জ্বালানি তেল আমদানি নীতিমালা নিয়ে বিভ্রান্তি, যা বলছে মন্ত্রণালয়

ডেস্ক নিউজ : বেসরকারি পর্যায়ে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি, সংরক্ষণ, পরিবহন, বিতরণ ও বিপণন নিয়ে প্রস্তাবিত নীতিমালা সম্পর্কে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘অনুমাননির্ভর ও অসত্য’ তথ্য প্রচার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। শনিবার মন্ত্রণালয়ের উপপ্রধান তথ্য অফিসার মুহাম্মদ আরিফ সাদেক স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে নিরবচ্ছিন্ন ও নিরাপদ জ্বালানি তেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে ‘বেসরকারি পর্যায়ে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানিপূর্বক সংরক্ষণ, পরিবহন, বিতরণ ও বিপণন নীতিমালা, ২০২৬’-এর একটি খসড়া প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত নীতিমালার মূল উদ্দেশ্য দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি তেল সরবরাহ ব্যবস্থা বজায় রাখা। একই সঙ্গে স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে জরুরি বা সংকটকালীন পরিস্থিতিতে সরকারি ব্যবস্থার পাশাপাশি বেসরকারি খাতের অবকাঠামো ও বিনিয়োগ সক্ষমতাকে জাতীয় স্বার্থে কাজে লাগানো এ নীতিমালার অন্যতম লক্ষ্য বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, জ্বালানি খাতের সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের মতামত ও পরামর্শ গ্রহণের পর নীতিমালাটি চূড়ান্ত করা হবে। জনস্বার্থ, জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রতিযোগিতামূলক বাজারব্যবস্থা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব হলেই এ ধরনের নীতিমালা প্রণয়নের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত নীতিমালার মাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা গোষ্ঠীকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার সুযোগ নেই। সম্প্রতি প্রস্তাবিত নীতিমালা নিয়ে কিছু গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুমাননির্ভর ও অসত্য তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টিকে ‘অনভিপ্রেত’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।




জুলাইযোদ্ধাদের সিএনজি-রিকশা উপহার প্রধানমন্ত্রীর

ডেস্ক নিউজঃ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া দুই যোদ্ধার আত্মকর্মসংস্থান ও জীবিকা নির্বাহে সহায়তার লক্ষ্যে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও দুটি পেডেলচালিত রিকশা উপহার দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাদের হাতে এসব উপহার তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। এসময় প্রধানমন্ত্রী তাদের শারীরিক অবস্থা, পরিবার ও জীবিকা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

সিএনজিচালিত অটোরিকশা পেয়েছেন নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার বাসিন্দা এবং মিরপুর বাঙলা কলেজের সমাজকর্ম বিভাগের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আজিজ শেখ। তিনি সিএনজি চালিয়ে নিজের পড়াশোনার পাশাপাশি পরিবারের ভরণপোষণ করেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে মিরপুর-১০ এলাকায় অংশ নিয়ে তিনি গুলিবিদ্ধ হন। তার শরীরে ৩৬টি গুলির স্প্লিন্টার বিদ্ধ হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তাকে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার তাগিদ দেন।

কুষ্টিয়ার আলমডাঙ্গা উপজেলার বাসিন্দা মো. গফফারকে দুটি পেডেলচালিত রিকশা উপহার দেওয়া হয়। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় তিনি রাজধানীর মহাখালী এলাকায় আন্দোলনকারীদের নিয়মিত পানি সরবরাহ করেছেন এবং নিজের রিকশায় আহতদের হাসপাতালে পৌঁছে দিয়েছেন।

তিনি জানান, উপহার পাওয়া রিকশা ঢাকাতেই চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করবেন। আরেকটি রিকশা ভাড়া দেবেন।

এছাড়া বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাসিন্দা ৬৫ বছর বয়সী আসাদুল হক বিশুকে দুটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা উপহার দেন প্রধানমন্ত্রী।

এসময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও গুরুতর আহত ১০ ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের হাতে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেন। তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়নের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি সুন্দর, উন্নত ও প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব আবু আব্দুল্লাহ এম সালেহ শিবলী এবং অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমন।




চাকরি পেলেন জুলাই শহিদ ও আহত পরিবারের ১০ সদস্য

ডেস্ক নিউজঃ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জুলাইয়ের শহিদ ও আহত পরিবারের ১০ সদস্যের হাতে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দিয়েছেন।

শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও গুরুতর আহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের হাতে প্রধানমন্ত্রী চাকরির নিয়োগপত্র প্রদান করেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু এ তথ্য জানান।

চাকুরির নিয়োগপত্র প্রাপ্তরা হলেন, শহীদ মো. সোহাগের স্ত্রী সাবিনা আক্তার রিমা, শহিদ মো. শাহরিয়ারের স্ত্রী রাজিয়া খাতুন, শহীদ মো. আব্দুল্লাহ কবিরের স্ত্রী আফসানা আক্তার, শহিদ মো. মোস্তফা কামাল রাজুর স্ত্রী আকলিমা আক্তার, শহিদ মো. জুয়েলের স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার সুবর্ণা, শহিদ মিরাজের বোন সামিয়া ইসলাম পপি, শহিদ আহসান কবিরের স্ত্রী হাফিজা আক্তার হ্যাপি এবং শহিদ ওমর নুরুল আবছারের স্ত্রী ফারজানা আক্তার রাণী এবং গুরুতর আহত মো. আব্দুল মতিনের স্ত্রী সাবানা আক্তার এবং গুরুতর আহত মো. জুলফিকার আলমের স্ত্রী মোছা. আরজু আক্তার।

উপ-প্রেস সচিব জানান, প্রধানমন্ত্রী জুলাই শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্যদের চাকুরির নিয়োগপত্র দিয়েছেন। তাদের সাথে কথা বলেছেন এবং পরিবারের খোঁজ-খবর নিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে মানুষের আত্মত্যাগের কথা তুলে ধরে বলেন, ‘এসব আত্মত্যাগের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল একটি উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে দেশের মানুষ আরও ভালোভাবে বসবাস করতে পারবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যাঁদের আমরা হারিয়েছি, যাঁরা শারীরিকভাবে আহত হয়েছেন কিংবা অন্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাঁদের সবার আত্মত্যাগের পেছনে একটি আকাঙ্ক্ষা ছিল, সেটি হলো বাংলাদেশকে আরও ভালো করা।’

রাষ্ট্র ও সরকারের নানা সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সীমাবদ্ধতার মধ্যেও দেশকে বাস্তবতার নিরিখে এগিয়ে নিতে হবে। আমরা কী পেলাম, সেটিই সবচেয়ে বড় কথা নয়। বরং আমরা দেশকে কী দিতে পারলাম, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। এই লক্ষ্য সামনে রেখে ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে পারলে আগামী দিনে আমরা যে বাংলাদেশ চাই, সেই প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।’

জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়নের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে প্রধানমন্ত্রী জানান।

অনুষ্ঠানে সম্প্রতি চাকরিতে যোগ দেয়া শহিদ আব্দুল্লাহ বীন জাহিদের মা ফাতেমা তুজ জোহরা ও আহত জুলাই যোদ্ধা সোহেলি তামান্নাও উপস্থিত ছিলেন এবং তারাও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন।

শহিদ পরিবারের সদস্য ও আহত জুলাই যোদ্ধারা চাকরি নিয়োগপত্র পেয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন বলে জানান উপ-প্রেস সচিব।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন ও আমরা বিএনপি পরিবারের সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন উপস্থিত ছিলেন।




কেউ গালি দিলে তার জবাব দিতে হবে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাম্প্রতিক উত্তেজনা ও উসকানির বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, কেউ গালি দিলে তার জবাব দিতে হবে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে। পরদিন প্রতিবাদ করা যাবে, কিন্তু হামলা করা যাবে না। হামলার রাজনীতি অব্যাহত থাকলে তা পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতিরই পুনরাবৃত্তি হবে।

আজ শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদা দল ও ইউট্যাব আয়োজিত ‘জুলাই অভ্যুত্থানে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বর্তমানে কিছু জায়গায় এমন পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা হচ্ছে, যাতে শিক্ষার্থী বা রাজনৈতিক কর্মীরা উত্তেজিত হয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়েন। এ ধরনের ‘ফাঁদে’ পা না দেওয়ার জন্য তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান।

মন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক চর্চার অংশ হিসেবে মতপ্রকাশ, সমালোচনা ও প্রতিবাদের সুযোগ থাকতে হবে। কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করা বা সহিংসতায় জড়ানো যাবে না। সহনশীলতা ও গণতান্ত্রিক আচরণের মধ্য দিয়েই নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দিল্লিতে অবস্থান করে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে যে বক্তব্য ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন, তার দায় এড়াতে পারে না ভারত। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চাইলে পারস্পরিক মর্যাদা, সম্মান ও সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে সেই সম্পর্ক এগিয়ে নিতে হবে। একই সঙ্গে হাসিনাকে ভারতে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগ দেওয়া এবং বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক দুটো বিষয় একসঙ্গে চলতে পারে না।




অস্ট্রেলিয়ায় গমনেচ্ছুদের জন্য হাইকমিশনের সতর্কবার্তা

ডেস্ক নিউজঃ বাংলাদেশি নাগরিকদের অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস ও কাজের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতারণার ফাঁদে ফেলার অভিযোগে ভুয়া মাইগ্রেশন এজেন্টদের বিষয়ে সতর্ক করেছে ঢাকার অস্ট্রেলিয়ান হাইক‌মিশন।

শনিবার ঢাকার অস্ট্রেলিয়ান হাইক‌মিশন এক বার্তায় অ‌স্ট্রেলিয়া গম‌নেচ্ছু‌দের এ পরামর্শ দি‌য়ে‌ছে।

বার্তায় উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশি নাগরিকদের অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস ও কাজের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতারণার ফাঁদে ফেলছে ভুয়া মাইগ্রেশন এজেন্টরা।

এক্ষেত্রে ভিসা-সংক্রান্ত সঠিক পরামর্শ পাওয়ার একটি নির্ভরযোগ্য উপায় হলো, অস্ট্রেলিয়ায় নিবন্ধিত একজন মাইগ্রেশন এজেন্ট (যিনি বাংলাদেশেও কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন) অথবা একজন অস্ট্রেলীয় আইনজীবীর সেবা নেওয়া।

নিবন্ধিত সব অস্ট্রেলীয় মাইগ্রেশন এজেন্টকে একটি নির্দিষ্ট আচরণবিধি অনুসরণ করতে হয় এবং নির্ধারিত জ্ঞান ও পেশাগত মানদণ্ড মেনে চলতে হয়। এর মধ্যে রয়েছে— তারা যে কাজ করেন তার জন্য ন্যায্য ও যুক্তিসংগত ফি নেওয়া। তারা কী কী সেবা দিতে করবেন এবং তার খরচ কত পড়বে, তা আপনাকে লিখিতভাবে জানানো। আপনার ভিসা আবেদনের ফলাফল সম্পর্কে আপনাকে যত দ্রুত সম্ভব অবহিত করা।

একজন নিবন্ধিত মাইগ্রেশন এজেন্টের কার্যক্রম সম্পর্কে জান‌তে https://www.mara.gov.au/get-help-visa-subsite/FIles/consumer_guide_bengali.pdf এই ও‌য়েবসাইট দেখার পরামর্শ দি‌য়ে‌ছে হাইক‌মিশন।




এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ সোমবার, যেভাবে জানবেন

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল আগামী সোমবার (১০ আগস্ট) প্রকাশ করা হবে। এসএমএসের মাধ্যমে ফলাফল জানতে পারবেন পরীক্ষার্থীরা। পাশাপাশি সব শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটেও ফল প্রকাশ করা হবে।

আজ শনিবার (৮ আগস্ট) বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সৈয়দ আক্তারুজ্জামান এ তথ্য জানিয়েছেন।

সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, সব শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে ফলাফল পাওয়া যাবে। নিজ নিজ বোর্ডের ফল সংশ্লিষ্ট বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। এ ছাড়া দুটি অভিন্ন ওয়েবসাইট—eduboardresult.gov.bd ও educationboardresults.gov.bd—থেকেও ফলাফল জানা যাবে।

এসএমএসে যেভাবে ফল জানা যাবে 

বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, মুঠোফোনে যেকোনো সিম ব্যবহার করে এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানা যাবে। এ জন্য মেসেজ অপশনে গিয়ে প্রথমে SSC লিখে স্পেস দিয়ে বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর, এরপর রোল নম্বর লিখতে হবে। এরপর স্পেস দিয়ে YEAR লিখে ১৬১৪০ নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে। ফিরতি এসএমএসে পরীক্ষার ফল জানিয়ে দেওয়া হবে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এসএমএসের ফরম্যাট হবে SSC DHA ROLL YEAR। মাদরাসা বোর্ডের অধীন দাখিল পরীক্ষার্থীদের ফল জানতে SSC MAD ROLL YEAR লিখে ১৬১৪০ নম্বরে পাঠাতে হবে। আর কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষার্থীদের SSC TEC ROLL YEAR লিখে একই নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে।

প্রতিটি এসএমএসের জন্য ১ টাকা ৩৯ পয়সা চার্জ প্রযোজ্য হবে। এই চার্জের মধ্যে সব ধরনের কর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।




বাজার সিন্ডিকেট ও মজুতদারি করলেই কঠোর ব্যবস্থা : আইনমন্ত্রী

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, বাজারগুলোতে ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে কৃষকদের জিম্মি করে ফেলেছে। এসব সিন্ডিকেট ভেঙে প্রান্তিক কৃষকদের লাভবান করতে আমরা কাজ করছি। বাজার সিন্ডিকেট ও মজুতদারির বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন প্রয়োগ করা হবে। ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে মজুতদারির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। সুতরাং যারা মজুতদারি করবেন, তারা ভেবেচিন্তে করবেন।

আজ শনিবার (৮ আগস্ট) ঝিনাইদহের শৈলকূপায় পাট ও পেঁয়াজের পাইকারি হাট ও আড়ত পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, আমাদের কৃষকরা ঘাম ঝরিয়ে ফসল ফলিয়ে ন্যায্য দাম পান না। বাজারে আসার পর কৃষকরা সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েন। এক মণ পাট বা পেঁয়াজে অতিরিক্ত ২ কেজি করে তোলা দিতে হতো। এরপরে আবার বাজারের পরিচ্ছন্নতা কর্মী ও হিজড়ারা কৃষকের কাছ থেকে তোলা নেয়। ফলে দেখা গেছে, এক মণে কৃষক দিচ্ছে ৪৫ কেজি। এটা অন্যায্য।

আইনমন্ত্রী বলেন, বাজারের এই সিন্ডিকেট আমরা ভেঙে দেব। এরই মধ্যে সব হাট ও বাজারে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নিয়ম লঙ্ঘন করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। যেসব ব্যবসায়ী তোলা না পেলে মালামাল কিনবেন না বলে হুমকি দিচ্ছেন, তাদের বলব- বাজার ছেড়ে চলে যান। বিকল্প ব্যবসায়ী এমনিতেই তৈরি হয়ে যাবে।

বাজার পরিদর্শনকালে আইনমন্ত্রীর সঙ্গে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন বাবর ফিরোজসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।




‘জুলাই এখনো শেষ হয়নি’ প্রদর্শনী শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়ার ভাষণ না থাকার ব্যাখ্যা দিলেন জামায়াত আমির

‘জুলাই এখনো শেষ হয়নি’ শীর্ষক প্রদর্শনীতে শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ স্থান পেলেও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণা না থাকায় ব্যাখ্যা দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, প্রদর্শনীটি কর্তৃত্ববাদী ও ফ্যাসিবাদী শাসনের ধারাবাহিকতা তুলে ধরার উদ্দেশ্যে আয়োজন করা হয়েছে। জিয়াউর রহমান কর্তৃত্ববাদী শাসক ছিলেন না বলেই তার ভাষণ সেখানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

শনিবার (৮ আগস্ট) রাজধানীতে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ‘জুলাই এখনো শেষ হয়নি’ শীর্ষক প্রদর্শনী পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

জামায়াতের আমির বলেন, ইতিহাসে যার যে কল্যাণকর অবদান রয়েছে, তার প্রতি আমরা গভীর শ্রদ্ধাশীল। এ বিষয়ে আমরা নির্মোহ ও বাস্তববাদী থাকার চেষ্টা করেছি।

জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা প্রদর্শনীতে না থাকার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘উনি (জিয়াউর রহমান) তো অটোক্রেট শাসক ছিলেন না। যারা কর্তৃত্ববাদী ছিল, যারা আগ্রাসী ছিল, তাদের আমরা এখানে দেখিয়েছি। ইতিহাসের ধারাবাহিকতা তুলে ধরা হয়েছে। আবার যারা মুক্তি দিয়েছেন, ন্যায্যতার ভিত্তিতে যাদের অবদান রয়েছে, সেটাও আমাদের ডকুমেন্টারিতে তুলে ধরা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘সাড়ে ১৫ বছর বিভিন্নভাবে মানুষের অধিকার হরণ করার চেষ্টা করা হয়েছে। আমরা আন্দোলন করেছি, দফায় দফায় জীবন দিয়েছি, পঙ্গু হয়েছি, জেলে গেছি, মামলার ভার কাঁধে নিয়েছি। কিন্তু তাতেও বিদায় হয়নি। অবশেষে জুলাইয়ে আবারও মানুষ জেগে উঠল, ছাত্ররা গর্জে উঠল।’

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আন্দোলন দমন করতে গিয়ে ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীদের ওপর হামলা চালানো হয়। মেয়েদের গায়ে হাত ওঠার পর মায়েরাও রাস্তায় নেমে আসেন। এরপর আন্দোলন আরও বিস্তৃত হয়। ১৬ জুলাই রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে হত্যার মধ্য দিয়ে নতুন করে হত্যাকাণ্ড শুরু হয়। একই সময়ে ঢাকায় দুজন এবং চট্টগ্রামে তিনজন নিহত হন। ১৮ জুলাই থেকে ধারাবাহিকভাবে হত্যাকাণ্ড চলতে থাকে।’

জামায়াতের আমির বলেন, ‘৩ আগস্ট জাতির ভাগ্য নির্ধারণের একটি সুযোগ তৈরি হয়। সেনাবাহিনীর সাধারণ অফিসার ও জওয়ানরা যখন অস্বীকৃতি জানালেন যে তারা আর জনগণের বুকে অস্ত্র ধরবেন না, গুলি ছুড়বেন না, তখনও শেখ হাসিনা খুনের নেশা থেকে সরে আসেননি। বাহিনীপ্রধানদের তিনি ধমকিয়েছেন, গালিগালাজ করেছেন। তবুও তারা বলেছেন, এখন যদি অস্ত্র ধরি, লাখ লাখ মানুষের জীবন যাবে। কিন্তু তিনি নাকি বলেছেন, যত লাশ ঝরে ঝরুক, ঝরিয়ে দাও, এদের ঘরে ফিরিয়ে দাও। তারা রাজি হননি।’

তিনি আরও বলেন, ৩ ও ৪ আগস্ট হত্যাকাণ্ডের ‘রমরমা কাজ’ চলেছে। এ সময় ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়ে লাশ গুম করার অভিযোগও করেন তিনি।

পরবর্তী সময়ে সাময়িক শূন্যতা পূরণে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হলেও সরকারের অনেক উপদেষ্টা দায়িত্ব পালনে নিরপেক্ষতার পরিচয় দিতে পারেননি বলে মন্তব্য করেন জামায়াতের আমির।

তিনি বলেন, জাতীয় সংস্কারের জন্য গঠিত ঐকমত্য কমিশনে মাসের পর মাস আলোচনা করে একটি চার্টার তৈরি করা হয়েছে। ছোট ছোট বিষয়ে ৩১টি দল একমত হলেও নিজেদের স্বার্থের প্রশ্নে মতভেদ তৈরি হয়েছে। তার দাবি, এসব মতভেদের বড় অংশ বর্তমান সরকারি দলের পক্ষ থেকেই এসেছে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা যে দুয়েকটি বিষয়ে ভিন্নমত দিয়েছি, সেটা আমাদের দলের সুরক্ষার জন্য নয়, জনগণের সুরক্ষার জন্য। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি কীভাবে নিয়োগ পাবেন, নির্বাচন কমিশন কীভাবে গঠিত হবে, এসব বিষয়ে আমাদের অবস্থান ছিল, কোনো দলীয় ব্যক্তি বা দলীয় কর্তৃত্বের মাধ্যমে এগুলো গঠিত হতে পারবে না। নির্দলীয় কমিশনের মাধ্যমে এগুলো হতে হবে।’

তিনি বলেন, সংস্কার প্রস্তাবগুলোকে বৈধতা দেওয়ার জন্য একটি সংস্কার পরিষদ বা গণপরিষদ প্রয়োজন, এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য তৈরি হয়েছিল। এনসিপির দাবি ছিল গণপরিষদ, আর বিএনপি গণভোটের প্রস্তাব দিয়েছিল। জনগণ গণভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠভাবে ‘হ্যাঁ’ বললে সেই রায় বাস্তবায়নে সবাই বাধ্য থাকবে বলেও তারা জানিয়েছিল।

কিন্তু নির্বাচন ও সরকার গঠনের পর সেই অবস্থান পরিবর্তন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘তারা ক্ষমতায় গেলেন, প্রতারণার সুযোগ পেয়ে গেলেন। এবার তাদের মানসিকতা বদলে গেল। দুটি শপথ নেওয়ার কথা, একটি নিলেন, আরেকটি নিলেন না।’

সরকার গঠনের পরও পুরোনো বন্দোবস্তের পরিবর্তে একই ধরনের দুর্নীতি ও দলীয়করণ চলছে বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘এত মানুষ পঙ্গু হলো, এত মানুষ আহত হলো, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সবাই আন্দোলনে এলো। এগুলোর জন্য কি শুধু একই তরিকার এক দলকে সরিয়ে একই তরিকার আরেক দলকে বসানোর জন্য সবকিছু তৈরি হয়েছিল?’

তিনি বলেন, সংসদের ভেতরে সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি জানানো হলেও তার কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। এরপরই তারা রাজপথে নেমে জনগণের মুখোমুখি হয়েছেন। জনগণকে সঙ্গে নিয়েই অধিকার আদায়ের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

‘জুলাই এখনো শেষ হয়নি’ শীর্ষক প্রদর্শনীর উদ্দেশ্য সম্পর্কে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এটি কোনো সরকারের সফলতার চিত্র তুলে ধরার আয়োজন নয়। বরং যুগে যুগে ফ্যাসিবাদী, স্বৈরাচারী ও কর্তৃত্ববাদী শাসনামলে জনগণ কীভাবে নিপীড়ন ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে, তা তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি জাতি, শহীদ এবং শহীদ পরিবারের প্রত্যাশাও এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা এখনো পূরণ হয়নি। তাই জনগণের অধিকার নিশ্চিত হওয়ার দিনই প্রকৃত অর্থে জুলাইয়ের সমাপ্তি হবে। যে প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আন্দোলন হয়েছিল, তা বাস্তবায়িত হলেই জুলাই সার্থক হবে।’




শিক্ষক সংকটে দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান

ডেস্ক নিউজঃ দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। অর্ধেকেরও বেশি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় একদিকে প্রশাসনিক দায়িত্বের অতিরিক্ত চাপ পড়ছে শিক্ষকদের ওপর, অন্যদিকে সহকারী শিক্ষক সংকটের কারণে নিয়মিত পাঠদানও ব্যাহত হচ্ছে।

শিক্ষক সংকটের কারণে অনেক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের অতিরিক্ত ক্লাস নিতে হচ্ছে, একাধিক বিষয়ের পাঠদান করতে হচ্ছে এবং একই সঙ্গে প্রশাসনিক দায়িত্বও পালন করতে হচ্ছে। এতে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের প্রতি প্রয়োজনীয় মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ কমে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এর প্রভাব পড়ছে পাঠদানের মান ও শিক্ষার্থীদের শেখার ফলাফলেও।

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন সম্প্রতি জানিয়েছেন, দেশের ৬৫ হাজার ৫৬৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৩৬ হাজার ২৩৫টিতেই প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। অর্থাৎ দেশের অর্ধেকেরও বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বর্তমানে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক ছাড়াই চলছে।

তবে সরকার বলছে, প্রধান শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতা এখন অনেকটাই কেটে গেছে। শিগগিরই শূন্য পদে নিয়োগ ও পদোন্নতির কার্যক্রম শুরু হবে।

অন্যদিকে, সহকারী শিক্ষক সংকটও প্রায় সমাধানের পথে বলে জানিয়েছে সরকার। নতুন নিয়োগ পাওয়া ১৪ হাজারের বেশি শিক্ষক বর্তমানে প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করছেন। প্রশিক্ষণ শেষে তাদের বিদ্যালয়ে যোগদানের কথা রয়েছে।

একজন শিক্ষকেই চলছে পুরো বিদ্যালয়
জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম নাংলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চিত্র শিক্ষক সংকটের ভয়াবহতা স্পষ্ট করে। বিদ্যালয়টিতে অনুমোদিত শিক্ষক পদ পাঁচটি। কিন্তু গত ১৫ জানুয়ারি থেকে সেখানে শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র একজন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল মোমিন একাই ৭০ শিক্ষার্থীকে পড়ানোর পাশাপাশি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমও পরিচালনা করছেন।

তিনি বলেন, “শিক্ষক সংকটের কারণে অনেক অভিভাবকই তাদের সন্তানদের এই বিদ্যালয়ে ভর্তি করতে আগ্রহী নন।”

প্রধান শিক্ষক শুধু শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করেন না; তিনি বিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। প্রতিদিনের কার্যক্রম তদারক, শিক্ষকদের কাজের সমন্বয়, বিভিন্ন নথিপত্র সংরক্ষণ, আর্থিক ও প্রশাসনিক বিষয় পরিচালনা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও সরকারি দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ- সবই তার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।

কিন্তু প্রধান শিক্ষকের পদ দীর্ঘদিন শূন্য থাকলে এসব দায়িত্ব কোনও একজন সহকারী শিক্ষককে পালন করতে হয়। ফলে ওই শিক্ষককে একদিকে প্রশাসনিক কাজ সামলাতে হয়, অন্যদিকে শ্রেণিকক্ষেও পাঠদান করতে হয়। এতে বিদ্যালয়ে কার্যকরভাবে পাঠদানের জন্য উপলব্ধ শিক্ষকসংখ্যা আরও কমে যায় বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

এক দশক ধরে প্রধান শিক্ষক নেই
কুমিল্লা সদর উপজেলার উত্তর রসুলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় এক দশক ধরে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ মঞ্জুরুল আলম প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে তাকে বিদ্যালয়ের ২২৫ শিক্ষার্থীকে পাঠদান করতে হচ্ছে। এর পাশাপাশি প্রশাসনিক, আর্থিক ও দাফতরিক দায়িত্বও সামলাতে হচ্ছে তাকে।

মঞ্জুরুল আলম বলেন, “দুটি দায়িত্ব একসঙ্গে পালন করতে গিয়ে স্বাভাবিকভাবেই পাঠদানের জন্য প্রয়োজনীয় সময় ও মনোযোগ কমে যায়। এতে শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”

আইনি জটিলতায় আটকে ছিল নিয়োগ
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের (ডিপিই) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিয়োগ, জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতি নিয়ে আইনি জটিলতার কারণে দেশের অনেক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বছরের পর বছর প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে।

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, প্রধান শিক্ষকের ২০ শতাংশ পদ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে এবং ৮০ শতাংশ পদ সহকারী শিক্ষকদের মধ্য থেকে পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করা হয়।

২০১৭ সালে ২০১৩ সালের নিয়োগ বিধিমালার জ্যেষ্ঠতা-সংক্রান্ত একটি বিধান চ্যালেঞ্জ করে রিট করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ ও পদোন্নতির প্রক্রিয়া কার্যত আটকে ছিল।

তবে গত ২ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতি-সংক্রান্ত বিধিমালার একটি অংশ বাতিল করে দেওয়া হাইকোর্টের রায় বাতিল করেন। এর ফলে দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতার বড় একটি বাধা দূর হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিশেষ ব্যবস্থায় সরাসরি নিয়োগ ও পদোন্নতির মাধ্যমে শূন্য পদ পূরণের জন্য শিগগিরই সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) কাছে আনুষ্ঠানিক চাহিদাপত্র পাঠানো হবে।

সহকারী শিক্ষক সংকটও ভোগাচ্ছে বিদ্যালয়গুলোকে
প্রধান শিক্ষক সংকটের পাশাপাশি সহকারী শিক্ষক পদেও দীর্ঘদিন ধরে শূন্যতা রয়েছে।

গত বছরের অক্টোবরে তৎকালীন ডিপিই মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান জানিয়েছিলেন, সারাদেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রায় ১৩ হাজার ৫০০ সহকারী শিক্ষক পদ শূন্য ছিল।

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার সোনারুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চিত্রও একই। সেখানে অনুমোদিত শিক্ষক পদ ছয়টি হলেও কর্মরত রয়েছেন মাত্র চারজন।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আশরাফুল ইসলাম বলেন, শিক্ষক স্বল্পতার কারণে প্রতিদিন প্রায় তিনটি ক্লাস বাতিল করতে হয়।

তিনি বলেন, “একজন শিক্ষককে প্রতিদিন দুই থেকে তিনটি অতিরিক্ত ক্লাস নিতে হয়। অনেক সময় আমাকে বাংলা, ধর্ম ও ইংরেজি- তিনটি বিষয়ই পড়াতে হয়।”

শিক্ষক সংকটে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে জানিয়েছেন অভিভাবকরাও।

অভিভাবক লিপি আক্তার বলেন, “আমার সন্তান পড়াশোনায় অমনোযোগী হয়ে গেছে। এখন তাকে প্রাইভেট পড়াতে হচ্ছে। আমি স্কুল পরিবর্তন করে দেব।”

১৪ হাজার নতুন শিক্ষক যোগ দেওয়ার অপেক্ষায়
তবে সরকার বলছে, সহকারী শিক্ষক সংকট আগের তুলনায় অনেকটাই কমে এসেছে। এখন প্রায় দুই হাজার শিক্ষক ঘাটতি রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

তিনি জানান, নতুন নিয়োগ পাওয়া ১৪ হাজার শিক্ষক বর্তমানে পুলিশ ভেরিফিকেশনসহ নিয়োগের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করছেন। তাদের দুই মাসের প্রশিক্ষণও নিতে হবে।

ফলে নতুন নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের বিদ্যালয়ে যোগ দিতে আরও প্রায় দুই থেকে আড়াই মাস সময় লাগতে পারে।

দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে বর্তমানে প্রায় ৩ লাখ ৮৭ হাজার শিক্ষক কর্মরত আছেন।

১২ হাজারের বেশি বিদ্যালয়ে চার বা তার কম শিক্ষক
শিক্ষক সংকটের চিত্র আরও স্পষ্ট হয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের ‘অ্যানুয়াল সেক্টর পারফরম্যান্স রিপোর্ট ২০২৪’-এ।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের ১২ হাজার ৯৩৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চারজন বা তার কম শিক্ষক নিয়ে পাঠদান চলছে।

এর মধ্যে ১৩৩টি বিদ্যালয়ে শিক্ষক মাত্র একজন। আরও ৬৩৩টি বিদ্যালয়ে শিক্ষক রয়েছেন মাত্র দু’জন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অত্যন্ত কম জনবল নিয়ে পরিচালিত এসব বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের মান ও একাধিক শ্রেণির শিক্ষার্থীকে একই সঙ্গে পরিচালনার ক্ষেত্রে গুরুতর সমস্যা তৈরি হচ্ছে।

২০২৩ সালের তথ্যানুযায়ী, সারাদেশে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গড়ে ৬ দশমিক ২৯ জন শিক্ষক ছিলেন।

বিভাগভেদেও শিক্ষকসংখ্যায় পার্থক্য রয়েছে। প্রতি বিদ্যালয়ে গড়ে সবচেয়ে বেশি শিক্ষক ছিল চট্টগ্রাম বিভাগে—৬ দশমিক ৬৫ জন। এরপর ঢাকা বিভাগে ৬ দশমিক ৫২ এবং রাজশাহী বিভাগে ৬ দশমিক ৪৬ জন।

অন্যদিকে সবচেয়ে কম গড় শিক্ষকসংখ্যা ছিল সিলেট বিভাগে- ৫ দশমিক ৫৯ জন। বরিশাল বিভাগে এই সংখ্যা ছিল ৫ দশমিক ৮৯ জন।

ডিপিইর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অঞ্চলভেদে শিক্ষকসংখ্যার এই পার্থক্য শিক্ষার মান ও পাঠদান ব্যবস্থায় বৈষম্য তৈরি করতে পারে।

একই সময়ে দুই শ্রেণিতে পাঠদান
ফরিদপুর সদর উপজেলার ২৪ নম্বর পূর্ব আলিয়াবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও শিক্ষক সংকট রয়েছে। সেখানে অনুমোদিত শিক্ষক পদ পাঁচটি হলেও কর্মরত আছেন মাত্র তিনজন।

বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সিহাব মোল্লা জানায়, শিক্ষক সংকটের কারণে সরাসরি তাদের পড়াশোনায় প্রভাব পড়ছে।

সে বলে, “একজন শিক্ষককে প্রায়ই একই সময়ে দুটি ক্লাস নিতে হয়। কখনও কখনও একটি ক্লাস শেষ না করেই অন্য ক্লাসে চলে যেতে হয়।”

শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত দায়িত্বের কারণে শুধু ক্লাস বাতিল বা সংক্ষিপ্ত হচ্ছে না, শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া, দুর্বল শিক্ষার্থীদের আলাদাভাবে সহায়তা করা এবং নিয়মিত মূল্যায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজও ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দ্রুত পদ পূরণ না হলে বাড়বে সংকট
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সংকট এখন শুধু জনবলসংক্রান্ত সমস্যা নয়; এটি সরাসরি শিক্ষার মানের সঙ্গে সম্পর্কিত হয়ে উঠেছে। একদিকে ৩৬ হাজারের বেশি প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য, অন্যদিকে হাজার হাজার সহকারী শিক্ষক পদেও ঘাটতি রয়েছে। এর ফলে অনেক বিদ্যালয়ে একজন শিক্ষককে একই সঙ্গে শিক্ষক, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা—তিন ধরনের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।

নতুন শিক্ষক নিয়োগ এবং প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ-পদোন্নতির আইনি জটিলতা কাটার পর পরিস্থিতির উন্নতির আশা করা হলেও, নতুন শিক্ষকরা মাঠপর্যায়ে যোগ না দেওয়া পর্যন্ত সংকট পুরোপুরি কাটছে না।

শিক্ষাবিদদের মতে, প্রাথমিক শিক্ষা শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনের ভিত্তি তৈরি করে। এই স্তরে পর্যাপ্ত শিক্ষক নিশ্চিত করা না গেলে শুধু শ্রেণিকক্ষের পাঠদানই নয়, দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষার্থীদের শেখার সক্ষমতা ও দেশের সামগ্রিক শিক্ষার মানও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।




চিকিৎসক সমাবেশের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে চিকিৎসক সমাবেশের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ শনিবার সকালে জাতীয় সংসদের এলডি হলে আয়োজিত চিকিৎসক সমাবেশের উদ্বোধন করেন তিনি।

এর আগে জাতীয় সংসদ প্রাঙ্গণে প্রধানমন্ত্রী একটি নিম গাছের চারা রোপণ করেন। এ সময় তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও একটি গাছের চারা রোপণ করেন। এরপর জাতীয় সঙ্গীত শেষে দলীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে পরবর্তী কর্মসূচি শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী। সমাবেশ শুরুর আগে তারা শান্তির দুটি পায়রা উড়িয়ে দেন।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, ড্যাব সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ, মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।