ফের ভূমিকম্পে কাঁপলো ঢাকা

ডেস্ক নিউজঃ রাজধানী ঢাকায় ৪.১ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত। তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) সকাল ৬টা ১৪ মিনটে এ কম্পন অনুভূত হয়। ইউরোপিয়ান মেডিটেরিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার এ তথ্য জানিয়েছে।

এর উৎপত্তিস্থল নরসিংদীর শিবপুরে। ভূমিকম্পের কেন্দ্রের গভীরতা ছিল ৩০ কিলোমিটার।




এখনও ‘ট্রাভেল পাস’ চাননি তারেক রহমান: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

ডেস্ক নিউজঃ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফেরার জন্য লন্ডনে বাংলাদেশ মিশনের কাছে এখনো ‘ট্রাভেল পাস’ চাননি। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, বুধবার (৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা পর্যন্ত ‘ট্রাভেল পাস’ চাননি তারেক রহমান।

তবে বিএনপির উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়া যাবে কি না, সে বিষয়ে বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা মতামত দেবেন। এই মতামতের ওপর অনেকটা নির্ভর তারেক রহমান কবে দেশে ফিরবেন।

সূত্র আরও জানায়, খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হলে লন্ডন প্রথম অগ্রাধিকার। সেটা হলে তারেক রহমান লন্ডনেই থাকবেন। আর দীর্ঘ সময়ের বিমানযাত্রার বিষয়ে চিকিৎসকরা অনুমোদন না দিলে স্বল্প দূরত্বের মধ্যে সিঙ্গাপুরকে প্রাধান্য দেওয়া হবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য বলেন, তারেক রহমান দেশে আসার জন্য প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন। মায়ের বিদেশি চিকিৎসক দল ও মেডিকেল বোর্ডের মতামতের অপেক্ষায় আছেন তিনি।

এর আগে গত ২৩ নভেম্বর রাতে খালেদা জিয়াকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। তখন থেকে ১১ দিন ধরে তিনি হাসপাতালটিতে চিকিৎসাধীন।




জানুয়ারির মধ্যে পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবি সরকারি কর্মচারীদের

ডেস্ক নিউজঃ সরকারি কর্মচারীরা আগামী জানুয়ারি থেকেই নতুন পে–স্কেল বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন। এই দাবিতে আজ বুধবার বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী সমন্বয় পরিষদের পক্ষ থেকে প্রধান উপদেষ্টা ও অর্থ উপদেষ্টার কাছে পৃথকভাবে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।

গত জুলাইয়ে সরকার নবম পে–কমিশন গঠন করে। সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খান কমিশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পে–কমিশনের কাজ চলমান থাকলেও জানুয়ারি থেকেই নতুন বেতন কাঠামো চালুর চাপ বাড়াচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা।

সংগঠনের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, দাবি আদায়ের অংশ হিসেবে আগামী ৬ ডিসেম্বর কর্মসূচি পালিত হবে। জানুয়ারিতে নতুন পে–স্কেল কার্যকর না হলে সচিবালয় অভিমুখে লংমার্চ করার ঘোষণাও দিয়েছে সংগঠনটি।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নতুন পে–স্কেল বাস্তবায়ন সম্ভব কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও কর্মচারীরা চাপ বাড়াতে বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।




ফোনকলে রাষ্ট্রের ৯ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি, দুদকের সাবেক কমিশনারের বিরুদ্ধে মামলা

ডেস্ক নিউজঃ আন্তর্জাতিক ফোনকল করে রাষ্ট্রের প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি করার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাবেক কমিশনার মো. জহুরুল হকসহ ছয়জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

বুধবার (৩ ডিসেম্বর) দুদকের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মামলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম।

দুদকের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক ইনকামিং কলের টার্মিনেশন রেট ও রাজস্ব শেয়ার বেআইনিভাবে কমিয়ে রাষ্ট্রকে প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকার ক্ষতির মুখে ফেলা হয়েছে। এজন্য সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, দুদকের ইতিহাসে এই প্রথম সংস্থাটির কমিশনার পর্যায়ের কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা দায়ের হলো।




ট্যাক্স ছাড়া কয়টি বিদেশ থেকে মোবাইল ফোন আনা যাবে, জানাল সরকার

ডেস্ক নিউজঃ অন্তর্বর্তী সরকার দেশে মোবাইল ফোনের অবৈধ আমদানি ও চোরাচালান নিয়ন্ত্রণে নতুন নীতিমালা গ্রহণ করেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রবাসীরা যদি ছুটি কাটাতে দেশে এসে টানা ৬০ দিনের বেশি অবস্থান করেন, তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর)-এ নিবন্ধন করা বাধ্যতামূলক।

প্রবাসীদের জন্য কর-ছাড় সুবিধাও নির্ধারণ করা হয়েছে। যেসব প্রবাসীর বিএমইটি (জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো) নিবন্ধন কার্ড রয়েছে, তারা দেশে ফেরার সময় ট্যাক্স ছাড়াই তিনটি ফোন আনতে পারবেন—নিজের ব্যবহৃত ফোনসহ অতিরিক্ত দুটি নতুন হ্যান্ডসেট।

বিএমইটি কার্ড না থাকা প্রবাসীরা নিজের ব্যবহৃত ফোনের পাশাপাশি একটি অতিরিক্ত হ্যান্ডসেট ট্যাক্স দিয়ে আনতে পারবেন।

একই সঙ্গে প্রবাসীদের জন্য কর-ছাড় সুবিধাও নির্ধারণ করা হয়েছে। যেসব প্রবাসীর বিএমইটি (জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো) নিবন্ধন কার্ড রয়েছে, তারা দেশে ফেরার সময় ট্যাক্স ছাড়াই ৩টি ফোন আনতে পারবেন—নিজের ব্যবহারের ফোনসহ অতিরিক্ত দুটি নতুন হ্যান্ডসেট।

আর যাদের বিএমইটি কার্ড নেই, তারা নিজের ব্যবহারের ফোনের পাশাপাশি একটি অতিরিক্ত হ্যান্ডসেট ট্যাক্স দিয়ে আনতে পারবেন।

গত সোমবার (১ ডিসেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব এর অফিসে এনইআইআর কার্যকর ও মোবাইল আমদানির শুল্ক হ্রাস সংক্রান্ত একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। আজ বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায় ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়।

সভায় স্মার্টফোনের বৈধ আমদানির শুল্ক উল্লেখযোগ্য হারে কমানোসহ দেশের মোবাইল কারখানায় উৎপাদিত হ্যান্ডসেটের ওপর আরোপিত ভ্যাট-ট্যাক্স হ্রাসের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিটিআরসি জানিয়েছে, বর্তমানে বৈধ পথে মোবাইল আমদানিতে মোট শুল্কহার ৬১ শতাংশের মতো। এই উচ্চ শুল্ক কমালে বৈধ আমদানি বাড়বে এবং মোবাইলের বাজারদরও কমে আসবে।

নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে উঠে আসে, শুধু আমদানির শুল্ক কমালে চলবে না—দেশে থাকা ১৩ থেকে ১৪টি মোবাইল উৎপাদনকারী কারখানার ওপর আরোপিত শুল্ক-ভ্যাটও যৌক্তিকভাবে কমানো প্রয়োজন। অন্যথায় বিদেশি বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ বিষয়ে বিটিআরসি, এনবিআর ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আলোচনাও চলছে। মন্ত্রণালয় আশা করছে, শিগগিরই ডিভাইস ইন্ডাস্ট্রির জন্য অনুকূল সিদ্ধান্ত আসবে।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিদেশ থেকে ফোন আনার ক্ষেত্রে ভ্রমণকারীদের মোবাইল কেনার বৈধ চালান সঙ্গে রাখতেই হবে। কারণ বিভিন্ন দেশ থেকে ফেরা প্রবাসীদের চোরাচালান চক্র চাপ প্রয়োগ করে স্বর্ণ ও দামি ফোন শুল্ক ছাড়া বহনে ব্যবহার করছে।

একই সঙ্গে দেশে ব্যবহারের অযোগ্য পুরোনো বিদেশি মোবাইলের ‘ডাম্পিং’ বন্ধে কঠোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কেসিং পরিবর্তন করে রিফারবিশড বা ইলেকট্রনিক বর্জ্য ঢোকানোর প্রবণতা ঠেকাতে বিমানবন্দর ও স্থলবন্দরে নজরদারি জোরদার করা হচ্ছে। ভারত, থাইল্যান্ড ও চীন থেকে আগত ফ্লাইটগুলো চিহ্নিত করে কাস্টমস শিগগিরই অভিযান চালাবে।

এ ছাড়া ক্লোন ফোন, চুরি-ছিনতাইকৃত ফোন ও রিফারবিশড হ্যান্ডসেট আমদানি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাজারে অবৈধভাবে আমদানি করা—কিন্তু বৈধ আইএমইআইযুক্ত হ্যান্ডসেটগুলোর তালিকা বিটিআরসিতে জমা দিলে হ্রাসকৃত শুল্কে সেগুলো বৈধ করার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ নিয়ে এনবিআরের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তবে ক্লোন ও রিফারবিশড ফোনকে কোনোভাবেই এই সুবিধার আওতায় আনা হবে না।

মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, এনইআইআর চালু হলে ১৬ ডিসেম্বরের আগে সচল থাকা কোনো হ্যান্ডসেট বন্ধ হবে না। এ বিষয়ে গুজব ছড়ানো থেকে বিরত থাকতে এবং সচেতন থাকতে দেশবাসীকে অনুরোধ করা হয়েছে।




খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের খোঁজ নিতে হাসপাতালে তিন বাহিনী প্রধান

ডেস্ক নিউজঃ সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের খোঁজ নিতে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে গেছেন দেশের তিন বাহিনীর প্রধানগণ। 

মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) রাত ৯টার দিকে একে একে সেখানে পৌঁছান সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান।

প্রসঙ্গত, বর্তমানে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সংকটজনক। তার শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত। তবে তিনি চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারছেন বলে দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৩ নভেম্বর রাতে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য গুলশানের বাসা ফিরোজা থেকে খালেদা জিয়াকে এভারকেয়ার হাসপাতালে আনা হয়। এরপর মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শক্রমে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে।

খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, ফুসফুস, চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন।




নভেম্বরে নারী-শিশুসহ নির্যাতন ও ধর্ষণের শিকার ১৮১ জন

ডেস্ক নিউজঃ ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে নারী ও শিশুসহ মোট ১৮১ জন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ২৯ জন কন্যাশিশু ও ১৬ জন নারীসহ মোট ৪৫ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছে।

মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সংস্থাটি জানায়, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় লিগ্যাল এইড উপ-পরিষদে সংরক্ষিত ১৫টি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে এ পরিসংখ্যান উঠে আসে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নির্যাতনের শিকার এসব নারী ও কন্যাদের মধ্যে ১৯ জন কন্যাসহ ২৮ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছে, ৯ জন কন্যাসহ ১৪ জন দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ধর্ষণের পরে হত্যার শিকার হয়েছে ১ জন কন্যাসহ ৩ জন। এছাড়াও ৫ জন কন্যাসহ ৭ জনকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে।

বিভিন্ন কারণে ৭ জন কন্যা ও ৪৬ জন নারীসহ মোট ৫৩ জন হত্যার শিকার হয়েছে, এরমধ্যে ৪ জন কন্যা ও ২১ জন নারীসহ ২৫ জনের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। ৯ জন কন্যা ও ৫ জন নারীসহ ১৪ জন আত্মহত্যার শিকার হয়েছে, এরমধ্যে আত্মহত্যার প্ররোচনার শিকার হয়েছে ২ জন কন্যাসহ ৩ জন। যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছে ৮ জন কন্যা ও ৩ জন নারীসহ মোট ১১ জন, এরমধ্যে ৭ জন কন্যাসহ ৯ জন যৌন নিপীড়নের শিকার, ১ জন কন্যাসহ ২ জন উত্ত্যক্তকরণের শিকার হয়েছে।

এসিডদগ্ধের শিকার হয়েছে ১ জন কন্যাসহ ২ জন। অগ্নিদগ্ধের শিকার হয়েছে ৩ জন নারী। ৬ জন কন্যাসহ ৭ জন অপহরণের ঘটনার শিকার হয়েছে। পাচারের শিকার হয়েছে ৬ জন কন্যাসহ ১২ জন।

শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে ৩ জন কন্যাসহ ১৩ জন। ফতোয়া ঘটনার শিকার হয়েছে ১ জন। বাল্যবিবাহের চেষ্টা করা হয়েছে ১ জন কন্যার। যৌতুকের কারণে হত্যার শিকার হয়েছে ৪ জন নারী। এছাড়াও ৫ জন কন্যাসহ ৮ জন  বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছে।




প্রধান উপদেষ্টা ও অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর সন্তুষ্ট ৭০ শতাংশ মানুষ: আইআরআই জরিপ

ডেস্ক নিউজঃ মার্কিন ফেডারেল সরকারের অর্থায়নে রিপাবলিকান পার্টি-ঘনিষ্ঠ অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই) পরিচালিত এক জরিপের ভিত্তিতে জানিয়েছে যে, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি বাংলাদেশের মানুষ ব্যাপক আস্থা প্রকাশ করেছেন।  

এই জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৬৯ শতাংশ বলেছেন যে, ড. ইউনূস ভালো কাজ করছেন এবং ৭০ শতাংশ জানিয়েছেন যে, তারা অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্ট।

আইআরআই এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের সিনিয়র পরিচালক জোহান্না কাও বলেন, ‘স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে ড. ইউনূসের নেতৃত্বে মানুষ অগ্রগতির সম্ভাবনা দেখছেন। তার এবং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি জনগণের এই আস্থা স্থিতিশীলতা, জবাবদিহি ও সংস্কারের ব্যাপক প্রত্যাশা তুলে ধরে।’

এই জরিপটি ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের সেন্টার ফর ইনসাইটস ইন সার্ভে রিসার্চের পক্ষে একটি স্থানীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান দ্বারা পরিচালিত হয়। ২০২৫ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত তথ্য সংগ্রহ করা হয় এবং সিএপিআই (কম্পিউটার অ্যাসিস্টেড পার্সোনাল ইন্টারভিউয়িং) পদ্ধতিতে সরাসরি উপস্থিত হয়ে সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।

জরিপে ৪ হাজার ৯৮৫ জন অংশগ্রহণ করেন, যাদের বয়স ১৮ বছর বা তার বেশি। বাংলাদেশের আটটি বিভাগের ৬৪ জেলার মধ্যে ৬৩ জেলা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়, তবে রাঙামাটি জেলা থেকে কোনো নমুনা বাছাই করা হয়নি। জরিপকারীদের দাবি, এই জরিপের আস্থার পরিমাণ ৯৫ শতাংশ এবং ১ দশমিক ৪ শতাংশ এদিক-সেদিক হতে পারে।

জরিপে দেখা যায়, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে ভোটারদের আগ্রহও অনেক। ভোট দিতে খুবই আগ্রহী বলে জানিয়েছে ৬৬ শতাংশ ভোটার, আর ২৩ শতাংশ কিছুটা আগ্রহী বলে জানিয়েছেন। এছাড়া, নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে বলে বিশ্বাস করেন জরিপে অংশ নেওয়া ৮০ শতাংশ লোক।

পরিচালক কাও আরও বলেন, ‘বাংলাদেশিদের এই উৎসাহ-উদ্দীপনা প্রমাণ করে সংস্কার প্রক্রিয়া ধরে রাখা এবং নির্বাচনকে বিশ্বাসযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’ আইআরআই নিয়মিতভাবে বাংলাদেশে জনমত জরিপ পরিচালনা করে থাকে এবং আসন্ন নির্বাচন ঘিরে প্রতিষ্ঠানটি দায়িত্বশীল ও ইস্যুভিত্তিক রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা বাড়ানোর কাজ করছে।




হাইওয়েতে বসছে ১৪০০ ক্যামেরা, ডিজিটাল জরিমানা যাবে মালিকের মোবাইলে

ডেস্ক নিউজঃ হাইওয়ে পুলিশের নজরদারিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে বড় পরিবর্তন আসছে বলে জানিয়েছেন হাইওয়ে পুলিশের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (ডিআইজি) হাবিবুর রহমান।

তিনি বলেছেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কসহ দেশের বিভিন্ন হাইওয়েতে ১৪০০ আধুনিক ক্যামেরা বসানো হচ্ছে। যার মাধ্যমে এখন থেকে শুধু গতি নয় বরং সড়কের প্রতিটি অনিয়ম ধরা পড়বে রিয়েল–টাইমে। এমনকি ওভারস্পিড থেকে শুরু করে যেকোনো সড়ক লঙ্ঘনের জরিমানা ডিজিটালি ফাইল করা হবে, আর সেই তথ্য সরাসরি গাড়ির মালিকের মোবাইলে পৌঁছে যাবে।

সোমবার (১ ডিসেম্বর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে জাতীয় হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ আয়োজিত ‘টেকসই উন্নয়নে সড়ক নিরাপত্তা আইন: বাংলাদেশ পরিপ্রেক্ষিত ও করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব তথ্য জানান।

হাবিবুর রহমান বলেন, কয়েক মাসের মধ্যে ওভার স্পিডসহ যেকোনো আইন লঙ্ঘনের জরিমানা স্বয়ংক্রিয়ভাবে গাড়ির মালিকের মোবাইলে পৌঁছে যাবে। আদালতে ব্যবহারের জন্য ডিজিটাল প্রমাণও সংরক্ষণ করা হবে, যা সড়ক নিরাপত্তায় নতুন মানদণ্ড তৈরি করতে চলেছে।

হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি জানান, মূল মহাসড়কে নজরদারি বাড়াতে ঢাকা–চট্টগ্রাম বৃত্তের বাইরে পর্যন্ত বিস্তৃত একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল মনিটরিং নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ১৪০০ ক্যামেরা সক্রিয় আছে, যা তার ভাষায় “হাইওয়ের প্রায় প্রতি ইঞ্চি কভার করছে।”

ডিজিটাল জরিমানার নতুন পদ্ধতি প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি জানান, হাইওয়ে পুলিশ আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে জরিমানার পুরো প্রক্রিয়াটি ডিজিটাল করার লক্ষ্য নিয়েছে। নতুন ব্যবস্থায়— ক্যামেরা ওভার স্পিড, সিগন্যাল ভায়োলেশন বা যেকোনো সড়ক অপরাধ শনাক্ত করবে। সেই তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে গাড়ির নম্বরের সঙ্গে যুক্ত মালিকের মোবাইলে যাবে। বার্তায় জানানো হবে কোথায়, কী কারণে এবং কত টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এমনকি নির্দিষ্ট ব্যাংকে অনলাইনে জরিমানা পরিশোধ করতে হবে।

হাবিবুর রহমান বলেন, এখন আর পুলিশের হাতে ধরে ফাইন দেওয়ার দিন শেষ। পুরো প্রক্রিয়াটাই ডিজিটালভাবে চলবে।

গতি নয়, সন্দেহজনক আচরণও নজরদারিতে থাকবে উল্লেখ করে তিনি জানান, নতুন ক্যামেরাগুলোর কার্যক্ষমতা শুধু যানবাহনের গতি শনাক্ত করার মধ্যে সীমিত নয়। সেগুলো মুভমেন্ট অ্যানালাইসিস, ক্রাউড ডিটেকশন ও সন্দেহজনক আচরণ পর্যবেক্ষণ করতে পারে।

এ সময় তিনি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ ও টাইম-স্ট্যাম্পড ডেটা আদালতে স্বীকৃত ডিজিটাল এভিডেন্স হিসেবে উপস্থাপন করা হবে বলেও জানান। ডিআইজি বলেন, আদালতে এখন থেকে মানুষের মুখের কথার চেয়ে ডিজিটাল প্রমাণের শক্তি বেশি হবে। এতে মামলা জেতা কঠিন হবে না।




খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে মোদির গভীর উদ্বেগ

ডেস্ক নিউজঃ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতির খবরে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

সোমবার (১ ডিসেম্বর) সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে তিনি এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

মোদি লেখেন, বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার কথা জেনে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি। বহু বছর ধরে তিনি বাংলাদেশের জনজীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী আরও লেখেন, তার (খালেদা জিয়া) দ্রুত আরোগ্যের জন্য আমাদের আন্তরিক প্রার্থনা ও শুভকামনা রইল। ভারত যেকোনোভাবে, যেকোনো ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত।

6fb5085dd7ce87f2da4a4f9d71a84d0f-692dc59eb8658

গত রোববার নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন খালেদা জিয়া। বুধবার তার অবস্থা সংকটাপন্ন ঘোষণা করা হয়। তবে সবশেষ যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র,সৌদি আরব, সিঙ্গাপুর ও চীনের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বিত বোর্ডের চিকিৎসায় তিনি সাড়া দিচ্ছেন বলে জানা যায়।

সোমবার দুপুরে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আযম খান গণমাধ্যমকে জানান, খালেদা জিয়ার অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। খুবই ডিপ কন্ডিশনে। এটাকে আপনারা ‘ভেন্টিলেশন’ বলতে পারেন।

খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, ফুসফুস, চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন।