১৬ বছর উন্নয়নের নামে জনগণের সম্পদ লুট করা হয়েছে : তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বিগত ১৬ বছরে উন্নয়নের নাম করে দেশের জনগণের সম্পদ লুটপাট করে বিদেশে পাচার করে দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুর সিলেটের আলীয়া মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত বিএনপির জনসভায় এ কথা বলেন তিনি। তারেক রহমান বলেন, ষড়যন্ত্রকারীরা এখনো সক্রিয়। দেশে-বিদেশে বসে যারা ষড়যন্ত্র করছেন, তাদের থেকে সচেতন থাকতে হবে। দেশের মানুষ আগেও ঐক্যবদ্ধ হয়ে ষড়যন্ত্র প্রতিহত করেছে। আগামীতেও জনগণ ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবে।

এর আগে, দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে মঞ্চে উঠেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এটি বিএনপির প্রথম নির্বাচনি জনসভা। এদিন বেলা পৌনে ১১টার দিকে সিলেট নগরীর ঐতিহাসিক সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে কুরআন তেলাওয়াতের মধ্যদিয়ে সমাবেশের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। জনসভাকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে সভাস্থল কানায় কানায় পূর্ণ। নির্ধারিত সময়ের কয়েক ঘণ্টা আগেই মাঠ ছাড়িয়ে আশপাশের রাস্তাঘাটে অবস্থান নিয়েছেন নেতাকর্মীরা।




নির্বাচন করতে পারবেন তাসনিম জারা

ডেস্ক নিউজঃ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। এ ছাড়া কক্সবাজার-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী এবং দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন।

আপিল শুনানিতে কমিশনের এই সিদ্ধান্তে তাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের পথে থাকা আইনি বাধা দূর হলো।

শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিল আবেদনের শুনানি শেষে কমিশন এই রায় দেয়। এর মাধ্যমে মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে করা আপিলে সফল হন উভয় প্রার্থী।

শনিবার থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে করা আপিল শুনানি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন ভবনের অডিটোরিয়ামে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এই শুনানি চলবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ কমিশনের সব সদস্য এ শুনানি গ্রহণ করছেন।

ইসি সূত্র জানায়, শুনানির প্রথম দিনেই ১ থেকে ৭০ নম্বর আপিল আবেদনের ওপর সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যেই তাসনিম জারা ও হামিদুর রহমান আযাদের আপিল নিষ্পত্তি করা হয় এবং তাদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়।

নির্বাচন কমিশনের পরিচালক (জনসংযোগ) মো. রুহুল আমিন মল্লিক জানান, আগামী ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে আপিল শুনানি চলবে। সূচি অনুযায়ী—

১১ জানুয়ারি (রোববার): ৭১ থেকে ১৪০ নম্বর আপিল
১২ জানুয়ারি (সোমবার): ১৪১ থেকে ২১০ নম্বর আপিল
১৩ জানুয়ারি (মঙ্গলবার): ২১১ থেকে ২৮০ নম্বর আপিল

অবশিষ্ট আপিলগুলোর শুনানির তারিখ পরে জানানো হবে বলে তিনি জানান।

এর আগে গত ৪ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের শেষ দিনে দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনে দাখিল করা ২ হাজার ৫৬৮টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে ১ হাজার ৮৪২টি বৈধ এবং ৭২৬টি বাতিল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। এসব সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে মোট ৬৪৫টি আপিল আবেদন জমা পড়ে। চলমান এই শুনানির মধ্য দিয়ে আগামী কয়েক দিনে আরও অনেক প্রার্থীর রাজনৈতিক ভাগ্য নির্ধারিত হতে যাচ্ছে।




লালমনিরহাটে ০৩ আসনে যাচাই-বাছাইয়ে ০৫ জনের মনোনয়ন বাতিল, অপেক্ষমাণ ২

জহুরুল হক জনি, লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধিঃ লালমনিরহাট জেলার তিনটি সংসদীয় আসনে দাখিল করা ২৭টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে পাঁচজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া সামান্য ত্রুটির কারণে আরও দুইজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র আপাতত অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছে। শনিবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ও শুনানি শেষে এ তথ্য জানান রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দার।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, পাঁচটি উপজেলা ও দুটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত লালমনিরহাট জেলার তিনটি সংসদীয় আসনে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মোট ২৭ জন মনোনয়নপত্র জমা দেন। যাচাই-বাছাই কার্যক্রমে প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের উপস্থিতিতে শুনানি গ্রহণ করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।
শুনানি শেষে তিনটি আসনের মোট পাঁচজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে সামান্য ত্রুটি থাকায় লালমনিরহাট-৩ (সদর) আসনে এবি পার্টির প্রার্থী ফিরোজ কবির এবং লালমনিরহাট-১ আসনে লেবার পার্টির প্রার্থী শুভ আহমেদের মনোনয়নপত্র অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছে।
শুনানিতে লালমনিরহাট-০১ আসনের আলোচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী, তুরস্কপ্রবাসী শিহাব আহমেদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
তার দাখিলকৃত এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরে গরমিল পাওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল করিম, ডাঃ আবু সামা এবং খেলাফত মজলিশের প্রার্থী আবুল কাসেমের মনোনয়নপত্রও বাতিল করা হয়েছে।
এছাড়া লালমনিরহাট-০২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুর রহমানের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়।
এদিকে, সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় পার্টির লালমনিরহাট-০১ আসনের প্রার্থী মশিউর রহমান রাঙ্গার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। লালমনিরহাট-০২ আসনে জনতার দলের চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম কামাল, লালমনিরহাট-০৩ আসনে বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও লালমনিরহাট জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু এবং জামায়েতে ইসলামীর এ্যাডঃ আবু তাহেরের মনোনয়নপত্রও বৈধতা পেয়েছে।
রিটার্নিং কর্মকর্তা এইচ এম রকিব হায়দার জানান, যাচাই-বাছাই শেষে পাঁচটি মনোনয়ন বাতিল এবং দুটি মনোনয়ন সামান্য ত্রুটির কারণে অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ত্রুটি সংশোধন করা হলে ওই দুটি মনোনয়ন বৈধ হিসেবে ঘোষণা করা হবে।



মনোনয়নকে কেন্দ্র করে সহিংসতা, বিএনপির চার নেতা বহিষ্কার

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলীয় মনোনয়ন ঘোষণার পর চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড এলাকায় সহিংসতা ও জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বিএনপির চার নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সোমবার সন্ধ্যার পর সীতাকুণ্ডের কদমরসুল, ভাটিয়ারী বাজার ও জলিল গেইট এলাকায় মনোনয়নকে কেন্দ্র করে সহিংসতা, ভাঙচুর, হানাহানি ও সড়ক অবরোধসহ নানাবিধ অবৈধ কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আলাউদ্দিন মনি, সাধারণ সম্পাদক হেলাল উদ্দিন বাবর, সীতাকুণ্ড পৌরসভার আহ্বায়ক মামুন এবং সোনাইছড়ী ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মমিন উদ্দিন মিন্টুকে দলের প্রাথমিক সদস্যসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এর আগে সোমবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে গুলশানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি সভাপতিত্ব করেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৈঠকে নির্বাচনে প্রার্থী চূড়ান্তকরণ ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

উল্লেখ্য, আগামী ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচন কমিশন ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছে।




যে জেলায় কোনো প্রার্থীই দেয়নি বিএনপি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ২৩৭ আসনে সম্ভাব্য দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপি।

সোমবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন। এর মধ্যে একটি জেলা রয়েছে, যেখানে কাউকেই মনোনয়ন দেয়নি বিএনপি।

দলটির প্রকাশিত তালিকায় দেখা গেছে, বাগেরহাটে তিনটি আসন থাকলেও কোনোটিতে প্রার্থী দেওয়া হয়নি। তালিকায় জেলার তিনটি আসনের প্রার্থীর নামের ঘরটি খালি রয়েছে।

জানা গেছে, খালি রাখা ৬৩ আসনের মধ্যে ৪০টি জোটসঙ্গীদের দেওয়ার কথা ভাবছে বিএনপি। বাকি ২৩ আসনে এখনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি কেন্দ্রীয় কমিটি। সেগুলো নিয়ে সিদ্ধান্ত পরে জানানো হবে।