মহানবী মুহাম্মদ (সা.) : সব সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ যিনি

ইসলামিক ডেস্কঃ মহানবী মুহাম্মদ (সা.) শুধু সব নবী ও রাসুলের মধ্যে শ্রেষ্ঠ নন; বরং গোটা সৃষ্টির মধ্যেও তিনি সর্বাধিক মর্যাদাশীল এবং আল্লাহর কাছে সম্মানিত। এখানে তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের কিছু প্রমাণ সংক্ষেপে উল্লেখ করা হলো—

১. সৃষ্টিজগতের জন্য রহমতস্বরূপ : আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমি আপনাকে সমগ্র জগতের জন্য রহমতস্বরূপই প্রেরণ করেছি।’
(সুরা : আল-আম্বিয়া, আয়াত : ১০৭)। মহানবী (সা.) সমগ্র জগতের জন্য রহমত হিসেবে প্রেরিত হয়েছেন, এতে তাঁর মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ পায়।

২. নাম, সম্মান ও স্মরণে অমর : আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমি আপনার মর্যাদা ও স্মরণকে সমুন্নত করেছি।’ (সুরা : আশ-শরহ/আলাম নাশরাহ লাকা, আয়াত : ৪)। এর একটি প্রকাশ হলো আল্লাহ তাঁর নামকে নিজের নামের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। শাহাদাত, আজান, ইকামত ও তাশাহহুদের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতে আল্লাহর নামের সঙ্গে মহানবী (সা.)-এর নাম উচ্চারিত হয়।

৩. আল্লাহ তাআলা নবীজির আনুগত্যকে নিজের আনুগত্যের সঙ্গে যুক্ত করেছেন : আল্লাহ বলেন, ‘যে ব্যক্তি রাসুলের আনুগত্য করল, সে প্রকৃত পক্ষে আল্লাহরই আনুগত্য করল।’ (সুরা : আন-নিসা, আয়াত : ৮০)। এবং তাঁর হাতে বায়াতকে আল্লাহ নিজের হাতে বায়াতের সঙ্গে যুক্ত করে বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই যারা আপনার কাছে বায়াত গ্রহণ করে, তারা তো আল্লাহর কাছেই বায়াত গ্রহণ করে।’ (সুরা : আল-ফাতহ, আয়াত : ১০)

৪. স্থায়ী মুজিজা লাভ : পূর্ববর্তী অনেক নবীর মুজিজা ছিল নির্দিষ্ট সময়ে সংঘটিত দৃশ্যমান ঘটনা, যা পরবর্তী সময়ে প্রত্যক্ষভাবে বিদ্যমান থাকেনি। পক্ষান্তরে মহানবী (সা.)-এর সর্বশ্রেষ্ঠ মুজিজা কোরআন আজও বিদ্যমান এবং কিয়ামত পর্যন্ত থাকবে। অতএব, তাঁর মুজিজা এমন একটি স্থায়ী নিদর্শন, যা প্রত্যেক যুগের মানুষ প্রত্যক্ষ করতে পারে এবং যার চ্যালেঞ্জ আজও বহাল রয়েছে।

৫. জিন ও ইনসানের নবী : তিনি সমগ্র মানব ও জিন জাতির প্রতি প্রেরিত হয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমি আপনাকে সমগ্র মানুষের জন্য সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে প্রেরণ করেছি।’ (সুরা : সাবা, আয়াত : ২৮)। পূর্ববর্তী অনেক নবী নির্দিষ্ট জাতি বা সম্প্রদায়ের কাছে প্রেরিত হয়েছিলেন। পক্ষান্তরে মুহাম্মদ (সা.) সমগ্র মানবজাতির জন্য প্রেরিত হয়েছেন। তাঁর দাওয়াতের ব্যাপ্তি তাই সর্বজনীন।

৬. তাঁর নিয়ে আসা ধর্ম সর্বশ্রেষ্ঠ দ্বীন : ইসলাম পূর্ববর্তী শরিয়তগুলোর বিধানকে পরবর্তী সময়ে রহিত করেছে এবং সর্বশেষ পূর্ণাঙ্গ শরিয়ত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে দ্বীন হলো ইসলাম।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১৯)।  অতএব, যে নবীর মাধ্যমে সর্বশেষ ও পূর্ণাঙ্গ শরিয়ত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তাঁর বিশেষ মর্যাদা থাকা স্বাভাবিক।

৭. মুহাম্মদ (সা.)-এর উম্মত সর্বোত্তম উম্মত : আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরাই সর্বোত্তম উম্মত, মানবজাতির কল্যাণের জন্য তোমাদের আবির্ভাব ঘটানো হয়েছে। তোমরা সৎ কাজের নির্দেশ দাও, অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করো এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখ।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১১০)

এই উম্মত ঈমান, সৎ কাজের আদেশ, অসৎ কাজ থেকে নিষেধ এবং আল্লাহর পথে মানুষকে আহ্বানের মাধ্যমে এই মর্যাদা লাভ করেছে। আর এই উম্মতের শ্রেষ্ঠত্ব মূলত নবীজির অনুসরণের ফল।

৮. তিনি কিয়ামতের দিন আদম সন্তানের নেতা হবেন : মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘কিয়ামতের দিন আদম এবং তাঁর পরবর্তী সবাকেই আমার পতাকার অধীনে থাকবে।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৩৬১৫)

৯. তাঁকে বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্য প্রদান করা হয়েছে, যা অন্য কাউকে দেওয়া হয়নি : মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘আমাকে পাঁচটি বৈশিষ্ট্য দেওয়া হয়েছে, যা আমার আগে কাউকে দেওয়া হয়নি।’ (মুসনাদ আহমাদ, হাদিস : ২১৪৭২)

এর মধ্যে তিনি উল্লেখ করেন—তাঁকে সমগ্র মানবজাতির কাছে প্রেরণ করা হয়েছে, সমগ্র পৃথিবীকে তাঁর জন্য মসজিদ ও পবিত্রতার উপায় করা হয়েছে, এক মাসের দূরত্ব থেকেও শত্রুর অন্তরে ভয় সঞ্চার করে তাঁকে সাহায্য করা হয়েছে, তাঁর জন্য গনিমতের সম্পদ হালাল করা হয়েছে, তাঁকে শাফাআত প্রদান করা হয়েছে, যা তিনি তাঁর উম্মতের জন্য সংরক্ষণ করেছেন। এগুলো তাঁর বিশেষ মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্যের সুস্পষ্ট নিদর্শন।

১০. তিনি সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী : আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রের অধিকারী।’ (সুরা : আল-কলম, আয়াত : ৪)

১১. তিনি নবুয়ত ভবনের শেষ ও পূর্ণ ইট : সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমে মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘আমার এবং আমার পূর্ববর্তী নবীদের দৃষ্টান্ত এমন এক ব্যক্তির মতো, যে একটি সুন্দর ও পূর্ণাঙ্গ ভবন নির্মাণ করেছে; কিন্তু তার এক কোণে একটি ইটের স্থান খালি রয়েছে। মানুষ ভবনটি দেখে বিস্মিত হয় এবং বলে—এই একটি ইট এখানে বসানো হলো না কেন? আমি সেই ইট।’ (বুখারি, হাদিস : ৩৫৩৫)

১২. মেরাজের রাতে তিনি সব নবীর ইমামতি করেন : মেরাজের রাতে মহানবী (সা.) বাইতুল মুকাদ্দাসে সমবেত নবীদের ইমামতি করেন। সহিহ মুসলিমে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি সেখানে মুসা (আ.), ঈসা (আ.) ও ইবরাহিম (আ.)-সহ অন্যান্য নবীকে দেখতে পান এবং নামাজের সময় তাঁদের ইমামতি করেন। এ ঘটনা তাঁর বিশেষ মর্যাদা ও নেতৃত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন।

১৩. কিয়ামতের দিন তিনি সর্বপ্রথম শাফাআতকারী ও সর্বপ্রথম সুপারিশকৃত : আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘কিয়ামতের দিন আমি আদম সন্তানের নেতা। আমিই সর্বপ্রথম ব্যক্তি, যার জন্য কবর বিদীর্ণ হবে; আমিই সর্বপ্রথম সুপারিশকারী এবং সর্বপ্রথম যার সুপারিশ গ্রহণ করা হবে।’

(তিরমিজি, হাদিস : ৩১৪৮)। এটি তাঁর কিয়ামতের দিনের সর্বোচ্চ মর্যাদা ও নেতৃত্বের অত্যন্ত স্পষ্ট প্রমাণ।

১৪. ইসরা ও মেরাজের মুজিজা : মহানবী (সা.)-এর ইসরা ও মেরাজ তাঁর বিশেষ মর্যাদার অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন। এই ঘটনায় আল্লাহ তাআলা তাঁকে এমন বহু বিশেষ সম্মান ও নিদর্শন দান করেছেন, যা অন্য কোনো নবীর ক্ষেত্রে এভাবে একত্রিত হয়নি। ইসরা ও মেরাজের ঘটনায় তাঁকে মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসায় নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি আসমানসমূহ অতিক্রম করেন, বহু নবীর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়, তিনি বায়তুল মুকাদ্দাসে নবীদের ইমামতি করেন এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে উম্মতের জন্য সালাতের বিধান লাভ করেন। এ ঘটনা তাঁর বিশেষ মর্যাদা ও আল্লাহর নৈকট্যের একটি অনন্য নিদর্শন।

১৫. তাঁর ওপর দরুদ পাঠ করাকে ইবাদত ও নৈকট্যের মাধ্যম করা হয়েছে : এটি তাঁর বিশেষ মর্যাদার এক অসাধারণ নিদর্শন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতারা নবীর ওপর দরুদ পাঠ করেন। হে মুমিনগণ! তোমরাও তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম পাঠ করো।’ (সুরা : আল-আহজাব, আয়াত : ৫৬)। অর্থাৎ আল্লাহ নিজে তাঁর ওপর রহমত ও সম্মান বর্ষণ করেন, ফেরেশতারাও তাঁর জন্য দোয়া করেন এবং মুমিনদেরও তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম পাঠের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

১৬. সব নবী-রাসুলের কাছ থেকে তাঁর প্রতি ঈমান ও সাহায্যের অঙ্গীকার গ্রহণ : আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর স্মরণ করুন, যখন আল্লাহ নবীদের কাছ থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলেন—আমি তোমাদের কিতাব ও হিকমত যা কিছু দিয়েছি, অতঃপর তোমাদের কাছে এমন একজন রাসুল আসেন, যিনি তোমাদের কাছে যা আছে তার সত্যায়ন করেন, তখন অবশ্যই তোমরা তাঁর প্রতি ঈমান আনবে এবং তাঁকে সাহায্য করবে।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ৮১)

এই আয়াত মহানবী (সা.)-এর বিশেষ মর্যাদার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দলিল। কারণ পূর্ববর্তী নবীদের কাছ থেকে তাঁর আগমন সত্য বলে স্বীকার করা এবং তাঁকে সাহায্য করার অঙ্গীকার নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মহানবী (সা.)-এর শ্রেষ্ঠত্বের আরো বহু প্রমাণ আছে।




দোয়ার মরতবা অপরিসীম

ইসলামিক ডেস্কঃ আল্লাহ চান বান্দা তাঁর কাছে করুণা প্রার্থনা করুক। রসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘দোয়াই হলো ইবাদত।’ (তিরমিজি, আবু দাউদ, ইবনে মাজা)। আমলের দিক থেকেও দোয়া শ্রেষ্ঠতর। তিরমিজিতে আরও ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহর কাছে দোয়ার চেয়ে উত্তম কোনো আমল নেই।’ দয়ালু আল্লাহ চান বান্দা তাঁর কাছে আবেদন-নিবেদন করুক।

তবে দোয়া করার সময় দোয়ার আদবগুলো যাতে পালিত হয় সেদিকে নজর রাখতে হবে। দয়ালু আল্লাহর কাছে দোয়া করতে হলে খাস মনে করতে হবে। আল্লাহ রব্বুল আলামিন বান্দার প্রার্থনা বা মোনাজাত শোনা এবং কবুল করা পছন্দ করেন। সুরা আল আনয়ামের ৬৩-৬৪ আয়াতে বলা হয়েছে, ‘বলুন, কে তোমাদের ত্রাণ করেন যখন তোমরা স্থলভাগের ও সমুদ্রের বিপদে কাতরভাবে এবং গোপনে তাঁর কাছে অনুনয় করো এভাবে-আমাদের এ বিপদ থেকে উদ্ধার করলে আমরা অবশ্যই কৃতজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত হব। বলুন, আল্লাহই তোমাদের বিপদ ও সমস্ত দুঃখকষ্ট থেকে পরিত্রাণ করেন। এ সত্ত্বেও তোমরা তাঁর শরিক করো!’

মহান আল্লাহর করুণা পেতে তাগিদ-‘তোমরা বিনীতভাবে এবং গোপনে তোমাদের প্রতিপালককে ডাকো… তাঁকে ভয় ও আশার সঙ্গে ডাকবে।’ (সুরা আরাফ, আয়াত ৫৫-৫৬) ‘তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়া না থাকলে তোমাদের কেউ অব্যাহতি পেতে না এবং আল্লাহ তওবা গ্রহণকারী ও প্রজ্ঞাময়।’ (সুরা নুর, আয়াত ১০)। ‘বল, হে আমার বান্দাগণ! তোমরা যারা নিজেদের প্রতি অবিচার করেছো, আল্লাহর অনুগ্রহ থেকে নিরাশ হইও না, আল্লাহ সমুদয় পাপ ক্ষমা করে দেবেন। তিনি তো ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সুরা জুমার, আয়াত ৫৩)

যাবতীয় অনুকম্পা ও নিয়ামত দানকারী আল্লাহ রব্বুল আলামিনের কাছেই বিপদে-আপদে অভাব-অনটনে সাহায্য প্রার্থনা করার গুরুত্ব অপরিসীম। আল কোরআনে যেসব মোনাজাত বিভিন্ন ক্ষেত্র বা উপলক্ষে বিবৃত হয়েছে তার মধ্যে প্রার্থনার বিভিন্ন আঙ্গিক, ভাব-ভাষা প্রকাশ পেয়েছে। আল কোরআনের প্রাণস্বরূপ সুরা আল ফাতিহা সেরা মোনাজাতের প্রতিকৃতি। এ কারণে মিরাজুল মুমিনিন হিসেবে বিবেচিত নামাজের প্রতি রাকাতে এ সুরা পাঠ করতে হয়। আল কোরআনে সওগাত হিসেবে উল্লিখিত মোনাজাতগুলোর কয়েকটি-‘হে আমাদের প্রতিপালক! যদি আমরা বিস্মৃত হই অথবা ভুল করি তবে তুমি আমাদের অপরাধী করো না। হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের পূর্ববর্তীগণের ওপর যেমন গুরুদায়িত্ব অর্পণ করেছিলে আমাদের ওপর তেমন দায়িত্ব অর্পণ করো না। হে আমাদের প্রতিপালক! এমন ভার আমাদের ওপর অর্পণ করো না, যা বহন করার শক্তি আমাদের নেই। আমাদের পাপ মোচন করো, আমাদের ক্ষমা করো, আমাদের প্রতি দয়া করো, তুমিই আমাদের অভিভাবক। সুতরাং কাফির সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদের জয়যুক্ত করো।’ (সুরা বাকারা, আয়াত ২৮৬) ‘হে সার্বভৌম শক্তির মালিক আল্লাহ! তুমি যাকে ইচ্ছা ক্ষমতা দান করো এবং যার থেকে ইচ্ছা ক্ষমতা কেড়ে নাও; যাকে ইচ্ছা তুমি পরাক্রমশালী করো, আর যাকে ইচ্ছা তুমি হীন করো। কল্যাণ তোমার হাতেই। তুমি সব বিষয়ে সর্বশক্তিমান। তুমিই রাতকে দিনে এবং দিনকে রাতে পরিণত করো; তুমিই মৃত থেকে জীবন্তের আবির্ভাব ঘটাও, আবার জীবন্ত থেকে মৃতের আবির্ভাব ঘটাও। তুমি যাকে ইচ্ছা অপরিমিত জীবনোপকরণ দান করো।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত ২৬-২৭) ‘হে আমাদের প্রতিপালক! তাদের (পিতা-মাতার) প্রতি দয়া করো যেভাবে শৈশবে তারা আমাকে প্রতিপালন করেছিলেন।’ (সুরা বনি ইসরাইল, আয়াত ২৪) ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের জ্ঞানের বৃদ্ধি সাধন করো।’ (সুরা তা-হা, আয়াত ১১৪)। ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের জন্য এমন স্ত্রী ও সন্তানসন্ততি দান করো, যারা আমাদের জন্য নয়নপ্রীতিকর এবং আমাদের মুত্তাকিদের জন্য আদর্শস্বরূপ করো।’ (সুরা ফুরকান, আয়াত ৭৪) ‘হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি আমাকে সামর্থ্য দাও, যাতে আমি তোমার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারি, আমার প্রতি ও আমার পিতা-মাতার প্রতি তুমি যে অনুগ্রহ করেছো, তার জন্য এবং যাতে আমি সৎ কাজ করতে পারি যা তুমি পছন্দ করো, আমার জন্য আমার সন্তান-সন্ততিদের সৎকর্মপরায়ণ করো, আমি তোমারই অভিমুখী হলাম এবং আত্মসমর্পণ করলাম।’ (সুরা আহকাফ, আয়াত ৪৬)। সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ না করলে তার দোয়া আল্লাহর দরবারে কবুল হবে না। রসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমরা অবশ্যই সৎ কাজের আদেশ করবে এবং অন্যায় কাজে বাধা প্রদান করবে। অন্যথায় আল্লাহ তোমাদের প্রতি আজাব নাজিল করবেন।

এরপর তোমরা দোয়া করবে কিন্তু তোমাদের দোয়া কবুল করবেন না।’ দোয়ায় অমনোযোগী হলে অর্থাৎ দোয়াকারী দোয়া অবস্থায় উদাস বা অমনোযোগী থাকলে তার দোয়া কবুল হয় না। রসুলুল্লাহ (সা.) আরও ইরশাদ করেন, ‘দোয়া কবুল হবে এমন দৃঢ়বিশ্বাস রেখে তোমরা দোয়া করবে।




দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও ইসলামের অর্থনৈতিক দর্শন

ইসলামিক ডেস্কঃ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি আজ সাধারণ মানুষের জীবন-সংগ্রামের এক কঠিন বাস্তবতা। আয় সীমিত, অথচ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য ক্রমবর্ধমান। এই বৈপরীত্যে নিম্ন আয়ের মানুষ, শ্রমজীবী পরিবার ও নির্দিষ্ট আয়ের মধ্যবিত্ত শ্রেণি প্রতিনিয়ত হিমশিম খাচ্ছে। সংসারের ব্যয় মেটাতে অনেককে খাদ্য, চিকিৎসা ও শিক্ষার মতো মৌলিক প্রয়োজনেও কাটছাঁট করতে হচ্ছে। অথচ বাজারের এই সংকট কেবল অর্থনীতির পরিসংখ্যান নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে মানুষের জীবনমান, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং রাষ্ট্র ও সমাজের নৈতিক দায়বদ্ধতা। এ পরিস্থিতিতে ইসলামের অর্থনৈতিক দর্শন, ব্যক্তি, ব্যবসায়ী ও রাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিতে পারে।

ইসলামি অর্থনীতিতে সংযম ও ন্যায়বিচার : ইসলাম মানুষের বৈধ ভোগ ও উপার্জনকে স্বীকৃতি দিয়েছে; কিন্তু অপচয়, সীমা লঙ্ঘন ও অন্যায় সম্পদ আহরণকে নিরুৎসাহিত করেছে। আল্লাহতায়ালা বলেন-‘তোমরা খাও ও পান করো, কিন্তু অপচয় করো না। নিশ্চয়ই তিনি অপচয়কারীদের ভালোবাসেন না’ (সুরা আল আরাফ : ৩১)।

দ্রব্যমূল্যের চাপে সাধারণ মানুষের প্রথম করণীয় হলো আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য রক্ষা, অপ্রয়োজনীয় ভোগ পরিহার, খাদ্যের অপচয় রোধ এবং সামর্থ্য অনুযায়ী জীবন পরিচালনা। তবে ব্যক্তিগত সংযমের উপদেশ দিয়ে বাজারব্যবস্থার ত্রুটি কিংবা নীতিগত দুর্বলতার দায় সাধারণ মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যায় না। সংকট মোকাবিলায় ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারও অপরিহার্য।

মজুতদারি ও মুনাফালোভের বিরুদ্ধে ইসলাম : ব্যবসা ইসলামে সম্মানজনক পেশা; ন্যায্য মুনাফা অর্জনও বৈধ। কিন্তু মানুষের প্রয়োজনকে জিম্মি করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি কিংবা বাজারে ক্ষতিকর মজুতদারি নৈতিক ও ধর্মীয় দৃষ্টিতে নিন্দনীয়। রসুল (সা.) বলেছেন-‘পাপী ব্যক্তি ছাড়া কেউ মজুতদারি করে না’ (সহিহ মুসলিম)। এ নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্য মানুষের ক্ষতি সাধনকারী মজুতদারি বারণ করা। তাই ব্যবসায়ীদের উচিত স্বচ্ছতা, সততা ও ন্যায্যতার সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করা। ওজনে কারচুপি, মিথ্যা প্রচারণা, যোগসাজশের মাধ্যমে দাম বাড়ানো এবং দুর্দিনে অস্বাভাবিক মুনাফার লোভ পরিহার করা ইমানি দায়িত্ব। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা মানুষকে তাদের প্রাপ্য বস্তু কম দিও না’ (সুরা আল আরাফ : ৮৫)।

জনদুর্ভোগ লাঘবে সম্মিলিত করণীয় : সাধারণ ভোক্তাদের উচিত যাচাই ছাড়া আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত পণ্য কেনা থেকে বিরত থাকা, বাজারদর তুলনা করা এবং প্রতারণা বা কারসাজির নির্ভরযোগ্য প্রমাণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো। সামর্থ্যবানদের উচিত অসচ্ছল আত্মীয়, প্রতিবেশী ও শ্রমজীবী মানুষের পাশে দাঁড়ানো। জাকাত যথাযথভাবে আদায়, সদকা বৃদ্ধি এবং দরিদ্র মানুষের খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করা সামাজিক সংহতি জোরদার করতে পারে। রসুল (সা.) বলেছেন-‘যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের প্রয়োজন পূরণে নিয়োজিত থাকে, আল্লাহ তার প্রয়োজন পূরণে পাশে থাকেন (সহিহ বুখারি)।

অন্যদিকে রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো বাজারে কার্যকর প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা, অসাধু সিন্ডিকেট ও কারসাজি প্রতিরোধ, উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থার উন্নয়ন, কৃষকের ন্যায্যমূল্য এবং ভোক্তার সুরক্ষা নিশ্চিত করা। দরিদ্র ও সীমিত আয়ের মানুষের জন্য কার্যকর সামাজিক নিরাপত্তাব্যবস্থা, ন্যায্য মজুরি এবং প্রয়োজনভিত্তিক সহায়তা সম্প্রসারণও জরুরি। কারণ মূল্যস্ফীতির হার কমে গেলেও পণ্যের দাম আগের অবস্থায় ফিরে আসে না; আয় সেই অনুপাতে না বাড়লে মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা সংকুচিত হয়।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি মোকাবিলা কেবল বাজারের হিসাব নয়; এটি ন্যায়বিচার, মানবিকতা ও সামাজিক দায়িত্বেরও পরীক্ষা। সাধারণ মানুষ সংযমী হবেন, ব্যবসায়ী সততার পরিচয় দেবেন, সামর্থ্যবানরা অভাবীদের পাশে দাঁড়াবেন এবং রাষ্ট্র ন্যায়সংগত বাজারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে-এ সম্মিলিত উদ্যোগেই জনদুর্ভোগ লাঘবের পথ প্রশস্ত হতে পারে। ইসলামের অর্থনৈতিক দর্শনের মর্মকথা হলো, সম্পদ অর্জন বৈধ, কিন্তু মানুষের অধিকার পদদলিত করে নয়। মুনাফা গ্রহণযোগ্য, কিন্তু জনদুর্ভোগকে পুঁজি করে নয়। যে অর্থনীতি মানুষের জীবনকে স্বস্তি দেয় না, যে বাজার দুর্বলের অধিকার রক্ষা করে না এবং যে সমৃদ্ধি মানুষের কষ্টের প্রতি নির্বিকার থাকে-ইসলামের ন্যায়বিচার-ভিত্তিক আদর্শ সেই বাস্তবতার সংশোধন দাবি করে।




আয়-রোজগার বাড়ার দোয়া ও আমল

ইসলামিক ডেস্কঃ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي ذَنْبِي وَوَسِّعْ لِي فِي رِزْقِي وَبَارِكْ لِي فِيمَا رَزَقْتَنِي

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মাগফির লি জাম্বি, ওয়া ওয়াসসি লি ফি রিজকি, ওয়া বারিক লি ফিমা রাজাকতানি। 

অর্থ: হে আল্লাহ, আমার গুনাহ ক্ষমা করে দিন, আমার রিজিক প্রশস্ত করে দিন এবং আপনি আমাকে যে জীবিকা দান করেছেন তাতে বরকত দান করুন।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি নবীজি (সা.)-কে রাতে উল্লিখিত দোয়া পাঠ করতে শোনেন। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ৩৫০০)

নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়-রোজগার বাড়ার জন্য এই দোয়া শিখিয়ে দিয়েছেন।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘তিনিই তোমাদের জন্য জমিনকে সুগম করে দিয়েছেন, কাজেই তোমরা এর পথে-প্রান্তরে বিচরণ করো এবং তার রিজিক থেকে আহার করো।’ (সুরা মুলক: ১৫)

আয়-রোজগার বাড়ার বেশ কিছু আমল রয়েছে। তবে এ কথা মনে রাখতে হবে অঢেল আয়-রোজগারেই সুখ ও মানসিক শান্তি নেই। এর জন্য বেশকিছু আমল রয়েছে যার মাধ্যমে জীবনে বরকত আসে, অল্পতেও অনেক তৃপ্তি ও মানসিক প্রশান্তি মেলে।

তাকওয়া অর্জন করা

তাকওয়া মানে হচ্ছে মহান আল্লাহর ভয়। এটি আয়-রোজগার লাভের অন্যতম একটি উপায়, এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য নিষ্কৃতির পথ বের করে দেবেন। এবং তাকে তার ধারণাতীত জায়গা থেকে রিজিক দেবেন।’ (সুরা তালাক, আয়াত : ২-৩)।

হাফেজ ইবনে কাসির (রহ.) উপরোক্ত আয়াত দুটির তাফসির প্রসঙ্গে বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর নির্দেশাবলি পালন করে এবং তার নিষিদ্ধ কার্যাবলি থেকে বিরত থেকে তাকওয়া অবলম্বন করে, আল্লাহ তায়ালা তার জন্য সব বিপদাপদ থেকে মুক্ত হওয়ার পথ করে দেবেন এবং যেখান থেকে সে রিজিক লাভ করার কথা স্বপ্নেও চিন্তা করে না; সেখান থেকে তাকে রিজিক দেবেন। (তাফসিরে ইবনে কাসির ৪/৪০০)

পাপাচার থেকে মুক্ত থাকা

সবসময় পাপাচার থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখা। কারণ নেক আমল ও ভালো কাজে যেমন মানুষের জীবন-জীবিকায় বরকত আসে, তেমনি পাপ কাজ জীবন-জীবিকার বরকত নষ্ট করে। নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘কেবল দোয়াই ভাগ্য প্রতিহত করে, নেক কাজে আয়ু বাড়ে আর বান্দা পাপের কারণে জীবিকা থেকে বঞ্চিত হয়।’ (মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ২২৪১৩)

হালাল পন্থায় আয়

রিজিকে বরকতের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, হালাল পন্থায় আয় করা। নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘হালাল জীবিকা সন্ধান করা নির্ধারিত ফরজসমূহের পরে বিশেষ একটি ফরজ।’ (শুআবুল ইমান, বায়হাকি; কানযুল উম্মাল: ৯২০৩)।

দান করা

দান-সদকা মানুষের জীবনে বরকত নিয়ে আসে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে আদম সন্তান! তুমি খরচ করো, তোমার জন্য খরচ করা হবে (অর্থাৎ প্রাচুর্য আসবে)।’ (বুখারি: ৫৩৫২)




১৩ অক্টোবর: আজকের নামাজের সময়সূচি

ইসলামিক ডেস্কঃ মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর), ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বাংলা, ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি।

ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো-

ফজর- ০৪:৩৯ মিনিট

জোহর- ১১:৪৯ মিনিট

আসর- ০৩:৫৭ মিনিট

মাগরিব- ০৫:৩৯ মিনিট

এশা- ০৬:৫২ মিনিট

ফজর (আগামীকাল)- ০৪:৪১ মিনিট।

সূর্যোদয়: সকাল ৫:৫৪ মিনিটে

সূর্যাস্ত: বিকেল ৫:৩৪ মিনিটে




চাঁদ দেখা যায়নি, জমাদিউল আউয়াল মাস শুরু মঙ্গলবার

ইসলামিক ডেস্কঃ বাংলাদেশের আকাশে পবিত্র জমাদিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে আগামী মঙ্গলবার থেকে জমাদিউল আউয়াল মাস গণনা শুরু হবে।

রবিবার সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

সভায় জানানো হয়, আগামীকাল সোমবার রবিউস সানি মাস ৩০ দিন পূর্ণ হবে। এরপর মঙ্গলবার থেকে জমাদিউল আউয়াল মাস শুরু হবে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) এ এইচ এম কামরুজ্জামান। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা বিল্লাল বিন কাশেম রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।




জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা রবিবার

ইসলামিক ডেস্কঃ পবিত্র জমাদিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দেখার সংবাদ পর্যালোচনা ও তারিখ নির্ধারণের লক্ষ্যে আগামীকাল রবিবার (১১ অক্টোবর) জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জনসংযোগ শাখার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১৪৪৮ হিজরি সনের পবিত্র জমাদিউল আউয়াল মাসের তারিখ নির্ধারণের লক্ষ্যে আগামীকাল সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ), এমপি।

বাংলাদেশের আকাশে কোথাও পবিত্র জমাদিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেলে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক অথবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানোর জন্য অনুরোধ করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।




নবীওয়ালা কাজ দাওয়াতে তাবলিগ

ইসলামিক ডেস্কঃ পথভোলা মানুষকে আল্লাহর পথে আনার কাজই দাওয়াতে তাবলিগের কাজ। এ কাজ কোনো ব্যক্তি বা দলের নয়। এ কাজ মহান আল্লাহ কর্তৃক প্রেরিত মহাপুরুষ নবী-রসুলদের কাজ। বিদায় হজের ভাষণে নবীজি (সা.) বলেছেন, আমার পক্ষ থেকে একটি বাণী হলেও পৌঁছে দাও। মূলত তখন থেকেই নবীওয়ালা কাজটি উম্মতের জিম্মায় চলে আসে। সে থেকেই একদল মর্দে মুমিন দুনিয়ার সব ধরনের লোভলালসা, আরাম-আয়েশ ত্যাগ করে শুধু আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার লক্ষ্যে দাওয়াতে তাবলিগের মেহনত করে আসছেন।

এই মেহনতের মূল লক্ষ্য মানুষের জীবনে ইমান ও আমলের চেতনা জাগিয়ে তোলা। মানুষ যেন তার সৃষ্টিকর্তাকে চিনতে পারে, তাঁর নির্দেশিত পথে জীবন পরিচালনা করতে পারে এবং দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী জীবনের পাশাপাশি আখিরাতের স্থায়ী জীবনের প্রস্তুতি নিতে পারে-এটাই দাওয়াতের মূল কথা। তাই এ মেহনত কোনো শ্রেণি-পেশা বা এলাকার মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাছে দীনের কথা পৌঁছে দেওয়াই এর অন্যতম উদ্দেশ্য।

নবীওয়ালা কাজ দাওয়াতে তাবলিগদাওয়াত ও তাবলিগের এই মেহনত মূলত আত্মশুদ্ধি ও সংশোধনেরও একটি পথ। অন্যকে দীনের কথা বলার পাশাপাশি নিজের ইমান, আমল, আখলাক ও চরিত্রকে সংশোধনের চেষ্টা করা হয়। নামাজ, ইলম ও জিকিরের প্রতি যত্নশীল হওয়া, মানুষের সঙ্গে উত্তম আচরণ করা, আল্লাহর ওপর ভরসা করা এবং রসুল (সা.)-এর সুন্নাহকে জীবনে ধারণ করার চেষ্টা-এসবই এ মেহনতের গুরুত্বপূর্ণ দিক। এভাবে ব্যক্তি পরিবর্তিত হলে পরিবার, সমাজ এবং বৃহত্তর পরিসরেও তার ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। দুনিয়ার ব্যস্ততা ও ভোগের প্রতিযোগিতার মধ্যে মানুষ যখন ধীরে ধীরে তার সৃষ্টিকর্তা ও আখিরাতের কথা ভুলে যায়, তখন দীনের এই মেহনত মানুষকে আবার তার মূল পরিচয়ের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। সম্পদ, পদপদবি কিংবা দুনিয়ার সাফল্য নয়-মানুষের প্রকৃত সফলতা আল্লাহর সন্তুষ্টির মধ্যে, এই উপলব্ধিই দাওয়াতের কেন্দ্রীয় বার্তা। সেই বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে যুগের পর যুগ মুমিনরা নিজেদের সময়, শ্রম ও সামর্থ্য ব্যয় করে আসছেন।

যারা এই নবীওয়ালা কাজের আনজাম দেবেন তাদের একটি আশ্চর্য শক্তির অধিকারী হতে হয়। সেই শক্তিটির নাম হলো ধৈর্যশক্তি। সবর ছাড়া দাওয়াতের মেহনতে সফল হওয়ার কোনো সম্ভাবনা তো নেই-ই, উল্টো প্রতি পদক্ষেপে শয়তানের ওয়াসওয়াসার চোরাবালিতে পড়ে গুনাহের গর্তে হারিয়ে যাওয়ার প্রবল ঝুঁকি রয়েছে। তাই যারা সবরের মতো কঠিন গুণটি আয়ত্তে আনতে পারেননি বা পারবেন বলে মনে হয় না, অন্তত সবরের ওপর অবিচল থাকার চর্চা যাদের মধ্যে নেই, দাওয়াতের এই নবীওয়ালা কঠিন কাজটি কোনোভাবেই তাদের জন্য নয়। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেছেন, ‘ওয়ামা ইউলাক্কাহা ইল্লাল্লাজিনা সবারু, ওয়ামা ইউলাক্কাহা ইল্লা জুহাজ্জিল আজিম। অর্থ : দাওয়াতের কঠিন কাজের আনজাম তারাই দিতে পারে, যারা চরম ধৈর্যশীল। দাওয়াতের কাজে সফল তারাই হয়, যারা পরম সৌভাগ্যবান’ (সুরা হামিম সেজদাহ-৩৬)। ধৈর্যের অনেক অর্থ আছে, অনেক রূপ আছে। দাওয়াতের কাজ যারা করেন তাদের ন্যূনতম এতটুকু ধৈর্য থাকতে হবে যে কেউ তাদের গালি দিলে জবাবে তারা হাসি দেবে, যে তার পথ আটকে দেবে, সে তার জন্য পথ খুলে দেবে, যে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করবে, তার জন্য যে সে ষড়যন্ত্রের জাল কেটে দেবে, যে তার ঘর ভেঙে দেবে, আশ্রয় ছিনিয়ে নেবে, দায়ি ওই ব্যক্তির ঘর করে দেবে, আশ্রয় খুঁজে দেবে। এসব সুন্দর আচরণ যে শুধু কাফের-মুশরিকদের সঙ্গেই দেখাতে হবে তা না, বরং নিজ সাথি ভাইদের সঙ্গে আরও বেশি করে দেখাতে হবে। নবীজি (সা.)-এর পুরো জীবন খুঁজলে এমনটিই আমরা দেখতে পাই। নবীজি (সা.) এই দাওয়াতি আচরণ শিখলেন কোত্থকে? তিনি শিখেছেন তাঁর প্রভু আল্লাহ রাব্বুল আলামিন থেকে। তাঁর উম্মত যেন নবীর মতোই মহৎ চরিত্রের অধিকারী হতে পারে, বিশেষ করে যারা নবীওয়ালা কাজের আনজাম দেবে তাদের উদ্দেশ করে আল্লাহ বলছেন, ‘ইদফা বিল্লাতি হিয়া আহসান। ফাইজাল্লাজি বাইনাকা ওয়া বাইনাহু আদাওয়াতুন কাআন্নাহু ওয়ালিউন হামিম। তোমার সঙ্গে যারা মন্দ আচরণ করে তাদের সঙ্গে সবচেয়ে ভালো আচরণটি কর। তাহলে দেখবে যে তোমার জানের দুশমন ছিল সে তোমার জানের দোস্ত হয়ে গেছে’ (সুরা হামিম সেজদাহ-৩৪)। খুব গভীরভাবে লক্ষ করুন, এখানে বলা হয়নি কোনো কাফের-মুশরিকের সঙ্গে তুমি সবচেয়ে ভালো আচরণ কর, বরং বলা হয়েছে, যে ব্যক্তিই তোমার সঙ্গে মন্দ আচরণ করবে, সে যে-ই হোক না কেন-তার সঙ্গে চরমতম ভালো আচরণ কর। তাহলেই সে তোমার সবচেয়ে কাছের হিতাকাক্সক্ষী-শুভাকাক্সক্ষী-বন্ধু হয়ে যাবে।




আজকের নামাজের সময়সূচি, ৬ অক্টোবর ২০২৬

ইসলামিক ডেস্কঃ আজ মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩, ২৪ রবিউস সানি ১৪৪৮।

ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ—

জোহরের সময় শুরু দুপুর ১১টা ৫০ মিনিটে।

আসরের সময় শুরু ৪টা ২ মিনিটে।

মাগরিব ৬টা ৪৪ মিনিটে।

এশার সময় শুরু ৬টা ৫৭ মিনিট।

আগামীকাল ফজর শুরু ৪টা ৪১ মিনিটে

আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত ৫টা ৪৩ মিনিট এবং আগামীকাল সূর্যোদয় ৫টা ৫১ মিনিটে।




বদনজর থেকে বেঁচে থাকার দোয়া

ইসলামিক ডেস্কঃ أُعِيْذُكُمَا بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّةِ مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَّهَامَّةٍ وَّمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لاَمَّةٍ

উচ্চারণ: উয়িযুকুমা বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন কুল্লি শাইতানিন ওয়া হাম্মাতিন ওয়া মিন কুল্লি আইনিন লাম্মাতিন।

অর্থ: সকল শয়তান, কীটপতঙ্গ ও বদনজর হতে তোমাদেরকে আল্লাহর পূর্ণাঙ্গ কালেমাসমূহের আশ্রয়ে দিচ্ছি।

রসুলুল্লাহ (স.)-ও ছোটদের কোলে নিয়ে বিভিন্ন দোয়া পড়ে ফুঁ দিতেন। হাদিস গ্রন্থসমূহে এমন অনেক দোয়া বর্ণিত হয়েছে। হজরত হাসান ও হুসাইনকে (রা.) নবীজি (স.) উপরে উল্লেখিত বাক্যগুলো দিয়ে ঝাড়-ফুঁক করতেন।

নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বদনজর থেকে বেঁচে থাকার কথা বলেছেন এবং এর আমলও শিখিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘তোমরা বদনজরের প্রভাব থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা কর। কেননা নজরের প্রভাব সত্য।’ (ইবনে মাজাহ ৩৫০৮)

পবিত্র কোরআনেও কয়েক জায়গায় বদনজরের কথা বলা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘কাফেররা যখন উপদেশবাণী শোনে তখন তারা যেন তাদের দৃষ্টির মাধ্যমে তোমাকে আছড়ে ফেলবে, আর তারা বলে, এ তো এক পাগল’। (সুরা কলম ৫১)

আল্লামা ইবনে কাসির (রহ.) এই আয়াতের তাফসিরে বলেছেন, হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, কোরআনের এ আয়াতে ‘তাদের দৃষ্টির মাধ্যমে তোমাকে আছড়ে ফেলবে’ দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে ‘তোমার প্রতি বদনজর দেবে।’  তারা তোমাকে হিংসার প্রতিফলন ঘটিয়ে রোগী বানিয়ে দেবে, যদি আল্লাহর তোমার প্রতি হেফাজত না থাকে। আয়াতটি প্রমাণ বহন করে, বদনজরের কুপ্রভাবে মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ে এটা সত্য। (তাফসিরে ইবনে কাসির ৪/৪১০)

বদনজর থেকে বাঁচার আমল

বদনজর থেকে বাঁচতে নবীজি দোয়া শিখিয়ে দিয়েছেন। হজরত আবু সাঈদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ (স.) একবার কোনো এক রোগে আক্রান্ত হলেন। তখন জিবরাইল (আ.) নবীজি (স.)-এর কাছে এসে বললেন, হে মুহাম্মদ, আপনি কি অসুস্থতা বোধ করছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। জিবরাইল (আ.) তখন এ দোয়াটি পড়লেন,

بِاسْمِ اللهِ أَرْقِيكَ، مِنْ كُلِّ شَيْءٍ يُؤْذِيكَ، مِنْ شَرِّ كُلِّ نَفْسٍ أَوْ عَيْنِ حَاسِدٍ، اللهُ يَشْفِيكَ بِاسْمِ اللهِ أَرْقِيكَ.

উচ্চারণ: বিসমিল্লাহি আরকিকা মিন কুল্লি শাইয়িন ইউজিকা মিন শাররি কুললি নাফসিন আউ আইনিন হাসিদিন, আল্লাহু ইয়াশফিকা বিসমিল্লাহি আরকিকা

অর্থ: আল্লাহর নামে আপনাকে ফুঁ দিচ্ছি; যেসব জিনিস আপনাকে কষ্ট দেয়, সেসব প্রাণের অনিষ্ট কিংবা হিংসুকের বদনজর থেকে আল্লাহ আপনাকে শিফা দিন; আল্লাহর নামে আপনাকে ফুঁ দিচ্ছি।’ (মুসলিম ৫৫১২)। সুতরাং দোয়াটি পড়ে আক্রান্ত ব্যক্তিকে বারবার ফুঁ দিলে ইনশাল্লাহ, ধীরে ধীরে বদনজর কেটে যাবে। এছাড়াও ছোট বাচ্চাদের ক্ষেত্রে এ দোয়াটি খুবই উপকারি।