মিরপুরে আজও পোশাকশ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ

রাজধানীর মিরপুরে আজও সড়কে নেমে বিক্ষোভ করছেন তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। এ সময় পুলিশের সঙ্গে পোশাক শ্রমিকদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

 

মঙ্গলবার (০৩ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শ্রমিকরা মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোস্টেশনের নিচে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।

 

এ সময় তারা বিভিন্ন দিক থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে  ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকেন। শ্রমিকরা সড়কে কাঠের আসবাব জড়ো করে আগুন ধরিয়ে দেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে। দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

 

এ ঘটনায় মিরপুর-১১ নম্বর ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোস্টেশনের পশ্চিম পাশে পুলিশ সদস্যরা অবস্থান নিয়েছিলেন। অন্যদিকে মিরপুর-১০ নম্বর, নান্না মার্কেট এলাকার বিভিন্ন গলি ও মিরপুর-১২ নম্বরের দিক থেকে দলে দলে শ্রমিকেরা এসে বিক্ষোভে যোগ দেন। একপর্যায়ে তারা তিন দিক থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে শুরু করেন।

 

এ সময় শ্রমিকেরা সড়কে বেঞ্চসহ কাঠ জড়ো করে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সদস্যরা সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করেন। পাশাপাশি শ্রমিকদের ধাওয়া দিয়ে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করেন তারা।

 

এদিকে ন্যূনতম মজুরি ও ভাতা বাস্তবায়নের দাবিতে টানা তৃতীয় দিনের মতো উত্তপ্ত সাভার-আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল এলাকা। অধিকাংশ পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

 

সকালে আশুলিয়ার বিভিন্ন কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়লে কোথাও কোথাও কর্মবিরতি ও বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি বিবেচনায় কয়েকটি কারখানা কর্তৃপক্ষ সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে। শিল্পাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

 

এদিকে শ্রমিকরা টঙ্গী-আশুলিয়া- ইপিজেড আঞ্চলিক মহাসড়কে কয়েকটি স্থানের সড়ক অবরোধ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আঞ্চলিক সড়ক থেকে শ্রমিকদের সরিয়ে দিতে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নরসিংহপুর, জামগড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় খণ্ড খণ্ড সংঘর্ষের কথা জানা গেছে।

সোমবারে শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনায় সাভার ও আশুলিয়া থানায় পৃথক মামলা হয়েছে বলে জানা গেছে। শিল্প পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার শ্রমিক অসন্তোষের কারণে ২৬৪টি কারখানায় এক দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়।

 

ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি মুস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, নাশকতার সঙ্গে জড়িতরা সাধারণ শ্রমিক নন। তাদের বিষয়ে পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

 

অন্যদিকে, ন্যূনতম মজুরি কাঠামো বাস্তবায়নের দাবিতে চলমান শ্রমিক অসন্তোষের মধ্যে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে চারজনকে আটক করেছে আশুলিয়া থানা পুলিশ। এ ঘটনায় আশুলিয়া থানায় একটি মামলা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা কয়েকশ ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

 

শ্রমিক অসন্তোষের কারণে শিল্পাঞ্চলের উৎপাদন ও স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

 

রোববার (১ নভেম্বর) শ্রমিকদের আন্দোলনের মুখে সরকার রফতানিমুখী তৈরি পোশাকশিল্পের জন্য নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করেছে।

 

এর আগে তৈরি পোশাকশিল্পে সর্বশেষ নিম্নতম মজুরি বোর্ড হয়েছিল ২০২৩ সালে। ওই বছরের ১ ডিসেম্বর মজুরি কাঠামো কার্যকর করার আইনি বাধ্যবাধকতা ছিল। ২০২৩ সালের মজুরি বোর্ড ছয়টি সভা করে ওই বছরের নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ১২ হাজার ৫০০ টাকা নিম্নতম মজুরির সুপারিশ করেছিল। এরপর ডিসেম্বরে চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার।

 

পোশাকশ্রমিকদের সর্বশেষ ন্যূনতম মজুরি কার্যকর হয় ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে। তবে শ্রম আইন সংশোধন হওয়ার পর নাকি, আগে থেকে তিন বছরের সময় গণনা করা হবে তা নিয়ে শ্রমিক ও মালিকপক্ষের ভিন্নমত ছিল। যদিও শ্রমিক আন্দোলনের মুখে সেই ভিন্নমত টেকেনি।

 

তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের জন্য ১৯৯৪ সালে প্রথমবার নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করে সরকার। সেই বোর্ড ৯৩০ টাকা নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ করে। ২০০৬ সালে সেটি বৃদ্ধি করে ১ হাজার ৬৬২ টাকা ৫০ পয়সা করা হয়। ২০১০ সালের মজুরি বোর্ডে শ্রমিকের নিম্নতম মজুরি ৩ হাজার টাকা করা হয়। ২০১৩ সালের মজুরি বোর্ড ৫ হাজার ৩০০ টাকা নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ করে। সর্বশেষ ২০১৮ সালের মজুরি বোর্ড পোশাকশ্রমিকদের জন্য ৮ হাজার টাকা নিম্নতম মজুরি চূড়ান্ত করে। তার মধ্যে মূল মজুরি ৪ হাজার ১০০ টাকা।




রাজধানীর দুই জায়গায় ককটেল বিস্ফোরণ

ডেস্ক নিউজ : রাজধানীর আগারগাঁও ও সোবহানবাগে দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। তবে পৃথক এই ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি।

সোমবার (২ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৮টায় সোবহানবাগের ধানমন্ডি গভ. বয়েজ হাইস্কুলের সামনে এবং রাত সোয়া ৯টায় আগারগাঁও মেট্রো স্টেশনের নিচে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় দুর্বৃত্তরা।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, রাত সাড়ে ৮টার দিকে ধানমন্ডি গভ. বয়েজ হাইস্কুলের সামনে ফুটওভার ব্রিজের নিচে একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। এই ঘটনা কারা ঘটিয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে কেউ হতাহত হয়নি।

তিনি আরও জানান, রাত সোয়া ৯টার দিকে আগারগাঁও মেট্রো স্টেশনের নিচে আরেকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায়ও কেউ আহত হয়নি বলে জানা গেছে। তবে এটি কাফরুল থানা এলাকায় পড়েছে। এটি তারা তদন্ত করবে।

এই বিষয়ে জানতে কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলামকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।




রাজধানীতে ৬ রুটে ৮৬১ বাস নিয়ে চালু হলো ‘বাস রুট রেশনালাইজেশন’

রাজধানীতে ৬টি রুট ও একটি সার্কুলার রুটে ৮৬১টি বাস নিয়ে চালু হলো বাস রুট রেশনালাইজেশন কার্যক্রম।

রোববার (১ নভেম্বর) রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে ফ্র্যাঞ্চাইজ পদ্ধতিতে বাস পরিচালনা কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের দিন থেকেই বাস রুট রেশনালাইজেশন নিয়ে কাজ করছি। এটি দীর্ঘদিনের একটি স্বপ্নের প্রকল্প। তবে বাস মালিক ও শ্রমিকদের অসহযোগিতা এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে এতদিন তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।

তিনি বলেন, ঢাকাবাসী একসময় মনে করেছিল, এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না। আগে রাজধানীতে ৯৮টি বাস রুট ছিল। বিভিন্ন ব্যানারে বাস চলাচল করায় চালকদের মধ্যে অসুস্থ প্রতিযোগিতা হতো, ঘটত দুর্ঘটনা। পরে রুটের সংখ্যা কমিয়ে ৩২টিতে আনা হয়। এর মধ্যে আজ ছয়টি রুটে কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, আগে ছয়টি রুটে ১৮টি আলাদা ব্যানারে বাস চলাচল করত। সেগুলোকে একটি কোম্পানির আওতায় আনা হয়েছে। এখন শৃঙ্খলার সঙ্গে বাস চলাচল করবে। এতে অসুস্থ প্রতিযোগিতা ও বিশৃঙ্খলা কমবে। বাসচালক ও শ্রমিকেরা বেতনভিত্তিক ব্যবস্থায় কাজ করবেন।

তিনি আরও বলেন, ২৫টি সার্কুলার বাস রুট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এসব রুটে ছোট আকারের বাস চক্রাকারে চলাচল করবে। প্রতিটি বাস নির্ধারিত রুটে সারাদিন চলবে। আগামী দেড় থেকে দুই মাসের মধ্যে মিনি বাস পাওয়া গেলে বাকি চারটি রুট নিয়েও কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।

মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ বলেন, আপাতত ছয়টি রুটে পাইলট কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ৩২টি রুটের বাসের জন্য থাকবে আলাদা আলাদা রং ও নম্বর। বাসের সামনের ডিজিটাল প্লেট দেখেই যাত্রীরা বুঝতে পারবেন, কোন বাস কোন রুটে চলাচল করছে।




রাজউকের পারমিট সেবায় ডিজিটাল গতি, ৭ মাসে প্রায় ১১ হাজার আবেদন

রাজধানীতে ভবন নির্মাণ ও ভূমি ব্যবহারের অনুমোদন প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) আওতাধীন আটটি জোনে প্লানিং পারমিট ও কনস্ট্রাকশন পারমিটের আবেদন এবং অনুমোদন কার্যক্রম শতভাগ অনলাইনে হওয়ায় সেবাগ্রহীতাদের দাপ্তরিক দৌড়ঝাঁপ অনেকটাই কমেছে।

একইসাথে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আবেদন নিষ্পত্তি এবং আবেদনে কোনো ঘাটতি থাকলে মোবাইল ফোন বা ই-মেইলের মাধ্যমে তা জানানোর ব্যবস্থা চালু হওয়ায় সেবায় গতি ও স্বচ্ছতা বাড়ছে।

রাজউকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাদের আটটি জোনে প্লানিং পারমিটের জন্য অনলাইনে মোট ৭ হাজার ৫৫টি আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে ৫ হাজার ৩৯৩টি আবেদন অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে কনস্ট্রাকশন পারমিটের জন্য অনলাইনে ৩ হাজার ৯৩০টি আবেদন জমা পড়ে এবং এর মধ্যে ২ হাজার ৬০০টি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ সাত মাসে দুই ধরনের পারমিটের জন্য মোট ১০ হাজার ৯৮৫টি আবেদন জমা পড়েছে এবং ৭ হাজার ৯৯৩টি আবেদন অনুমোদন পেয়েছে।

রাজউক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্লানিং পারমিট নিষ্পত্তির জন্য ৩০ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে কনস্ট্রাকশন পারমিটের আবেদন ২৪ দিনের মধ্যে বিল্ডিং কনস্ট্রাকশন (বিসি) কমিটিতে উপস্থাপনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। আবেদনকারীর দাখিল করা কাগজপত্র ও নকশা সঠিক থাকলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আবেদন নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কোনো কাগজপত্রে ঘাটতি বা আবেদনে ত্রুটি থাকলে তা অনলাইনের মাধ্যমে আবেদনকারীকে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

রাজউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম রিজু বলেন, অতীতে প্লানিং পারমিট ও কনস্ট্রাকশন পারমিট নিতে সেবাগ্রহীতাদের অনেক হয়রানির শিকার হতে হতো। এ জন্য বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে যেতে হতো এবং এক টেবিল থেকে আরেক টেবিলে ঘুরতে হতো। সেবাগ্রহীতাদের এ ভোগান্তি থেকে রক্ষা করতেই প্লানিং পারমিট ও কনস্ট্রাকশন পারমিট অনলাইনে দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, আগে এসব সেবা পেতে দীর্ঘ সময় লাগত এবং মানুষকে ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়তে হতো। সেবাগ্রহীতাদের সুবিধার জন্য সময়সীমা কমিয়ে তা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

রাজউক চেয়ারম্যান বলেন, নকশা অনুমোদন আগে থেকেই অনলাইনে দেওয়া হতো। তবে আগের সময়ে এর জন্য নির্ধারিত সময়সীমা ছিল না। বর্তমানে কনস্ট্রাকশন পারমিট ও প্লানিং পারমিট অনুমোদনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২৪ দিনের মধ্যে বিল্ডিং কনস্ট্রাকশন কমিটিতে আবেদন উপস্থাপনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে এবং বিষয়টি রাজউক মনিটর করছে।

তিনি আরও বলেন, সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকেও অনলাইন সেবা নিয়ে ইতিবাচক ফিডব্যাক পাওয়া যাচ্ছে। তারা সেবা পাওয়ার বিষয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করছেন। এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

রাজউক চেয়ারম্যান জানান, রাজউকের সব ধরনের সেবা ডিজিটাইজেশনের আওতায় আনার জন্য কাজ চলছে। দরপত্র, এস্টেট কার্যক্রমসহ অন্যান্য কার্যক্রমও পর্যায়ক্রমে ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রাজউকের পরিচালক (উন্নয়ন) প্রকৌশলী নূর-ই-খোদা জানান, মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্লানিং পারমিটের জন্য জোন-১ এ ১ হাজার ৫৯টি, জোন-২ এ ৭৯৭টি, জোন-৩ এ ১ হাজার ৩০টি, জোন-৪ এ ১ হাজার ৬৬৩টি, জোন-৫ এ ৫০৩টি, জোন-৬ এ ১ হাজার ১৭০টি, জোন-৭ এ ৪৮৩টি এবং জোন-৮ এ ৩৫০টি আবেদন জমা পড়েছে।

এসব আবেদনের মধ্যে জোন-১ এ ৮৭৮টি, জোন-২ এ ৫৮৯টি, জোন-৩ এ ৭৪১টি, জোন-৪ এ ১ হাজার ৬০৯টি, জোন-৫ এ ৩০৫টি, জোন-৬ এ ৭৬৭টি, জোন-৭ এ ২২৮টি এবং জোন-৮ এ ২৭৬টি আবেদন অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বাকি আবেদনগুলো কাগজপত্রের ঘাটতি ও অন্যান্য প্রক্রিয়াগত কারণে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।

একই সময়ে কনস্ট্রাকশন পারমিটের জন্য জোন-১ এ ৭০৭টি, জোন-২ এ ৪১৩টি, জোন-৩ এ ৫২৬টি, জোন-৪ এ ১ হাজার ১৮৯টি, জোন-৫ এ ২২৯টি, জোন-৬ এ ৪৬১টি, জোন-৭ এ ১৮৮টি এবং জোন-৮ এ ২১৭টি আবেদন জমা পড়ে।

এর মধ্যে জোন-১ এ ৪০১টি, জোন-২ এ ২২৫টি, জোন-৩ এ ৩৬৫টি, জোন-৪ এ ৭৫৩টি, জোন-৫ এ ৯৭টি, জোন-৬ এ ৪০৫টি, জোন-৭ এ ১৪৮টি এবং জোন-৮ এ ২০৬টি আবেদন অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

রাজউকের পরিচালক (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ-১) মো. মনিরুল হক জানান, যেসব আবেদনে ত্রুটি বা কাগজপত্রের ঘাটতি রয়েছে, সেগুলো অনলাইনের মাধ্যমে আবেদনকারীর কাছে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। আবেদনকারী ঘাটতি পূরণ করে পুনরায় দাখিল করলে তা অনলাইনেই অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় যাচ্ছে। প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ না হলে আবেদন বাতিল করা হচ্ছে।

তবে রাজউকের পারমিট ব্যবস্থা অনলাইনে করা হলেও পুরো অনুমোদন প্রক্রিয়া এখনো ডিজিটাল হয়নি। নকশা অনুমোদনের পর ভবন নির্মাণকালীন তদারকির কাজ এখনো ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে করা হচ্ছে। এছাড়া অনেক ক্ষেত্রে নকশা অনুমোদনের আগে বিভিন্ন সরকারি সংস্থা থেকে অনাপত্তিপত্র বা এনওসি সংগ্রহ করতে হয়।

ফায়ার সার্ভিস, সিভিল এভিয়েশন এবং কেপিআইডিসিসহ বিভিন্ন সংস্থা থেকে প্রয়োজনীয় অনাপত্তি নিতে হয়। এসব সংস্থার অনেক ক্ষেত্রেই অনাপত্তিপত্র দেওয়ার প্রক্রিয়া এখনো ম্যানুয়াল। ফলে রাজউকের নিজস্ব অনুমোদন ব্যবস্থা অনলাইন হলেও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার ম্যানুয়াল প্রক্রিয়ার কারণে পুরো অনুমোদন ব্যবস্থায় কাঙ্ক্ষিত গতি সবসময় পাওয়া যাচ্ছে না।

রাজউকের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ প্রকৌশলী মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে প্লানিং পারমিট ও নকশা অনুমোদনের ডিজিটাইজেশন কার্যক্রম শুরু হয় ২০১৬ সালে। বিশ্বব্যাংকের আইএফসি অর্থায়নে প্রকল্পটি শুরু হয়েছিল। প্রথমে শুধু জোন-৫, অর্থাৎ ধানমন্ডি এলাকায় ভূমি ব্যবহার সংক্রান্ত কার্যক্রম ডিজিটাল পদ্ধতিতে শুরু করা হয়। পরবর্তীতে রাজউকের আওতাধীন আটটি জোনে এ কার্যক্রম বিস্তৃত হয়।

তিনি বলেন, ঢাকা আরবান রেজিলিয়েন্স প্রজেক্টের আওতায় ইলেকট্রনিক কনস্ট্রাকশন পারমিটিং সিস্টেম চালু হয়, যা বর্তমানে চলমান রয়েছে।

প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ বলেন, প্লানিং পারমিট বা নকশা অনুমোদনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও স্বচ্ছ করতে ওয়ান উইন্ডো সেলের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে একই ছাতার নিচে এনে সেবা দিতে পারলে অনুমোদনের সময় আরও কমবে এবং জনভোগান্তিও কমবে।

রাজউকের কর্মকর্তাদের মতে, তাদের আট জোনে পারমিট আবেদন ও অনুমোদন অনলাইনে হওয়ায় সেবাপ্রক্রিয়া আরও সহজ হয়েছে। তবে পুরো ব্যবস্থাকে কার্যকরভাবে ‘ওয়ান-স্টপ’ সেবায় রূপ দিতে হলে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার অনাপত্তি প্রদান, নির্মাণকালীন পরিদর্শন এবং অন্যান্য সহায়ক কার্যক্রমও ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনতে হবে। সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্মে আনা সম্ভব হলে ভবন নির্মাণের অনুমোদন প্রক্রিয়ায় সময় ও জনভোগান্তি আরও কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।




রাজধানীর ৩৩ পয়েন্টে প্রতিমা বিসর্জন, নিরাপত্তায় ১৬ হাজারের বেশি পুলিশ

প্রতিমা বিসর্জন ঘিরে ঢাকা মহানগরীতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (অপারেশন) মো. শহীদুল্লাহ। বিসর্জন কার্যক্রম নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে ১৬ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এবার ঢাকা মহানগরীর ৩৩টি পয়েন্টে প্রতিমা বিসর্জন হবে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিসর্জন হবে ওয়াইজঘাট এলাকায়।

বুধবার প্রতিমা বিসর্জনের প্রস্তুতি নিয়ে পলাশী মোড়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন তিনি। যুগ্ম পুলিশ কমিশনার  বলেন, ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে পুলিশের প্রায় ১৬ হাজারের বেশি সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। মহানগরীর ৩৩টি পয়েন্টে প্রতিমা বিসর্জনের কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে। এসব স্থানের মধ্যে ওয়াইজঘাট এলাকায় সবচেয়ে বেশি প্রতিমা বিসর্জন হবে।

মো. শহীদুল্লাহ বলেন, ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির থেকে শোভাযাত্রা শুরু হয়ে ওয়াইজঘাটে গিয়ে শেষ হবে। সেখানে প্রতিমা বিসর্জনের কার্যক্রম পরিচালিত হবে। ইতোমধ্যে শোভাযাত্রায় অংশ নেয়ার জন্য প্রতিমাগুলো নির্ধারিত স্থানে রাখা হচ্ছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই শোভাযাত্রা শুরু হবে।

বিসর্জন ঘিরে নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে তিনি জানান, ঢাকা মহানগর পুলিশের ইউনিফর্মধারী সদস্যদের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি), এসআরইউ, সোয়াট ও বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) এবং এসআরবির সদস্যরাও নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, ঢাকা মহানগরীতে এবার সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। বাকি সময়েও নেতিবাচক কোনো ঘটনা ঘটবে না বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হলে তা মোকাবিলায় পুলিশের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি রয়েছে বলেও জানান ডিএমপির এই কর্মকর্তা। এজন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে মো. শহীদুল্লাহ বলেন, সবাই যেন উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পূজার কার্যক্রম সম্পন্ন করতে সহযোগিতা করেন। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে পূজার কার্যক্রম শেষ করার পুরো প্রক্রিয়ায় নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।




পূজায় মেট্রোরেলের নতুন সময়সূচি

ডেস্ক নিউজ : আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজার ছুটিতে মেট্রোরেল চলাচলের সময়সূচিতে পরিবর্তন এনেছে কর্তৃপক্ষ। ছুটির দিনগুলোতে যাত্রীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে নির্ধারিত সময়ে ১০ থেকে ২০ মিনিট বিরতিতে ট্রেন পরিচালনা করা হবে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আহসান উল্লাহ শরিফী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ডিএমটিসিএলের জনসংযোগ কর্মকর্তা জানান, পূজার ছুটির দিনগুলোতে পিক আওয়ারের সময় প্রতি ১০ মিনিট পর পর মেট্রোরেল চলাচল করবে।

সাধারণত মেট্রোরেলের নিয়ম অনুযায়ী: সকাল ৮টা ১০ মিনিট থেকে ১০টা ৩০ মিনিট এবং বিকেল পৌনে ৫টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সময়কে ‘পিক আওয়ার’ হিসেবে ধরা হয়। উল্লেখ্য, স্বাভাবিক কর্মদিবসে পিক আওয়ারে প্রতি ৫-৬ মিনিট পর পর ট্রেন চলাচল করে। অন্যদিকে অফ-পিক আওয়ার বা অন্যান্য সময়ে সাধারণত ৮-১০ মিনিটের ব্যবধানে ট্রেন স্টেশন ছাড়ে।

ডিএমটিসিএলের নিয়মিত সময়সূচি অনুযায়ী শনিবার থেকে বৃহস্পতিবার: উত্তরা উত্তর স্টেশন থেকে সকাল সাড়ে ৬টায় প্রথম ট্রেন এবং রাত ৯টা ৫০ মিনিটে শেষ ট্রেন ছাড়ে। অন্যদিকে মতিঝিল স্টেশন থেকে প্রথম ট্রেন ছাড়ে সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে এবং শেষ ট্রেন ছাড়ে রাত সাড় ১০টায়। শুক্রবার: সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবারে উত্তরা উত্তর থেকে বিকেল ৩টায় এবং মতিঝিল থেকে বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে প্রথম ট্রেন ছাড়ে। এই দিনে দুই স্টেশন থেকে রাতের শেষ ট্রেন ছাড়ে যথাক্রমে ৯টা ৫০ মিনিট ও রাত ১০টা ৩০ মিনিটে।




উত্তরার সড়কে প্রায় ৪ ঘণ্টা অবরোধ পোশাকশ্রমিকদের, ধাওয়া দিয়ে সরাল পুলিশ

ডেস্ক নিউজ : বকেয়া বেতন, মজুরি বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবি আদায়ে রাজধানীর উত্তরার আজমপুর এলাকায় পৌনে চার ঘণ্টা অবরোধের পর সড়ক থেকে পোশাকশ্রমিকদের সরিয়ে দিয়েছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল আটটা থেকে পোশাকশ্রমিকেরা সড়কে অবস্থান নেওয়ায় ঢাকা ময়মনসিংহ সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।




কুর্মিটোলায় সড়ক পারাপারের সময় দুর্ঘটনায় নারীর মৃত্যু

রাজধানীর কুর্মিটোলা হাসপাতালের সামনে সড়ক পার হওয়ার সময়ে দ্রুতগতির মোটরসাইকেল দেখে আতঙ্কিত হয়ে পেছনে সরে যেতে গিয়ে পড়ে এবং মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে মোসা. মিজান বেগম (৪৬) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পর তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে জরুরি বিভাগে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, মরদেহটি হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানো হয়েছে।

নিহতের ছোট ভাই মোস্তাফিজুর রহমান জানান, মিজান বেগম কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার সুলতানপুর গ্রামের মো. আলীর স্ত্রী। তার বাবার নাম মোরশেদ আলী।

নিহতের ছেলে জানান, গ্রামের বাড়ি থেকে মেয়ে রিমাসহ ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ডাক্তার দেখাতে যাচ্ছিলেন মা মিজান বেগম। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে কুর্মিটোলা হাসপাতালের বিপরীত পাশে থেকে সড়ক পার হওয়ার সময় দুর্ঘটনার শিকার হন। পরে হাসপাতালে মৃত্যু হয়।




সুশাসন ও সংস্কারে বদলেছে মিরপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, এসএসসিতে পাস ৮৮.৬৪ শতাংশ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে ভালো সাফল্য দেখিয়েছে মিরপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়। ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় বিদ্যালয়টির ৮৮ দশমিক ৬৪ শতাংশ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। এর মধ্যে ১৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, শিক্ষার্থীদের এই ফলাফলের পেছনে নিয়মিত পাঠদান, শৃঙ্খলা, পড়াশোনার পরিবেশ উন্নয়ন এবং শিক্ষকদের বিভিন্ন উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। পাশাপাশি বর্তমান এডহক কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমেও পরিবর্তন এসেছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

দীর্ঘদিন ধরে সঠিক অভিভাবকত্ব ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার অভাবে বিদ্যালয়টির বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমস্যা ছিল বলে জানায় কর্তৃপক্ষ। বর্তমান এডহক কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর এসব সমস্যা ধীরে ধীরে কাটিয়ে ওঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের অবকাঠামো সংস্কারেও নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন পদক্ষেপ।

বিদ্যালয়ের বর্তমান এডহক কমিটির সভাপতি মো. আশরাফুজ্জাহান জাহান এবং ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. নুরে আলমের নেতৃত্বে এসব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবকদের সুবিধার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে অভিভাবকদের বসার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং বিদ্যালয়ের সামগ্রিক পরিবেশ আরও সুশৃঙ্খল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, এডহক কমিটির উদ্যোগ এবং শিক্ষা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিক শাখার আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পাওয়া গেছে। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের পরিধি আরও বাড়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ।

শিক্ষার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নেও কাজ চলছে। আগে বিদ্যালয়ে থাকা ছোট অডিটোরিয়ামটি বড় করে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন করার সংস্কারকাজ চলছে। নতুন অডিটোরিয়ামে প্রায় ৬০০ মানুষের বসার ব্যবস্থা থাকবে। এটি চালু হলে অভিভাবক সমাবেশ, সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বার্ষিক অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন আয়োজন আরও সুন্দরভাবে করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতেও নেওয়া হয়েছে উদ্যোগ। বিদ্যালয়ের প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের কাজ চলছে। এর মাধ্যমে শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহজ হবে বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ।

মহিলা শিক্ষক ও ছাত্রীদের সুবিধার জন্য পৃথক নামাজের স্থানও তৈরি করা হয়েছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি তাদের অন্যান্য প্রয়োজন ও সুযোগ-সুবিধার বিষয়গুলোও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২০১৫-১৬ থেকে ২০২৫-২৬ করবর্ষ পর্যন্ত বকেয়া পৌরকর পরিশোধ করা হয়েছে। বর্তমান পর্ষদের উদ্যোগে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের পে-অর্ডারের মাধ্যমে মোট ৬৬ লাখ ৬২ হাজার ৮০৬ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে বলে জানানো হয়।

বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক দায়িত্ব নিয়েও একটি আইনি বিষয় রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের লিভ টু আপিল মামলা নম্বর ২৮৩১/২০২৫-এ আদালতের স্ট্যাটাসকো আদেশের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ রয়েছে বলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এই অবস্থায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. নুরে আলম তাঁর ওপর অর্পিত দায়িত্ব আইন অনুযায়ী পালন করছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. নুরে আলম বলেন, বিদ্যালয়ের সব কার্যক্রম শিক্ষা বোর্ডের প্রচলিত বিধি ও প্রবিধান মেনেই পরিচালনা করা হচ্ছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর বিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা ও আর্থিক জটিলতা সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করা, শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিয়ম-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং প্রাথমিক শাখার অনুমোদন পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু ভালো ফলাফল করানো নয়, তাদের খেলাধুলা ও অন্যান্য সহশিক্ষা কার্যক্রমের সুযোগ বাড়ানোর দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিদ্যালয়ের পরিবেশ এমনভাবে গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে, যাতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা প্রতিষ্ঠানটির ওপর আরও বেশি আস্থা রাখতে পারেন।

মো. নুরে আলম বলেন, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আস্থা এবং সহযোগিতাই বিদ্যালয়ের উন্নয়নের বড় শক্তি। ভবিষ্যতে শিক্ষার মান আরও বাড়ানোর পাশাপাশি বিদ্যালয়ের অবকাঠামো ও পরিবেশ উন্নয়নের কাজ অব্যাহত থাকবে।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা, শিক্ষার পরিবেশ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনায় নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে শিক্ষার্থীদের ফলাফলেও। ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ৮৮ দশমিক ৬৪ শতাংশ শিক্ষার্থীর পাস এবং ১৬ জনের জিপিএ-৫ অর্জনকে সেই অগ্রগতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ফল হিসেবে দেখছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

তাদের প্রত্যাশা, চলমান সংস্কার ও উন্নয়ন কার্যক্রম শেষ হলে শিক্ষার্থীদের জন্য আরও ভালো পরিবেশ তৈরি হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল আরও ভালো করার পাশাপাশি বিদ্যালয়টিকে একটি মানসম্মত ও আদর্শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।




সরবরাহ সংকটে বোতলজাত সয়াবিন তেল, দাম বাড়াতে চায় কোম্পানিগুলো

ডেস্ক নিউজ : বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ সংকট আবার প্রকট হয়ে উঠেছে। এর প্রভাবে খুচরা বাজারে খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দাম লিটারে বেড়েছে ২ থেকে ৪ টাকা। তেলের এই অস্থিরতার মধ্যেই গত এক সপ্তাহে নতুন করে চড়েছে ফার্মের মুরগির ডিমের দাম। তবে ব্রয়লার মুরগি ও বিভিন্ন ধরনের মাছের বাজার আগের মতোই চড়া দামে স্থিতিশীল রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, পলাশী বাজার ও কল্যাণপুর নতুন বাজার ঘুরে এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।