জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিকাশে মুসলমানদের অগ্রগণ্য ভূমিকা

ইসলামিক ডেস্কঃ ইসলামের প্রথম বাণী ‘ইকরা’ বা পড়ো। ৬১০ খ্রিস্টাব্দে মক্কার হেরা গুহায় জিবরাইল (আ.)-এর মাধ্যমে অনুরণিত হয়েছিল এ বাণী। সে ঐশী ধ্বনিই মুসলিমদের জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার প্রথম অনুপ্রেরণা। কাল-কালান্তরে এই একটিমাত্র শব্দতরঙ্গ জ্ঞানচর্চা ও বিজ্ঞান গবেষণায় মুসলিমদের উতলা করে তুলেছে।

ইসলাম জ্ঞানচর্চায় যেটুকু গুরুত্বারোপ করেছে পৃথিবীর অন্য কোনো ধর্ম ও মতবাদ এতটা গুরুত্বারোপ করেনি। ইলম বা জ্ঞানের গুরুত্বে ও মাহাত্ম্যে কোরআন ও হাদিসে প্রচুর উদ্ধৃতি রয়েছে। মহান আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রিয়তম রাসুল (সা.)-কে শিখিয়েছেন জ্ঞান বৃদ্ধির দোয়া। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর আপনি বলুন—হে আমার প্রভু, আপনি আমার জ্ঞান বাড়িয়ে দিন।’(সুরা : ত্বহা, আয়াত : ১১৪)

প্রতিটি মুসলিম নর-নারীকে জ্ঞানার্জনে উদ্বেলিত করতে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘ইলম তথা জ্ঞানার্জন প্রত্যেক মুসলিমের ওপর ফরজ।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ২২৪)

রাসুল (সা.) জ্ঞানার্জনের চেতনা মুসলিমদের মধ্যে এমনভাবে জাগিয়ে তুলেছিলেন যে তরুণ, বৃদ্ধ ও নর-নারী সবাইকে জ্ঞানচর্চার চেতনায় উজ্জীবিত করে দিয়েছিল। ফলে তাঁরা শুধু একটি হাদিসের জন্য এক মাসের পথ পাড়ি দিয়ে মদিনা থেকে সুদূর সিরিয়ায় গমন করতেও পিছপা হতেন না। জ্ঞানের জন্য তাঁরা আন্দালুস বা স্পেন থেকে খোরাসান পর্যন্ত চষে বেড়াতেন।

রাসুল (সা.) থেকে জ্ঞানাহরণের জন্য পালাক্রমে একজন সাহাবি সাংসারিক কাজকর্ম করতেন, আরেকজন রাসুল (সা.) থেকে জ্ঞান আহরণ করে অপরজনকে জানাতেন। আবু হুরায়রা (রা.) খেয়ে না খেয়ে রাসুল (সা.) থেকে জ্ঞানাহরণের জন্য মসজিদে নববীর একপাশে দিনাতিপাত করতেন। এভাবে ইলমচর্চার ফলে জাহিলিয়াতের নিকষ অন্ধকারে নিমজ্জিত একটি জাতিকে জ্ঞান-বিজ্ঞানে সমগ্র বিশ্বের অনুকরণীয় এক বিস্ময় জাতিতে পরিণত করেছিল।

মুসলিমরা কোরআনের তাফসির, হাদিস ও তার ব্যাখ্যা, সাহিত্য ও অলংকারশাস্ত্র, ভাষাবিজ্ঞান, ফিক্বাহ শাস্ত্রসহ অন্যান্য ধর্মদর্শনে দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি জাগতিক সব বিদ্যায় বিস্ময়কর অবদান রেখেছেন ও রাখছেন। আবহাওয়াবিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান, চিকিৎসাবিজ্ঞান, জ্যোতির্বিজ্ঞান, আইনবিজ্ঞান, ভূতত্ত্ববিজ্ঞান, রসায়নবিদ্যা, গণিতশাস্ত্র, দর্শনশাস্ত্র, ইতিহাস ও সমাজবিজ্ঞান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, শিল্প ও সাহিত্য সব ক্ষেত্রে মুসলিমদের ভূমিকা অবিস্মরণীয়।

জ্ঞানের প্রতিটি শাখায় তাদের পদচারণ ছিলো সরব ও সফল।

অস্ত্রোপচার বিদ্যায় আবুল কাসেম জাহরাভির ‘আত-তাসরিফ’, চোখের ব্যাধি ও তার উপশমে আবুল কাসেম মাওসিলির ‘আল মুন্তাখাব ফি ইলাজিল উয়ুন’, রসায়নে জাবের বিন হায়্যানের ‘কিতাবুর রহমাত’, ‘কিতাবুত-তাজমি’, ‘সুন্দুকুল হিকমা’ ও ‘রিসালাহ ফিল কিমিয়া’, বিজ্ঞানী রাজীর ‘কিতাবুল হাজার’, ‘কিতাবুল আকসীর’, ‘কিতাবুদ-তাদবীর’, ইবনে আব্দুল মালেক আল-খাওয়ারেজমি আল-কাসির ‘আয়নুস-সানাহ’, জ্যোতির্বিদ্যায় আল-বাত্তানির ‘কিতাবুল জিজ’, আবু মাশার আল জাফরের ‘জিজ আবি মাশার’, মহাবিজ্ঞানী আল-বিরুনীর ‘কানুনে মাসউদি’, বীজগণিতে উমর খৈয়ামের ‘কিতাবুল জাবর’, আল-কারখির ‘আল-কাফি ফিল হিসাব’, অ্যালজেব্রাখ্যাত মুসা আল-খাওয়ারিজমীর ‘হিসাবুল জাবরি ওয়াল মুকাবালাহ’, চিকিৎসাবিদ্যায় আবু আলী ইবনে সিনার ‘আল কানুন ফিত-তিব’, আলী ইবনে রাব্বানের ‘ফিরদাউসুল হিকমাহ’, বিজ্ঞানী রাজীর ‘আল-কিতাবুল মানসুরি’, ‘আল কিতবুল হাভি’, ‘আল জুদারী ওয়াল হাসবাহ’, রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ফারাবির ‘সিয়াসাত’ ‘আরা’, ইবনে খালদুনের ‘মুকাদ্দামা’, ইতিহাসশাস্ত্রে কালবীর ‘জামহারাতুন-নাসাব’, ওয়াকেদির ‘আল-মাগাজি’, বালাচজুরির ‘ফুতুহুল বুলদান’, ইমাম তাবারির ‘তারিখুল রুসুল ওয়াল-মুলুক’, আরবের হিরোডাটাসখ্যাত আল-মাসউদির ‘মিরআতুয-জামান’, ইমাম জাহাবির ‘তারিখুল ইসলাম’, ইমাম ইবনে আসাকিরের ‘তারিখে মদিনাতে দিমাশক’, স্পেনীয় মনীষী ইবনে খালদুনের ‘তারিখে ইবনে খালদুন’সহ মুসলিমদের শতসহস্র জ্ঞানগ্রন্থ জ্ঞান-বিজ্ঞানে মুসলিমদের উজ্জ্বল স্মারক বহন করে চলছে। হিরকখণ্ডতুল্য এসব গ্রন্থ আধুনিক সভ্যতার দিকপালে পরিণত হয়েছে।

এসব জ্ঞানগ্রন্থ আরবি থেকে লাতিন ও ইংরেজিতে অনূদিত হওয়ার পর জ্ঞান-বিজ্ঞানচর্চার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। (বিজ্ঞানে মুসলমানদের অবদান, মুহাম্মাদ নুরুল আমীন)

সুতরাং মুসলিমরাই বিশ্বসভ্যতার প্রথম ও প্রকৃত দীপাধার। আজকের আধুনিক বিশ্বের উন্নতি ও চোখ-ধাঁধানো উৎকর্ষের নেপথ্যে রয়েছে মুসলিম মনীষীদের অদম্য জ্ঞানসাধনা ও নিরলস বিদ্যাচর্চা। এ কথা পাশ্চাত্য ও ইউরোপের বহু গবেষক অকপটে স্বীকার করেছেন। যেমন—বিখ্যাত প্রাচ্যবিদ কার্লাইল লেখেন, ‘আরবরা ছিল মরুচারী বেদুইন। যুগ যুগ ধরে তারা ছিল অবহেলিত। এরপর যখন তাদের মধ্যে একজন নবীর আবির্ভাব ঘটল, তখন তারা জ্ঞান-বিজ্ঞানের কেন্দ্রস্থলে পরিণত হলো। স্বল্পতার পর আধিক্যতা লাভ করল। অবহেলিত হওয়ার পর বিশ্বে মর্যাদাপূর্ণ আসন অর্জন করল। এক শতাব্দী পার হতে না হতেই তারা তাদের জ্ঞান-বিজ্ঞানে সমগ্র জাহান আলোকিত করে ছাড়ল।’




ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত

শিক্ষা ডেস্কঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ‘ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিট’ এর আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসসহ ঢাকার বাইরে ৪টি বিভাগীয় শহরের বিশ্ববিদ্যালয়ে এই ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

ঢাকার বাইরের কেন্দ্রগুলো হল—চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ও রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়।

ভর্তি পরীক্ষায় মোট ১ হাজার ৫০টি আসনের বিপরীতে ৩৪ হাজার ৬২ জন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।

পরীক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে উপাচার্য বলেন, অত্যন্ত সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরীক্ষায় ১টি আসনের বিপরীতে প্রায় ৩৩ জন ছাত্র-ছাত্রী অংশ নিচ্ছে। এটি খুবই কঠিন একটি প্রতিযোগিতা।

ভর্তি পরীক্ষার বিষয়ে সন্তানদের ওপর কোন ধরনের মানসিক চাপ সৃষ্টি না করার জন্য অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মনে রাখতে হবে ভর্তির সুযোগ পাওয়া মানেই জীবনের শেষ কথা নয়। প্রত্যেক শিক্ষার্থী তাদের নিজের মতো করে সক্ষম। এই সক্ষমতাকে সমর্থন ও বহিঃপ্রকাশের সুযোগ দেওয়া উচিত।

উল্লেখ্য, ১ হাজার ৫০টি আসনের মধ্যে ব্যবসায় শিক্ষা শাখার শিক্ষার্থীদের জন্য ৯৩০টি, বিজ্ঞান শাখার শিক্ষার্থীদের জন্য ৯৫টি ও মানবিক শাখার শিক্ষার্থীদের জন্য ২৫টি আসন রয়েছে।

বিজ্ঞান শাখার ৫ হাজার ১৪৮ জন, মানবিক শাখার ৫ হাজার ৮৯২ জন ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখার ২৩ হাজার ২২ জন শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য আবেদন করে।




জুহদ ও দুনিয়া: নবীজির আদর্শ জীবন

ইসলামিক ডেস্কঃ আল্লাহ মানুষকে দুনিয়ায় পাঠিয়েছেন পরীক্ষার জন্য, আর দুনিয়াকে বানিয়েছেন মানুষের জীবনযাপনের উপযোগী করে। বিশুদ্ধ বায়ুর জন্য অসংখ্য উদ্ভিদ, খাদ্যের জন্য নানান ধরনের ফল-ফসল, উপভোগের জন্য পাহাড়পর্বত, নদীনালা এবং সৌন্দর্য দেখার জন্য প্রকৃতির অগণিত নিদর্শন তিনি সৃষ্টি করেছেন। আকাশে মেঘ এনে তিনি বৃষ্টি বর্ষণ করেন- যাতে মানুষ পান করে জীবনধারণ করতে পারে। এসব কিছুর মধ্যে লুকিয়ে আছে একটিই শিক্ষা- মানুষ যেন এসব নিয়ামতের মাধ্যমে তার স্রষ্টাকে চিনে নেয়, তাঁর আনুগত্য করে এবং কৃতজ্ঞ হয়। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, মানুষ স্রষ্টাকে ভুলে স্রষ্টার সৃষ্টি জড় বস্তু, সম্পদ ও বিলাসবহুল জীবনযাত্রার সঙ্গে মিশে যাচ্ছে। প্রয়োজন পূরণের জন্য পরিশ্রম করা স্বাভাবিক; কিন্তু মানুষ আজ এমন কিছুর পেছনেও ছুটছে, যা তার প্রয়োজনই নয়। জীবন যৌবন দুনিয়ার মোহে নষ্ট করছে, আবার হারানো যৌবন ফিরিয়ে আনতে সম্পদ ব্যয় করছে, যেন নিজের পায়ে নিজেই কুড়াল মারছে। আমরা যেন ভুলেই গিয়েছি অমোঘ সেই সত্য আল্লাহ প্রতিটি মানুষের রিজিক নির্দিষ্ট করে রেখেছেন। কিন্তু মানুষ সেই নির্ধারিত রিজিক নিয়ে সন্তুষ্ট না থেকে মরীচিকার মতো ক্ষণস্থায়ী জিনিসের পেছনে ছুটছে।

অথচ মানুষ দুনিয়াতে মুসাফির। একজন পথিক গাছের নিচে সামান্য বিশ্রাম নিয়ে যেমন আবার যাত্রা শুরু করে, তেমনই দুনিয়া শুধু সফরের বিরাম; গন্তব্য নয়। মানুষ যখন দুনিয়ার মোহে ডুবে যায়, তখন সে রবকে ভুলে সীমা লঙ্ঘন করে বসে। অথচ দুনিয়ার সৌন্দর্য, সম্পদ ও ভোগবিলাস সবই পরীক্ষা। এগুলো কখনো জীবনের আসল লক্ষ্য হতে পারে না। আল্লাহর সন্তুষ্টিই আসল লক্ষ্য। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘দুনিয়ার যেসব জাঁকজমক সামগ্রী কিছু লোককে পরীক্ষা হিসেবে দিয়েছি, তুমি তার দিকে লোভের দৃষ্টিতে তাকিও না। তোমার রবের দেওয়া রিজিকই উত্তম ও স্থায়ী।’ (সুরা ত্বাহা, আয়াত ১৩১।) অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা দুনিয়াকে চাইছ; অথচ আখিরাতই উত্তম এবং চিরস্থায়ী।’ (সুরা আলা, আয়াত  ১৬-১৭)

মনে রাখতে হবে, দুনিয়া বিমুখতা মানে দুনিয়া ত্যাগ করা নয়। এমনভাবে দুনিয়া ছাড়াও ইসলামে অনুমোদিত নয় যে পরিবারপরিজন, দায়িত্ব-কর্তব্য সব ভুলে গিয়ে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকা যাবে। রাহবানিয়্যাত (বৈরাগ্যবাদ) ইসলামের শিক্ষা নয়। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন যুহদের (দুনিয়াবিমুখতা) প্রকৃত আদর্শ। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুনিয়াকে কখনো হৃদয়ে স্থান দেননি, কিন্তু হালাল দুনিয়া ব্যবহার করেছেন। তিনি বিবাহ করেছেন, পরিবারপরিজনের হক আদায় করেছেন, হালাল খাবার পছন্দ করেছেন, মধু, সুগন্ধি ও ঠান্ডা পানি পছন্দ করেছেন, আর না পেলে ধৈর্য ধরেছেন। অর্থাৎ হালাল দুনিয়া ব্যবহার, কিন্তু হৃদয়কে দুনিয়ার দাস না বানানো- এটাই জুহদ বা দুনিয়াবিমুখতা।

সুফিয়ানে কেরাম বলেন, জুহদের রয়েছে চারটি স্তর। ১. হারাম থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকা। ২. মাকরুহ থেকেও বেঁচে থাকা। ৩. হালাল ভোগে সীমা না ছাড়ানো। ৪. অন্তরে আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুর প্রতি আসক্তি না রাখা। এটাই সর্বোচ্চ জুহদ। নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনে দুনিয়াবিমুখতার অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খেজুরপাতার চাটাইয়ে ঘুমাতেন, দেহে দাগ পড়ে যেত। তিনি বলতেন, ‘দুনিয়ার সঙ্গে আমার সম্পর্ক কী? আমি তো এক পথিক; যে গাছের নিচে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেয়, তারপর আবার চলতে থাকে।’ ( তিরমিযি, হাদিস ২৩৭৭।)

অন্য এক হাদিসে হজরত উমর (রা.) বলেন, একদিন তিনি দেখেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ঘরে খাবার বলতে শুধু সামান্য যব ছাড়া কিছুই নেই। রোম-ফারসি রাজারা ভোগবিলাসে মত্ত; কিন্তু আল্লাহর প্রিয় নবী দুনিয়া থেকে বিরত থাকছেন। উমর (রা.) কান্নায় ভেঙে পড়েন। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘হে উমর! তুমি কি খুশি নও যে দুনিয়া তাদের জন্য, আর আখিরাত আমাদের জন্য?’ (মুসলিম, হাদিস ২৯৬৫)

অনুরূপভাবে ইবাদতেও তাঁর জুহদ প্রকাশ পায়। তিনি রাতে গোপনে, দিনে প্রকাশ্যে ইবাদত করতেন; তাকওয়া, দোয়া, কান্না- সবকিছুতেই ছিলেন উম্মতের জন্য উত্তম  আদর্শ। আমাদের জীবনও হোক এমন- দুনিয়াকে হাতে রেখে, কিন্তু হৃদয়কে আল্লাহর সঙ্গে যুক্ত রেখে। আমিন।




অসিয়ত সম্পর্কে ইসলামি বিধান

ইসলামিক ডেস্কঃ অসিয়ত হলো কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর পর কোনো কিছু করা বা হওয়ার নির্দেশনা প্রদান। কারো কারো মতে, পরবর্তী সময়ে কার্যকর করার নির্দেশসংবলিত বিশেষ উপদেশ। যেমন-আমানত পৌঁছে দেওয়া, সম্পদ দান করা, কন্যা বিয়ে দেওয়া, মৃত ব্যক্তিকে গোসল দেওয়া, তার জানাজা পড়ানো, মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া সম্পত্তির এক-তৃতীয়াংশ বণ্টন করা ইত্যাদি অসিয়তের অন্তর্ভুক্ত।

অসিয়তের সময় দুজন সাক্ষী রাখা উচিত, যেন পরবর্তী সময়ে মতানৈক্য সৃষ্টি না হয়। সম্পদের এক-তৃতীয়াংশ পরিমাণ অসিয়ত করা জায়েজ। এর চেয়ে বেশি অসিয়ত করা জায়েজ নয়। যেসব হক আদায় করা ওয়াজিব তার জন্য অসিয়ত করাও ওয়াজিব।

অসিয়তকারীর পক্ষে অসিয়ত কোনো চুক্তি নয়। কাজেই অসিয়ত করার পর যত দিন সে জীবিত থাকে, তত দিন তা প্রত্যাহার করার অধিকার তার থাকে। মানুষের স্বীয় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ওপর তার মালিকানাস্বত্ব নেই।

তাই এই অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করা বা অন্যের কাছে হস্তান্তর করার অধিকারও মানুষের নেই। আর অসিয়ত শুধু নিজ মালিকানাধীন সম্পদের মধ্যেই করা যায়। তাই মৃত্যু-পরবর্তী অঙ্গদানের অসিয়তের কোনো গ্রহণযোগ্যতা ইসলামে নেই। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ১৮১৫২, দুররুল মুখতার : ১০/৩৩৭)

যেসব লোক মুমূর্ষু ব্যক্তির মুখ থেকে কোনো অসিয়ত শুনেছে, তাদের পক্ষে সে অসিয়ত কোনো ধরনের কমবেশি করা জায়েজ নয়। গুনাহের কাজের অসিয়ত করলে তা গ্রহণযোগ্য নয়। সুতরাং তা পূর্ণ করা যাবে না, করলে গুনাহ হবে। (রদ্দুল মুহতার : ১০/৩৯৭)




মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের কাজের ফেরার নির্দেশ, না মানলে ব্যবস্থা

বিশেষ প্রতিবেদকঃ মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের দাবি পূরণে সরকারের ইতিবাচক কার্যক্রম চলছে। তাই তাদের কর্মবিরতির কর্মসূচি প্রত্যাহার করে কাজে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রগুলোতে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টরা গত কয়েকদিন ধরে দশম গ্রেড বাস্তবায়নের দাবি আদায়ে কর্মবিরতিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করায় জরুরি স্বাস্থ্য সেবা ব্যাহত হচ্ছে এবং সেবাপ্রার্থী সাধারণ মানুষ দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। মানুষের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সেবা প্রাপ্তিতে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় বিজ্ঞপ্তিতে সেবা গ্রহীতাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে মন্ত্রণালয় ।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, দশম গ্রেড প্রদানের দাবিটি দীর্ঘদিনের পুরানো। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় সকল কর্মকাণ্ড ইতিবাচকভাবে সম্পন্ন করে সংশ্লিষ্ট পক্ষসমূহকে অবহিত করেছে।

এই দাবি বাস্তবায়নে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মনোভাবও ইতিবাচক এবং তারাও আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। যেহেতু এটি দীর্ঘদিনের সমস্যা, কাজেই তা সমাধানের জন্য সরকারকে প্রয়োজনীয় সময় দিতে হবে।

সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবের সঙ্গে বৈঠকে এসব বিষয়ে আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিদের অবহিত করা হয়।

এরপরও তারা দাবি আদায়ের নামে রোগীদের জিম্মি করে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন। যা স্বাস্থ্যসেবার মত মহান পেশায় নিয়োজিত সেবাপ্রদানকারীদের কাছে কোনোভাবেই কাম্য নয়।

এ অবস্থায়, সরকারের সকল পক্ষের ইতিবাচক মনোভাব, উদ্যোগ ও কর্মকাণ্ড চলমান অবস্থায় কর্মবিরতির নামে রোগীদের সেবাবঞ্চিত করার পথ পরিত্যাগ করে অবিলম্বে কাজে যোগদানের জন্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে অনুরোধ করা হচ্ছে।

অন্যথায়, এ ধরনের অত্যাবশ্যকীয় সেবা বন্ধের মত জনস্বার্থবিরোধী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রসঙ্গত, ১১তম গ্রেড থেকে ১০ম গ্রেডে উন্নীতকরণের দাবিতে আন্দোলন করছে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টরা।




রংপুরের শাহিনুল ইসলাম: গ্রামের কৃষকদের জন্য স্বপ্নের কৃষি উদ্যোগ

রংপুর প্রতিবেদকঃ ২০০৬ সালে মিঠাপুকুরের ময়েনপুর পূর্বপাড়া গ্রামের দশম শ্রেণির ছাত্র শাহিনুল ইসলাম (বকুল) শখের বশে দুটি হাঁস পালন শুরু করেছিলেন। কয়েক বছরের মধ্যে হাঁসের সংখ্যা দুই হাজার ছাড়িয়ে যায়। এরপর তিনি গরু, হাঁড়িভাঙা আম, শিল আলু ও মাছ চাষের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এলাকায় সাফল্যের নজির স্থাপন করেন।

শাহিনুল ইসলাম বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এইচএসসি পাশ করার পরেও কৃষিকেই পেশা হিসেবে বেছে নেন। তিনি দেশি মুরগি, কোয়েল পাখির ডিম ও বাচ্চা উৎপাদনসহ বিভিন্ন কৃষিকাজ চালাচ্ছেন। স্থানীয় কৃষকদের সংগঠিত করতে ২০১২ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘ময়েনপুর কৃষি তথ্য ও যোগাযোগ কেন্দ্র’। এই কেন্দ্রের মাধ্যমে এক যুগের বেশি সময় ধরে গ্রামের কৃষকরা কৃষি তথ্য, প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা পাচ্ছেন।

সংগঠনটি কৃষি সম্প্রসারণ, বিপণন, হর্টিকালচার ও মৎস্য বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে। কৃষকেরা এখানে বিষমুক্ত ফল, সবজি উৎপাদন ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার শিখছেন। সংগঠনটি ২০২০ সালে করোনাকালে কৃষকের উৎপাদিত ফসল বিপণনে সহযোগিতা করার জন্য জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO) থেকে ফুড হিরো পুরস্কার অর্জন করে। এছাড়া, সংগঠনটির উদ্যোগে পাঁচ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে, যা কৃষকের ফসল ঘরে তোলার সুবিধা দিয়েছে।

শাহিনুল জানান, কীটনাশক ছাড়া আলোর ফাঁদে পোকা দমন, পাচিং পদ্ধতি ও ফুড ব্যাগিং পদ্ধতি ব্যবহার করে ২০১৬ সালে তিনি বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদক পান। তিনি বলেন, “ভবিষ্যতে আমরা একটি কৃষি হাসপাতাল তৈরি করতে চাই, যেখানে কৃষকের ফসল ও স্বাস্থ্য সম্পর্কিত সমস্যার সমাধান হবে।”

স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন, ময়েনপুর কৃষি তথ্য ও যোগাযোগ কেন্দ্রের সহায়তায় গ্রামের চিত্র অনেক বদলেছে। কৃষকরা মৎস্যচাষ, অসময়ে টমেটো, শসা ও মরিচ চাষসহ আধুনিক কৃষিকৌশল শিখছেন। এতে তাদের আয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

শাহিনুল ইসলাম ও তার সংগঠন প্রমাণ করেছেন, কৃষি শুধুমাত্র জীবিকা নয়, বরং গ্রামের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সামাজিক কল্যাণের অন্যতম হাতিয়ার হতে পারে। 




নেসলে বাংলাদেশের উদ্যোগে ‘দ্য গাট নেক্সাস’ বৈজ্ঞানিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

স্বাস্থ্য ডেস্কঃ নেসলে বাংলাদেশের আয়োজনে গত ৪ ও ৫ নভেম্বর রেডিসন ব্লু ঢাকায় দুই দিনব্যাপী বৈজ্ঞানিক সম্মেলন ‘দ্য গাট নেক্সাস’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলনে দেশ-বিদেশের ২৫০-এর বেশি গবেষক, বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন। সম্মেলনের মূল লক্ষ্য ছিল গাট মাইক্রোবায়োমের বৈজ্ঞানিক গুরুত্ব ও মানুষের সার্বিক সুস্থতার সঙ্গে এর নিবিড় সম্পর্ক তুলে ধরা।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, মানুষের পেটে থাকা উপকারী জীবাণু বা গাট মাইক্রোবায়োম হজমশক্তি, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা এবং মানসিক সুস্থতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সম্মেলনে বিভিন্ন সেশন, প্রেজেন্টেশন, ইন্টারঅ্যাকটিভ আলোচনা এবং হাতে-কলমে শেখার কার্যক্রমের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা গাট হেলথ সংক্রান্ত আধুনিক গবেষণা ও বাস্তব প্রয়োগ সম্পর্কে ধারণা লাভ করেন।

আন্তর্জাতিক আলোচকদের মধ্যে ছিলেন শ্রীলঙ্কার অধ্যাপক ড. শামান রাজেন্দ্রজিথ, যিনি শিশুদের গাট মাইক্রোবায়োমের বিকাশ ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকে সঠিক মাইক্রোবায়োম গড়ে উঠলে জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা আরও শক্তিশালী হয়। নেদারল্যান্ডসের অধ্যাপক ড. মার্ক এ বেনিঙ্গা শিশুদের কলিক সমস্যা ও গাটের ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্যহীনতার ওপর তাঁর গবেষণা উপস্থাপন করেন।

বাংলাদেশি বাস্তবতা সামনে রেখে ড. মো. ইকবাল হোসেন গাটবান্ধব খাবার, প্রিবায়োটিক, প্রোবায়োটিক ও সিনবায়োটিক গ্রহণের সুবিধা এবং শিশুদের পুষ্টি উন্নয়নে করণীয় বিষয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, “দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় বায়োটিকস যুক্ত হলে হজমশক্তি ও সার্বিক সুস্থতায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসে, যা জীবনমান উন্নত করতে সহায়তা করে।”

কর্মশালায় প্রোবায়োটিক ও সিনবায়োটিক সম্পর্কিত আধুনিক গবেষণার ভিত্তিতে প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। অংশগ্রহণকারীরা সরাসরি প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ও গবেষণা পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ পান, যা নেসলে বাংলাদেশের গবেষণানির্ভর নিউট্রিশন উদ্ভাবনের প্রতিশ্রুতি আরও দৃঢ় করে।

নেসলে বাংলাদেশ জানিয়েছে, এই উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতা নিশ্চিত ও বিজ্ঞাননির্ভর সমাধানের মাধ্যমে স্বাস্থ্যকর জীবনধারা গড়ে তোলার অংশ। বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও শিক্ষামূলক প্ল্যাটফর্মে বিনিয়োগের মাধ্যমে নেসলে বিশ্বব্যাপী গাট হেলথ এডুকেশনে নেতৃত্ব দিচ্ছে।




পরীক্ষায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য বাড়তি সময়ের সুবিধা

বিশেষ ডেস্কঃ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪ সালের অনার্স ৩য় বর্ষের পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন (অটিস্টিক, ডাউন সিনড্রোম, সেরিব্রাল পলসি আক্রান্ত) শিক্ষার্থী থাকলে তারা পরীক্ষায় ৩০ মিনিট অতিরিক্ত সময় পাবেন।
বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. এনামুল করিম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ বিশেষ সুবিধা পাওয়ার জন্য সমাজসেবা অধিদপ্তর কর্তৃক প্রতিবন্ধী সনদ থাকতে হবে। পরীক্ষা শুরুর কমপক্ষে ২ কর্মদিবস আগে অধ্যক্ষ বা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীদের তথ্য (প্রবেশপত্রের কপি ও প্রতিবন্ধী সনদের কপি) পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বা সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বরাবরে পাঠাতে হবে।

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পরীক্ষার্থীদের উত্তরপত্র পৃথকভাবে সিলগালা করে অতিরিক্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, অনার্স ৩য় বর্ষ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর-১৭০৪ এই ঠিকানায় পাঠাতে হবে। প্যাকেটের উপরে ‘প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীর উত্তরপত্র’ লাল কালিতে লিখতে হবে।




৪ ডিসেম্বর ২০২৫: আজকের নামাজের সময়সূচি

ইসলামিক ডেস্কঃ আজ বৃহস্পতিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪৩২, ১২ জমাদিউস সানি ১৪৪৭।

ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ—

জোহরের সময় শুরু – ১১টা ৫২ মিনিট।

আসরের সময় শুরু – ৩টা ৩৫ মিনিট।

মাগরিব – ৫টা ১৪ মিনিট।
এশার সময় শুরু – ৬টা ৩৩ মিনিট।

আগামীকাল ফজর শুরু – ৫টা ১১ মিনিটে।

আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত – ৫টা ১০ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় – ৬টা ২২ মিনিটে।




নসম্পদ ব্যবহারে ইসলামের নির্দেশনা ও করণীয়

ইসলামিক ডেস্কঃ আল্লাহ যাকে ইচ্ছা ধনসম্পদ ও সম্মানের অধিকারী করেন। ইচ্ছা হলেই যে কারোর সম্পদ ও সম্মান কেড়ে নেন। এ বিশ্বজগতের রাজা মহারাজা পরাক্রমশালী সম্রাটদের জীবনেরও অবসান ঘটেছে আল্লাহর ইশারায়।

দৃশ্যত যারা মহাশক্তিমান তারাও প্রভাব-প্রতিপত্তি হারিয়ে অস্তিত্বহীন হয়েছে। যারা আল্লাহতায়ালার দেওয়া নিয়ামত, সম্মান, আল্লাহর নির্দেশিত পথে পরিচালনা করেছেন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করেছেন, তাদের নাম-যশ তাঁর ইচ্ছায় অম্লান অমর হয়ে রয়েছে। এ জগতে যারা কৃতজ্ঞ চিত্তে আল্লাহর নিয়ামত ভোগ করে, আল্লাহর নির্দেশিত পথে মানবতার সেবা করে গেছেন তাদের অবদান অক্ষয়-চিরন্তন হয়ে আছে।

এ পৃথিবীতে আজ পর্যন্ত যত নবী-রসুল আগমন করেছেন তাঁরা চাইলে প্রচুর ধন-সম্পদের মালিক হতে পারতেন। কিন্তু তাঁরা বিলাসবহুল জীবনের বদলে আল্লাহর দীন প্রতিষ্ঠা ও মানবতার সেবায় উদ্ভাসিত হয়েছেন। তাঁরা মহান রাব্বুল আলামিনের সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে সর্বস্ব বিলিয়ে দিয়ে গেছেন। আল্লাহতায়ালা আমাদের ধনসম্পদ, মান-মর্যাদা ইজ্জত দান করে পরীক্ষানিরীক্ষা করেন।

আমাদের কর্তব্য- সর্বাবস্থায় তাঁর প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা। আল্লাহর এই বিশাল জগতের সৃষ্টিকুলকে অনিবার্য মৃত্যুর স্বাদ বিনা দ্বিধায় ভোগ করতে হবে। সবাইকে এক সময় মৃত্যুর দিকে যাওয়ার পরিণতি মেনে নিতে হবে। মৃত্যুর কোনো নির্দিষ্ট সীমা-পরিসীমা নেই। আল্লাহ যেভাবে ইচ্ছা করেন সেভাবেই বিনা বাক্যব্যয়ে মেনে নিতে হয়। দুনিয়ায় অর্জিত সব ধনসম্পদের মায়া একদিন আমাদের পরিত্যাগ করে একেবারেই শূন্য হাতে দুনিয়া থেকে বিদায় নিতে হবে।

এ বিশ্বজগৎ সম্পূর্ণভাবেই একটি অতি অপ্রশস্ত খেলার মাঠ। এ মাঠে কিছুদিন খেলাধুলা করে এক অজানা নিরুদ্দেশ গন্তব্যের দিকে যেতে হবে। সেখানে অনন্তকালের জন্য চিরস্থায়ীভাবে থাকতে হবে। এ বিশ্ব চরাচরে পড়ে থাকবে আমাদের অতি কষ্টে অর্জিত সব অমূল্য ধনসম্পদ। যা সঙ্গে নেওয়ার কোনো ব্যবস্থাই আমরা করে যেতে পারি না। এ জন্য নিয়তি আমাদের কোনো সময়ই দেয় না। আমাদের জীবন অবসানের পর রেখে যাওয়া এ সম্পদের কী অবস্থা হবে, কীভাবে ব্যয় হবে তাও আমরা বলতে পারি না।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে মহান আল্লাহতায়ালা মহাগ্রন্থ আল কোরআনের আলোকে আমাদের প্রিয় নবী মহামানব হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর মাধ্যমে সুসংবাদ প্রেরণ করেছেন যে, আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ জীব মানুষের মৃত্যুর পর রেখে যাওয়া তিনটি অবদান এ দুনিয়ায় বিরাজ করবে এবং পরকালেও নাজাত তথা জান্নাত লাভে সহায়তা করবে।

যেমন- ১. তোমার সন্তানকে যদি সুসন্তান করে রেখে যেতে পার তবে তারা মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে দুই হাত তুলে প্রাণভরে তোমাদের জন্য দোয়া করবে- রব্বির হামহুমা কামা রাব্বা ইয়ানি ছগিরা। হে পরম দয়ালু আল্লাহ, আমার পিতা-মাতাকে সস্নেহে লালনপালন ও প্রতিপালন কর।

২. আল্লাহর রাস্তায় ফিসাবিলিল্লাহ হিসেবে কোনো বস্তু বা ধনসম্পদ দান করে যাওয়া যা এতিম নিঃস্ব হতদরিদ্র গরিব মিশকিন পঙ্গুদের জন্য ব্যয় হবে।

৩. মানবতার সেবাসহ সৃষ্টিকুলের জন্য কোনো দাতব্য প্রতিষ্ঠান তৈরি বা স্থাপন করে যাওয়া, যাতে অব্যাহতভাবে পরোপকার হতে থাকবে। ইসলামের দৃষ্টিতে সৎভাবে ধনসম্পদ অর্জন বা ধনী হওয়ার বিষয়ে বিধিনিষেধ নেই। তবে অর্জিত সম্পদ সৎভাবে সঠিক পথে ব্যয় করতে হবে।

কিন্তু প্রকৃতপক্ষে আমাদের সমাজে দেখা যায়, আমরা বেপরোয়াভাবে হিংসা-বিদ্বেষ, জোরজবরদস্তি, লুটপাট, অন্যায়ভাবে সম্পদ আহরণ করে সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলি। এ সম্পদ জমানোর ক্ষেত্রে অধিকাংশ সময় দেখা যায় নিজের জমানো সম্পদ মানুষ নিজেই ভোগ করে যেতে পারে না। একান্তভাবে লক্ষ্য করলে আমরা দেখতে পাব, হাজার হাজার কোটি টাকার ধনসম্পদ থাকলেও তার মালিক শান্তিতে ঘুমাতে পারে না তার জমানো টাকার চিন্তায় এবং লোভ-লালসার প্ররোচনায়। ইচ্ছা থাকলেও পেটভরে খেতে পারে না মুখে রুচি না থাকার কারণে।

এর কারণ হলো- আমরা ধনসম্পদের প্রতি এত বেশি লোভী হয়ে পড়ি যে, লোভের বশবর্তী হয়ে খুনাখুনি করে হলেও ধনসম্পদ অর্জন করে থাকি। অন্যায়ভাবে ধনসম্পদ জমিয়ে কার জন্য রেখে যাব- তা আমরা ঘুণাক্ষরেও ভাবি না। ধনসম্পদের লোভে মানইজ্জত বিসর্জন দিতে হলেও আমরা কুণ্ঠাবোধ করি না। মৃত্যুর পর আমাদের খালি হাতেই অজানার পথে যাত্রা করতে হবে।

মূলত এ জীবনটা বড় বেশি ক্ষণস্থায়ী। এক মুহূর্তের জন্যও বেঁচে থাকার আশা করতে পারি না। তাই আমাদের সবাইকে প্রতিজ্ঞা করতে হবে, আমরা অন্যায়ভাবে অবৈধ পথে দুর্নীতির মাধ্যমে সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলব না। যেহেতু দিন দুনিয়ার মালিক আল্লাহ সেহেতু তাঁর ওপর আশা-ভরসা রাখতে হবে।