পিতা মুক্তিযুদ্ধে শহীদ, অথচ জামায়াত এমপি জন্মেছেন ১৯৮১ সালে!

ডেস্ক নিউজঃ জাতীয় সংসদে দেওয়া এক বিতর্কিত বক্তব্যকে কেন্দ্র করে নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা হাফেজ আব্দুল মুনতাকিমকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সংসদে দেওয়া তার নিজের দাবি এবং নির্বাচনী হলফনামায় উল্লিখিত জন্মতারিখের মধ্যে এক বিশাল ও অবাস্তব অসঙ্গতি প্রকাশ পাওয়ায় এই বিতর্কের সূত্রপাত।

মূল ঘটনার সূত্রপাত ঘটে জাতীয় সংসদের একটি অধিবেশনে মুক্তিযোদ্ধা সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিলের ওপর আলোচনার সময়। ওই অধিবেশনে জামায়াতে ইসলামীকে পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগী হিসেবে আইনগতভাবে চিহ্নিত করার বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক চলছিল। এমন প্রেক্ষাপটে সংসদে নিজের অবস্থান ও বক্তব্য তুলে ধরতে গিয়ে এমপি আব্দুল মুনতাকিম দাবি করেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তার নিজের পরিবারের অসামান্য ও গৌরবোজ্জ্বল অবদান রয়েছে।

গত ১৪ জুন সংসদে ক্ষোভ প্রকাশ করে দেওয়া সেই বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আমার বাবা, আমার দাদা যুদ্ধে শহীদ। আমার আব্বারা (বাবা-চাচা) ৭ ভাই, ৪ জন মুক্তিযোদ্ধা। আমার দাদারা ১৯ জন, ১১ জন মুক্তিযোদ্ধা। আমার পরিবারে ৪৭ জন মুক্তিযোদ্ধা। আমার মা মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক।’

এই চাঞ্চল্যকর বক্তব্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পরপরই সচেতন মহল ও অনুসন্ধিৎসু ব্যক্তিরা তার নির্বাচনী হলফনামা এবং ব্যক্তিগত নথিপত্র খতিয়ে দেখতে শুরু করেন। আর তাতেই বেরিয়ে আসে এক অবিশ্বাস্য ও গাণিতিকভাবে অসম্ভব এক বৈপরীত্য। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া তার হলফনামা এবং উন্মুক্ত তথ্যকোষ উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, সংসদ সদস্য হাফেজ আব্দুল মুনতাকিমের জন্ম তারিখ উল্লেখ রয়েছে ১৯৮১ সালের ১০ জানুয়ারি।

নিজের বক্তব্যের শেষ দিকে এই সংসদ সদস্য নিজেও বলেন, তার জন্ম ১৯৮১ সালে।

এই জন্মসাল সামনে আসার পরেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরা তার বক্তব্যের সত্যতা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন। নেটদুনিয়ায় তীব্র সমালোচনা ও ট্রল করে অনেকেই প্রশ্ন করছেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে যদি তার পিতা শহীদই হয়ে থাকেন, তবে যুদ্ধ শেষ হওয়ার দীর্ঘ ১০ বছর পর অর্থাৎ ১৯৮১ সালে আব্দুল মুনতাকিমের জন্ম কীভাবে সম্ভব হলো?

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাধারণ ভোটাররা হিসাব কষে বলছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্রের হিসাব অনুযায়ী তার বর্তমান বয়স ৪৪ বছর ১১ মাস, যা ১৯৮১ সালের জন্মতারিখের সাথে সম্পূর্ণরূপে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কিন্তু ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে বা যুদ্ধে শহীদ হওয়া কোনো পিতার পক্ষে ১৯৮১ সালে সন্তান জন্ম দেওয়া কেবল অলৌকিক বা গাণিতিকভাবেই অসম্ভব নয়, বরং এটি একটি চরম ও হাস্যকর মিথ্যাচার।

সংসদে দেওয়া এই স্ববিরোধী বক্তব্য নিয়ে এখন পর্যন্ত জামায়াত নেতা হাফেজ আব্দুল মুনতাকিম বা তার দলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।




পল্লী হোসেনের মৃত্যুতে পার্টি চেয়ারম্যান-এর শোক

বিশেষ প্রতিবেদকঃ জাতীয় পার্টি মতিঝিল থানা শাখার সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হোসেন আলী (৫৫) ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। গত ২৮ মে ২০২৬, বৃহস্পতিবার রাত ১২:৩০ মিনিটে ছোট ভাইয়ের বাসভবনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে তিনি “পল্লী হোসেন” নামে পরিচিত ছিলেন।

দীর্ঘদিন লিভারের জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরদিন সকাল ৮টায় মুজাহিদনগর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে তার জানাজার নামাজ শেষে আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। মৃত্যু কালে তিনি তিন পুত্র এক কন্যা সহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন।

জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান গোলাম মোহম্মদ কাদের, পল্লী হোসেনের অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে শোকবার্তা প্রেরণ করেছেন। শোকবার্তায় পার্টি চেয়ারম্যান মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জনিয়েছেন।

জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী এবং প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক মীর আব্দুস সবুর আসুদ পৃথক পৃথক শোকবার্তায় পল্লী হোসেনের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।




জাতীয় পার্টি, ঢাকা মহানগর উত্তর-এর পূর্ণাঙ্গ আহবায়ক কমিটি অনুমোদিত।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ আজ ২৪ মে, ২০২৬ রবিবার। জাতীয় পার্টির মাননীয় চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের, মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী’র সুপারিশে পূর্বের কমিটি বিলুপ্ত করে এ এন এম রফিকুল ইসলাম সেলিম-কে আহবায়ক ও মোঃ নজরুল ইসলাম সরদার-কে সদস্য সচিব করে ১৫১ (একশত একান্ন) সদস্য বিশিষ্ট জাতীয় পার্টি, ঢাকা মহানগর উত্তর-এর পূর্নাঙ্গ আহবায়ক কমিটি অনুমোদন করেছেন।

যা ইতোমধ্যে কার্যকর করা হয়েছে।




শিশু শিক্ষার্থী রমিসা সহ দেশব্যাপী ধর্ষণ,হত্যা, নারী শিশু নির্যাতনের প্রতিবাদ এবং অপরাধদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যু দন্ডের দাবীতে জাতীয় ছাত্র সমাজের আয়োজনে মানব বন্ধন অনুষ্ঠিত।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ আজ ২৪ মে ২০২৬, রবিবার, সকাল ১০. ০০টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জাতীয় ছাত্র সমাজের আয়োজনে শিশু শিক্ষার্থী রমিসা সহ দেশব্যাপী ধর্ষণ,হত্যা, নারী শিশু নির্যাতনের প্রতিবাদ এবং অপরাধদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যু দন্ডের দাবীতে মানব বন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী বক্তব্য প্রদান করেন।

অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, প্রেসিডিয়াম সদস্য মীর আবদুস সবুর আসুদ, এ্যাড মোঃ রেজাউল ইসলাম ভূঞা, আলমগীর সিকদার লোটন, এমরান হোসেন মিয়া, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মোঃ খলিলুর রহমান খলিল, ভাইস চেয়ারম্যান আমির উদ্দিন আহমেদ ডালু, আব্দুল হামিদ ভাসানী, সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান মিরু, সমরেশ মন্ডল মানিক, নজরুল ইসলাম সরদার, আরিফুল ইসলাম রুবেল, কিশোর মবিন, মাহমুদ আলম, আসাদুজ্জামান খান, মহিলা পার্টির নেত্রী জেসমিন নূর প্রিয়াংকা, রীতু নূর, মনিকা আলম, ছাত্র সমাজের আল-আমিন সরকার, আরিফ আলী প্রমুখ।




।শোক বিজ্ঞপ্তি। রহিমা বেগমের মৃত্যুতে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের শোক।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ জাতীয় পার্টি, কাফরুল থানা কমিটির আহবায়ক এস এম বদরুল আলমের মমতাময়ী মাতা রহিমা বেগম ( ৬৮) ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তিনি দীর্ঘদিন মরণব্যাধি ক্যান্সারের সাথে লড়াই করে ২০মে ২০২৬, বুধবার রাত ৯ঃ০০টায় ঢাকার হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তিনি চার পুত্র এক কন্যা সহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন।

জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান গোলাম মোহম্মদ কাদের, রহিমা বেগমের মৃত্যুতে শোকবার্তা প্রেরণ করেছেন। শোকবার্তায় পার্টি চেয়ারম্যান মরহুমার বিদেহী আত্মার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন।

পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী রহিমা বেগমের মৃত্যুতে অনুরূপ এক শোকবার্তা প্রেরণ করেছেন।

পার্টির প্রেসিডিয়ামের সদস্য ও সাংস্কৃতিক পার্টির সভাপতি শেরিফা কাদের, রহিমা বেগমের মৃত্যুতে গভীর শোক এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।




ইতিহাসের একটি দলিল এবং আগামী প্রজন্মের জন্য এক প্রেরণার উৎস হবে বইটি এসএম জিলানী, এমপি

স্টাফ রিপোর্টারঃ গতকাল বিএনপি কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ‘জিয়াউর রহমান: এক দূরদর্শী নেতা ও দেশ গঠনের রূপকার’ বইটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়। স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি এবং গোপালগঞ্জ ০৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য এস এম জিলানী বইটি’র মোড়ক উন্মোচন করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বইটি ইতিহাসের একটি দলিল এবং আগামী প্রজন্মের জন্য এক প্রেরণার উৎস হবে বলে মন্তব্য করেন এসএম জিলানী এমপি।

এতে আরো উপস্থিত ছিলেন স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি নেছার উদ্দিন সফী, নাছির আহমেদ মোল্লা, সহ সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম রনি মৃধা, স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা মহানগর দক্ষিণ এর সাধারণ সম্পাদক সাদ মোর্শেদ পাপ্পা শিকদার, সহ সভাপতি মনির হোসেন মৃধা, সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক, যুগ্ম সম্পাদক কাজী মহিউদ্দিন মহি, হাসান আলী, দপ্তর সম্পাদক মোঃ সাইফুল ইসলাম পলাশ, সবুজবাগ থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মোঃ বিল্লাল হোসেন সহ থানা ও ওয়ার্ডের নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রতিভা প্রকাশের প্রকাশক ও কবি মঈন মুরসালিন।

মোহাম্মদ মাসুদ রচিত “জিয়াউর রহমান: এক দূরদর্শী নেতা ও দেশ গঠনের রূপকার” বইটি বাংলাদেশের ইতিহাসে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জীবন ও কর্মের উপর একটি বিস্তৃত ও তথ্যবহুল আলোচনা। এটি কেবল একটি সাধারণ জীবনীগ্রন্থ নয়, বরং একজন মহান নেতার বহুমাত্রিক অবদানকে তুলে ধরার একটি গভীর প্রয়াস। লেখক বইটিতে ১২টি ভিন্ন প্রবন্ধ সংকলন করেছেন, যেখানে জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন, রাষ্ট্র পরিচালনার কৌশল এবং বাংলাদেশের উন্নয়নে তার বাস্তবধর্মী চিন্তাভাবনাগুলো সুনিপুণভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

লেখক তার পর্যালোচনায় জিয়াউর রহমানের জীবনকে কেবল একজন সামরিক নেতা হিসেবে নয়, বরং একজন রাষ্ট্রনায়ক, রাজনীতিবিদ এবং সমাজ সংস্কারক হিসেবে তুলে ধরেছেন। এতে মুক্তিযুদ্ধে তার ভূমিকা, স্বাধীনতার ঘোষণা এবং জেড ফোর্স গঠনের মতো ঐতিহাসিক দিকগুলো বিশদভাবে আলোচনা করা হয়েছে। একইসঙ্গে, তিনি কীভাবে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে দেশের রাজনীতিতে স্থিতিশীলতা এনেছিলেন, সেই বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে উঠে এসেছে।

অর্থনৈতিক সংস্কারের ক্ষেত্রে জিয়াউর রহমানের অবদান এই বইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ‘সবুজ বিপ্লব’-এর স্থপতি হিসেবে তার খাল খনন কর্মসূচির কথা বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে, যা বাংলাদেশের কৃষি ও অর্থনীতিতে এক মহাবিপ্লব ঘটিয়েছিল বলে লেখক দাবি করেন। এটি প্রমাণ করে যে জিয়াউর রহমান কেবল সামরিক বা রাজনৈতিক ক্ষেত্রে নয়, বরং দেশের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার বিষয়েও কতটা দূরদর্শী ছিলেন।

বইটিতে জিয়াউর রহমানের সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাক্ষেত্রে অবদানের কথাও লেখা হয়েছে। ‘নতুন কুঁড়ি’-এর মতো সৃজনশীল উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি শিশুদের প্রতিভা বিকাশে যে সহায়তা করেছিলেন, তা তার উদার ও সংবেদনশীল ব্যক্তিত্বের পরিচয় বহন করে। পাশাপাশি, ইসলামী শিক্ষা ও জীবনবোধের প্রসারে তার ভূমিকাও আলোচিত হয়েছে।

লেখক এই বইটিকে কেবল ইতিহাসের একটি দলিল হিসেবে নয়, বরং বাংলাদেশের আগামী প্রজন্মের জন্য এক প্রেরণার উৎস হিসেবে দেখছেন। তার এই প্রয়াস জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও দেশপ্রেম সম্পর্কে পাঠককে গভীরভাবে জানতে সাহায্য করবে এবং একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রেরণা যোগাবে।




“দেশে এখন স্বাধীনভাবে কথা বলাও কঠিন”-বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘অপশাসনের ধারাবাহিকতা’ বললেন জিএম কাদের

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের দাবি করেছেন, ২০১৪ সালের পর থেকে দেশে যেসব জাতীয় নির্বাচন হয়েছে, সবই আগে থেকেই পরিকল্পিত ও নিয়ন্ত্রিত ছিল। তাঁর অভিযোগ, ভোটের ফল জনগণের রায়ে নয়, বরং কৌশল আর প্রভাব খাটিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে। শনিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে নিজের দু’টি বইয়ের প্রকাশনা ও আলোচনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

জিএম কাদের বলেন, সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনেও ভোটের প্রকৃত চিত্র আড়াল করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ভোটার সংখ্যা বাড়লেও ভোটকেন্দ্রের বুথ কমিয়ে দেওয়া হয়েছিল পরিকল্পিতভাবে। তিনি বলেন, দায়িত্বশীল মহল আগেই বুঝেছিল সাধারণ মানুষ ভোট দিতে কেন্দ্রে আসবে না। তাই কৃত্রিমভাবে ভোটের পরিবেশ তৈরি করতে এবং পরে ফলাফল নিজেদের মতো সাজাতে বুথ সংখ্যা কমানো হয়।

তিনি নির্বাচন কমিশনের দেওয়া ভোটের হার নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য, ঘোষিত ভোটের হিসাব বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না। তিনি গাণিতিক ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এত বিপুল সংখ্যক ভোট গ্রহণ করা বাস্তবে সম্ভব নয়। ভোটারের পরিচয় যাচাই, আঙুলে কালি দেওয়া, ব্যালট নেওয়া, ভোট দিয়ে বাক্সে ফেলা—সব মিলিয়ে যে সময় লাগে, তাতে ঘোষিত ভোটের সংখ্যা বিশ্বাসযোগ্য নয় বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর মতে, বাস্তবে অধিকাংশ কেন্দ্রে দীর্ঘ সময় ভোটারশূন্য অবস্থা ছিল এবং প্রকৃত ভোট পড়েছে অনেক কম।

জাপা চেয়ারম্যান আরও অভিযোগ করেন, বিপুল সংখ্যক ভুয়া ভোট দেখিয়ে পছন্দের প্রার্থীদের জেতানো হয়েছে। তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী বাস্তব ভোটের চেয়ে অনেক বেশি সংখ্যা দেখিয়ে ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। তাঁর ভাষায়, সাধারণ মানুষের ভোটাধিকারকে কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ করে ফেলা হয়েছে।

গণমাধ্যম নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন জিএম কাদের। তিনি বলেন, দেশে এখন আর প্রকৃত মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নেই। সংবাদমাধ্যমের অনেকেই চাপ, ভয় কিংবা বিভিন্ন কারণে আত্মনিয়ন্ত্রণের মধ্যে কাজ করছে। তাঁর অভিযোগ, তিনি যে তথ্য ও হিসাব তুলে ধরেছেন, তা দেশের সংবাদমাধ্যম প্রকাশ করতে সাহস পায়নি।

সাংবাদিক আনিস আলমগীরমঞ্জুরুল হাসান পান্না-সহ কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীর বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপেরও সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর দাবি, ভিন্নমত দমন করতে এখনও আগের মতো ভয়ভীতি ও নিয়ন্ত্রণের রাজনীতি চলছে। মানুষের বাকস্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকার সংকুচিত হয়ে পড়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়েও দুর্নীতি বেড়েছে বলে অভিযোগ করে জিএম কাদের বলেন, দেশে এখন নতুন ধরনের “মামলা বাণিজ্য” শুরু হয়েছে। নিরীহ মানুষকে মামলা, গ্রেফতার বা “শোন অ্যারেস্ট” দেখানোর ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে টাকা আদায় করা হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, কেউ রাজনৈতিকভাবে ভিন্ন মতের হলেই তাকে হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে। বিমানবন্দরে আটকে রেখে ভয় দেখানো, পরে অর্থ আদায়ের মতো ঘটনাও ঘটছে বলে দাবি করেন তিনি।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-র সমালোচনা করে তিনি বলেন, একতরফাভাবে সংবিধান পরিবর্তনের চেষ্টা অতীতেও স্থায়ী হয়নি। বর্তমান সরকারও যদি রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষের মতামত উপেক্ষা করে নিজেদের মতো সংস্কার চালাতে চায়, তাহলে সেই উদ্যোগও দীর্ঘস্থায়ী হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে জিএম কাদের বলেন, প্রতীক নিয়ে তারা চিন্তিত নন। মামলা বা চাপ যাই আসুক, দলকে ধরে রেখে রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যাবেন। তবে দলের ভেতরে বিশ্বাসঘাতকতা করলে কাউকে আর ছাড় দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রকাশক আলমগীর সিকদার লোটন। প্রধান আলোচক ছিলেন আবুল কাশেম ফজলুল হক। এছাড়া বক্তব্য দেন আব্দুস সাত্তার, শামীম হায়দার পাটোয়ারী, কাজী রওনক হোসেন, মাসুদ কামাল-সহ আরও অনেকে।




“বিএনপির ৪০০ মনোনয়নপ্রত্যাশীর প্রথম ধাপের সাক্ষাৎকার শেষ”

বিশেষ প্রতিবেদকঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সঙ্গে প্রথম ধাপের সাক্ষাৎকার শেষ হয়েছে।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে প্রথম ধাপে পাঁচ বিভাগের প্রায় ৪০০ মনোনয়ন প্রত্যাশীর সাক্ষাৎকার নিয়েছে মনোনয়ন বোর্ড।

এতে সভাপতিত্ব করেন বোর্ডের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ স্থায়ী কমিটির সদস্যরা।

দুদিনের সাক্ষাৎকার পর্বের প্রথমদিনে রাজশাহী, রংপুর, খুলনা, বরিশাল ও ফরিদপুর বিভাগের প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেয়া হয়।

সূত্রে জানা গেছে, সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থী মনোনয়নে, আন্দোলন সংগ্রামে অবদান জানতে চাওয়া হয় মনোনয়ন বোর্ডে।

আগামীকাল শনিবার চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা, ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের প্রার্থীদের সঙ্গে বিকেল ৩টায় সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হবে।




স্মৃতিসৌধে জাতীয় পার্টি-ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীদের হাতাহাতি, জাতীয় পার্টির নেতা আহত

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে ঢাকার সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদনের আগমুহূর্তে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সহযোগী সংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।

আজ বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে লাইনে অপেক্ষা করার সময় এ ঘটনা ঘটে।

হাতাহাতি ও উত্তেজনার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির (জাপা) মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী। অন্যদিকে ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক ও জাতীয় ছাত্রশক্তির সিনিয়র সহ-সভাপতি আহসান লাবীব।

এ ঘটনায় জাতীয় পার্টির অন্তত একজন নেতা আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তার বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি।

জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, মহান স্বাধীনতা ও বিজয় দিবস উপলক্ষে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ব্যানারসহ মিছিল ও ফুল নিয়ে লাইনে অপেক্ষা করার সময় একটি গ্রুপ তাদের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। এ সময় জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা ভদ্রভাবে তা প্রতিরোধ করেন।

অন্যদিকে জাতীয় ছাত্রশক্তির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, জাতীয় পার্টি স্লোগান দেওয়ার সময় ছাত্রশক্তির পক্ষ থেকেও “মুজিববাদের দালালেরা হুশিয়ার সাবধান”সহ বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া শুরু হলে জাতীয় পার্টির এক নেতা ছাত্রশক্তির সিনিয়র জয়েন্ট সেক্রেটারি নাঈম আবেদিনের ওপর হামলা করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা জাতীয় পার্টির ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন।

ঘটনার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় জাতীয় পার্টির (জাপা) মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী গণমাধ্যমকে বলেন, “আমরা এখনো জানি না কারা করেছে (হামলা)। তবে আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, একাত্তরবিরোধী চক্র—যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে বিশ্বাস করে না, যারা পাকিস্তানকে ধারণ করে, যারা পাকিস্তানে আবার ফিরে যেতে চায়—তারা এই পবিত্র জায়গায় এই অপবিত্র কাজটি করতে পারে।”

তিনি বলেন, “আমরা যখন মিছিল নিয়ে আসছিলাম, তখন কিছু ছেলেপেলে আমাদের মিছিলে আক্রমণ করেছে। তবে আমাদের নেতাকর্মীরা সেটিকে ভদ্রভাষায় প্রতিহত করেছে।”

তিনি আরও দাবি করেন, “এই ঘটনায় জাতীয় পার্টির কেউ হতাহত হয়নি। আমরা সর্বোচ্চ সাহসিকতার সঙ্গে ব্যাপারটি দেখেছি, আমরা তাদের উগ্র ফাঁদে পা দেইনি।”

অন্যদিকে জাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক ও জাতীয় ছাত্রশক্তির সিনিয়র সহ-সভাপতি আহসান লাবীব বলেন, “সেখানে জাতীয় পার্টির লোকজন নানা ধরনের স্লোগান দিচ্ছিল। এসময় আমরাও স্লোগান দেওয়া শুরু করি, ‘মুজিববাদের দালালেরা হুঁশিয়ার, সাবধান’। এসময় জাতীয় পার্টির একজন নেতা আমাদের ছাত্রশক্তির একজন নেতার ওপর হামলা করেন, পরে আমাদের ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা তাদের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন।”

এদিকে শামীম হায়দার পাটোয়ারী দাবি করেন, নির্বাচনে হীন প্রক্রিয়া ও নীল নকশার মাধ্যমে জাতীয় পার্টিকে পার্লামেন্ট থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, “একটা হীন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে, একটা নীল নকশার মাধ্যমে জাতীয় পার্টিকে পার্লামেন্ট থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা মনে করি, দীর্ঘমেয়াদে এই ষড়যন্ত্র সফল হবে না। জাতীয় পার্টি ফিরে আসছে এবং বারবার ফিরে আসবে।”

তিনি বলেন, “২৬শে মার্চ আমাদের হাজার বছরের বাঙালির অর্জন। স্বাধীনতার চেতনা নিয়ে জাতীয় পার্টি এগিয়ে চলছে এবং সামনেও এগিয়ে চলবে।”

“আমরা একটা বৈষম্যহীন বাংলাদেশ চাই, একটা সমতার বাংলাদেশ চাই, একটা সকলের বাংলাদেশ চাই। কিছু ব্যক্তি মনে করে বাংলাদেশ তার নিজস্ব দলের। কিছু ব্যক্তি মনে করে বাংলাদেশ তাদের পৈতৃক ধন। এই বাংলাদেশের মালিক বাংলাদেশের জনগণ, আর জনগণের প্রতিনিধিত্বশীল দল হিসাবে জাতীয় পার্টি রাজনীতি করছে। সামনেও রাজনীতি করবে”, যোগ করেন শামীম।




দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হলেন অধ্যক্ষ হাবিব দুলু

জহুরুল হক জনি, লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধিঃ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকারের মন্ত্রিসভায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, লালমনিরহাট জেলা বিএনপির সভাপতি এবং লালমনিরহাট-০৩ (সদর) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে তিনি শপথ গ্রহণ করেন। শপথ পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন।

পূর্ব অভিজ্ঞতা ও প্রশাসনিক ভূমিকা: আসাদুল হাবিব দুলুর সংসদীয় রাজনীতি ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা দীর্ঘদিনের। তিনি ১৯৯৬ সালে পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবার লালমনিরহাট-০৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

সে সময় উত্তরবঙ্গের মঙ্গা নিরসন ও ত্রাণ ব্যবস্থাপনায় তার সক্রিয় ভূমিকা আলোচিত হয়। এবার তিনি পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে বৃহত্তর পরিসরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, ত্রাণ কার্যক্রম ও দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব পেলেন।

শিক্ষা ও ব্যক্তিগত জীবন: ১৯৬০ সালের ০৪ জুলাই জন্মগ্রহণ করেন আসাদুল হাবিব দুলু। বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ আবুল কাশেম মিঞা ও প্রয়াত হাবিবা খাতুনের সন্তান তিনি। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত, তার সহধর্মিণী লায়লা হাবিব। তাদের দুই পুত্র আহনাফ হাবিব ইনতিসার ও আহমিক হাবিব ইয়ারদান।

শিক্ষাজীবন শুরু করেন আমবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। পরে রংপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন। উচ্চ মাধ্যমিক ও অর্থনীতিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন কারমাইকেল কলেজ থেকে এবং অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।

রাজনৈতিক পথচলা: ১৯৭৬ সালে ছাত্র রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে তার রাজনৈতিক জীবন শুরু। ১৯৮৬ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এর নেতৃত্বে বিএনপিতে যোগ দেন। একই বছর লালমনিরহাট সদর উপজেলার বড়বাড়ী ইউনিয়নে শহীদ আবুল কাশেম মহাবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন এবং অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৯০ সালে লালমনিরহাট সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালে লালমনিরহাট জেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হয়ে অদ্যাবধি দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বর্তমানে তিনি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক। এছাড়াও তিনি তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলন “জাগো বাহে তিস্তা বাঁচাই”-এর প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লালমনিরহাট-০৩ (সদর) আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে এবার মন্ত্রিসভায় স্থান পেলেন তিনি।

দলীয় নেতাকর্মীদের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় পূর্বের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে তিনি কার্যকর ভূমিকা রাখবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। আসাদুল হাবিব দুলু মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়ায় লালমনিরহাট জেলায় আনন্দের জোয়ার বয়ে যাচ্ছে।