রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়ে অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সতর্ক করল পুলিশ

ডেস্ক নিউজ : বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণার বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।

শুক্রবার পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক বার্তায় এ বিষয়ে জানানো করা হয়। বার্তায় বলা হয়, সম্প্রতি ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়ে মিথ্যা, বানোয়াট, বিভ্রান্তিকর, উসকানিমূলক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ পুলিশ এ ধরনের অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে।

পুলিশ সদর দপ্তর জানায়, পতিত ফ্যাসিবাদী শক্তি ও তাদের দেশি-বিদেশি সহযোগীরা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করা, পুলিশ বাহিনীর মনোবল দুর্বল করা এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বার্তায় আরও বলা হয়, বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশ নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। পাশাপাশি অন্যায় তদবির গ্রহণ না করায় অসন্তুষ্ট একটি মহল মনগড়া তথ্য ছড়িয়ে অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকা, সরকারি দপ্তরে অনৈতিক তদবির এবং অপপ্রচার বন্ধের শর্তে অর্থ দাবির তথ্য-প্রমাণ রয়েছে।

এ ধরনের বিভ্রান্তিকর ও উসকানিমূলক বক্তব্য বিশ্বাস, শেয়ার বা প্রচার না করতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে গুজব ও অপপ্রচার প্রতিরোধে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের অনুরোধ করা হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তর আরও জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের অপপ্রচার অব্যাহত থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জনগণের সঙ্গে আস্থার সম্পর্ক বজায় রেখে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ পুলিশ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে বলেও বার্তায় উল্লেখ করা হয়।




আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ আছে বলে মনে করি না: জামায়াত আমির

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরা প্রসঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, রাজনীতিতে তাদের ফেরার সুযোগ আছে বলে আমি মনে করি না। এ দেশের রাজনীতি তারাই হত্যা করেছে। তারা সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। অসংখ্য মায়ের বুক খালি করেছিল, অসংখ্য মানুষ ঘুম হয়েছিল, গুম হওয়া সবাই ফিরে আসেনি এখনো। এ অবস্থায় আওয়ামী লীগ এখনই রাজনীতিতে চলে আসবে?

আজ শুক্রবার সকালে বাগেরহাট জেলা জামায়াতের রুকন সম্মেলনে যোগ দেয়ার আগে সার্কিট হাউসে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

জামায়াত আমির বলেন, আওয়ামী লীগ এ ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেনি, সামান্য অনুশোচনাও নেই তাদের। যে দল এ দেশের অসংখ্য মানুষকে গুম করল, খুন করল, অসংখ্য মানুষকে পঙ্গু করল, একটা জেনারেশনের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে গেল, তাদের কোনো অনুশোচনা দেখা গেল না। শুধু দল ভারী করার জন্য তাদের রাজনীতিতে আনা অন্যায়, জঘন্য অপরাধ। এ ধরনের জঘন্য অপরাধ কারো করা উচিৎ হবে না।

তিনি বলেন, দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব সরকারের। জায়গাটা সরকার যত সামাল দেবে বাংলাদেশের ততো সুন্দরভাবে পরিচালিত হবে। আমরা সংসদের ভেতরে অবশ্যই সহযোগিতা করছি। আর যেখানে বিরোধিতা করা দরকার, সেখানে বিরোধিতা করছি।

জুলাই সনদ প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এখনো আমরা দুই মেরুতে আছি। দেশের ৭০ ভাগ মানুষের রায়কে অবশ্যই সম্মান করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই অপমান করতে দেয়া হবে না।

জাতীয় সংকট মোকাবেলায় সরকার ও বিরোধী দল একসঙ্গে কাজ করলে অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব উল্লেখ করে তিনি বলেন, তেলের সংকটের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার ও বিরোধী দল একযোগে পদক্ষেপ নেয়ার পরই জ্বালানি তেলের সংকট কেটে যায়। অথচ কেউ অতিরিক্ত তেল সরবরাহ করেনি। এতে বোঝা যায়, সমন্বিত উদ্যোগ অনেক সংকটের কার্যকর সমাধান দিতে পারে।

সংসদে বিরোধীদলের ভূমিকা নিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই।এক সময় সংসদে মারামারি হয়েছে। ফাইল ছুড়ে মারা হয়েছে। একে অন্যের দিকে তেড়ে গেছে। অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করা হয়েছে। আমরা সে পার্লামেন্ট চাই না। আমরা একটা সভ্য জগতের পার্লামেন্ট দেখতে চাই। এজন্য প্রথম দিন থেকে বিরোধীদল হিসেবে আমাদের ভূমিকা ছিল গঠনমূলক এটা আমরা অব্যাহত রাখব। কোনো উস্কানিতেই এ জায়গা থেকে আমরা সরে আসব না।

বাগেরহাট জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় ছিলেন জামায়াত ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ, বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা মো. মশিউর রহমান , বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ, বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. আব্দুল আলীমসহ জেলা জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

পরে তিনি বাগেরহাট কামিল মাদরাসা মাঠে আয়োজিত জেলা জামায়াতের রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন।




র‍্যাব বিলুপ্ত করে আনা হচ্ছে নতুন বাহিনী

ডেস্ক নিউজ : দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে আলোচিত ও সমালোচিত র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) বিলুপ্ত করে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ (এসআরবি) নামে নতুন বাহিনী গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নতুন আইনে বাহিনীর দায়িত্বে বড় ধরনের পরিবর্তন না থাকলেও জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বেশ কয়েকটি নতুন বিধান।

প্রস্তাবিত আইনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হলো, এসআরবির কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, অসদাচরণ বা হয়রানির অভিযোগ সরাসরি করতে পারবেন সাধারণ নাগরিক। এসব অভিযোগ গ্রহণ, তদন্ত এবং নিষ্পত্তির জন্য পৃথক একটি অভিযোগ প্রতিকার কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে।

‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া জনমতের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

খসড়ায় র‌্যাবের বিদ্যমান কাঠামোকে আইনি ভিত্তি দিয়ে বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে নতুন এই বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে এসআরবির দায়িত্ব, অভিযান পরিচালনা, মামলা তদন্ত, সদস্যদের শৃঙ্খলা এবং নাগরিকদের অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য পৃথক অভিযোগ প্রতিকার কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, খসড়াটি চূড়ান্ত হওয়ার পর বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মতামত নেওয়া হবে। এরপর মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে।

সেখানে অনুমোদন পেলে আইনটি জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হবে। নতুন আইন কার্যকর হলে র‌্যাব-সংক্রান্ত বিদ্যমান আইনি ভিত্তি বিলুপ্ত হবে। তবে নতুন বিধিমালা প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত আগের কিছু বিধান প্রয়োজনীয় অভিযোজনসহ কার্যকর থাকবে।

খসড়া অনুযায়ী, এসআরবি হবে বাংলাদেশ পুলিশের অধীন একটি বিশেষায়িত ইউনিট।

এর নেতৃত্বে থাকবেন অতিরিক্ত আইজিপি পদমর্যাদার একজন মহাপরিচালক। প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাটালিয়ন, কোম্পানি, প্লাটুন ও সেকশন গঠন করা যাবে। বাহিনীর সদর দপ্তর ঢাকায় থাকলেও দেশের যেকোনো স্থানে ইউনিট স্থাপনের সুযোগ রাখা হয়েছে।

শুধু পুলিশ নয়, অন্যান্য শৃঙ্খলা বাহিনী থেকেও সদস্যদের প্রেষণে এনে এসআরবি গঠন করা যাবে। প্রেষণে নিয়োগের মেয়াদ ন্যূনতম দুই বছর রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

খসড়া আইনে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার, মাদকদ্রব্য দমন, সাইবার অপরাধ মোকাবিলা, মানবপাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন এবং সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধকে এসআরবির দায়িত্ব হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে সহায়তা করার দায়িত্বও থাকবে।

আদালত, সরকার কিংবা পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) নির্দেশে মামলা দায়ের ও তদন্ত পরিচালনার ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে। ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসরণ করে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেফতার করতে পারবেন এসআরবির সদস্যরা।

মাদক, অস্ত্র, গোলাবারুদ, বিস্ফোরক, সন্ত্রাসী আস্তানা, মানবপাচার, সংঘবদ্ধ অপরাধ, সাইবার অপরাধ কিংবা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাবিরোধী অপরাধের ক্ষেত্রে অভিযান পরিচালনার ক্ষমতা থাকবে ইউনিটটির।

তদন্তের ক্ষেত্রে অন্তত সাব-ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। তদন্ত কার্যক্রমে ফৌজদারি কার্যবিধি ও পুলিশ রেগুলেশন অনুসরণের বাধ্যবাধকতাও রাখা হয়েছে। এ জন্য এসআরবির নিজস্ব হাজতখানা, মালখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ থাকার বিধান রাখা হয়েছে।

খসড়া আইনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হলো ‘অভিযোগ প্রতিকার কমিটি’। নতুন বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে নাগরিকদের অভিযোগ তদন্ত এবং বাহিনীর কার্যক্রমে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এই কমিটি কাজ করবে।

কমিটির সভাপতি হবেন এসআরবির একজন অতিরিক্ত মহাপরিচালক। সদস্য হিসেবে থাকবেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, পুলিশ সদর দপ্তরের একজন কর্মকর্তা, পরিচালক (লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া) এবং মানবাধিকার, আইন বা বিচার প্রশাসনে অন্তত ১০ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সরকার মনোনীত একজন ব্যক্তি।

কমিটি নাগরিকদের অভিযোগ তদন্ত করতে পারবে এবং প্রয়োজনে পৃথক অনুসন্ধান দল গঠন করতে পারবে। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করার ক্ষমতাও থাকবে। বাহিনীর কার্যক্রমে অবৈধ প্রভাব, হয়রানি, পদায়ন, পদোন্নতি বা বিভাগীয় শাস্তি নিয়ে অসন্তোষের বিষয়ও কমিটি পর্যালোচনা করতে পারবে।

খসড়া আইনে এসআরবির সদস্যদের শৃঙ্খলা ও আচরণবিধিও নির্ধারণ করা হয়েছে। দায়িত্ব পালনকালে মাদকাসক্ত থাকা, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশ অমান্য, দায়িত্বে অবহেলা, বেআইনিভাবে অর্থ আদায়, সরকারি অস্ত্র বা সরঞ্জামের অপব্যবহার, অপরাধীকে পালাতে সহায়তা করা এবং জুয়া বা অন্যান্য অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার মতো অপরাধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

কোনো সদস্য শৃঙ্খলা ভঙ্গ বা ফৌজদারি অপরাধ করে পলাতক হলে তাকে গ্রেফতারের উদ্যোগ নেওয়ার বিধানও রাখা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে অনুরোধ করার সুযোগ থাকবে।

খসড়া অনুযায়ী, নতুন আইন কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে র‌্যাবের সব সম্পদ, জনবল, তহবিল, দায়-দায়িত্ব, চলমান মামলা, প্রশাসনিক কার্যক্রম ও বিদ্যমান চুক্তি এসআরবির অধীনে স্থানান্তরিত হবে।

নতুন বিধিমালা প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত র‌্যাবের বিদ্যমান বিভাগীয় কার্যবিধিও প্রয়োজনীয় অভিযোজনসহ কার্যকর থাকবে।

খসড়া আইনের বিভিন্ন বিধান বিশ্লেষণে দেখা যায়, নাম ও সাংগঠনিক কাঠামোয় পরিবর্তন এলেও অভিযান পরিচালনা, তল্লাশি, গ্রেপ্তার ও তদন্তের মতো মৌলিক ক্ষমতার বড় অংশই নতুন বাহিনীর জন্য বহাল রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি নাগরিকদের অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য পৃথক কমিটি এবং সদস্যদের জন্য নির্দিষ্ট শৃঙ্খলাবিধি যুক্ত করা হয়েছে।




মেয়েকে নিয়ে বাবার কবর জিয়ারতে জুবাইদা রহমান

ডেস্ক নিউজঃ সাবেক যোগাযোগ ও কৃষিমন্ত্রী এবং নৌবাহিনীর সাবেক প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল (অব.) মাহবুব আলী খানের ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকীতে তার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন ও বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে বনানী সামরিক কবরস্থানে মরহুমের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং নাতনি ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।

পরিবারের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মাহবুব আলী খানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে কবর জিয়ারত, মিলাদ মাহফিল, দোয়া ও আলোচনা সভাসহ দেশ-বিদেশে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার বাদ মাগরিব রাজধানীর ধানমন্ডিতে তার বাসভবন ‘মাহবুব ভবনে’ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খান ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশের নৌবাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সরকারের মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৪ সালের ৬ অগাস্ট তিনি মারা যান।

মাহবুব আলী খান বিএনপি চেয়ারম্যান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শ্বশুর। তার স্ত্রী সৈয়দ ইকবাল মন্দ বানু। তাদের দুই মেয়ে শাহিনা খান জামান ও জুবাইদা রহমান।




৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের বিজয় র‍্যালি পালন করেছে মিরপুর প্রেসক্লাব

নিজেস্ব প্রতিনিধিঃ ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান ও গণতন্ত্রের শুভযাত্রা উপলক্ষে বিজয় র‍্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে মিরপুর প্রেসক্লাব।

মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) অনুষ্ঠিত এ বিজয় র‍্যালির নেতৃত্ব দেন মিরপুর প্রেসক্লাবের প্রধান উপদেষ্টা ও দৈনিক পাঞ্জেরী সম্পাদক তালুকদার রুমী। এ সময় নেতৃত্বে ছিলেন মিরপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি এস এম বদরুল আলম এবং সাধারণ সম্পাদক মোঃ শিহাব উদ্দিন।

বিজয় র‍্যালিটি মিরপুর-১৩ নম্বর বিআরটিএ কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে পৌঁছে। সেখানে গণঅভ্যুত্থান ও গণতন্ত্র বিষয়ক একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরে র‍্যালিটি মিরপুর-২ নম্বর হয়ে পুনরায় বিআরটিএ কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়।

র‍্যালি শেষে অনুষ্ঠিত সমাপনী বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টা তালুকদার রুমী বলেন, “২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ছিল দেশের মানুষের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের এক ঐতিহাসিক অধ্যায়। জনগণের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটে। গণতন্ত্র, আইনের শাসন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে ভবিষ্যতেও সমুন্নত রাখতে হবে।”

সভাপতি এস এম বদরুল আলম বলেন, “গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনগণ প্রমাণ করেছে যে কোনো স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থা চিরস্থায়ী নয়। বিগত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। এই গণতান্ত্রিক ধারাকে আরও শক্তিশালী করতে সাংবাদিক সমাজকে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।”

সাধারণ সম্পাদক মোঃ শিহাব উদ্দিন বলেন, “গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনা ছিল জনগণের অধিকার, ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা। আজ দেশের মানুষ গণতান্ত্রিক পরিবেশে নিজেদের মতামত প্রকাশের সুযোগ পাচ্ছে। এই অর্জন ধরে রাখতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে এবং স্বাধীন সাংবাদিকতা, জবাবদিহিতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।”
এ সময় আরও বক্তব্য দেন মিরপুর প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম সাইমনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

বিজয় র‍্যালি ও আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন মিরপুর প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি এস এম ইসলাম উকিল, সহ-সভাপতি কামরুল ইসলাম, সহ-সভাপতি মোকসেদুল আলম খোকন, সহ-সভাপতি একলাছুর রহমান রাজু, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম সাইমন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন মুন্না, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুর আহমেদ, সহ-সম্পাদক শাহাদাত হোসেন, দপ্তর সম্পাদক এম এ গাফফার, কার্যনির্বাহী সদস্য সেকেন্দার আলী, দুলাল হোসেন, মানজারুল ইসলামসহ মিরপুর প্রেসক্লাবের কয়েকশ সাংবাদিক ও সদস্যবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে বক্তারা গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং গণতন্ত্র, সুশাসন, আইনের শাসন ও জনগণের ভোটাধিকারের প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।




নদী দূষণ রোধে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণে অবহেলার সুযোগ নেই : প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজঃ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, নদী দূষণ এখন দুর্বিষহ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে আমাদের জবাবদিহি করতে হবে।

তিনি বলেন, নদী দূষণ রোধে কঠোর ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণে কোনো ধরনের অবহেলার সুযোগ নেই। কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের পাশাপাশি এর কার্যকর বাস্তবায়নও নিশ্চিত করতে হবে।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত ‘বুড়িগঙ্গা নদীর পানি ও পরিবেশ উন্নয়ন’ শীর্ষক এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এ তথ্য জানান। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বুড়িগঙ্গাসহ রাজধানী ঢাকার চারপাশের নদীগুলোর দূষণ রোধে দ্রুত একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং তা বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেন।

এ সময় বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু, শীতলক্ষ্যা এবং রাজধানীসংলগ্ন অন্যান্য নদীর বর্তমান পরিবেশগত অবস্থা, দূষণের উৎস, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বিশেষ করে বৈঠকে শিল্পকারখানার অপরিশোধিত বর্জ্য নদীতে নিঃসরণ, অপর্যাপ্ত পয়ঃনিষ্কাশন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা, খালগুলোর নাব্যতা হ্রাস এবং কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাকে নদী দূষণের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

এছাড়া বৈঠকে নদী দূষণ রোধে শিল্পকারখানায় বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) কার্যকরভাবে পরিচালনা নিশ্চিত করা, খাল ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, দূষণকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বিদ্যমান পরিবেশ আইন কার্যকরভাবে প্রয়োগ এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদারের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নাগরিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।

সভায় পরিবেশ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, ঢাকা ওয়াসা, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ), রাজউক, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন, জেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার মধ্যে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রী এ কার্যক্রমে পরিবেশবাদী সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করার নির্দেশ দেন।

এদিকে বৈঠকে রাজধানীর চারপাশের নদী দূষণ রোধে একটি সমন্বিত ও সময়বদ্ধ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে একটি আন্তঃসংস্থা সমন্বয় কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এ কমিটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার কার্যক্রম সমন্বয় এবং নির্ধারিত সময় অন্তর অগ্রগতি পর্যালোচনা করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রতিবেদন দাখিল করবে বলে জানান উপ-প্রেস সচিব।

বৈঠকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, ঢাকা নৌ এলাকার কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল আবদুল্লাহ-আল-মাকসুস, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ. বি. এম. আব্দুস সাত্তারসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।




মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনাল থেকে আংশিক গ্যাস সরবরাহ শুরু

ডেস্ক নিউজঃ কক্সবাজারের মহেশখালী উপকূলে গভীর সমুদ্রে অবস্থিত ভাসমান এলএনজি (এমএলএনজি) টার্মিনালের যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামতের পর জাতীয় গ্রিডে আবারও গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বুধবার (৫ জুলাই) রাত ২টা ৪৫ মিনিট থেকে সীমিত পরিসরে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ চালু করা হয়। প্রাথমিকভাবে দৈনিক প্রায় ১০০ এমএমএসসিএফডি হারে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে।

বাংলাদেশি ও বিদেশি কারিগরি বিশেষজ্ঞদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় মহেশখালী উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়ন উপকূল থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার গভীর সমুদ্রে অবস্থিত ভাসমান টার্মিনালটির যান্ত্রিক ত্রুটি সফলভাবে মেরামত করা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার নির্ধারিত এলএনজি কার্গো সফলভাবে আনলোড করা গেলে পর্যায়ক্রমে গ্যাস সরবরাহ দৈনিক ২৫০ থেকে ৩০০ এমএমএসসিএফডি পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব হবে। তবে টার্মিনালটির পূর্ণ সক্ষমতায় গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হতে আরও কিছু সময় লাগতে পারে।

গত ২১ জুলাই বেলা সাড়ে ১১টার দিকে টার্মিনালের গ্যাস সরবরাহ লাইনে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় ১৬ দিন পর ত্রুটি মেরামত শেষে আবারও গ্যাস সরবরাহ চালু হলো।




আজ থেকে উন্মুক্ত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’

ডেস্ক নিউজঃ ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং আন্দোলনের ইতিহাস ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে প্রতিষ্ঠিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) থেকে জাদুঘরটি সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান তৎকালীন স্বৈরাচারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার শপথ নেয়। পরে এই সরকারের অধীনেই জুলাইয়ের নানা স্মৃতিচিহ্ন নিয়ে গণভবনে তৈরি করা হয় জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর।

বাংলাদেশের ফ্যাসিবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় মাইলফলক জুলাই গণঅভ্যুত্থান। এর গৌরবময় স্মৃতি সংরক্ষণ, সংগ্রামের প্রকৃত ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এবং জুলাই শহীদ ও যোদ্ধাদের আত্মত্যাগের স্মারক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এই জাদুঘর।

জাদুঘরে দর্শনার্থীদের সুশৃঙ্খলভাবে প্রবেশ নিশ্চিত করতে সময়ভিত্তিক অনলাইন স্লট বুকিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।

জাদুঘরে প্রবেশসংক্রান্ত নির্দেশনা নিচে তুলে ধরা হলো-

টিকিট মূল্য : প্রাপ্তবয়স্ক দর্শনার্থীদের জন্য প্রতি টিকিটের মূল্য ৫০ টাকা এবং শিশুদের জন্য ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

অনলাইন স্লট বুকিং: দর্শনার্থীদের এই লিঙ্কে গিয়ে জাদুঘরে প্রবেশের স্লট বুকিং করতে হবে।

স্লট পূর্ণ হলে করণীয় : কোনো নির্দিষ্ট দিনের (যেমন ৬ আগস্ট) সব স্লট বুকড হয়ে গেলে আবেদনকারীকে পরবর্তী দিনের খালি থাকা সময় বেছে নিতে হবে। অনুমোদিত সময়েই কেবল দর্শনার্থী ভেতরে প্রবেশ করতে পারবেন।

অতিরিক্ত ভিড় এড়ানো এবং দর্শনার্থীদের নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতেই সময়ভিত্তিক অনলাইন টিকিট ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।




যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে ইরানের নতুন হুঁশিয়ারি, উপসাগরীয় দেশগুলোকে বড় সংঘাতের ইঙ্গিত

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে সামরিক হামলা চালালে উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনা ও মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলা চালানো হবে বলে সতর্ক করেছে তেহরান। একই সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাত এড়াতে আঞ্চলিক পর্যায়ে কূটনৈতিক তৎপরতাও জোরদার করেছে দেশটি।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, গত ২৮ জুলাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোর বিরুদ্ধে হামলার হুমকি দেওয়ার পর তেহরান উচ্চপর্যায়ে কূটনৈতিক যোগাযোগ শুরু করে।

দুইজন জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা, দুটি উপসাগরীয় সূত্র এবং আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক আঞ্চলিক কূটনীতিকের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সৌদি আরব, তুরস্ক ও কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের পাশাপাশি পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছেন।

সূত্রগুলোর দাবি, এসব আলোচনায় আরাঘচি উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান, তারা যেন ওয়াশিংটনের ওপর প্রভাব খাটিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন সামরিক অভিযান থেকে বিরত রাখে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেন, ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা হলে উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা এবং গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালানো হবে।

এক জ্যেষ্ঠ আঞ্চলিক কূটনীতিকের ভাষ্য, আরাঘচির বার্তা ছিল স্পষ্ট—ইরান প্রতিশোধ নিতে প্রস্তুত, তবে বৃহত্তর সংঘাত এড়াতে কূটনৈতিক সমাধানই সবচেয়ে কার্যকর পথ।

আরেকটি উপসাগরীয় সূত্র জানিয়েছে, ইরানের সতর্কবার্তা মূলত সৌদি আরব ও কাতারের মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়া হলেও তা উপসাগরীয় অঞ্চলের সব দেশের উদ্দেশেই ছিল।

এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে যোগাযোগ করে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ স্থগিত রেখে আলোচনার পথ খোলা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার অনুরোধ করেন।

এ ছাড়া কাতার, ওমান ও সৌদি আরবও ওয়াশিংটনকে তেহরানের সঙ্গে পুনরায় আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছে বলে সূত্রগুলোর দাবি। তাদের আশঙ্কা, নতুন করে সামরিক হামলা হলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য আরও বড় সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে।

অন্যদিকে সৌদি আরব জানিয়েছে, তারা কূটনৈতিক সমাধানকে সমর্থন করলেও নিজেদের নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো আপস করবে না। দেশটির ভূখণ্ডে হামলা হলে তারও সামরিক জবাব দেওয়া হবে বলে রিয়াদ স্পষ্ট করেছে। সূত্র : রয়টার্স।




একই সময়ে তিন কর্মসূচি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সভা-সমাবেশ ও মিছিল নিষিদ্ধ

ডেস্ক নিউজঃ একই স্থান ও একই সময়ে তিনটি সংগঠনের পৃথক কর্মসূচির ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাসে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সব ধরনের সভা, সমাবেশ ও মিছিল নিষিদ্ধ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বুধবার (৫ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দীনের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের একই স্থান ও একই সময়ে তিনটি সংগঠন পৃথক কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে। এ কারণে সম্ভাব্য আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সব ধরনের সভা, সমাবেশ ও মিছিল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে।

এতে আরও বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনকে এ বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় ভাষা শহীদ রফিক ভবনের সামনে একাধিক কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে ছিল জকসুর উদ্যোগে অ্যাম্বুলেন্স হস্তান্তর অনুষ্ঠান, জবি ছাত্রদলের সংঘর্ষ-সংশ্লিষ্ট কর্মসূচি এবং ‘ঐক্যবদ্ধ জগন্নাথ’-এর বিক্ষোভ কর্মসূচি। এ ছাড়া সকাল ১১টায় জবি শিক্ষক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের আহ্বানে একই এলাকায় একটি সংবাদ সম্মেলনেরও ঘোষণা দেওয়া হয়। একই স্থান ও সময় ঘিরে একাধিক কর্মসূচির কারণে প্রশাসন এ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।