সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও মালামাল লুট

বিনোদন ডেস্কঃ রাজধানীর ইসিবি চত্বরে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর ও মালামাল লুটের অভিযোগ উঠেছে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর জেরে হামলাটি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সালমান।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর নিউগ্রিনি প্রপার্টিজে থাকা স্টুডিওটিতে হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। হামলায় স্টুডিওর বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়। মোবাইল ফোন, মানিব্যাগসহ কিছু মালামাল নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ করেছেন স্টুডিওটির সঙ্গে সম্পৃক্ত সংশ্লিষ্টরা। স্টুডিওতে থাকা প্রয়োজনীয় বিভিন্ন যন্ত্রপাতিও নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে ঘটনায় স্টুডিওর কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী আহত হননি।

ঘটনার সময় ঢাকায় ছিলেন না সালমান মুক্তাদির। খবর পেয়ে তিনি বিমানে ঢাকায় এসে স্টুডিও পরিদর্শন করেন। পরে ফেসবুক লাইভে স্টুডিওর ভাঙচুরের চিত্র তুলে ধরেন তিনি। ভিডিওতে ভাঙা আসবাবপত্র ও বিভিন্ন সরঞ্জামের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত স্টুডিওর অবস্থাও দেখা যায়। সালমান জানান, স্টুডিওতে বিভিন্ন ক্লায়েন্টের শুটিংয়ের ফুটেজ, সরঞ্জাম ও কাজের গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ রাখা ছিল। সেগুলো ক্ষতিগ্রস্ত বা নিয়ে যাওয়ায় ক্ষতির পরিমাণ বড় হতে পারে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে নির্দিষ্ট আর্থিক অঙ্ক বলতে পারেননি তিনি।

ফেসবুক লাইভে সালমান বলেন, ক্লায়েন্টদের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ফুটেজ ও অন্যান্য সামগ্রী স্টুডিওতে রাখা ছিল। তার ভাষ্য, ৩০-৪০টি ক্লায়েন্টের কাজের উপকরণ ক্ষতিগ্রস্ত বা নিয়ে যাওয়া হয়ে থাকলে মোট ক্ষতির পরিমাণ সহজেই বড় অঙ্কে দাঁড়াতে পারে।

নিজের স্টুডিওকে দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ও সৃজনশীল কাজের জায়গা হিসেবে উল্লেখ করে সালমান বলেন, হামলায় জায়গাটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এ ঘটনায় তিনি থেমে যাবেন না বলেও জানান। চাঁদা দাবির অভিযোগ তুলে সালমান বলেন, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর পরই তার স্টুডিওতে হামলা চালানো হয়েছে। তিনি এ ঘটনাকে চাঁদাবাজির সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করেন।

ভিডিওতে নিজের ক্ষতিগ্রস্ত স্টুডিও দেখিয়ে সালমানকে বলতে শোনা যায়, ‘আমাদের স্টুডিও ডিস্ট্রয় হয়ে গেছে।’ তিনি দাবি করেন, সৃজনশীল কাজ ও শিল্প-সংস্কৃতির জন্য এ ধরনের স্টুডিও খুব বেশি নেই।

হামলার পর কর্মীদের উদ্দেশে সালমানকে বলতে শোনা যায়, ‘তোমরা রিলাক্স। এটা কিছুই না। আমরা এখানেই কাজ করব।’ তার ভাষ্য, এই প্রকল্পের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে অনেক তরুণ-তরুণীর সঙ্গে তার ভাই-বোনের মতো সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। স্টুডিওটি তাদের কর্মসংস্থান ও সৃজনশীল কাজের জায়গা হয়ে উঠেছিল। সালমান বলেন, ‘আমি থেমে থাকব না। আমি আমার প্যাশন চালিয়ে যাব। দেশ থেকে না হলে দেশের বাইরে থেকে চালিয়ে যাব।’

স্টুডিও নির্মাণে তার স্ত্রী, সহকর্মী ও সংশ্লিষ্ট অন্যদের অবদানের কথাও তুলে ধরেন সালমান। তিনি জানান, নির্মাণকাজের সময় তার স্ত্রী নিয়মিত সেখানে এসে কাজের তদারকি করতেন। সহকর্মীদের অনেকে রাত জেগে স্টুডিওর নিরাপত্তার কাজও করেছেন। সালমান আরও বলেন, হামলার ঘটনায় ভয় পেয়ে তিনি সৃজনশীল কাজ বন্ধ করবেন না। তার ভাষায়, ‘আমি এর থেকে বড় কিছু করব।’ কর্মীদেরও স্বাভাবিক হয়ে আবার কাজে ফেরার আহ্বান জানান তিনি।

ফেসবুক লাইভে সালমান মুক্তাদিরকে আরও বলতে শোনা যায়, ‘ভিডিওটা শুধু খুবই স্পেশালি বানানো আমাদের যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, উনার জন্য। আপনি প্লিজ কোনো টেনশন নিবেন না, দিস ইজ নরমাল ইন বাংলাদেশ।’

পরে সালমান মুক্তাদির বলেন, ‘যারা অ্যাটাক করছে, ওরা হয়তো জানত না যে এটা আমার জায়গা। বাট আমি পড়ছি অ্যাজ আ নরমাল সিটিজেন হিসেবে। …আমাদের এখানকার যে ল্যান্ডওনার, উনি হয়তো খুব সম্ভবত আওয়ামী লীগ…উনার সাথে চাঁদাবাজি নিয়ে কোনো একটা কিছু হইছে যে-চাঁদা চেয়েছে বা সামথিং…। তো ওদের রিভেঞ্জ থেকে মাঝখানে আমাদের মানুষজন পড়ে গেছে। উনার প্রপার্টি ড্যামেজ করতে গিয়ে আমার প্রপার্টি এখানে মাঝখানে পড়ছে।’

হামলার ঘটনায় মামলা করার কথা জানিয়েছেন সালমান মুক্তাদির। তবে ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট পরিমাণ, হামলাকারীদের পরিচয় এবং ঘটনার পেছনের কারণ নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যায়নি।




পুত্রের জন্মদিনে শাকিব-অপুর আবেগঘন শুভেচ্ছা

বিনোদন ডেস্কঃ ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় তারকা শাকিব খান ও অপু বিশ্বাসের ছেলে আব্রাহাম খান জয় ১০ বছরে পা দিয়েছে। বিশেষ এই দিনে ছেলেকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তার বাবা ও মা—দু’জনেই।

জয়ের জন্মদিন উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার একটি একক ছবি প্রকাশ করেছেন শাকিব খান। ছবিতে কালো পাঞ্জাবি ও কটি পরা অবস্থায় দেখা যায় জয়কে। ছবির সঙ্গে ছেলের উদ্দেশে শাকিব লেখেন, ‘জন্মদিনের অনেক শুভেচ্ছা, বাবা। তুমি যেন আকাশের নক্ষত্রের মতো উঁচুতে পৌঁছাতে পারো এবং তোমার প্রতিটি স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে পারো।’

অন্যদিকে, জন্মদিনের প্রথম প্রহরেই ছেলেকে শুভেচ্ছা জানান অপু বিশ্বাস। নিজের সঙ্গে জয়ের কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে অভিনেত্রী লেখেন, ‘শুভ জন্মদিন জয় বাবা। তুমি আমার জীবনের সেই মানুষ যার হাসিতে আমার পৃথিবী আলোকিত হয়। তুমি আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর উপহার বাবা। শুভ জন্মদিন।’

উল্লেখ্য, শাকিব খান ও অপু বিশ্বাস ২০০৮ সালে বিয়ে করেন। ক্যারিয়ারের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে শুরুতে তাদের বিয়ের খবরটি গোপন রাখা হয়। এরপর ২০১৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর কলকাতার একটি হাসপাতালে জন্ম হয় তাদের ছেলে আব্রাহাম খান জয়ের।

পরের বছর, ২০১৭ সালের ১০ এপ্রিল টেলিভিশনের সরাসরি অনুষ্ঠানে এসে নিজেদের বিয়ে ও সন্তানের বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন অপু বিশ্বাস।




সোমবার ‘ছোটকাকু’ উৎসব শুরু

বিনোদন ডেস্ক : চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর রচিত শিশু-কিশোরদের প্রিয় গোয়েন্দা চরিত্র ছোটকাকুকে ঘিরে শুরু হচ্ছে দুই দিনব্যাপী ‘ছোটকাকু উৎসব ২০২৬’।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) তেজগাঁও-গুলশান লিংক রোডের আলোকিতে শুরু হচ্ছে দুই দিনের এই উৎসব।

ছোট-বড় সবার কাছেই উপভোগ্য হয়ে উঠতে পারে এমনভাবে সাজানো হচ্ছে দুই দিনের এই আয়োজন। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চলবে মজাদার নানা ফান গেম। আনন্দের পাশাপাশি এসব খেলায় বিজয়ীদের জন্য থাকছে ল্যাপটপ, ট্যাব ও ব্লুটুথ স্পিকারসহ আকর্ষণীয় পুরস্কার। সারা দিন বড় পর্দায় দেখানো হবে ছোটকাকু সিরিজের রোমাঞ্চকর নাটক। উৎসবের দুই দিন থাকছে দুটি ভিন্নধর্মী বিশেষ বিনোদন অনুষ্ঠান ছোটকাকু ক্যাফে।

প্রথম দিন সোমবার ছোটকাকু ক্যাফেতে রহস্য, কৌতূহল ও সৃজনশীলতা বিষয়ে কথা বলবেন জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন, আনিসুল হক, সাদাত হোসাইন, মোজাফ্ফর হোসেন, অভিনয়শিল্পী ত্রপা মজুমদার, অপি করিম, তাসনিয়া ফারিণ ও কাজী নওশাবা আহমেদ। পাশাপাশি গান ও অভিনয় যৌথভাবে পরিবেশন করবে সর্বনাম-কুঁড়েঘর।

মঙ্গলবার দ্বিতীয় দিন ছোটকাকু ক্যাফেতে উপস্থিত থাকবেন লেখক ফরিদুর রেজা সাগর, অভিনেতা ও নির্মাতা আফজাল হোসেন ও ছোটকাকুর দল।

আজ শনিবার চ্যানেল আইয়ের স্টুডিও বারান্দায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান এই আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা। এতে উপস্থিত ছিলেন ছোটকাকুর লেখক ফরিদুর রেজা সাগর এবং ছোটকাকুর অভিনেতা ও পরিচালক আফজাল হোসেন, ছোটকাকু সিরিজের অন্যতম অভিনেতা তারিক আনাম খান প্রমুখ।

উৎসব উপলক্ষে নতুন আঙ্গিকে ‘ছোটকাকু’ সিরিজের ১০টি বাংলা এবং ৪টি বইয়ের ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশিত হয়েছে।

বাংলা একাডেমি সাতিহ্য পুরস্কারপ্রাপ্ত শিশুসাহিত্যিক ফরিদুর রেজা সাগরের লেখা ছোটকাকু দীর্ঘদিন ধরে রহস্য, কৌতূহল ও অভিযানের গল্প নিয়ে শিশু-কিশোরদের আনন্দ দিয়ে আসছে। ছোটকাকুর ৪৮টি গল্প প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে ২৫টি গল্প অবলম্বনে তৈরি হয়েছে টেলিভিশন সিরিজ নাটক, যার পর্বসংখ্যা ২০০। এ দীর্ঘ অভিযাত্রাকে উদযাপনের জন্য এই উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উৎসব সংশ্লিষ্টরা।




কেউ করছেন প্রশংসা, কেউ সমালোচনা, আলিয়ার লুক নিয়ে তোলপাড়

বিনোদন ডেস্ক : ‘গাঙ্গুবাই কাঠিয়াওয়াড়ি’র পর আবারও জুটি বেঁধেছেন আলিয়া ভাট ও নির্মাতা সঞ্জয় লীলা বানসালী। তাঁদের নতুন সিনেমা ‘লাভ অ্যান্ড ওয়ার’ নিয়ে এমনিতেই দর্শকের আগ্রহ তুঙ্গে। এক দিন আগে রণবীর কাপুরের ফার্স্ট লুক প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছিল। আজ শুক্রবার প্রকাশিত হলো আলিয়ার চরিত্রের প্রথম ঝলক। তবে রণবীরের পোস্টারের মতো এককথায় প্রশংসা কুড়াতে পারেনি আলিয়ার লুক; বরং সেটি নিয়ে নানা তুলনা ও আলোচনা শুরু হয়েছে।

পোস্টারে আলিয়াকে দেখা গেছে ম্যাজেন্টা–লাল রঙের পোশাকে। ক্রপ টপের সঙ্গে থাই–হাই স্লিট স্কার্ট, মাথায় পালকে সাজানো বড় হেডপিস—পুরো সাজেই রয়েছে ক্যাবারে নৃত্যশিল্পীর ছাপ। চোখে গাঢ় মেকআপ ও ঠোঁটে গাঢ় রঙের লিপস্টিক। বানসালীর সিনেমায় এমন জাঁকজমকপূর্ণ ও নাটকীয় পোশাক অবশ্য নতুন নয়। কিন্তু আলিয়ার এই লুক প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসার পাশাপাশি সমালোচনাও এসেছে।

‘গাঙ্গুবাই কাঠিয়াওয়াড়ি’র পর আবারও জুটি বেঁধেছেন আলিয়া ভাট ও নির্মাতা সঞ্জয় লীলা বানসালী। তাঁদের নতুন সিনেমা ‘লাভ অ্যান্ড ওয়ার’ নিয়ে এমনিতেই দর্শকের আগ্রহ তুঙ্গে। এক দিন আগে রণবীর কাপুরের ফার্স্ট লুক প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছিল। আজ শুক্রবার প্রকাশিত হলো আলিয়ার চরিত্রের প্রথম ঝলক। তবে রণবীরের পোস্টারের মতো এককথায় প্রশংসা কুড়াতে পারেনি আলিয়ার লুক; বরং সেটি নিয়ে নানা তুলনা ও আলোচনা শুরু হয়েছে।

পোস্টারে আলিয়াকে দেখা গেছে ম্যাজেন্টা–লাল রঙের পোশাকে। ক্রপ টপের সঙ্গে থাই–হাই স্লিট স্কার্ট, মাথায় পালকে সাজানো বড় হেডপিস—পুরো সাজেই রয়েছে ক্যাবারে নৃত্যশিল্পীর ছাপ। চোখে গাঢ় মেকআপ ও ঠোঁটে গাঢ় রঙের লিপস্টিক। বানসালীর সিনেমায় এমন জাঁকজমকপূর্ণ ও নাটকীয় পোশাক অবশ্য নতুন নয়। কিন্তু আলিয়ার এই লুক প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসার পাশাপাশি সমালোচনাও এসেছে।

রেডিটের কয়েকজন ব্যবহারকারী পোস্টারটিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি বা অতিরিক্ত সম্পাদনা করা হয়েছে বলে মনে করেছেন। আবার কারও কারও কাছে আলিয়ার সাজ নতুন মনে হয়নি; বরং অন্য কয়েকটি সিনেমার চরিত্রের সঙ্গে মিল খুঁজে পেয়েছেন তাঁরা।




বলিউড অভিনেতা মুশতাক খান মারা গেছেন

বিনোদন ডেস্ক : বলিউড ও হিন্দি টেলিভিশন জগতের অন্যতম জনপ্রিয় ও বর্ষীয়ান অভিনেতা মুশতাক খান মারা গেছেন। ফুসফুসের ক্যানসারের সাথে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) মুম্বাইয়ে মৃত্যু হয়েছে তার। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৬ বছর।

মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন ফেডারেশন অব ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়া সিনে এমপ্লয়িজের (এফডব্লিউআইসিই) সভাপতি বি এন তিওয়ারি।

মুশতাক খানের ব্যবসায়িক অংশীদার শিবম জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন অভিনেতা। তার ফুসফুসে ক্যানসার ধরা পড়েছিল। চিকিৎসার পর একপর্যায়ে তিনি সুস্থও হয়ে উঠেছিলেন। তবে প্রায় আট দিন আগে আবারও ক্যানসার ফিরে আসে।

এরপর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তখন ক্যানসার শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল বলে জানান শিবম। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) তার দাফন হওয়ার কথা রয়েছে।

চার দশকেরও বেশি সময় ধরে হিন্দি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন মুশতাক খান। নায়ক হিসেবে নয়, অধিকাংশ সিনেমায় পার্শ্বচরিত্রেই দেখা গেছে তাকে। তবে স্বাভাবিক অভিনয়শৈলী ও নিখুঁত কমিক টাইমিংয়ের কারণে তারকাবহুল সিনেমাতেও আলাদা করে দর্শকের নজর কেড়েছেন তিনি।

পর্দায় অল্প সময়ের উপস্থিতিকেও স্মরণীয় করে তোলার দক্ষতা ছিল মুশতাকের। আর এ কারণেই দীর্ঘ অভিনয়জীবনে তিনি হিন্দি সিনেমার পরিচিত চরিত্রাভিনেতাদের একজন হিসেবে জায়গা করে নেন।

১৯৮০ সালে ‘আলবার্ট পিন্টো কো গুসসা কিঁউ আতা হ্যায়’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় মুশতাক খানের। এরপর ‘আশিকি’, ‘দিল হ্যায় কি মানতা নেহি’, ‘হাম হ্যায় রাহি প্যায়ার কে’, ‘রাজা’, ‘হেরা ফেরি’, ‘গদর: এক প্রেম কথা’, ‘জোড়ি নম্বর ১’, ‘মুঝসে শাদি করোগি’, ‘ওয়েলকাম’, ‘ওয়ান্টেড’ এবং ‘ও মাই গড!’সহ অসংখ্য সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি।

চার দশকের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের কাছে নিজের আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছিলেন মুশতাক খান।




সম্পদ কমলেও ভারতের ধনী অভিনেতার শীর্ষে শাহরুখ

বিনোদন ডেস্ক : বলিউডের অভিনেতাদের মধ্যে সম্পদের হিসাবে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন শাহরুখ খান। হুরুন ইন্ডিয়া রিচ লিস্ট ২০২৬-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে এই অভিনেতার মোট সম্পদের পরিমাণ ১০ হাজার কোটি রুপি।

অভিনয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত শাহরুখ। তাঁর সম্পদের অন্যতম অংশজুড়ে রয়েছে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান রেড চিলিজ এন্টারটেইনমেন্ট এবং ক্রীড়া প্রতিষ্ঠান নাইট রাইডার্স স্পোর্টস।

হুরুনের তালিকায় শাহরুখের পর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন অমিতাভ বচ্চন। তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ ৪ হাজার কোটি রুপি। ৩ হাজার কোটি রুপি সম্পদ নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন সালমান খান। আর ২ হাজার ৫০০ কোটি রুপি সম্পদ নিয়ে তালিকায় রয়েছেন হৃতিক রোশন।

তবে শীর্ষস্থান ধরে রাখলেও গত এক বছরে শাহরুখ খানের সম্পদ কমেছে। ২০২৫ সালের হুরুন ইন্ডিয়া রিচ লিস্টে তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১২ হাজার ৪৯০ কোটি রুপি। সেই হিসাবে এক বছরে তাঁর সম্পদ কমেছে ২ হাজার ৪৯০ কোটি ডপি।

এর আগে চলতি বছরের শুরুতে প্রকাশিত হুরুন গ্লোবাল রিচ লিস্টে শাহরুখ খানের সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয়েছিল ১০ হাজার ৮০০ কোটি রুপি।




বলিউড অভিনেত্রী রানি মুখার্জির মা মারা গেছেন

বিনোদন ডেস্ক : বলিউড অভিনেত্রী রানি মুখার্জির মা কৃষ্ণা মুখার্জি আর নেই। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ৭৫ বছর বয়সে মারা গেছেন তিনি। রানি মুখার্জির প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান যশ রাজ ফিল্মস তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। তবে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে এখনো কিছু জানানো হয়নি।

যশ রাজ ফিল্মসের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে তারা রানি মুখার্জির মা মিসেস কৃষ্ণা মুখার্জির মৃত্যুর খবর জানায়। এই কঠিন সময়ে পরিবারের প্রতি ভালোবাসা, প্রার্থনা ও সমর্থনের জন্য সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। একই সঙ্গে পরিবারের ব্যক্তিগত পরিসরকে সম্মান করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

রানি ও তার পরিবারের সঙ্গে সম্প্রতি নানা অনুষ্ঠানে প্রায় দেখা যেত কৃষ্ণাকে। মায়ের সঙ্গে নিজের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা বিভিন্ন সময়ে বলেছেন রানি। বাংলা চলচ্চিত্রজগতের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন কৃষ্ণা। একাধিক সিনেমায় গান গেয়েছেন তিনি। শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে প্রশিক্ষিত শিল্পী ছিলেন কৃষ্ণা।

রানির প্রথম হিন্দি সিনেমা ‘রাজা কি আয়েগি বারাত’-এ অভিনয়ের প্রস্তাব আসে তার বাবার বন্ধু, প্রযোজক সেলিম আখতারের কাছ থেকে।

সম্প্রতি এই প্রসঙ্গে রানি জানান, মায়ের পরামর্শে তিনি অভিনয়ের সিদ্ধান্ত নেন। রানি বলেন, ‘মা হয়তো আমাদের আর্থিক পরিস্থিতি কিছুটা ভাল করার জন্য এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তাদের আশা ছিল, আমি যদি ভাল কাজ করি, তা আমাদের পরিবারের সকলের জন্য ভাল হবে।’

মায়ের মৃত্যুর পর শোকের ছায়া নেমে এসেছে মুখার্জি পরিবারে। পরিবারের পক্ষ থেকে এই কঠিন সময়ে সবার ভালোবাসা, প্রার্থনা ও সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে।

রানি মুখার্জি ‘গুলাম’, ‘কুচ কুচ হোতা হ্যায়’, ‘সাথিয়া’, ‘হাম তুম’ ও ‘ব্ল্যাক’-এর মতো জনপ্রিয় সিনেমায় অভিনয় করে বলিউডে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। ২০২৬ সালে মুক্তি পাওয়া ‘মারদানি ৩’ সিনেমায় সর্বশেষ দেখা গেছে তাকে।




শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানে আগ্রহ বাড়াতে হৃতিকের নাম পাঠ্যবইয়ে যুক্ত করার পরিকল্পনা

বিনোদন ডেস্ক : সুদর্শন চেহারা আর দুর্দান্ত শারীরিক গঠনের জন্য বলিপাড়ায় ‘গ্রিক গড’ নামে পরিচিত জনপ্রিয় অভিনেতা হৃতিক রোশন। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে রুপালি পর্দা কাঁপালেও তার জীবনে ঘটেছে এমন কিছু অদ্ভুত ও নজরকাড়া ঘটনা, যা যেকোনো চলচ্চিত্রপ্রেমীকে চমকে দেবে। তেমনই একটি স্মৃতিচারণ করে হৃতিক জানান, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আরও আগ্রহী ও মনোযোগী করে তুলতে একবার একটি স্কুল বোর্ড সরাসরি জীববিজ্ঞানের পাঠ্যবইয়ে তার নাম অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছিল।

চলচ্চিত্র নির্মাতা ও সঞ্চালক করণ জোহরের জনপ্রিয় চ্যাট শো ‘কফি উইথ করণ’-এ অংশ নিয়ে হৃতিক রোশন নিজেই এই ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের রাজধানী কলকাতায় এক সফরে থাকার সময় এই ঘটনা ঘটে বলে জানান তিনি। তখন সেখানকার একটি স্কুল বোর্ড কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে একটি বার্তা পান হৃতিক, যেখানে স্কুলের পাঠ্যবইয়ে তার নাম কীভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে সে বিষয়ে তাদের অভিনব ভাবনার কথা প্রকাশ করা হয়।

স্কুল বোর্ডের মূল ভাবনাটি ছিল কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কাছে বিজ্ঞানের কঠিন বিষয়গুলোকে আনন্দদায়ক করে তোলা। হৃতিকের কথায়, শিক্ষার্থীদের কাছে পড়ালেখা সহজ ও আকর্ষণীয় করতেই এই উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। যেমন জীববিজ্ঞানের ক্লাসে যদি প্রশ্ন করা হয়—‘হৃতিক রোশনের শরীরের দীর্ঘতম হাড় কোনটি?’, তবে তা তরুণ শিক্ষার্থীদের মাঝে বাড়তি কৌতূহল ও উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে। এ ধরনের প্রশ্নের মাধ্যমে পড়াশোনায় শিশুদের মনোযোগ আকর্ষণ করাই ছিল তাদের মূল উদ্দেশ্য।

২০০০ সালে ‘কাহো না… পেয়ার হ্যায়’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে পা রেখে রাতারাতি তারকা বনে যান হৃতিক রোশন। এরপর গত দুই দশকে ‘কোই… মিল গায়া’, ‘কৃষ’, ‘লক্ষ্য’, ‘যোধা আকবর’, ‘গুজারিশ’, ‘জিন্দেগি না মিলেগি দোবারা’ এবং ‘ওয়ার’-এর মতো অসংখ্য ব্যবসাসফল ও প্রশংসিত চলচ্চিত্রে তার অভিনয়দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি।

অভিনয়ের গণ্ডি পেরিয়ে এখন ওটিটি প্ল্যাটফর্মেও ডিজিটাল প্রযোজক হিসেবে ডেবিউ করতে যাচ্ছেন এই তারকা। তার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকে নতুন প্রজেক্ট ‘স্টর্ম’ নির্মাণের ঘোষণা এসেছে, যা পরিচালনা করছেন আলোচিত ওয়েব সিরিজ ‘টাব্বার’-এর পরিচালক অজিতপাল সিং। এই সিরিজে পার্বতী তিরুবোথু, আলিয়া এফ, সৃষ্টি শ্রীবাস্তব, রমা শর্মা এবং সাবা আজাদের মতো তারকাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় দেখা যাবে। পাশাপাশি তার তুমুল জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘কৃষ’-এর পরবর্তী কিস্তি ‘কৃষ ৪’-এ আবারও কৃষ্ণ মেহরা চরিত্রে পর্দা কাঁপাতে ফিরছেন এই অভিনেতা।




শিল্পকলায় ‘আলিবাবা এবং চল্লিশ চোর’

বিনোদন ডেস্ক : আরব্য রজনীর গল্প অবলম্বনে পদাতিক নাট্য সংসদ মঞ্চায়ন করলো দলটির দর্শকনন্দিত নাটক ‘আলিবাবা এবং চল্লিশ চোর’।

গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে মঞ্চায়ন হয় নাটকটি।

এটি ছিল পদাতিক নাট্য সংসদ এর ৪৫ তম প্রযোজনার ৮ম মঞ্চায়ন।

উম্মে হানীর নাট্যরূপে পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় ছিলেন সুদীপ চক্রবর্তী।

সম্রাট শাহরিয়ার তার প্রথম স্ত্রীর কাছ থেকে প্রতারিত হয়েছেন। ধীরে ধীরে তিনি এক নারীবিদ্বেষী শাসকে পরিণত হন। প্রতিদিন তিনি রাজ্যের একজন করে অবিবাহিত নারীকে বিয়ে করেন এবং তাকে শর্ত দেন, যদি তাকে গল্প শুনিয়ে সারা রাত জাগিয়ে রাখতে না পারে তবে ভোর হতেই সেই নারীকে হত্যা করা হবে।

একে একে নিহত হলেন রাজ্যের প্রায় সব নারী, বাকী রইলেন কেবল উজিদের দুই কন্যা। বড় কন্যার নাম শেহেরজাদ। এবার পালা আসে তার। দারুণ বুদ্ধিমতি শেহেরজাদ শুরু করেন গল্প বলা। বলতে বলতে পেরিয়ে যায় হাজার রাত্রি। প্রতিটি গল্পই ধীরে ধীরে সম্রাট শাহরিয়ারকে পুনরায় প্রেমে পূর্ণ মানুষ রূপে গড়ে তোলে। শাহরিয়ার নিজের ভুল বুঝতে পারেন।

কথিত আছে যে, শেহেরজাদের বলা সেই সব গল্পেরই একটি হলো ‘আলিবাবা এবং চল্লিশ চোর’।

এ গল্পে কাঠুরে আলিবাবা কাঠ কাটতে গিয়ে বনের ধারে এক গুহায় আকস্মিকভাবে ডাকাতদলের গোপন ধনের ভাণ্ডারের সন্ধান পায়। কিছু সম্পদ নিয়ে ফিরে আসে সে। লোভে পড়ে তার ভাই কাসিমও যায় গুহায় এবং ডাকাতদের হাতে ধরা পড়ে প্রাণ হারায়। আলিবাবা ভাইয়ের দেহ ফিরিয়ে এনে দাফন সম্পন্ন করে। কিন্তু ডাকাতদল আলিবাবার সন্ধানে বের হয় এবং ছদ্মবেশে তার ঘরে প্রবেশ করে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে। বুদ্ধিমতী মার্জিনা… যে একজন গৃহকর্মী এবং পরে আলিবাবার পুত্রবধূ, কৌশলে ডাকাতদলের দুরভিসন্ধি ব্যর্থ করে দেন।

সমাজে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ডাকাতদের বিচারের আওতায় আনা এবং তাদের লুট করে আনা সম্পদ সাধারণের মাঝে বণ্টন করার আভাসের মধ্য দিয়ে শেষ হয় গল্পটি।

নাটকে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন শরীফুল ইসলাম সাফি, মেঘা ঘোষ, সৈয়দা শামছি আরা সায়েকা, জাবেদ পাটওয়ারী, জিয়াউল হক, মোছা. জিনিয়া আজাদ, শাখাওয়াত হোসেন শিমুল, ইমরান খান, হাসিনা আকতার নিপা, ইব্রাহিম খলিল, নূর-ই-আলম সুমন, কামরুননেসা দোলন, তন্ময় বিশ্বাস, এস,এম, লিমন, বর্ষা ঘোষ, সবুজ খান, তপু চন্দ্র দাস, বন্যা, আমানুজ্জামান, মনির হোসেন চিশতি, ফয়েজ, বর্নিল, লাইজু প্রমুখ।

অন্যদিকে, একই সময়ে জাতীয় নাট্যশালার পরীক্ষণ থিয়েটার হলে মঞ্চায়ন হয় দেশ নাটক প্রযোজিত নাটক ‘দর্পণে শরৎশশী’।




বেঁচে থাকলে ৫৫-তে পা রাখতেন ‘স্বপ্নের নায়ক’ সালমান শাহ

বিনোদন ডেস্ক : নব্বই দশকের জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহ। যাকে বলা হতো বাংলা চলচ্চিত্র জগতের রাজপুত্র। মাত্র চার বছরের ক্যারিয়ারে ২৭ টি সিনেমা উপহার দেওয়া প্রয়াত এই চিত্রনায়কের জন্মদিন আজ। বেঁচে থাকলে আজ ৫৫ বছরে পা রাখতেন বাংলা চলচ্চিত্রের এই স্বপ্নের নায়ক।

১৯৭১ সালের এই দিনে সিলেটের জকিগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন শাহরিয়ার চৌধুরী ইমন, যিনি চলচ্চিত্রে এসে পরিচিতি পান সালমান শাহ নামে। অল্প বয়সেই চলচ্চিত্রে পা রেখে তিনি হয়ে উঠেছিলেন নব্বইয়ের দশকের অন্যতম জনপ্রিয় নায়ক।

১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় সালমান শাহর। প্রথম সিনেমাতেই তার অভিনয় ও পর্দার উপস্থিতি দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। এরপর একের পর এক সিনেমায় তার অভিনয় তাকে নিয়ে যায় জনপ্রিয়তার শীর্ষে। শুধু অভিনয় নয়, তার পোশাক, চুলের স্টাইল, কথা বলার ধরন ও ব্যক্তিত্বও তরুণ প্রজন্মের কাছে হয়ে উঠেছিল অনুকরণীয়। ফলে তিনি শুধু একজন চলচ্চিত্র তারকা ছিলেন না, হয়ে উঠেছিলেন একটি প্রজন্মের আবেগ ও স্বপ্নের অংশ।

যদিও সালমান শাহ তার অভিনয় জীবন শুরু করেন টেলিভিশন নাটক দিয়ে। ১৯৮৫ সালে বিটিভির ‘আকাশ ছোঁয়া’ নাটকের মাধ্যমে অভিনয়ে যাত্রা শুরু করেন নব্বই দশকের তুমুল জনপ্রিয় এই চিত্রনায়ক। এরপর কাজ করেছেন—দেয়াল (১৯৮৫), সব পাখি ঘরে ফেরে (১৯৮৫), সৈকতে সারস (১৯৮৮), নয়ন (১৯৯৫) এবং সবশেষ স্বপ্নের পৃথিবী (১৯৯৬) নাটকে।

রুপালি পর্দায় সালমান শাহর সঙ্গে চিত্রনায়িকা শাবনূরের জুটি ছিল সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে তাদেরকে অন্যতম সেরা জুটি বলা হয়। ক্যারিয়ারে সালমানের করা ২৭টি সিনেমার মধ্যে ১৪টিতেই তার নায়িকা ছিলেন শাবনূর।

সময়ের সঙ্গে চলচ্চিত্রে এসেছে অনেক পরিবর্তন, নতুন প্রজন্মের বহু নায়ক দর্শকের সামনে এসেছেন। কিন্তু সালমান শাহর জনপ্রিয়তা কমেনি। বরং তার মৃত্যুর পরও তাকে ঘিরে দর্শকের আগ্রহ ও ভালোবাসা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়েছে।

আজ তরুণ প্রজন্মের অনেকেই সালমান শাহকে দেখেছেন তার মৃত্যুর বহু বছর পর। তবুও তার অভিনীত সিনেমা, গান ও বিভিন্ন দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত ফিরে আসে। জন্মদিন কিংবা মৃত্যুবার্ষিকীতে তাকে ঘিরে ভক্তদের স্মৃতিচারণে ভরে ওঠে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। চলচ্চিত্রে পরবর্তী সময়ে আসা অনেক নায়কও তাকে নিজেদের অনুপ্রেরণা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

সালমান শাহর জীবন ছিল ছোট, কিন্তু তার রেখে যাওয়া প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী। বেঁচে থাকলে আজ হয়তো ৫৫ বছরের একজন অভিজ্ঞ অভিনেতা হিসেবে আরও বহু চরিত্রে দর্শকদের মুগ্ধ করতেন। কিন্তু সেই সম্ভাবনার গল্প আজ কেবল কল্পনাতেই। বাস্তবে তিনি থেমে গেছেন ২৫-এ। আর দর্শকের হৃদয়ে রয়ে গেছেন সেই চিরতরুণ নায়ক হয়ে।

সময় পেরিয়েছে, প্রজন্ম বদলেছে, কিন্তু সালমান শাহর প্রতি ভালোবাসা আজও অটুট। এ কারণেই বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে তার নাম উচ্চারিত হলে আজও ফিরে আসে এক আবেগময় সময়ের স্মৃতি।

সবার প্রিয় এ ‘স্বপ্নের নায়ক’ ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে পাড়ি জমান না ফেরার দেশে, মৃত্যুর কারণ এখনো রহস্যের চাদরে মোড়ানো।

ক্ষণজন্মা তুমুল জনপ্রিয় এই নায়কের ছবিগুলোর মধ্যে অন্যতম ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘সুজন সখী’, ‘স্বপ্নের নায়ক’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘চাওয়া থেকে পাওয়া’, ‘জীবন সংসার’, ‘প্রেম প্রিয়াসী’, ‘সত্যের মৃত্যু নেই’, ‘মায়ের অধিকার’, ‘এই ঘর এই সংসার’, ‘তোমাকে চাই’, ‘আনন্দ অশ্রু’, ‘বুকের ভেতর আগুন’ ইত্যাদি।