“সোশ্যাল মিডিয়ায় বাড়ছে অশ্লীলতা ও ভুয়া তথ্য”

বিশেষ প্রতিবেদকঃ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কটূক্তি, অশ্লীল ও আক্রমণাত্মক মন্তব্যে কোনো লাগাম নেই। ভুয়া তথ্য প্রচার, রাজনৈতিক নেতাসহ বিশিষ্টজনদের চরিত্রহানি এখন চরমে। রাষ্ট্রের শীর্ষ ব্যক্তি এবং তাঁর পরিবারের সদস্যও রেহাই পাচ্ছেন না।

ভুক্তভোগী ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক, ইউটিউব—ইন্টারনেটভিত্তিক এসব প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়া অগণিত অস্থায়ী ভিডিও নৈতিকতার অবক্ষয় ঘটাচ্ছে।

রাজনৈতিক প্রশ্রয়ে সক্রিয় বিভিন্ন ‘বট বাহিনী’। গালাগালকে এখন বাকস্বাধীনতা বলে অপরাধ আড়ালের চেষ্টা চলছে। প্রতিবাদের ভাষা ক্রমে পাল্টে যাচ্ছে অশ্লীলতা ও ঘৃণায়।
এই পরিস্থিতিতে দেশ, রাষ্ট্র, সমাজ, রাজনীতি নিয়ে কোনো পোস্ট দিতে ভয় পাচ্ছেন সজ্জন ব্যক্তিরা।

এমনও ঘটনা ঘটছে যে একজন বিশিষ্ট নাগরিকের কোনো কন্যাসন্তান নেই। কিন্তু ফেসবুকে প্রচার করা হলো—অমুকের কন্যা আপত্তিকর কাজে লিপ্ত। কয়েক দিন আগে একটি রাজনৈতিক দলের নারী কর্মীর মৃত্যুসংবাদ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন সম্পর্কে অশ্লীল মন্তব্যের ছাড়াছড়ি লক্ষ করা যায়। একজন মৃত ব্যক্তি সম্পর্কে এ ধরনের ঘৃণা প্রকাশ সামজিক মূল্যবোধের অবিশ্বাস্য অবক্ষয় বলে অনেকে মনে করেন।

কয়েক দিন আগে ‘বিজ্ঞানতথ্য’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে নাসার ঐতিহাসিক আর্টেমিস-২ চন্দ্রাভিযান নিয়ে তথ্যবহুল একটি পোস্ট লেখা হয়। এই মিশনে তিনজন পুরুষ নভোচারীর সঙ্গে অংশ নিয়েছিলেন ক্রিশ্চিনা কোচ নামের ৪৭ বছর বয়সী একজন নারী নভোচারী। পোস্টটিতে ওই নারী সম্পর্কে অনেকেই অশ্লীল মন্তব্য করলে পোস্টদাতা লেখেন, ‘মানুষ শিক্ষিত কি না তাকে বোঝার অন্যতম উপায় হলো তার আচরণ এবং ভাষা। এটিই শিক্ষার প্রতিফলন ঘটায়।…ক্রিশ্চিনা কোচ একজন বয়স্ক মহিলা।
তাঁকেও সমাজের যে এক শ্রেণির মানুষ জঘন্য ভাষায় ইঙ্গিত করতে পারে, তাদের কাছে কোনো নারীই নিরাপদ না। যারা অন্যদের মাকে অসম্মান করতে পারে  তারা বরং নিজেদের মাকেই অসম্মান করে।’

লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ গত বছর তাঁর ফেসবুক পোস্টে লিখেছিলেন, ‘একসময় রাজনৈতিক বিষয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিতাম। এখন পারতপক্ষে দিই না। মূর্খ আর বেয়াদব অর্বাচীনরা যেভাবে হামলে পড়ে, ট্রল করে, তা দেখলে রক্তচাপ বেড়ে যায়।’

তিনি আরো লিখেছিলেন, ‘ফেসবুক এ দেশে এখনো সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম হয়ে উঠল না। এটা চলে গেছে মূর্খ আর ইতরদের দখলে। এরা উগ্র জাতিবাদী, ধর্মোন্মাদ, সাম্প্রদায়িক, প্রচণ্ড রকম নারীবিদ্বেষী। চিলে কান নিয়ে গেছে শুনলে এরা চিলের পেছনে দৌড়ায়। এদের পোস্ট কিংবা মন্তব্য পড়লে বোঝা যায়, এদের ন্যূনতম পড়াশোনা নেই, হোমওয়ার্ক নেই, শোভন ভাষা ব্যবহারের পারিবারিক শিক্ষা নেই। এরা উইট বোঝে না।’

গত বছরের শেষ দিকে রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ে গালাগাল সম্পর্কে একজন নারী সাংবাদিক তাঁর ফেসবুক পোস্টে লিখেছিলেন, ‘গালাগাল নতুন নয়। কিন্তু যখন তা রাজনীতির স্লোগান হয়, তখন প্রতিবাদের ভাষা হয়ে যায় অশ্লীলতা, ঘৃণা; আজ এই অশ্লীল গালি সহজেই আমাদের সন্তানদের ডিভাইস বেয়ে তাদের মন-মগজে ঢুকছে, এটাই সবচেয়ে ভয়ংকর।’

ওই সাংবাদিক রাষ্ট্র ও সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতি প্রশ্ন রাখেন, ‘আপনারা কি বুঝতে পারছেন না, এই কদর্যতা শুধু আমার ঘরে নয়, আপনাদের ঘরেও ঢুকে পড়ছে? আপনাদের সন্তানের মনও কলুষিত করছে! দুই দিন পর কিন্তু কিছু চেয়ে না পেলে এই অশ্লীল গালিই হবে তার ক্ষোভ প্রকাশের ভাষা। অশনিসংকেত টের পাচ্ছেন না?’

গত বছর নির্বাচনের আগে একটি দলের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে ফেসবুকে ফেক আইডি খুলে প্রতিপক্ষের চৌকস নেতাদের মুখোশ খুলতে, তাঁদের চরিত্র হনন করতে। সম্ভাব্য এই আক্রমণ, অশ্লীলতার জবাব দিতে অন্য দলের পক্ষ থেকেও তাদের কর্মীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সক্রিয় হতে বলে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিভাবে বট বাহিনী গড়ে তুলে ব্যক্তি পর্যায়ে চরিত্রহানি করা হয়, সেই কাহিনি গত মাসে একটি সংবাদপত্রের ঈদ সংখ্যায় ছাপা হয়েছে। সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের একজন উপদেষ্টা ‘ ইউটিউবার’ নামের এই গল্পের লেখক।

পরিস্থিতির আরো অবনতি : গত বছরের তুলনায় চলতি বছরের পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। গত ৯ এপ্রিল প্রকাশিত আন্তর্জাতিক ফ্যাক্ট চেকিং নেটওয়ার্ক স্বীকৃত দেশের একটি ফ্যাক্ট চেকিং বা তথ্য যাচাই প্রতিষ্ঠান ‘রিউমার স্ক্যানার বাংলাদেশ’-এর প্রতিবেদন অনুসারে চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত) বাংলাদেশে মোট এক হাজার ৯৭৪টি ভুল তথ্য শনাক্ত করেছে প্রতিষ্ঠানিট, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১৩৬ শতাংশ বেশি। ২০২৫ সালের প্রথম প্রান্তিকে এই সংখ্যা ছিল ৮৩৭। প্রতিষ্ঠানটির পর্যবেক্ষণ—এই তিন মাসে ভুল তথ্যের বিস্তার বাড়ার পেছনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ জাতীয় রাজনৈতিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আগের প্রান্তিকের (২০২৫ সালের অক্টোবর-ডিসেম্বর) তুলনায় এই বৃদ্ধির হার প্রায় ৩৭ শতাংশ।

প্রতিষ্ঠানটির তথ্য, একক ব্যক্তি হিসেবে সবচেয়ে বেশি ভুল তথ্য ছড়ানো হয়েছে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে। রাজনৈতিক দলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভুল তথ্য প্রচারিত হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে নিয়ে।

সম্প্রতিক আলোচনা : সম্প্রতি একজন নারী রাজনৈতিক কর্মীকে সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে গ্রেপ্তার এবং বিষয়টি নিয়ে বাকস্বাধীনতাকেন্দ্রিক আলোচনার মধ্যে সাংবাদিক, গবেষক ও কলাম লেখক আমীন আল রশীদ সম্প্রতি তাঁর ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘আপনি দেশের প্রধানমন্ত্রী বা অন্য যেকোনো নাগরিককে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিষোদগার করবেন, গালাগাল করবেন, তাঁকে নিয়ে অসম্মানজনক শব্দ লিখবেন এবং এ কারণে আপনার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে বলবেন আপনার বাকস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হয়েছে—এটা পৃথবীর উন্নত গণতান্ত্রিক দেশও অনুমোদন করবে না। নিতান্ত রাজনৈতিক ও আদর্শিক কারণে যদি রাষ্ট্র আপনার কথা বলা ও লেখার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে, সেটি অবশ্যই বাকস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ। কিন্তু কোনো রাষ্ট্রই গালাগাল, অশ্লীলতা ও বিষোদগারের স্বাধীনতা দেয় না, দিতে পারে না। কারণ যা খুশি বলা ও লেখার স্বাধীনতা দিলে সেখানে যে নৈরাজ্য তৈরি হবে, রাষ্ট্র সেটি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না।’

আলোচিত ওই নারী রাজনৈতিক কর্মীর জামিন পাওয়া সংক্রান্ত একটি অনলাইন সংবাদ বিষয়ে একজন মন্তব্য করেন, ‘সমালোচনা বলতে আমরা কী বুঝি এটা একটু ভেবে দেখা দরকার। গঠনমূলক সমালোচনা মানে হলো তথ্যভিত্তিক, শালীন ভাষায় কোনো বিষয়ের ভুল বা সীমাবদ্ধতা তুলে ধরা, যাতে সংশোধনের সুযোগ তৈরি হয়। কিন্তু ব্যক্তিগত আক্রমণ, পরিবারকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য, মিথ্যা তথ্য বা গুজব ছড়ানো—এসবকে কোনোভাবেই সমালোচনা বলা যায় না। একইভাবে, ভুয়া ছবি বা ভিডিও তৈরি করে বিভ্রান্তি ছড়ানো কিংবা কাউকে অপমানজনক ভাষায় আক্রমণ করাও সমালোচনার অংশ নয়।’

এ ছাড়া এমন ঘটনাও ঘটছে যে ফেসবুকে কারো পোস্টের কমেন্ট বক্সে গালাগাল করে ব্র্যাকেটে লেখা হচ্ছে—‘আমি আমার বাকস্বাধীনতার কিছুটা প্রয়োগ করলাম’।

বিশেষজ্ঞ মত : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও বিশ্ববিদ্যালয়টির নৈতিক উন্নয়ন কেন্দ্রের সাবেক পরিচালক ড. শাহ কাওসার মুস্তাফা আবুলউলায়ী এ বিষয়ে বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ছাড়াও সমাজে অশালীন আচরণ, গালাগালি বেড়েছে বলেই মনে হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এ ক্ষেত্রে অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। রাজনীতিতেও এই অন্যায় চর্চা হচ্ছে। এতে আমাদের জাতি নৈতিকভাবে নিম্নগামী হচ্ছে। পাকিস্তান আমলেও রাজনীতিতে গালাগালি ছিল, কিন্তু তা ছিল একটি মাত্রার মধ্যে। একজন ফিলোসফার হিসেবে এই চর্চাকে আমি অশুভ মনে করি এবং মেনে নিতে পারি না। গালাগালি, চরিত্র হনন, অশালীন আচরণের সঙ্গে অর্ধসত্য এবং অসত্য তথ্য প্রচারও ক্ষতিকর, নৈতিকতাবিরোধী। এই পরিস্থিতি প্রতিরোধে সমাজচিন্তাবিদদের উদ্যোগ নিতে হবে। শিক্ষক, বুদ্ধিজীবীসহ দল-মত-নির্বিশেষে সবারই এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখা দরকার। আমি আমার সন্তানকে তো শালীনতা শেখাই। শালীনতা সত্যের পক্ষে এবং সত্য কথা বলতে শেখায়। আমাদের সমাজ সেভাবেই গড়ে ওঠা দরকার।’

আলোচিত বিষয়ে আইনি প্রতিকার সম্পর্কে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরশেদ বলেন, “যখন এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ছিল না, তখনো কাউকে গালাগালি করা, অসম্মান করা বা মানহানি করা—এগুলোর জন্য প্যানাল কোডে বিধান ছিল মামলা করার, এমনকি ক্ষতিপূরণ চাওয়ারও। ডিজিটাল মাধ্যম হওয়ার পরে এই মাধ্যমে যখন এগুলো শুরু হলো, তখন এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট করা হয়েছে। পরবর্তীকালে এটি বিভিন্নভাবে সংশোধন হলেও ওই বিধানটি আছে। এই অপরাধের জন্য বিচারের জায়গা হলো ট্রাইব্যুনাল। সাইবার ট্রাইব্যুনালে গিয়ে ভুক্তভোগী অভিযোগ করতে পারেন এবং সেগুলো হচ্ছেও। তবে ফেক আইডি একটি বড় ধরনের সমস্যা। ডিজিটাল যুগের সবচেয়ে বড় একটি দুর্বলতা এটি। এখানে কতগুলো ‘বট বাহিনী’ আছে। আপনি যদি কোনো পলিটিক্যাল বক্তব্য দেন, দেখবেন ৫০০ কমেন্ট আসছে। তার মধ্যে মাত্র ২০ থেকে ৩০ জনের আইডেন্টিটি বা ছবি আছে। বাকি সব এ, বি, সি, ডি…। এগুলো ভুয়া। কোনো ব্যক্তি এগুলো চালাচ্ছে, বিভিন্ন মানহানিকর বক্তব্য দিচ্ছে, কিন্তু নিজের নাম দিচ্ছে না। এ জায়গাটায় আমাদের সরাসরি কিছু করার নেই। ফেসবুক চালায় আমেরিকানরা। কোনো ব্যক্তি যদি মনে করেন কোনো অ্যাকাউন্ট থেকে অপপ্রচার হচ্ছে, তবে তিনি ফেসবুক কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করলে তাদের একটি টিম আছে, তারা চাইলে ওই আইডি ব্লক করে দিতে পারে। আমার মনে হয় এটার (বট বাহিনী) পেছনে খুব বেশি লোক নেই। কমেন্টগুলো দেখলে বোঝা যায় যে ভাষাগুলো একই ধরনের। একেক মানুষের মাথা থেকে তো একেক ধরনের কমেন্ট বা গালি আসার কথা। কিন্তু এখানে দেখা যায় একজন ব্যক্তিই শত শত ফেক আইডি ব্যবহার করে এই কাজগুলো করছে। জনসাধারণের কাছে আমার আবেদন হলো, আপনারা যখন ফেসবুকে কোনো আনআইডেন্টিফায়েড বা ছবি ছাড়া আইডি দেখবেন, সেগুলোকে ইগনোর করবেন। এগুলো আপনারা খুলবেন না বা দেখবেন না। তাহলে আলটিমেটলি তাদের উদ্দেশ্য ব্যর্থ হয়ে যাবে।”




“প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শনিবার সংবাদ সম্মেলন”

বিশেষ প্রতিবেদকঃ সরকারের ‘দুই মাস পূর্তি’ উপলক্ষে আগামীকাল শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। এদিন বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘করবী’ হলে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন, প্রেস সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র সালেহ শিবলী।

এতে আরও উপস্থিত থাকবেন, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ প্রেস উইংয়ের সদস্যরা।

সংবাদ সম্মেলনে সরকারের গত দুই মাসের কার্যক্রম, অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরা হতে পারে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি সমসাময়িক বিভিন্ন ইস্যু নিয়েও বক্তব্য দেওয়া হতে পারে।




“ভারত-বাংলাদেশ পাইপলাইনে ৫ হাজার টন ডিজেল আমদানি”

বিশেষ প্রতিবেদকঃ ভারত থেকে ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে আরও ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল দিনাজপুর পার্বতীপুর পদ্মা অয়েল ডিপোতে আসা শুরু হয়েছে।

শুক্রবার বিকেলে সাড়ে ৩টায় দিনাজপুর পার্বতীপুর পদ্মা অয়েল ডিপোর সরকারি ব্যবস্থাপক মো. আহসান হাবীব চৌধুরী এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই পার্বতীপুর রেল হেড ডিপোতে এই ডিজেল আসা শুরু হয়েছে।

সূত্র জানায়, সবশেষ গত ১৪ এপ্রিল ভারতের নুমালীগড় থেকে এই পাইপলাইনের মাধ্যমে ৮ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল পার্বতীপুর রেলহেড ডিপোতে এসেছে। এর আগে, গত মার্চ মাসে এসেছে ২২ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল। সব মিলিয়ে মার্চ থেকে এপ্রিলের ১৪ তারিখ পর্যন্ত ভারতের নুমালীগড় থেকে পার্বতীপুর রেলহেড ডিপোতে সর্বমোট ৩০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল এসেছে।

ডিপো কর্তৃপক্ষ বলেছেন, ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আসতে সময় লাগবে আনুমানিক ৫০ ঘণ্টা। এই তেল আসা শেষ হলে আগামী ৪ থেকে ৫ দিনের মধ্যে আরও ৭ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আসবে ভারতের নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেড থেকে।

দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল আমদানি অব্যাহত রেখেছে সরকার।

এর আগে, ১১ মার্চ প্রথম দফায় বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে দিনাজপুরের পার্বতীপুর ডিপোতে ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল এসে পৌঁছায়। জ্বালানি তেল সরবরাহ ঠিক রাখার লক্ষ্যে আজ শুক্রবার ছুটির দিনেও ডিপো খোলা রেখেছে ডিপো কর্তৃপক্ষ।

চলতি এপ্রিল মাসে পাইপলাইনের মাধ্যমে ভারত থেকে মোট ৫ ধাপে ৩০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আনার পরিকল্পনা রয়েছে বলে ডিপোর সূত্র নিশ্চিত করেছে।

সূত্র জানায়, জ্বালানি তেলের মজুত স্বাভাবিক রাখতে এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে এই উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।




“চাঁদা দাবির অভিযোগে মঈনসহ ৭ জন জেলে”

বিশেষ প্রতিবেদকঃ মানবিক চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলামের হাসপাতালের চাঁদা দাবির অভিযোগে করা মামলায় গ্রেফতার সাবেক যুবদল নেতা মঈন উদ্দিনসহ সাতজনকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

অপর আসামিরা হলেন এমবি স্বপন কাজী, মো. শাওন হোসেন, ফালান মিয়া, মো. রুবেল, ফারুক হোসেন সুমন ও মো. লিটন মিয়া।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম শুনানি শেষে জামিন নামঞ্জুর করে এ আদেশ দেন। এদিন রিমান্ড শেষে তাদের আদালতে হাজির করা হয়।

এরপর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও শেরেবাংলা নগর থানার মো. ছাব্বির আহমেদ তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জামিন প্রার্থনা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর আগে ১৩ এপ্রিল আসামি ফালান, রুবেল, ফারুক ও লিটনের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। পরদিন ১৪ এপ্রিল আসামি মঈন, স্বপন ও শাওনের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।

গত ১১ এপ্রিল সিকেডি হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার ইনচার্জ মো. আবু হানিফ বাদী হয়ে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন। এতে সাবেক যুবদল নেতা মঈন উদ্দিনকে প্রধান আসামি এবং ৭-৮ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়।




“পাম্পে অগ্রাধিকারভিত্তিতে তেল সরবরাহ চায় পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন”

বিশেষ প্রতিবেদকঃ জ্বালানি পাম্পে পৃথক লাইনের মাধ্যমে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তেল সরবরাহের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন। সারা দেশে দায়িত্ব পালনের সময় জ্বালানি সংকট ও দীর্ঘ লাইনের কারণে ভোগান্তি এড়াতে এমনটা দাবি করা হয়েছে।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এতে জরুরি অভিযান, টহল ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার কাজে গতি আসবে এবং জনসেবা আরও কার্যকর হবে।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) আইজিপি বরাবর এক চিঠিতে এই আবেদন করেছে বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন।

চিঠিতে বলা হয়, দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, অপরাধ দমন, মামলা তদন্ত, আসামি গ্রেপ্তার, জরুরি অভিযান পরিচালনা, ভিআইপি নিরাপত্তা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, দুর্যোগকালীন সহায়তা এবং ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন জনসেবা প্রদানের মাধ্যমে রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জরুরি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছে। বাস্তব প্রেক্ষাপটে দেখা যাচ্ছে যে, সরকারি দায়িত্ব পালনকালে অধিকাংশ পুলিশ সদস্যকে ব্যক্তিগত মোটরসাইকেল, সরকারি যানবাহন এবং রিকুইজিশনকৃত যানবাহন ব্যবহার করে তাৎক্ষণিকভাবে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতে হয়। কিন্তু বর্তমানে সারা দেশের বিভিন্ন জ্বালানি পাম্পে জ্বালানি তেল সংগ্রহের জন্য পুলিশ সদস্যদের সাধারণ জনগণের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এর ফলে পুলিশ সদস্যদের মূল্যবান কর্মঘণ্টার একটি বড় অংশ পাম্পে অপেক্ষমাণ অবস্থায় নষ্ট হচ্ছে এবং জরুরি সেবা কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে। বিশেষ করে আসামি ধরতে অভিযান, জরুরি টহল, মামলার তদন্তে ঘটনাস্থলে দ্রুত উপস্থিতি, দুর্যোগ ও দুর্ঘটনাস্থলে দ্রুত সাড়া প্রদানসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সময়মতো সম্পাদনে বিলম্ব ঘটছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, অনেক ক্ষেত্রে জরুরি প্রয়োজনে লাইনের বাইরে গিয়ে জ্বালানি সংগ্রহ করতে গেলে পুলিশ সদস্যরা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি, জনঅসন্তোষ এমনকি ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানারও সম্মুখীন হচ্ছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনভিপ্রেত। জনস্বার্থে এবং এর জরুরি দায়িত্ব পালনের স্বার্থে, সারা দেশের সব সরকারি/বেসরকারি জ্বালানি পাম্পে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের সরকারি পরিচয়পত্র প্রদর্শন সাপেক্ষে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পৃথক লাইন/বিশেষ বুথের মাধ্যমে জ্বালানি তেল সরবরাহের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আপনার সদয় হস্তক্ষেপ ও কার্যকর নির্দেশনা একান্তভাবে কামনা করছি। আপনার সদয় বিবেচনা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সমগ্র পুলিশ সদস্যবৃন্দ উপকৃত হবেন এবং জনসাধারণ আরও দ্রুত ও কার্যকর পুলিশি সেবা লাভ করবে বলে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।




মালয়েশিয়ার সারাওয়াক রাজ্যে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগে সম্মতি

ডেস্ক নিউজ: মালয়েশিয়ার সারাওয়াক রাজ্য নীতিগতভাবে আরও বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগে সম্মতি জানিয়েছে। নির্মাণ খাতে বাংলাদেশি শ্রমিকদের অবদানের প্রশংসা করে উভয়পক্ষ গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণ নিয়েও আলোচনা  করেছে।

বৃহস্পতিবার ঢাকায় প্রাপ্ত এক বার্তায় জানানো হয়, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী এবং সারাওয়াকের মুখ্যমন্ত্রী আবাং হাজি আবদুল রহমান জোহারির মধ্যে কুচিংয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ অগ্রগতি হয়।

বৈঠকে উভয়পক্ষ কৃষি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং শ্রম অভিবাসন খাতে সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

হাইকমিশনার বাংলাদেশের কৃষি ও মানবসম্পদ খাতের সক্ষমতার কথা তুলে ধরে দক্ষ, আধা-দক্ষ ও সাধারণ শ্রমিক সরবরাহের মাধ্যমে সারাওয়াকের উন্নয়নে অবদান রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

সারাওয়াকের মুখ্যমন্ত্রী প্রস্তাবগুলোকে স্বাগত জানান, বিশেষ করে ওই অঞ্চলের উন্নয়ন কৌশলের মূল স্তম্ভ কৃষি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং নির্মাণ খাতে বাংলাদেশি শ্রমিকদের ভূমিকার প্রশংসা করেন।

উভয়পক্ষ শ্রম অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের বিষয়েও আলোচনা করেন এবং কৃষি খাতেও আরেকটি এমওইউ স্বাক্ষরের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখেন। পাশাপাশি সৌরশক্তিসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে জ্ঞান ও সবুজ প্রযুক্তি বিনিময়ের সম্ভাবনাও আলোচনা হয়।

দুইপক্ষ আলোচনার ফলাফল বাস্তবায়নে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখার পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।




মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার পেলেন মাহেরীন চৌধুরী

ডেস্ক নিউজঃ সমাজসেবায় গৌরবোজ্জ্বল কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার পেলেন রাজধানীর মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহত সেই শিক্ষিকা মাহেরীন চৌধুরী। মাহেরীন চৌধুরীর পক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছ থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন তার স্বামী মনসুর হেলাল।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দেশের ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ৫ প্রতিষ্ঠানকে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬’ পদক তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেশের জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাদের এই পদক প্রদান করা হয়।

২০২৫ সালের জুলাই মাসে উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে ক্লাস চলাকালীন একটি প্রশিক্ষণ বিমান ভবনে আছড়ে পড়লে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। সেই বিভীষিকাময় মুহূর্তে নিজের জীবনের তোয়াক্কা না করে শিশু শিক্ষার্থীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে গিয়ে অগ্নিদগ্ধ হন শিক্ষিকা মাহেরীন চৌধুরী।

ওই রাতেই জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইন্সটিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার বগুলাগাড়ি চৌধুরীপাড়ার এই কৃতি সন্তানকে তার অসামান্য ত্যাগের জন্য সমাজসেবা বা জনসেবা ক্ষেত্রে এই সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দেয়া হয়।

এবারের তালিকায় সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য নাম সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও নারী শিক্ষাসহ দেশগঠনে সার্বিক অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে মরণোত্তর এ সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।

স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত অন্য ১৪ ব্যক্তি হলেন- মুক্তিযুদ্ধে মেজর মোহাম্মদ আবদুল জলিল (মরণোত্তর), বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে সাবেক সচিব ও বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক অধ্যাপক জহুরুল করিম, সাহিত্যে আশরাফ সিদ্দিকী (মরণোত্তর), সংস্কৃতিতে ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র উপস্থাপক এ কে এম হানিফ (হানিফ সংকেত), বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী বশীর আহমেদ (মরণোত্তর), ক্রীড়ায় দেশের টেবিল টেনিসের কিংবদন্তি জোবেরা রহমান (লিনু), সমাজসেবায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী (মরণোত্তর), মো. সাইদুল হক, রাজধানীর মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনায় নিহত শিক্ষক মাহেরীন চৌধুরী (মরণোত্তর), জনপ্রশাসনে কাজী ফজলুর রহমান (মরণোত্তর), গবেষণা ও প্রশিক্ষণে মোহাম্মদ আবদুল বাকী, অধ্যাপক এম এ রহিম ও অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া এবং পরিবেশ সংরক্ষণে প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এবং চ্যানেল আইয়ের পরিচালক আবদুল মুকিত মজুমদার (মুকিত মজুমদার বাবু)।

এ ছাড়া স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত পাঁচ প্রতিষ্ঠান হলো- মুক্তিযুদ্ধে ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ, চিকিৎসাবিদ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, পল্লী উন্নয়নে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ), সমাজসেবায় এসওএস চিলড্রেনস ভিলেজ ইন্টারন্যাশনাল ইন বাংলাদেশ ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র।




সংস্কৃতিতে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য স্বাধীনতা পুরস্কার পেলেন হানিফ সংকেত

ডেস্ক নিউজঃ সংস্কৃতিতে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য স্বাধীনতা পুরস্কার পেলেন হানিফ সংকেত (এ কে এম হানিফ)। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেল ৫টার দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে তিনি এই পুরস্কার গ্রহণ করেন। 

এর আগে, এদিন প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার গ্রহণ করেন তার নাতনি ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমান।

এ বছর স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, নারী শিক্ষাসহ দেশগঠনে সার্বিক অবদানের জন্য প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম  খালেদা জিয়াকে স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। খালেদা জিয়ার পক্ষে স্বাধীনতা পুরস্কার গ্রহণ করেন নাতনি জাইমা রহমান।

এদিকে খালেদা জিয়া ছাড়া স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত ১৪ ব্যক্তি হলেন- মুক্তিযুদ্ধে মেজর মোহাম্মদ আবদুল জলিল (মরণোত্তর), বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে সাবেক সচিব ও বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক অধ্যাপক জহুরুল করিম, সাহিত্যে আশরাফ সিদ্দিকী (মরণোত্তর), সংস্কৃতিতে ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র উপস্থাপক এ কে এম হানিফ (হানিফ সংকেত) ও বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী বশীর আহমেদ (মরণোত্তর), ক্রীড়ায় দেশের টেবিল টেনিসের কিংবদন্তি জোবেরা রহমান (লিনু), সমাজসেবায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী (মরণোত্তর), মো. সাইদুল হক ও রাজধানীর মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনায় নিহত শিক্ষক মাহেরীন চৌধুরী (মরণোত্তর), জনপ্রশাসনে কাজী ফজলুর রহমান (মরণোত্তর), গবেষণা ও প্রশিক্ষণে মোহাম্মদ আবদুল বাকী, অধ্যাপক এম এ রহিম ও অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া এবং পরিবেশ সংরক্ষণে প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান চ্যানেল আইয়ের পরিচালক আবদুল মুকিত মজুমদার (মুকিত মজুমদার বাবু)।

এছাড়াও স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত পাঁচ প্রতিষ্ঠান হলো- মুক্তিযুদ্ধে ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ, চিকিৎসাবিদ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, পল্লী উন্নয়নে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ), সমাজসেবায় এসওএস চিলড্রেনস ভিলেজ ইন্টারন্যাশনাল ইন বাংলাদেশ ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র।

স্বাধীনতা পুরস্কার দেশের সর্বোচ্চ জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় পুরস্কার। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই পুরস্কার দেওয়া হয়।




খালেদা জিয়ার পক্ষে স্বাধীনতা পুরস্কার গ্রহণ করলেন নাতনি জাইমা রহমান

ডেস্ক নিউজঃ প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার গ্রহণ করেছেন তার নাতনি ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমান। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে এ পুরস্কার গ্রহণ করেন তিনি। 

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬’ দেওয়ার জন্য মনোনীত করা হয়েছে।

এর আগে, এদিন বিকেল ৪টার দিকে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এই পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে মুক্তিযুদ্ধে অনন্য ভূমিকা, জাতীয় জীবনে গৌরবোজ্জ্বল ও উল্লেখযোগ্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ পদকপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি মন্ত্রিসভার সদস্য, উচ্চ পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত আছেন।

চলতি বছর স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, নারী শিক্ষাসহ দেশগঠনে সার্বিক অবদানের জন্য প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। এছাড়াও ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ৫ প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬ পদক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

মনোনীত অন্য ব্যক্তিরা হলেন- মুক্তিযুদ্ধে মেজর মোহাম্মদ আবদুল জলিল (মরণোত্তর), বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে সাবেক সচিব ও বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক অধ্যাপক জহুরুল করিম, সাহিত্যে আশরাফ সিদ্দিকী (মরণোত্তর), সংস্কৃতিতে ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র উপস্থাপক এ কে এম হানিফ (হানিফ সংকেত), বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী বশীর আহমেদ (মরণোত্তর), ক্রীড়ায় দেশের টেবিল টেনিসের কিংবদন্তি জোবেরা রহমান (লিনু), সমাজসেবায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী (মরণোত্তর), মো. সাইদুল হক, রাজধানীর মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনায় নিহত শিক্ষক মাহেরীন চৌধুরী (মরণোত্তর), জনপ্রশাসনে কাজী ফজলুর রহমান (মরণোত্তর), গবেষণা ও প্রশিক্ষণে মোহাম্মদ আবদুল বাকী, অধ্যাপক এম এ রহিম ও অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া এবং পরিবেশ সংরক্ষণে প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এবং চ্যানেল আইয়ের পরিচালক আবদুল মুকিত মজুমদার (মুকিত মজুমদার বাবু)।

এছাড়া মনোনীত পাঁচ প্রতিষ্ঠান হলো- মুক্তিযুদ্ধে ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ, চিকিৎসাবিদ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, পল্লী উন্নয়নে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ), সমাজসেবায় এসওএস চিলড্রেনস ভিলেজ ইন্টারন্যাশনাল ইন বাংলাদেশ ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র।

উল্লেখ্য, স্বাধীনতা পুরস্কার দেশের সর্বোচ্চ জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় পুরস্কার। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই পুরস্কার দেওয়া হয়। ১৯৭৭ সাল থেকে প্রতিবছর স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে এ পুরস্কার দিয়ে আসছে সরকার। স্বাধীনতা পুরস্কারের ক্ষেত্রে পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে পাঁচ লাখ টাকা, ১৮ ক্যারেট মানের ৫০ গ্রামের স্বর্ণপদক, পদকের একটি রেপ্লিকা ও একটি সম্মাননাপত্র দেওয়া হয়।




আমার এলাকার হাসপাতাল ‘নিজেই একটা রোগীর মতো’: সংসদে রুমিন ফারহানা

ডেস্ক নিউজঃ জাতীয় সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিজ সংসদীয় এলাকা সরাইলের হাসপাতাল ‘নিজেই একটা রোগীর মতো’ বলে উল্লেখ করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ২০০ শয্যার একটি হাসপাতাল স্থাপনের সিদ্ধান্ত প্রস্তাবের ওপর সংশোধনী বক্তব্য দিতে গিয়ে রুমিন ফারহানা এ মন্তব্য করেন।

এ সময় তিনি সরাইল হাসপাতালের জনবল ও অবকাঠামোগত সংকটের বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলার নয়টি ইউনিয়নের প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষের জন্য একটি হাসপাতাল আছে। যেটি মাত্র ৫০ শয্যাবিশিষ্ট। সেই হাসপাতালটি নিজেই একটা রোগীর মতো।’

রুমিন ফারহানা জানান, হাসপাতালে চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীর ব্যাপক সংকট রয়েছে। কনসালট্যান্টসহ চিকিৎসকের ৯টি, নার্সের ৬টি, মেডিকেল টেকনোলজিস্টের ২টি, ফিল্ড স্টাফের ১৫টি এবং স্বাস্থ্য সহকারীর ৮টিসহ মোট ৬৪টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য পড়ে আছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ওষুধ ও আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাবও রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, হাসপাতালের উন্নয়নের জন্য ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে ছয়তলা ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। ঠিকাদার কাজ ছেড়ে চলে যাওয়ায় এখনো পুরোনো দোতলা ভবনেই চিকিৎসাসেবা চলছে।

এ আলোচনায় অন্যান্য সংসদ সদস্যরাও নিজ নিজ এলাকার হাসপাতালের সংকট, শয্যা বৃদ্ধি এবং নতুন হাসপাতাল নির্মাণের দাবি জানান।