতার আমিরের বহরের এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি ঢাকায় আসছে না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে। তার বদলে জার্মানির নুরেমবার্গভিত্তিক এফএআই এভিয়েশন গ্রুপের একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করেছে কাতার সরকার। কোম্পানির ওয়েবসাইটে একে অত্যাধুনিক চিকিৎসা সুবিধাসমৃদ্ধ উড়োজাহাজ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

বোম্বার্ডিয়ার চ্যালেঞ্জার (সিএল-৬০) সিরিজের দুই ইঞ্জিনের এই জেট ২০১৮ সালে নির্মিত। এতে অ্যাম্বুলেন্স ব্যবস্থার সব আধুনিক সুবিধা সংযোজন করা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী উড়োজাহাজটি নুরেমবার্গ থেকে ঢাকায় আসবে এবং পথে জ্বালানি নিতে বিরতি দেবে।

এফএআই এভিয়েশনের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, তাদের এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ভেন্টিলেটর, মনিটরিং ইউনিট, ইনফিউশন পাম্প, অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা, ওষুধপত্রসহ পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা সরঞ্জাম রয়েছে। উড়োজাহাজে থাকবেন অভিজ্ঞ চিকিৎসক, নার্স ও প্যারামেডিকস, যারা আকাশপথে রোগী পরিবহনে নিবিড় পরিচর্যার অভিজ্ঞতা রাখেন।

এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটিতে ‘এক্সট্রা করপোরাল মেমব্রেন অক্সিজেনেশন’ (ইসিএমও) সাপোর্ট সুবিধাও আছে- যা হৃদযন্ত্র বা ফুসফুস বিকল হওয়া রোগীদের কৃত্রিম উপায়ে বাঁচিয়ে রাখতে ব্যবহৃত হয়। কোম্পানি দাবি করেছে, তাদের দল ইসিএমও রোগী স্থানান্তরে বিশেষ দক্ষ।

সংকটাপন্ন রোগীদের হাসপাতাল থেকে বিমানে তোলা অনেক সময় জটিল হয়। এজন্য সংস্থাটি হাসপাতালের চিকিৎসকদের সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপদ স্থানান্তর নিশ্চিত করে। তাদের দলে আছেন আইসিইউ নার্স ও ‘পারফিউশনিস্ট’- যারা হার্ট-লাং মেশিন পরিচালনায় বিশেষজ্ঞ।

কম প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন রোগীদের জন্য রয়েছে পোর্টেবল মেডিকেল আইসোলেশন ইউনিট (পিএমআইইউ), যার উন্নত ভেন্টিলেশন ব্যবস্থায় রোগীর কাছে পৌঁছানোর আগেই বাতাস পরিশোধিত হয়। নবজাতক থেকে প্রাপ্তবয়স্ক- সব বয়সী রোগীর জন্য আলাদা সেটআপও রয়েছে এই বিমানে।

এর আগে কাতার আমিরের ব্যক্তিগত বহরের যে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি খালেদা জিয়াকে বহনের জন্য ঢাকায় এসেছিল, সেটি ছিল এয়ারবাস এ-৩১৯ সিরিজের উড়োজাহাজ, আকারে বোম্বার্ডিয়ার জেটের চেয়ে বড়। ফলে আগের উড়োজাহাজে যে সংখ্যক যাত্রী নেওয়া সম্ভব হয়েছিল, এবার বোম্বার্ডিয়ারটিতে তার অর্ধেকও যাওয়া সম্ভব নাও হতে পারে।




মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের কাজের ফেরার নির্দেশ, না মানলে ব্যবস্থা

বিশেষ প্রতিবেদকঃ মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের দাবি পূরণে সরকারের ইতিবাচক কার্যক্রম চলছে। তাই তাদের কর্মবিরতির কর্মসূচি প্রত্যাহার করে কাজে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রগুলোতে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টরা গত কয়েকদিন ধরে দশম গ্রেড বাস্তবায়নের দাবি আদায়ে কর্মবিরতিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করায় জরুরি স্বাস্থ্য সেবা ব্যাহত হচ্ছে এবং সেবাপ্রার্থী সাধারণ মানুষ দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। মানুষের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সেবা প্রাপ্তিতে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় বিজ্ঞপ্তিতে সেবা গ্রহীতাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে মন্ত্রণালয় ।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, দশম গ্রেড প্রদানের দাবিটি দীর্ঘদিনের পুরানো। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় সকল কর্মকাণ্ড ইতিবাচকভাবে সম্পন্ন করে সংশ্লিষ্ট পক্ষসমূহকে অবহিত করেছে।

এই দাবি বাস্তবায়নে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মনোভাবও ইতিবাচক এবং তারাও আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। যেহেতু এটি দীর্ঘদিনের সমস্যা, কাজেই তা সমাধানের জন্য সরকারকে প্রয়োজনীয় সময় দিতে হবে।

সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবের সঙ্গে বৈঠকে এসব বিষয়ে আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিদের অবহিত করা হয়।

এরপরও তারা দাবি আদায়ের নামে রোগীদের জিম্মি করে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন। যা স্বাস্থ্যসেবার মত মহান পেশায় নিয়োজিত সেবাপ্রদানকারীদের কাছে কোনোভাবেই কাম্য নয়।

এ অবস্থায়, সরকারের সকল পক্ষের ইতিবাচক মনোভাব, উদ্যোগ ও কর্মকাণ্ড চলমান অবস্থায় কর্মবিরতির নামে রোগীদের সেবাবঞ্চিত করার পথ পরিত্যাগ করে অবিলম্বে কাজে যোগদানের জন্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে অনুরোধ করা হচ্ছে।

অন্যথায়, এ ধরনের অত্যাবশ্যকীয় সেবা বন্ধের মত জনস্বার্থবিরোধী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রসঙ্গত, ১১তম গ্রেড থেকে ১০ম গ্রেডে উন্নীতকরণের দাবিতে আন্দোলন করছে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টরা।




‘খালেদা জিয়াকে মধ্যরাতের পরে অথবা ভোরে লন্ডনে নেওয়া হবে’

ডেস্কঃ সবকিছু ঠিক থাকলে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে আজ বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের পর বা শুক্রবার ভোরে লন্ডনে নেওয়া হতে পারে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তার উন্নত চিকিৎসার জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) বেলা ৩টার আগে এভারকেয়ার হাসপাতাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক জাহিদ হোসেন।

গত ১২ দিন ধরে খালেদা জিয়া রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার শারীরিক অবস্থা এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে বলে পরিবারসূত্রে জানা গেছে। এ অবস্থায় দেশজুড়ে রাজনৈতিক মহলসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে।

হাসপাতালসূত্র জানায়, অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড তাঁর চিকিৎসা পরিচালনা করছে।

বিএনপির একটি সূত্র বলছে, ফুসফুসে সংক্রমণের কারণে যে জটিলতা তৈরি হয়েছিল, সেটি কিছুটা উন্নতির দিকে। তবে হৃদ্‌যন্ত্রের জটিলতা এখনো রয়ে গেছে। অন্যান্য শারীরিক সমস্যারও তেমন পরিবর্তন হয়নি।

গতকাল রাতে চীন থেকে চারজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ঢাকায় এসে মেডিকেল বোর্ডে যোগ দেন। এর আগে দুপুরে যুক্তরাজ্য থেকে ঢাকায় পৌঁছান বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রিচার্ড বেলে। বিমানবন্দর থেকে সরাসরি তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে গিয়ে খালেদা জিয়ার অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। চিকিৎসকেরা সর্বশেষ সব রিপোর্টও পর্যালোচনা করেছেন।

উন্নত চিকিৎসার জন্য এ বছরের জানুয়ারিতেও লন্ডনে গিয়েছিলেন খালেদা জিয়া। সেখানকার একটি হাসপাতালে ও পরে ছেলে তারেক রহমানের বাসায় অবস্থান করে চিকিৎসা নেন। প্রায় চার মাস পর গত ৬ মে তিনি দেশে ফেরেন।

গত ২৩ নভেম্বর রাতে হঠাৎ শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরীক্ষায় ফুসফুসে সংক্রমণ ধরা পড়লে তাঁকে ভর্তি করা হয়। গত রোববার ভোরে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে এসডিইউ থেকে সিসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।




খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক জাহিদ হোসেনের মা সিসিইউতে

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের অন্যতম এবং দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য এ জেড এম জাহিদ হোসেনের মা বেগম জেবুন নেসা গুরুতরভাবে অসুস্থ। এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে তিনি রাজধানীর এভার কেয়ার হাসপাতালে সিসিইউতে চিকিৎসাধীন।

সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, বেগম জেবুন নেসা বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছেন। তার বয়স প্রায় ৮২ বছর। শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে গত ২৪ নভেম্বর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এর আগের দিন ২৩ নভেম্বর রাতে খালেদা জিয়াকে এভার কেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। বিএনপির চেয়ারপারসনের মেডিকেল বোর্ডের সদস্য হিসেবে তিনি চিকিৎসার সমন্বয় করেন। পর দিন একই হাসপাতালে তার মাকে ভর্তি করানো হয়।

এক দিকে দলীয় প্রধান বেগম খালেদা জিয়া, আরেক দিকে মা—দু’জনেই সিসিইউতে চিকিৎসকদের নিবিড় পরিচর্যায় আছেন। খালেদা জিয়া এবং মায়ের এই সংকটকালে তিনি সবার দোয়া চেয়েছেন।