ভূমিকম্প ৬ মাত্রার হলে সবকিছু ভেঙে পড়ার আশঙ্কা

ডেস্ক নিউজঃ শুক্রবার সকালে সারা দেশে অনুভূত ভূমিকম্পটি বহু বছরের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী কম্পন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে হঠাৎ কেঁপে ওঠে ঢাকা ও আশপাশের অঞ্চল। 

জাতীয় ভূকম্পন কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, নরসিংদীর মাধবদী এলাকার প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে এর উৎপত্তি। স্থানীয় পরিমাপ অনুযায়ী এর মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৭, আর যুক্তরাষ্ট্রের ইউএসজিএস সেটিকে ৫ দশমিক ৫ হিসেবে রেকর্ড করেছে।

বুয়েটের পূরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও ভূমিকম্প–বিশেষজ্ঞ মেহেদি আহমেদ আনসারী মনে করেন, এই কম্পন নতুন কোনও বিস্ময় নয়। তাঁর ভাষায়, এই অঞ্চলের ভূতাত্ত্বিক বাস্তবতায় আরও বড় ধরনের ভূমিকম্পের শঙ্কা অনেক দিন ধরেই ছিল। তিনি জানান, মাত্রা যদি ৬–এর কাছাকাছি পৌঁছায়, তাহলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

ইতিহাসেও ভয়াবহ কিছু ভূমিকম্পের দৃষ্টান্ত রয়েছে। ১৭৬২ সালের ‘গ্রেট আরাকান আর্থকোয়েক’ ছিল প্রায় ৮ দশমিক ৫ মাত্রার, যার অভিঘাত পৌঁছেছিল চট্টগ্রাম, ফেনী ও কুমিল্লা পর্যন্ত। ১৮৯৭ সালে আসামে ঘটে ৮ দশমিক ৭ মাত্রার আরও একটি বড় ভূমিকম্প। এরপর ১৯১৮ সালে সিলেটের বালিসিরা উপত্যকায় ৭ দশমিক ৬ এবং ১৯৩০ সালে আসামের ধুবড়িতে ৭ দশমিক ১ মাত্রার কম্পন রেকর্ড করা হয়।

অধ্যাপক আনসারীর ব্যাখ্যা, বড় ধরনের কম্পন সাধারণত দেড় শতকের ব্যবধানে ফিরে আসে। সেই হিসেবে আবারও ৭ মাত্রার ভূমিকম্পের ঝুঁকি সামনে চলে এসেছে। তাঁর মতে, আজকের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশকে সতর্ক হওয়ার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, রাজধানীতে প্রায় ২১ লাখ ভবন রয়েছে—এর মধ্যে প্রায় ৬ লাখ ভবন ছয়তলার বেশি। বড় ধরনের কম্পন হলে এই উচ্চ ভবনগুলোর ওপরই সর্বাধিক ঝুঁকি তৈরি হবে। পুরান ঢাকার কিছু ভবনে আজকের কম্পনে রেলিং ও পলেস্তারা খসে পড়া তারই ইঙ্গিত।

রানা প্লাজা ধসের পর গার্মেন্টস ভবনগুলোর কাঠামো পরীক্ষা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল—সেটিকে সব ধরনের ভবনে সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখনই রাজধানীর ভবনগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা জরুরি। কারণ বহু স্থাপনা এখনো বিল্ডিং কোড মেনে নির্মিত হয়নি।

তিনি জানান, ভূমিকম্পসহ অন্যান্য দুর্যোগ মোকাবিলায় সহায়ক হিসেবে বিশ্বব্যাংক রাজউককে ১৮ কোটি মার্কিন ডলার দিয়েছে। তবে এত বড় চ্যালেঞ্জ সামাল দেওয়ার মতো সক্ষমতা রাজউকের আছে কি না—সেটি নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।




ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬, আহত শতাধিক

বিশেষ প্রতিবেদকঃ রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শুক্রবার আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ছয়জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রাজধানীর পুরান ঢাকার বংশালে ৩ জন, নারায়ণগঞ্জে একজন ও নরসিংদীতে দুইজন নিহত হয়েছেন। এছাড়াও শতাধিক মানুষ আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

ঢাকা : ভূমিকম্পে পুরান ঢাকার বংশালে ৫ তলা ভবনের রেলিং ধসে তিনজন নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন— সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (মিটফোর্ড) ৫২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী রাফি উল ইসলাম, হাজী আব্দুর রহিম (৪৭) ও মেহরাব হোসেন রিমন (১২)। নিহত রাফির মা নুসরাতের সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অস্ত্রোপচার চলছে অপরাশেন থিয়েটারে। তিনি জানেন না, তাঁর সন্তান মারা গেছেন। শুক্রবার বিকেলে গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বংশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম।

নারায়ণগঞ্জ : নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ভূমিকম্পে দেয়াল ধসে ফাতেমা (১) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সকালে ভূমিকম্পের সময় ঘটনাস্থল হয়ে ভুলতা-গাউছিয়া যাওয়ার সময় সড়কের পাশের দেয়াল ধসে শিশু ফাতেমা, তার মা কুলসুম বেগম ও প্রতিবেশী জেসমিন বেগমের ওপর পড়ে। এসময় ঘটনাস্থলেই শিশু ফাতেমার মৃত্যু হয়। আহত হন তার মা কুলসুম ও প্রতিবেশী জেসমিন, তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

নরসিংদী : নরসিংদীতে ভয়াবহ ভূমিকম্পে মাটির ঘরের দেয়াল চাপায় কাজম আলী (৭৫) নামে বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। নিহত কাজম আলী নরসিংদীর পলাশ উপজেলার চরসিন্দুর ইউনিয়নের মালিতা পশ্চিমপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। এছাড়া নরসিংদীর গাবতলীতে বাসার দেয়াল চাপা পড়ে ওমর (১০) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।




বংশালে ভূমিকম্পে নিহত তিনজনের পরিচয় নিশ্চিত

বিশেষ প্রতিবেদকঃ ঢাকার বংশালের কসাইটুলিতে ভূমিকম্পে পাঁচতলা ভবনের রেলিং ধসে নিহত তিনজনের পরিচয় মিলেছে। নিহতরা হলেন সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (মিটফোর্ড) ৫২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী রাফি উল ইসলাম, হাজী আব্দুর রহিম (৪৭) ও মেহরাব হোসেন রিমন (১২)।

শুক্রবার (২১ নভেম্বর) বিকেলে গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানান বংশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম।

তিনি বলেন, তিনজনের মরদেহ মিটফোর্ড হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। শুক্রবার সকালে ভূমিকম্পের পর বংশালের কসাইটুলিতে পাঁচতলা ভবনের রেলিং ধসে তিনজন মারা যান।

‎স্থানীয়রা জানান, ভূমিকম্পের সময় হঠাৎ করে পাঁচতলা ভবনের রেলিং ধসে পড়ে তিন পথচারী ঘটনাস্থলে নিহত হন। তারা সড়ক দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। ঘটনার পরপরই সেখানে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত হয়েছেন।

বংশাল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আশিষ জানান, ভূমিকম্পের সময় ভবনের রেলিং ধসে পড়ে তিন পথচারী নিহত হয়েছেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত আছেন।

এর আগে শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে ঢাকাসহ সারাদেশে ভূমিকম্প অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে এর মাত্র ছিল ৫.৭। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীর মাধবদীতে।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবাইয়াত কবির জানান, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫.৭। এটির উৎপত্তিস্থল ঢাকা থেকে ১৩ কিলোমিটার দূরে নরসিংদীর মাধবদীতে। এটি মাঝারি ধরনের ভূমিকম্প।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৭।




পুলিশের ওপর হামলা বাড়লে ঘরবাড়ি নিজেরাই পাহারা দিতে হবে: ডিএমপি কমিশনার

ডেস্ক নিউজঃ পুলিশের ওপর ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেছেন, এ ধরনের পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে মানুষের ঘরবাড়ি নিজেদেরই রক্ষা করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) সকালে ডিবির সাইবার সাপোর্ট সেন্টার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

গত বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে মিরপুরের পল্লবী থানার সামনে তিনটি ককটেল বিস্ফোরণে এএসআই নুর ইসলামসহ তিনজন আহত হন। এ ঘটনাকে ‘পুলিশের ওপর হামলা’ উল্লেখ করে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘ককটেল মেরে পুলিশ সদস্যকে আহত করা হয়েছে, এতে পুলিশের মনোবল ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’

তিনি দুর্বৃত্তদের উদ্দেশে আরও বলেন, ‘এ ধরনের কর্মকাণ্ড চালিয়ে কেউই লাভবান হবেন না। এমন ঘটনা চলতে থাকলে ঘরবাড়ি নিজেদের পাহারা দিতে হবে।’

এর আগে ১৬ নভেম্বর গাড়িতে আগুন বা ককটেল নিক্ষেপ করে নাশকতামূলক পরিস্থিতি তৈরি হলে গুলির নির্দেশ দিয়ে বেতার বার্তা জারি করেছিলেন তিনি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নাশকতা করলে গুলি করার বিধান পুলিশ আইনেই আছে। ককটেল মেরে নাশকতা করলে আইনের কঠোর প্রয়োগের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’




চার দিনের সফরে আজ ঢাকায় আসছেন কমনওয়েলথ মহাসচিব

ডেস্ক নিউজঃ চলতি সপ্তাহে বাংলাদেশে সফরে আসছেন কমনওয়েলথের মহাসচিব শার্লি বচওয়ে। আজ বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) চার দিনের সফরে বাংলাদেশে আসছেন তিনি।

বাংলাদেশে এটি শার্লির প্রথম সরকারি সফর। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গুরুত্বপূর্ণ এক মুহূর্তে বিভিন্ন অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনার অংশ হিসেবে তার এই সফর।

কমনওয়েলথের মহাসচিব ২০ নভেম্বর ঢাকায় নামবেন। চারদিনের এ সফর শেষে আগামী ২৪ নভেম্বর তিনি ঢাকা ত্যাগ করবেন।

সফরকালে অন্তর্বর্তী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে দেখা করার কথা রয়েছে কমনওয়েলথ মহাসচিবের। এর মধ্যে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন ছাড়াও হাইকমিশনার, রাজনৈতিক দলের নেতারা এবং অন্যান্য প্রতিনিধিরাও রয়েছেন।

বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে, যার মধ্যে আছে বাংলাদেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা, গণতন্ত্র ও সুশাসন এবং সমৃদ্ধির জন্য জনগণের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে জাতীয় অগ্রগতিকে সমর্থনে চলমান সম্পৃক্ততা আরও গভীর করা।

বৈঠককালে শার্লি বচওয়ে কমনওয়েলথের নতুন কৌশলগত পরিকল্পনা, যা গণতন্ত্রকে এর তিনটি মূল স্তম্ভের মধ্যে স্থান দেয়, সে সম্পর্কে অংশীদারদের অবহিত করবেন এবং কীভাবে উপযুক্ত সহায়তা বাংলাদেশের জনগণকে সর্বোত্তমভাবে সহায়তা করতে পারে; তাও শুনবেন।




শেখ হাসিনা-কামালকে দেশে ফেরাতে ইন্টারপোলকে চিঠির প্রস্তুতি এনসিবির

ডেস্ক নিউজঃ জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোলের সহায়তা চেয়ে নতুন চিঠি পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি)। চিঠির সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের কপিও সংযুক্ত করা হবে।

পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, রায়ের কপি হাতে পাওয়া মাত্রই চিঠি পাঠানো হবে। এর আগে ইন্টারপোলকে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারির অনুরোধ করে দুইবার চিঠি পাঠানো হলেও সংস্থাটি নোটিশ জারির যৌক্তিকতা সম্পর্কে ব্যাখ্যা চেয়েছিল।

গত সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তিনটি অভিযোগে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড এবং আরও দুটি অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ডের আদেশ দেন। রায় ঘোষণার সময় দুজনেই পলাতক ছিলেন। গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার বৈষম্যবিরোধী অভ্যুত্থানের মুখে পদত্যাগের পর শেখ হাসিনা ভারতে চলে যান। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও একই সময়ে ভারতে আশ্রয় নেন।

রায় কার্যকর করতে এখন তাদের দেশে ফেরানোর দাবি জোরালো হচ্ছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) এইচ এম শাহাদাত হোসাইন জানান, শেখ হাসিনাকে ফেরানোর চেষ্টা আগে থেকেই চলছিল। তখন মামলা বিচারাধীন থাকায় দণ্ডের বিষয়টি চিঠিতে উল্লেখ করা হয়নি। এখন রায় ঘোষণা হওয়ায় মৃত্যুদণ্ডের তথ্য যুক্ত করে নতুন করে চিঠি পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বন্দী প্রত্যর্পণ চুক্তি থাকলেও সেই চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনা কঠিন হতে পারে। তাই ইন্টারপোলের মাধ্যমে প্রচেষ্টাকে আরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও আলাদা উদ্যোগ নিয়েছে।

রায় ঘোষণার পর স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান, শেখ হাসিনাকে ফেরাতে ইতিমধ্যে চিঠি দেওয়া হয়েছে; প্রয়োজনে আরও চিঠি দেওয়া হবে।

পুলিশের কর্মকর্তারা বলেন, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নয়, একজন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে দেশে ফেরানোর আইনি প্রক্রিয়ায়ই এই উদ্যোগ। আগের চিঠির সময় তিনি শুধু পরোয়ানাভুক্ত ছিলেন, এখন তিনি দণ্ডপ্রাপ্ত, ইন্টারপোলের নোটিশ জারির ক্ষেত্রে যা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।




আওয়ামী লীগের ‘জন্মস্থান’ রোজ গার্ডেন কিনে রাষ্ট্রের ক্ষতি ৩৩২ কোটি টাকা

ডেস্ক নিউজঃ পুরান ঢাকার হৃষিকেশ দাস রোডের যে ঐতিহাসিক ভবনে আওয়ামী লীগের যাত্রা শুরু হয়েছিল, সেই রোজ গার্ডেন কিনতে গিয়ে রাষ্ট্রের প্রায় ৩৩২ কোটি টাকার ক্ষতি হওয়ার অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বুধবার (১৯ নভেম্বর) সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম বলেন, অনুসন্ধানে যাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধেই কমিশন ব্যবস্থা নেবে।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে ‘রোজ গার্ডেন’ বাড়িটি কেনার মাধ্যমে রাষ্ট্রের ৩৩২ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ পাওয়ার পর দুদক বিষয়টি যাচাই-বাছাই করতে অভিযান চালায়। অভিযানে প্রাপ্ত তথ্য ও নথির ভিত্তিতে কমিশন প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করেছে।

২০১৮ সালে ব্যক্তি মালিকানাধীন পুরাকীর্তি হিসেবে সংরক্ষিত ‘রোজ গার্ডেন’ ভবনটি কিনে নেয় তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। এজন্য ব্যয় হয় ৩৩১ কোটি ৭০ লাখ ২ হাজার ৯০০ টাকা।

ওই বছরের ৮ অগাস্ট সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে আওয়ামী লীগের জন্মস্থান এবং গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইতিহাসের সাক্ষী রোজ গার্ডেন ভবনটি অধিগ্রহণের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে সরকার ওই ব্যক্তিমালিকানাধীন পুরাকীর্তিটি কিনে নেয়।

রোজ গার্ডেনে ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন শুরু হওয়া দুই দিনব্যাপী সম্মেলনেই পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়, যা পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ নামে পরিচিতি পায়। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে এই দল স্বাধিকার আন্দোলন ও ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্ব দেয়।

১৯৩১ সালে পুরান ঢাকায় ২২ বিঘা জমির ওপর ধনাঢ্য ব্যবসায়ী ঋষিকেশ দাস যে বাগানবাড়ি নির্মাণ করেন, সেটিই পরে ‘রোজ গার্ডেন’ নামে পরিচিত হয়। পশ্চিমমুখী ওই দোতলা ভবনের চারপাশ তিনি সাজিয়ে তোলেন দেশ-বিদেশ থেকে আনা বিরল প্রজাতির গোলাপের বাগানে। সেখান থেকেই এর নাম ‘রোজ গার্ডেন’।

করিন্থীয়–গ্রীক শৈলী অনুসরণে তৈরি প্রায় সাত হাজার বর্গফুট আয়তনের ভবনটির দ্বিতীয় তলায় রয়েছে একটি বৃহৎ জলসা ঘর। এর মেঝে সাদা পাথরের এবং সিলিংয়ে সবুজ কাচ দিয়ে তৈরি ফুলের নকশা।

ঋষিকেশ তার গোলাপ বাগানকে অলংকৃত করেছিলেন দেশ–বিদেশ থেকে আনা পাথরের ভাস্কর্য, সুদৃশ্য ফোয়ারা এবং সামনের অংশে শানবাঁধানো পুকুর দিয়ে। সে সময় রোজ গার্ডেন ছিল ঢাকার অন্যতম দর্শনীয় স্থান।

তবে নির্মাণের কয়েক বছরের মধ্যেই ঋষিকেশ দাস দেউলিয়া হয়ে পড়েন। ১৯৩৬ সালে তিনি বাড়িটি ঢাকার বই ব্যবসায়ী খান বাহাদুর মৌলভী কাজী আবদুর রশীদের কাছে বেচে দেন।

বিখ্যাত প্রভিন্সিয়াল লাইব্রেরি এখানেই প্রতিষ্ঠিত হয়, যার মালিক ছিলেন ব্যবসায়ী আব্দুর রশিদ।

১৯৬৬ সালে আব্দুর রশিদের ভাই কাজী হুমায়ূন ভবনের মালিকানা পান। তারপর থেকে ভবনটির নাম হুমায়ূন সাহেবের বাড়ি নামে বিখ্যাত হয়ে ওঠে।

১৯৭০ সালে কাজী হূমায়ূন বাড়িটি তৎকালীন চলচ্চিত্র উন্নয়ন সংস্থা মোশন পিকচার্স লিমিটেডের কাছে ভাড়া দেন। সেই সময় ভবনটি বেঙ্গল ষ্টুডিও নামে বিখ্যাত হয়ে ওঠে। ১৯৯৩ সালে বেঙ্গল ষ্টুডিও চলে গেলে আবার বাড়িটি চলে আসে কাজী হূমায়ূন পরিবারের কাছে।

ততদিন আর কাজী হুমায়ূন বেঁচে ছিলেন না, ভবনটির মালিকানা পান তার বংশধর কাজী রকিব।

১৯৮৯ সালে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর রোজ গার্ডেনকে সংরক্ষিত ভবন হিসেবে ঘোষণা দিলেও পরে ভবনটির মালিকানা মূল মালিকরাই ফিরে পান। তারপর থেকেই ভবনটির দেখভাল চলছিল কাজী রাকিব পরিবারের তত্ত্বাবধানে। রোজ গার্ডেনের মালিক লায়লা রকীব ও তার সন্তানদের কাছ থেকে রেজিস্ট্রেশন দলিল মূলে এটি কিনে নেওয়া হয়।




শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর নির্বাচন নিশ্চিতে সেনাবাহিনীর সহায়তা প্রয়োজন: প্রধান উপদেষ্টা

ডেস্ক নিউজঃ প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ, উৎসবমুখর ও আনন্দময় পরিবেশে আয়োজন করতে সেনাবাহিনীর সহায়তা অত্যন্ত জরুরি। বুধবার (১৯ নভেম্বর) দুপুরে মিরপুর সেনানিবাসে ডিফেন্স সার্ভিস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজের (ডিএসসিএসসি) কোর্স–২০২৫ এর গ্র্যাজুয়েশন সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ২৪টি দেশের তরুণ সামরিক কর্মকর্তাদের হাতে সনদ তুলে দেন প্রধান উপদেষ্টা। এ বছর চীন, ভারত, পাকিস্তান, তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশের ৩১১ জন অফিসার প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশ নেন।

নির্বাচন প্রসঙ্গে ড. ইউনূস বলেন, ‘দেশবাসীর দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত এই নির্বাচনকে সত্যিকার অর্থে একটি শান্তিপূর্ণ উৎসব এবং আনন্দমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত করতে আমাদের সেনাবাহিনীর সহায়তা একান্তভাবে কামনা করছি।’

তিনি জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানেও সেনাবাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন। তার ভাষায়, ‘সেনাবাহিনী সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিল এবং এই কারণে আমি তাদের ভূমিকায় ভূয়সী প্রশংসা করি।’

কোর্সে অংশগ্রহণকারী অফিসাররা অনুষ্ঠানে অর্জিত জ্ঞান ভবিষ্যতে ব্যক্তিগত ও পেশাগত ক্ষেত্রে কাজে লাগানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তাদের মতে, জাতীয় যে কোনো সংকটময় মুহূর্তে এই প্রশিক্ষণ কার্যকর ভূমিকা রাখতে সহায়তা করবে।

এক বাংলাদেশি অংশগ্রহণকারী বলেন, ‘ডিএসসিএসসি-তে এই কোর্সে আমরা যে নেতৃত্ব, কৌশল এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করেছি, তা আমাদের দেশের এবং এর বাইরে যে কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত করবে। বিশেষ করে যে কোনো জাতীয় সংকটে আমরা আমাদের অর্জিত জ্ঞান প্রয়োগ করতে প্রস্তুত।’

চীন থেকে অংশ নেওয়া এক অফিসার বলেন, ‘বাংলাদেশের এই সামরিক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে চলেছে। ২৩টি দেশের সহকর্মীদের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ পাওয়ায় আমাদের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং বোঝাপড়া আরও শক্তিশালী হয়েছে। আমরা আশা করি, এই জ্ঞান ভবিষ্যতে আমাদের নিজ নিজ দেশকে নিরাপত্তা দিতে কাজে লাগবে।’

বাংলাদেশি আরেক অফিসার প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, ‘আমাদের প্রধান উপদেষ্টা যে কথাগুলো বলেছেন, তা অত্যন্ত সময়োপযোগী। আমরা আশা করি, আমরা যারা এই কোর্স সম্পন্ন করলাম, তারা দেশ রক্ষায় এবং প্রয়োজনে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ কাজে, যেমন: একটি সুষ্ঠু নির্বাচন প্রক্রিয়ায়, আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত থাকব।’




‘তদন্তের পর আমি জানতে পারব’, সাংবাদিক মিজানুর প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

ডেস্ক নিউজঃ দৈনিক ভোরের কাগজ অনলাইন বিভাগের প্রধান মিজানুর রহমান সোহেলকে গভীর রাতে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগে (ডিবি) নেওয়া এবং পরে বাসায় পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, ‘তদন্তের পরই তিনি বিষয়টি জানতে পারবেন।’

বুধবার (১৯ নভেম্বর) সচিবালয়ে মহান বিজয় দিবসের সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এ মন্তব্য করেন।

গতকাল মঙ্গলবার গভীর রাতে সাংবাদিক মিজানুর রহমান সোহেলকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রায় ১০ ঘণ্টা পর আজ সকাল ১০টার দিকে তাকে বাসায় পৌঁছে দেয় ডিবি। ফোনে তিনি বলেন, ‘ডিবি আমাকে বাসায় পৌঁছে দিয়েছে। আমি সুস্থ আছি।’

এ প্রসঙ্গে এক সাংবাদিকের প্রশ্নে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘এটি আমি প্রথম শুনলাম। তদন্ত করার পরই জানতে পারব।’ সাংবাদিকেরা জানতে চান, পরোয়ানা ছাড়াই রাতে তুলে নেওয়া কি আইনবহির্ভূত কিনা। জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি আগে বিষয়টি দেখব।’

ক্ষমতাচ্যু সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পর রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার প্রশ্নে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, রায়ের পর কোনো ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি হয়নি। বিজয় দিবসকে সামনে রেখে অতিরিক্ত কোনো ঝুঁকি বা অস্থিরতার আশঙ্কাও নেই।

বিজয় দিবসের কার্যক্রমে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আগের মতোই কর্মসূচি হবে। শুধু এবারও গতবারের মতো প্যারেড অনুষ্ঠিত হবে না।’




ওসি সায়েদের নির্দেশে এএসআই বিশ্বজিৎ পেট্রোল ঢেলে ছয়টি মরদেহ পুড়িয়ে দেন

ডেস্ক নিউজঃ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে চব্বিশের ৫ আগস্ট আশুলিয়ায় পুড়িয়ে ফেলা শহীদদের জন্য কিছু করতে না পারায় তাদের পরিবারসহ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন রাজসাক্ষী শেখ আবজালুল হক।

বুধবার (১৯ নভেম্বর) আশুলিয়ায় ছয় মরদেহ পোড়ানোসহ সাতজনকে হত্যার দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক এমপি সাইফুল ইসলামসহ ১৬ আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেন তিনি।

ট্রাইব্যুনাল-২ এর সদস্য অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলে তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। এ মামলায় ২৩ নম্বর সাক্ষী হিসেবে দেওয়া জবানবন্দিতে গত বছরের ৫ আগস্ট ঘটে যাওয়া ঘটনার পুরো বর্ণনা তুলে ধরেন রাজসাক্ষী আবজালুল। 

যদিও মরদেহ পোড়ানোর সময় তিনি ছিলেন না। তবে ১৫ আগস্ট নিজের ইস্যু করা অস্ত্র জমা দিতে এসে জানতে পারেন লাশ পুড়িয়ে দেওয়ার কথা। আশুলিয়া থানার তৎকালীন ওসি সায়েদ ও এএসআই বিশ্বজিৎকে মরদেহ পোড়ানোর ঘটনায় দায়ী করেন তিনি। একইসঙ্গে ওসি সায়েদের নির্দেশে এএসআই বিশ্বজিৎ পেট্রোল ঢেলে ছয়টি মরদেহ পুড়িয়ে দেন বলে জানান তিনি। সবশেষ ট্রাইব্যুনালের কাছে ক্ষমা চান তিনি।

চলতি বছরের ২১ আগস্ট এ মামলায় ১৬ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। ওই সময় উপস্থিত আট আসামির সাতজনই নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। তবে দোষ স্বীকার করেন এসআই শেখ আবজালুল হক। একইসঙ্গে রাজসাক্ষী হতে চেয়ে মামলার ব্যাপারে যা জানেন সব আদালতের কাছে বলতে চান। পরে তার দোষ স্বীকারের অংশটুকু রেকর্ড করা হয়। একইসঙ্গে লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রাজসাক্ষী হওয়ার অনুমতি পান তিনি।

এর আগে মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য থাকলেও বিশেষ পরিস্থিতির কারণে হয়নি। যদিও আসামিদের হাজির করা হয়। ১২ নভেম্বরও একই কারণে সাক্ষীকে হাজির করেনি প্রসিকিউশন। এরই ধারাবাহিকতায় আজ সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে।

গত ৫ নভেম্বর ২২ নম্বর সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন প্রত্যক্ষদর্শী শাহরিয়ার হোসেন সজিব। তার সামনেই একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। এমনকি তার বন্ধু সাজ্জাদ হোসেন সজলকেও আগুনে পুড়িয়ে দেয় পুলিশ। পরে তাকে জেরা করেন স্টেট ডিফেন্স ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।

৩০ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেন গুলিবিদ্ধ হওয়া ভুক্তভোগী সানি মৃধা। ২১ নম্বর সাক্ষী হিসেবে দেওয়া জবানবন্দিতে পুলিশের গুলিতে নিজে আহত হওয়ার কথা জানান তিনি। একইসঙ্গে গত বছরের ৫ আগস্ট আশুলিয়ার নির্মমতার দৃশ্যের বিবরণ দেন। ২৯ অক্টোবর জব্দ তালিকার সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন আশুলিয়া থানার এসআই মো. আশরাফুল হাসান। তিনি একই থানার ওসির নির্দেশে চলতি বছরের ১৪ এপ্রিল রাইফেলের ছয় রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেন বলে জানিয়েছেন। পরে থানায় জমা দেন এ আলামত।

গত ১৫ সেপ্টেম্বর প্রথম দিনের মতো সাক্ষ্য দেন শহীদ আস সাবুরের ভাই রেজওয়ানুল ইসলাম ও শহীদ সাজ্জাদ হোসেন সজলের বাবা মো. খলিলুর রহমান। এর আগের দিন সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। গত বছরের ৫ আগস্ট আশুলিয়ার সেই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা তুলে ধরেন তিনি।

গত ২ জুলাই মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেয় প্রসিকিউশন। আনুষ্ঠানিক অভিযোগের সঙ্গে অন্যান্য তথ্যসূত্র হিসেবে ৩১৩ পৃষ্ঠা, সাক্ষী ৬২, দালিলিক প্রমাণাদি ১৬৮ পৃষ্ঠা ও দুটি পেনড্রাইভ যুক্ত করা হয়। পরে এ মামলায় ১৬ জনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল।

এ মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া আট আসামি হলেন-  ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, ঢাকা জেলা পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, পরিদর্শক আরাফাত হোসেন, এসআই মালেক, এসআই আরাফাত উদ্দিন, এএসআই কামরুল হাসান, আবজাল ও কনস্টেবল মুকুল। তবে সাবেক এমপি সাইফুলসহ আটজন এখনো পলাতক রয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৫ আগস্ট সাভারের আশুলিয়ায় পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান ছয় তরুণ। এরপর পুলিশ ভ্যানে তাদের মরদেহ তুলে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। নৃশংস এ ঘটনার সময় একজন জীবিত ছিলেন। কিন্তু তাকেও বাঁচতে দেননি তারা। পেট্রোল ঢেলে জীবন্ত মানুষকেই পুড়িয়ে মারা হয়। এ ঘটনায় গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা করা হয়।