সরবরাহ সংকটে বোতলজাত সয়াবিন তেল, দাম বাড়াতে চায় কোম্পানিগুলো

ডেস্ক নিউজ : বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ সংকট আবার প্রকট হয়ে উঠেছে। এর প্রভাবে খুচরা বাজারে খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দাম লিটারে বেড়েছে ২ থেকে ৪ টাকা। তেলের এই অস্থিরতার মধ্যেই গত এক সপ্তাহে নতুন করে চড়েছে ফার্মের মুরগির ডিমের দাম। তবে ব্রয়লার মুরগি ও বিভিন্ন ধরনের মাছের বাজার আগের মতোই চড়া দামে স্থিতিশীল রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, পলাশী বাজার ও কল্যাণপুর নতুন বাজার ঘুরে এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।




মানুষের জীবনের মূল্য ৫ লাখ টাকা হতে পারে না: এমপি মনির

ডেস্ক নিউজ : সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের জন্য সরকারের পাশাপাশি পরিবহন মালিকদের পক্ষ থেকেও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী।

তিনি বলেছেন, প্রতিদিন সড়ক দুর্ঘটনায় অসংখ্য মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন। এর বিপরীতে যে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে, তা অতি নগণ্য। মানুষের জীবনের মূল্য মাত্র পাঁচ লাখ টাকা হতে পারে না।

বৃহস্পতিবার কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে কুমিল্লা বিআরটিএর ট্রাস্টি বোর্ডের উদ্যোগে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের স্বজনদের মধ্যে ১ কোটি ২১ লাখ টাকার চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি বা অঙ্গহানির ক্ষতি কোনো অর্থ দিয়েই পূরণ করা সম্ভব নয়। একজন মানুষের জীবনের দাম পাঁচ লাখ টাকা নয়। সরকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়ে দুঃসময়ে কিছুটা আর্থিক স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে পরিবহন মালিকদের পক্ষ থেকেও দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা উচিত।

তিনি বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং দুর্ঘটনা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে বিআরটিএসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।

বিআরটিএ জানায়, কুমিল্লা জেলায় বিভিন্ন সময়ে সড়ক দুর্ঘটনায় ২১ জন নিহত ও ছয়জন আহত হয়েছেন। ২৭টি পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের মধ্যে মোট ১ কোটি ২১ লাখ টাকার চেক বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আলী রাজিব মাহমুদ মিঠুন। উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা বিআরটিএর সহকারী পরিচালক মো. ফারুক আলম, আবদুল্লাহ আল মামুন, সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা লিটন কুমার দে, মোটরযান পরিদর্শক মো. তাজুল ইসলামসহ বিআরটিএর অন্যান্য কর্মকর্তা।

এছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন নিরাপদ চালক চাই সংগঠনের সভাপতি আজাদ সরকার লিটন, পরিবহন মালিক প্রতিনিধি আবদুস সালাম, শ্রমিক প্রতিনিধি খন্দকার কামরুল হাসান টিপু ও সাংবাদিক মাহফুজ নান্টু। অনুষ্ঠান শেষে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের হাতে আর্থিক সহযোগিতার চেক তুলে দেন এমপি মনিরুল হক চৌধুরী।




ফুটপাত দখলমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত উচ্ছেদ অভিযান চলবে : ডিএনসিসি প্রশাসক

ফুটপাত দখলমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর শেওড়াপাড়ায় মিরপুর-১০ এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে সংঘর্ষে আহত সময় সাংবাদিককে দেখতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, নাগরিকদের স্বাচ্ছন্দ্যে ফুটপাত ব্যবহারের সুযোগ নিশ্চিত করতে নিয়মিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ফুটপাত দখলের সমস্যা পাঁচ-ছয় মাসের নয়। বহু বছর ধরে ধীরে ধীরে এই দখল বিস্তৃত হয়েছে। এর ফলে একজন নাগরিকের স্বাভাবিকভাবে ফুটপাত দিয়ে হাঁটার অধিকারও বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, গতকালও আমরা স্পষ্টভাবে বলেছি, আজও বলছি… ফুটপাত দখলমুক্ত করার এই অভিযান চলমান থাকবে। যতদিন পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত সফলতা না আসবে, ডিএনসিসির পক্ষ থেকে এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। সাংবাদিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত।

শফিকুল ইসলাম খান বলেন, প্রতিটি উচ্ছেদ অভিযানের আগে ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়। অভিযানে পুলিশ সদস্যরাও উপস্থিত থাকেন। তবে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি পুলিশ সদস্য থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হতে পারত।

সামনের অভিযানে প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন মোহাম্মদপুর, উত্তরা, তেজগাঁও, মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রয়োজন অনুযায়ী অভিযান পরিচালনা করা হতে পারে। যতদিন কেউ আবার ফুটপাত দখল করে বসার চেষ্টা করবে, ততদিন আরও জোরালো অভিযান পরিচালনা করা হবে।




মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযানে হামলা, গ্রেফতার ২৬

রাজধানীর মিরপুর-১০ এলাকায় ফুটপাত থেকে অবৈধ দখল উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় মোট চার মামলায় এখন পর্যন্ত ২৬ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। সন্ত্রাসবিরোধী আইনে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি, নাশকতা, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের অভিযোগে এসব মামলা দায়ের করা হয়।

মিরপুর মডেল থানার ওসির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বুধবারের সংঘর্ষের ঘটনায় মিরপুর মডেল থানায় তিনটি এবং কাফরুল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে মিরপুর মডেল থানার তিন মামলার দুটির বাদী পুলিশ এবং অন্য মামলাটি করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। অন্যদিকে, কাফরুল থানার মামলাটিও কর্তৃপক্ষ দায়ের করেছে ডিএনসিসি। প্রত্যেক মামলায় ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। সে হিসাবে চার মামলায় মোট আসামি করা হয়েছে প্রায় দুই হাজার জনকে।

জানা গেছে, বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে হোপ মার্কেটের দিকে ফুটপাতের অবৈধ দখল উচ্ছেদে অভিযান শুরু করে ডিএনসিসি। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা বেগম নেলীর নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হচ্ছিল।

অভিযানের একপর্যায়ে ভাসমান দোকান সরানোর সময় ভেকুর আঘাতে বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে আগুন ধরে যায়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে হকার ও দোকানিরা সিটি করপোরেশনের কর্মীদের ওপর হামলা চালালে সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তাদের সঙ্গেও হকারদের সংঘর্ষ ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ বেশ কয়েক রাউন্ড কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। এতে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন।




মিরপুরে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার পর আবারও উচ্ছেদ অভিযান শুরু

ডেস্ক নিউজ : রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় ফুটপাতের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও হকারদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যেই ফের শুরু হয়েছে উচ্ছেদ অভিযান।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টা ২০ মিনিটের দিকে সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে আবারও উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। এ সময় পুলিশ, এসআরবি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ঘটনাস্থলে উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

এর আগে, সকাল ১০টার পর মিরপুর-১০ এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। বেলা ১১টার পর সেখানে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ও হকারদের মধ্যে কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সিটি কর্পোরেশন থেকে উচ্ছেদ অভিযানের সময় রোলার দিয়ে দোকান ভাঙতে গেলে শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত।




সালমানের স্টুডিওতে হামলায় জমির দখলের বিবাদ থাকতে পারে: পুলিশ

রাজধানীর ইসিবি চত্বরের মানিকদির নিউগ্রিনি প্রপার্টিজে গভীর রাতে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনার পেছনে জমির দখল-বেদখলকে কেন্দ্র করে বিবাদ থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মাহিদুল ইসলাম।

রবিবার বেলা সাড়ে ১২টা নাগাদ নিউগিনি প্রপার্টিসে ভাঙচুরের ঘটনায় ঘটনাস্থলে আয়োজিত এক সংবাদ সন্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

মাহিদুল ইসলাম বলেন, গতকাল রাতের ঘটনায় কিছু লোক দলবদ্ধভাবে এখানে ভাঙচুর করেছে। এই ভাঙচুরের ঘটনায় ইমিডিয়েটলি পুলিশের ক্যান্টনমেন্ট থানার অফিসার ইনচার্জ, ইন্সপেক্টর তদন্ত, ইন্সপেক্টর অপারেশন এবং অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা দ্রুত এসে ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে গ্রেপ্তার করে। রাতেই অপারেশন চালিয়ে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করে। তিনজনকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করেছি। এই ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান। এই ঘটনায় যারা জড়িত, তাদের আইনের আওতায় আনতে পারব।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মাহিদুল ইসলাম বলেন, এখানকার যে ঘটনা, আমি এই ঘটনাটায় পুরো টিম নিয়ে পরিদর্শনে এসেছি, তদন্ত করেছি। প্রতিটি ঘটনা ঘটলেই সেটা ইমিডিয়েটলি সেটা ডিটেকশন করেছি।

হামলাকারীদের পরিচয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা এখনও আন্ডার ইনভেস্টিগেশনে আছি। দলবদ্ধভাবে লোকজন এসেছে, সে কারণে আমরা তিনজনকে গ্রেফতার করেছি। তিনজনের একজনের নাম হচ্ছে মামুন; তার বাড়ি গফরগাঁও, তিনি ভাষানটেক বস্তিতে থাকেন। একজনের নাম আসলাম; তার বাড়ি টাঙ্গাইল, তিনি অটোচালক। আরেকজনকে আমরা গ্রেপ্তার করেছি। তার নাম মুন্না, তিনি ভাষানটেক বস্তিতে থাকেন।

হামলার কারণ জানতে চাইলে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করে, হয়তো আরও তথ্য পেলে আপনাদের সুস্পষ্ট করে বলতে পারবো।




মিরপুরে নির্মাণাধীন ভবন থেকে বাঁশ পড়ে বৃদ্ধ গুরুতর আহত চিকিৎসা সহায়তা না দেওয়ার অভিযোগ ভবন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাজধানীর মিরপুরের পাইকপাড়া এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনে সেন্টারিংয়ের কাজ করার সময় ওপর থেকে ভারী বাঁশ ও কাঠ পড়ে তোফাজ্জল হোসেন (৬৫) নামে এক বৃদ্ধ গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতের পরিবারের অভিযোগ, দুর্ঘটনার পর ভবনের মালিক বা সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার চিকিৎসা সহায়তার আশ্বাস দিলেও পরবর্তীতে কোনো ধরনের চিকিৎসা ব্যয় বহন না করে সরে পড়েছেন।

পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ আগস্ট ২০২৪ বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মিরপুর-১ নম্বর এলাকায় রব্বানিয়া হোটেলের পেছনে নির্মাণাধীন ‘নীড় রহমানিয়া টাওয়ার’-এ সেন্টারিংয়ের কাজ করছিলেন তোফাজ্জল হোসেন। দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণশ্রমিক হিসেবে বাঁশ ও সেন্টারিংয়ের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছিলেন তিনি।

কাজ চলাকালে ভবনের ওপরের অংশের কাঠ ও বাঁশ ভেঙে হঠাৎ তাঁর মাথার ওপর পড়ে। এতে তিনি মাথায় গুরুতর আঘাত পান। পরে স্থানীয় লোকজন ও স্বজনরা তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করেন।

আহতের পরিবারের দাবি, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ভবন কর্তৃপক্ষের লোকজন হাসপাতালে এসে প্রথমে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তবে পরবর্তীতে চিকিৎসার ব্যয় বহন না করে তারা সেখান থেকে চলে যান বলে অভিযোগ পরিবারের।

আহতের ছেলে মোঃ মোহাইমিনুল ইসলাম জানান, তাঁর বাবার চিকিৎসায় ইতোমধ্যে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার টাকা চিকিৎসা খরচ হচ্ছে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি আহত হয়ে হাসপাতালে থাকায় পাঁচ সদস্যের পরিবারটি চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে।

এদিকে, নির্মাণকাজে নিরাপত্তাব্যবস্থা ও কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ তুলে মিরপুর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার।

পরিবারের সদস্যরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং আহত তোফাজ্জল হোসেনের চিকিৎসার ব্যয় নির্বাহে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

তবে এ বিষয়ে নির্মাণাধীন ভবনের মালিক, ঠিকাদার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।




হাসপাতালে নয়, ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে লড়াই শুরু হোক ঘর থেকেই: ডিসি ফরিদা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে লড়াই হাসপাতাল থেকে শুরু হয় না; লড়াইটা শুরু হয় আমাদের ঘর ও আশপাশের পরিবেশ থেকে”— ডেঙ্গু প্রতিরোধে নাগরিকদের সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে এ কথা বলেছেন ঢাকা জেলার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা খানম।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর)রাজধানীর শামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজে জেলা প্রশাসন, ঢাকার উদ্যোগে আয়োজিত ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক আলোচনা সভা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

a100179b e8de 4857 b108 1952a66e4bc5

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মোঃ মনিরুজ্জামান মিঞা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত মহিলা আসন-২-এর সংসদ সদস্য শিরীন সুলতানা এবং অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মোঃ আজমুল হক।
এ সময় শামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, আমন্ত্রিত অতিথি এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার মোঃ মনিরুজ্জামান মিঞা বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিকদের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। ঘরবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা এবং কোথাও পানি জমতে না দেওয়ার মাধ্যমে এডিস মশার প্রজনন নিয়ন্ত্রণে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, “ডেঙ্গু প্রতিরোধ শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়, এটি আমাদের সবার দায়িত্ব। এই লড়াইয়ের সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র হলো সচেতনতা, পরিচ্ছন্নতা এবং সম্মিলিত উদ্যোগ।”
তিনি বলেন, বাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র কিংবা আশপাশের যেকোনো স্থানে জমে থাকা পানি এডিস মশার প্রজননস্থল হতে পারে। তাই প্রতিদিন কয়েক মিনিট সময় নিয়ে নিজেদের ঘর, প্রতিষ্ঠান ও আশপাশের পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
“কোথাও পানি জমে আছে কি না তা পরীক্ষা করে জমে থাকা পানি অপসারণ করতে হবে। এতে এডিস মশার বংশবিস্তার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব,” বলেন তিনি।

c6dcbc8c 8ce0 4532 9a0c 955873c65821

ডিসি ফরিদা বলেন, এক দিনের পরিচ্ছন্নতা অভিযান দিয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। পরিচ্ছন্নতাকে প্রতিদিনের অভ্যাসে পরিণত করতে হবে। জেলা প্রশাসন নিয়মিতভাবে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা, তদারকি ও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শুধু প্রশাসনের অভিযান দিয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।
“পরিবার থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি থেকে সামাজিক সংগঠন এবং গণমাধ্যম থেকে সাধারণ নাগরিক—সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন,” বলেন তিনি।
প্রতিটি পরিবারকে ডেঙ্গু প্রতিরোধের প্রথম দুর্গ এবং প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সচেতনতার কেন্দ্রে পরিণত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নাগরিকদের পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলার দায়িত্ব নিতে হবে।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, “তোমরাই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। তোমরা শুধু নিজেরা সচেতন হবে না, তোমাদের পরিবার, বন্ধু এবং প্রতিবেশীদেরও সচেতন করবে। তোমাদের একটি ছোট উদ্যোগ একটি পরিবারকে ডেঙ্গুর ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে পারে।”
গণমাধ্যমের ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। সংবাদ, প্রতিবেদন ও প্রচারের মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধের বার্তা আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে এক দিনের কর্মসূচির পাশাপাশি নিয়মিতভাবে ঘরবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে হবে। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

আলোচনা সভা শেষে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের অংশগ্রহণে শামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজের সংলগ্ন এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।




ডেঙ্গু প্রতিরোধে নগরবাসীর সচেতনতার বিকল্প নেই: ডিএসসিসি প্রশাসক

ডেঙ্গু প্রতিরোধে নগরবাসীর সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক আবদুস সালাম। বাসাবাড়ির ছাদ, ড্রেন ও আশপাশে জমে থাকা পানি নিজ দায়িত্বে পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার সকালে মতিঝিলে ডিএসসিসির ৭৫টি ওয়ার্ডে একযোগে বিশেষ অভিযান ‘ক্লিনিং ডে’ উদ্বোধন শেষে তিনি এ কথা বলেন।

আবদুস সালাম বলেন, বাসাবাড়ির ছাদে জমে থাকা পানি নিজ দায়িত্বে পরিষ্কার করতে হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে নগরবাসীর সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। সবার সমন্বিত প্রচেষ্টায় ঢাকাকে একটি আধুনিক নগরীতে রূপান্তর করা সম্ভব। এজন্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

এসময় তিনি বিরোধী দলকে জনভোগান্তি তৈরি হয়, এমন কর্মসূচি না দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এক দফার হুমকি দিয়ে বিএনপিকে দমানো যাবে না। বিএনপি জনগণের দল।

গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলেও জানান ডিএসসিসি প্রশাসক। গণতন্ত্রকে নস্যাৎ না করে ধৈর্য ধরে সরকারকে সময় দেওয়ার আহ্বান জানান। এছাড়া জাতিসংঘে সারা বিশ্ব ও বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতা তুলে ধরায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান আবদুস সালাম।




বিভিন্ন এলাকায় ৬০-৭০ শতাংশ পর্যন্ত এডিসের লার্ভা পাওয়া যাচ্ছে : ডিএনসিসি প্রশাসক

ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা তুলনামূলক কম থাকলেও বিভিন্ন এলাকায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত এডিসের লার্ভা পাওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ডেঙ্গুর লার্ভা ধ্বংসে অভিযান ও সচেতনতামূলক কর্মশালার উদ্বোধন শেষে তিনি এ কথা জানান।

প্রশাসক জানান, সরকারি অফিস-আদালত, পরিত্যক্ত ভবন এবং কম মানুষের চলাচল রয়েছে এমন স্থানগুলোতেই লার্ভার উপস্থিতি বেশি। এসব স্থানে অভিযান চালাতে ডিএনসিসির ১০ জন ম্যাজিস্ট্রেট কাজ করছেন। লার্ভা পাওয়া গেলে ধ্বংসের পাশাপাশি করা হচ্ছে জরিমানা।

মশক নিধন কার্যক্রমে গাফিলতির অভিযোগে এরই মধ্যে দুই কর্মীকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি, ব্যবহারের আগে মশার ওষুধ ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা হয়। ডিএনসিসির আওতাধীন হাসপাতালগুলো থেকে প্রতিদিন ডেঙ্গু রোগীর তথ্য সংগ্রহ করে ডেটাবেজ তৈরি করা হচ্ছে বলেও জানান ডিএনসিসির প্রশাসক।