‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের অনুষ্ঠান নিয়ে বিরোধী দল ধোঁকাবাজি করেছে’

জুলাই-আগস্টের শহীদদের স্মরণে নির্মিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিরোধী দলের নেতাদের উপস্থিত না হওয়া প্রসঙ্গে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, যারা জুলাই-আগস্ট নিয়ে সারাদিন রাজনীতি করেন ও চিৎকার করেন, তারা দাওয়াত পাওয়া সত্ত্বেও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত না হয়ে ধোঁকাবাজির পরিচয় দিয়েছেন।

তিনি বলেন, স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিরোধী দলের নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হলেও তারা উপস্থিত না হয়ে খোড়া যুক্তি দাঁড় করিয়েছেন।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ১০টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, গত ১৯ অক্টোবর ওসমানী উদ্যানে সরকারের পক্ষ থেকে নির্মিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে ওই অনুষ্ঠানে সকল সমমনা, সহযোগী ও জোটের রাজনৈতিক দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে দাওয়াত দেওয়া হয়েছিল। শুধু দাওয়াত কার্ড পাঠানোই নয়, দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম টেলিফোনেও সবাইকে আমন্ত্রণ নিশ্চিত করেছিলেন।

তিনি আরো বলেন, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শহীদ মীর মুগ্ধ, শহীদ আবু সাঈদ ও শহীদ আনাসের বাবা এবং এক শহীদের মাকে সঙ্গে নিয়ে চার শহীদ পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে স্মৃতিস্তম্ভ ও দীর্ঘ ১০ বছর পর ওসমানী উদ্যানটি উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। অথচ জুলাই নিয়ে যারা সারাদিন কথা বলেন, সেই সমস্ত রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্তরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত হননি। বাংলাদেশের এই একমাত্র শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে গ্যাজেটভুক্ত ৮৩৪ জন শহীদের নাম লেখা রয়েছে।

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেলের বক্তব্যের জবাবে মীর শাহে আলম বলেন, দাওয়াত কার্ডে বিরোধী দলীয় নেতার নাম না থাকায় তারা যাননি বলে যে যুক্তি দেওয়া হয়েছে, তা সঠিক নয়। অনুষ্ঠানে প্রবীণ রাজনীতিবিদ মাহমুদুর রহমান মান্না, জাতীয় নেতা সাইফুল হক এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন সাহেবের নাম দাওয়াত কার্ডে না থাকলেও প্রধানমন্ত্রী তাদের মঞ্চে ডেকে নেন। আমাদের দাওয়াত গ্রহণ করে বিরোধী দল উপস্থিত হলে মানবিক প্রধানমন্ত্রী তাদের প্রতিনিধিকেও মঞ্চে ডেকে নিতেন।

জামায়াতে সেক্রেটারী জেনারেলের অন্য একটি বক্তব্যের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের ইতিহাসে এই প্রথম বিরোধী দল ‘চকলেট’ পাচ্ছে; আমরা অতীতে বসার জায়গাও পাইনি, অথচ আপনারা সব সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন। নির্বাচনের সময় বেহেশতের কথা বলে ভোট নিয়ে এখন সস্তা রাজনীতি বন্ধ করুন। তারা ভোটের আগে মানুষকে বেহেশতের লোভ দেখায়, আবার পূজায় ঢাকের তালে নাচে; অথচ ভোটের পর এবার কোনো পূজায় তাদের পাওয়া যায়নি। তারা এখন এক দফার নামে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। বিশেষ কোনো ধর্ম বা গোষ্ঠীকে পুঁজি করে যারা রাজনীতি করছে, তাদের ফলাফল দেশের মানুষ ইতিপূর্বে দেখেছে। বিএনপি কোনো বিশেষ গোষ্ঠীকে পুঁজি করে রাজনীতি করে না; এখানে সবাই বাংলাদেশি এবং সবার হৃদয় জয় করেই বিএনপি আবারও জনগণের দ্বারে যাবে।

প্রতিমন্ত্রী বাকস্বাধীনতার নামে অশালীন ভাষা প্রয়োগ না করার অনুরোধ জানিয়ে সতর্ক করে বলেন, এরপরেও যদি অশালীন ভাষা ব্যবহার করা হয়, তবে জাতীয়তাবাদী শক্তি তা মেনে নেবে না।

একই সঙ্গে দলের ভেতরের শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, বিএনপির মধ্যেও বট রয়েছে। আমাদের দলে কারা এসব করছে, তাদের চিহ্নিত করতে কাজ করা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিরোধী দলকে একতরফা আন্দোলন বা লং মার্চ বাদ দিয়ে সংসদে আসার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী ৯ নভেম্বর থেকে সংসদ অধিবেশন শুরু হচ্ছে। সংসদে অবাধে কথা বলার সুযোগ রয়েছে এবং স্পিকার বিরোধী দলকে যথেষ্ট সুযোগ দেন। সরকারের ভুল ধরিয়ে দেওয়া বা বারবার ওয়াকআউট করাও গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। বিরোধী দলের সে অধিকার রয়েছে এবং ওয়াকআউট শেষে তারা আবার ফিরে আসে। সংবিধানে বিরোধী দলের ভূমিকা কী হবে তা সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে।

তিনি আরো উল্লেখ করেন, জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের জন্য সংবিধান সংশোধন কমিটিতে বিরোধী দলের জন্য পাঁচটি সদস্য পদ শূন্য রাখা হয়েছে। তবে তারা সেখানে সহযোগিতা করছেন না। তাদের প্রতি আহ্বান থাকবে, সংঘাতের পথ ছেড়ে কমিটিতে সম্পৃক্ত হয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে অংশ নিন এবং যেকোনো মুহূর্তে পাঁচজন প্রতিনিধির নাম দিয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করুন।

প্রেস ব্রিফিং শেষে প্রতিমন্ত্রী শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে প্রতিভাবান শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন।




সৌদিতে ২ বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: বিচারিক রায়ের কপি চাইল বাংলাদেশ

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, সৌ‌দি আর‌বে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিচারিক রায়ের কপি চেয়েছে বাংলাদেশ। কপি হাতে আসার পর এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা করে মরদেহ ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হবে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

শামা ওবায়েদ বলেন, ২০২৩ সালে অভিযুক্তদের আটক করে সৌদি আরবের পুলিশ। এ সময়ের মধ্যে তাদের পরিবারের কোনো সদস্য সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। রায়ের কপি হাতে এলে তাদের পরিচয় ও দুজনের মধ্যে কী সম্পর্ক ছিল, তা জানা যাবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সৌদির বিভিন্ন এলাকায় অনেক বাংলাদেশি কারাভোগ করছেন। নিয়মিতভাবে তারা বাংলাদেশের কাছে এ তালিকা পাঠায়, সেখানেও খতিয়ে দেখছে মন্ত্রণালয়। আমরা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছি। ধৈর্য ধরুন, রায়ের কপি হাতে পেলে বিস্তারিত জানানো যাবে।

আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আধা বেলার মধ্যে দেশের প্রধানমন্ত্রী, পুরো মন্ত্রিসভা, এমনকি বায়তুল মোকাররম মসজিদের খতিবও দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। এটাকে কোনো কিছুর সঙ্গে তুলনা করা যাবে না। শেখ হাসিনাকে নিয়ে কথা বলা সময়ক্ষেপণ ছাড়া আর কিছু নয়।




মহানবী মুহাম্মদ (সা.) : সব সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ যিনি

ইসলামিক ডেস্কঃ মহানবী মুহাম্মদ (সা.) শুধু সব নবী ও রাসুলের মধ্যে শ্রেষ্ঠ নন; বরং গোটা সৃষ্টির মধ্যেও তিনি সর্বাধিক মর্যাদাশীল এবং আল্লাহর কাছে সম্মানিত। এখানে তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের কিছু প্রমাণ সংক্ষেপে উল্লেখ করা হলো—

১. সৃষ্টিজগতের জন্য রহমতস্বরূপ : আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমি আপনাকে সমগ্র জগতের জন্য রহমতস্বরূপই প্রেরণ করেছি।’
(সুরা : আল-আম্বিয়া, আয়াত : ১০৭)। মহানবী (সা.) সমগ্র জগতের জন্য রহমত হিসেবে প্রেরিত হয়েছেন, এতে তাঁর মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ পায়।

২. নাম, সম্মান ও স্মরণে অমর : আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমি আপনার মর্যাদা ও স্মরণকে সমুন্নত করেছি।’ (সুরা : আশ-শরহ/আলাম নাশরাহ লাকা, আয়াত : ৪)। এর একটি প্রকাশ হলো আল্লাহ তাঁর নামকে নিজের নামের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। শাহাদাত, আজান, ইকামত ও তাশাহহুদের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতে আল্লাহর নামের সঙ্গে মহানবী (সা.)-এর নাম উচ্চারিত হয়।

৩. আল্লাহ তাআলা নবীজির আনুগত্যকে নিজের আনুগত্যের সঙ্গে যুক্ত করেছেন : আল্লাহ বলেন, ‘যে ব্যক্তি রাসুলের আনুগত্য করল, সে প্রকৃত পক্ষে আল্লাহরই আনুগত্য করল।’ (সুরা : আন-নিসা, আয়াত : ৮০)। এবং তাঁর হাতে বায়াতকে আল্লাহ নিজের হাতে বায়াতের সঙ্গে যুক্ত করে বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই যারা আপনার কাছে বায়াত গ্রহণ করে, তারা তো আল্লাহর কাছেই বায়াত গ্রহণ করে।’ (সুরা : আল-ফাতহ, আয়াত : ১০)

৪. স্থায়ী মুজিজা লাভ : পূর্ববর্তী অনেক নবীর মুজিজা ছিল নির্দিষ্ট সময়ে সংঘটিত দৃশ্যমান ঘটনা, যা পরবর্তী সময়ে প্রত্যক্ষভাবে বিদ্যমান থাকেনি। পক্ষান্তরে মহানবী (সা.)-এর সর্বশ্রেষ্ঠ মুজিজা কোরআন আজও বিদ্যমান এবং কিয়ামত পর্যন্ত থাকবে। অতএব, তাঁর মুজিজা এমন একটি স্থায়ী নিদর্শন, যা প্রত্যেক যুগের মানুষ প্রত্যক্ষ করতে পারে এবং যার চ্যালেঞ্জ আজও বহাল রয়েছে।

৫. জিন ও ইনসানের নবী : তিনি সমগ্র মানব ও জিন জাতির প্রতি প্রেরিত হয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমি আপনাকে সমগ্র মানুষের জন্য সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে প্রেরণ করেছি।’ (সুরা : সাবা, আয়াত : ২৮)। পূর্ববর্তী অনেক নবী নির্দিষ্ট জাতি বা সম্প্রদায়ের কাছে প্রেরিত হয়েছিলেন। পক্ষান্তরে মুহাম্মদ (সা.) সমগ্র মানবজাতির জন্য প্রেরিত হয়েছেন। তাঁর দাওয়াতের ব্যাপ্তি তাই সর্বজনীন।

৬. তাঁর নিয়ে আসা ধর্ম সর্বশ্রেষ্ঠ দ্বীন : ইসলাম পূর্ববর্তী শরিয়তগুলোর বিধানকে পরবর্তী সময়ে রহিত করেছে এবং সর্বশেষ পূর্ণাঙ্গ শরিয়ত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে দ্বীন হলো ইসলাম।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১৯)।  অতএব, যে নবীর মাধ্যমে সর্বশেষ ও পূর্ণাঙ্গ শরিয়ত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তাঁর বিশেষ মর্যাদা থাকা স্বাভাবিক।

৭. মুহাম্মদ (সা.)-এর উম্মত সর্বোত্তম উম্মত : আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরাই সর্বোত্তম উম্মত, মানবজাতির কল্যাণের জন্য তোমাদের আবির্ভাব ঘটানো হয়েছে। তোমরা সৎ কাজের নির্দেশ দাও, অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করো এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখ।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১১০)

এই উম্মত ঈমান, সৎ কাজের আদেশ, অসৎ কাজ থেকে নিষেধ এবং আল্লাহর পথে মানুষকে আহ্বানের মাধ্যমে এই মর্যাদা লাভ করেছে। আর এই উম্মতের শ্রেষ্ঠত্ব মূলত নবীজির অনুসরণের ফল।

৮. তিনি কিয়ামতের দিন আদম সন্তানের নেতা হবেন : মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘কিয়ামতের দিন আদম এবং তাঁর পরবর্তী সবাকেই আমার পতাকার অধীনে থাকবে।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৩৬১৫)

৯. তাঁকে বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্য প্রদান করা হয়েছে, যা অন্য কাউকে দেওয়া হয়নি : মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘আমাকে পাঁচটি বৈশিষ্ট্য দেওয়া হয়েছে, যা আমার আগে কাউকে দেওয়া হয়নি।’ (মুসনাদ আহমাদ, হাদিস : ২১৪৭২)

এর মধ্যে তিনি উল্লেখ করেন—তাঁকে সমগ্র মানবজাতির কাছে প্রেরণ করা হয়েছে, সমগ্র পৃথিবীকে তাঁর জন্য মসজিদ ও পবিত্রতার উপায় করা হয়েছে, এক মাসের দূরত্ব থেকেও শত্রুর অন্তরে ভয় সঞ্চার করে তাঁকে সাহায্য করা হয়েছে, তাঁর জন্য গনিমতের সম্পদ হালাল করা হয়েছে, তাঁকে শাফাআত প্রদান করা হয়েছে, যা তিনি তাঁর উম্মতের জন্য সংরক্ষণ করেছেন। এগুলো তাঁর বিশেষ মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্যের সুস্পষ্ট নিদর্শন।

১০. তিনি সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী : আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রের অধিকারী।’ (সুরা : আল-কলম, আয়াত : ৪)

১১. তিনি নবুয়ত ভবনের শেষ ও পূর্ণ ইট : সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমে মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘আমার এবং আমার পূর্ববর্তী নবীদের দৃষ্টান্ত এমন এক ব্যক্তির মতো, যে একটি সুন্দর ও পূর্ণাঙ্গ ভবন নির্মাণ করেছে; কিন্তু তার এক কোণে একটি ইটের স্থান খালি রয়েছে। মানুষ ভবনটি দেখে বিস্মিত হয় এবং বলে—এই একটি ইট এখানে বসানো হলো না কেন? আমি সেই ইট।’ (বুখারি, হাদিস : ৩৫৩৫)

১২. মেরাজের রাতে তিনি সব নবীর ইমামতি করেন : মেরাজের রাতে মহানবী (সা.) বাইতুল মুকাদ্দাসে সমবেত নবীদের ইমামতি করেন। সহিহ মুসলিমে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি সেখানে মুসা (আ.), ঈসা (আ.) ও ইবরাহিম (আ.)-সহ অন্যান্য নবীকে দেখতে পান এবং নামাজের সময় তাঁদের ইমামতি করেন। এ ঘটনা তাঁর বিশেষ মর্যাদা ও নেতৃত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন।

১৩. কিয়ামতের দিন তিনি সর্বপ্রথম শাফাআতকারী ও সর্বপ্রথম সুপারিশকৃত : আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘কিয়ামতের দিন আমি আদম সন্তানের নেতা। আমিই সর্বপ্রথম ব্যক্তি, যার জন্য কবর বিদীর্ণ হবে; আমিই সর্বপ্রথম সুপারিশকারী এবং সর্বপ্রথম যার সুপারিশ গ্রহণ করা হবে।’

(তিরমিজি, হাদিস : ৩১৪৮)। এটি তাঁর কিয়ামতের দিনের সর্বোচ্চ মর্যাদা ও নেতৃত্বের অত্যন্ত স্পষ্ট প্রমাণ।

১৪. ইসরা ও মেরাজের মুজিজা : মহানবী (সা.)-এর ইসরা ও মেরাজ তাঁর বিশেষ মর্যাদার অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন। এই ঘটনায় আল্লাহ তাআলা তাঁকে এমন বহু বিশেষ সম্মান ও নিদর্শন দান করেছেন, যা অন্য কোনো নবীর ক্ষেত্রে এভাবে একত্রিত হয়নি। ইসরা ও মেরাজের ঘটনায় তাঁকে মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসায় নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি আসমানসমূহ অতিক্রম করেন, বহু নবীর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়, তিনি বায়তুল মুকাদ্দাসে নবীদের ইমামতি করেন এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে উম্মতের জন্য সালাতের বিধান লাভ করেন। এ ঘটনা তাঁর বিশেষ মর্যাদা ও আল্লাহর নৈকট্যের একটি অনন্য নিদর্শন।

১৫. তাঁর ওপর দরুদ পাঠ করাকে ইবাদত ও নৈকট্যের মাধ্যম করা হয়েছে : এটি তাঁর বিশেষ মর্যাদার এক অসাধারণ নিদর্শন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতারা নবীর ওপর দরুদ পাঠ করেন। হে মুমিনগণ! তোমরাও তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম পাঠ করো।’ (সুরা : আল-আহজাব, আয়াত : ৫৬)। অর্থাৎ আল্লাহ নিজে তাঁর ওপর রহমত ও সম্মান বর্ষণ করেন, ফেরেশতারাও তাঁর জন্য দোয়া করেন এবং মুমিনদেরও তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম পাঠের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

১৬. সব নবী-রাসুলের কাছ থেকে তাঁর প্রতি ঈমান ও সাহায্যের অঙ্গীকার গ্রহণ : আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর স্মরণ করুন, যখন আল্লাহ নবীদের কাছ থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলেন—আমি তোমাদের কিতাব ও হিকমত যা কিছু দিয়েছি, অতঃপর তোমাদের কাছে এমন একজন রাসুল আসেন, যিনি তোমাদের কাছে যা আছে তার সত্যায়ন করেন, তখন অবশ্যই তোমরা তাঁর প্রতি ঈমান আনবে এবং তাঁকে সাহায্য করবে।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ৮১)

এই আয়াত মহানবী (সা.)-এর বিশেষ মর্যাদার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দলিল। কারণ পূর্ববর্তী নবীদের কাছ থেকে তাঁর আগমন সত্য বলে স্বীকার করা এবং তাঁকে সাহায্য করার অঙ্গীকার নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মহানবী (সা.)-এর শ্রেষ্ঠত্বের আরো বহু প্রমাণ আছে।




দুপুর দুইটায় পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেবেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

জাতীয় প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আজ দুপুর ২টায় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেয়ার কথা জানিয়েছেন ইশরাক হোসেন।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেয়া এক স্ট্যাটাসে এই বার্তা দেন মুক্তিযুদ্ধ প্রতিমন্ত্রী।

স্ট্যাটাসে ইশরাক লেখেন, ‘আজ দুপুর ২টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেব এবং সাংবাদিকদের মুখোমুখি হব, ইনশাআল্লাহ।’

আক্ষেপ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ প্রতিমন্ত্রী লেখেন, ‘ফেসবুকে কিছু সুশীল মানুষকে উল্লাসসূচক লেখালেখি করতে দেখলাম। আশা করি, ভবিষ্যতে কখনো আন্দোলন-সংগ্রামের প্রয়োজন হলে তারা জাতীয়তাবাদী আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বিদেশ থেকে দেশে এসে সেই আন্দোলনে যোগ দেবেন।’

পদত্যাগ করলেও মাদকের বিরুদ্ধে থাকার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি, ‘এবার সংসদ সদস্য বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নয়, একজন বিএনপি কর্মী হিসেবে মাদকের বিরুদ্ধে শতগুণ বেশি উদ্দীপনা নিয়ে কাজ করব, ইনশাআল্লাহ। পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি আরও জোরদার হবে। দেশব্যাপী প্রজন্ম দলের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন জেলা সফর করতে পারব। মন্ত্রী নয়, মাদক নির্মূল! মাদক নির্মূল, মাদক নির্মূল!’




দোয়ার মরতবা অপরিসীম

ইসলামিক ডেস্কঃ আল্লাহ চান বান্দা তাঁর কাছে করুণা প্রার্থনা করুক। রসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘দোয়াই হলো ইবাদত।’ (তিরমিজি, আবু দাউদ, ইবনে মাজা)। আমলের দিক থেকেও দোয়া শ্রেষ্ঠতর। তিরমিজিতে আরও ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহর কাছে দোয়ার চেয়ে উত্তম কোনো আমল নেই।’ দয়ালু আল্লাহ চান বান্দা তাঁর কাছে আবেদন-নিবেদন করুক।

তবে দোয়া করার সময় দোয়ার আদবগুলো যাতে পালিত হয় সেদিকে নজর রাখতে হবে। দয়ালু আল্লাহর কাছে দোয়া করতে হলে খাস মনে করতে হবে। আল্লাহ রব্বুল আলামিন বান্দার প্রার্থনা বা মোনাজাত শোনা এবং কবুল করা পছন্দ করেন। সুরা আল আনয়ামের ৬৩-৬৪ আয়াতে বলা হয়েছে, ‘বলুন, কে তোমাদের ত্রাণ করেন যখন তোমরা স্থলভাগের ও সমুদ্রের বিপদে কাতরভাবে এবং গোপনে তাঁর কাছে অনুনয় করো এভাবে-আমাদের এ বিপদ থেকে উদ্ধার করলে আমরা অবশ্যই কৃতজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত হব। বলুন, আল্লাহই তোমাদের বিপদ ও সমস্ত দুঃখকষ্ট থেকে পরিত্রাণ করেন। এ সত্ত্বেও তোমরা তাঁর শরিক করো!’

মহান আল্লাহর করুণা পেতে তাগিদ-‘তোমরা বিনীতভাবে এবং গোপনে তোমাদের প্রতিপালককে ডাকো… তাঁকে ভয় ও আশার সঙ্গে ডাকবে।’ (সুরা আরাফ, আয়াত ৫৫-৫৬) ‘তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়া না থাকলে তোমাদের কেউ অব্যাহতি পেতে না এবং আল্লাহ তওবা গ্রহণকারী ও প্রজ্ঞাময়।’ (সুরা নুর, আয়াত ১০)। ‘বল, হে আমার বান্দাগণ! তোমরা যারা নিজেদের প্রতি অবিচার করেছো, আল্লাহর অনুগ্রহ থেকে নিরাশ হইও না, আল্লাহ সমুদয় পাপ ক্ষমা করে দেবেন। তিনি তো ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সুরা জুমার, আয়াত ৫৩)

যাবতীয় অনুকম্পা ও নিয়ামত দানকারী আল্লাহ রব্বুল আলামিনের কাছেই বিপদে-আপদে অভাব-অনটনে সাহায্য প্রার্থনা করার গুরুত্ব অপরিসীম। আল কোরআনে যেসব মোনাজাত বিভিন্ন ক্ষেত্র বা উপলক্ষে বিবৃত হয়েছে তার মধ্যে প্রার্থনার বিভিন্ন আঙ্গিক, ভাব-ভাষা প্রকাশ পেয়েছে। আল কোরআনের প্রাণস্বরূপ সুরা আল ফাতিহা সেরা মোনাজাতের প্রতিকৃতি। এ কারণে মিরাজুল মুমিনিন হিসেবে বিবেচিত নামাজের প্রতি রাকাতে এ সুরা পাঠ করতে হয়। আল কোরআনে সওগাত হিসেবে উল্লিখিত মোনাজাতগুলোর কয়েকটি-‘হে আমাদের প্রতিপালক! যদি আমরা বিস্মৃত হই অথবা ভুল করি তবে তুমি আমাদের অপরাধী করো না। হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের পূর্ববর্তীগণের ওপর যেমন গুরুদায়িত্ব অর্পণ করেছিলে আমাদের ওপর তেমন দায়িত্ব অর্পণ করো না। হে আমাদের প্রতিপালক! এমন ভার আমাদের ওপর অর্পণ করো না, যা বহন করার শক্তি আমাদের নেই। আমাদের পাপ মোচন করো, আমাদের ক্ষমা করো, আমাদের প্রতি দয়া করো, তুমিই আমাদের অভিভাবক। সুতরাং কাফির সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদের জয়যুক্ত করো।’ (সুরা বাকারা, আয়াত ২৮৬) ‘হে সার্বভৌম শক্তির মালিক আল্লাহ! তুমি যাকে ইচ্ছা ক্ষমতা দান করো এবং যার থেকে ইচ্ছা ক্ষমতা কেড়ে নাও; যাকে ইচ্ছা তুমি পরাক্রমশালী করো, আর যাকে ইচ্ছা তুমি হীন করো। কল্যাণ তোমার হাতেই। তুমি সব বিষয়ে সর্বশক্তিমান। তুমিই রাতকে দিনে এবং দিনকে রাতে পরিণত করো; তুমিই মৃত থেকে জীবন্তের আবির্ভাব ঘটাও, আবার জীবন্ত থেকে মৃতের আবির্ভাব ঘটাও। তুমি যাকে ইচ্ছা অপরিমিত জীবনোপকরণ দান করো।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত ২৬-২৭) ‘হে আমাদের প্রতিপালক! তাদের (পিতা-মাতার) প্রতি দয়া করো যেভাবে শৈশবে তারা আমাকে প্রতিপালন করেছিলেন।’ (সুরা বনি ইসরাইল, আয়াত ২৪) ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের জ্ঞানের বৃদ্ধি সাধন করো।’ (সুরা তা-হা, আয়াত ১১৪)। ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের জন্য এমন স্ত্রী ও সন্তানসন্ততি দান করো, যারা আমাদের জন্য নয়নপ্রীতিকর এবং আমাদের মুত্তাকিদের জন্য আদর্শস্বরূপ করো।’ (সুরা ফুরকান, আয়াত ৭৪) ‘হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি আমাকে সামর্থ্য দাও, যাতে আমি তোমার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারি, আমার প্রতি ও আমার পিতা-মাতার প্রতি তুমি যে অনুগ্রহ করেছো, তার জন্য এবং যাতে আমি সৎ কাজ করতে পারি যা তুমি পছন্দ করো, আমার জন্য আমার সন্তান-সন্ততিদের সৎকর্মপরায়ণ করো, আমি তোমারই অভিমুখী হলাম এবং আত্মসমর্পণ করলাম।’ (সুরা আহকাফ, আয়াত ৪৬)। সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ না করলে তার দোয়া আল্লাহর দরবারে কবুল হবে না। রসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমরা অবশ্যই সৎ কাজের আদেশ করবে এবং অন্যায় কাজে বাধা প্রদান করবে। অন্যথায় আল্লাহ তোমাদের প্রতি আজাব নাজিল করবেন।

এরপর তোমরা দোয়া করবে কিন্তু তোমাদের দোয়া কবুল করবেন না।’ দোয়ায় অমনোযোগী হলে অর্থাৎ দোয়াকারী দোয়া অবস্থায় উদাস বা অমনোযোগী থাকলে তার দোয়া কবুল হয় না। রসুলুল্লাহ (সা.) আরও ইরশাদ করেন, ‘দোয়া কবুল হবে এমন দৃঢ়বিশ্বাস রেখে তোমরা দোয়া করবে।




নবম শ্রেণির বাদ পড়া শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশনে নতুন নির্দেশনা

শিক্ষা ডেস্কঃ ২০২৮ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণে ইচ্ছুক নবম শ্রেণির বাদ পড়া শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশনের নতুন সময়সীমা নির্ধারণ করেছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড।

শনিবার জারি করা এক নির্দেশনায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে নবম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত ২০২৮ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বাদ পড়া রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম ১৫ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত সম্পন্ন করা যাবে।

ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন অনুমোদিত ও স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সব মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং স্কুল অ্যান্ড কলেজের জন্য এ সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

নির্ধারিত সময়ের পর কোনো অবস্থাতেই বাদ পড়া শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশনের সুযোগ দেওয়া হবে না বলে নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

সময়সীমার মধ্যে শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হলে এর দায়ভার সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানকে বহন করতে হবে।

এ ছাড়া অন্য শিক্ষা বোর্ড থেকে ছাড়পত্রের (টিসি) মাধ্যমে এসে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশনও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।




দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও ইসলামের অর্থনৈতিক দর্শন

ইসলামিক ডেস্কঃ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি আজ সাধারণ মানুষের জীবন-সংগ্রামের এক কঠিন বাস্তবতা। আয় সীমিত, অথচ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য ক্রমবর্ধমান। এই বৈপরীত্যে নিম্ন আয়ের মানুষ, শ্রমজীবী পরিবার ও নির্দিষ্ট আয়ের মধ্যবিত্ত শ্রেণি প্রতিনিয়ত হিমশিম খাচ্ছে। সংসারের ব্যয় মেটাতে অনেককে খাদ্য, চিকিৎসা ও শিক্ষার মতো মৌলিক প্রয়োজনেও কাটছাঁট করতে হচ্ছে। অথচ বাজারের এই সংকট কেবল অর্থনীতির পরিসংখ্যান নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে মানুষের জীবনমান, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং রাষ্ট্র ও সমাজের নৈতিক দায়বদ্ধতা। এ পরিস্থিতিতে ইসলামের অর্থনৈতিক দর্শন, ব্যক্তি, ব্যবসায়ী ও রাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিতে পারে।

ইসলামি অর্থনীতিতে সংযম ও ন্যায়বিচার : ইসলাম মানুষের বৈধ ভোগ ও উপার্জনকে স্বীকৃতি দিয়েছে; কিন্তু অপচয়, সীমা লঙ্ঘন ও অন্যায় সম্পদ আহরণকে নিরুৎসাহিত করেছে। আল্লাহতায়ালা বলেন-‘তোমরা খাও ও পান করো, কিন্তু অপচয় করো না। নিশ্চয়ই তিনি অপচয়কারীদের ভালোবাসেন না’ (সুরা আল আরাফ : ৩১)।

দ্রব্যমূল্যের চাপে সাধারণ মানুষের প্রথম করণীয় হলো আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য রক্ষা, অপ্রয়োজনীয় ভোগ পরিহার, খাদ্যের অপচয় রোধ এবং সামর্থ্য অনুযায়ী জীবন পরিচালনা। তবে ব্যক্তিগত সংযমের উপদেশ দিয়ে বাজারব্যবস্থার ত্রুটি কিংবা নীতিগত দুর্বলতার দায় সাধারণ মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যায় না। সংকট মোকাবিলায় ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারও অপরিহার্য।

মজুতদারি ও মুনাফালোভের বিরুদ্ধে ইসলাম : ব্যবসা ইসলামে সম্মানজনক পেশা; ন্যায্য মুনাফা অর্জনও বৈধ। কিন্তু মানুষের প্রয়োজনকে জিম্মি করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি কিংবা বাজারে ক্ষতিকর মজুতদারি নৈতিক ও ধর্মীয় দৃষ্টিতে নিন্দনীয়। রসুল (সা.) বলেছেন-‘পাপী ব্যক্তি ছাড়া কেউ মজুতদারি করে না’ (সহিহ মুসলিম)। এ নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্য মানুষের ক্ষতি সাধনকারী মজুতদারি বারণ করা। তাই ব্যবসায়ীদের উচিত স্বচ্ছতা, সততা ও ন্যায্যতার সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করা। ওজনে কারচুপি, মিথ্যা প্রচারণা, যোগসাজশের মাধ্যমে দাম বাড়ানো এবং দুর্দিনে অস্বাভাবিক মুনাফার লোভ পরিহার করা ইমানি দায়িত্ব। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা মানুষকে তাদের প্রাপ্য বস্তু কম দিও না’ (সুরা আল আরাফ : ৮৫)।

জনদুর্ভোগ লাঘবে সম্মিলিত করণীয় : সাধারণ ভোক্তাদের উচিত যাচাই ছাড়া আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত পণ্য কেনা থেকে বিরত থাকা, বাজারদর তুলনা করা এবং প্রতারণা বা কারসাজির নির্ভরযোগ্য প্রমাণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো। সামর্থ্যবানদের উচিত অসচ্ছল আত্মীয়, প্রতিবেশী ও শ্রমজীবী মানুষের পাশে দাঁড়ানো। জাকাত যথাযথভাবে আদায়, সদকা বৃদ্ধি এবং দরিদ্র মানুষের খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করা সামাজিক সংহতি জোরদার করতে পারে। রসুল (সা.) বলেছেন-‘যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের প্রয়োজন পূরণে নিয়োজিত থাকে, আল্লাহ তার প্রয়োজন পূরণে পাশে থাকেন (সহিহ বুখারি)।

অন্যদিকে রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো বাজারে কার্যকর প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা, অসাধু সিন্ডিকেট ও কারসাজি প্রতিরোধ, উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থার উন্নয়ন, কৃষকের ন্যায্যমূল্য এবং ভোক্তার সুরক্ষা নিশ্চিত করা। দরিদ্র ও সীমিত আয়ের মানুষের জন্য কার্যকর সামাজিক নিরাপত্তাব্যবস্থা, ন্যায্য মজুরি এবং প্রয়োজনভিত্তিক সহায়তা সম্প্রসারণও জরুরি। কারণ মূল্যস্ফীতির হার কমে গেলেও পণ্যের দাম আগের অবস্থায় ফিরে আসে না; আয় সেই অনুপাতে না বাড়লে মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা সংকুচিত হয়।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি মোকাবিলা কেবল বাজারের হিসাব নয়; এটি ন্যায়বিচার, মানবিকতা ও সামাজিক দায়িত্বেরও পরীক্ষা। সাধারণ মানুষ সংযমী হবেন, ব্যবসায়ী সততার পরিচয় দেবেন, সামর্থ্যবানরা অভাবীদের পাশে দাঁড়াবেন এবং রাষ্ট্র ন্যায়সংগত বাজারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে-এ সম্মিলিত উদ্যোগেই জনদুর্ভোগ লাঘবের পথ প্রশস্ত হতে পারে। ইসলামের অর্থনৈতিক দর্শনের মর্মকথা হলো, সম্পদ অর্জন বৈধ, কিন্তু মানুষের অধিকার পদদলিত করে নয়। মুনাফা গ্রহণযোগ্য, কিন্তু জনদুর্ভোগকে পুঁজি করে নয়। যে অর্থনীতি মানুষের জীবনকে স্বস্তি দেয় না, যে বাজার দুর্বলের অধিকার রক্ষা করে না এবং যে সমৃদ্ধি মানুষের কষ্টের প্রতি নির্বিকার থাকে-ইসলামের ন্যায়বিচার-ভিত্তিক আদর্শ সেই বাস্তবতার সংশোধন দাবি করে।




আয়-রোজগার বাড়ার দোয়া ও আমল

ইসলামিক ডেস্কঃ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي ذَنْبِي وَوَسِّعْ لِي فِي رِزْقِي وَبَارِكْ لِي فِيمَا رَزَقْتَنِي

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মাগফির লি জাম্বি, ওয়া ওয়াসসি লি ফি রিজকি, ওয়া বারিক লি ফিমা রাজাকতানি। 

অর্থ: হে আল্লাহ, আমার গুনাহ ক্ষমা করে দিন, আমার রিজিক প্রশস্ত করে দিন এবং আপনি আমাকে যে জীবিকা দান করেছেন তাতে বরকত দান করুন।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি নবীজি (সা.)-কে রাতে উল্লিখিত দোয়া পাঠ করতে শোনেন। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ৩৫০০)

নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়-রোজগার বাড়ার জন্য এই দোয়া শিখিয়ে দিয়েছেন।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘তিনিই তোমাদের জন্য জমিনকে সুগম করে দিয়েছেন, কাজেই তোমরা এর পথে-প্রান্তরে বিচরণ করো এবং তার রিজিক থেকে আহার করো।’ (সুরা মুলক: ১৫)

আয়-রোজগার বাড়ার বেশ কিছু আমল রয়েছে। তবে এ কথা মনে রাখতে হবে অঢেল আয়-রোজগারেই সুখ ও মানসিক শান্তি নেই। এর জন্য বেশকিছু আমল রয়েছে যার মাধ্যমে জীবনে বরকত আসে, অল্পতেও অনেক তৃপ্তি ও মানসিক প্রশান্তি মেলে।

তাকওয়া অর্জন করা

তাকওয়া মানে হচ্ছে মহান আল্লাহর ভয়। এটি আয়-রোজগার লাভের অন্যতম একটি উপায়, এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য নিষ্কৃতির পথ বের করে দেবেন। এবং তাকে তার ধারণাতীত জায়গা থেকে রিজিক দেবেন।’ (সুরা তালাক, আয়াত : ২-৩)।

হাফেজ ইবনে কাসির (রহ.) উপরোক্ত আয়াত দুটির তাফসির প্রসঙ্গে বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর নির্দেশাবলি পালন করে এবং তার নিষিদ্ধ কার্যাবলি থেকে বিরত থেকে তাকওয়া অবলম্বন করে, আল্লাহ তায়ালা তার জন্য সব বিপদাপদ থেকে মুক্ত হওয়ার পথ করে দেবেন এবং যেখান থেকে সে রিজিক লাভ করার কথা স্বপ্নেও চিন্তা করে না; সেখান থেকে তাকে রিজিক দেবেন। (তাফসিরে ইবনে কাসির ৪/৪০০)

পাপাচার থেকে মুক্ত থাকা

সবসময় পাপাচার থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখা। কারণ নেক আমল ও ভালো কাজে যেমন মানুষের জীবন-জীবিকায় বরকত আসে, তেমনি পাপ কাজ জীবন-জীবিকার বরকত নষ্ট করে। নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘কেবল দোয়াই ভাগ্য প্রতিহত করে, নেক কাজে আয়ু বাড়ে আর বান্দা পাপের কারণে জীবিকা থেকে বঞ্চিত হয়।’ (মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ২২৪১৩)

হালাল পন্থায় আয়

রিজিকে বরকতের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, হালাল পন্থায় আয় করা। নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘হালাল জীবিকা সন্ধান করা নির্ধারিত ফরজসমূহের পরে বিশেষ একটি ফরজ।’ (শুআবুল ইমান, বায়হাকি; কানযুল উম্মাল: ৯২০৩)।

দান করা

দান-সদকা মানুষের জীবনে বরকত নিয়ে আসে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে আদম সন্তান! তুমি খরচ করো, তোমার জন্য খরচ করা হবে (অর্থাৎ প্রাচুর্য আসবে)।’ (বুখারি: ৫৩৫২)




সরকারি প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত জরুরি : পার্বত্যমন্ত্রী

সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পসমূহে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ‘ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট লাইভলিহুডস ইমপ্রুভমেন্ট অ্যান্ড ওয়াটারশেড ম্যানেজমেন্ট ইন দ্য চিটাগাং হিল ট্র্যাক্টস সেক্টর প্রজেক্ট’র ষষ্ঠ প্রকল্প স্টিয়ারিং কমিটির (পিএসসি) সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পসমূহে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

তিনি আরও বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের অন্যতম প্রধান সমস্যা সুপেয় পানির সংকট। পাহাড়ি এলাকার জনগণের জন্য সুপেয় পানি সরবরাহে কার্যকর প্রকল্প গ্রহণ ও তা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।

প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যমণ্ডিত পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়ন ও পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাওয়ার আহ্বান জানান পার্বত্যমন্ত্রী।




১৩ অক্টোবর: আজকের নামাজের সময়সূচি

ইসলামিক ডেস্কঃ মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর), ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বাংলা, ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি।

ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো-

ফজর- ০৪:৩৯ মিনিট

জোহর- ১১:৪৯ মিনিট

আসর- ০৩:৫৭ মিনিট

মাগরিব- ০৫:৩৯ মিনিট

এশা- ০৬:৫২ মিনিট

ফজর (আগামীকাল)- ০৪:৪১ মিনিট।

সূর্যোদয়: সকাল ৫:৫৪ মিনিটে

সূর্যাস্ত: বিকেল ৫:৩৪ মিনিটে