‘নতুন কুঁড়ি’ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মুক্তচিন্তার ফসল: লিটন

বিনোদন ডেস্ক : ‘নতুন কুঁড়ি’ প্রতিযোগিতা ছিল বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মুক্তচিন্তার ফসল বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট শরীফুল ইসলাম লিটন।

তিনি আরও বলেন, সংস্কৃতি ও শিশুদের প্রতি জিয়াউর রহমানের গভীর অনুরাগ ছিল। এ কারণেই তিনি ‘নতুন কুঁড়ি’ প্রতিযোগিতা ও শিশুপার্ক প্রতিষ্ঠা করেন।

শুক্রবার সন্ধ্যায় বেইলি রোডের গাইড হাউস মিলনায়তনে সবুজ বাংলা কালচারাল ফোরাম আয়োজিত আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শরীফুল ইসলাম লিটন বলেন, জিয়াউর রহমানের হাত ধরেই এ দেশের সংস্কৃতির বিকাশ ঘটে। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, একুশে পদক ও স্বাধীনতা পদক প্রবর্তনের মধ্য দিয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি তাঁর মুক্তচিন্তার বহিঃপ্রকাশ ঘটান।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সংস্কৃতির প্রতি অনুরাগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে সংস্কৃতিকে প্রাধান্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ক্রিয়েটিভ ইকোনমির ওপর জোর দিয়েছেন। সংস্কৃতিকর্মীদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় তারেক রহমান ঘোষিত ক্রিয়েটিভ ইকোনমি বাস্তবায়িত হবে।

তিনি আরও বলেন, সংস্কৃতিই একটি জাতির মূল পরিচয়। সংস্কৃতির উন্নয়ন ছাড়া দেশ ও জাতির উন্নয়ন সম্ভব নয়। জাতিকে মাথা তুলে দাঁড়াতে হলে সংস্কৃতির শক্তিতেই এগিয়ে যেতে হবে। সাংস্কৃতিক জাগরণ না ঘটলে কোনো জাতির উন্নয়ন সম্ভব নয়।

অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর বলেন, আবহমান বাংলার হাজার বছরের সংস্কৃতি- লালন, হাসন, ভাটিয়ালি ও পল্লীগীতিই আমাদের জাতিসত্তার মূল পরিচয়। দেশের পরিচয়কে বিশ্বের দরবারে গর্বের সঙ্গে তুলে ধরতে হলে সংস্কৃতির চর্চাকে আরও বেগবান করতে হবে।




অস্ত্রের মুখে গহনা ডাকাতির ঘটনায় ১ ইউরো ক্ষতিপূরণ পেলেন কিম কার্দাশিয়ান

বিনোদন ডেস্ক : ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে ২০১৬ সালে অস্ত্রের মুখে গহনা ডাকাতির ঘটনায় মার্কিন তারকা কিম কার্দাশিয়ানকে প্রতীকী ক্ষতিপূরণ ১ ইউরো (১৪২ টাকা) দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) আদালত এই প্রতীকী ক্ষতিপূরণের রায় ঘোষণা করেছেন বলে নিশ্চিত করেছে একজন আইনজীবী।

আইনজীবী সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ডাকাতির ঘটনায় আদালতে কার্দাশিয়ান নিজের প্রাণ হারানোর শঙ্কার কথা সাক্ষ্যে উল্লেখ করেছিলেন। সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের কাছে কার্দাশিয়ান নিজেই এই সামান্য পরিমাণ প্রতীকী ক্ষতিপূরণ দাবি করেছিলেন।

গত বছর প্যারিসের আদালত আটজনকে দোষী সাব্যস্ত করার পর কার্দাশিয়ান ডাকাতির ঘটনাটি ভুলে থাকার চেষ্টা করেছেন বলে জানিয়েছেন। তিনি ওই ঘটনাকে ‘জীবনের ভীতিকর অভিজ্ঞতা’ হিসেবে মন্তব্য করেছেন।

রায় ঘোষণার পর এক বিবৃতিতে ফরাসি বিচার ব্যবস্থার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন কিম কার্দাশিয়ান। বার্তা সংস্থা এপি’কে কিম জানান, ‘খুব ভীতিজনক ডাকাতির ঘটনাটি। এখনো যার প্রভাব আমার ভেতর রয়ে গেছে। আজকের এই রায় ক্ষতিপূরণের জন্য নয় বরং জবাবদিহি ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার তাগিদে। আদালত এবং আইনি লড়াইয়ে যারা আমাদের পাশে ছিলেন, তাদের সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা। আশা করি, ওই মর্মান্তিক মানসিক আঘাত থেকে নিজেদের দূরে রেখে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারব।’

২০১৬ সালের ২ অক্টোবর কিম কার্দাশিয়ান প্যারিস ফ্যাশন সপ্তাহে যোগদানের জন্য একটি বিলাসবহুল হোটেলে উঠেছিলেন। সেখানে পুলিশের পোশাক পরা মুখোশধারীরা মার্কিন অভিনেত্রীকে বন্দুকের মুখে জিম্মি করে তার মূল্যবান গয়না লুট করে নেয়। ফ্রান্সের ওই ডাকাত দলটি ‘দাদু ডাকাত’ নামে পরিচিতি পায় তাদের বয়সের কারণে। সশস্ত্র ডাকাতি, অপহরণ, গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং অন্যান্য অভিযোগে যখন তাদের বিচার হয়, তখন তাদের মধ্যে ছয়জনের বয়স ষাট ও সত্তরের কোঠায় ছিল।




অনাগত সন্তানের মঙ্গলে সামান্থার ‘কলা আবরণ’ আয়োজন

বিনোদন ডেস্ক : মা হতে চলেছেন দক্ষিণী চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেত্রী সামান্থা রুথ প্রভু। জীবনের এই বিশেষ সময়কে স্মরণীয় করে রাখতে স্বামী ও পরিচালক রাজ নিধিমোরুর উদ্যোগে আয়োজন করা হয়েছে বিশেষ সাধভক্ষণ অনুষ্ঠানের। ঐতিহ্যবাহী আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে হবু মাকে পুষ্পবৃষ্টিতে বরণ করে নেওয়া হয়। সেই বিশেষ দিনের বেশ কিছু মুহূর্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন সামান্থা।

‘কলা আবরণ’ নামের এই বিশেষ অনুষ্ঠানের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে নানা আধ্যাত্মিক রীতি। সামান্থার ভাষ্য অনুযায়ী, শ্রীবিদ্যার এই আরাধনা করা হয় দেবীর ৯৪টি কলাকে সম্মান জানাতে। পবিত্র জল, মন্ত্রোচ্চারণ ও বিশেষ পূজার মাধ্যমে হবু মায়ের শরীরের সাতটি চক্রকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন আচার সম্পন্ন করা হয়।

অনুষ্ঠানের একটি বিশেষ রীতিতে সামান্থাকে দেবীর আসনে বসানো হয়। অভিনেত্রীর কাছে এই বিষয়টিই সবচেয়ে বেশি তাৎপর্যপূর্ণ মনে হয়েছে। কারণ, এখানে শুধু গর্ভস্থ সন্তানের মঙ্গল কামনা করা হয় না; যে নারী সন্তানকে পৃথিবীতে আনছেন, তাঁর সুস্থতা ও মঙ্গলের জন্যও প্রার্থনা করা হয়।

অনুষ্ঠানের তাৎপর্য বুঝতে তাঁকে সাহায্য করেছেন তাঁর পুরোহিত। নিজের ঐতিহ্য ও আধ্যাত্মিকতার প্রতি শ্রদ্ধার কথা জানিয়ে সামান্থা বলেন, ‘আমাদের ঐতিহ্যের প্রতি আমার বরাবরই গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। আমি হয়তো প্রতিটি নিয়মের পিছনের অর্থ বুঝতে পারি না, কিন্তু আমি সবসময় বিশ্বাস করেছি যে এর পিছনে আরও গভীর কিছু কাজ করছে। মন্ত্রের ধ্বনিতে, জপ করার মাধ্যমে সৃষ্ট শক্তিতে, এবং যে যত্নসহকারে প্রাচীন প্রথাগুলো প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে চলে এসেছে, তার মধ্যে।’

পুষ্পবৃষ্টির পর সামান্থার অভিষেকও করা হয়। এরপর তাঁকে বসানো হয় শ্রীচক্র যন্ত্রের পবিত্র কেন্দ্রে। এই যন্ত্রের নয়টি আবরণ বিভিন্ন যন্ত্রের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। অনুষ্ঠানের পুরো সময় মন্ত্রোচ্চারণ ও প্রার্থনায় অংশ নেন অভিনেত্রী।

সামান্থা জানান, মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে মনকে ধীরে ধীরে বাইরের জগত থেকে নিজের ভেতরের কেন্দ্রের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। পাশাপাশি মা ও গর্ভস্থ শিশুর সুস্থতা ও মঙ্গলের জন্যও প্রার্থনা করা হয়।




কলকাতায় পঞ্চম ওয়ার্ল্ড ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে পুরস্কার জিতল বাংলাদেশের দুই সিনেমা

বিনোদন ডেস্ক : ভারতের কলকাতায় অনুষ্ঠিত পঞ্চম ওয়ার্ল্ড ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে পুরস্কার জিতেছে বাংলাদেশের দুটি চলচ্চিত্র। পিপলু আর খান পরিচালিত ‘জয়া আর শারমিন’ পেয়েছে সেরা পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের ‘বিমল রায় গোল্ডেন অ্যাওয়ার্ড’। একই উৎসবে মকবুল চৌধুরী পরিচালিত প্রামাণ্যচিত্র ‘মামুন: ইন প্রেইজ অব শ্যাডোজ’ পেয়েছে বিচারকদের বিশেষ স্বীকৃতি ‘জুরি মেনশন’।

ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজ অব ইন্ডিয়ার (এফএফএসআই) পূর্বাঞ্চল শাখার আয়োজনে কলকাতার নন্দন-৩ প্রেক্ষাগৃহে ৮ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হয় এই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সমাপনী অনুষ্ঠানে পুরস্কার ঘোষণা করা হয়।

‘জয়া আর শারমিন’–এর প্রযোজক আবু শাহেদ ইমন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই স্বীকৃতি এবং উৎসবে চলচ্চিত্র সমালোচক, নির্মাতা ও দর্শকদের উষ্ণ সাড়ার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। এই পুরস্কারকে ছবির সব শিল্পী ও কলাকুশলীর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের জন্যও উৎসাহের একটি অর্জন হিসেবে দেখছেন তিনি।

জানা যায়, ছয় দিনের উৎসবে মোট ৩৮টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়েছে। পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের প্রতিযোগিতা বিভাগে ছিল ১৯টি ছবি। উৎসবে বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা, ইরান, স্পেন, জার্মানি, কোস্টারিকা, পর্তুগাল, ব্রাজিল, ভেনেজুয়েলা ও উজবেকিস্তানের চলচ্চিত্র অংশ নেয়। তিন সদস্যের বিচারক প্যানেলে ছিলেন অধ্যাপক উজ্জ্বল চক্রবর্তী, রীতা দত্ত ও প্রদীপ কেনচানুরু।

পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বিভাগে দ্বিতীয় সেরা ছবির ‘বিমল রায় সিলভার অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছে ভারতের অসমিয়া ভাষার চলচ্চিত্র ‘রিভার টেলস’। পঙ্কজ বরা ছবিটি পরিচালনা করেছেন। এই বিভাগে জুরি মেনশন পেয়েছে নাদিয়ে ওয়াসালামুদালিআরাচ্চি পরিচালিত শ্রীলঙ্কার চলচ্চিত্র ‘প্যানট্রাম’।

প্রামাণ্যচিত্র বিভাগে সেরা ছবির ‘হরিসাধন দাশগুপ্ত গোল্ডেন অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছে রণজিৎ রায় পরিচালিত ‘ডলস ডোন্ট ডাই: পুতুলনামা’। দ্বিতীয় সেরা প্রামাণ্যচিত্রের ‘হরিসাধন দাশগুপ্ত সিলভার অ্যাওয়ার্ড’ জিতেছে দীপ ভূঞা পরিচালিত ‘রিভার স্টিল ফ্লোজ’।

স্বল্পদৈর্ঘ্য কাহিনিচিত্র বিভাগে সেরা ছবির ‘চিদানন্দ দাশগুপ্ত গোল্ডেন অ্যাওয়ার্ড’পেয়েছে ড. ধৃতিশ্রী সরকার পরিচালিত ‘দ্য টেল অব কথা’। একই বিভাগে দ্বিতীয় সেরা ছবির ‘চিদানন্দ দাশগুপ্ত সিলভার অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছে মোহাম্মদ সাজাদ মোতাহারিজাদেহ পরিচালিত ইরানি চলচ্চিত্র ‘সাডেনলি রাইজ’।

মহামারির সময়কার লকডাউনের পটভূমিতে নির্মিত ‘জয়া আর শারমিন’ বাংলা ভাষার ৮৬ মিনিটের একটি মনস্তাত্ত্বিক চলচ্চিত্র। অভিনেত্রী জয়া ও তার গৃহকর্মী শারমিনের সম্পর্কের পরিবর্তনকে ঘিরে ছবির গল্প। একই ছাদের নিচে আটকে থাকা দুই নারীর নিঃসঙ্গতা, পরস্পরের ওপর মানসিক নির্ভরতা এবং তাদের সম্পর্কের মধ্যে থাকা শ্রেণি ও ক্ষমতার ব্যবধান উঠে এসেছে ছবিতে।

চলচ্চিত্রে জয়া চরিত্রে অভিনয় করেছেন জয়া আহসান। মঞ্চাভিনেত্রী মহসিনা আক্তার রয়েছেন শারমিনের ভূমিকায়। ছবিটি যৌথভাবে প্রযোজনা করেছেন গল্প রাজ্য ফিল্মসের আবু শাহেদ ইমন, সি-তে সিনেমার জয়া আহসান ও অ্যাপলবক্স ফিল্মসের পিপলু আর খান।




স্থগিত ১০ মাস পর ঢাকায় কাভিশ, সঙ্গে শিরোনামহীন-মেঘদল

বিনোদন ডেস্ক : নিরাপত্তাজনিত কারণে স্থগিত হয়েছিল পাকিস্তানি ব্যান্ড কাভিশের বহুল প্রতীক্ষিত কনসার্ট। অবশেষে প্রায় ১০ মাসের অপেক্ষার পর আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর ঢাকায় বসছে সেই সংগীতের আসর। এতে কাভিশের সঙ্গে একই মঞ্চে পারফর্ম করবে বাংলাদেশের জনপ্রিয় দুই ব্যান্ড শিরোনামহীন ও মেঘদল।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) আয়োজক প্রতিষ্ঠান প্রাইম ওয়েভ কমিউনিকেশন তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে কনসার্টের নতুন তারিখ ঘোষণা করে। আগের আয়োজনটির নাম ছিল ‘ওয়েভ ফেস্ট: ফিল দিজ উইনটার’। নতুন করে কনসার্টটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ওয়েভ ফেস্ট: এনজয় দ্য ফুল মুন’।

নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আপাতত কনসার্টের ভেন্যুর নাম প্রকাশ করেনি আয়োজকরা।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত বছর যারা কনসার্টের অগ্রিম টিকিট কিনেছিলেন, তারা সেই টিকিট দিয়েই এবারের আয়োজনে অংশ নিতে পারবেন। পাশাপাশি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম টিকিফাইয়ে নতুন টিকিট বিক্রিও শুরু হয়েছে। সাধারণ টিকিটের দাম ২ হাজার ৯৯৯ টাকা এবং ভিআইপি টিকিটের মূল্য ৫ হাজার ৪৯৯ টাকা।

কাভিশ, শিরোনামহীন ও মেঘদলকে নিয়ে গত বছরের ৫ ডিসেম্বর ঢাকায় কনসার্টটি হওয়ার কথা ছিল। তবে দেশের তৎকালীন সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনীয় অনুমতি না পাওয়ায় শেষ মুহূর্তে আয়োজনটি স্থগিত করা হয়।

এরপর থেকেই কাভিশের ভক্তদের মধ্যে কনসার্টটি নিয়ে অপেক্ষা ছিল। নতুন তারিখ ঘোষণার মধ্য দিয়ে সেই অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে।

জাফর জাইদি ও মাজ মাওদুদ ১৯৯৮ সালে পাকিস্তানি ব্যান্ড কাভিশ গড়ে তোলেন। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে এসে গান পরিবেশন করে ব্যান্ডটি। অল্প সময়ের মধ্যেই দেশের শ্রোতাদের মধ্যে জনপ্রিয়তা পায় তাদের গান।

কাভিশের জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘বাচপান’, ‘তেরে পেয়ার মে’, ‘মোরে সাইয়া’, ‘নিন্দিয়া রে’ ও ‘ফাসলে’।

কনসার্টে কাভিশের পাশাপাশি বাংলাদেশের ব্যান্ড মেঘদল ও শিরোনামহীনও পারফর্ম করবে।




মিরপুর প্রেসক্লাবের নৌকা ভ্রমণ, পিকনিক ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত

নাজমুল আলম নাছিমঃ মিরপুর প্রেসক্লাবের আয়োজনে দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য নৌকা ভ্রমণ, পিকনিক, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকাল ৯টায় রাজধানীর দিয়াবাড়ি থেকে নৌযাত্রার মধ্য দিয়ে এ আয়োজন শুরু হয়।

মিরপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি এস এম বদরুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ শিহাব উদ্দিনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে মিরপুর প্রেসক্লাবের সাংবাদিক সদস্যদের পাশাপাশি তাদের পরিবারের সদস্যরাও অংশগ্রহণ করেন। দিনব্যাপী এ আয়োজনে সাংবাদিক ও পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উৎসবমুখর ও আনন্দঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। দিয়াবাড়ি থেকে নৌযাত্রা শুরু করে মাঝপথে একটি রিসোর্টে যাত্রাবিরতি দেওয়া হয়। সেখানে দুপুরের খাবার ও পিকনিকের আয়োজন করা হয়। পরে যাত্রা অব্যাহত রেখে ধামরাইয়ের একটি মনোরম স্থানে গিয়ে বিভিন্ন খেলাধুলা ও বিনোদনমূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ফুটবল টুর্নামেন্ট, পরিবারের নারীদের অংশগ্রহণে বালিশ খেলা এবং রাফেল ড্র। পাশাপাশি মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠানে ভিন্নমাত্রা যোগ করে। দিনব্যাপী খেলাধুলা, আনন্দ-উল্লাস, আড্ডা ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে পুরো নৌভ্রমণ পরিণত হয় সাংবাদিক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের এক মিলনমেলায়।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মিরপুর প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা ও খবর বাংলাদেশ পত্রিকার সম্পাদক মোঃ জাকির হোসেন মোল্লা, মিরপুর প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা ও মাতৃ জগত পত্রিকার সম্পাদক খান সেলিম রহমান, ঢাকা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও আন্তর্জাতিক প্রেসক্লাবের সভাপতি আওরঙ্গজেব কামাল।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন মিরপুর প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি রাহাত খান, সিনিয়র সহ-সভাপতি এসএমএস ইসলাম উকিল, সহ-সভাপতি একলাছুর রহমান রাজু, সহ-সভাপতি কামরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম সাইমন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জি এস জয়, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সুমন খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন মুন্না, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুর আহমেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সীমা আক্তার, দপ্তর সম্পাদক এমএ গাফফার, সহ-দপ্তর সম্পাদক সেকেন্দার আলী, প্রচার সম্পাদক দুলাল হোসেন, সহ-প্রচার সম্পাদক তারিকুল ইসলাম মইন, শৃঙ্খলা বিষয়ক সহ-সম্পাদক আরিফ হাসান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন, সহ-সম্পাদক শাহাদাত হোসেন,সহ-সম্পাদক নাজমুল আলম নাছিম।

cd5f383d 5ea2 475b 977f 28ee317a39de

এছাড়াও মিরপুর প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী সদস্য মোঃ আলমগীর হোসেন, সাথী আক্তার, মাসুদ রানাসহ কয়েকশ সাংবাদিক ও তাদের পরিবারের সদস্যরা এ আয়োজনে অংশগ্রহণ করেন। সাংবাদিকদের ঐক্য ও পেশাগত দায়িত্ব পালনের প্রত্যয় অনুষ্ঠানে মিরপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি এস এম বদরুল আলম বলেন, সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পারস্পরিক সৌহার্দ্য, ভ্রাতৃত্ব ও ঐক্য আরও সুদৃঢ় করতেই এ ধরনের আয়োজন করা হয়েছে। মিরপুর প্রেসক্লাব শুধু সাংবাদিকদের সংগঠন হিসেবে নয়, দেশ ও জনগণের স্বার্থে কাজ করার প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। সাংবাদিকদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক ও ঐক্য আরও শক্তিশালী হলে পেশাগত দায়িত্ব পালনেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মিরপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ শিহাব উদ্দিন বলেন, সাংবাদিকদের ব্যস্ত কর্মজীবনের বাইরে পরিবার-পরিজন নিয়ে কিছুটা আনন্দ ও বিনোদনের সুযোগ করে দেওয়ার লক্ষ্যেই এ নৌকা ভ্রমণ ও পিকনিকের আয়োজন। এ ধরনের আয়োজন সাংবাদিকদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ ও পারস্পরিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করবে। পাশাপাশি মিরপুর প্রেসক্লাব ভবিষ্যতেও সাংবাদিকদের কল্যাণের পাশাপাশি দেশ ও জনগণের স্বার্থে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি জানান।

মিরপুর প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা ও খবর বাংলাদেশ পত্রিকার সম্পাদক মোঃ জাকির হোসেন মোল্লা বলেন, সাংবাদিকদের পেশাগত জীবনে নানা ব্যস্ততা ও চাপ থাকে। তাই পারিবারিক পরিবেশে এ ধরনের আয়োজন সাংবাদিকদের মানসিক প্রশান্তি ও পারস্পরিক বন্ধন তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে সাংবাদিকদের জনগণের পাশে থাকার আহ্বান জানান তিনি।

মিরপুর প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা ও মাতৃ জগত পত্রিকার সম্পাদক খান সেলিম রহমান বলেন, সাংবাদিকদের মধ্যে ঐক্য ও সৌহার্দ্য বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মিরপুর প্রেসক্লাবের এ আয়োজন সাংবাদিকদের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করবে। একই সঙ্গে দেশের মানুষের অধিকার, অনিয়ম-দুর্নীতি ও অপরাধের বিরুদ্ধে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

ঢাকা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও আন্তর্জাতিক প্রেসক্লাবের সভাপতি আওরঙ্গজেব কামাল বলেন, সাংবাদিকদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও ঐক্য শক্তিশালী হলে দেশের সাংবাদিকতা আরও সমৃদ্ধ হবে। মিরপুর প্রেসক্লাবের এ ধরনের আয়োজন সাংবাদিকদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ বাড়ানোর পাশাপাশি পেশাগত সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সাংবাদিক নেতারা আরও বলেন, মিরপুর প্রেসক্লাব দেশ ও জনগণের স্বার্থে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার চর্চা অব্যাহত রাখতে বদ্ধপরিকর। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক ও বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণে সাংবাদিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

দিনব্যাপী নৌকা ভ্রমণ, খেলাধুলা, পিকনিক, রাফেল ড্র ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মিরপুর প্রেসক্লাবের এ বর্ণাঢ্য আয়োজন শেষ হয়। পুরো আয়োজনজুড়ে সাংবাদিক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ, আনন্দ-উচ্ছ্বাস ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য।




উত্তর আমেরিকা ট্যুরে বিটিএসের নতুন রেকর্ড

বিনোদন ডেস্ক : রেকর্ড গড়ে উত্তর আমেরিকা সফর শেষ করল জনপ্রিয় কে-পপ গ্রুপ বিটিএস। তাদের বহুল আলোচিত ‘আরিরাং’ ট্যুরের এই পর্বে মোট ১২টি শহরের ৩১টি কনসার্টেরই সব টিকিট বিক্রি হয়ে গিয়েছিল আগেই। পুরো ট্যুরজুড়ে প্রায় ১৯ লাখ ২০ হাজার দর্শকের সমাগম ঘটে। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার টাম্পা থেকে শুরু হওয়া এই সফল সফরটি শেষ হয় লস অ্যাঞ্জেলেসে। সেখানে ১, ২, ৫ ও ৬ সেপ্টেম্বর সোফাই স্টেডিয়ামে আয়োজিত শেষ চারটি কনসার্টেই উপস্থিত ছিলেন প্রায় ২ লাখ ৮২ হাজার দর্শক।

সোফাই স্টেডিয়ামেও নতুন রেকর্ড করেছে বিটিএস। ২০২১ সালে ‘পারমিশন টু ড্যান্স অন স্টেজ’ সফরের চারটি কনসার্টসহ এই স্টেডিয়ামে এখন পর্যন্ত আটটি কনসার্ট করেছে দলটি। কোনো দলের জন্য এটিই স্টেডিয়ামটিতে সর্বোচ্চসংখ্যক কনসার্ট। আটটি আয়োজনে বিটিএসের মোট দর্শকসংখ্যা প্রায় ৪ লাখ ৯৬ হাজার, যা স্টেডিয়ামটির ইতিহাসে কোনো দলের সর্বোচ্চ।

একাধিক শহরে বিটিএস দিবস

উত্তর আমেরিকা সফরে স্থানীয় প্রশাসনের কাছ থেকেও বিশেষ স্বীকৃতি পেয়েছে বিটিএস। লস অ্যাঞ্জেলেসে ১ থেকে ৮ সেপ্টেম্বর ঘোষণা করা হয় ‘বিটিএস সপ্তাহ’। টরন্টোতে ২২ ও ২৩ আগস্ট পালিত হয় ‘বিটিএস উইকেন্ড’। এ সময় ইয়ং স্ট্রিটের একটি অংশের নাম সাময়িকভাবে রাখা হয় ‘বিটিএস বুলেভার্ড’।

শিকাগোতে কনসার্ট উপলক্ষে ইলিনয় অঙ্গরাজ্য ২৭ ও ২৮ আগস্টকে ঘোষণা করে ‘বিটিএস ডে ইন ইলিনয়’। টেক্সাসের এল পাসোতেও ২ ও ৩ মে পালিত হয় ‘এল পাসো বিটিএস উইকেন্ড’। শহরটির পর্যটন ও আন্তর্জাতিক পরিচিতিতে অবদান রাখার স্বীকৃতি হিসেবে বিটিএসকে দেওয়া হয় ‘এস্তিমাদো আমিগো’ বা ‘প্রিয় বন্ধু’ সম্মাননা।

মেরিল্যান্ডের গভর্নর ওয়েস মুরও ভিডিও বার্তার মাধ্যমে বিটিএসকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, সাত সদস্যের এই দল সংস্কৃতি, ভৌগোলিক দূরত্ব ও ভাষার সীমা পেরিয়ে মানুষকে একত্র করছে।

মেক্সিকো সিটিতে কনসার্টের সময় বিটিএসকে দেশটির জাতীয় প্রাসাদে আমন্ত্রণ জানান প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবাম। দলটিকে স্বাগত জানাতে প্রাসাদের বাইরে জড়ো হন প্রায় ৫০ হাজার ভক্ত।

জন্মদিনেও ভক্তদের উচ্ছ্বাস

লস অ্যাঞ্জেলেসের কনসার্টে জাংকুক ও আরএমের জন্মদিনও উদ্‌যাপন করেন ভক্তরা। জাংকুকের জন্মদিন ১ সেপ্টেম্বর, আর আরএমের ১২ সেপ্টেম্বর। হাজারো ভক্ত জন্মদিনের গান গেয়ে তাদের শুভেচ্ছা জানান। এ সময় স্টেডিয়ামজুড়ে জ্বলে ওঠে সোনালি ও নীল আলো। জাংকুকের একক অ্যালবাম ‘গোল্ডেন’ ও আরএমের ‘ইন্ডিগো’র সঙ্গে মিল রেখে বেছে নেওয়া হয়েছিল এই দুই রং।

শেষ কনসার্টে জে-হোপ জানান, টাম্পায় সফর শুরুর দিনটি যেন এই সেদিনের ঘটনা। দীর্ঘদিন ধরে তারা উত্তর আমেরিকা সফরের অপেক্ষায় ছিলেন। আনন্দের কারণে সময় খুব দ্রুত কেটে গেছে বলেও জানান তিনি।

উত্তর আমেরিকার পর এবার দক্ষিণ আমেরিকায় যাবে বিটিএস। ২ ও ৩ অক্টোবর কলম্বিয়ার বোগোতায় কনসার্টের মধ্য দিয়ে শুরু হবে এই পর্ব। এরপর লিমা, সান্তিয়াগো, বুয়েনস এইরেস ও সাও পাওলোতে পারফর্ম করবে দলটি। কলম্বিয়া, পেরু ও আর্জেন্টিনায় এই প্রথম পূর্ণাঙ্গ দল হিসেবে কনসার্ট করবে বিটিএস।




সালমান শাহ হত্যা মামলা, রিমান্ডে ‘তথ্য গোপন’ করায় কারাগারে ডন

বিনোদন ডেস্ক : চলচ্চিত্রনায়ক সালমান শাহকে হত্যা মামলায় অভিনেতা আশরাফুল হক ডন রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করেছেন বলে দাবি করেছে তদন্ত সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে অনেক তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। মামলা সংক্রান্ত সেসব তথ্য যাচাই-বাছাই করছে সিআইডি।

পাঁচদিনের রিমান্ড শেষে বুধবার ডনকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদনে এসব তথ্য উল্লেখ করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের ঢাকা মেট্রো দক্ষিণের ইন্সপেক্টর মজিবুর রহমান।

এদিকে, তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ডনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা।

বিষয়টি জানিয়েছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই শাহ আলম।

প্রসঙ্গত, গত ৯ আগস্ট হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডনকে গ্রেফতার করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। এরপর তাকে সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়। ওইদিনই তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। গত ২০ আগস্ট ডনের ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর মজিবুর রহমান। রিমান্ড শুনানির দিন রাখা হয় ২৭ আগস্ট। ওইদিন শুনানি নিয়ে ডনের ৫ দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন আদালত।

বুধবার ডনকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন ইন্সপেক্টর মজিবুর রহমান। আবেদনে বলা হয়, আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সালমান শাহর ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন ডন। ১৯৯২ সাল থেকে ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সালমান শাহর সাথে একাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। মামলার এজাহারের পলাতক আসামিদের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তাদের চেনেন বলে প্রকাশ করলেও মামলার অনেক তথ্য গোপন করছেন ডন।

সালমান শাহর ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে আসামি একত্রে চলাফেরা করার কারণে তার সব তথ্য সম্পর্কে অবগত আছেন। সালমান শাহর মৃত্যুর বিষয় ও মামলার ঘটনার বিষয়ে আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি অত্যন্ত কৌশলে কথা বলেন। তবে আসামির আচার-আচরণে, চালচলনে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে অনেক তথ্য প্রমাণ-পাওয়া যাচ্ছে। যেহেতু ঘটনাটি অত্যন্ত আলোচিত ও চাঞ্চলকর, সেহেতু মামলার বিষয়ে পাওয়া সব তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। আসামি অত্যন্ত চতুর ও দুর্দান্ত প্রকৃতির লোক হওয়ায় মামলার ঘটনার বিষয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করেছেন। মামলার তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনে আসামিকে পুনরায় আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। সুতরাং, মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখা প্রয়োজন।

এসআই শাহ আলম বলেন,‘ আসামির পক্ষে কোনও আবেদন ছিল না। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।’

গত বছরের ২০ অক্টোবর সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম মামলাটি দায়ের করেন।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর চিত্রনায়ক সালমান শাহ (চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন) ঢাকার ইস্কাটনের ফ্ল্যাটে মারা যান। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতে সে সময় তার জনপ্রিয়তা ছিল তুঙ্গে।

ছেলের মৃত্যুর পর প্রথমে একটি অপমৃত্যু মামলা করেন সালমান শাহর বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। কিন্তু পরে ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে— এমন অভিযোগে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই অভিযোগটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তর করার আবেদন জানান তিনি।

তখন অপমৃত্যু মামলার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেন আদালত। ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়ে সিআইডি জানায়, সালমান শাহ ‘আত্মহত্যা’ করেন।

সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে রিভিশন মামলা দায়ের করেন তার বাবা কমরউদ্দিন চৌধুরী। পরে ২০০৩ সালের ১৯ মে মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তে পাঠান আদালত।

দীর্ঘ ১১ বছর পর ২০১৪ সালের ৩ আগস্ট সেই প্রতিবেদন দাখিল করেন মহানগর হাকিম ইমদাদুল হক। তাতেও হত্যার অভিযোগ নাকচ করা হয়।

সালমান শাহের বাবার মৃত্যুর পর তার মা নীলা চৌধুরী মামলটি চালিয়ে যান। ২০১৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনে ‘নারাজি’ দেন নীলা চৌধুরী। তিনি ১১ জনের নাম উল্লেখ করে দাবি করেন, এরা তার ছেলেকে হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।

মামলাটি এরপর তদন্ত করে র‌্যাব। তখন রাষ্ট্রপক্ষ আপত্তি তুললে ২০১৬ সালের ২১ অগাস্ট ঢাকার বিশেষ জজ ৬-এর বিচারক ইমরুল কায়েশ র‌্যাবকে মামলাটি আর তদন্ত না করার আদেশ দেন।

তখন তদন্তের দায়িত্বে আসে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। চার বছর তদন্তের পর ২০২০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় তারা।

সেখানেও বলা হয়, ঘটনার সময় উপস্থিত ও ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ৫৪ জন সাক্ষীর জবানবন্দি বিশ্লেষণ করে, জব্দ করা আলামত পর্যালোচনা করে হত্যার অভিযোগের কোনও প্রমাণ মেলেনি।

পিবিআই তাদের তদন্ত প্রতিবেদনে বলে, মানসিক যন্ত্রণায় ভুগেই অভিমানী সালমান শাহ আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছিলেন। ওই প্রতিবেদনেও সন্তুষ্ট নন সালমানের মা নীলা চৌধুরী। ছেলের মৃত্যু কীভাবে হয়েছিল, তা জানতে তিনি আরও তদন্ত চান।

ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশীদ ২০২১ সালের ৩১ অক্টোবর পিবিআইয়ের প্রতিবেদন আমলে নিয়ে আসামিদের অব্যাহতির আদেশ দেন। এরপর আবার সালমান শাহর পরিবারের পক্ষ থেকে কয়েকটি বিষয় নিয়ে মহানগর দায়রা জজ আদালতে রিভিশন দায়েরের আবেদন করা হয়।

২০২২ সালের ১২ জুন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে রিভিশন আবেদন গ্রহণ করেন। তবে বিভিন্ন কারণে আর রিভিশন শুনানি হয়নি।

গত ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় তার মায়ের রিভিশন আবেদন মঞ্জুর করে আদালত। এবিষয়ে সালমান শাহর বাবা কমরউদ্দিনের অভিযোগ এবং ঘটনায় জড়িত রিজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদের জবানবন্দি সংযুক্ত করে হত্যা মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়ে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে রমনা মডেল থানা পুলিশকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়।

এজাহারনামীয় আসামিসহ অজ্ঞাতনামা পলাতক আসামিরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে পরস্পর যোগসাজশে ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহ্কে হত্যা করেছে বলে মামলায় অভিযোগ করেন মোহাম্মদ আলমগীর।




ইতালিতে বাঁধনের ওপর হামলা-হেনস্তায় জড়িত কয়েকজনের পরিচয় মিলল

বিনোদন ডেস্ক : ইতালির মেস্ত্রে শহরে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলা ও হেনস্তার ঘটনায় জড়িত কয়েকজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও বিশ্লেষণ করে তাদের মধ্যে শিপল মাহমুদ বিপ্লব, ইলিয়াস মিয়া ও আলতাফ পাহাড়কে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের কাউকে বাঁধনের দিকে পানি ছুড়তে, কাউকে শাসাতে এবং কাউকে শারীরিকভাবে আঘাতের চেষ্টা করতে দেখা গেছে।

স্থানীয় সময় সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার পর মেস্ত্রের একটি পার্কের রাস্তায় এ ঘটনা ঘটে। ওই সময় ভাইয়ের পরিবারের সঙ্গে পার্কে ঘুরতে গিয়েছিলেন বাঁধন। পরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া ভিডিও বার্তায় তিনি জানান, কয়েকজন ব্যক্তি তাকে হেনস্তা ও শারীরিকভাবে আঘাত করেন। তার দিকে কোক ও ডিম ছোড়া হয় এবং মুঠোফোনও ছুড়ে ফেলা হয়।

ঘটনার সময় ধারণ করা একটি ভিডিওতে কয়েকজনকে বাঁধনকে উদ্দেশ করে বিভিন্ন মন্তব্য করতে ও স্লোগান দিতে শোনা যায়। তাদের একজন বলেন, ‘এই যে জুলাই জঙ্গি, যিনি দেশের বিরুদ্ধে, বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে—এই যে দেখতে পাচ্ছেন, ভেনিসে আসছে।’ এরপর তাকে ‘জুলাই জঙ্গি’ আখ্যা দিয়ে বলা হয়, ‘আমরা এই দেশদ্রোহী জঙ্গিকে গোসল করিয়ে দিয়েছি।’

চিৎকার-চেঁচামেচির মধ্যে একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘বাচ্চা আছে আমার। কী করছেন এগুলো?’ এর পর অপর পাশ থেকে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে জবরদস্তি করার শব্দ শোনা যায়। এ সময় আরও একজন বলেন, ‘ওরা দেশটাকে ধ্বংস করছে।’

একপর্যায়ে হামলাকারীদের একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা ইতালির ছাত্রলীগ। বাংলাদেশের যেকোনো প্রান্তে যাবে, তাদের আমরা প্রতিহত করব।’

ঘটনাটি ফেসবুকে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়েছিল ‘মনিরুল হাওলাদার’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে। ওই লাইভের ক্যাপশনে লেখা ছিল, ‘জুলাই জঙ্গি আজমেরী হক বাঁধনকে আমরা উত্তম মাধ্যম দিয়েছি ভেনিসে, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, ইতালি শাখা।’

মনিরুল হাওলাদারের বাড়ি মাদারীপুরে। স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও তার স্বজনদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি ছাত্রলীগের একটি ইউনিয়ন শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি বাংলাদেশ ছেড়ে প্রথমে লিবিয়া এবং পরে ইতালিতে যান।

ঘটনার বিভিন্ন ভিডিও বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাঁধনের দিকে বারবার পানি ছুড়ে দিচ্ছেন শিপল মাহমুদ বিপ্লব। তার বাড়ি শরীয়তপুরে। শরীয়তপুরের ছাত্রলীগ নেতাদের সূত্রে জানা গেছে, তিনি ছাত্রলীগের কর্মী ছিলেন। বর্তমানে তিনি ইতালির ভেনিস শাখা আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত।

বাঁধনের দিকে এগিয়ে গিয়ে থাপ্পড় দেওয়ার চেষ্টা করতে দেখা যায় ইলিয়াস মিয়াকে। তার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। ইতালির ভেনিস শাখা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে তার উপস্থিতির একাধিক ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া গেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, ইলিয়াস বাঁধনের দিকে হাত তোলার চেষ্টা করলে আঘাতটি তার হাতে লাগে। এ সময় বাঁধনের মুঠোফোন হাত থেকে পড়ে যায়।

বাঁধনকে শাসাতে দেখা যাওয়া ব্যক্তিদের একজন আলতাফ পাহাড়। তার বাড়িও শরীয়তপুরে। স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তিনি ইতালির ভেনিসে যুবলীগের সঙ্গে যুক্ত।

ঘটনার সময় ধারণ করা ভিডিওতে আলতাফকে সামনের সারিতে দেখা যায়। কয়েকটি দৃশ্যে তিনি বাঁধনকে শাসাচ্ছেন এবং আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে কথা বলছেন।

ঘটনার পর বাঁধন জানান, তাকে হেনস্তা ও শারীরিকভাবে আঘাত করার পাশাপাশি তার দিকে পানি, কোক ও ডিম ছোড়া হয়েছে এবং তার মুঠোফোনও ফেলে দেওয়া হয়েছে।




‘তারা আমাকে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ বলতে জোর করে’

বিনোদন ডেস্কঃ ইতালিতে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনকে হেনস্তা ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। 

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দিনগত রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক ভিডিওবার্তায় বাঁধন নিজেই এ অভিযোগ করেন।

এদিকে মারধরের একটি ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে অনেকটা স্পষ্ট। 

যারা এই হামলা করছিলেন, তাদের এক কর্মী বাঁধনকে দেখিয়ে ভিডিওতে বলছিলেন, ‘সে একজন ‘জুলাই জঙ্গী’। সে এখন ভেনিসে, আমরা ভেনিস ছাত্রলীগ এই দেশদ্রোহী ‘জঙ্গি’কে ধরেছি। ‘দেশকে ধ্বংস করেছে’, এমন অপবাদ-আখ্যা দিয়ে তাকে রীতিমতো হেনস্তা করা হয়। এরপর বাঁধনকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন সঙ্গে থাকা তার ভাই।

এ ঘটনার পর বাঁধনে আর স্বাভাবিক অবস্থায় দেখা যায়নি। চোখে মুখে ব্যাপক আতঙ্ক; আঘাতে মুখ ফুলে লাল। একটি ভিডিও বার্তায় এসে সকলের কাছে ঘটনাটি নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন।

সেখানে বাঁধন বলেন, আমি আমার ভাইয়ের সাথে পার্কে গিয়েছিলাম। কিন্তু এখানে অনেক বাঙালি ভাইয়েরা এসে আমাকে শারীরিকভাবে হেনস্থা করেছে। আমার গায়ে পানি, কোক এগুলো ছুঁড়ে মারছে। আমি একদম ভিজে গেছি। আমার সাথে, আমার সাথে হচ্ছে আমার ভাইয়ের ছোট বাচ্চাটাও ছিল। তারা আমার গায়েও হাত তুলেছে, আমার ফোন ফেলে দিয়েছে, আমার কানের এখানে বাড়ি মেরেছে। সো এগুলো তারা করেছে।

বাঁধন বলেন, তারা বলেছে যে আমি জুলাই যোদ্ধা। হ্যাঁ আমি জুলাই যোদ্ধা।  আমি অবশ্যই জুলাইতে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছি। তারা বলেছে যে তারা বঙ্গবন্ধুর সৈনিক। তারা আমাকে বলেছে যে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ বলতে জোর করে। তো এবং তারা সেগুলো ভিডিও করেছে এবং সেগুলো তারা লাইভ করছিল, আপলোড করছিল।

এই অভিনেত্রী বলেছেন, তো, আওয়ামী লীগের যে কর্মীরা জানেন না যে আমি বাংলাদেশ থেকে যে সিনেমাটা নিয়ে ভেনিস ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে আসছি, সেই সিনেমাটার ডিরেক্টর হচ্ছে রুবাইয়াত হোসেন, যার বাবা আপনাদের একজন সম্মানিত মন্ত্রী ছিলেন। আপনারা একটু খবর নিয়ে দেখবেন। সো আমি তার সাথে কাজ করেছি এবং জুলাইয়ের পরেই কাজ করেছি।

বাঁধন আরও বলেন, আপনারা যে কাজটা আজকে করেছেন, আমি বলব যে আপনাদের এই ধরনের অসংলগ্ন আচরণ থেকে আপনাদের বের হয়ে আসা উচিত ছিল যেটা আপনারা করতে পারেন নি। আপনারা ভেবেছেন যে আমরা এইভাবে করেই হয়তো পরবর্তীতে আমাদের জায়গাটা আবার সুগঠিত করতে পারব। সেটা আমার মনে হচ্ছে না আপনাদের এই ধরনের আচরণের কারণে।

শোনা যাচ্ছে, এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ভেনিসের একটি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন বাঁধন।

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় অংশগ্রহণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সোচ্চার ছিলেন এই অভিনেত্রী। সেই প্রেক্ষাপটেই এই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।