সমুদ্রের ঢেউ আর পোড়া মাছের ঘ্রাণে প্রাণবন্ত কুয়াকাটা

কলাপাড়া(পটুয়াখালী) প্রতিনিধিঃ সূর্য ডোবার পর কুয়াকাটার এক ভিন্ন রূপ চোখে পড়ে। দিনের আলো মুছে যেতেই সৈকতের পাশেই জমে ওঠে রাতজাগা ফিস ফ্রাই মার্কেট, যেখানে স্বাদ আর পরিবেশ মিলিয়ে তৈরি হয় এক অনন্য অভিজ্ঞতা।

পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটার জিরো পয়েন্টের পূর্ব পাশে অবস্থিত এই ফ্রাই মার্কেটে প্রতিদিনই শত শত দর্শনার্থীর ভিড় দেখা যায়। পরিবার-পরিজন নিয়ে খোলা আকাশের নিচে বসে অনেকে উপভোগ করেন সদ্য ভাজা সামুদ্রিক মাছের স্বাদ।

সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে সারি সারি দোকানে জ্বলে ওঠে আলো। লইট্টা, টুনা, কোরাল, ইলিশ, রুপচাঁদা, চিংড়ি, কাঁকড়া সহ নানা ধরনের মাছ সাজিয়ে রাখা হয়। ক্রেতার পছন্দ অনুযায়ী সেগুলো তাৎক্ষণিক ভেজে বা গ্রিল করে পরিবেশন করা হয়।

গভীর রাত পর্যন্ত পোড়া মাছের গন্ধ পর্যটকদের টেনে নেয় বারবিকিউ জোনে। সমুদ্রের ঢেউ আর গরম মাছ ভাজার ঘ্রাণ একসঙ্গে মিলে তৈরি করে ভিন্নধর্মী এক আবহ। এক পাশে বারবিকিউ, অন্য পাশে গান আর আড্ডায় মেতে ওঠেন পর্যটকেরা।

স্থানীয়দের মতে, এখানে প্রায় শতাধিক দোকান রয়েছে। প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ভিড়ে মুখর থাকে পুরো এলাকা। ছুটির দিনগুলোতে এই ভিড় আরও বেড়ে যায়।

পর্যটন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সঠিক পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে কুয়াকাটার এই ফ্রাই মার্কেট দেশের অন্যতম জনপ্রিয় নাইট ফুড ডেস্টিনেশন হয়ে উঠতে পারে। ইতোমধ্যে এটি স্থানীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখছে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করছে।

তবে বাজারের পরিচ্ছন্নতা ও খাবারের মূল্য নিয়ে কিছু পর্যটকের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। তাদের মতে, নিয়মিত তদারকি থাকলে এই মার্কেট আরও সুশৃঙ্খল ও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।

পর্যটক শামসুর নাহার দোলা বলেন, কুয়াকাটার সমুদ্র দেখার পর এই ফ্রাই মার্কেটে খাওয়ার অভিজ্ঞতা অসাধারণ। পরিবেশ আর স্বাদ মিলিয়ে এটি এক অনন্য অনুভূতি।

পর্যটক সাকিল আহম্মেদ বলেন, কুয়াকাটায় এসে ফিস ফ্রাই না খেলে মনে হয় কিছু একটা মিস হয়ে যায়। সারাদিন ঘোরাঘুরির পর সন্ধ্যায় এখানে এসে টাটকা মাছ খাওয়ার আলাদা আনন্দ আছে।

হলিডে ফিস ফ্রাইয়ের স্বত্বাধিকারী সাগর জানান, বাজার থেকে সবচেয়ে তাজা মাছ সংগ্রহ করে পর্যটকদের চাহিদা অনুযায়ী পরিবেশন করা হয়।

কুয়াকাটা ফিস ফ্রাই মালিক সমিতির সভাপতি কাউসার বলেন, পর্যটকদের সন্ধ্যার পর বিনোদনের সুযোগ বাড়াতে এই বারবিকিউ আয়োজন শুরু হয়েছে। বর্তমানে এটি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

ট্যুর অপারেটর এসোসিয়েশন অফ কুয়াকাটা টোয়াকের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিরাজ বলেন, সমুদ্রের ঢেউ আর গরম মাছ ভাজার ঘ্রাণ মিলিয়ে এই ফ্রাই মার্কেট এখন কুয়াকাটার অন্যতম আকর্ষণ।




কক্সবাজার সৈকতে দূষণের বিরুদ্ধে সচেতনতার বার্তা দিতে ‘প্লাস্টিকের দৈত্য

পর্যটন ডেস্কঃ সমুদ্রে প্লাস্টিক দূষণের ভয়াবহতা সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে কক্সবাজার সৈকতে তৈরি করা হয়েছে ভয়ংকর এক প্লাস্টিকের দৈত্য।

জেলা প্রশাসন ও বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে পরিত্যক্ত সামুদ্রিক প্লাস্টিক দিয়ে একদল স্বেচ্ছাসেবী এই দানব তৈরি করেছেন। সৈকতের সুগন্ধা সীগাল পয়েন্টে প্রদর্শন করা হচ্ছে ওসান প্লাস্টিক বর্জ্যে তৈরি এ ভাস্কর্যের। পাশাপাশি তিন মাসব্যাপী চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে।

বুধবার (৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৬টায় এই ভাস্কর্যয়ের উদ্বোধন করেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান। আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শহীদুল আলম ও বিদ্যানন্দের গভর্নিং বডির সদস্য জামাল উদ্দিন প্রমুখ।

সরেজমিনে দেখা যায়, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সীগাল পয়েন্টের বালিয়াড়িতে দাঁড়িয়ে আছে প্লাস্টিকে তৈরি ভয়ংকর এক দানব। প্রতীকী হলেও এর হিংস্র থাবায় প্রতিনিয়ত ক্ষত-বিক্ষত হচ্ছে মানবদেহ, প্রকৃতি ও প্রাণবৈচিত্র্য। প্রথম দর্শনে পর্যটকদের মনে ভয় ধরিয়ে দিলেও কাছে যেতেই তা কেটে যাবে। তারা জানতে পারবেন প্লাস্টিক দূষণে প্রাণ-প্রকৃতির ক্ষতির মাত্রা।

আয়োজকরা জানান, প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন ও কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের অপার সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিনই সমাগম ঘটে লাখো পর্যটকের। তাদের অনেকে সৈকতের বালিয়াড়ি ও সাগরের পানিতে প্লাস্টিক পণ্য সামগ্রীর বর্জ্য ফেলে। এতে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে দূষণ এবং হুমকির মুখে পড়ছে সামুদ্রিক জীব ও মানবজীবন। দূষণ রোধে ও সচেতনতা সৃষ্টিতে ভিন্নধর্মী এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, জেলা প্রশাসন সবসময়ই এমন উদ্যোগের সঙ্গে থাকবে। আশা করছি এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে মানুষ প্লাস্টিক ব্যবহারে আরও সতর্ক হবে।

বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের গভর্নিং বডির সদস্য জামাল উদ্দিন বলেন, বর্তমান সরকারের পরিবেশ মন্ত্রণালয় প্লাস্টিক দূষনের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়েছে। সরকারের পলিসির সাথে সমন্বয় করে আমরা সারাদেশ থেকে স্বেচ্ছাশ্রমে ৫০০ মেট্রিক টন পরিত্যক্ত প্লাস্টিক রিসাইকেল করেছি।

তিনি আরও জানান, দেশব্যাপী এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে কক্সবাজারে জেলা প্রশাসনের সহযোগীতায় ৬ মাসব্যাপী প্লাস্টিক দূষণ প্রতিরোধে কাজ করব।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের ভাস্কর ও শিল্পী আবীর কর্মকার জানান, প্লাস্টিকের দানবটি তৈরি করেছেন বিভাগের একদল শিল্পী। ভাস্কর্য শিল্পীদের দাবি, এটি ওসান প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি বিশ্বের সবচেয়ে বড় ‘প্লাস্টিক দৈত্য’। এটি তৈরি করতে প্রায় ৬ মেট্রিক টন প্লাস্টিক ব্যবহৃত হয়েছে।

বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের দায়িত্বরত স্বেচ্ছাসেবক মুহাম্মদ মুবারক জানান, প্রায় চার মাস ধরে কক্সবাজার, ইনানী ও টেকনাফের সমুদ্র সৈকত থেকে অন্তত ৮০ মেট্রিক টন সামুদ্রিক প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব বর্জ্যর একটা অংশ দিয়ে এই ‘প্লাস্টিক দানব’ নির্মাণ করা হয়েছে।

এটি পুরো পর্যটন মৌসুমে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এছাড়া প্লাস্টিক দূষণবিরোধী সচেতনতামূলক পথনাটক ও সংগীতানুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে বলেও জানান তিনি।




“প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের খোঁজে পর্যটকরা ভিড় করছেন সাজেক উপত্যকায়”

পর্যটক ডেস্কঃ রাঙামাটির সাজেক উপত্যকা বর্তমানে দেশের পর্যটকদের অন্যতম প্রিয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। পাহাড়ের কোলে অবস্থিত এই উপত্যকা তার সবুজ বনভূমি, কোলাহলহীন পরিবেশ এবং মেঘে ঢেকে থাকা দৃশ্যের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত।

পর্যটকরা জানাচ্ছেন, প্রকৃতির কাছে এসে তারা মানসিক স্বস্তি ও শীতলতা অনুভব করছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, এই মৌসুমে পর্যটকের সংখ্যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৩০% বৃদ্ধি পেয়েছে।

পর্যটন কর্তৃপক্ষ পর্যটকদের জন্য নিরাপদ ও সুবিধাজনক ভ্রমণের বন্দোবস্ত করছে। বিশেষ করে পাহাড়ি পথ ও ছোট হোমস্টের উন্নয়ন চলছে, যাতে ভ্রমণকারীরা আরও আরামদায়ক পরিবেশে সাজেকের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের প্রতি মানুষের আগ্রহ বেড়ে যাওয়ায় সাজেকসহ পাহাড়ি পর্যটন স্পটগুলোর গুরুত্ব ক্রমবর্ধমান।