এইচএসসির ফল প্রকাশের সম্ভাব্য সময় ২৫-২৯ অক্টোবর

শিক্ষা ডেস্কঃ চলতি মাসের ২৫ থেকে ২৯ তারিখের মধ্যে যেকোনো দিন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হতে পারে।  বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান সোমবার এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানিয়েছেন, এই সময়ের মধ্যে যেকোনো দিন ফল প্রকাশের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ করা হবে মন্ত্রণালয়ের সম্মতি পাওয়ার পর।

এ বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয় ২ জুলাই, শেষ হয় ৮ আগস্ট। এরপর ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ করার পরিকল্পনা ছিল। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কয়েকটি লিখিত পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে নেওয়া যায়নি। পরে স্থগিত পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হওয়ায় এ বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ৯ সেপ্টেম্বর।

এবার দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নেয়। সারা দেশে তাদের জন্য ২ হাজার ৬৯৭টি পরীক্ষাকেন্দ্র ছিল।

সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর মধ্যে ঢাকা বোর্ডে সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী ছিল। এ বোর্ডের ৩ লাখ ৩৯৩ জন শিক্ষার্থী ৩১০টি কেন্দ্রে পরীক্ষা দেয়। রাজশাহী বোর্ডে ১ লাখ ৪০ হাজার ৮৩০ জন, যশোর বোর্ডে ১ লাখ ১৭ হাজার ২১০ জন, দিনাজপুর বোর্ডে ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৭৯ জন, চট্টগ্রাম বোর্ডে ৯৯ হাজার ৬৮৮ জন এবং কুমিল্লা বোর্ডে ৯৪ হাজার ৮০২ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়।

এছাড়া ময়মনসিংহ বোর্ডে ৭৩ হাজার ৩৭ জন, সিলেট বোর্ডে ৭১ হাজার ৭১১ জন এবং বরিশাল বোর্ডে ৫৮ হাজার ৬৬৪ জন পরীক্ষার্থী ছিল।

মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৪৬১টি কেন্দ্রে ৯২ হাজার ৯০৫ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৬১০টি কেন্দ্রে ১ লাখ ৭ হাজার ৯৬৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়।




একটি ঘটনা দিয়ে পুরো দেশের পরিচয় নির্ধারণ করা যাবে না

পর্যটন ডেস্কঃ একটি দেশকে চিনতে হলে শুধু তার নদী, পাহাড়, সমুদ্র কিংবা ঐতিহাসিক স্থাপনা দেখলেই হয় না; চিনতে হয় সেই দেশের মানুষকেও। একজন বিদেশি পর্যটক যখন কোনো দেশে যান, তখন সেখানকার মানুষের আচরণ, নিরাপত্তাব্যবস্থা, বিপদে সহযোগিতা পাওয়ার অভিজ্ঞতা সবকিছু মিলিয়েই তার কাছে দেশটির পরিচয় তৈরি হয়। তাই একজন পর্যটকের সঙ্গে ঘটে যাওয়া একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাও কখনো কখনো একটি দেশের ভাবমূর্তির সঙ্গে জড়িয়ে যায়। সম্প্রতি বন্ধু শিমুলের কাছ থেকে এমনই একটি দুঃখজনক ঘটনা শুনলাম। জার্মানি থেকে বাংলাদেশে আসা মাত্র ১৮ বছর বয়সী এক তরুণ কয়েক দিন তার বাসায় ছিলেন। পরে নাটোরে যাওয়ার পর তার থাকার জায়গা থেকে ল্যাপটপ, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, টাকা-পয়সাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি হয়ে যায়। পরে পুলিশ তার ল্যাপটপ উদ্ধার করেছে বলে জানতে পেরেছি। ঘটনাটি শুনে খারাপ লাগার পাশাপাশি একটি প্রশ্নও মনে এসেছে—আমরা কি সত্যিই বাংলাদেশকে বিদেশি পর্যটকদের জন্য নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে পারছি? বাংলাদেশের পর্যটন নিয়ে আমাদের অনেক স্বপ্ন। কক্সবাজারের সমুদ্রসৈকত, সুন্দরবন, সিলেটের চা-বাগান, পার্বত্য অঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন এবং সমৃদ্ধ সংস্কৃতি বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করার যথেষ্ট উপাদান। কিন্তু পর্যটনের সম্ভাবনা থাকলেই পর্যটনশিল্প বিকশিত হয় না। এজন্য প্রয়োজন নিরাপত্তা, সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা, দায়িত্বশীল আচরণ এবং এমন একটি পরিবেশ, যেখানে একজন বিদেশি নিজেকে অসহায় মনে করবেন না। বাংলাদেশের পর্যটন উন্নয়নের আলোচনায় এই বিষয়গুলো যতটা গুরুত্ব পাওয়ার কথা, বাস্তবে ততটা পায় না। আমরা পর্যটনকেন্দ্রের সৌন্দর্য তুলে ধরতে আগ্রহী, কিন্তু পর্যটকের নিরাপত্তা, হয়রানি প্রতিরোধ, অভিযোগ গ্রহণ ও দ্রুত সহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো নিয়ে তুলনামূলকভাবে কম আলোচনা করি। অথচ একজন পর্যটকের কাছে এসব বিষয় কোনোভাবেই গৌণ নয়। এ ঘটনার প্রসঙ্গে একটি বিষয় স্পষ্ট করা প্রয়োজন। বাংলাদেশের পুলিশ বিদেশি পর্যটকদের সহযোগিতা করে না—এমন সাধারণীকরণ আমি সমর্থন করি না। আমার নিজের অভিজ্ঞতায়, বাংলাদেশের পুলিশ বিদেশি পর্যটকদের সহায়তা করার চেষ্টা করে। নাটোরের ঘটনাতেও ল্যাপটপ উদ্ধারের তথ্য পুলিশের ভূমিকা সম্পর্কে ইতিবাচক দিক তুলে ধরে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি, পুলিশের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সহযোগিতা সব সময় পাওয়া যায় না। ইতালির মিলানে আমার জিনিসপত্র হারানোর পর প্রায় সাড়ে ছয় ঘণ্টা পুলিশ স্টেশনে বসে থেকেও উল্লেখযোগ্য সহযোগিতা পাইনি। যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে আমার মুঠোফোন চুরি হয়েছিল। কে চুরি করেছে, সে সম্পর্কেও আমার ধারণা ছিল; তারপরও কার্যকর সহায়তা পাইনি। এসব অভিজ্ঞতা থেকে আমি কখনো বলব না যে ইতালি কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ বিদেশিদের সাহায্য করে না। একই যুক্তিতে বাংলাদেশের কোনো ঘটনায় পর্যটক প্রত্যাশিত সহায়তা না পেলেও পুরো পুলিশ বাহিনী সম্পর্কে নেতিবাচক সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। বরং প্রশ্ন হওয়া উচিত, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ কত দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছে, চুরি যাওয়া সম্পদ উদ্ধারে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখছে এবং ভুক্তভোগীকে প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহায়তা দিচ্ছে কি না। কোনো ক্ষেত্রে ঘাটতি থাকলে তা চিহ্নিত করে সংশোধন করতে হবে। আবার যেখানে ভালো কাজ হচ্ছে, সেখানেও তা স্বীকার করতে হবে। বিদেশি পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা বললে কেউ কেউ ভাবতে পারেন, তাদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা কেন প্রয়োজন? আমার বক্তব্য হলো, বিদেশি বলে কাউকে বিশেষ আইনি সুবিধা দিতে হবে—এমন নয়। বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের মতো একজন বিদেশি পর্যটকেরও নিরাপদে চলাফেরা করা, নিজের সম্পদ রক্ষা করা এবং অপরাধের শিকার হলে ন্যায়বিচার চাওয়ার অধিকার রয়েছে। তবে বিদেশি পর্যটকের ক্ষেত্রে কিছু বাড়তি বাস্তবতা বিবেচনায় নিতে হয়। তিনি স্থানীয় ভাষা জানেন না, এলাকার পথঘাট চেনেন না, স্থানীয় আইন ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পর্কেও তার ধারণা সীমিত থাকতে পারে। বিপদে পড়লে কোথায় যাবেন, কার কাছে অভিযোগ করবেন কিংবা কীভাবে প্রয়োজনীয় সহায়তা পাবেন—এসব বুঝতে তার সমস্যা হতে পারে। এই জায়গাগুলোতে পর্যটন পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসন, হোটেল কর্তৃপক্ষ এবং সাধারণ মানুষের সমন্বিত ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। সহজে যোগাযোগ করা যায় এমন সহায়তাব্যবস্থা, প্রয়োজনীয় তথ্যের সহজলভ্যতা এবং অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি একজন পর্যটকের নিরাপত্তাবোধ বাড়াতে পারে। নাটোরে জার্মান তরুণটির ল্যাপটপ উদ্ধার হওয়া অবশ্যই ইতিবাচক খবর। কিন্তু তার অন্য জিনিসপত্র, বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে কি না, সেটিও জানা প্রয়োজন। একই সঙ্গে চুরির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হলে তা অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর বার্তা দেবে। আমাদের নিশ্চিত করতে হবে, একজন পর্যটক যেন অপরিচিত পরিবেশে প্রতারণা, চুরি বা হয়রানির শিকার হওয়ার ভয়ে আতঙ্কিত না থাকেন। পরিবহন, আবাসন, খাবার, দর্শনীয় স্থান পরিদর্শন এবং জরুরি সহায়তা—প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি থাকতে হবে। এখানে স্থানীয় জনগণেরও দায়িত্ব রয়েছে। পর্যটকের অসহায়ত্বকে সুযোগ হিসেবে দেখা, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, প্রতারণা কিংবা ব্যক্তিগত সম্পদ আত্মসাতের মতো অপরাধ শুধু একজন ব্যক্তির ক্ষতি করে না; দেশের সুনামও ক্ষুণ্ন করে। এসব অপরাধের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি। নাটোরে জার্মান তরুণটির সঙ্গে ঘটে যাওয়া চুরির ঘটনা দিয়ে বাংলাদেশের সব মানুষকে বিচার করা যেমন অন্যায়, তেমনি ঘটনাটিকে ছোট করে দেখাও দায়িত্বশীলতার পরিচয় নয়। একটি দেশের ভাবমূর্তি রক্ষা করতে হলে ভুলকে ভুল বলতে হবে, অপরাধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে এবং একই সঙ্গে ইতিবাচক উদ্যোগগুলোকে সামনে আনতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে একজন পর্যটকের অভিজ্ঞতা দ্রুত আন্তর্জাতিক পরিসরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তিনি বাংলাদেশ থেকে ফিরে গিয়ে যদি নিরাপত্তাহীনতা কিংবা অসহযোগিতার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন, তা অন্যদের ভ্রমণের সিদ্ধান্তেও প্রভাব ফেলতে পারে। আবার তিনি যদি মানুষের আন্তরিকতা, সহযোগিতা ও নিরাপত্তার ইতিবাচক অভিজ্ঞতা নিয়ে ফেরেন, সেটিও বাংলাদেশের জন্য মূল্যবান প্রচার হয়ে উঠতে পারে। তাই বিদেশি পর্যটকদের নিরাপত্তাকে কেবল পুলিশের দায়িত্ব হিসেবে দেখলে চলবে না। পুলিশকে দায়িত্ব পালন করতে হবে, প্রশাসনকে কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, পর্যটনসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে জবাবদিহির আওতায় থাকতে হবে এবং সাধারণ মানুষকেও দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। রাজশাহী, নাটোর ও আশপাশের এলাকার ভ্রমণপ্রেমী বন্ধু এবং সচেতন নাগরিকদের প্রতি আমার আহ্বান—জার্মান তরুণটির হারানো কাগজপত্র ও অন্যান্য জিনিসপত্র উদ্ধারে কারও কাছে নির্ভরযোগ্য তথ্য থাকলে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানান। পুলিশকে তদন্তে সহযোগিতা করুন। তবে যাচাই ছাড়া কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা কিংবা ব্যক্তিগত তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। আমি চাই, আরও বেশি বিদেশি পর্যটক বাংলাদেশে আসুন। তারা আমাদের প্রকৃতি দেখুন, ইতিহাস জানুন, সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হোন এবং এ দেশের মানুষের আতিথেয়তা অনুভব করুন। কিন্তু এই প্রত্যাশা পূরণ করতে হলে শুধু পর্যটনকেন্দ্রের প্রচার বাড়ালেই হবে না; পর্যটকদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও বাস্তব অগ্রগতি দেখাতে হবে। শেষ পর্যন্ত একটি প্রশ্ন থেকেই যায়—আমরা কি বিদেশি পর্যটকদের শুধু বাংলাদেশে আসার আমন্ত্রণ জানাব, নাকি তাদের নিরাপদে ভ্রমণ করার নিশ্চয়তাও দিতে পারব? আমার বিশ্বাস, বাংলাদেশকে সত্যিকারের পর্যটকবান্ধব দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে হলে এই প্রশ্নের উত্তর কথায় নয়, কাজে দিতে হবে। কারণ একটি দেশের সৌন্দর্য তার প্রকৃতিতে, আর সেই দেশের প্রতি মানুষের আস্থা তৈরি হয় তার আচরণ, নিরাপত্তা ও দায়িত্ববোধে।




২০২৭ সাল থেকে এসএসসিতে অকৃতকার্যদের তিন মাসের মধ্যে পুনঃপরীক্ষার সুযোগ

শিক্ষা ডেস্কঃ এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের এক বছর অপেক্ষা না করিয়ে তিন মাসের মধ্যে পুনঃপরীক্ষার সুযোগ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ লক্ষ্যে আগামী ১৫ অক্টোবরের মধ্যে কর্মপরিকল্পনা জমা দিতে আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় সব বিষয়ে নয়, কেবল যেসব বিষয়ে শিক্ষার্থীরা অকৃতকার্য হবে, সেসব বিষয়েই পুনঃপরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ রাখা হতে পারে।

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, চলতি বছর থেকেই এ ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে সরকারের আগ্রহ রয়েছে। তবে চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে অল্প সময়ের মধ্যে পুনঃপরীক্ষা আয়োজন করা কঠিন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এ কারণে পুনঃপরীক্ষার নিয়ম, সময়সূচি ও অন্যান্য বিষয় নির্ধারণে একটি নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানিয়েছেন, পুনঃপরীক্ষা চালুর বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা পাওয়া গেছে। তবে পরীক্ষা আয়োজনের সময়, শিক্ষার্থীদের ভর্তি, পরবর্তী শিক্ষাবর্ষের সঙ্গে সমন্বয় এবং অন্যান্য প্রশাসনিক বিষয় নির্ধারণে নীতিমালা প্রয়োজন। এ কারণে আগামী বছর থেকে এ ব্যবস্থা চালুর সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি জানান, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী সাত কর্মদিবসের মধ্যে কর্মপরিকল্পনা তৈরির কাজ চলছে। আগামী ১৫ অক্টোবরের মধ্যে তা জমা দেওয়ার আশা করছে আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি। এরপর কর্মপরিকল্পনার ভিত্তিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় নীতিমালা প্রণয়ন করতে পারে।

গত ১০ আগস্ট চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এতে মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন। পাসের হার ছিল ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। সে হিসাবে অকৃতকার্য হয়েছে ৬ লাখ ৯০ হাজার ৬০৮ জন শিক্ষার্থী।

বর্তমান ব্যবস্থায় এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের সাধারণত পরবর্তী বছরের পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনা থেকে ঝরে পড়ার ঝুঁকিতে থাকে। তিন মাসের মধ্যে পুনঃপরীক্ষার সুযোগ চালু করা গেলে তাদের শিক্ষাজীবনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সহজ হতে পারে।

আন্তশিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, দ্রুত পুনঃপরীক্ষা আয়োজনের জন্য কয়েকটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে। মূল পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরির সময় অতিরিক্ত একটি সেট প্রস্তুত রাখা, ফল প্রকাশের পর পুনঃপরীক্ষায় অংশ নিতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের নতুন করে ফরম পূরণের সুযোগ দেওয়া এবং সীমিতসংখ্যক কেন্দ্রে পরীক্ষা আয়োজনের বিষয়গুলো বিবেচনায় রয়েছে। এ ক্ষেত্রে দ্রুত ফল প্রকাশের ব্যবস্থাও রাখা হতে পারে।

তবে পুনঃপরীক্ষা চালুর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত, পরীক্ষার নির্দিষ্ট সময়সূচি এবং অংশগ্রহণের নিয়মাবলি নীতিমালা প্রণয়নের পরই স্পষ্ট হবে।




চাঁদ দেখা যায়নি, জমাদিউল আউয়াল মাস শুরু মঙ্গলবার

ইসলামিক ডেস্কঃ বাংলাদেশের আকাশে পবিত্র জমাদিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে আগামী মঙ্গলবার থেকে জমাদিউল আউয়াল মাস গণনা শুরু হবে।

রবিবার সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

সভায় জানানো হয়, আগামীকাল সোমবার রবিউস সানি মাস ৩০ দিন পূর্ণ হবে। এরপর মঙ্গলবার থেকে জমাদিউল আউয়াল মাস শুরু হবে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) এ এইচ এম কামরুজ্জামান। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা বিল্লাল বিন কাশেম রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।




জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা রবিবার

ইসলামিক ডেস্কঃ পবিত্র জমাদিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দেখার সংবাদ পর্যালোচনা ও তারিখ নির্ধারণের লক্ষ্যে আগামীকাল রবিবার (১১ অক্টোবর) জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জনসংযোগ শাখার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১৪৪৮ হিজরি সনের পবিত্র জমাদিউল আউয়াল মাসের তারিখ নির্ধারণের লক্ষ্যে আগামীকাল সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ), এমপি।

বাংলাদেশের আকাশে কোথাও পবিত্র জমাদিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেলে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক অথবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানোর জন্য অনুরোধ করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।




প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক পাচ্ছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫ শিক্ষার্থী

চবি প্রতিনিধিঃ দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কৃতী ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় উৎসাহিত করা এবং ভালো ফলাফলের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক ২০১৯, ২০২০ এবং ২০২১-এর জন্য মনোনীত হয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ২৫ কৃতী শিক্ষার্থী।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, ২০১৯ সালের শিক্ষার্থী হিসেবে মনোনীত হয়েছেন ৯ জন শিক্ষার্থী। তারা হলেন- আরবি বিভাগের জোহাইর ফুরকান, বন ও পরিবেশবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের মোহাম্মদ নূর আলী, ফাইন্যান্স বিভাগের তাসফিকা খানম, অর্থনীতি বিভাগের জান্নাতুল ফেরদৌস, আইন বিভাগের উম্মে হাবিবা, মৃত্তিকাবিজ্ঞান বিভাগের তাহসিন শামস সাদিয়া, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মোহাম্মদ নেওয়াজ জামিল, ওশানোগ্রাফি বিভাগের রাইয়ান আহমেদ ও এমবিবিএসের আফসানা আক্তার।

আরও জানা যায়, ২০২০ সালের শিক্ষার্থী হিসেবে মনোনীত হয়েছেন ৮ জন শিক্ষার্থী। তারা হলেন- আরবি বিভাগের মোহাম্মদ আবদুল হালিম, বন ও পরিবেশবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের ইতামনি চাকমা, ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের শাহরিন আক্তার, অর্থনীতি বিভাগের দিদারুল ইসলাম, ফার্মেসি বিভাগের মোহাইমিনুল্লাহ সরকার, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ফাইরোজ আবিদা, ফিশারিজ বিভাগের মিতু রঞ্জন সরকার ও এমবিবিএসের ইসরাত পারভীন।

এ ছাড়া ২০২১ সালের শিক্ষার্থী হিসেবে মনোনীত হয়েছেন ৮ জন শিক্ষার্থী। তারা হলেন- ফারসি ভাষা ও সাহিত্যের আশরাফুন নেসা, অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের তাহমিদুল ইসলাম আকিব, ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্সের নুসরাত জাহান, অর্থনীতির মিন্টু বড়ুয়া, আইনের তনিকা ইসলাম, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ফাহমিদা রহমান, সমুদ্রবিজ্ঞানের মো. মেহেদী হাসান ও এমবিবিএসের মো. আদিবুল হক নাফিস।

প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কৃতী ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় উৎসাহিত করা এবং ভালো ফলাফলের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) কর্তৃক প্রবর্তিত একটি মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার। ২০০৫ সালে ইউজিসি এ পদক প্রবর্তন করে। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্নাতক (সম্মান) বা স্নাতকোত্তর পর্যায়ে বিভিন্ন অনুষদে সর্বোচ্চ নম্বর বা সিজিপিএ অর্জনকারী সেরা শিক্ষার্থী বা প্রথম স্থান অধিকারীদের এ পদক দেওয়া হয়। এবারে প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক- ২০১৯, ২০২০ ও ২০২১-এর জন্য সারা দেশ থেকে মোট ৪৬৯ জন শিক্ষার্থী মনোনীত হয়েছেন।




নবীওয়ালা কাজ দাওয়াতে তাবলিগ

ইসলামিক ডেস্কঃ পথভোলা মানুষকে আল্লাহর পথে আনার কাজই দাওয়াতে তাবলিগের কাজ। এ কাজ কোনো ব্যক্তি বা দলের নয়। এ কাজ মহান আল্লাহ কর্তৃক প্রেরিত মহাপুরুষ নবী-রসুলদের কাজ। বিদায় হজের ভাষণে নবীজি (সা.) বলেছেন, আমার পক্ষ থেকে একটি বাণী হলেও পৌঁছে দাও। মূলত তখন থেকেই নবীওয়ালা কাজটি উম্মতের জিম্মায় চলে আসে। সে থেকেই একদল মর্দে মুমিন দুনিয়ার সব ধরনের লোভলালসা, আরাম-আয়েশ ত্যাগ করে শুধু আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার লক্ষ্যে দাওয়াতে তাবলিগের মেহনত করে আসছেন।

এই মেহনতের মূল লক্ষ্য মানুষের জীবনে ইমান ও আমলের চেতনা জাগিয়ে তোলা। মানুষ যেন তার সৃষ্টিকর্তাকে চিনতে পারে, তাঁর নির্দেশিত পথে জীবন পরিচালনা করতে পারে এবং দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী জীবনের পাশাপাশি আখিরাতের স্থায়ী জীবনের প্রস্তুতি নিতে পারে-এটাই দাওয়াতের মূল কথা। তাই এ মেহনত কোনো শ্রেণি-পেশা বা এলাকার মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাছে দীনের কথা পৌঁছে দেওয়াই এর অন্যতম উদ্দেশ্য।

নবীওয়ালা কাজ দাওয়াতে তাবলিগদাওয়াত ও তাবলিগের এই মেহনত মূলত আত্মশুদ্ধি ও সংশোধনেরও একটি পথ। অন্যকে দীনের কথা বলার পাশাপাশি নিজের ইমান, আমল, আখলাক ও চরিত্রকে সংশোধনের চেষ্টা করা হয়। নামাজ, ইলম ও জিকিরের প্রতি যত্নশীল হওয়া, মানুষের সঙ্গে উত্তম আচরণ করা, আল্লাহর ওপর ভরসা করা এবং রসুল (সা.)-এর সুন্নাহকে জীবনে ধারণ করার চেষ্টা-এসবই এ মেহনতের গুরুত্বপূর্ণ দিক। এভাবে ব্যক্তি পরিবর্তিত হলে পরিবার, সমাজ এবং বৃহত্তর পরিসরেও তার ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। দুনিয়ার ব্যস্ততা ও ভোগের প্রতিযোগিতার মধ্যে মানুষ যখন ধীরে ধীরে তার সৃষ্টিকর্তা ও আখিরাতের কথা ভুলে যায়, তখন দীনের এই মেহনত মানুষকে আবার তার মূল পরিচয়ের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। সম্পদ, পদপদবি কিংবা দুনিয়ার সাফল্য নয়-মানুষের প্রকৃত সফলতা আল্লাহর সন্তুষ্টির মধ্যে, এই উপলব্ধিই দাওয়াতের কেন্দ্রীয় বার্তা। সেই বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে যুগের পর যুগ মুমিনরা নিজেদের সময়, শ্রম ও সামর্থ্য ব্যয় করে আসছেন।

যারা এই নবীওয়ালা কাজের আনজাম দেবেন তাদের একটি আশ্চর্য শক্তির অধিকারী হতে হয়। সেই শক্তিটির নাম হলো ধৈর্যশক্তি। সবর ছাড়া দাওয়াতের মেহনতে সফল হওয়ার কোনো সম্ভাবনা তো নেই-ই, উল্টো প্রতি পদক্ষেপে শয়তানের ওয়াসওয়াসার চোরাবালিতে পড়ে গুনাহের গর্তে হারিয়ে যাওয়ার প্রবল ঝুঁকি রয়েছে। তাই যারা সবরের মতো কঠিন গুণটি আয়ত্তে আনতে পারেননি বা পারবেন বলে মনে হয় না, অন্তত সবরের ওপর অবিচল থাকার চর্চা যাদের মধ্যে নেই, দাওয়াতের এই নবীওয়ালা কঠিন কাজটি কোনোভাবেই তাদের জন্য নয়। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেছেন, ‘ওয়ামা ইউলাক্কাহা ইল্লাল্লাজিনা সবারু, ওয়ামা ইউলাক্কাহা ইল্লা জুহাজ্জিল আজিম। অর্থ : দাওয়াতের কঠিন কাজের আনজাম তারাই দিতে পারে, যারা চরম ধৈর্যশীল। দাওয়াতের কাজে সফল তারাই হয়, যারা পরম সৌভাগ্যবান’ (সুরা হামিম সেজদাহ-৩৬)। ধৈর্যের অনেক অর্থ আছে, অনেক রূপ আছে। দাওয়াতের কাজ যারা করেন তাদের ন্যূনতম এতটুকু ধৈর্য থাকতে হবে যে কেউ তাদের গালি দিলে জবাবে তারা হাসি দেবে, যে তার পথ আটকে দেবে, সে তার জন্য পথ খুলে দেবে, যে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করবে, তার জন্য যে সে ষড়যন্ত্রের জাল কেটে দেবে, যে তার ঘর ভেঙে দেবে, আশ্রয় ছিনিয়ে নেবে, দায়ি ওই ব্যক্তির ঘর করে দেবে, আশ্রয় খুঁজে দেবে। এসব সুন্দর আচরণ যে শুধু কাফের-মুশরিকদের সঙ্গেই দেখাতে হবে তা না, বরং নিজ সাথি ভাইদের সঙ্গে আরও বেশি করে দেখাতে হবে। নবীজি (সা.)-এর পুরো জীবন খুঁজলে এমনটিই আমরা দেখতে পাই। নবীজি (সা.) এই দাওয়াতি আচরণ শিখলেন কোত্থকে? তিনি শিখেছেন তাঁর প্রভু আল্লাহ রাব্বুল আলামিন থেকে। তাঁর উম্মত যেন নবীর মতোই মহৎ চরিত্রের অধিকারী হতে পারে, বিশেষ করে যারা নবীওয়ালা কাজের আনজাম দেবে তাদের উদ্দেশ করে আল্লাহ বলছেন, ‘ইদফা বিল্লাতি হিয়া আহসান। ফাইজাল্লাজি বাইনাকা ওয়া বাইনাহু আদাওয়াতুন কাআন্নাহু ওয়ালিউন হামিম। তোমার সঙ্গে যারা মন্দ আচরণ করে তাদের সঙ্গে সবচেয়ে ভালো আচরণটি কর। তাহলে দেখবে যে তোমার জানের দুশমন ছিল সে তোমার জানের দোস্ত হয়ে গেছে’ (সুরা হামিম সেজদাহ-৩৪)। খুব গভীরভাবে লক্ষ করুন, এখানে বলা হয়নি কোনো কাফের-মুশরিকের সঙ্গে তুমি সবচেয়ে ভালো আচরণ কর, বরং বলা হয়েছে, যে ব্যক্তিই তোমার সঙ্গে মন্দ আচরণ করবে, সে যে-ই হোক না কেন-তার সঙ্গে চরমতম ভালো আচরণ কর। তাহলেই সে তোমার সবচেয়ে কাছের হিতাকাক্সক্ষী-শুভাকাক্সক্ষী-বন্ধু হয়ে যাবে।




বগুড়ায় পুন্ড্র বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট বিষয়ক সেমিনার

বগুড়া ব্যুরোঃ বগুড়ায় পুন্ড্র ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে শিক্ষকদের মানসিক চাপ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসিওরেন্স সেল (আইকিউএসি) আয়োজিত এ সেমিনারের শিরোনাম ছিল ‘স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট ফর টিচার্স’।

সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক ও সাবেক পুলিশ স্টাফ কলেজের রেক্টর এম. নাজমুল হক।

আইকিউএসির পরিচালক অধ্যাপক ড. আবু হানিফের সভাপতিত্বে সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. চিত্তরঞ্জন মিশ্র, বিওটির ভাইস চেয়ারম্যান রোটারিয়ান ডা. মো. মতিউর রহমান, ট্রেজারার (ডেজিগনেট) অধ্যাপক মুহাম্মদ মুনজুর মুরশিদুল আবেদীন, বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল আহসান, মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. শহীদুর রহমানসহ বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও শিক্ষকরা।

সেমিনারে শিক্ষকদের পেশাগত জীবনে মানসিক চাপের কারণ, এর নেতিবাচক প্রভাব, কর্মক্ষেত্রে চাপ মোকাবিলার কার্যকর কৌশল এবং মানসিক সুস্থতা বজায় রাখার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।

ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক অনিন্দিতা পালের সঞ্চালনায় প্রাণবন্ত আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্বের মধ্য দিয়ে সেমিনারটি শেষ হয়।




আজকের নামাজের সময়সূচি, ৬ অক্টোবর ২০২৬

ইসলামিক ডেস্কঃ আজ মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩, ২৪ রবিউস সানি ১৪৪৮।

ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ—

জোহরের সময় শুরু দুপুর ১১টা ৫০ মিনিটে।

আসরের সময় শুরু ৪টা ২ মিনিটে।

মাগরিব ৬টা ৪৪ মিনিটে।

এশার সময় শুরু ৬টা ৫৭ মিনিট।

আগামীকাল ফজর শুরু ৪টা ৪১ মিনিটে

আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত ৫টা ৪৩ মিনিট এবং আগামীকাল সূর্যোদয় ৫টা ৫১ মিনিটে।




বদনজর থেকে বেঁচে থাকার দোয়া

ইসলামিক ডেস্কঃ أُعِيْذُكُمَا بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّةِ مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَّهَامَّةٍ وَّمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لاَمَّةٍ

উচ্চারণ: উয়িযুকুমা বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন কুল্লি শাইতানিন ওয়া হাম্মাতিন ওয়া মিন কুল্লি আইনিন লাম্মাতিন।

অর্থ: সকল শয়তান, কীটপতঙ্গ ও বদনজর হতে তোমাদেরকে আল্লাহর পূর্ণাঙ্গ কালেমাসমূহের আশ্রয়ে দিচ্ছি।

রসুলুল্লাহ (স.)-ও ছোটদের কোলে নিয়ে বিভিন্ন দোয়া পড়ে ফুঁ দিতেন। হাদিস গ্রন্থসমূহে এমন অনেক দোয়া বর্ণিত হয়েছে। হজরত হাসান ও হুসাইনকে (রা.) নবীজি (স.) উপরে উল্লেখিত বাক্যগুলো দিয়ে ঝাড়-ফুঁক করতেন।

নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বদনজর থেকে বেঁচে থাকার কথা বলেছেন এবং এর আমলও শিখিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘তোমরা বদনজরের প্রভাব থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা কর। কেননা নজরের প্রভাব সত্য।’ (ইবনে মাজাহ ৩৫০৮)

পবিত্র কোরআনেও কয়েক জায়গায় বদনজরের কথা বলা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘কাফেররা যখন উপদেশবাণী শোনে তখন তারা যেন তাদের দৃষ্টির মাধ্যমে তোমাকে আছড়ে ফেলবে, আর তারা বলে, এ তো এক পাগল’। (সুরা কলম ৫১)

আল্লামা ইবনে কাসির (রহ.) এই আয়াতের তাফসিরে বলেছেন, হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, কোরআনের এ আয়াতে ‘তাদের দৃষ্টির মাধ্যমে তোমাকে আছড়ে ফেলবে’ দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে ‘তোমার প্রতি বদনজর দেবে।’  তারা তোমাকে হিংসার প্রতিফলন ঘটিয়ে রোগী বানিয়ে দেবে, যদি আল্লাহর তোমার প্রতি হেফাজত না থাকে। আয়াতটি প্রমাণ বহন করে, বদনজরের কুপ্রভাবে মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ে এটা সত্য। (তাফসিরে ইবনে কাসির ৪/৪১০)

বদনজর থেকে বাঁচার আমল

বদনজর থেকে বাঁচতে নবীজি দোয়া শিখিয়ে দিয়েছেন। হজরত আবু সাঈদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ (স.) একবার কোনো এক রোগে আক্রান্ত হলেন। তখন জিবরাইল (আ.) নবীজি (স.)-এর কাছে এসে বললেন, হে মুহাম্মদ, আপনি কি অসুস্থতা বোধ করছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। জিবরাইল (আ.) তখন এ দোয়াটি পড়লেন,

بِاسْمِ اللهِ أَرْقِيكَ، مِنْ كُلِّ شَيْءٍ يُؤْذِيكَ، مِنْ شَرِّ كُلِّ نَفْسٍ أَوْ عَيْنِ حَاسِدٍ، اللهُ يَشْفِيكَ بِاسْمِ اللهِ أَرْقِيكَ.

উচ্চারণ: বিসমিল্লাহি আরকিকা মিন কুল্লি শাইয়িন ইউজিকা মিন শাররি কুললি নাফসিন আউ আইনিন হাসিদিন, আল্লাহু ইয়াশফিকা বিসমিল্লাহি আরকিকা

অর্থ: আল্লাহর নামে আপনাকে ফুঁ দিচ্ছি; যেসব জিনিস আপনাকে কষ্ট দেয়, সেসব প্রাণের অনিষ্ট কিংবা হিংসুকের বদনজর থেকে আল্লাহ আপনাকে শিফা দিন; আল্লাহর নামে আপনাকে ফুঁ দিচ্ছি।’ (মুসলিম ৫৫১২)। সুতরাং দোয়াটি পড়ে আক্রান্ত ব্যক্তিকে বারবার ফুঁ দিলে ইনশাল্লাহ, ধীরে ধীরে বদনজর কেটে যাবে। এছাড়াও ছোট বাচ্চাদের ক্ষেত্রে এ দোয়াটি খুবই উপকারি।