ওয়েব ফিল্ম দিয়ে ঈদে পর্দায় ফিরছেন মৌ

বিনোদন ডেস্ক : আসন্ন ঈদুল আজহায় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম আইস্ক্রিন-এ মুক্তি পাবে ওয়েব ফিল্ম ‘সারার সংসার’। প্রয়াত কথাসাহিত্যিক কাজী আনোয়ার হোসেনের জনপ্রিয় উপন্যাস ‘আর্তনাদ’ অবলম্বনে এটি নির্মিত হয়েছে। এই ওয়েব ফিল্মের কেন্দ্রীয় চরিত্রে থাকছেন নন্দিত মডেল, নৃত্যশিল্পী ও অভিনেত্রী সাদিয়া ইসলাম মৌ।

সম্প্রতি ওয়েব ফিল্মটির ফার্স্ট লুক পোস্টার প্রকাশ করা হয়েছে। এই পোস্টার প্রকাশের মধ্য দিয়েই আনুষ্ঠানিকভাবে ‘সারার সংসার’-এর মুক্তির ঘোষণা দেয় কর্তৃপক্ষ। সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন আকা রেজা গালিব।

আর্তনাদ উপন্যাসে সত্তরের দশকের প্রেক্ষাপট থাকলেও ‘সারার সংসার’ ওয়েব ফিল্মে সময়টি এগিয়ে আনা হয়েছে। চিত্রনাট্য লেখা হয়েছে বর্তমান সময়ের উপযোগী করে। চিত্রনাট্য লিখেছেন কাজী আনোয়ার হোসেনের পুত্রবধূ মাসুমা মায়মুর। প্রযোজনা করেছে ইমপ্রেস টেলিফিল্ম।

সিনেমাটির গল্পে দেখা যাবে, মৌ অভিনীত ‘সারা’ চরিত্রটি এক রাতে ঘটনাক্রমে মেয়ের গোপন প্রেমিককে হত্যা করে ফেলে।

পরে মেয়ের সম্মান রক্ষায় পুরো ঘটনা গোপন করার চেষ্টা করে সে। লাশ সরিয়ে ফেললেও পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। নিখোঁজ ব্যক্তিকে ঘিরে পুলিশ তদন্ত শুরু করলে পরিবার, অপরাধবোধ, আতঙ্ক ও রহস্যে গল্প এগিয়ে যায় টানটান উত্তেজনায়।

সিনেমাটি নিয়ে সাদিয়া ইসলাম মৌ বলেন, ‘অনেক দিন পর এমন একটি চরিত্রে কাজ করলাম, যেখানে আবেগ, ভয়, মানসিক টানাপোড়েন–সব একসঙ্গে রয়েছে। সারা চরিত্রটি খুব চ্যালেঞ্জিং ছিল। গল্পটা পড়েই মনে হয়েছে, দর্শক নতুন ধরনের কিছু দেখতে পাবেন।’

নির্মাতা আকা রেজা গালিব বলেন, ‘মূলত পারিবারিক আবহে গড়ে উঠলেও সারার সংসারে রয়েছে একটি জোরালো থ্রিলার উপাদান, যা দর্শকদের এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা দেবে। সিনেমায় কিছু প্লট ও চরিত্রের নামে পরিবর্তন আনা হয়েছে। কারণ আমরা চেয়েছি গল্পটি সময়োপযোগী করে দর্শকের সামনে উপস্থাপন করতে। পুরোটাই করা হয়েছে কাজী আনোয়ার হোসেনের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে।’

মৌসহ সিনেমাটিতে আরও অভিনয় করেছেন গাজী রাকায়েত, রাশেদ মামুন অপু, নাফিস আহমেদ, নাফিসা মালিয়াত প্রমি এবং ইহতেশাম আহমেদ টিংকু।




না ফেরার দেশে কারিনা কায়সার

বিনোদন ডেস্কঃ লিভার সংক্রান্ত জটিলতায় মারা গেছেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সার (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতের চেন্নাইয়ে নেওয়ার পর সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

তার মৃত্যুর বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন বাবা ও জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক খেলোয়াড় কায়সার হামিদ।

তিনি বলেন, ফুসফুসে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়ার সময় হঠাৎ কারিনার রক্তচাপ অনেক নিচে নেমে যায়। এরপর চিকিৎসকেরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও তাকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

কয়েক দিন ধরে লিভার সংক্রান্ত জটিলতায় সংকটাপন্ন ছিলেন কারিনা কায়সার। উন্নত চিকিৎসার জন্য গত সোমবার রাতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ভারতের চেন্নাই নেওয়া হয়। সেখানে ভেলোরের খ্রিষ্টান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছিল।

চিকিৎসকেরা প্রথমে তার ফুসফুসের চিকিৎসা শুরু করেন। এরপর লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রস্তুতিও চলছিল।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রথমে জ্বরে আক্রান্ত হন তিনি। পরে শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়ে। একই সঙ্গে হেপাটাইটিস এ ও ই জনিত জটিলতায় তার লিভার ফেইলিউর দেখা দেয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয় এবং পরে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়।

কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে পরিচিতি পেলেও সাম্প্রতিক সময়ে অভিনয় ও চিত্রনাট্য লেখায় ব্যস্ত ছিলেন কারিনা কায়সার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণবন্ত উপস্থাপনা ও জীবনঘনিষ্ঠ কনটেন্টের মাধ্যমে তরুণদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি।

পরে ওটিটি ও নাটকে কাজের মাধ্যমে নিজের অবস্থান তৈরি করেন। অভিনয়ের পাশাপাশি চিত্রনাট্যকার হিসেবেও কাজ করেছেন। তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ইন্টার্নশিপ, ৩৬ ২৪ ৩৬।

তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহকর্মী, নির্মাতা ও ভক্তদের শোক প্রকাশ করতে দেখা গেছে।




সালমান শাহ হত্যা মামলার প্রতিবেদন দাখিল ফের পেছাল

বিনোদন ডেস্ক : ঢালিউডের ক্ষণজন্মা অভিনেতা সালমান শাহকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগে তার স্ত্রী সামিরা হকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৩ জুন দিন ধার্য করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রতিবেদন দাখিল না করায় বিচারক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য এ দিন ধার্য করেন।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহর মৃত্যুর পর রমনা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়। তবে গত বছরের ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক বাদী পক্ষের করা রিভিশন মঞ্জুর করে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। এরপর ২১ অক্টোবর সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর রমনা থানায় হত্যা মামলা করেন। ১১ আসামির বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।

সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর অভিযোগ করেছেন, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তার বোন নিলুফার জামান চৌধুরী (নীলা চৌধুরী), বোনের স্বামী কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী এবং তাদের ছোট ছেলে শাহরান শাহ নিউ ইস্কাটনের বাসায় সালমান শাহর সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখানে গিয়ে তারা জানতে পারেন— সালমান ঘুমাচ্ছেন। কিছুক্ষণ পর প্রোডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে জানান, সালমানের কিছু হয়েছে। তখন দ্রুত তারা বাসায় ফিরে দেখেন যে, সালমান শয়নকক্ষে নিথর পড়ে আছেন এবং কয়েকজন বহিরাগত নারী তার হাত-পায়ে তেল মালিশ করছেন। পাশের কক্ষে সারিরার আত্মীয় রুবি বসে ছিলেন।

তিনি বলেন, সালমানের মা চিৎকার করে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার অনুরোধ করেন। পথে তারা সালমানের গলায় দড়ির দাগ এবং মুখমণ্ডল ও পায়ে নীলচে দাগ দেখতে পান। তারা সালমান শাহকে প্রথমে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল নিয়ে যান। সেখান থেকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান— সালমান শাহ অনেক আগেই মারা গেছেন। সালমানের বাবার মৃত্যুর পর তিনি তার বোনের পক্ষ থেকে মামলাটি পরিচালনা করছেন।

মোহাম্মদ আলমগীর এজাহারে আরও উল্লেখ করেন, সালমানের বাবা কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী তার মৃত্যুর আগে ছেলের মৃত্যুকে হত্যা বলে সন্দেহ করে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি দরখাস্ত দাখিল করেন। এতে তিনি রমনা থানার অপমৃত্যু মামলাটি দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ এবং সিআইডির মাধ্যমে তদন্তের আবেদন জানান।

মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে কেউ মৃত্যুবরণ করে থাকলে, প্রমাণ সাপেক্ষে তারা মামলার দায় থেকে অব্যাহতি পাবেন। এজাহারনামীয় ও অজ্ঞাতনামা পলাতক আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে পরস্পর যোগসাজশে সালমান শাহকে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার আসামিরা হলেন— সালমান শাহর স্ত্রী সামিরা হক, চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, খলঅভিনেতা ডন, লতিফা হক লুছি, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ফরহাদ। এ ছাড়া মামলায় অজ্ঞাত আরও অনেককে আসামি করা হয়েছে।




কান উৎসবে নেই ঐশ্বরিয়া, কিন্তু কেন?

বিনোদন ডেস্ক : শুরু হয়েছে কান চলচ্চিত্র উৎসব। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও বিশ্বের জনপ্রিয় তারকারা হাজির হয়েছেন এ আসরে। তারকাদের পোশাক আর লুক নিয়ে চলে সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের মাঝে নানা আলোচনা-সমালোচনা।

দীর্ঘ দিন ধরে বলিউডের অন্যতম অভিনেত্রী সাবেক বিশ্বসুন্দরী ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনের কানে উপস্থিতি নিয়ে চমক থাকছে। তবে কান ২০২৬ সালের আগে লরিয়াল প্যারিসের নতুন প্রোমোতে ঐশ্বর্য রাই বচ্চনের অনুপস্থিতি নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা। এবারের কান উৎসবের পোস্টারেও দেখা যায়নি অভিনেত্রীকে।

যদিও এর আগে ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন ২০০২ সাল থেকে কান চলচ্চিত্র উৎসবে নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন এবং ২০০৩ সাল থেকে লরিয়ালের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হিসেবে যুক্ত আছেন। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে তার উপস্থিতি কান রেড কার্পেটে গ্ল্যামার ও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছেন সাবেক এ বিশ্বসুন্দরী। এবার দেখার পালা ঐশ্বরিয়া কানে হাজির হন কিনা।

ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ও লরিয়ালের অন্যতম পরিচিত মুখ হয়েও এবারের চলচ্চিত্র উৎসবে ঐশ্বরিয়াকে না দেখায় হতাশা প্রকাশ করেছেন তার ভক্ত-অনুরাগীরা। ফ্রান্সের কান শহরে চলমান কান চলচ্চিত্র উৎসবের একটি প্রচারণামূলক আয়োজনে ছয় লরিয়াল প্যারিসের অ্যাম্বাসাডরের ছবি দেখা যায়। সেখানে বলিউড অভিনেত্রী আলিয়া ভাটসহ অন্যান্য তারকা থাকলেও অনুপস্থিত ছিলেন সাবেক বিশ্বসুন্দরী ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন।

এ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের মাঝে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। এক নেটিজেন লিখেছেন— ঐশ্বরিয়া না থাকলে লরিয়ালকে কল্পনাও করা যায় না। আরেক নেটিজেন লিখেছেন—তিনি ছিলেন পুরো এশিয়ার জন্য ব্র্যান্ডটির মুখ।

বিষয়টি ভাইরাল হওয়ার পর ব্র্যান্ডটির অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম পোস্টের কমেন্টে সরাসরি প্রশ্ন করেন অনেকেই। শেষ পর্যন্ত মুখ খোলে লরিয়াল প্যারিস। তারা জানিয়েছে, ঐশ্বরিয়া একজন জীবন্ত কিংবদন্তি এবং তিনি জানেন কীভাবে নিজেকে উপস্থাপন করতে হয়। প্রতি বছরই কানে তিনি থাকেন এটাই নিয়ম।




কানের রেড কার্পেটে আলিয়া ভাটকে ‘উপেক্ষা’র ভিডিও ভাইরাল

বিনোদন ডেস্ক : কান চলচ্চিত্র উৎসবের ৭৯তম আসরে দ্বিতীয়বারের মতো অংশ নিয়ে রেড কার্পেটে আলো ছড়িয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী আলিয়া ভাট।

তামারা র‌্যালফের ডিজাইন করা মনোমুগ্ধকর ব্লাশ-টোনড বডি-হাগিং গাউনে তার উপস্থিতি ছিল এক কথায় অনবদ্য। তবে আলিয়ার এই গ্ল্যামারাস উপস্থিতিকে ছাপিয়ে বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে একটি বিতর্কিত ভিডিও।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার)-এ ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, আলিয়া যখন রেড কার্পেটে পোজ দিচ্ছিলেন, তখন একদল আলোকচিত্রীকে তাদের ক্যামেরা নামিয়ে রাখতে দেখা যায়। এমনকি অভিনেত্রী হাসিমুখে হাত নাড়লেও অনেক পাপারাজ্জিই সেদিকে ভ্রুক্ষেপ করছিলেন না।

এই ভিডিওটি দ্রুত ভাইরাল হলে নেটিজেনদের একাংশ অভিনেত্রীকে নিয়ে ট্রল শুরু করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর ক্যাপশনে একজন লিখেছেন, ‘খুবই বিব্রতকর! কান একটি বৈশ্বিক মঞ্চ, অথচ তাকে কেউ চিনতেই পারছে না। কেউ তার দিকে ক্যামেরাও তাক করেনি। তিনি কার দিকে তাকিয়ে হাত নাড়ছেন? তার মধ্যে ব্যক্তিত্বের অভাব স্পষ্ট।’

ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর নেটিজেনরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। কট্টর সমালোচকদের কেউ কেউ আলিয়ার এই মুহূর্তটিকে ‘অস্বস্তিকর’ বলে অভিহিত করেছেন। এক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, ‘তিনি এমনভাবে হাত নাড়ছেন যেন তিনিই অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ, অথচ ক্যামেরাম্যানরা সব এয়ারপ্লেন মোডে আছেন!’

আবার কেউ কেউ তার আমন্ত্রণের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।

তবে আলিয়ার ভক্ত এবং সমর্থকদের সংখ্যাও কম নয়। অনেক নেটিজেন এই সংকীর্ণ মানসিকতার সমালোচনা করে বলেছেন, ভারতীয়রাই অন্য ভারতীয়দের সাফল্যে সবচেয়ে বেশি ঈর্ষান্বিত হয়।

আলিয়াকে সমর্থন জানিয়ে একজন লিখেছেন, ‘সবাই ভুলে যাচ্ছেন যে তিনি ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে সেখানে গিয়েছেন। শাহরুখ খানকেও আপনারা একসময় এভাবে ট্রল করেছিলেন।’

অন্যদিকে খ্যাতনামা আন্তর্জাতিক আলোকচিত্রী গ্রেগ মার্টিন আলিয়ার সঙ্গে একটি সেলফি পোস্ট করে তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন, যা প্রমাণ করে যে আন্তর্জাতিক মহলেও এই অভিনেত্রীর যথেষ্ট গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। আলিয়ার পক্ষ নিয়ে আরেক ভক্ত লিখেছেন, ‘আলোকচিত্রীরা তার ছবি তুলছেন কিনা তা বড় কথা নয়। বড় কথা হলো তিনি সেখানে আমন্ত্রিত হয়েছেন এবং পুরো আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে অংশ নিয়েছেন।’

সব মিলিয়ে, কানের রেড কার্পেট এবং আলিয়া ভাটের এই ভিডিওটি বর্তমানে বিনোদন জগতের অন্যতম ‘টক অব দ্য টাউন’-এ পরিণত হয়েছে। কেউ একে দেখছেন ‘উপেক্ষা’ হিসেবে, আবার কারো মতে আলিয়ার বিরুদ্ধে এটি স্রেফ নেতিবাচক প্রচারণার একটি অংশ।




কারিনা কায়সারকে লিভার ডোনেট করবেন তার ভাই

বিনোদন ডেস্কঃ লিভার-সংক্রান্ত জটিলতায় সংকটাপন্ন কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সারকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতের চেন্নাই নেয়ার পর শুরু হয়েছে নতুন চিকিৎসা-প্রক্রিয়া। তিনি বর্তমানে চেন্নাইয়ের ভেলোরে অবস্থিত খ্রিষ্টান মেডিক্যাল কলেজ (সিএমসি) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, প্রথমে তার ফুসফুসের সমস্যার চিকিৎসা করা হবে, এরপর ধাপে ধাপে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের দিকে অগ্রসর হওয়া হবে।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তার দুই ভাইয়ের রক্ত পরীক্ষা করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন লিভার ডোনেট করবেন।

গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে কায়সার হামিদ বলেন, তার ছোট ছেলে সাদাত হামিদের সঙ্গে কারিনার রক্তের গ্রুপের মিল রয়েছে। তবে দুই ভাইয়েরই রক্ত পরীক্ষা করা হয়েছে।

এর আগে, গত সোমবার রাত ১১টায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে কারিনাকে রাজধানীর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চেন্নাইয়ের উদ্দেশে নেয়া হয়। তার সঙ্গে রয়েছেন মা ও দুই ভাই।




‘অস্তিত্বের লড়াই’ প্রামাণ্যচিত্র নিয়ে ফিরছেন পূর্ণিমা

বিনোদন ডেস্ক : ঢাকাই সিনেমার একসময়ের জনপ্রিয় নায়িকা পূর্ণিমা। এখন আর আগের মতো অভিনয়ে দেখা যায় না তাকে। মাঝে তিনটি সিনেমায় কাজ করলেও সেগুলো এখনো মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে, পাশাপাশি নাটকেও দীর্ঘ বিরতিতে আছেন এই নায়িকা।

তবে পূর্ণিমা ভক্তদের জন্য সুখবর, সম্প্রতি এই নায়িকা সচেতনতামূলক একটি প্রামাণ্যচিত্রের অংশ হয়েছেন। জলবায়ু পরিবর্তন এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতেই ‘অস্তিত্বের লড়াই’ নামের এই প্রামাণ্যচিত্রে অংশ নিয়েছেন তিনি।

১৯৭০ সালে ভোলায় ঘটে যাওয়া প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়ে ‘প্রেমের তাজমহল’ খ্যাত প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক গাজী মাহবুব এটি নির্মাণ করেছেন। সম্প্রতি এফডিসিতে এর দৃশ্যধারণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

প্রমাণ্যচিত্রটির সঙ্গে যুক্ত হওয়া প্রসঙ্গে পূর্ণিমা বলেন, ‘এই প্রামাণ্যচিত্রের ভাবনাটি আমার খুব ভালো লেগেছে। মানুষকে সচেতন করার একটি দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে আমি এতে অংশ নিয়েছি। আমি সবসময়ই এমন ভালো এবং ইতিবাচক কাজের সঙ্গে থাকতে চাই।’

বেসরকারি উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান মানবসুর উন্নয়ন সংস্থা (মাউস)-এর জন্য প্রামাণ্যচিত্রটি নির্মিত হয়েছে বলে জানা গেছে। ‎প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সোহরাব লাভুর গ্রন্থনা ও পরিকল্পনায় প্রামাণ্যচিত্রটির নাম রাখা হয়েছে ‘অস্তিত্বের লড়াই’।

নির্মাতা গাজী মাহবুব জানান, এতে উঠে আসবে ১৯৭০ সালে ভোলা জেলায় বন্যার সেই মর্মান্তিক কাহিনি ও বর্তমান বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগে আমাদের করণীয় কী।

মানবসুর উন্নয়ন সংস্থার আয়োজনে জলবায়ু সহনশীল বাংলাদেশ গঠনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা স্বেচ্ছাসেবক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্ঠানে এটি দেখানো হবে। এছাড়া ইন্টারনেটেও এটি প্রকাশিত হবে বলে জানান তিনি।

পূর্ণিমাসহ প্রামাণ্যচিত্রটিতে আরও অভিনয় করেছেন চলচ্চিত্রের একঝাক পরিচিত মুখ। তাদের মধ্যে রয়েছেন প্রবীণ নির্মাতা ও অভিনেতা কাজী হায়াৎ, শিবা শানু, তানহা তাসনিয়া, শিরিন শিলা, মৌ খান ও জয় চৌধুরীসহ আরও অনেকে।




লাইফ সাপোর্টে অভিনেতা আতাউর রহমান

বিনোদন ডেস্ক : বাংলাদেশের বরেণ্য নাট্যজন আতাউর রহমান গুরুতর অসুস্থ হয়ে লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন। গত শুক্রবার (৮ মে) বাসায় পড়ে যাওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। এরপর তাকে গুলশানের একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা আইসিইউ সাপোর্টের প্রয়োজনীয়তার কথা জানান।

তবে ওই হাসপাতালে আইসিইউ সুবিধা না থাকায় পরে তাকে ধানমন্ডির একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ভর্তি করার পরপরই তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়।

সোমবার (১১ মে) দুপুরে তার মেয়ে শর্মিষ্ঠা রহমান গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

পরবর্তীতে কিছুটা শারীরিক উন্নতি হলে লাইফ সাপোর্ট খুলে দেওয়া হলেও আবার অবস্থার অবনতি ঘটায় তাকে পুনরায় লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়েছে।

শর্মিষ্ঠা রহমান বলেন, আব্বার অবস্থা খুবই জটিল। তার শরীরের একাধিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল হয়ে পড়েছে। সবার কাছে আব্বার সুস্থতার জন্য দোয়া চাই।

বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বহুমাত্রিক পরিচয়ের অধিকারী আতাউর রহমান একাধারে নাট্যকার, অভিনেতা, মঞ্চনির্দেশক ও লেখক। ১৯৪১ সালের ১৮ জুন নোয়াখালীতে জন্ম নেওয়া এই গুণীজন স্বাধীনতা-পরবর্তী মঞ্চনাট্য আন্দোলনের অন্যতম অগ্রদূত হিসেবে পরিচিত।  দেশের সংস্কৃতি ও নাট্যাঙ্গনে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি পেয়েছেন একুশে পদক ও স্বাধীনতা পদক।




কারিনা কায়সারকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে চেন্নাই নেওয়া হচ্ছে

বিনোদন ডেস্কঃ লাইফ সাপোর্টে থাকা অভিনেত্রী কারিনা কায়সারকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ভারতের চেন্নাই নেওয়া হবে।

কারিনার বাবা কায়সার হামিদ বলেন, উন্নত চিকিৎসার জন্য চেন্নাই থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স দেশে আসছে সোমবার; এদিনই তাকে নিয়ে যাওয়া হবে চেন্নাইয়ে। চিকিৎসকরা কারিনার শারীরিক অবস্থাকে আপাতত ‘স্ট্যাবল’ বলেছেন এবং আইসিইউ সুবিধাসহ তাকে ভারতে নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, বর্তমানে তার রক্তচাপ স্বাভাবিক রয়েছে, কিডনি ও হৃদযন্ত্রও কাজ করছে ঠিকভাবে। তবে তীব্র জন্ডিসের কারণে তার লিভার কার্যক্ষমতা হারিয়েছে।

এক সপ্তাহ ধরে লিভার সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন কারিনা। শুক্রবার প্রচণ্ড জ্বরের সঙ্গে শ্বাসকষ্ট হলে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়।

কারিনা হেপাটাইটিসে আক্রান্ত বলে চিকিৎসকদের বরাতে জানিয়েছিলেন তারা বাবা। কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে পরিচিতি পেলেও সম্প্রতি অভিনয়ে নিয়মিত হচ্ছিলেন কারিনা। অভিনয়ের পাশাপাশি চিত্রনাট্যকার হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছেন তিনি। তার কিছু কাজের মধ্যে রয়েছে ‘ইন্টার্নশিপ’ ও ‘৩৬-২৪-৩৬’।




সন্তান নিয়ে একা ববিতার সংগ্রাম, যে কথাগুলো আগে বলেননি ববিতা

বিনোদন ডেস্ক : ব্যবসায়ী ইফতেখারুল আলমকে ১৯৮২ সালের ২৬ সেপ্টেম্বরে বিয়ে করেন অভিনয়শিল্পী ফরিদা আক্তার ববিতা। বিয়ের প্রায় সাড়ের ছয় বছর পর, ১৯৮৯ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি সন্তান অনিক ইসলামের জন্ম। অনিকের জন্মের তিন বছর পর ১৯৯৩ সালের ১০ জানুয়ারি মারা যান ববিতার স্বামী। এর পর থেকে তাঁর জীবনে অনেকে আসতে চেয়েছিলেন। পরিবার আর আত্মীয়স্বজনও চাপ দিচ্ছিলেন বিয়ের জন্য। কিন্তু অনড় ববিতা সন্তানের কথা ভেবে দ্বিতীয়বার সংসারজীবন শুরু করেননি। আজ মা দিবসে মা ববিতা বললেন তাঁর সংগ্রামী জীবনের গল্প।

সিনেমা ঘিরে স্বপ্ন ছিল ববিতার। স্বামী ইফতেখারুল আলমও তাঁকে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছেন। বলেছিলেন, বাড়ির কোনো কিছু নিয়ে ভাবতে হবে না তাঁকে, যেন শুধুই সিনেমা নিয়ে ভাবেন। তিনিও সেভাবেই জীবন পার করছিলেন। স্বামী আর পেশাগত জীবন দুটিই সুন্দরভাবে মানিয়ে নিয়েছেন। কিন্তু কে জানত, এত অল্প সময়ের সংসারজীবন হবে তাঁর। ববিতার মতে, ‘মাত্র ১১ বছরের দাম্পত্য জীবন। হঠাৎ অনিকের বাবার মৃত্যুতে চারদিকে ঘোর অন্ধকার নেমে আসে। কী করব, কীভাবে জীবন চলবে, যেন দিশাহারা আমি। তবে মনোবল হারানোর মানুষ তো আমি নই। মনটাকে শক্ত করি। আমার সন্তান আছে, তাঁকে নিয়েই আমাকে এগিয়ে যেতে হবে। তাঁকে গড়ে তুলতে হবে। আবার আমার ক্যারিয়ার। দুটোকে সমন্বয় করেই এগিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করি।’

অনিকের বাবা ইফতেখারুল আলম নানা ধরনের রোগে ভুগছিলেন। কিডনি, লিভার, হার্টের নানান রোগ ছিল তাঁর। তবে এত তাড়াতাড়ি ছেড়ে চলে যাবেন, তা ভাবতে পারেননি ববিতা। মারা যাওয়ার পরের সময়টুকু তাই অকুলপাথারে পড়লেও সামলে নেন।

ববিতা বললেন, ‘পরিবারের কেউ আমাকে সারা দিন দেখাশোনা করত না। মাঝেমধ্যে করবে। কারণ, তাদের সবারও তো আলাদা সংসার, পেশাগত জীবন।। তাই সব আমাকে একাই করতে হতো। শুটিং, আয়রোজগার, সংসার চালানো, অনিককে দেখভাল—সব একাই করতে হতো।

অনিকের জন্মের আগে ‘লেডি স্মাগলার’ নামে একটি ছবির শুটিংয়ে ফিলিপাইনে যান ববিতা। নিজের প্রযোজনাপ্রতিষ্ঠানের এই ছবির বেশির ভাগ শুটিং হয় ফিলিপাইনে। অ্যানি সি স্কোভা নামের এক তরুণী ফিলিপাইনে ছবিটির শুটিংয়ের প্রোডাকশনে কাজ করতেন। সেই মেয়েটিকে পছন্দ হয় ববিতার। তাঁকে দেশে আনার পরিকল্পনা করেন, যাতে বাসার কাজে সহযোগিতা পাওয়া যায়। একটা পর্যায়ে প্রস্তাবও দেন। ফিলিপাইনের সেই তরুণী অনিকের জন্মের পর তাঁর দেখভালও করেছেন।

 

ববিতা বললেন, ‘ফিলিপাইনে “লেডি স্মাগলার” ছবির শুটিংয়ের সময়ে অ্যানিকে বলেছিলাম, তুমি কি বাংলাদেশে যেতে চাও? তখন কিন্তু অনিকের জন্ম হয়নি। সে বলে কি, আমার তো পাসপোর্ট নেই। তখন বলেছিলাম, আমি পাসপোর্ট করিয়ে নেব। আমি ভাবলাম, আমি একজন শিল্পী মানুষ, শুটিংয়ের কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়। এমন একজন মানুষ দরকার, যে খুব বিশ্বাসী। তখন বাংলাদেশি, কাজ যারা করত, তাদের ওপর খুব একটা আস্থা রাখা যেত না। নানা ধরনের দুর্ঘটনা ঘটত। আবার তারা ঠিকমতো কাজ করত না। অ্যানিকে আনলাম, মেয়েটা এত বিশ্বাসী ছিল, আমার বাসার সবকিছু সামাল দিত। ঘরসংসার, বাজারসদাই, সব করত। আমার শুটিংয়ের কাজেও সহযোগিতা করত। শুরুতে টানা পাঁচ-ছয় বছর ছিল। এরপর একবার গিয়ে আবার এল। ফিরে এসে আবার পাঁচ-ছয় বছর ছিল। তারপর একদিন মেয়েটা বলল, বাবা-মায়ের বয়স হয়েছে, আমাকে একেবারে চলে যেতে হবে। মেয়েটা চলে গেল। এরপর আবার অন্য মিশন শুরু।’

ববিতার ছেলে অনিকের স্কুলজীবন শুরু বনানীর প্লে–পেন স্কুলে। ববিতা বললেন, ‘আমার ড্রাইভার অনিককে স্কুলে দিয়ে আসত। মেয়েটা নিয়ে আসত। ওই মেয়েটা আমি যখন ছবি বানাতাম প্রোডাকশনের কাজও করত। সব কাজ জানত। খুবই স্মার্ট ছিল। বাংলাদেশে তখন বাসাবাড়িতে বিদেশি কাজের লোক রাখা যেত না। আমি তখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে একটা চিঠি লিখেছিলাম। লিখেছিলাম, আমি একজন শিল্পী মানুষ, দেশ-বিদেশ নানা জায়গায় শুটিংয়ে ব্যস্ত থাকতে হয়। আমার সন্তানের বাবা বেঁচে নাই। আমার সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে গৃহপরিচারিকা রাখার অনুমতি দিলে ভালো হয়। অনুমতি পাই।’

প্লে–পেন স্কুলে ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত পড়ার পর অনিকের স্কুলজীবন শুরু স্কলাস্টিকায়। এখান থেকেই ও লেভেল আর এ লেভেল শেষ করে উচ্চশিক্ষার জন্য ভর্তি হন কানাডার ওয়াটার লু ইউনিভার্সিটিতে। কৃতিত্বের সঙ্গে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করেন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে। এখন চাকরি করছেন।

ববিতা সেই সময়ের কথা মনে করে বললেন, ‘অনিক যখন বনানীর স্কুলে যাওয়া শুরু করে, তখন শুরুর দিকে আমি ওর ক্লাসরুমের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতাম। পরীক্ষায় সময় এটা বেশি করতে হতো। ববিতা নায়িকা, ওসব বিষয়ে আমার মধ্যে কাজ করত না।’

ফিলিপাইনের গৃহপরিচারিকা অ্যানি চলে যাওয়ার পর ববিতার আবার চিন্তায় পড়ে যান। শুটিং করতে হলে তো বাসাবাড়ির কাজের সহযোগিতার জন্য গৃহপরিচারিকা লাগবে। এবার অনেকটা বাধ্য হয়ে দেশ থেকে নিলেন। তবে বাইরে গেলে মনটা পড়ে থাকত বাসায়। অনিক কী করছে, খাচ্ছে তো ঠিকমতো। ঘুম হচ্ছে কি? পড়াশোনা করছে কি?

এদিকে ববিতার স্বামীর মারা যাওয়ার একটা সময় পর তাঁর ওপর বিয়ের চাপ আসতে থাকে। পরিবারের লোকজন, আত্মীয়স্বজন সবারই একটা চাপ ছিল। অন্যদিকে স্বামী যেহেতু নেই, প্রেমের প্রস্তাবও বাদ যায়নি। অনেকেই তাঁকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছেন, বিয়ে করে সংসারী হতে চেয়েছেন। কিন্তু ববিতা ছেলে অনিকের কথা ভেবে বিয়ের কথা ভাবেননি।

ববিতা বললেন, ‘আত্মীয়স্বজন আর অভিভাবকেরা বলত, তুমি এত অল্প বয়সে স্বামীহারা হলে, আবার বিয়ে করা উচিত। কারণ, আমি সব মিলিয়ে সংসার করেছি দশ-এগারো বছর। তারপর তো অনিকের বাবা মারাই গেল। আমি বললাম, বিয়ে আমি আর করব না। আমার সন্তান, আমার অভিনয়জীবন—এ নিয়েই আগামী জীবন কাটিয়ে দিতে চাই। সন্তানের দেখভাল, শুটিং—একা জীবনে যতটুকু পারি করেছি। তবে ওই সময়টায় সিঙ্গেল মাদার হওয়ার কারণে অনেক স্যাক্রিফাইস করতে হয়েছে। আউটডোর শুটিং পারতপক্ষে করতে পারতাম না। নিতাম না। ভাবতাম, আমি যদি ঢাকায় না থাকি, তাহলে বাসায় যদি কোনো সমস্যা হয়, কীভাবে সামাল দেব।

এফডিসিতে থাকলে তো গাড়ি টান দিয়ে বাসায় যেতে পারব। কিন্তু কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মানিকগঞ্জ, সিলেট, গাজীপুরে যদি শুটিংয়ে থাকি, তাহলে তো ছেলের খোঁজখবর নিতে পারব না। এরপরও কতবার যে এমন হয়েছে, আমি শুটিংয়ে যাওয়ার সময় অনিক খুব কাঁদছিল। বলছিল, “আম্মা তুমি যেয়ো না, আম্মা তুমি যেয়ো না।” কিন্তু ছবিগুলো তো আমার সাইন করা। যেতেই হবে। শুটিং না করলে সংসারজীবনই–বা চলবে কী করে। এসব নিয়ে আমার পুরো জীবনটা কেটেছে।’

সিঙ্গেল মাদার হিসেবে যে জীবন কাটিয়ে এসেছেন, তা নিয়ে ববিতা বললেন, ‘আমার জীবনটা অনেক কঠিন ছিল, আবার শান্তিরও। অনেক সংগ্রাম করতে হয়েছে, কষ্ট স্বীকার করা লাগছে। কিন্তু সবকিছুর পর যখন সন্তানের মুখটা দেখতাম, শান্তিতে মনটা ভরে যেত।’ছেলে অনিক যখন ও লেভেলের শিক্ষার্থী তখন তিনি মায়ের বিয়ের ব্যাপারে কথা বলেন। সেই সময়ের কথা মনে করে ববিতা বললেন, ‘অনিক যখন বড় হয়েছে, বুঝতে শিখেছে, তখন আমাকে বলত, “আম্মা তুমি একা। তোমার অনেক কষ্ট হয়। তুমি একটা আব্বু নিয়ে আসো।” আমি সন্তানকে বুঝিয়েছিলাম, “না বাবা, এটা হয় না। তুমি থাকলে আমার কিছুই লাগবে না। তোমাকে নিয়েই তো আমি ভালো আছি।”

কথা প্রসঙ্গে ববিতা আরও বললেন, ‘সবাই যে এত বলত বিয়ে করো, বিয়ে করো, তখন এটাও ভাবতাম, আমি যদি একটা মানুষকে বিয়ে করি, সেই সংসারে হয়তো সন্তান হবে। আর সন্তান যদি হয়, কেমন হবে, কী হবে? অনিককে মেনে নেবে কি নেবে না। অনিক আবার তাদের সাথে অ্যাডজাস্ট করতে পারবে কি পারবে না, কত কি যে আমার মাথার মধ্যে চলত। কত মানুষ আমাকে সরাসরি বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছে। চাইলে বিয়ে করতেই পারতাম, কিন্তু করিনি। আমাদের সঙ্গে আরও কয়েকজন বিয়ে করেছে, সেটা একান্তই তাঁদের বিষয়। অনেক কিছু ভেবে আর দ্বিতীয়বার বিয়ের কথা ভাবিনি।’

দেশে আর দেশের বাইরে—সবার কাছে ববিতা তাঁদের প্রিয় একজন অভিনেত্রী, কিন্তু একমাত্র ছেলে অনিকের কাছে শুধুই ‘সংগ্রামী মা’। তাই তো সংগ্রামী মায়ের স্বপ্নপূরণে ছেলে অনিক পড়াশোনা ছাড়া আর কিছুই ভাবতেন না।

ববিতা দীর্ঘ অভিনয়জীবনে ২৭৫টি ছবিতে অভিনয় করেছেন। দেশের বিখ্যাত সব নির্মাতার পাশাপাশি কাজ করেছেন দেশের বাইরের বিখ্যাত নির্মাতার ছবিতেও। সত্যজিৎ রায়ের ‘অশনি সংকেত’ ছবির জন্য ববিতা দেশে ও দেশের বাইরে প্রশংসা কুড়ান।