ভূমিকম্প আমাদের জন্য সতর্কবার্তা

ইসলামিক ডেস্কঃ ভূমিকম্প শুধুই প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, বরং এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে আমাদের জন্য সতর্কবার্তা। যখন আমরা ইমান সম্পর্কে উদাসীন হয়ে পড়ি, আল্লাহকে ভুলে পাপাচারে আকণ্ঠ ডুবে যাই, তখন আল্লাহ আমাদের সতর্ক করার জন্য নানা ধরনের দুর্যোগ প্রেরণ করেন। ভূমিকম্প এর অন্যতম। কোরআন থেকে আমরা জানতে পারি, আগেও অনেক জাতিকে আল্লাহ ভূমিকম্প দ্বারা শাস্তি দিয়েছেন।

মহান আল্লাহ সুরা আরাফের ৭৮ নম্বর আয়াতে বলেছেন, অতঃপর ভূমিকম্প তাদের হঠাৎ পাকড়াও করল আর তারা তাদের ঘরগুলোতে মুখ থুবড়ে পড়ে রইল। এই আয়াতে আল্লাহ সালেহ (আ.)-এর উম্মতের পরিণতি বর্ণনা করেছেন। সামুদ জাতির কাছে একত্ববাদের দাওয়াত পৌঁছাতে আল্লাহ সালেহ (আ.)-কে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু সামুদ জাতি তাদের নবীকে অস্বীকার তো করলই, আল্লাহর পক্ষ থেকে অলৌকিক নিদর্শন হিসেবে প্রেরিত উটনিকেও তারা হত্যা করে। যার ফলে তাদের ওপর আল্লাহ ভূমিকম্পের শাস্তি প্রেরণ করেন। লুত (আ.)-এর উম্মতের শাস্তির বিষয়ে মহান আল্লাহ বলেছেন, অতঃপর সূর্যোদয়ের সময় প্রকাণ্ড চীৎকার তাদের পাকড়াও করল। এরপর আমি জনপদকে উল্টিয়ে ওপর-নিচ করে দিলাম এবং তাদের ওপর পোড়ামাটির পাথর-কংকর বর্ষণ করলাম (সুরা হিজর)।

লুত (আ.)-এর সম্প্রদায় সমকামিতার মতো নোংরা ও জঘন্য অপকর্মে লিপ্ত হয়েছিল। সেই অপকর্মের পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ উপর্যুক্ত শাস্তি প্রেরণ করেন। তাদের জনপদকে ওলটপালট করে দেন। দুঃখের বিষয় হলো, যে অপরাধের কারণে আল্লাহর ভয়াবহ গজব তাদের ওপর নাজিল হয়েছিল, সেই একই ধরনের গর্হিত কাজ আজ আমাদের সমাজে প্রকাশ্যে ঘটছে। শুধু ইসলাম ধর্ম নয়, প্রচলিত প্রতিটি ধর্মেই সমকামিতা জঘন্য অপরাধ। এমনকি দেশীয় আইনেও এটি সুস্পষ্ট শাস্তিযোগ্য অপরাধ। অথচ অধিকারের নামে রুচি ও প্রকৃতিবিরুদ্ধ সেই কাজের অনুমোদনের দাবি আজ প্রকাশ্যে করা হচ্ছে।

মনে রাখতে হবে, এমন কিছু অবাধ্যতা আছে, যা কোনো সমাজে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে গণহারে আল্লাহর গজব নেমে আসে। তাই আল্লাহর অসন্তুষ্টি ডেকে আনে, এমন সব পাপাচারের বিরুদ্ধে আমাদের প্রত্যেকের সচেতন ও সোচ্চার হওয়া অপরিহার্য।

ভূমিকম্পে আমাদের দুই ধরনের প্রস্তুতি নিতে হবে। এক. আধ্যাত্মিক প্রস্তুতি। দুই. জাগতিক প্রস্তুতি। এতক্ষণ যা বলা হলো, তা অধ্যাত্মিক প্রস্তুতির নির্যাস। পাপের জন্য তওবা করা, পাপ থেকে বেঁচে থাকা, আল্লাহর নৈকট্যলাভের চেষ্টা করা এসবই আধ্যাত্মিক প্রস্তুতির অংশ।

আর ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পেতে যা কিছু করা হয় সেগুলো জাগতিক প্রস্তুতির অংশ। আমরা এমন এক ভৌগোলিক এলাকায় বসবাস করি, জনঘনত্ব ও অপরিকল্পিত নগরায়ণ এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এখানে প্রতিটি অট্টালিকা যেন একেকটি সম্ভাব্য সমাধিসৌধ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকায় যদি ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে, তাহলে এক লাখের বেশি ভবন ধসে যেতে পারে। চিন্তা করুন, এটি কত ভীতিজাগানিয়া পূর্বাভাস! দুঃখজনক হলো, এমন ভয়াবহ ঝুঁকির বিপরীতে রাষ্ট্রীয় প্রস্তুতি একেবারেই অপ্রতুল। আধুনিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত উদ্ধারকর্মীর সংখ্যা নগণ্য, বড় ধরনের উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার মতো ভারী যন্ত্রপাতিও অপর্যাপ্ত। ফায়ার সার্ভিসের সীমিত সক্ষমতা দিয়ে হাজার হাজার ভগ্ন স্থাপনা সামলানো কেবলই কল্পনা। অথচ বিভিন্ন স্থাপনার নাম পরিবর্তন, ভাস্কর্য নির্মাণ বা অপ্রয়োজনীয় মেগা প্রকল্পেই নয়, নেতা-নেত্রীদের জন্য তোরণ নির্মাণ, রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ, শোভাযাত্রা, নানা ধরনের আনুষ্ঠানিকতা ও ক্ষমতার প্রদর্শনীতেও বিপুল অর্থ ব্যয় হয়। দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সম্পদের যে অপচয় ঘটে, তা এই অপ্রয়োজনীয় ব্যয়ের কাঠামোকে আরও প্রসারিত করে তোলে।

সেই অর্থের সামান্য অংশও যদি দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতি, ভূমিকম্প-প্রতিরোধী প্রযুক্তি, উদ্ধার সরঞ্জাম ও দক্ষ উদ্ধারকারী বাহিনীর প্রশিক্ষণে ব্যয় করা হতো, তাহলে সেটিই হতো সবচেয়ে যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ। এটি বিবেচিত হতো বর্তমানের সুরক্ষা এবং ভবিষ্যতের জন্য দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ হিসেবে।

তবে প্রস্তুতি যেন কেবল ভৌত অবকাঠামোর ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ না থাকে। জাগতিক প্রস্তুতির পাশাপাশি আমাদের আধ্যাত্মিক প্রস্তুতিও গ্রহণ করতে হবে। আল্লাহর রহমত ছাড়া কোনো পরিকল্পনা, প্রস্তুতি ও প্রযুক্তি নিরাপত্তা দিতে পারবে না। মনে রাখতে হবে, প্রতিটি দুর্যোগ আমাদের প্রতি সতর্কবার্তা। আমাদের সমাজের বিস্তৃত দুর্নীতি, জুলুম, অশ্লীলতা ও নৈতিক অবক্ষয় থেকে আমাদের গণ তওবা করা জরুরি।




আল্লাহর প্রতি ধৃষ্টতার ভয়াবহ ফলের বার্তা

ইসলামিক ডেস্কঃ মানবজীবনের মূল ভিত্তি হলো ঈমান ও আল্লাহভীতি। একজন মুসলমানের হৃদয়ে আল্লাহর প্রতি ভক্তি, সম্মান, ভালোবাসা ও ভয় সর্বোচ্চ স্থানে থাকে। কারণ আল্লাহই মহাবিশ্বের স্রষ্টা, পালনকর্তা, রিজিকদাতা ও নিয়ন্ত্রক। মানুষের সুখ-দুঃখ, জীবনের চলার পথ, মৃত্যুর পরের বিচার—সবই তাঁর হাতে। তাই আল্লাহর সঙ্গে ধৃষ্টতা প্রদর্শন করা, তাঁর মর্যাদাকে হেয় করা, তাঁর বিধানকে উপহাস করা অথবা তাঁর আদেশ অমান্য করে বিদ্রোহী আচরণ করা—এগুলো অত্যন্ত ভয়াবহ অপরাধ। কোরআন ও হাদিসে এসব অপরাধের শাস্তির বিষয়ে কঠোর বর্ণনা এসেছে।

আল্লাহর প্রতি ধৃষ্টতা কী

ধৃষ্টতা মানে হলো ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ, যেখানে কেউ নিজের সীমা ছাড়িয়ে আল্লাহর মর্যাদার বিরুদ্ধে বিদ্বেষ, বিদ্রুপ, অপমান বা অমান্যতা প্রদর্শন করে। আল্লাহর প্রতি ধৃষ্টতা কয়েকভাবে প্রকাশ পেতে পারে—

১. আল্লাহর অস্তিত্ব, ক্ষমতা বা জ্ঞান নিয়ে ব্যঙ্গ করা।

২. আল্লাহর বিধানকে উপহাস করা।

৩. কোরআনের আয়াত বা শরিয়তের নিয়মকে বিদ্রুপ করা।

৪. গুনাহকে তুচ্ছ মনে করে প্রকাশ্য অবাধ্যতা করা।

৫. নিজেকে আল্লাহর সমকক্ষ ভাবা বা তাঁর সঙ্গে উপহাসমূলক তুলনা করা।

ইসলামের ইতিহাসে ফেরাউন, হামান, সাদ্দাদের মতো ব্যক্তিরা আল্লাহর সঙ্গে ধৃষ্টতা দেখিয়েছিল। তাদের পরিণতি ছিল ভয়ংকর।

কোরআনে আল্লাহর সঙ্গে ধৃষ্টতার ভয়াবহ শাস্তির বর্ণনা

আল্লাহ বলেন, ‘যারা আল্লাহ সম্পর্কে অহংকার করে, তাদের অবশ্যই অপমানজনক শাস্তি দেওয়া হবে।’ (সুরা : গাফির/মুমিন, আয়াত : ৬০)

আরেক আয়াতে এসেছে, ‘যে আমার স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তার জন্য সংকীর্ণ জীবন এবং পরকালে তাকে অন্ধ অবস্থায় ওঠানো হবে।’

(সুরা : ত্বহা, আয়াত : ১২৪)

ধৃষ্টতা মানুষের হৃদয়কে কঠিন করে দেয়। এমন কঠিন হৃদয়কে আল্লাহ ধ্বংসের পথে টেনে নেন। কোরআনে আরো বলা হয়েছে, ‘আল্লাহর আয়াতকে যে উপহাস করে, তাদের জন্য আছে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি।’ (সুুরা : জাসিয়া, আয়াত : ৯)

আল্লাহর বিধানকে উপহাস করা বড় গুনাহ

কোরআনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ‘তোমরা কি আল্লাহ, তাঁর আয়াত ও তাঁর রাসুলকে নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করেছিলে? তোমরা অজুহাত দিয়ো না; তোমরা ঈমান আনয়নের পর কাফিরে পরিণত হলে।’

(সুরা : তাওবা, আয়াত : ৬৫-৬৬)

অর্থাৎ কেউ খোদা প্রদত্ত বিধান নিয়ে উপহাস করলে তার ঈমান নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এটি এমন অপরাধ, যার শাস্তি শুধু দুনিয়ায় নয়, আখিরাতে অনন্ত জাহান্নাম।

গুনাহকে ছোট করে দেখা অন্য রকম ধৃষ্টতা

রাসুল (সা.) বলেন, ‘একসময় মানুষ এমন যুগে পৌঁছবে, যখন তারা বড় বড় গুনাহকেও ঘাসের মতো তুচ্ছ মনে করবে।’ এটাই ধৃষ্টতার আরেক রূপ। মানুষ যখন ভুলকে ‘ছোট ভুল’ বলতে শুরু করে, তখন সে আসলে আল্লাহকে অপ্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ করে। আল্লাহ বলেন, ‘যে ব্যক্তি আমার স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, আমি তার ওপর একজন শয়তানকে কর্তৃত্ব দিই, যে তার সঙ্গী হয়ে যায়।’
(সুরা : জুখরুফ, আয়াত : ৩৬)

কেন আল্লাহর সঙ্গে ধৃষ্টতা সবচেয়ে ভয়াবহ অপরাধ

১. এটি মানুষের ঈমান ধ্বংস করে দেয়।

২. সমাজে দুষ্কর্ম, নৈরাজ্য ও নৈতিক অবক্ষয় বাড়ায়।

৩. আল্লাহর দয়া থেকে মানুষকে বঞ্চিত করে।

৪. আখিরাতে মুক্তির সব দরজা বন্ধ হয়ে যায়।

৫. ইচ্ছাকৃত ধৃষ্টতা শিরক বা কুফরিতে রূপ নিতে পারে।

আল্লাহর সঙ্গে ধৃষ্টতার দুনিয়াবি শাস্তি

ধৃষ্টতার শাস্তি শুধু আখিরাতের আগুন নয়; দুনিয়ায়ও এর ভয়াবহ পরিণতি দেখা যায়; যেমন—১. হৃদয় কঠিন হয়ে যাওয়া। ২. বরকত দূর হয়ে যাওয়া। ৩. মনের অশান্তি। ৪. রিজিকে সংকীর্ণতা। ৫. জীবনে ব্যর্থতা ও বিপর্যয়। ৬. সমাজে অপমানিত হওয়া। আল্লাহ বলেন, ‘যে আমার বিরুদ্ধে ঔদ্ধত্য করে, আমি তাকে লাঞ্ছিত করে দেব।’

মানুষ ধারণা করতে পারে যে সে ইচ্ছামতো চলছে, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তার ওপর আল্লাহর গজব কাজ করতে থাকে নীরবে।

আখিরাতে ধৃষ্টতার ভয়াবহ শাস্তি

কোরআনে ধৃষ্টতার জন্য যেসব শাস্তির বর্ণনা এসেছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—জাহান্নামের জ্বলন্ত আগুন, খাঁটি ফুটন্ত পানি পান করানো, লোহার বেড়িতে বেঁধে টেনে হাঁটানো, মুখমণ্ডল অন্ধকার হয়ে যাওয়া, হিসাবের ময়দানে লাঞ্ছনা, সর্বাত্মক হতাশা ও বঞ্চনা। আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই যারা আমার আয়াতসমূহ প্রত্যাখ্যান করেছে এবং অহংকারের সঙ্গে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, তাদের জন্য আকাশের দরজাসমূহ খোলা হবে না।’

(সুরা : আরাফ, আয়াত : ৪০)

অন্য আয়াতে এসেছে, ‘সেদিন অপরাধীদের মুখে কালো কালো চিহ্ন পড়বে।’




ব্রিটিশ হাউস অব কমন্সে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে গোলটেবিল বৈঠক

গাজীপুর প্রতিনিধিঃ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক সংস্কার কার্যক্রম, কারিকুলাম হালনাগাদ এবং শিক্ষার্থীদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরের উদ্যোগকে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের হাউস অব কমন্সের সদস্য ও উন্নয়ন সহযোগীরা প্রশংসা করেছেন। যুক্তরাজ্যের স্যালফোর্ড ইউনিভার্সিটির সঙ্গে একাধিক শিক্ষা ও গবেষণা সহযোগিতা বিষয়ে সমঝোতা স্মারক সইয়ের পর হাউস অব কমন্সে এ গোল টেবিল আলোচনার আয়োজন করা হয়।

গত ২৬ নভেম্বর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও স্যালফোর্ড ইউনিভার্সিটির মধ্যে ডেটা সায়েন্স, মেশিন লার্নিং, পাবলিক হেলথ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারসহ বিভিন্ন বিষয়ে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর হয়। এর ধারাবাহিকতায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বৃহত্তর ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহাম, ওল্ডহ্যামের এমপি জিম ম্যাকমেহোন এবং ওল্ডহ্যাম কাউন্সিলর আবদুল জব্বার।

অনুষ্ঠানে মূল বক্তা হিসেবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এএসএম আমানুল্লাহ বলেন, দেশের উচ্চশিক্ষায় ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থীকে তত্ত্বাবধান করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। তাদের দক্ষতায় রূপান্তরে কারিগরি শিক্ষা, ডিজিটাল শিক্ষার প্রসার এবং এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই।

ব্রিটিশ এমপি জিম ম্যাকমেহোন বলেন, বৈশ্বিক অংশীদারত্ব ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়। বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় যেসব পদক্ষেপ নিচ্ছে, তা সহায়তার জন্য তিনি প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সংস্কার কর্মসূচিরও প্রশংসা করেন।

গ্রেটার ম্যানচেস্টার বাংলাদেশ পার্টনারশিপের চেয়ারম্যান আবদুল জব্বার বলেন, আধুনিক কারিগরি শিক্ষা ও ডিজিটাল দক্ষতা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের চাবিকাঠি। স্যালফোর্ড ইউনিভার্সিটির গ্লোবাল এনগেজমেন্টের অধ্যাপক নিক বিচ এবং ডেটা সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সারে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ ব্যক্ত করেন এবং এআই-ভিত্তিক শিক্ষা সহায়তার আশ্বাস দেন।

এ ছাড়া আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ হাইকমিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি নূরানী রোপমা, ব্রিটিশ কাউন্সিলের সাউথ এশিয়ার পরিচালক ডেভিড নকস, স্যালফোর্ড ইউনিভার্সিটির উপউপাচার্য অধ্যাপক ভিকি, ব্রিটিশ কারিগরি শিক্ষা বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক পলসহ ব্রিটিশ সরকারের বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। তাঁরা বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে অংশীদারত্বের আগ্রহ প্রকাশ করেন।

গোল টেবিল আলোচনার সভাপতিত্ব করেন ব্রিটিশ এমপি জিম ম্যাকমেহোন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায়।




পিএলএসডি কোর্সে দক্ষতা প্রদর্শনে ব্যাচ ২২২-এর শিক্ষার্থীরা

ইরিন তৃষ্ণা আক্তার মুন প্রতিবেদকঃ গ্রিন ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত হলো মক ভাইভা ও প্রেজেন্টেশন সেশন
গ্রিন ইউনিভার্সিটিতে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হলো PLSD (Professional Life Skill Development) কোর্সের আওতায় ব্যাচ ২২২-এর শিক্ষার্থীদের মক ভাইভা ও প্রেজেন্টেশন সেশন। এই সেশনে শিক্ষার্থীরা তাদের পেশাগত দক্ষতা, উপস্থাপন কৌশল এবং যোগাযোগ সক্ষমতা প্রদর্শনের সুযোগ পান।
পিএলএসডি শুধুমাত্র একটি কোর্স নয়, বরং এটি শিক্ষার্থীদের সফল পেশাজীবনে রূপান্তরের একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে। উক্ত সেশনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তাদের উপস্থাপনা প্রদান করেন এবং বিভিন্ন বাস্তবভিত্তিক প্রশ্নের উত্তর দেন, যা তাদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানান, এই ধরনের কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের সফট স্কিল, প্রফেশনাল আচরণ এবং ইন্টারভিউ মোকাবিলার সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে মিডিয়া বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য এই উদ্যোগ একটি বাস্তব অভিজ্ঞতা হিসেবে কাজ করেছে।
ব্যাচ ২২২-এর এই সফল আয়োজন প্রমাণ করে যে, শিক্ষার্থীরা এখন পেশাগত জগতে প্রবেশের জন্য আরও আত্মনির্ভরশীল ও প্রস্তুত।



ডিপিএইচই প্রকল্প নিয়ে অভিযোগের ঝড়: জনস্বাস্থ্যের তবিবুর রহমানকে ঘিরে অনিয়ম–দুর্নীতির নানা তথ্য

এসএম বদরুল আলমঃ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (ডিপিএইচই)-এর বিশ্বব্যাংক অর্থায়িত প্রকল্প “মানবসম্পদ উন্নয়নে গ্রামীণ পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি প্রকল্প” নিয়ে সম্প্রতি বড় ধরনের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পটির পরিচালক মোঃ তবিবুর রহমান তালুকদারকে ঘিরেই এই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। বিভিন্ন সূত্রের দাবি—প্রকল্পের বিপুল অর্থ ব্যয়ের হিসাব, কাজের মান এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি সব দিক থেকেই গুরুতর অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে। সূত্রের দাবি, তবিবুর রহমান ঘুষের মাধ্যমে এলজিআরডি উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়ার বিশেষ সহকারী মাহফুজের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করেন এবং সেই প্রভাব ব্যবহার করে নিজের সুবিধা নেন।

তবিবুর রহমানের জীবন শুরু হয়েছিল সিরাজগঞ্জের এক দরিদ্র পরিবার থেকে। ছোটবেলায় তাঁর ডাকনাম ছিল “শুক্কুর”। পড়ালেখায় অত্যন্ত মেধাবী হওয়ায় এলাকাবাসী তাঁকে সহযোগিতা করত। পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণীতে বৃত্তি, এসএসসি–এইচএসসিতে ভালো ফল এবং পরে বুয়েটে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়া—সব মিলিয়ে ক্যারিয়ারের শুরুটা ছিল উজ্জ্বল। এরপর তিনি ডিপিএইচইতে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে চাকরি পান এবং ধীরে ধীরে উচ্চপদে পৌঁছান।

তবে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ—চাকরির শুরু থেকেই বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম, টেন্ডার কারচুপি, ঘুষ লেনদেন ও নিম্নমানের কাজের মাধ্যমে তিনি বিপুল সম্পদ অর্জন করেন। বগুড়া, পাবনা, সিরাজগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় পোস্টিং থাকার সময়ে তিনি রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় বাড়ি–ফ্ল্যাট কেনেন এবং নিজ এলাকায় কিনেন একশ্রেণীর জমি। এসব সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই।

২০২১ সালের জানুয়ারিতে শুরু হওয়া প্রায় ১ হাজার ৮৮৩ কোটি টাকা ব্যয়ের এই বিশ্বব্যাংক প্রকল্পে তবিবুর রহমান প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পান। এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি—এই পদে আসার পেছনেও নানারকম যোগসাজশ ও ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। কিছু সূত্র বলছে, সেই সময়ের এলজিআরডি মন্ত্রী তাজুল ইসলাম এবং তাঁর এপিএস জাহিদ চৌধুরীর মাধ্যমে পদ পেতে বড় অঙ্কের টাকা লেনদেন হয়েছে। এসব অভিযোগ অবশ্য এখন পর্যন্ত আদালতে প্রমাণিত নয়।

মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প মনিটরিং কমিটির তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটির অগ্রগতি এখনো মাত্র ৪৬ শতাংশ, অথচ শেষ হতে বাকি আর দেড় মাস। অর্থাৎ, অর্ধেকের বেশি কাজই অসম্পূর্ণ। মাঠপর্যায়ের রিপোর্ট বলছে—অনেক টয়লেট ব্যবহারযোগ্য নয়, কমিউনিটি ক্লিনিকের টয়লেট দূরে হওয়ায় কাজে লাগছে না, আর পাইপ লাইনের জন্য ব্যবহৃত বেশিরভাগ পাইপই নিম্নমানের হওয়ায় দ্রুত অকার্যকর হয়ে পড়েছে। ৩০ জেলার ৯৮টি উপজেলায় কাজ হলেও অভিযোগ—মানের দিক থেকে বেশিরভাগই ত্রুটিপূর্ণ।

সূত্র জানায় টেন্ডার মেনিপুলেশন, ঠিকাদারের সাথে ১০-২০% চুক্তিতে কার্যাদেশ, নিম্নমানের কাজে ঘুষ নিয়ে বিল প্রদান, প্রকল্পের কেনাকাটায় ভুয়া বিল ভাউচার দিয়ে টাকা আত্মসাৎ, আউটসোর্সিং নিয়োগে ঘুষ, কনসালটেন্ট ফার্ম নিয়োগে মোটা অংকের ঘুষ। সূত্র আরো জানায় এই প্রকল্পে নানান ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে প্রকল্প পরিচালক মোঃ তবিবুর রহমান কামিয়েছেন প্রায় ২০০ কোটি টাকা। সূত্র জানায় প্রকল্পের শেষ দিকে এই দুর্নীতির মাত্রা আরো বেড়ে যাবে।

টেন্ডার প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে ঠিকাদার নিয়োগ, ভুয়া বিল–ভাউচার, নিম্নমানের কাজের বিল অনুমোদন—সবকিছুতেই অনিয়ম থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিভিন্ন সূত্র বলছে, এসব মাধ্যমে তবিবুর রহমান নাকি বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন—যা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রকল্প দপ্তরের ভেতরেও অসন্তোষ রয়েছে।

তবিবুর রহমানের ব্যক্তিগত জীবন ঘিরেও নানা আলোচনা আছে অফিসে ও এলাকায়। সহকর্মীদের অনেকেই তাঁকে ডাকেন “বিয়ে পাগলা তবিবুর” নামে। অভিযোগ আছে—তিনি যেখানেই পোস্টিং পেতেন, সেখানে বিয়ে করতেন। তাঁর বিবাহ সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় গুঞ্জন রয়েছে, এবং সূত্রের দাবি—এখন পর্যন্ত তাঁর কমপক্ষে চারটি বিয়ের খোঁজ মিলেছে। কেউ কেউ বলেন, তিনি সাধারণত অফিসের কম আয়ের কর্মচারী বা এলাকার স্বল্প আয়ের পরিবার থেকে বিয়ে করতেন, পরে তাঁদের নানা সুবিধা দিয়ে সাবলম্বী করে দিতেন। এছাড়া ঢাকাতেও নাকি তাঁর দুই স্ত্রী আলাদা দুই ফ্ল্যাটে থাকেন।

সবকিছুর মধ্যেই সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো—প্রকল্পের টাকার অপচয়, অনিয়ম, দুর্নীতি ও নিম্নমানের কাজ। সূত্রের দাবি—প্রকল্পের শেষ দিকেই এসব অনিয়ম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। যদিও এসব অভিযোগের অনেকটাই এখনো তদন্তাধীন এবং প্রমাণীকরণ বাকি।




মল পানিতে ভেসে গেলে কি স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে?

স্বাস্থ্য ডেস্কঃ সম্প্রতি ইউরোপিয়ান জার্নাল অব গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি অ্যান্ড হেপাটোলজিতে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু মানুষের মল পানিতে ভাসতে পারে। সাধারণত মল পানির চেয়ে ভারী হওয়ায় এটি ডুবে যায়, তবে মলে যদি বাতাস বা চর্বি বেশি থাকে, মল ভেসে যেতে পারে।

গবেষণায় ১,২৫২ জন রোগীর তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। দেখা গেছে, ফাংশনাল বাওয়েল ডিজঅর্ডারে আক্রান্ত রোগীদের ২৬ শতাংশের মল পানিতে ভেসেছে। অন্য ফাংশনাল পরিপাকতন্ত্র সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে এ হার ৩ শতাংশ।

ফাংশনাল বাওয়েল ডিজঅর্ডার হল এমন একটি সমস্যা যেখানে অন্ত্রে গঠনগত কোনো ত্রুটি না থাকলেও অন্ত্র স্বাভাবিকভাবে কাজ করে না। এছাড়া অতিরিক্ত আঁশ বা চর্বিযুক্ত খাবার, দুধের ল্যাকটোজ ও ফলের ফ্রুকটোজও মলকে ভাসমান করতে পারে।

তবে বিশেষ কোনো অসুবিধা না থাকলেও কিছু লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি:

  • মল দীর্ঘদিন ভেসে থাকা

  • স্বাভাবিকের চেয়ে দুর্গন্ধযুক্ত বা আঠালো মল

  • রক্তসহ মল বা টয়লেট পেপারে রক্ত দেখা

  • ওজন কমা, পেট ব্যথা, অতিরিক্ত গ্যাস

গবেষকরা জানাচ্ছেন, মল ভেসে থাকা সাধারণত স্বাভাবিক হলেও খাবার ও অভ্যাসের প্রতি মনোযোগ রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।




সিংড়ার চলনবিলে নৌকায় আমন ধান কাটা শুরু

নাটোর প্রতিনিধিঃ নাটোরের সিংড়া উপজেলার চলনবিলে এখনো নামেনি বন্যার পানি। হেমন্তের অগ্রহায়ণে সারাদেশে নতুন ধান কাটার উৎসব চললেও চলনবিলের কৃষকদের মুখে শঙ্কা আর হতাশা। জমিতে হাঁটু থেকে হাঁটুর ওপরে পানি থাকায় কৃষকদের ধান কাটতে হচ্ছে নৌকা দিয়ে। এতে বাড়ছে শ্রমিক খরচ, কমছে ফলন।

সরেজমিনে ডাহিয়া ও ইটালী ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠে দেখা যায়, পানিতে নেমে শ্রমিকরা কষ্ট করে ধান কাটছেন। কাটা ধান নৌকায় তুলে আনা হচ্ছে খোলায়, সেখান থেকে মাড়াই করে তুলছেন ঘরে।

কৃষকেরা বলছেন, দ্বিতীয় দফার আকস্মিক বন্যায় তারা চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন। প্রতি বিঘায় ফলন হচ্ছে ৫ থেকে ৬ মণ ধান। কিন্তু শ্রমিক ও অন্যান্য ব্যয়সহ সব খরচ বাদ দিলে কৃষকের হাতে থাকছে মাত্র ১ থেকে ২ মণ ধান।

ইটালী ইউনিয়নের পশ্চিম মাগুড়া গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম ভুট্টু বলেন, আমরা তিন ভাই মিলে ৭০ বিঘা ধান করেছি। বেশির ভাগ জমিতে নৌকা নিয়ে ধান কাটতে হচ্ছে। শ্রমিকই পাওয়া যাচ্ছে না। পানিতে ধান কাটতে শ্রমিকেরা রাজি হচ্ছেন না। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কাজের জন্য ৫শ থেকে ৭শ টাকা দিতে হচ্ছে।

ইন্দ্রাসন গ্রামের কৃষক সবুজ আলী জানান, ৫ বিঘা জমি বর্গা নিয়ে ধান করেছি। ফলন ভালো হলেও খরচ এত বেশি যে ১–২ মণ ধান ঘরে তোলাই কঠিন। এখন বর্গার ধান কীভাবে দেব—দুশ্চিন্তায় আছি।

ডাহিয়া ইউনিয়নের কাউয়াটিকরী গ্রামের কৃষক ফরিদ প্রামাণিক বলেন, প্রতি বছর আমন কেটে সরিষা করি। গত বছর ২০ বিঘা করেছি। কিন্তু এবার জমিতে পানি থাকায় সরিষা বপন করতে পারব কিনা চিন্তায় আছি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খন্দকার ফরিদ জানান, চলতি মৌসুমে ৫ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে বোনা আমন এবং ২৩ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে রোপা আমনের চাষ হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপের বন্যায় বোনা আমনের কিছু ক্ষতি হয়েছে।

তিনি বলেন, কৃষি প্রণোদনা ও পরামর্শ দিয়ে আমরা কৃষকদের সহযোগিতা করছি। পানি নেমে যাচ্ছে। সরিষা ও বোরো চাষে কৃষকেরা ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন বলে আশা করছি।




ভূমিকম্পকে যেভাবে দেখেন ঈমানদার ও ঈমানহীনরা

ইসলামিক ডেস্কঃ ভূমিকম্পের সেই আকস্মিক ঘটনা, যা হৃদয়কে কাঁপিয়ে দেয়, চোখে এনে দেয় আতঙ্ক এবং মুহূর্তের মধ্যে বহু প্রাণ কেড়ে নেয়—অনেকের চোখে তা শুধু একটি বস্তুবাদী ব্যাখ্যার ঘটনা! তবে এখন ঘটনা শুধু সংখ্যায় নয়, তা যেন হৃদয়ের চোখ দিয়ে দেখা যায়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমাদের আগে অনেক দৃষ্টান্ত অতিবাহিত হয়ে গেছে। অতএব, পৃথিবীতে ভ্রমণ করো এবং দেখো যারা সত্যকে অস্বীকার করেছিল তাদের পরিণতি কী হয়েছিল। এতে মানবজাতির জন্য রয়েছে একটি স্পষ্ট শিক্ষা আর আল্লাহভীরু মানুষদের জন্য রয়েছে দিকনির্দেশনা ও উপদেশ।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১৩৭-১৩৮)

কিন্তু গাফেল, অজ্ঞ ও অবিশ্বাসীদের বৈশিষ্ট্য হলো—আল্লাহর নিদর্শন থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া। তা হোক কোরআনের আয়াত বা মহাবিশ্বে ছড়িয়ে থাকা কুদরতের স্পষ্ট চিহ্ন—কোনো কিছুই তাদের মনকে নাড়া দেয় না। আল্লাহ বলেন, ‘মানুষের হিসাব-নিকাশের সময় ঘনিয়ে এসেছে, অথচ তারা উদাসীনতায় মুখ ফিরিয়ে আছে। তাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে যখনই কোনো নবীন উপদেশ আসে, তারা তা অমনোযোগী অবস্থায় শোনে—তাদের হৃদয় তো অন্যদিকে বিভ্রান্ত থাকে।’
(সুরা : অম্বিয়া, আয়াত : ১৩)

যেকোনো ঘটনা, ইতিহাস ও বাস্তবতাকে একমাত্র বস্তুবাদী চোখে দেখা—ইহজাগতিক ধ্যান-ধারণা মানুষের স্বভাবগত বিষয়। আল্লাহ তাদের মানসিকতার বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘আর যদি তারা আকাশের একটি টুকরা পতনশীল অবস্থায় দেখেও, তারা বলবে, ‘এ তো স্রেফ ঘন মেঘ!’  (সুরা : তুর, আয়াত : ৪৪)

একই মনোভাব আমরা দেখি ‘আদ’ জাতির ইতিহাসে। যখন তারা আল্লাহর পক্ষ থেকে আসন্ন শাস্তির মেঘ দেখল, তারা সরলভাবে ভাবল—এটা বৃষ্টির মেঘ। আল্লাহ বলেন, ‘অতঃপর তারা যখন দেখল যে তা তাদের উপত্যকার দিকে ধেয়ে আসছে, তারা বলল, এ তো এমন একটি মেঘ, যা আমাদের ওপর বৃষ্টি বর্ষণ করবে, বরং এটি সেই জিনিস, যার জন্য তোমরা তাড়াহুড়া করলে—এক প্রবল বায়ু, যাতে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।

এটি তার প্রতিপালকের আদেশে সব কিছু ধ্বংস করে দিল, ফলে এমন হলো যে তাদের ঘরবাড়ি ছাড়া আর কিছুই দৃশ্যমান রইল না।’ (সুরা : আহকাফ, আয়াত : ২৪-২৫)

একজন মুমিন কখনো শুধু বস্তুগত কারণের ওপর নির্ভর করে না। সে কারণগুলোর স্রষ্টা, আসমান-জমিনের মালিক আল্লাহর দিকে ফিরে যায়। যিনি কোনো বিষয়ের ইচ্ছা করলে কেবল বলেন—‘হও’, আর তা হয়ে যায়। মুমিন তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে, যাতে নুহ (আ.)-এর পুত্রের মতো ভুল না করে।

নুহ (আ.) যখন তাকে বলেন, ‘হে আমার প্রিয় পুত্র! আমাদের সঙ্গে ওঠে এসো, আর কাফিরদের সঙ্গে থেকো না।’ পুত্র জবাব দিল সম্পূর্ণ বস্তুবাদী দৃষ্টিভঙ্গিতে—‘আমি এমন এক পর্বতে আশ্রয় নেব, যা আমাকে পানির হাত থেকে রক্ষা করবে।’ তখন নুহ (আ.) বলেন, ‘আজ আল্লাহর আদেশ থেকে কাউকে রক্ষা করার নেই, তিনি যাকে দয়া করেন তাকে ছাড়া। এরপর তাদের মাঝে ঢেউ এসে দাঁড়াল এবং সে ডুবে যাওয়া লোকদের অন্তর্ভুক্ত হলো।’ (সুরা : হুদ, আয়াত : ৪৩)

ইহজাগতিক ধ্যান-ধারণা লোকেরা কি ভুলে গেছে—অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে ভুলে থাকার ভান করছে যে এই পৃথিবীর ভূত্বক, পর্বত, সাগর—সবই আল্লাহর আদেশেই পরিচালিত? আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘অতঃপর তিনি আকাশের দিকে মনোনিবেশ করলেন, যখন তা ছিল ধোঁয়াশাচ্ছন্ন। তিনি আকাশ ও পৃথিবীকে বললেন, ‘চাই স্বেচ্ছায়, চাই অনিচ্ছায়—তোমরা আসো।’ তারা বলল, ‘আমরা স্বেচ্ছায় উপস্থিত হলাম।’

(সুরা : ফুসসিলাত, আয়াত : ১১)

তিনি আদেশ করেন আর সৃষ্টিজগৎ বিনা দ্বিধায় অনুসরণ করে। তিনি তাদের ধারণ করে রেখেছেন তাদের নির্ধারিত ভূমিকায়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ আসমান ও জমিনকে ধরে রেখেছেন, যাতে তারা ভেঙে না পড়ে। আর যদি তারা ভেঙে পড়ত, তবে আল্লাহ ছাড়া কেউ নেই যে তাদের ধরে রাখতে পারত।’

(সুরা : ফাতির, আয়াত : ৪১)

বিজ্ঞানীরা কী বলেন? তাঁরা বলেন, অপ্রত্যাশিত! কিন্তু আল্লাহর কাছে কিছুই অপ্রত্যাশিত নয়। কেমন যেন আল্লাহ তাআলা আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন সেই অত্যাচারীর দিকে, যার নাম ছিল কারুন। আল্লাহ যখন তাকে বিপুল সম্পদ দান করেছিলেন, সে অকৃতজ্ঞ হয়ে বলেছিল, ‘আমি তো এগুলো পেয়েছি আমার নিজ জ্ঞানের কারণে!’ এ ছিল তার অহংকার, তার অজ্ঞতা। ফলে শাস্তি ছিল অনিবার্য—‘অতঃপর আমরা তাকে ও তার গৃহকে ভূগর্ভে ধ্বংস করে দিলাম। আল্লাহ ছাড়া তার কোনো দল তাকে সাহায্য করতে পারেনি এবং সে নিজেও আত্মরক্ষা করতে সক্ষম ছিল না।’ (সুরা : কাসাস, আয়াত : ৮১)

আজ আমাদের ওপর যা ঘটেছে, যার জন্য ভূমিকম্পবিদরা এখনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা খুঁজে পাননি, তা নিছক আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং এটি আমাদের কর্ম, আমাদের নৈতিক অবক্ষয় এবং আল্লাহর আইনকে উপহাস করার পরিণতির দিকেই ইঙ্গিত করে—সুদকে বৈধ করা, মদকে সাংস্কৃতিক আড়ালে প্রমোট করা, ইসলামী আইনকে উপহাস করা, আল্লাহর আয়াতের সঙ্গে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করা—এসব কি শাস্তিকে আহবান করার মতো কাজ নয়? আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘কত শহর ছিল যারা তাদের পালনকর্তা ও তাঁর রাসুলদের আদেশ অমান্য করেছিল। আর আমরা তাদের কঠোর হিসাবের মুখোমুখি করেছি এবং ভয়াবহ শাস্তি দিয়েছি। ফলে তারা তাদের কর্মের মন্দ ফল ভোগ করেছে এবং তাদের পরিণতি হয়েছে সম্পূর্ণ ধ্বংস।’ (সুরা : তালাক, আয়াত : ৮৯)

শাস্তি শুধু জালিমদের ওপর আসে না, এটি সামাজিক পরীক্ষাও বটে! আল্লাহ বলেন, ‘আর তোমরা এমন এক ফিতনাকে ভয় করো, যা শুধু তোমাদের মধ্যের জালিমদের ওপরেই সীমাবদ্ধ থাকবে না।’ (সুরা : আনফাল, আয়াত : ২৫)

অতএব, সমাজে যখন পাপ, অন্যায়, অশ্লীলতা, দুর্নীতি, দুরাচার সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে, তখন শাস্তি শুধু অপরাধীদের ওপর নয়, বরং পুরো সমাজের ওপর এসে পড়ে।

পাপাচার তো পশ্চিমে আরো বেশি, তবু তাদের কিছু হয় না—এই আপত্তির জবাব অনেকে বলে থাকে, ‘আমেরিকা ও ইউরোপের মতো দেশগুলোতে নৈতিক অবক্ষয় আমাদের চেয়ে বহুগুণ বেশি। তবু তাদের তো কিছু হয় না! আমরা বলি, তাদের এই বাহ্যিক সমৃদ্ধিকে শাস্তি থেকে নিরাপত্তা ভেবে নেওয়া মারাত্মক ভুল। আল্লাহ যখন কারো প্রতি ক্রুদ্ধ হন, অনেক সময় তাঁর শাস্তি সঙ্গে সঙ্গে আসে না,

বরং আল্লাহ তাদেরকে অবকাশ দেন, যেন তারা বিভ্রান্তির মধ্যে আরো ডুবে যায় এবং পরিণামে একদিন হঠাৎ করে পাকড়াও করা হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তারা যখন যে বিষয় দ্বারা উপদেশপ্রাপ্ত হয়েছিল তা ভুলে গেল, তখন আমরা তাদের জন্য সবকিছুর দরজা খুলে দিলাম। অবশেষে যখন তারা যা পেয়েছিল তাতে আনন্দে আত্মহারা হয়ে গেল, তখন আমরা হঠাৎ তাদের পাকড়াও করলাম। এবং তখন তারা হতাশায় নিমজ্জিত হয়ে গেল।’ (সুরা: আনআম, আয়াত : ৪৪)

মুমিনদের ক্ষেত্রে আল্লাহর রীতি কিছুটা ভিন্ন। মুমিনদের ওপর যদি বিপদ আসে—তা শাস্তি নয়, বরং শিক্ষা, সতর্কতা ও ফিরে আসার জন্য এক দয়াময় আহবান। মুমিন যদি অবাধ্য হয় বা পাপের পথে চলে—আল্লাহ কখনো কখনো দ্রুত আজাব দেন, যাতে সে জেগে ওঠে, তাওবার দিকে ফিরে আসে এবং সঠিক পথ আঁকড়ে ধরে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘মানুষের হাতের কৃতকর্মের কারণে স্থলে ও জলে বিপর্যয় দেখা দেয়, যাতে আল্লাহ তাদেরকে তাদের কাজের কিছু স্বাদ আস্বাদন করান, হয়তো তারা (এতে) ফিরে আসবে।’ (সুরা : রুম, আয়াত : ৪১)

আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা.) বহু আগেই এসব ঘটনার ব্যাপারে আমাদের সতর্ক করে দিয়েছেন। যারা ভূমিকম্পের মতো বিপর্যয় সম্পর্কে পূর্বাভাস জানতে চান, তাদের উদ্দেশে সহিহ বুখারিতে হাদিসটি উল্লেখ করেছেন, ‘কিয়ামত আসবে না, যতক্ষণ না জ্ঞান কমে যায়, অজ্ঞতা ছড়িয়ে পড়ে, ভূমিকম্প বৃদ্ধি পায় এবং সম্পদ প্রচুর পরিমাণে হয়ে যায়, কিন্তু তা কেউ তেমন গুরুত্ব দেয় না।’ (বুখারি, হাদিস : ৭১২১)

অতএব, আল্লাহর দিকে আন্তরিক প্রত্যাবর্তনই আমাদের পার্থিব ক্ষতি থেকে পরিত্রাণ দিতে পারে।




ইহকাল ও পরকালের শান্তির চাবিকাঠি—তাওবার গুরুত্ব

ইসলামিক ডেস্কঃ মহান আল্লাহকে খুশি করার অন্যতম মাধ্যম তাওবা। তাওবার অর্থ হলো আল্লাহর দিকে ফিরে আসা। অর্থাৎ বাহ্যিকভাবে ও অভ্যন্তরীণভাবে আল্লাহ যে কাজ ভালোবাসেন তা পালন করা এবং বাহ্যিকভাবে ও অভ্যন্তরীণভাবে আল্লাহ যে কাজ অপছন্দ করেন তা ত্যাগ করা। তাই তাওবা শুধু গুনাহ ছেড়ে দেওয়ার নাম নয়।

কারণ গুনাহ ত্যাগ করা তাওবার একটি অংশ হলেও তাওবা পূর্ণতা পায় তখনই, যখন বান্দা আল্লাহর পছন্দের কাজগুলোতে আত্মনিয়োগ করে।

পবিত্র কোরআনে তাওবা শব্দটি অনেক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। কখনো ক্ষমা অর্থে; যেমন পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘এটি তোমাদের জন্য তোমাদের সৃষ্টিকর্তার নিকট উত্তম। অতঃপর আল্লাহ তোমাদের তাওবা কবুল করলেন।
নিশ্চয়ই তিনি তাওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু।’
(সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ৫৪)

এই আয়াতের উচ্চারণে ‌‘ফাতাবা আলাইকুম’ এর স্থলে মহান আল্লাহ তাওবা ক্ষমা অর্থে ব্যবহার করেছেন।

অন্য আয়াতে আবার এই একই শব্দ ফিরে আসার অর্থেও ব্যবহৃত হয়েছে, মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে ঈমানদাররা, তোমরা আল্লাহর কাছে তাওবা করো, খাঁটি তাওবা; আশা করা যায়, তোমাদের রব তোমাদের পাপগুলো মোচন করবেন এবং তোমাদের এমন জান্নাতগুলোতে প্রবেশ করাবেন, যার পাদদেশে নহরসমূহ প্রবাহিত, নবী ও তার সঙ্গে যারা ঈমান এনেছে তাদেরকে সেদিন আল্লাহ লাঞ্ছিত করবেন না। তাদের আলো তাদের সামনে ও ডানে ধাবিত হবে। তারা বলবে, হে আমাদের রব, আমাদের জন্য আমাদের আলো পূর্ণ করে দিন এবং আমাদেরকে ক্ষমা করুন; নিশ্চয় আপনি সর্ববিষয়ে সর্বক্ষমতাবান।’
(সুরা : তাহরিম, আয়াত : ৮)

আবার এ শব্দটি নিজেকে শুধরে নেওয়ার অর্থেও ব্যবহার করা হয়। যেমন—কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘কিন্তু যারা তাওবাহ করে ও সংশোধিত হয় এবং সত্য প্রকাশ করে, বস্তুত আমি তাদের প্রতি ক্ষমা প্রদানকারী, করুণাময়।’

(সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ১৬০)

তাই নিজেকে ইহকালীন ও পরকালীন শাস্তি থেকে বাঁচাতে প্রকৃত তাওবার বিকল্প নেই। খাঁটি মনে অতীতের গুনাহে অনুতপ্ত হয়ে মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে সামনের দিনগুলোতে নিজের আমল-আখলাক পরিশুদ্ধ করে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

কারণ যারা খাঁটি মনে মহান আল্লাহর কাছে তাওবা করে, মহান আল্লাহ তাদের গুনাহগুলোকে মাফ করে দেন। তাদের পাপকে পুণ্য দ্বারা পরিবর্তন করে দেন। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘তবে যে তাওবা করে, ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে। পরিণামে আল্লাহ তাদের পাপগুলোকে পুণ্য দ্বারা পরিবর্তন করে দেবেন। আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সুরা : ফুরকান, আয়াত : ৭০)

সুবহানাল্লাহ, মহান আল্লাহ যেমন মানুষের পাপের কারণে ক্রোধান্বিত হন আবার তারা যখন অনুতপ্ত হয়ে ফিরে আসে, তখন খুশিও হন। হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, আল্লাহ তাআলা তাঁর মুমিন বান্দার তাওবার কারণে ওই ব্যক্তির চেয়েও অধিক আনন্দিত হন, যে লোক ছায়া-পানিহীন আশঙ্কাপূর্ণ বিজন মাঠে ঘুমিয়ে পড়ে এবং তার সঙ্গে থাকে খাদ্য, পানীয়সহ একটি সওয়ারি। এরপর ঘুম থেকে সজাগ হয়ে দেখে যে সওয়ারি কোথায় অদৃশ্য হয়ে গেছে। তারপর সে সেটি খুঁজতে খুঁজতে তৃষ্ণার্ত হয়ে পড়ল এবং বলে, আমি আমার পূর্বের জায়গায় গিয়ে চিরনিদ্রায় আচ্ছন্ন হয়ে মারা যাব। (এ কথা বলে) সে মৃত্যুর জন্য বাহুতে মাথা রাখল। কিছুক্ষণ পর জাগ্রত হয়ে সে দেখল, পানাহারসামগ্রী বহনকারী সওয়ারিটি তার কাছে। (সওয়ারি ও পানাহারসামগ্রী পেয়ে) লোকটি যে পরিমাণ আনন্দিত হয়, মুমিন বান্দার তাওবার কারণে আল্লাহ তার চেয়েও বেশি আনন্দিত হন। (মুসলিম, হাদিস : ৬৮৪৮)

আর আল্লাহ যখন বান্দার ওপর সন্তুষ্ট হয়ে যায়, তখন তার দুনিয়া ও আখিরাতে কোনো ভয় থাকে না। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে (এটা শিক্ষা দেয়) যে তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের নিকট ক্ষমা চাও, আর অনুশোচনা ভরে তাঁর দিকেই ফিরে এসো, তাহলে তিনি একটা নির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত তোমাদের উত্তম জীবনসামগ্রী ভোগ করতে দেবেন, আর অনুগ্রহ লাভের যোগ্য প্রত্যেক ব্যক্তিকে তিনি তাঁর অনুগ্রহ দানে ধন্য করবেন। আর যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও তাহলে আমি তোমাদের ওপর বড় এক কঠিন দিনের আজাবের আশঙ্কা করছি। (সুরা : হুদ, আয়াত : ৩)




গণপূর্তের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শামছুদ্দোহা: নতুন দায়িত্বের জন্য তদবির ও অভিযোগের ছায়া

এসএম বদরুল আলমঃ গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোঃ শামছুদ্দোহা বর্তমানে প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্ব নিতে তদবির চালাচ্ছেন। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে দুর্নীতি ও টেন্ডার বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠেছে। চাকরিজীবন জুড়ে নানা বিতর্কে জড়িত এই কর্মকর্তা সরকারি প্রকল্পের দরপত্র মূল্যায়ন ও অনুমোদনে শত কোটি টাকা অনিয়মের মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

শামছুদ্দোহা প্রাথমিকভাবে ময়মনসিংহের আনন্দ মোহন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ছাত্রলীগ নেতা ছিলেন। পরে বুয়েটের হল শাখা ছাত্র লীগের নেতা নির্বাচিত হন। ২০০৯ সাল থেকে ২০২৫ পর্যন্ত তিনি বিভিন্ন পদে বহাল তবিয়তে কর্মরত রয়েছেন। ঢাকা ছাড়ার পর তিনি রমনার উপবিভাগীয় প্রকৌশলী, মহাখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী, নারায়ণগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী, এবং সাভার সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ময়মনসিংহে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্বে থাকাকালীন সাবেক প্রতিমন্ত্রী মোঃ শরীফ আহমেদের সহযোগিতায় ময়মনসিংহ জোনের সরকারি প্রকল্পের বড় অংকের টাকা বন্টনে প্রভাব বিস্তার করেন।

ময়মনসিংহের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ সাইফুজ্জামান চুন্নুর সঙ্গে সমন্বয় করে তিনি এপিপি বরাদ্দ এবং বিভিন্ন প্রকল্পের প্রাক্কলন ও অনুমোদনে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে ময়মনসিংহ জোনের মডেল মসজিদ নির্মাণ প্রকল্পে দরপত্র আহ্বান ও অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করার বিষয়ে শামছুদ্দোহার নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

ঢাকা গণপূর্ত জোনে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর পদে নিয়োগ পেতে তিনি নানা তদবির চালাচ্ছেন। মন্ত্রণালয়ের সংস্থান ও সমন্বয় শাখার দায়িত্বে থাকায় তিনি বিভিন্ন নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্ব নেওয়ার চেষ্টা করছেন। শামছুদ্দোহা সাবেক পূর্তমন্ত্রী শরীফ আহমেদ ও আওয়ামী লীগের নেতা মির্জা আজমের সহযোগিতায় ঢাকা জোনের পদে প্রভাব বিস্তার করেছেন। এই সময়ে সম্পদ বিভাগের একশত বিশ কোটি টাকার টেন্ডার আওয়ামী লীগ সংক্রান্ত সিন্ডিকেটকে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

শামছুদ্দোহার নাম-বেনামে শত কোটি টাকার সম্পদের মালিক হওয়ার তথ্যও পাওয়া গেছে। তিনি বসুন্ধারা আবাসিক এলাকার ডি ব্লক এবং বারিধারায় ফ্ল্যাট মালিক। জামালপুর জেলার শরিষাবাড়িতে বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ করেছেন এবং সেখানে একটি রিসোর্ট নির্মাণের জন্য দশ একর জমি ক্রয় করছেন।