জামায়াত বাংলাদেশে রাজনীতি করার উপযোগী দল নয়: রাশেদ খাঁন

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে হঠকারী ও ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগা একটি রাজনৈতিক দল আখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন বলেছেন, দলটি বাংলাদেশে রাজনীতি করার উপযোগী নয়।

বৃহস্পতিবার সকালে ঝিনাইদহ শিশু কুঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজে এক পরিচিতি সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

রাশেদ খাঁন বলেন, ‘জামায়াত একটি হঠকারী রাজনৈতিক দল। তারা সিদ্ধান্তহীনতায় সবসময় ভোগে। একাত্তরের সময় জামায়াত ইসলাম সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছিল—জনগণের পক্ষে অবস্থান করবে, নাকি সেই পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর পক্ষে অবস্থান করবে? সেক্ষেত্রে একাত্তরে জামায়াত ইসলাম সিদ্ধান্ত নিতে ভুল করেছে। ঠিক এর পরবর্তীতে প্রত্যেকটা ক্ষেত্রে জামায়াত ইসলাম আসলে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগেছে।’

‘যেমন, যে সময় স্বৈরশাসক এরশাদ ক্ষমতায় ছিল, ৮৬-র নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সাথে হাত মিলিয়ে জামায়াত এরশাদের ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করার জন্য তারা ক্ষমতায় চলে… মানে বলা যায় নির্বাচনে চলে গেল এবং এরশাদের ক্ষমতা কিন্তু আসলে টিকে গেল। এরপরে দেখবেন যে ৯৬-তে আওয়ামী লীগকে সাথে নিয়ে জামায়াত আন্দোলন গড়ে তুলল। তো আমার কাছে মনে হয় যে আসলে ইতিহাসের কোনো সঠিক জায়গায় জামায়াতের অবস্থান নাই। জামায়াত ইতিহাসের সবচেয়ে ধিক্কারজনক জায়গায় রয়েছে। এমনকি ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পরে নির্বাচন নিয়ে জামায়াতের যে সিদ্ধান্তহীনতা, যৌথ জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করবে কি করবে না। অর্থাৎ প্রত্যেকটা জায়গায় দেখবেন যে জামায়াতের নেতারা সকালে একটা বলে, রাতে একটা বলে, ফজরের পরে আসলে আরেকটা বলে। এরকম আসলে জামায়াতের সিদ্ধান্তহীনতা সবসময় ছিল।’

তিনি বলেন, ‘জামায়াত ইসলাম বর্তমানে যে ধরনের রাজনীতি করছে, আমি মনে করি বাংলাদেশে রাজনীতি করার কোনো উপযোগী দল জামায়াত না। জামায়াত একটি হঠকারী রাজনৈতিক দল এবং তাদের প্রত্যেকটা আন্দোলন জনগণকে সবসময় ক্ষতিই করেছে। এই মুহূর্তে যে আন্দোলন তারা আসলে শুরু করেছে, তারা আসলে ফ্যাসিবাদের ফিরে আসার যে পথ, সেই পথ খুলে দিয়েছে।

‘দেখবেন যে আওয়ামী লীগ কিন্তু সেই ইন্টারিমের সময় এমনকি এই সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরে, আওয়ামী লীগ এভাবে জোরদার ছিল না। যে সময় জামায়াত মাঠে নেমেছে, আওয়ামী লীগও মাঠে নেমেছে। এটা আসলে কাকতালীয় না। অবশ্যই আমার কাছে মনে হচ্ছে যে আওয়ামী লীগ মাঠে নামুক এটি আসলে জামায়াত চায়। সেই জায়গা থেকে এইভাবে আসলে দেখবেন যে আওয়ামী লীগের বিষয়ে তাদের কোনো মন্তব্য নাই। আওয়ামী লীগের প্রশ্নে জামায়াত নীরব ভূমিকা পালন করছে। অর্থাৎ জামায়াতের চাওয়া-পাওয়া হলো ৯৬-তে যেভাবে আওয়ামী লীগকে সাথে নিয়ে তারা বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করেছিল, ঠিক আরেকটি চক্রান্তের গন্ধ আমি দেখছি। শেখ হাসিনার ভাষা আর জামায়াতের আমিরের ভাষার মধ্যে চক্রান্ত এদেশের জনগণ লক্ষ্য করছে।’




ডিজেল বিক্রিতে এখনও ৭০ টাকা লোকসান হচ্ছে: রিজভী

জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়ের পরও প্রতি লিটার ডিজেলে সরকারের ৭০ টাকা লোকসান হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্প মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে এক লিটার ডিজেল কিনতে সরকারের ২০৫ টাকা খরচ হলেও এতদিন ১১৫ টাকা দরে বিক্রি করা হয়েছে। ফলে প্রতি লিটারে ৯০ টাকা লোকসান হয়েছে। দাম সমন্বয়ের পরও সেই লোকসান পুরোপুরি কাটেনি।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট আয়োজিত ‘গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সরকার ও বিরোধী দলের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

আলোচনায় বিভিন্ন দেশের ডিজেলের দাম তুলে ধরে রুহুল কবির রিজভী বলেন, নেপালে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম প্রায় ১৬১ টাকা, মিয়ানমারে ১৬৪ টাকা, শ্রীলঙ্কায় ১৭৯ টাকা ৪২ পয়সা এবং ফিলিপাইনে ১৮৮ টাকা ৫০ পয়সা। ভারতেও প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১৩৪ টাকার বেশি। এসব দেশের তুলনায় বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ডিজেলের দাম কম রাখা হয়েছিল। বৈশ্বিকভাবে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে ১১৫ টাকা দরে ডিজেল বিক্রি করা হচ্ছিল। এখন ২০ টাকা দাম সমন্বয় করা হলেও প্রতি লিটারে সরকারের প্রায় ৭০ টাকা লোকসান থাকছে।

জ্বালানি তেলের দাম উঠানামার প্রভাব ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, যখন একদিকে দাম বাড়বে আরেকদিকে দাম কমবে, এটা একটা ন্যাচারাল অর্থনৈতিক প্রবাহ। কোনো দেশে কোনো পণ্যের দাম তুলনামূলক বেশি হলে অর্থনৈতিকভাবে তার প্রভাব অন্যদিকে প্রবাহিত হয়।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, মধ্যবাড্ডা, উত্তরা, মিরপুর ও কাফরুল এলাকায় বাসে আগুন, ট্রেনে আগুন এবং হাইকোর্ট ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার সঙ্গে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের যোগসূত্র আছে। যারা দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে লং মার্চ করছেন, তাদের এসব ঘটনার বিরুদ্ধেও কর্মসূচি দেওয়া উচিত।

রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে ভাঙচুরের প্রসঙ্গ তুলে রুহল কবির রিজভী বলেন, আপনারা দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির জন্য লং মার্চ করছেন, চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে লং মার্চ করছেন, দুর্নীতি হচ্ছে বলে লং মার্চ করছেন। এই যে পরিকল্পিত সন্ত্রাস যারা করছে, এর বিরুদ্ধে একটা লং মার্চ করুন। এর বিরুদ্ধে একটা প্রতিবাদসভা বা বিক্ষোভ মিছিল করুন।

তিনি আরও বলেন, কখনোই জনগণের পক্ষের কোনো আন্দোলনে আপনাদের কোনো ভূমিকা নেই। যার কারণেই আপনাদের নীতি বলে যে একটা কথা আছে— রাজনীতিতে নীতি-নৈতিকতার যে একটা কথা আছে, সেটাকে আপনারা কখনোই গ্রাহ্য করেননি। কিন্তু আপনারা ইসলামের নামে রাজনীতি করেন, যে ইসলামের নীতি-নৈতিকতাকে সর্বাঙ্গে স্থান দেয়।

রিজভী বলেন, মুনাফেক নামে একটি শব্দ আছে। মুনাফেককে কাফেরের চাইতেও খারাপ বলে গণ্য করা হচ্ছে। আমি যতটুকু ইসলাম সম্পর্কে জানি, ততটুকু আমার এটাই মনে হয় যে কাফেরের চাইতেও খারাপ বলা হয়েছে মুনাফেক। কিন্তু জনগণের সঙ্গে আপনারা বারবার যে প্রতারণা করেছেন, সেই প্রতারণার কারণে আপনারা চূড়ান্ত পর্যায়ে কোনোদিন জনগণের আস্থা লাভ করতে পারেননি। এটাই হচ্ছে আপনাদের দুর্ভাগ্য। কারণ আমি আগেই বলেছি, এদেশের জনস্বার্থে যত আন্দোলন হয়েছে, সমস্ত জাতীয়তাবাদী আন্দোলন এবং এদেশের জনগোষ্ঠী তাদের আত্মনিয়ন্ত্রণের জন্য যে আন্দোলন করেছে, প্রত্যেকটারই আপনারা বিরোধিতা করেছেন।

সভায় আরও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের প্রধান সমন্বয়কারী ব্যারিস্টার নাসিম খান এবং মুখপাত্র এস এম শাহাদাতসহ অন্যরা।




অন্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম কম : রিজভী

সরকার জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, বিশ্বে অন্যান্য দেশের তুলনায় জ্বালানি তেলের দাম বাংলাদেশ অনেক কম। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ হচ্ছে। আমরা জ্বালানিতে ভর্তুকি দিচ্ছি। মূল্য সমন্বয় করার পরেও লোকসান গুনতে হচ্ছে।

সোমবার দুপুরে এক ব্রিফিংয়ে এ দাবি করেন তিনি। এ সময় তিনি বিভিন্ন দেশের বর্তমান জ্বালানি তেলের দাম তুলে ধরেন। রিজভী বলেন, সরকার আন্তরকিতার সাথে চেষ্টা করছে জ্বালানি সংকট নিরসনে। কম দামে কীভাবে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা না করে বিরোধীদলের লংমার্চে সরকারের বিরুদ্ধে যেসব ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে, তা কাম্য নয়।

এক দফার হুঁশিয়ারি দেয়া হলে বিএনপি হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না বলে জানিয়েছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব। তিনি বলেন,  কম দামে কীভাবে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা না করে বিরোধীদলের লংমার্চে সরকারের বিরুদ্ধে যেসব ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে, তা কাম্য নয়।

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বাসে আগুন, ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য পরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বলে জানিয়েছেন রিজভী। তার দাবি, সামাজিক উন্নয়ন কর্মসূচি ও জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপগুলোকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার জন্যও ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।




লংমার্চের মধ্যেই জামায়াতের ৩৪ এমপির একসঙ্গে বিদেশ সফর, আলোচনা-কৌতূহল

আট দফা দাবিতে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের রংপুর অভিমুখী লংমার্চ কর্মসূচি গতকাল শনিবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। লংমার্চের বিভিন্ন পথসভায় বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এবং দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর ৩৪ জন সংসদ সদস্য (এমপি) বর্তমানে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্য সফরে রয়েছেন। সফরকারী দলে এমপিরা ছাড়াও জামায়াতের কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা এবং এমপিদের পরিবারের সদস্যসহ মোট ৭১ জন রয়েছেন।

জামায়াতের দলীয় সূত্রে এ সফরকে ‘শিক্ষামূলক সফর’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের এত সংখ্যক সংসদ সদস্যের একসঙ্গে বিদেশ সফরকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহল ও নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে।

জামায়াতে ইসলামী সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ সেপ্টেম্বর জামায়াত এমপিদের সফর দলটির একাংশ এয়ার এশিয়ার ঢাকা-কুয়ালালামপুর রুটের একে-৭০ ফ্লাইটে মালয়েশিয়ায় যান। বাকি সদস্যরা পরের দিন অর্থাৎ ১৪ সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়ায় পৌঁছান। সফর দলে জামায়াতের ৩৪ এমপি, দুই কেন্দ্রীয় নেতা ও একজন লেখকসহ মোট ৭১ জন সদস্য রয়েছেন।

সফরটিকে জামায়াতের নেতারা শিক্ষামূলক ও ওমরা পালনের সফর হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

সফরে থাকা জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশ-ই-শূরা সদস্য ও শেরপুর-১ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ মো. রাশেদুল ইসলাম রাশেদ বলেন, ‘এটা কোনো ফরমাল (আনুষ্ঠানিক) ট্যুর না। এটা ফ্যামিলি ট্যুর, গ্রুপ ট্যুর।’

সংসদ সদস্যদের বিদেশ সফরের উদ্দেশ্য স্পষ্টভাবে ঘোষণা করা প্রয়োজন বলে মনে করেন রাজনীতি বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ মোহাম্মদ শাহান।

তিনি বলেন, ‘এমপিদের বিদেশ সফরের ক্ষেত্রে দেখতে হবে তারা কোন উদ্দেশ্যে যাচ্ছেন। তারা যদি শিক্ষামূলক বা বিশেষ কোনো কারণে গিয়ে থাকেন তাহলে সেটা পরিষ্কার করতে সমস্যা থাকার কথা নয়। যদি সেটা স্পষ্ট না করা বা লুকানো হয় তাহলে সেখানে একটা প্রশ্ন উঠবে।’

সফরকারী জামায়াত এমপিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানিয়েছেন, এ সফর রাজনৈতিক নয়, বরং পারিবারিক প্রোগ্রাম। প্রথমে মালয়েশিয়ায় পৌঁছে তারা সেখানে সরকারি ও বিরোধী দলের এমপিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। কিন্তু এটা প্রফেশনাল বা ফরমাল কোনো বিষয় ছিল না।

জামায়াতে ইসলামীর সফরকারী দলে আছেন ঢাকা-৪ আসনের এমপি সৈয়দ জয়নুল আবেদীন, ঢাকা-৫ আসনের মোহাম্মদ কামাল হোসাইন, ঢাকা-১৪-এর মীর আহমাদ বিন কাসেম, চট্টগ্রাম-১৬-এর মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, পিরোজপুর-১-এর মাসুদ সাঈদী, শেরপুর-১-এর মো. রাশেদুল ইসলাম রাশেদ, গাইবান্ধা-১-এর মো. মাজেদুর রহমান, গাইবান্ধা-৫-এর মো. আবদুল ওয়ারেস, রংপুর-৬ আসনের মো. নুরুল আমিন, খুলনা-২-এর এস কে জাহাঙ্গীর হোসাইন হেলাল, খুলনা-৬-এর মো. আবুল কালাম আজাদ, বাগেরহাট-২-এর শেখ মঞ্জুরুল হক রাশেদ, চুয়াডাঙ্গা-১-এর মো. মাসুদ পারভেজ, নওগাঁ-২-এর মো. এনামুল হক, চুয়াডাঙ্গা-২-এর মো. রুহুল আমিন, গাজীপুর-৪-এর সালাহ উদ্দিন, কুড়িগ্রাম-৪-এর মো. মোস্তাফিজুর রহমান, যশোর-৫-এর গাজী এনামুল হক, নড়াইল-২-এর মো. আতাউর রহমান, নেত্রকোনা-৫-এর মাসুম মোস্তফা, মেহেরপুর-১-এর মো. তাজউদ্দিন খান, কুষ্টিয়া-৪-এর মো. আফজাল হোসাইন, গাইবান্ধা-২-এর মো. আবদুল করিম, ময়মনসিংহ-৬-এর মো. কামরুল হাসান, নীলফামারী-৪-এর আবদুল মুনতাকিম, নীলফামারী-২-এর আল ফারুক আবদুল লতিফ, নীলফামারী-৩-এর ওবায়দুল্লাহ সালাফি, জয়পুরহাট-১-এর মো. ফজলুর রহমান, নীলফামারী-১-এর মো. আবদুল সাত্তার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২-এর মো. মিজানুর রহমান, পাবনা-৩-এর মোহাম্মদ আলী আসগর, পাবনা-৪-এর মো. আবু তালেব মণ্ডল, রংপুর-১-এর মো. রায়হান শিরাজী এবং কুড়িগ্রাম-১-এর মো. আনোয়ারুল ইসলাম।

এছাড়া সংসদ সদস্য না হলেও সফর দলে আছে জামায়াতের ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। আরো আছেন সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান রঞ্জন। এছাড়া জিয়াউল হক নামের একজন লেখকও সফরসঙ্গী হয়েছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান মনে করেন, কোনো বড় রাজনৈতিক দলের সংসদ সদস্যরা বিদেশ সফরে গেলে সে বিষয়ে জনগণ জানতে চাইতে পারে। সুতরাং কোন ম্যান্ডেটে এমপিরা সফর করছেন সেটা পরিষ্কার করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘জামায়াত এমপিদের এ সফরের বিষয়ে আমার জানা নেই। বিষয়টা সম্পর্কে মানুষকে পরিষ্কার ধারণা দিতে হবে। যাতে কোনো গোপনীয়তা না থাকে। যেকোনো রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে যারা জনপরিসরে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আছেন, তাদের যেকোনো গতিবিধি, যেকোনো আচরণের পাবলিকলি সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা জনপরিসরে দেয়ার প্রয়োজন আছে। কারণ তিনি যা করছেন সেটা ব্যক্তি হিসেবে না, দল হিসেবে করছেন।’

দলের ৩৪ এমপির দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্য সফর নিয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে সফরে প্রায় ৩৪ জন এমপি গেছেন। তাদের সঙ্গে পরিবারের সদস্যরাও রয়েছেন। সফরের উদ্দেশ্য হচ্ছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পার্লামেন্ট ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো পরিদর্শন করা। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় করা এবং বিভিন্ন বিষয়ে অভিজ্ঞতা অর্জন। তারা কয়েকটি দেশে সফর করবেন।’

সূত্র: বণিক বার্তা




একটি গোষ্ঠী দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে: আমানউল্লাহ আমান

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য আমানউল্লাহ আমান বলেছেন, দেশ যখন সুন্দরভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন একটি গোষ্ঠী দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। বিভিন্ন ধরনের অপতৎপরতার মাধ্যমে দেশের স্বাভাবিক পরিস্থিতি বিঘ্নিত করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। দেশের স্বার্থে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকার কেরানীগঞ্জের শাক্তা ইউনিয়নের আটি ভাওয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ঢাকা-২ আসনের শিক্ষার মানোন্নয়নে মতবিনিময় সভা ও কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আমানউল্লাহ আমান বলেন, দেশের মানুষ শান্তি ও স্থিতিশীলতা চায়। কেউ যেন নানা ধরনের অপতৎপরতার মাধ্যমে দেশের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রয়োজন।

শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের শিক্ষায় সীমাবদ্ধ না রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের পরিবেশ ও সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল করে গড়ে তুলতে হবে। বৃক্ষরোপণের মতো সামাজিক কর্মকাণ্ডে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করলে তাদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বাড়বে।

আমানউল্লাহ আমান বলেন, শিক্ষার্থীরা যাতে মাদকে আসক্ত না হয়, খারাপ পথে না যায় এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে না পড়ে, সেদিকে শিক্ষক ও অভিভাবকদের নজর রাখতে হবে।  শিক্ষকদের শিক্ষার্থীদের নিজের সন্তানের মতো মনে করে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

অভিভাবক ও শিক্ষকদের উদ্দেশে আমানউল্লাহ আমান বলেন, ছাত্র-ছাত্রীদের ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা, এলাকার উন্নয়ন করা এবং শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার জন্য আপনারা প্রত্যেকে নিজের সন্তান মনে করে দায়িত্ব পালন করবেন। আপনাদের কাছে এটাই আমার বিনীত অনুরোধ।

কৃতি শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলের জন্য উৎসাহিত করতে হবে। কৃতি শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করলে তাদের আরও ভালো করার আগ্রহ তৈরি হয়। প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও কলেজ পর্যায়ে ভালো ফল করা শিক্ষার্থী এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে উৎসাহিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

শিক্ষা কর্মকর্তাদের উদ্দেশে আমানউল্লাহ আমান বলেন, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে তাঁদের আরও যত্নবান হতে হবে।  নিজের সন্তান, নিজের পরিবার ও নিজের আপনজন মনে করে দায়িত্বগুলো পালন করুন।

দেশের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নের সময় কেউ যাতে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির সুযোগ না পায়, সেদিকে সবাইকে খেয়াল রাখার আহ্বান জানান তিনি। দেশকে এগিয়ে নিতে শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি, অভিভাবক ও স্থানীয় নাগরিকদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও উমর ফারুকের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা বিএনপি সাংগঠনিক সম্পাদক ইরফান ইবনে আমান অমি, কেরানীগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জাকির হোসেন মোল্লাসহ  স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।




ভারতের হাতে সুইচ, যে কোনো সময় বিদ্যুৎ বন্ধ করতে পারে আদানি: রিজভী

ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ না পাওয়া এবং ভারতের আদানি পাওয়ারের বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের শঙ্কার কথা তুলে ধরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ভারতের ঝাড়খণ্ডে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের ‘সুইচ’ রয়েছে। তারা যেকোনো সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দিতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল ও মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন রিজভী। ‘পতিত স্বৈরাচারী খুনি হাসিনা ভারতের ইন্ধনে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে যে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত’—এর প্রতিবাদে এ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

রিজভী বলেন, ১৭ বছরের রাজনৈতিক সংকট, ব্যাংক লোপাট এবং গুম-হত্যার অন্ধকার অধ্যায় পেরিয়ে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশে একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি ও তাদের মিত্র দলগুলো সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। অথচ দেশের বিরোধী দল ও পার্শ্ববর্তী একটি বিশেষ গোষ্ঠী প্রতিনিয়ত সরকারের সমালোচনা ও চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

পররাষ্ট্রনীতির প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সংবর্ধনা জানানো হলেও তাঁকে সাইডলাইনে বসানোর পরিকল্পনা ছিল। তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয়, বরং বিমসটেকের প্রধান হিসেবে তাঁকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছিল। স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সাইডলাইনে না গিয়ে তারেক রহমান দেশের মর্যাদা রক্ষা করেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের সমালোচনা করে রিজভী অভিযোগ করেন, যেদিন প্রধানমন্ত্রী ব্রিকসে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন, তার পরদিনই প্রচার করা হলো আদানি পাওয়ার প্ল্যান্টের একটি ইউনিট নষ্ট হয়ে গেছে। এই পাওয়ার প্ল্যান্টের ১ হাজার ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাংলাদেশে আসে। অথচ এর সুইচ রয়েছে ভারতের ঝাড়খণ্ডে। তারা যেকোনো সময় তা বন্ধ ও চালু করতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতির পেছনের রাজনৈতিক সমীকরণ বুঝতে কি পিএইচডি ডিগ্রির প্রয়োজন হয় না।

শেখ হাসিনাসহ ১ হাজার ৪০০ ছাত্র-জনতার ওপর নির্যাতন ও হত্যার সঙ্গে জড়িতদের ভারতে আশ্রয় দেওয়ারও কঠোর সমালোচনা করেন রিজভী। তিনি বলেন, বহু অপরাধী ভারতে পালিয়ে রয়েছে। পূর্বে একটি ঘটনায় সাবেক এক সেনা কর্মকর্তাকে শেখ হাসিনার হাতে তুলে দেওয়া হলেও এখন ১ হাজার ৪০০ মানুষকে হত্যার সঙ্গে জড়িতদের কেন ফেরত দেওয়া হচ্ছে না, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জেগেছে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিয়ে রিজভী দাবি করেন, এই সংকট বর্তমান সরকারের তৈরি নয়; এটি বৈশ্বিক পরিস্থিতির ফল। সরকার বিকল্প হিসেবে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও মিয়ানমার থেকে গ্যাস আনার চেষ্টা চালাচ্ছে বলেও জানান তিনি। এমনকি চলমান সংকটের মধ্যেও দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শেখ হাসিনার আমলের তুলনায় আড়াই থেকে তিন গুণ বেড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও সংলগ্ন এলাকায় সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ঘটনার ইঙ্গিত করে রিজভী বলেন, একটি পক্ষ ১৯৭১ সালের পরাজিত শক্তির প্রতিশোধ নিতে চাচ্ছে এবং মধুর ক্যান্টিনকে ‘বিশ্রাম মঞ্জিল’ বানাতে চাইছে। তাদের হুঁশিয়ার করে তিনি বলেন, এ দেশের মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ জনগণ যেকোনো চক্রান্ত নস্যাৎ করে দেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষা করবে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, সিনিয়র সহসভাপতি আলমগীর কবির, সাধারণ সম্পাদক ড. কে এম আই মন্টি, আব্দুল হাকিম ও সাংগঠনিক সম্পাদক মিয়া মোহাম্মদ আনোয়ার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।




বাংলা একাডেমিতে ৯ দিনব্যাপী ‘জিয়া স্মৃতি বইমেলা ২০২৬’ শুরু : উদ্বোধন করলেন ডা. জুবাইদা রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে আজ থেকে শুরু হয়েছে ৯ দিনব্যাপী ‘জিয়া স্মৃতি বইমেলা-২০২৬’। আজ বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টায় মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন (জেডআরএফ)-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান। জিয়া স্মৃতি পাঠাগার কেন্দ্রীয় কমিটি এই মেলার আয়োজন করেছে।

উদ্বোধন শেষে ডা. জুবাইদা রহমান মেলার বিভিন্ন প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ঘুরে দেখেন। তিনি ‘প্রতিভা প্রকাশ’-এর ৩৭ নম্বর স্টলসহ বেশ কিছু স্টলে যান এবং শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে নিয়ে লেখা বিভিন্ন বই গভীর আগ্রহের সাথে দেখেন ও খোঁজখবর নেন।

উদ্বোধনী বক্তৃতায় ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, দেশের ৯০ হাজার ৪৯টি গ্রামে জিয়া স্মৃতি পাঠাগার ছড়িয়ে পড়ুক। তিনি শিশু-কিশোরদের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়ে বলেন, বই পড়ার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের মাঝে মূল্যবোধ, ন্যায়পরায়ণতা, সততা ও নিষ্ঠা বদ্ধমূলভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে। বক্তব্যের শেষপর্যায়ে তিনি জিয়াউর রহমানের স্মৃতির উদ্দেশে নিজের লেখা ‘তুমি নির্ভীক’ কবিতার অংশবিশেষ আবৃত্তি করেন। এছাড়া, অনুষ্ঠানে যশোর ও মানিকগঞ্জ জিয়া স্মৃতি পাঠাগারকে শ্রেষ্ঠ পাঠাগার হিসেবে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।

জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের সভাপতি ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালামের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কবি ও সাংবাদিক হাসান হাফিজ এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার।

আয়োজক কমিটির সহ-সভাপতি ও মেলার আহ্বায়ক মো. আবদুস সাত্তার পাটোয়ারী জানান, মেলাটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। ৩ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই মেলা আগামী ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত চলবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থী ও পাঠকদের জন্য মেলা প্রাঙ্গণ খোলা থাকবে। উদ্বোধনী দিনে লেখক, গবেষক এবং বিপুলসংখ্যক বইপ্রেমী মেলা প্রাঙ্গণে উপস্থিত ছিলেন।




আওয়ামী আমলের জ্বালানি খাত ধ্বংসের মাশুল দিচ্ছে সরকার: প্রিন্স

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জ্বালানি খাতের অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার মাশুল এখন সরকারকে বহন করতে হচ্ছে বলে দাবি করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স।

তিনি বলেন, দেশের যেকোনো সংকটময় সময়ে বিএনপি জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং সংকট উত্তরণে ভূমিকা রেখেছে। বর্তমান সরকারও একটি বিপর্যস্ত রাষ্ট্রকে পুনর্গঠন ও এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ পুনর্গঠনের এই প্রক্রিয়ায় সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার গোহাটা মাঠে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে প্রিন্স বলেন, এমন কোনো কর্মকাণ্ড করা যাবে না, যাতে বিএনপি কিংবা সরকার বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ে। দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়, এমন কর্মকাণ্ড থেকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। বিরোধী দলের সাম্প্রতিক কর্মসূচির সমালোচনা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, অতীতের আন্দোলন-সংগ্রাম ও নির্বাচনে দেশের মানুষ বিএনপির সঙ্গে ছিল। ভবিষ্যতেও জনগণ বিএনপির পাশে থাকবে। তবে বিরোধী দল লংমার্চের নামে জনগণের দুর্ভোগ সৃষ্টি করে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করলে সাধারণ মানুষ তাদের প্রত্যাখ্যান করবে।

ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক একেএম এনায়েত উল্লাহ কালামের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট নূরুল হক, বিএনপি নেতা আব্দুস সালাম, উত্তর জেলা যুবদলের সভাপতি শামছুল হক শামছু, উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সাইফুল ইসলাম কামাল, সাধারণ সম্পাদক মহিবুল হক টুটুল, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি নূরুজ্জামান সোহেল, বিএনপি নেতা আব্দুস সাত্তার এবং জেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি হযরত আহম্মেদ সাকিবসহ স্থানীয় নেতারা।

সভা শেষে গোহাটা মাঠ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। ব্যানার, ফেস্টুন ও বিভিন্ন স্লোগানে সাজানো র‍্যালিটি তারাকান্দা উপজেলা সদরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।




বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে নেত্রকোনায় বর্ণাঢ্য র‍্যালি

বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নেত্রকোনায় বর্ণাঢ্য আনন্দ র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার নেত্রকোনা জেলা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।

জেলা বিএনপির সভাপতি ও নেত্রকোনা সদর আসনের সংসদ সদস্য ডা. আনোয়ারুল হক এবং সাধারণ সম্পাদক ও নেত্রকোনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ড. রফিকুল ইসলাম হিলালির নেতৃত্বে দুপুরে শহরের ছোটবাজারে দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে আনন্দ র‍্যালিটি বের হয়। বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে বিভিন্ন ইউনিটের শত শত নেতাকর্মী র‍্যালিতে অংশ নেন।

এর আগে জেলার বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা ঢাক-ঢোল বাজিয়ে এবং ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টার নিয়ে খণ্ড খণ্ড মিছিল করে ছোটবাজারের দলীয় কার্যালয়ে এসে জড়ো হন। পরে দলীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি শুরু হয়।

পরে আনন্দ র‍্যালিটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মোক্তারপাড়া পাবলিক হল মিলনায়তনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে বিএনপির আন্দোলন, সংগ্রাম, ঐতিহ্য ও সাফল্যের ৪৮ বছর উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।




বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদের শ্রদ্ধা নিবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর জিয়া উদ্যানে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদ কেন্দ্রীয় কমিটি।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রেজাউল কবীর দিপু ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ শিহাব উদ্দিনের নেতৃত্বে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। একই সঙ্গে বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাজারেও শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ সময় নেতৃবৃন্দ মরহুমদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করেন।

শ্রদ্ধা নিবেদন কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ মহসিন মিয়া, সহ-সভাপতি মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, সারোয়ার আলম, মোবারক হোসেন মেম্বার, শফিকুল ইসলাম সাইমন, মোঃ শাকিল আহমেদ ও জাকির হোসেন মোল্লা। এছাড়া কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তারিকুল ইসলাম মঈন, আরিফ হাসান, কামাল হোসেন, এম এ গাফফার ও সেকেন্দার হোসেনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ডের নেতাকর্মীরাও কর্মসূচিতে অংশ নেন। বিশেষ করে শাহ আলী থানা এলাকার নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি ও শোডাউন কর্মসূচিতে আলাদা মাত্রা যোগ করে। ঢাকার বাইরে থেকেও বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে নেতাকর্মীরা এসে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে অংশ নেন।

‘শহীদ জিয়ার আদর্শ ও গণতন্ত্রের চেতনাকে এগিয়ে নিতে হবে’
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রেজাউল কবীর দিপু বলেন, বিএনপির ৪৮ বছরের পথচলা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে সংগ্রাম, ত্যাগ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, বহুদলীয় গণতন্ত্র ও স্বনির্ভর বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই আদর্শকে ধারণ করে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনে আমাদের অঙ্গীকার হচ্ছে—শহীদ জিয়ার আদর্শকে হৃদয়ে ধারণ করে গণতন্ত্র, মানুষের অধিকার, আইনের শাসন ও জাতীয় স্বার্থের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা। একই সঙ্গে সংগঠনের নেতাকর্মীদের মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড আরও জোরদার করার আহ্বান জানান তিনি।

কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ শিহাব উদ্দিন বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী শুধু একটি রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠার দিন নয়; এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত এই দল দীর্ঘ ৪৮ বছর ধরে নানা প্রতিকূলতা, আন্দোলন-সংগ্রাম ও ত্যাগের মধ্য দিয়ে এগিয়ে এসেছে।

তিনি আরও বলেন, শহীদ জিয়া ও বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক আদর্শ এবং দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে সামনে রেখে শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদ কাজ করে যাবে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দেশের মানুষের শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করেন তিনি।

যেভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় বিএনপি
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি ১ সেপ্টেম্বর ১৯৭৮ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠা করেন। বিএনপির নিজস্ব ইতিহাস অনুযায়ী, রমনা রেস্তোরাঁ প্রাঙ্গণে দলটির প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেওয়া হয় এবং বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদকে দলটির অন্যতম প্রধান আদর্শ হিসেবে সামনে আনা হয়।

দলটির প্রতিষ্ঠাকালীন কর্মসূচিতে জাতীয় ঐক্য, গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক কাঠামো, অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিএনপির প্রতিষ্ঠার সঙ্গে ১৯ দফা কর্মসূচিও ঐতিহাসিকভাবে যুক্ত।
প্রতিষ্ঠার পর অল্প সময়ের মধ্যেই বিএনপি দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়। ১৯৭৯ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটি ৩০০ আসনের মধ্যে ২০৭টি আসনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করে।

শহীদ জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত বিএনপি পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলন ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর বেগম খালেদা জিয়া দলের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন এবং দীর্ঘ সময় বিএনপির নেতৃত্ব দেন। পরবর্তীতে দলের নেতৃত্বে আসেন তারেক রহমান।

৪৮ বছরে বিএনপি
আজ ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বিএনপি তার ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলটি পাঁচ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে, যার মধ্যে শহীদ জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন, আলোচনা সভা, বৃক্ষরোপণ ও মাছের পোনা অবমুক্তকরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি রয়েছে।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদ কেন্দ্রীয় কমিটির নেতাকর্মীদের এই শ্রদ্ধা নিবেদন কর্মসূচিতে ঢাকা ও ঢাকার বাইরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে সংগঠনের সাংগঠনিক উপস্থিতিও ফুটে ওঠে।