গণপূর্ত প্রকৌশলী লতিফুলের বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতির বিস্তর অভিযোগ, একাধিক মামলা চললেও দায়িত্বে বহাল

এসএম বদরুল আলমঃ গণপূর্ত অধিদপ্তরের শেরেবাংলা নগর-১ অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী লতিফুল ইসলামকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই ঘুষ, দুর্নীতি আর ক্ষমতার অপব্যবহারের নানা অভিযোগ ঘুরছে। সরকারি দায়িত্বে থেকে তিনি নাকি কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ গড়ে তুলেছেন, আর এসবই সম্ভব হয়েছে রাজনৈতিক প্রভাব ও আশ্রয়ের কারণে—এমন মন্তব্য করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্র বলছে, জুলাই মাসের অভ্যুত্থানের সময় ছাত্র আন্দোলন দমাতে লতিফুল ইসলাম নানাভাবে সহযোগিতা করেছিলেন—আর্থিক সহায়তা থেকে শুরু করে মাঠে প্রয়োজনীয় রসদ পর্যন্ত। এ নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে মামলাও হয়। বাড্ডা থানায় দায়ের হওয়া সি.আর. মামলা নং ৬৩/২৫ এবং এফআইআর নং ০৬ (তারিখ: ০৩ মার্চ ২০২৫)–এ তাঁর নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে।

গণপূর্তের ভেতরের লোকজন জানান, বিভিন্ন উন্নয়ন ও সংস্কার প্রকল্পে অস্বাভাবিক দর নির্ধারণ, ঘুষ নেওয়া এবং নিজের পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়াই ছিল তাঁর নিয়মিত কৌশল। জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট, সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল, শিশু হাসপাতাল, জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট, সংসদ ভবনসহ বেশ কিছু স্থাপনার কাজ তাঁর সময়েই নানা অনিয়মে ভরপুর ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। অধস্তন প্রকৌশলীদের অনেক সময় জোর করে তাঁর ইচ্ছামতো প্রাক্কলনে স্বাক্ষর করতে হতো বলেও জানা যায়।

খুলনায় দায়িত্ব পালন করার সময়ও তাঁর বিরুদ্ধে একই ধরনের ঘুষ আর দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। এমনকি সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় তিনি পুরো সময়টাই ছিলেন অভয়-আশ্রয়ে। সহকর্মীরা বলেন, প্রকল্পে ১৫% কমিশন দাবি করতেন তিনি। সেই কারণেই তাঁকে নাকি অফিসে ডাকনাম দেওয়া হয়েছিল—“মিস্টার ১৫”।

বর্তমান পরিস্থিতিও কম নাটকীয় নয়। ক্ষমতার পালাবদলের পর আওয়ামীপন্থী হিসেবে পরিচিত এই কর্মকর্তা এখন আবার বিএনপিপন্থী নেতাদের সাথে যোগাযোগ বাড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি পদোন্নতির আশায় নানান দপ্তরে সক্রিয় তদবিরও করছেন তিনি।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের অভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়, প্রধান প্রকৌশলী শামীম আখতারের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় লতিফুল ইসলাম সবসময়ই প্রশাসনিক নিরাপত্তা পেয়ে এসেছেন। হত্যা থেকে শুরু করে দুর্নীতির মতো একাধিক মামলা চলমান থাকলেও তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

দুদক জানিয়েছে, লতিফুল ইসলামসহ গণপূর্তের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত প্রক্রিয়াধীন। কিন্তু তদন্ত চলমান থাকার পরও তাঁদের কেউই দায়িত্ব থেকে সরেননি, যা দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে।

তার বিরুদ্ধে অভিযোগ জানতে লতিফুল ইসলামের সাথে ফোন ও বার্তার মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।




গণপূর্ত অধিদপ্তরে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনায় ‘মিথ্যা প্রচারণা’: নতুন প্রধান প্রকৌশলীর পদক্ষেপে ক্ষুব্ধ পুরনো সিন্ডিকেট

এসএম বদরুল আলমঃ গণপূর্ত অধিদপ্তরে নতুন প্রধান প্রকৌশলী মোঃ খালেকুজ্জামান চৌধুরী দায়িত্ব গ্রহণের কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ইউটিউব ও অনলাইন পোর্টালে “বদলি-বাণিজ্য” সংক্রান্ত মিথ্যা প্রচারণা শুরু হয়েছে। অধিদপ্তরের অভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়, এই প্রচারণার মূল উদ্দেশ্য হলো নতুন প্রশাসনিক শৃঙ্খলার পথে বাধা সৃষ্টি করা।

প্রধান প্রকৌশলী ২৮ অক্টোবর গণপূর্তে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি ফরিদপুরের নগরকান্দায় জন্মগ্রহণ করেন, নাজিমুদ্দিন স্কুল ও রাজেন্দ্র কলেজে পড়াশোনা করেছেন। স্নাতক করেছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (CUET) থেকে এবং পরবর্তীতে Monash University থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেছেন।

দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই মোঃ খালেকুজ্জামান চৌধুরী অফিস-পরিকল্পনা, আর্থিক নথি, প্রকল্প বাস্তবায়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় কঠোর শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছেন। তাঁর পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনার ফলে দীর্ঘদিনের অনিয়ম, লুটপাট এবং সুবিধাবাদী সিন্ডিকেটের কার্যক্রম কঠোরভাবে সীমিত হচ্ছে।

অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেন, “যারা বছরের পর বছর অনিয়মে অভ্যস্ত ছিলেন, তারাই এখন সবচেয়ে বেশি চিৎকার করছে।” অন্যদিকে প্রধান প্রকৌশলী নিজেও বলেছেন, “আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তা বাস্তবতা থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। আমি মিথ্যা প্রচারণার জবাব দিয়ে দেশের উন্নয়নের পথে কাজ চালিয়ে যাব।”

অধিদপ্তরের অভ্যন্তরীণ সূত্র জানিয়েছে, সাম্প্রতিক বদলি ও দায়িত্ব পুনর্বিন্যাস সম্পূর্ণ আইনানুগ ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পভিত্তিক কাজের মান, সময় ব্যবস্থাপনা এবং দক্ষ জনবলকে উপযুক্ত স্থানে নিয়োগ নিশ্চিত করার জন্য এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কোনো আর্থিক লেনদেন বা সিন্ডিকেটের প্রভাবের প্রশ্নই ওঠে না। বরং বদলি-বাণিজ্যের গুজব ছড়িয়ে কিছু বিতর্কিত কর্মকর্তা নিজেদের অবস্থান রক্ষার চেষ্টা করছেন।

মোঃ খালেকুজ্জামান চৌধুরীর নেতৃত্বে গণপূর্ত অধিদপ্তরে কর্মক্ষেত্রে শৃঙ্খলা, জবাবদিহিতা ও পেশাগত দক্ষতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগ ইতোমধ্যেই Several দীর্ঘমেয়াদি অনিয়ম শনাক্ত ও সংস্কারের পথে নিয়ে গেছে। অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা একমত যে, এই পদক্ষেপ গণপূর্ত অধিদপ্তরকে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলবে।

অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, “যারা পুরনো সুবিধাবাদী সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তারা এই শুদ্ধি অভিযানে অস্বস্তিকর অবস্থায় পড়েছে। তবে দেশের স্বার্থে এই ধারা অব্যাহত রাখতে হবে।”

বদলি-বাণিজ্যের অভিযোগকে কেবল প্রভাব হারানো একটি গোষ্ঠীর অসার চিৎকার হিসেবে ধরা হচ্ছে, যা নৈতিকভাবে ভ্রান্ত, বাস্তবিকভাবে মিথ্যা এবং প্রশাসনিকভাবে অগ্রহণযোগ্য। গণপূর্ত অধিদপ্তর এখন স্বচ্ছ ও পেশাদার প্রশাসনের পথে এগিয়ে যাচ্ছে, যার নেতৃত্বে রয়েছেন প্রধান প্রকৌশলী মোঃ খালেকুজ্জামান চৌধুরী।




“বিদেশে কূটনৈতিক উপস্থিতি বাড়াতে দুই নতুন দূতাবাস অনুমোদন”

বিশেষ প্রতিবেদকঃ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দুটি নতুন দূতাবাস স্থাপনের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে উপদেষ্টা পরিষদ। একটি আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিনে এবং অন্যটি আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস আইরেসে।

বৃহস্পতিবার রাতে প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম এক বার্তায় বিষয়টি জানান।

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের ৪৮তম সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।




“অপহরণ বেড়েই চলেছে, প্রতিদিন গায়েব হচ্ছে একাধিক ব্যক্তি”

বিশেষ প্রতিবেদকঃ অপহরণের ঘটনা এখন আর বিচ্ছিন্ন নয়—বরং তা যেন প্রতিদিনের খবর হয়ে উঠেছে। চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে দেশে ৯২১টি অপহরণের মামলা হয়েছে, অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে তিনজন মানুষ অপহৃত হয়েছেন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর ভাষায়, বেশির ভাগ অপহরণ ঘটছে মুক্তিপণ, প্রতিশোধ বা ডিজিটাল যোগাযোগের অপব্যবহারকে কেন্দ্র করে। এতে নাগরিক জীবনে ফিরে এসেছে ভয়, হারিয়ে যাচ্ছে নিরাপত্তাবোধ।

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, অক্টোবরে সারা দেশে মোট ১১০টি অপহরণের ঘটনায় মামলা হয়েছে। চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে (জানুয়ারি-অক্টোবর) দেশে মোট ৯২১টি অপহরণের মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। গত বছর একই সময় এ সংখ্যা ছিল ৫০১। অর্থাৎ এক বছরে অপহরণের হার প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, বেশির ভাগ অপহরণের পেছনে মুক্তিপণ আদায়, প্রতিশোধ, প্রেমঘটিত বিরোধ বা ব্যাবসায়িক দ্বন্দ্বের মতো কারণ রয়েছে। অপরাধ ও সমাজ বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক অবক্ষয়, অর্থনৈতিক-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ডিজিটাল অপরাধের প্রসারের কারণে এ প্রবণতা বেড়েছে। এতে সাধারণ মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর কঠোর অভিযানের বিকল্প নেই।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আগে যেখানে বেশির ভাগ অপহরণ ঘটত রাতের অন্ধকারে, এখন তা ঘটছে দিনের আলোতেও। অনলাইন রাইডশেয়ারিং, ব্যাবসায়িক লেনদেনের ছলে কিংবা প্রেমের সম্পর্কের ফাঁদে ফেলে অপহরণের ঘটনা ঘটছে। বিশ্লেষকদের মতে, পারিবারিক বা রাজনৈতিক শত্রুতা, এমনকি যৌন নিপীড়নের ঘটনাও অনেক সময় অপহরণের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তবে আর্থিক কারণই সবচেয়ে বেশি দায়ী। চাঁদাবাজচক্র ছাড়াও পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীর সম্পৃক্ততাও এসব ঘটনায় দেখা যাচ্ছে।

অপহরণ বাড়তে থাকায় সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্কুল-কলেজগামী সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে তাঁরা দুশ্চিন্তা প্রকাশ করেছেন।

পুলিশ সদর দপ্তরের অপরাধ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ বছরের অক্টোবর মাস অপহরণের  দিক থেকে সবচেয়ে ভয়াবহ ছিল। ওই মাসে অপহৃত হয়েছেন ১১০ জন। জানুয়ারিতে ১০৫ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৭৮ জন, মার্চে ৮৩ জন, এপ্রিলে ৮৮ জন, মে’তে ৮২ জন, জুনে ৮০ জন, জুলাইয়ে ৯০ জন, আগস্টে ৯০ জন এবং সেপ্টেম্বরে ৯৬ জন। এতে দেখা যাচ্ছে, গত ১০ মাসে গড়ে প্রতিদিন তিনজনের বেশি মানুষ অপহরণের শিকার হয়েছেন।

তথ্য বলছে, ২০২৪ সালে মোট ৬৪২ জন অপহৃত হয়েছিলেন। ওই বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত প্রথম ১০ মাসে অপহৃত হন ৫০১ জন—মাসে গড়ে ৫০ জন। অথচ চলতি বছর একই সময় মাসিক গড় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯২ জনে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, প্রকৃত অপহরণের সংখ্যা পুলিশের রেকর্ডের চেয়েও বেশি। অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব বা সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা না থাকলে মামলা হয় না। তাঁদের মতে, প্রতিদিন গড়ে তিনজন অপহৃত হওয়ার অর্থ হলো দেশে আইনের শাসনে বড় ঘাটতি রয়েছে।

অপরাধ ও সমাজ বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘দিন দিন অপহরণের প্রকৃতি বদলে যাচ্ছে। আগে মুক্তিপণ আদায় ছিল প্রধান উদ্দেশ্য, এখন সামাজিক প্রতিশোধ, প্রেম-বিবাদ কিংবা ডিজিটাল যোগাযোগের অপব্যবহার থেকেও অপহরণের ঘটনা ঘটছে।’

পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, ‘অপহরণের প্রতিটি ঘটনাকে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছি। সাম্প্রতিক একাধিক অপহরণচক্রকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সাইবার ইউনিটও ডিজিটাল যোগাযোগের মাধ্যমে সংঘটিত অপহরণ রোধে কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে পরামর্শ হচ্ছে, অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগে সতর্ক থাকা এবং সন্দেহজনক কিছু দেখলে তৎক্ষণাৎ নিকটস্থ থানায় বা ৯৯৯ নম্বরে জানানো।

সাম্প্রতিক কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা : গত মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর দিয়াবাড়ী এলাকা থেকে ক্যামব্রিয়ান কলেজের শিক্ষার্থী সুদীপ্ত রায়ের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগে ৭ নভেম্বর তাঁকে অপহরণ করা হয়। পরে তাঁর বাবার কাছে ৮০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা। টাকা না পেয়ে ও বিষয়টি ফাঁস হয়ে যাওয়ায় তাঁকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

২৪ অক্টোবর নওগাঁয় এক ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে ৭০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে একটি চক্র। র‌্যাব অভিযান চালিয়ে ওই ব্যবসায়ীকে উদ্ধার ও চক্রের হোতা শাহাজান (৬৫) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করে।

এর আগে ৩ অক্টোবর রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে মো. মকবুল নামে এক ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে নির্যাতন করা হয়। পরে ৬০ হাজার টাকা মুক্তিপণের বিনিময়ে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

অন্যদিকে, কক্সবাজারের টেকনাফে মুক্তিপণ দাবিতে অপহৃত কলেজছাত্র হাসান শরীফকে (২৪) উদ্ধার করেছে র‌্যাব-১৫। গত মঙ্গলবার রাতে সাবরাং ইউনিয়নের চান্দলীপাড়ায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে উদ্ধার করা হয়। এর আগে রবিবার বিকেলে টেকনাফ পৌরসভার মায়মুনা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে থেকে মোটরসাইকেলে এসে চার-পাঁচজন ব্যক্তি হাসানকে তুলে নিয়ে যায়। পরে তাঁর পরিবারের কাছে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।




“জকসু নির্বাচনের আগে ক্যাম্পাসে সব ব্যানার-ফেস্টুন সরানোর নির্দেশ”

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিঃ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল শিক্ষার্থী সংসদ নির্বাচন-২০২৫ উপলক্ষে ক্যাম্পাসের সব ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনের ঝুলানো ব্যানার-ফেস্টুন সরানোর নির্দেশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মুহাম্মদ তাজাম্মুল হকের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় সংসদ (জকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন-২০২৫ উপলক্ষে শৃঙ্খলা নিশ্চিতকরণ ও সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠন, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ছাত্রকল্যাণ কর্তৃক বিভিন্ন স্থানে ঝুলানো/সাঁটানো ব্যানার, পোস্টার, ফেস্টুন আগামী ১৪ নভেম্বর সকাল ১০টার মধ্যে নিজ দায়িত্বে সরিয়ে ফেলার জন্য নির্দেশ দেওয়া হলো।

আগামী ২২ ডিসেম্বর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, আসন্ন জকসু নির্বাচন উপলক্ষে ক্যাম্পাসের সুষ্ঠু পরিবেশ ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আশা করি এক্ষেত্রে সব ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠন বিশ্ববিদ্যালয় নিরাপত্তা ও সুন্দর নির্বাচনী পরিবেশ গড়ে তুলতে আমাদের সহযোগিতা করবে।




“ভুলের মুহূর্তেই আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন”

ইসলামিক ডেস্কঃ ইস্তিগফার তথা ‘ক্ষমা চাওয়া’ শব্দটি এসেছে আরবি ‘গাফারা’ শব্দমূল থেকে, যার অর্থ হলো ঢেকে দেওয়া বা গোপন রাখা। অর্থাৎ যখন আল্লাহ কোনো বান্দার পাপ ঢেকে দেন বা প্রকাশ করেন না, তখনই তিনি তাকে ক্ষমা করেন। পরিভাষায় ইস্তিগফার হলো—এমন একটি আবেদন, যেখানে বান্দা নিজের দ্বারা সংঘটিত পাপ ও সীমা লঙ্ঘনের জন্য আল্লাহর কাছে দয়া ও ক্ষমা প্রার্থনা করে। মুসলমানদের মধ্যে এমন কেউ নেই, যার আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনার প্রয়োজন নেই—তার ঈমান যতই দৃঢ় হোক বা তার ধার্মিকতা যতই উচ্চমানের হোক না কেন।

এমনকি আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা.)-ও প্রতিদিন বহুবার আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতেন। আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেছেন, রাসুল (সা.)  বলেছেন : ‘আল্লাহর কসম! আমি প্রতিদিন সত্তরবারেরও বেশি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই এবং তাঁর কাছে তাওবা করি।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬৩০৭)

আল্লাহ তাআলা সুরা নুহে বলেন, “অতঃপর আমি বললাম, ‘তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো; নিশ্চয়ই তিনি অতিশয় ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের জন্য আকাশ থেকে প্রাচুর্যে বৃষ্টি বর্ষণ করবেন, তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্তুতি বৃদ্ধি করবেন, তোমাদের জন্য বাগান সৃষ্টি করবেন এবং প্রবহমান নদী প্রবাহিত করবেন। ” (সুরা : নুহ, আয়াত : ১০-১২)

অতএব, ইস্তিগফার শুধু পাপ মোচনের মাধ্যম নয়, বরং এটি বরকত, রিজিক, সন্তান-সন্ততি ও জীবনের প্রশান্তি লাভেরও এক অনন্য উপায়।

ইস্তিগফার পাপ মোচন ও আত্মশুদ্ধির মাধ্যম

যখন কোনো মুসলমান পাপে লিপ্ত হয়, তারপর আন্তরিকভাবে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে, তখন আল্লাহ তাঁর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সেই পাপ মুছে দেন, যতক্ষণ না তার আমলনামা সম্পূর্ণ পরিষ্কার হয়ে যায়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর যে কেউ কোনো মন্দ কাজ করে বা নিজের ওপর অন্যায় করে, কিন্তু পরে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে, সে দেখবে আল্লাহ ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ১১০)

ক্ষমা প্রার্থনাকারীদের আল্লাহ ভালোবাসেন

আল্লাহ তাআলা ক্ষমা প্রার্থনাকারী বান্দাদের ভালোবাসেন, তাদের তাওবায় আনন্দিত হন এবং তাদের প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। এমনকি তিনি ফেরেশতাদের কাছেও এই ক্ষমা প্রার্থনাকারী বান্দাদের নিয়ে গর্ব প্রকাশ করেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাওবাকারীদের ভালোবাসেন এবং ভালোবাসেন যারা নিজেদের পবিত্র রাখে।’ (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ২২২)

ক্ষমা প্রার্থনা আল্লাহর শাস্তি থেকে মুক্তি ও শান্তির পথ

ক্ষমা প্রার্থনা করা শুধু একটি ইবাদত নয়, বরং এটি আল্লাহর শাস্তি ও কবরের আজাব থেকে মুক্তির এক নিরাপদ আশ্রয়। আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা.)-কে উদ্দেশ করে তাঁর উম্মতের জন্য সুসংবাদ দিয়ে বলেছেন, ‘আর আল্লাহ তাদের শাস্তি দেবেন না, যতক্ষণ তুমি (হে নবী) তাদের মধ্যে উপস্থিত আছ এবং যতক্ষণ তারা ক্ষমা প্রার্থনা করে, ততক্ষণও আল্লাহ তাদের শাস্তি দেবেন না।’ (সুরা : আনফাল, আয়াত : ৩৩)

ইস্তিগফার দুঃখ-কষ্ট ও উদ্বেগ দূর করার উপায়

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি নিয়মিতভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করে, আল্লাহ তাকে প্রতিটি দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি দেন, প্রতিটি সংকট থেকে বের হওয়ার পথ দান করেন এবং এমন জায়গা থেকে রিজিক দান করেন, যেখানে সে কখনো আশা করে না।’ (আবু দাউদ, ইবনু মাজাহ)

অতএব, ইস্তিগফার একদিকে যেমন আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে, তেমনি জীবনের জটিলতা ও মানসিক ভার দূর করে দেয়।




“ইসলামের দৃষ্টিতে পানি: অপচয় নয়, সংরক্ষণই দায়িত্ব”

ইসলামিক ডেস্কঃ দুনিয়া ও আখিরাতের জীবনে পানির বিশিষ্ট ভূমিকা রয়েছে। যে কারণে পবিত্র কোরআনের ৪৬ স্থানে পানির বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে। সুরা আরাফের ৫০ নম্বর আয়াতে পানিকে জান্নাতবাসীর জন্য নেয়ামত এবং জাহান্নামিদের জন্য শাস্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পানিকে অতীতেও আল্লাহ অনুগত বান্দার জন্য পুরস্কার এবং অবাধ্যদের জন্য শাস্তির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন। হজরত ইব্রাহিম (আ.) এবং তাঁর পুণ্যবতী স্ত্রী হাজেরার পুণ্যবান সন্তান ইসমাইল (আ.)-এর জন্য সৃষ্টি করা হয়েছিল জমজম কূপ। দুনিয়ায় আল্লাহ রব্বুল আলামিনের বিস্ময়কর নিদর্শনগুলোর মধ্যে জমজম কূপ অন্যতম। প্রায় ৫ হাজার বছর আগে অলৌকিকভাবে পবিত্র কাবা ঘরের সন্নিকটে এ বরকতময় কূপটির সৃষ্টি হয়। আল্লাহর নির্দেশে হজরত ইব্রাহিম (আ.) প্রিয়তমা স্ত্রী হাজেরা ও দুগ্ধপোষ্য শিশু ইসমাইল (আ.)-কে জনমানবহীন প্রান্তরে নির্বাসনে দেন। স্ত্রী ও পুত্রের জন্য সামান্য পানি ও কিছু খেজুর মক্কার মরু প্রান্তরে রেখে যান। ইব্রাহিম (আ.) চলে যাওয়ার পর হাজেরা (আ.) সন্তানকে বুকে ধারণ করে আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে নির্জন প্রান্তে থাকেন। খাদ্য-পানীয় ছাড়া তিনি বেশ কিছু দিন কাটান। বুকের দুধ নিঃশেষ হয়ে যাওয়ার পর ইসমাইল (আ.) যখন ক্ষুধায় কাতর হয়ে ছটফট করছিলেন, তখন হজরত হাজেরা (আ.) দুগ্ধপোষ্য শিশুর জীবন বাঁচানোর জন্য একবার সাফা পাহাড়ে আরেকবার মারওয়া পাহাড়ের ওপর ছোটাছুটি করেন পানির খোঁজে। কোথাও পানি না পেয়ে তিনি যখন ক্লান্ত শ্রান্ত তখন হঠাৎ দেখতে পান ইসমাইল (আ.)-এর পায়ের আঘাতে পানির ফোয়ারা উথলে উঠছে। চারদিকে তিনি বালু ও পাথর দিয়ে পানির প্রবাহ থামান। সেই কুদরতি পানির ঝরনা ধারাটিই জমজম কূপ।

একইভাবে হজরত নুহ (আ.)-এর অবাধ্য কওমের জন্য নাজিল হয়েছিল শাস্তি হিসেবে ভয়াবহ প্লাবন। যে প্লাবনে অবিশ্বাসীদের সবাই পানিতে ডুবে মারা যায়। ফেরাউন ও তার সৈন্য দলের পানিতে ডুবে মারা যাওয়াও আল্লাহর তরফ থেকে আসা শাস্তি। দুনিয়াদারির জীবনে পানি এমন এক অপরিহার্য জিনিস যা ছাড়া জীবনধারণের কথা কল্পনা করাও কঠিন। পানি ইবাদতেরও অন্যতম অনুষঙ্গ। আল্লাহর ইবাদতের জন্য বান্দাকে পবিত্রতা অর্জন করতে হয়। পবিত্রতা অর্জনে পানির ব্যবহার সুবিদিত। মানবজীবনেই শুধু নয়, পৃথিবীতে জীববৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে পানির অবদান অনস্বীকার্য।

আখিরাতের জীবনে পানি জান্নাতবাসীকে উপহার দেওয়া হবে ও জাহান্নামবাসীকে শাস্তি হিসেবে পানি থেকে দূরে রাখা হবে। জাহান্নামবাসী ভয়াবহ কষ্টে পানির পিপাসায় পড়ে জান্নাতিদের কাছে পানি চাইবে, কিন্তু তাদের পানি দেওয়া হবে না। আল্লাহ বলেন, ‘জাহান্নামবাসী জান্নাতবাসীকে ডেকে বলবে, আমাদের ওপর কিছু পানি বা খাদ্য ফেলে দাও বা আল্লাহ তোমাদের যা দিয়েছেন তা থেকে, তারা বলবে আল্লাহ এ দুটি অবিশ্বাসীদের জন্য নিষিদ্ধ করেছেন।’ (সুরা আরাফ, আয়াত ৫০)। পানি বর্তমান বিশ্বে ব্যাপকভাবে অপচয় হচ্ছে। পানি যেহেতু আমাদের জন্য বিশাল এক নেয়ামত সেহেতু মহান আল্লাহ পানির অপচয় করা নিষেধ করেছেন। পানির অপচয় ইসলামের দৃষ্টিতে এক মারাত্মক গর্হিত কাজ। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আহার কর ও পান কর কিন্তু অপচয় কর না, তিনি অপচয়কারীকে পছন্দ করেন না।’ (সুরা আরাফ, আয়াত ৩১)।

ইসলামে পানির সদ্ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পানি যেহেতু মহান আল্লাহর নেয়ামত, সেহেতু পানির সংরক্ষণ এবং এর সদ্ব্যবহার মুমিনদের জন্য অবশ্য পালনীয়। এমনকি অজু করার সময়ও যাতে পানির অপচয় না হয় সে বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। ইবনে মাজাহ শরিফের হাদিসে বলা হয়েছে : ‘সাহাবি হজরত সাদ বিন আবু ওয়াক্কাস (রা.) একদিন বসে অজু করছিলেন। এমন সময় রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তার পানির ব্যবহার দেখে তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, এত অপচয় কেন? সাহাবি জিজ্ঞাসা করলেন অজুর মধ্যে কি অপচয় হয়? রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হ্যাঁ। এমনকি নদীর পাশে বসেও অজু করার সময় (পানি অযথা খরচ করলে অপচয় হিসেবে গোনাহ হবে)। পানি কীভাবে পান করতে হবে সেই আদব মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) শিক্ষা দিয়েছেন। বসে ডান হাত দিয়ে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম বলে পানি পান করা সুন্নত। তিন শ্বাসে পানি পান করা উত্তম। রসুল (সা.) পানি সম্পর্কে যে শিক্ষা দিয়েছেন সেগুলো শুধু সুন্নত নয়, বরং এর প্রতিটিতে রয়েছে শরীর সুস্থ রাখার নিদর্শন। রসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা পানির পাত্র ঢেকে রাখ এবং বাসনগুলো উল্টে রাখ।’ (মুসলিম)। আল্লাহ আমাদের পানির সদ্ব্যবহারের তৌফিক দান করুন।




চট্টগ্রাম বন্দরে বদলি হয়েও প্রভাবশালী ক্যাপ্টেন ফরিদের বিরুদ্ধে ফের দুর্নীতির অভিযোগ

চট্টগ্রাম প্রতিবেদকঃ চট্টগ্রাম বন্দরে দীর্ঘদিন দায়িত্বে থাকা উপ-সংরক্ষক ক্যাপ্টেন ফরিদুল আলমের বিরুদ্ধে আবারও গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি বদলি হয়েও এখনো চট্টগ্রাম বন্দরে প্রভাব খাটাচ্ছেন এবং নিজের পছন্দের ঠিকাদারদের দিয়ে কাজ করিয়ে নিচ্ছেন।

কয়েক মাস আগে দুর্নীতি ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে তাকে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে বদলি করে পটুয়াখালীর পায়রা বন্দরে পাঠায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। বর্তমানে তিনি পায়রা বন্দরে পরিচালক (ট্রাফিক) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে নতুন করে প্রায় ৪ কোটি টাকার বিল তোলার চেষ্টা এবং বন্দরে ফেরার জন্য তদবির করার অভিযোগে ফের আলোচনায় এসেছেন এই কর্মকর্তা।

চট্টগ্রাম বন্দরের নথি ঘেঁটে দেখা গেছে, বন্দরের টাগবোট ‘এমটি কাণ্ডারি-৮’-এর মেরামত, পাইপিং, আন্ডারওয়াটার ওয়ার্ক ও পেইন্টিংসহ আনুষঙ্গিক কাজের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, সর্বনিম্ন দরদাতাকে বাদ দিয়ে ক্যাপ্টেন ফরিদ তার পছন্দের ঠিকাদার মাহি এন্টারপ্রাইজকে কার্যাদেশ দেন। মাত্র আট দিনের মধ্যে বিশাল কাজ শেষ হয়েছে দেখিয়ে তিনি বিল পরিশোধের সুপারিশও করেন।

২০২৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর তিনি পরিদর্শন কমিটির পক্ষ থেকে রিপোর্ট দেন যে কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং মালামাল গ্রহণের সুপারিশ করেন। বাকি সদস্যরাও সেই প্রতিবেদনে স্বাক্ষর করেন। কিন্তু চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান প্রশ্ন তোলেন—এত বড় কাজ কীভাবে মাত্র আট দিনে শেষ হলো? তদন্তে দেখা যায়, প্রকল্প বাস্তবায়নে নানা অনিয়ম হয়েছে এবং প্রক্রিয়া না মেনে বিল উত্তোলনের চেষ্টা চলছিল।

এর পরই বন্দর কর্তৃপক্ষ ২৭ এপ্রিল নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন পাঠিয়ে ক্যাপ্টেন ফরিদকে অন্যত্র বদলির সুপারিশ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে নানান অনিয়মে জড়িত এবং চট্টগ্রাম বন্দরে তার উপস্থিতি প্রশাসনিকভাবে অস্বস্তিকর হয়ে উঠেছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, বদলি হলেও তিনি বাইরের লোকজনের মাধ্যমে এখনো বন্দরের বিভিন্ন দপ্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এমনকি তাকে সদস্য (অর্থ) পদে বসানোর জন্য নানা মহলে তদবিরও চালাচ্ছেন। এতে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

এই প্রথম নয়—ক্যাপ্টেন ফরিদুল আলমের বিরুদ্ধে অতীতেও একাধিক অভিযোগ রয়েছে। ২০১৩ সালে ইন্দোনেশিয়ান জাহাজ ‘এমভি গ্লেডিস’ ডুবে যাওয়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটি তাকে দায়ী করে। এছাড়া ২০১১ সালের ভিটিএমএস প্রকল্পে (Vessel Traffic Management System) নিয়ম ভেঙে ২ কোটি টাকার বেশি বিল আগাম পরিশোধের অভিযোগও প্রমাণিত হয়। সে সময় তাকে স্বেচ্ছাচারী ও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা হিসেবে আখ্যা দিয়ে সাময়িক বরখাস্তও করা হয়েছিল।

সব অভিযোগ সত্ত্বেও তিনি এখনো বহাল তবিয়তে চাকরি করছেন—এ বিষয়টি নিয়েই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রাম বন্দরের অনেক কর্মকর্তা।

বিষয়টি জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দর সচিব ওমর ফারুক বলেন, “ক্যাপ্টেন ফরিদের বদলি ও পদোন্নতির বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের অধীনে। আমরা এখান থেকে কিছু করতে পারব না। টাগবোটের বিষয়েও মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।”

অন্যদিকে, ক্যাপ্টেন ফরিদ নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, “সব কাজ নিয়ম মেনেই হয়েছে। আমার একক সিদ্ধান্তে কিছু হয়নি। বন্দর কর্তৃপক্ষের ৯০ শতাংশ কাজই এমনভাবে হয়।”

কাজটি মাত্র ৮ দিনে শেষ করার প্রশ্নে তিনি বলেন, “এই কাজ আসলে আগেই শুরু হয়েছিল। তদন্ত কমিটি আমার বিরুদ্ধে কিছুই পায়নি।” তবে কেন তাকে বদলি করা হলো, জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমাকে কেন জড়ানো হচ্ছে জানি না। আমি আমার জবাব দিয়েছি। হয়তো কাউকে দোষী দেখাতে আমাকে টানা হয়েছে।”

তিনি আরও দাবি করেন, “আমি প্রমোশন চেয়েছি, এটা অপরাধ নয়। আমার আগের সাতজন একই পদ থেকে পদোন্নতি পেয়েছেন।”

তবে বন্দরে বাইরের প্রভাব খাটানোর অভিযোগ তিনি স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেন।

বন্দর সূত্র বলছে, ক্যাপ্টেন ফরিদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযোগগুলো এখন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে পর্যালোচনাধীন আছে। তবে কর্মকর্তারা বলছেন, তার মতো বিতর্কিত কর্মকর্তাকে দীর্ঘদিন ধরে কোনো না কোনোভাবে রক্ষা করা হচ্ছে—যা প্রশাসনিক শৃঙ্খলার জন্য ক্ষতিকর বার্তা দিচ্ছে।




এলজিইডির নতুন নেতৃত্বে জাবেদ করিম, দায়িত্ব নিলেন ২০তম প্রধান প্রকৌশলী

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) নতুন নেতৃত্ব পেল। সংস্থাটির ২০তম প্রধান প্রকৌশলী (রুটিন দায়িত্ব) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন প্রকৌশলী জাবেদ করিম।

সম্প্রতি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের (এলজিআরডি) স্থানীয় সরকার বিভাগের উন্নয়ন-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তাকে এ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।

প্রধান প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন অবসরে যাওয়ার পর ২৬ অক্টোবর থেকে ১০ কার্যদিবস এলজিইডি প্রধানবিহীন ছিল। অবশেষে প্রশাসনিক জটিলতা কাটিয়ে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (গ্রেড–৩) জাবেদ করিমকে রুটিন দায়িত্বে প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এতে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে প্রতিষ্ঠানটিতে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে।

প্রকৌশল পরিবারে বেড়ে ওঠা জাবেদ করিম সহকর্মীদের কাছে একজন দক্ষ, পরিশ্রমী ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত। বিদেশি অনুদাননির্ভর প্রকল্পের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে তাঁর রয়েছে বিশেষ পারদর্শিতা। তাঁর নেতৃত্বে এলজিইডির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ক থাকায়, কর্মকর্তারা আশা করছেন তাঁর নেতৃত্বে চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।




গণপূর্তের ক্ষমতাধর প্রকৌশলী ড. মঈনুল: রাজনীতির ছত্রছায়ায় দুর্নীতির সাম্রাজ্য

এসএম বদরুল আলমঃ বাংলাদেশের সরকারি স্থাপনা নির্মাণ ও অবকাঠামো উন্নয়নের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান গণপূর্ত অধিদপ্তর। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এই প্রতিষ্ঠানটি দুর্নীতি, ঘুষ, টেন্ডার সিন্ডিকেট ও রাজনৈতিক প্রভাবের জন্য আলোচিত-সমালোচিত। এই অনিয়মের পেছনে অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে নাম এসেছে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ড. মঈনুল ইসলামের।

ড. মঈনুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ—তিনি রাজনৈতিক প্রভাব, কমিশন বাণিজ্য ও ঠিকাদার সিন্ডিকেটের মাধ্যমে শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন। তিনি আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ও সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর ঘনিষ্ঠ আত্মীয় বলেই দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক শাস্তি ও দুর্নীতির অভিযোগ থেকেও বেঁচে গেছেন।

কর্মজীবনের শুরু থেকেই মঈনুলের নানা বিতর্ক ছিল। ১৯৯৫ সালের ১৫ নভেম্বর যখন ১৫তম ব্যাচের অন্য সহকারী প্রকৌশলীরা যোগ দেন, তিনি যোগ দেন ৯ মাস পর—১৯৯৬ সালের ১২ আগস্ট। এরপর এক সময় ২০০৫ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত টানা নয় বছর আট মাস কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার পরও তিনি চাকরি হারাননি। বরং আপিলের মাধ্যমে পুনর্বহাল হন—যা স্পষ্টভাবে রাজনৈতিক প্রভাবের ইঙ্গিত দেয়।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের ভেতরে তাকে “মিস্টার টেন পার্সেন্ট” নামে ডাকা হতো। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিটি প্রকল্পে তিনি ১০ শতাংশ কমিশন নিতেন। শুধু তিনটি বড় প্রকল্প থেকেই তিনি শত কোটি টাকার বেশি সম্পদ গড়ে তুলেছেন। ঢাকায় বিলাসবহুল বাড়ি, বিদেশে ব্যাংক হিসাব ও বিনিয়োগ—সবই তার নামে বা পরিবারের নামে আছে বলে দুদক সূত্রে জানা গেছে। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়া ও দুবাইয়ে তিনি বিপুল অর্থ পাচার করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

ড. মঈনুল ইসলামের নাম উঠে আসে কুখ্যাত ঠিকাদার জি কে শামীমের সিন্ডিকেটের সঙ্গেও। র‌্যাবের হাতে শামীম গ্রেফতারের পর তদন্তে প্রকাশ পায়, গণপূর্তের একাধিক উচ্চপদস্থ প্রকৌশলী এই সিন্ডিকেটের অংশ ছিলেন। টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, কমিশন ভাগাভাগি, প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ—সবকিছুতেই জড়িত ছিলেন মঈনুল। এমনকি তার ঘনিষ্ঠ প্রকৌশলীরা এক মামলায় ৩১ কোটি টাকারও বেশি আত্মসাতের অভিযোগে অভিযুক্ত হন।

এই সব অভিযোগ তদন্তে নেয় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ২০২০ সালের শেষ দিকে দুদক তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে এবং ২০২১ সালের জানুয়ারিতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকে। দুদক তার সম্পদের উৎস যাচাই করে অনেক অভিযোগের সত্যতাও খুঁজে পায়।

ড. মঈনুলের দুর্নীতির সঙ্গে আরও যুক্ত ছিল খুলনা অঞ্চলের কিছু কর্মকর্তা। খুলনা গণপূর্ত বিভাগে নির্বাহী প্রকৌশলী অমিত কুমার বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ঠিকাদার মাহবুব মোল্লা লিখিত অভিযোগ দেন—টেন্ডারে অনিয়ম, ঠিকাদার বাছাইয়ে পক্ষপাত ও নিম্নমানের কাজের অভিযোগে। হাসপাতাল, থানা ভবনসহ বিভিন্ন প্রকল্পে ‘ভুতুড়ে’ মেরামতের নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে এটি কেবল একজন কর্মকর্তার নয়, বরং একটি সাংগঠনিক দুর্নীতির চক্র—যেখানে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, মাঠপর্যায়ের প্রকৌশলী ও ঠিকাদাররা মিলে “দুর্নীতির সিন্ডিকেট” গড়ে তুলেছেন। তারা সরকারি প্রকল্পের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করে, প্রতিযোগিতা বন্ধ করে নির্দিষ্ট ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেয় এবং পরে অর্থ ভাগাভাগি করে নেয়।

ফলে জনগণের করের টাকায় চলা প্রকল্পগুলোর মান দিন দিন কমছে। সৎ ঠিকাদাররা প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে ভয় পাচ্ছেন, আর সাধারণ মানুষ ভুগছে নিম্নমানের নির্মাণকাজের ভোগান্তিতে।

একজন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা যখন রাজনৈতিক প্রভাবের আশ্রয়ে বছরের পর বছর দুর্নীতি চালিয়ে যেতে পারেন, তখন এটি কেবল তার ব্যক্তিগত অপরাধ নয়—বরং পুরো প্রশাসনিক কাঠামোর ব্যর্থতার প্রতিফলন। প্রশ্নটা সেখানেই—কোন শক্তি এত বছর ধরে তাকে অদৃশ্যভাবে রক্ষা করেছে?