‘অ্যাভাটার ২’কে ছাড়িয়ে গেল ‌‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’

বিনোদন ডেস্ক : বক্স অফিসে আধিপত্য ধরে রেখে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে টম হল্যান্ড অভিনীত সুপারহিরো সিনেমা ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’। বিশ্বজুড়ে আয়ের তালিকায় জেমস ক্যামেরনের বহুল আলোচিত ‘অ্যাভাটার: দ্য ওয়ে অব ওয়াটার’-কে টপকে সর্বকালের সর্বোচ্চ আয়কারী চলচ্চিত্রের তালিকায় তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে ছবিটি।

দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই সিনেমাটি বৈশ্বিক বক্স অফিসে ২৩৩ কোটি (২.৩৩ বিলিয়ন) মার্কিন ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করেছে।

রবিবার পাওয়া স্টুডিওগুলোর আনুমানিক হিসাব অনুযায়ী, টানা পঞ্চম সপ্তাহান্তেও উত্তর আমেরিকার বক্স অফিসে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার প্রেক্ষাগৃহ থেকে এ সপ্তাহে ছবিটি আয় করেছে ২ কোটি ২২ লাখ (২২.২ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার। এর ওপর ভর করেই বিশ্বজুড়ে সিনেমাটির মোট আয় দাঁড়িয়েছে ২.৩৩ বিলিয়ন ডলার, যা জেমস ক্যামেরনের ‘অ্যাভাটার: দ্য ওয়ে অব ওয়াটার’-এর মোট আয় ২.৩২ বিলিয়ন ডলারকে ছাড়িয়ে যেতে সাহায্য করেছে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, মুক্তির চতুর্থ সপ্তাহের তুলনায় পঞ্চম সপ্তাহে ছবিটির আয় মাত্র ৪৪ শতাংশ কমেছে, যা প্রেক্ষাগৃহে এর ধারাবাহিক জনপ্রিয়তারই প্রমাণ।

আন্তর্জাতিক বক্স অফিসের নতুন এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী সর্বকালের সেরা পাঁচ আয়কারী সিনেমার তালিকায় শীর্ষে রয়েছে জেমস ক্যামেরনের ‘অ্যাভাটার’ (২৯২ কোটি ডলার)। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’ (২৭৯ কোটি ডলার)। ২৩৩ কোটি ডলার আয় নিয়ে তৃতীয় স্থান দখল করেছে ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’। চতুর্থ স্থানে নেমে এসেছে ‘অ্যাভাটার: দ্য ওয়ে অব ওয়াটার’ (২৩২ কোটি ডলার) এবং ২২৫ কোটি ডলার আয় নিয়ে পঞ্চম স্থানে রয়েছে কালজয়ী চলচ্চিত্র ‘টাইটানিক’।

কেবল বৈশ্বিক বাজারেই নয়, উত্তর আমেরিকার ঘরোয়া বক্স অফিসেও অবিশ্বাস্য সাফল্য অর্জন করেছে নতুন এই স্পাইডার-ম্যান সিনেমাটি। এখন পর্যন্ত ঘরোয়া বাজার থেকে ছবিটি ৮৯ কোটি ১ লাখ (৮৯১ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার ঝুলিতে পুরেছে, যা আরেকটি ঐতিহাসিক রেকর্ডের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছে ছবিটিকে। উত্তর আমেরিকার বাজারে সর্বকালের সেরা আয়কারী ছবি ‘স্টার ওয়ার্স: দ্য ফোর্স অ্যাওয়েকেনস’-এর ৯৩ কোটি ৬ লাখ (৯৩৬ মিলিয়ন) ডলারের রেকর্ড ভাঙতে আর সামান্য আয়ের প্রয়োজন সিনেমাটির। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এই মাইলফলক অতিক্রম করতে পারলে প্রথম কোনো সিনেমা হিসেবে উত্তর আমেরিকার বাজারে ১০০ কোটি (১ বিলিয়ন) ডলার আয়ের ইতিহাস গড়তে পারে এই ‘স্পাইডার-ম্যান’ ফ্র্যাঞ্চাইজি।

এই চলচ্চিত্রের অভূতপূর্ব সাফল্যের ওপর ভর করে মাত্র ৩০ বছর বয়সে টম হল্যান্ডও এক অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। জো সালদানা ও স্কারলেট জোহানসনের পর তিনি এখন হলিউড ইতিহাসের সর্বকালের তৃতীয় সর্বোচ্চ আয়কারী তারকা। একই সঙ্গে সর্বকালের সেরা আয়ের তালিকায় থাকা অভিনেতাদের মধ্যে তিনি সর্বকনিষ্ঠ। ‘স্পাইডার-ম্যান’ হিসেবে তার দীর্ঘ ও সফল যাত্রাই মূলত তাকে এই অবিশ্বাস্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।




সড়ক দুর্ঘটনায় দুই পক্ষের সমঝোতা, ৩০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ পেলেন তিশা

বিনোদন ডেস্ক : শুটিং শেষে ঢাকা ফেরার পথে ভয়ংকর সড়ক দুর্ঘটনার মুখোমুখি হয়েছেন ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী তাসনুভা তিশা। রবিবার (৩০ আগস্ট) রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ভৈরব ব্রিজের টোল প্লাজার কাছে এই দুর্ঘটনা ঘটে। বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগামী পিকআপ ভ্যান অভিনেত্রীর গাড়িটিকে ধাক্কা দেয়। এতে গাড়িটির সামনের অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অভিনেত্রীসহ গাড়িতে থাকা কেউ আহত হননি।

জানা গেছে, সিলেটের শ্রীমঙ্গলে নাটকের শুটিং শেষ করে ঢাকায় ফিরছিলেন তাসনুভা তিশা। ভৈরব মেঘনা সেতু পার হওয়ার পর নাটাল মোড় এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পিকআপ ভ্যান তার গাড়িকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে ভৈরব ফেরিঘাটের সড়কের দিকে পালিয়ে যায়।

দুর্ঘটনায় তিশার গাড়ির সামনের বাম্পারের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তবে পিকআপ ভ্যানটি তাৎক্ষণিকভাবে আটক করা সম্ভব হয়নি।

পরে স্থানীয় একটি বেকারির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ওই পিকআপ ভ্যানের মালিকপক্ষের এক প্রতিনিধির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।
পরে দুই পক্ষের সমঝোতার ভিত্তিতে তাসনুভা তিশার গাড়ির ক্ষয়ক্ষতির জন্য ৩০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। লিখিত আপসনামার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

দুর্ঘটনার পর তাসনুভা তিশাসহ গাড়িতে থাকা অন্য যাত্রীরা প্রায় এক ঘণ্টা ঘটনাস্থলে অবস্থান করেন। পরে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় উভয় পক্ষের মধ্যে বিষয়টির মীমাংসা হয়।

ভৈরব হাইওয়ে থানার সহকারী উপপরিদর্শক মেহেদি হাসান বলেন, ‘রাত ১২টা ৩০ মিনিটের সময় ৯৯৯-এ কল পাওয়ার আগেই আমরা দুর্ঘটনাস্থানে পৌঁছাই। পিকআপটিকে আমরা আটকাতে না পারলেও প্রতিনিধির মাধ্যমে যোগাযোগ করে দুই পক্ষের সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টি সুরহা করা হয়।’

দুর্ঘটনায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি না হলেও তাসনুভা তিশার গাড়ির সামনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সমঝোতার মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পর বিষয়টির নিষ্পত্তি করা হয়েছে।




নড়াইলে দুই দিনব্যাপী সুলতান উৎসব

নড়াইলে দুই দিনব্যাপী ‘সুলতান উৎসব’ সমাপ্ত হয়েছে। এস এম সুলতান শিশু চারু ও চারুকলা ফাউন্ডেশনের আয়োজনে শনিবার রাতে নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের সুলতান মঞ্চ চত্ত্বরে সুলতান উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নড়াইল জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: মোস্তাফিজুর রহমান আলেক।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক হায়দার আলী দেওয়ান, এস এম সুলতান শিশু চারু ও চারুকলা ফাউন্ডেশনের সভাপতি শেখ হানিফ, সদস্য সচিব সসীম সরকার প্রমুখ।

সমাপনী দিনে ‘আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে’ অংশ নেয়া গণমাধ্যমকর্মী ফরহাদ খানসহ শ্রেষ্ঠ ৫ জনকে পুরষ্কৃত করা হয়। আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে মোট ৫৫ জনের আঁকা ছবি স্থান পায়। এছাড়া রাতে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকালে সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের সুলতান মঞ্চ চত্ত্বরে দু’দিনব্যাপী সুলতান উৎসবের উদ্বোধন করা হয়।




সাইফ আলী খানকে হত্যাচেষ্টার দায় স্বীকার

বিনোদন ডেস্ক : বলিউড অভিনেতা সাইফ আলী খানের ওপর হামলার ঘটনায় নতুন মোড় নিয়েছে। আলোচিত এই হামলার দায় আদালতের কাছে স্বীকার করে নিয়েছেন অভিযুক্ত বাংলাদেশি নাগরিক মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম। সেই সঙ্গে নিজের কৃতকর্মের জন্য অনুতাপ প্রকাশ করে সাজা কমানোর আকুতি জানিয়েছেন তিনি।

ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৬ জানুয়ারি মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় সাইফ আলী খানের বাসভবনে অবৈধভাবে প্রবেশ করেন শরীফুল। সেখানে তাকে দেখে ফেললে তিনি ধারাল অস্ত্র দিয়ে সাইফের ওপর একাধিকবার ছুরিকাঘাত চালান। ঘটনার দুই দিন পর পুলিশ থানে এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে।

প্রাথমিক পর্যায়ে শরীফুল নিজের অপরাধ অস্বীকার করেছিলেন। আদালতে হাজির করা হলে তিনি দাবি করেন, তিনি সাইফের বাড়িতে প্রবেশ করেননি এবং তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।

তবে বিচার প্রক্রিয়া শুরুর পর গতকাল শুক্রবার মুম্বাইয়ের বিচারক মাহেশ রামরাওয়ের সেশন আদালতে হাজির হয়ে নিজের অবস্থান পরিবর্তন করেন শরীফুল। তিনি সাইফের ওপর হামলার কথা সরাসরি স্বীকার করেন। তার আইনজীবী ভিপুল দুসিং জানান, শরীফুল তার কৃতকর্মের জন্য লজ্জিত ও অনুতপ্ত, আর সে কারণেই আদালতের কাছে দায় স্বীকার করে কম শাস্তির আবেদন করেছেন।

তথ্য অনুযায়ী, শরীফুলের বিরুদ্ধে যে ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে, তাতে অপরাধ প্রমাণিত হলে তার সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। মামলাটির বিচার কাজ একদমই প্রাথমিক পর্যায়ে থাকা অবস্থায় এই দায় স্বীকারের ঘটনাটি ঘটল।




২৫ সেকেন্ডই ১৬ রাউন্ড গুলি, জিম থেকে বের হতেই গায়ককে হত্যা

বিনোদন ডেস্ক : ভারতের উত্তর প্রদেশের শামলিতে জিম থেকে বের হওয়ার পর প্রকাশ্য রাস্তায় গুলি করে হত্যা করা হয়েছে হরিয়ানভি গায়ক ও ইউটিউবার অঙ্কিত বালিয়ানকে। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

৩৫ বছর বয়সী অঙ্কিত গত বুধবার সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে শামলির একটি জিম থেকে বের হন। তার হাতে ছিল জিমের কিট ব্যাগ। এরপর নিজের গাড়ির দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় চার অস্ত্রধারী তাকে অনুসরণ করতে শুরু করে।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, গাড়ির কাছে পৌঁছানোর আগেই অঙ্কিতকে লক্ষ্য করে হামলাকারীরা গুলি চালাতে শুরু করে। প্রায় ২৫ সেকেন্ড ধরে তাকে লক্ষ্য করে একের পর এক গুলি ছোড়া হয়। হামলাকারীদের একজনের হাতে বন্দুক ছিল।

গুলির শব্দে মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়। পথচারী ও স্থানীয় দোকানিরা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য দ্রুত সরে যান। কেউ কেউ দোকানের ভেতর থেকে পরিস্থিতি দেখার চেষ্টা করলেও গুলির শব্দ চলতে থাকায় তারাও আড়ালে চলে যান।

পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা মোট ১৬টি গুলি ছুড়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি গুলি আতঙ্ক ছড়াতে শূন্যে ছোড়া হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঘটনার পর হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। অঙ্কিত বালিয়ান হরিয়ানভি গান ও ইউটিউব কনটেন্টের জন্য পরিচিত ছিলেন।




ভারতে মুক্তির প্রথম দিনেই ১১৭ কোটি রুপি আয় করল ‘টক্সিক’

বিনোদন ডেস্ক : ভারতের বক্স অফিসে দুর্দান্ত সূচনা করেছে দক্ষিণী তারকা যশ অভিনীত বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘টক্সিক’। মুক্তির প্রথম দিনেই সিনেমাটি প্রায় ১১৭ কোটি রুপি আয় করেছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় বক্স অফিস বিশ্লেষণভিত্তিক প্রতিবেদন।

ভারতে মুক্তির প্রথম দিনে ১০০ কোটি রুপির বেশি আয় করা সিনেমার তালিকায় ‘টক্সিক’ এখন মাত্র ষষ্ঠ সিনেমা। তবে ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’-এর প্রিভিউ শোর আয়ও হিসাবের মধ্যে ধরলে এটি সপ্তম সিনেমা হিসেবে এই মাইলফলক স্পর্শ করেছে।

বিশেষ করে উত্তর ও দক্ষিণ ভারত—দুই অঞ্চলেই শক্তিশালী সূচনা করেছে ‘টক্সিক’। সাধারণত বড় ওপেনিংয়ের ক্ষেত্রে তেলেগু রাজ্যগুলোর অবদান উল্লেখযোগ্য থাকে। বিভিন্ন বেনিফিট শো ও টিকিটের মূল্যবৃদ্ধির কারণে সেখানে প্রথম দিনে বড় অঙ্কের আয় করা সম্ভব হয়। কিন্তু ‘টক্সিক’-এর ক্ষেত্রে তেলেগু রাজ্যগুলোর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা ছাড়াই দেশজুড়ে এমন সাফল্য এসেছে।

সিনেমাটির সবচেয়ে বড় চমক এসেছে যশের নিজ রাজ্য কর্ণাটকে। সেখানে প্রথম দিনে প্রায় ২৮ কোটি ৫০ লাখ রুপি আয় করেছে ‘টক্সিক’। এর মাধ্যমে কর্ণাটকে প্রথম দিনের আয়ের রেকর্ড গড়েছে সিনেমাটি। এর আগে যশ অভিনীত ‘কেজিএফ: চ্যাপ্টার ২’ প্রথম দিনে ২৪ কোটি ৫০ লাখ রুপি আয় করে রেকর্ডটি ধরে রেখেছিল।

দক্ষিণ ভারতের অন্যান্য রাজ্যেও ভালো ব্যবসা করেছে সিনেমাটি। অন্ধ্রপ্রদেশ ও তেলেঙ্গানায় প্রথম দিনে প্রায় ১৮ কোটি রুপি আয় করেছে ‘টক্সিক’। তামিলনাড়ু ও কেরালাতেও সিনেমাটির আয় ছিল সন্তোষজনক। বিশেষ করে স্থানীয় সিনেমার সঙ্গে প্রতিযোগিতার মধ্যেও কেরালায় ভালো সাড়া পেয়েছে এটি।

তবে সিনেমাটির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পারফরম্যান্স এসেছে হিন্দি সংস্করণে। প্রথম দিনেই হিন্দি ভার্সন থেকে প্রায় ৫৩ কোটি রুপি আয় করেছে ‘টক্সিক’। দক্ষিণ ভারতে হিন্দি সংস্করণের সীমিত অবদান বিবেচনায় নিলে প্রকৃত আয় প্রায় ৬০ কোটি রুপির কাছাকাছি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে সিনেমাটির বক্স অফিস আয়ে কিছু অসামঞ্জস্যের কথাও উঠে এসেছে। এসব পরিসংখ্যান সিনেমাটির সংগ্রহে বাইরের কোনো ধরনের প্রভাব থাকার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তারপরও এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েও প্রথম দিনের আয়কে অসাধারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এই দুর্দান্ত সূচনার মধ্য দিয়ে ভারতের শীর্ষ তারকাদের কাতারে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন যশ। তবে সামনে সিনেমাটির জন্য বড় পরীক্ষা অপেক্ষা করছে।

মুক্তির পর দর্শকদের কাছ থেকে সিনেমাটি নিয়ে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যাচ্ছে। এর প্রভাব পড়েছে সাপ্তাহিক ছুটির আগাম টিকিট বিক্রিতেও। আগের দিন অগ্রিম বুকিং বেশ দুর্বল ছিল, যদিও পরে কিছুটা উন্নতি হয়েছে।

ফলে দ্বিতীয় দিনে সিনেমাটির আয় কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এরপর সপ্তাহান্তে কতটা ঘুরে দাঁড়াতে পারে, সেটিই এখন দেখার বিষয়। কারণ ‘টক্সিক’ অত্যন্ত ব্যয়বহুল নির্মাণ। সিনেমাটির পরিবেশকদের বড় অংশের সঙ্গে অগ্রিম অর্থের ভিত্তিতে চুক্তি হয়েছে এবং বক্স অফিস আয়ের সঙ্গে এর নন-থিয়েট্রিক্যাল স্বত্বের চুক্তিও যুক্ত। ফলে শেষ পর্যন্ত সিনেমাটির ব্যবসায় বড় ধরনের ঝুঁকি রয়েছে প্রযোজকদের ওপরই।




সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডন ৫ দিনের রিমান্ডে

চিত্রনায়ক মোহাম্মদ শাহরিয়ার (ইমন) ওরফে সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় পরিকল্পিতভাবে হত্যা করার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেফতার খলনায়ক আশরাফুল হক ডনের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

এর আগে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের ঢাকা মেট্রো দক্ষিণের পরিদর্শক মজিবুর রহমান গত ২০ আগস্ট তাকে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন ২৭ আগস্ট ধার্য করেন।

গত ৯ আগস্ট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডনকে গ্রেফতার করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। এরপর তাকে সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়। ওইদিনই তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। ১২ আগস্ট সিএমএম আদালতে জামিন আবেদন করা হলেও আদালত তা নাকচ করে দেয়। পরে ২৫ আগস্ট দায়রা আদালতও তার জামিন আবেদন নাকচ করে দেন।

প্রসঙ্গত, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহ। সে সময় এ বিষয়ে অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছিলেন তার বাবা প্রয়াত কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। পরে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করে মামলাটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন জানান তিনি। অপমৃত্যু মামলার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়টি একসঙ্গে তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেন আদালত।

১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় সিআইডি। প্রতিবেদনে সালমান শাহ’র মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হয়। ওই বছরের ২৫ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন গৃহীত হয়। সে সময় সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী রিভিশন মামলা দায়ের করেন। সবশেষ গত ২০ অক্টোবর বাদীপক্ষের করা রিভিশন মঞ্জুর করে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করেন সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর। মামলায় সালমান শাহর স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।

সামীরা ছাড়া মামলার অপর আসামিরা হলেন— শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুছি, খলনায়ক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ফরহাদ। এছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরো অনেককে আসামি করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগে মোহাম্মদ আলমগীর উল্লেখ করেন, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তার বোন নিলুফার জামান চৌধুরী (নীলা চৌধুরী), বোনের স্বামী কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী এবং তাদের ছোট ছেলে শাহরান শাহ নিউ ইস্কাটনের বাসায় সালমান শাহের সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখানে গিয়ে তারা জানতে পারেন, সালমান ঘুমাচ্ছেন।

কিছুক্ষণ পর প্রডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে জানান, সালমানের কিছু হয়েছে। দ্রুত তারা বাসায় ফিরে দেখেন, সালমান শয়নকক্ষে নিথর হয়ে পড়ে আছেন এবং কয়েকজন বহিরাগত নারী তার হাত-পায়ে তেল মালিশ করছেন। পাশের কক্ষে সামীরার আত্মীয় রুবি বসেছিলেন।

সালমানের মা চিৎকার করে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার অনুরোধ করেন। পথে তারা সালমানের গলায় দড়ির দাগ এবং মুখমণ্ডল ও পায়ে নীলচে দাগ দেখতে পান। পরে তাকে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, সালমান শাহ অনেক আগেই মারা গেছেন।

সালমানের বাবা কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী ছেলের মৃত্যুকে হত্যা বলে সন্দেহ করে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি দরখাস্ত দাখিল করেন। এতে তিনি রমনা থানার অপমৃত্যু মামলাটি দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ এবং সিআইডির মাধ্যমে তদন্তের আবেদন জানান।

এর আগে, ২০ মে হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে প্রখ্যাত এই চিত্রনায়কের মৃতদেহ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। পরে ২৪ মে সালমান শাহের লাশ উত্তোলনপূর্বক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার অনুমতি দেওয়া হয়। এদিকে বাদীপক্ষ লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল চেয়ে আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত আবেদনটি নথিভুক্ত করেন। পরে গত ২২ জুন দেহাবশেষ উত্তোলনের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহাকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ-সংক্রান্ত আদেশের অনুলিপি আদালতে দাখিল করা হলে তা নথিভুক্ত করা হয়। এদিকে মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৩০ আগস্ট ধার্য রয়েছে।




ফের ঢাকায় আসছেন পপতারকা ওটিলিয়া

বিনোদন ডেস্ক : চার বছর ফের ঢাকার মঞ্চ মাতাতে আসছেন রোমানিয়ান পপতারকা ওটিলিয়া ব্রুমা। বাংলাদেশের দর্শকদের সামনে সরাসরি পারফর্ম করতে যাচ্ছেন জনপ্রিয় এই গায়িকা। এর আগে ২০২২ সালে বাংলাদেশে এসে গানের তালে দর্শকদের নাচিয়েছিলেন।

ইমেকার্স বাংলাদেশের আয়োজনে আগামী ২৭ নভেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে বিশেষ এই সংগীত আয়োজন। বাংলাদেশে আসার বিষয়টি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করেই নিশ্চিত করেছেন এই রোমানিয়ান তারকা।

রোমানিয়ার সুসেভায় জন্ম নেওয়া ওটিলিয়া ছোটবেলা থেকেই সংগীতের সঙ্গে যুক্ত। ২০১৪ সালে প্রকাশিত ‘বিলিয়নেরা’ গানটি তাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক পরিচিতি এনে দেয়। গানটি প্রকাশের পর ইউরোপের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শ্রোতাদের কাছেও পৌঁছে যায় তার জনপ্রিয়তা।

‘বিলিয়নেরা’র সাফল্যের পর ওটিলিয়ার কণ্ঠে আরও বেশ কিছু গান শ্রোতাদের মধ্যে জনপ্রিয়তা পায়। বৈশ্বিক সংগীতাঙ্গনে নিজের আলাদা অবস্থান তৈরি করা এই শিল্পী এবার ঢাকার মঞ্চে কোন কোন গান পরিবেশন করেন, সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা।




সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডনের জামিন নামঞ্জুর

বিনোদন ডেস্ক : চলচ্চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় পরিকল্পিতভাবে হত্যা করার অভিযোগের মামলায় গ্রেফতার অভিনেতা আশরাফুল হক ডনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ-১১ এর বিচারক মো. নুরুল ইসলামের আদালতে ডনের পক্ষে জামিন চেয়ে শুনানি করেন তার আইনজীবী তারিকুল ইসলাম জুয়েল। শুনানি নিয়ে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে দেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী ফারুক দেওয়ান।

গত ৯ আগস্ট হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডনকে গ্রেফতার করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। এরপর তাকে সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়। ওইদিনই তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। গত ১২ আগস্ট ঢাকার সিএমএম আদালতও তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।

এদিকে, গত বৃহস্পতিবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের ঢাকা মেট্রো দক্ষিণের ইন্সপেক্টর মজিবুর রহমান ডনের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। ডনের উপস্থিতিতে শুনানির দিন রাখা হয়েছে আগামী বৃহস্পতিবার।

প্রসঙ্গত, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহ। সে সময় এ বিষয়ে অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছিলেন তার বাবা প্রয়াত কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। পরে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করে মামলাটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন জানান তিনি। অপমৃত্যু মামলার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়টি একসঙ্গে তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেন আদালত।

১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় সিআইডি। প্রতিবেদনে সালমান শাহ’র মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হয়। ওই বছরের ২৫ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন গৃহীত হয়। সে সময় সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী রিভিশন মামলা দায়ের করেন। সবশেষ গত ২০ অক্টোবর বাদীপক্ষের করা রিভিশন মঞ্জুর করে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করেন সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর। মামলায় সালমান শাহর স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।

সামীরা ছাড়া মামলার অপর আসামিরা হলেন— শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুছি, খলনায়ক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ফরহাদ। এছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরো অনেককে আসামি করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগে মোহাম্মদ আলমগীর উল্লেখ করেন, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তার বোন নিলুফার জামান চৌধুরী (নীলা চৌধুরী), বোনের স্বামী কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী এবং তাদের ছোট ছেলে শাহরান শাহ নিউ ইস্কাটনের বাসায় সালমান শাহের সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখানে গিয়ে তারা জানতে পারেন, সালমান ঘুমাচ্ছেন।

কিছুক্ষণ পর প্রডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে জানান, সালমানের কিছু হয়েছে। দ্রুত তারা বাসায় ফিরে দেখেন, সালমান শয়নকক্ষে নিথর হয়ে পড়ে আছেন এবং কয়েকজন বহিরাগত নারী তার হাত-পায়ে তেল মালিশ করছেন। পাশের কক্ষে সামীরার আত্মীয় রুবি বসেছিলেন।

সালমানের মা চিৎকার করে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার অনুরোধ করেন। পথে তারা সালমানের গলায় দড়ির দাগ এবং মুখমণ্ডল ও পায়ে নীলচে দাগ দেখতে পান। পরে তাকে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, সালমান শাহ অনেক আগেই মারা গেছেন।

সালমানের বাবা কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী ছেলের মৃত্যুকে হত্যা বলে সন্দেহ করে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি দরখাস্ত দাখিল করেন। এতে তিনি রমনা থানার অপমৃত্যু মামলাটি দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ এবং সিআইডির মাধ্যমে তদন্তের আবেদন জানান।

এর আগে, ২০ মে হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে প্রখ্যাত এই চিত্রনায়কের মৃতদেহ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। পরে ২৪ মে সালমান শাহের লাশ উত্তোলনপূর্বক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার অনুমতি দেওয়া হয়। এদিকে বাদীপক্ষ লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল চেয়ে আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত আবেদনটি নথিভুক্ত করেন। পরে গত ২২ জুন দেহাবশেষ উত্তোলনের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহাকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ-সংক্রান্ত আদেশের অনুলিপি আদালতে দাখিল করা হলে তা নথিভুক্ত করা হয়। এদিকে মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৩০ আগস্ট ধার্য রয়েছে।




পুনর্নির্মিত হচ্ছে মুম্বাইয়ে কেনা শাহরুখ-গৌরীর প্রথম ফ্ল্যাট ‘মান্নাত’

বিনোদন ডেস্ক : বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খানের সমুদ্রমুখী বিলাসবহুল বাড়ি ‘মান্নাত’-এ সংস্কারকাজ চলছে বেশ কয়েক মাস ধরেই। সে কারণে পরিবার নিয়ে অন্যত্র থাকছেন শাহরুখ খান। তবে ঠিক কেমন বদল করা হবে শাহরুখের বাড়িটি? নতুন তলা যোগ করা হবে কি? বদলে যাবে পুরো রূপ?— সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জানালেন রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী ও বলিউডের অন্যতম  প্রযোজক আনন্দ পণ্ডিত।

এর আগে ২০০০ সালের শুরুর দিকে আনন্দ পণ্ডিত তার বিলাসবহুল রিয়েল এস্টেট সংস্থা ‘শ্রী লোটাস ডেভেলপার্স অ্যান্ড রিয়েলটি’ প্রতিষ্ঠা করেন। সংস্থার প্রথম প্রকল্প থেকেই তিনি বলিউডের তারকাদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন। আনন্দ বলেন, দারুণ ক্রেতা পেয়েছিলাম ওই প্রজেক্টে। অভিনেতা হৃতিক রোশন দুটি তলা কিনেছিলেন। পরিচালক রাকেশ রোশন কেনেন তিনটি। অভিনেতা অজয় দেবগন কেনেন একটি তলা। ওই সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় প্রজেক্ট হয়ে ওঠে।

এরপর থেকে তার ব্যবসা ক্রমশই বড় হয়েছে এবং বলিউডের অন্দরমহলে তার আনাগোনাও বেড়ে যায়। তিনি বলেন, প্রায় প্রত্যেক তারকার কাজ আমরা করি। বলিউডের ৮০-৯০ শতাংশ আমার সংস্থার সঙ্গে জড়িত। বর্তমানে তার সংস্থা শাহরুখের দুটি বিলাসবহুল সম্পত্তির কাজও করছে। এর মধ্যে প্রথমটি হলো—বান্দ্রা ব্যান্ডস্ট্যান্ডের প্রাসাদোপম বাংলো ‘মান্নাত’। বর্তমানে সেখানে সংস্কারকাজ চলছে। আনন্দ বলেন, ‘মান্নাতের পেছনের দিকে বেশ কয়েকটি তলা তৈরি করছি।’

‘মান্নাত’-এর সংস্কারকাজ চলাকালীন শাহরুখ ও তার পরিবার— স্ত্রী, প্রযোজক ও অন্দরসজ্জাশিল্পী গৌরী খান, বড় ছেলে ও পরিচালক আরিয়ান খান, মেয়ে ও অভিনেত্রী সুহানা খান এবং ছোট ছেলে আব্রাম খান— বান্দ্রার পালি হিল এলাকায় ‘পূজা কাসা’য় বিলাসবহুল ডুপ্লেক্স অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া নিয়েছেন। পূজা কাসার মালিক বর্ষীয়ান প্রযোজক বাসু ভগনানি।

শাহরুখের আরও একটি সম্পত্তি পুনর্নির্মাণের কাজ করছেন আনন্দ। সেই কাজের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আগে সেই বাড়িটির সঙ্গে অভিনেতার আবেগের সম্পর্কের কথা জানতেন না তিনি। আনন্দ বলেন, ‘যখন আমরা কাজ শুরু করি, আমার কোনো ধারণা ছিল না। যদিও এ ঘটনার কথা শাহরুখ স্যার আগে একবার বলেছিলেন। কিন্তু বহুতলের নাম উল্লেখ করেননি।’

এই বহুতলের সঙ্গে কীভাবে অভিনেতার আবেগ জড়িয়ে? বান্দ্রার কার্টার রোডে বেশ কিছু বহুতল পুনর্নির্মাণের কথা শাহরুখকে বলছিলেন আনন্দ। সেই সময় তিনি ‘শ্রী অমৃত সোসাইটি’র নাম উল্লেখ করেন। নামটি শুনেই উচ্ছ্বসিত হয়ে শাহরুখ তাকে বলেন, দিল্লি থেকে মুম্বাইয়ে চলে এসে ১৯৯১ সালে গৌরীকে বিয়ে করার পর এটাই ছিল তার মুম্বাইয়ে কেনা প্রথম ফ্ল্যাট।

২০০১ সালে ‘মান্নাত’-এ চলে যাওয়ার পরও ওই ফ্ল্যাটটি নিজের কাছে রেখেছেন শাহরুখ খান। বর্তমানে সেটি ভাড়া দেওয়া রয়েছে। এ বাড়িটিও সমুদ্রমুখী। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৮০০ বর্গফুট জায়গাজুড়ে অতিরিক্ত ১৫৫ শতাংশ জায়গা তৈরি করে ২০২৭ সালের মধ্যে প্রকল্পটি সম্পূর্ণ হওয়ার কথা।

‘মান্নাত’ ঐতিহ্যবাহী সম্পত্তি ও সমুদ্রের খুব কাছাকাছি হওয়ায় বিশাল আকারের বাড়িটির উল্লম্ব বৃদ্ধির জন্য ‘মহারাষ্ট্র কোস্টাল জোন ম্যানেজমেন্ট অথরিটি’র কাছে অনুমতি চেয়েছেন শাহরুখ। দুটি তলা যোগ করার জন্য আবেদন করেছেন শাহরুখ খান। এর ফলে বাড়িটির মোট ‘বিল্টআপ এরিয়া ৬১৬.০২ বর্গমিটার’ বাড়বে। এ কাজের আনুমানিক খরচ ২৫ কোটি টাকা।