বিপর্যস্ত অর্থনীতি, ব্যবসায়ীদের দুরবস্থা, শিল্প কারখানা, ব্যবসা বাণিজ্য সহ সকল সেক্টরে চাঁদাবাজির ঘটনায় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের গভীর উদ্বেগ প্রকাশ।

এসএম বদরুল আলমঃ দেশের শিল্প কারখানা, ব্যবসা বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান, পণ্য পরিবহন, থেকে শুরু করে প্রান্তিক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সহ সকল সেক্টর আজ ভয়ঙ্কর চাঁদাবাজীর শিকার। আজ শুক্রবার ২৮ নভেম্বর ২০২৫, সকালে এক বিবৃতিতে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের এই কথা বলেন।

তিনি বিভিন্ন পত্র পত্রিকার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, গার্মেন্টস আমাদের বিরাট একটি রপ্তানীমুখী শিল্প। দেশের অর্থনীতি ও বৈদেশিক মুদ্রার সিংহভাগ যোগান অাসে গার্মেন্টস শিল্প থেকে। বর্তমানে গামেন্টসসহ কল কারখানাগুলো চাঁদাবাজদের হুমকির কাছে খুব অসহায়। প্রতিবাদ করলেই কারখানা বন্ধ ও হত্যার হুমকি দেয়া হচ্ছে, হামলা করা হচ্ছে। ফ্যাসিস্ট তকমা দিয়ে মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়ার ভয়ও দেখানো হচ্ছে। এভাবে ঢাকা সহ ঢাকার বাইরের এলাকা থেকে প্রতিদিনই চাঁদাবাজির খবর পাওয়া যাচ্ছে। সম্প্রতি সাভারের হেমায়েতপুরে চাঁদার দাবিতে এক ব্যবসায়িকে তুলে নিয়ে মারধর করা হয়েছে। এ ধরনের অসংখ্য ঘটনা প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থানে হচ্ছে বলে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম জানাচ্ছে।

পরিবহন সেক্টরেও ব্যাপক চাঁদাবাজির খবর পাওয়া যাচ্ছে। ভুক্তভোগীরা চাঁদাবাজদের দৌরাত্মে ভয়ে মুখ খুলছেন না আবার কখনো কখনো পুলিশকে অভিযোগ করলেও কোন প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না।

জিএম কাদের আরো বলেন, এর ফলে অর্থনীতিতে প্রচন্ড নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। যার মধ্যে রয়েছে ব্যবসার খরচ বৃদ্ধি, বিনিয়োগে নিরুৎসাহ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমে ব্যাঘাত। চাঁদাবাজির কারনে লাভ কমে যাচ্ছে উৎপাদন এবং কর্মসংস্থানকে ক্ষতিগ্রস্থ করছে। যা আমাদের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য বড় বাধার সৃষ্টি করছে। প্রশাসনের নির্লিপ্ততায় ব্যবসায়ী নেতারাও এখন বলছেন “অর্থনীতির রক্তক্ষরণ হচ্ছে, সরকার ব্যবসায়ীদের চিৎকার শুনছে না”। চাঁদাবাজির কারনে দেশে আইনের শাসন ব্যাহত এবং সুশাসনের অভাব দেখা দিচ্ছে উল্লেখ করে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের অনতিবিলস্বে সরকার সংশিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করার আহবান জানান।




ক্ষমতায় এলে জাতীয় ঐক্য গড়ে বিএনপিসহ সবাইকে সাথে নিয়ে দেশ চালানোর প্রতিশ্রুতি

বিশেষ প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আগামী নির্বাচনে নির্বাচিত হলে বিএনপিসহ ফ্যাসিবাদবিরোধী সকল রাজনৈতিক দলকে নিয়ে সরকার গঠন করবে বলে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, ইনশাআল্লাহ আমরা বিভক্ত জাতি আর দেখতে চাই না। জাতিকে যারা বিভক্ত করে, তারা জাতির দুশমন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, জনগণের সম্পদ চুরি ও দুর্নীতির মতো অভিজ্ঞতা তার দলের নেই।

শুক্রবার সকালে রাজধানীর ভাষানটেক এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা-১৭ আসন আয়োজিত এক যুব-ছাত্র ও নাগরিক গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জামায়াত আমির বলেন, আগামী ফেব্রুয়ারিতে রোজার পূর্বে যে নির্বাচন ইনশাল্লাহ অনুষ্ঠিত হবে, সেই নির্বাচনে জনগণ যাদের কর্মসূচি সমর্থন করে, যাদের বক্তব্যে আস্থা রাখে, তাদের বাছাই করে নেবে। আমরা তাদের অভিনন্দন জানানোর জন্য এখন থেকে প্রস্তুতি নিচ্ছি। যদি আমাদের দলকে জনগণ বেছে নেয়, আমরা সকল রাজনৈতিক দল এবং শক্তিকে আহ্বান জানাবো। আপনারাও আমাদেরকে সমর্থন দেবেন, অভিনন্দন জানাবেন এবং আপনাদের সাথে নিয়েই আমরা দেশ গড়বো ইনশাআল্লাহ।

তিনি বলেন, কেউ কেউ ইতোমধ্যে বলেছেন, তারা ফ্যাসিবাদবিরোধী সকল দলকে সাথে নিয়ে… যদি তারা নির্বাচিত হন… তাহলে সরকার গড়বেন ‘ইল্লাল্লা জামাতে ইসলামী’ (জামায়াতে ইসলামী ছাড়া)। আমরা তাদের বিনয়ের সাথে বলবো, জনগণ যদি মহান আল্লাহর ইচ্ছায় আমাদের নির্বাচিত করে ইনশাআল্লাহ, আমরা আপনাদেরও বাদ দেবো না। সবাইকে সাথে নিয়ে আমরা দেশ গড়বো ইনশাআল্লাহ। ইনশাআল্লাহ আমরা বিভক্ত জাতি আর দেখতে চাই না। জাতিকে যারা বিভক্ত করে, তারা জাতির দুশমন।

জাতিকে বিভক্তকারী গোষ্ঠীকে ‘জাতির দুশমন’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা বিভক্ত জাতি আর দেখতে চাই না। আমরা ওই দুশমনের রাষ্ট্রের চাষ আর বাংলাদেশে হতে দেবো না।’ তিনি পুরোনো রাজনীতির সমালোচনা করে নতুন ফর্মুলায় দেশ গড়ার ঘোষণা দেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা স্বীকার করি আমাদের অভিজ্ঞতা নেই, জনগণের সম্পদ চুরি করার অভিজ্ঞতা আমাদের নেই। দলীয় কর্মীদেরকে দিয়ে চাঁদাবাজি করার অভিজ্ঞতা আমাদের নেই। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে গণ কায়েম করার অভিজ্ঞতা আমাদের নেই। সর্বপর্যায়ে মাথা থেকে পা পর্যন্ত দুর্নীতি করার অভিজ্ঞতা আমাদের নেই।

বর্তমান ব্যবস্থার কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদ বিদায় নেয়নি; বরং এটি এখন বাংলাদেশে ‘ফেসি’ হিসেবে রয়ে গেছে। তিনি দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, দখলদারী এবং মা-বোনদের ইজ্জত নিয়ে টানাটানির মতো ফ্যাসিবাদীদের পাঁচটি লক্ষণ চিহ্নিত করে বলেন এই সকল লক্ষণ আজকে বিদ্যমান।

জামায়াত আমির বলেন, পুরাতন ফর্মুলায় আর চলবে না ইনশাআল্লাহ। নতুন বাংলাদেশ চলবে নতুন ফর্মুলায়। জনগণের সরকার কেমন হবে তা ব্যাখ্যা করে  তিনি বলেন, প্রত্যেক নিয়োজিত ব্যক্তি নিজের জন্য চিন্তা করার আগে জনগণের স্বার্থ নিয়ে ভাববে… যে সরকার জনগণের সাথে প্রতারণা করে নিজের ভাগ্যের পরিবর্তন করবে না…যে সরকার দুর্নীতিতে জড়াবে না।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, বিপুল পরিমাণ রক্ত ও জীবন দিয়ে পরিবর্তন এলেও জনগণ স্বাধীনতার সত্যিকারের সুফল ভোগ করতে পারেনি।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, আমাদের মাটির নিচে বিপুল পরিমাণ খনিজ সম্পদ, সমুদ্রের নিচে অকল্পনীয় সম্পদ থাকা সত্ত্বেও আমরা বিশ্বের বুক মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারলাম না কেন?

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দেশ ছেড়ে পালায় নাই। দেশের ভেতরে আমরা ছিলাম। দেশের মাটিকে কামড়ে ধরেছিলাম। বুকে জড়িয়ে এখানেই ছিলাম। জেল বরণ করেছি, জীবন দিয়েছি। কিন্তু দেশ ছেড়ে আমরা পালাইনি। কারণ আমরা এই দেশকে, এই মাটিকে, এই মানুষকে আমরা ভালোবাসি।




বিএনপির চেয়ারপার্সন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনা করলেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের।

এসএম বদরুল আলমঃ বিএনপির চেয়ারপার্সন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আশু রোগমুক্তি, দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনা করলেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের।

আজ এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, গত ২৩ নভেম্বর, ২০২৫ তাঁকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য রাজধানীর একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে ভর্তি করার পর তাঁর স্বাস্থের কিছুটা অবনতি ঘটলে বর্তমানে তাকে মেডিকেল বোর্ডের নিবিড় পর্যবেক্ষনে রাখা হয়েছে। তাঁর অসুস্থতার সংবাদে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। আল্লাহ রাব্বুল আল-আমিনের দরবারে অন্তরের অন্তরস্থল থেকে তাঁর সুস্থতা কামনা করে আশা প্রকাশ করছি যে, তিনি যেন শীঘ্রই সুস্থ হয়ে পরিবার পরিজনের কাছে ফিরে আসেন।




“আপনারা যাকে চাইবেন সেই প্রার্থী পটুয়াখালী -৩ আসনে লড়াই করবে”- হাসান মামুন

মোঃ রুহুল আমিন বিশ্বাস স্টাফ রিপোর্টারঃ পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনে বিএনপি নিজস্ব প্রার্থী নিয়ে নির্বাচন করবে।
মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) বিকাল ৫টায় গলাচিপার রতনদী তালতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত বিএনপির জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান মামুন এ কথা জানান। তিনি বলেন, “আপনারা যাকে চাইবেন, সেই প্রার্থী এ আসনে লড়াই করবে। দল ও জোটের সিদ্ধান্ত যাই হোক না কেন, আমরা এই আসনে নির্বাচন করব। কোন শক্তিই আমাদের বাধা দিতে পারবে না। বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে আমরা আছি।”
সভায় সভাপতিত্ব করেন রতনদী তালতলী ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি মোসা. নার্গিস সুলতানা এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মো. এমদাদ শরীফ। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার হাওলাদার। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব সিদ্দিকুর রহমান।
সভায় উপস্থিত ছিলেন পৌর বিএনপির সভাপতি মো. মিজানুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মো. জসিম উদ্দিন খান, সহ-সভাপতি আলহাজ্ব জাহাঙ্গীর হোসেন খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মাকসুদ আলম তালুকদার, মো. মাসুম বিল্লাহ, নিয়াজ মাহমুদ নকিব, ঢাকা উত্তর মহানগরের সাবেক ছাত্রনেতা মো. সাইফুল ইসলাম মোল্লা এবং বিভিন্ন ইউনিয়ন যুবদল ও স্থানীয় সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।



প্রয়াত শ্রমিকনেতা দিদারুল হকের ১০ম মৃত্যুবার্ষিকীতে যশোরে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত

এসএম বদরুল আলমঃ সাম্রাজ্যবাদ সামন্তবাদ আমলা দালালপুঁজি বিরোধী লড়াইয়ে অগ্রণী সৈনিক, জাতীয় গণতান্ত্রিক বিপ্লবী আন্দোলনের নেতা, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের কেন্দ্রীয় সহ-কোষাধক্ষ্য, জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট যশোর জেলার সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের অন্যতম নেতা, নওয়াপাড়া শাখার সাবেক কর্মকর্তা ও কার্পেটিং জুটমিল সিবিএ’র সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক শ্রমিকনেতা দিদারুল হকের ১০ম মৃত্যুবার্ষিকী (২৪ নভেম্বর) সোমবার পালনে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিকাল ৩টায় নওয়াপাড়া পুরাতন বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ব্রাইট ঘাটে স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভাটি সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের সহ-সভাপতি শ্রমিকনেতা বাহারুল ইসলাম (বাহার)। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের সহ-সভাপতি ও বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শ্রমিকনেতা শাহ আলম ভূঁইয়া। বিশেষ বক্তা ছিলেন সংগঠনের সহ-সাধারণ সম্পাদক শ্রমিকনেতা প্রকাশ দত্ত। অতিথি হিসেবে আলোচনা করেন বাংলাদেশ কৃষক সংগ্রাম সমিতির কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সম্পাদক কৃষকনেতা অধ্যাপক তাপস বিশ্বাস, সাংগঠনিক সম্পাদক কৃষকনেতা কামরুল হক লিকু, জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট যশোর জেলা সভাপতি শ্রমিকনেতা আশুতোষ বিশ্বাস, নড়াইল জেলা সাধারণ সম্পাদক কৃষকনেতা হুমায়ুন কবির, গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপ‌তি ও খুলনা জেলা সভাপতি খাদিজা পারভিন, জাতীয় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ছাত্রনেতা দিলিপ বিশ্বাস, বাংলাদেশ লঞ্চ লেবার এসোসিয়েশন খুলনা শাখার সভাপতি শ্রমিকনেতা হাসান মুন্সি মাস্টার, সহ-সভাপতি লিটন মাস্টার, নাসির মাস্টার, বেল্লাল মাস্টার, ইমরুল ড্রাইভার, কার্যকরী সভাপতি ফারুক মাস্টার, রাশেদ মাস্টার, হাসমত মাস্টার, মঞ্জু মাস্টার প্রমূখ নেতৃবৃন্দ। সভাটি পরিচালনা করেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ অভয়নগর থানার সাধারণ সম্পাদক শ্রমিকনেতা নাজমুল হুসাইন।

বক্তারা বলেন, আজ ইতিহাসের সর্বোচ্চ সমস্যা-সংকটের মধ্যদিয়ে চলছে শ্রমিক-কৃষক মেহনতি মানুষের জীবন। এ সংকট চলমান বিশ্বব্যবস্হার সংকট। পুঁজিবাদী-সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বব্যবস্হায় অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংকট গভীর থেকে গভীরতর হয়ে চলেছে।

২০০৮ সাল থেকে শুরু হওয়া অর্থনৈতিক মন্দা ১৮ বছর চলে বিশ্বযুদ্ধের বিপদ এমনকি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিপদ বৃদ্ধি করে চলেছে। এ সংকটের অধীন বাংলাদেশের জাতীয় পরিস্থিতি হওয়ায় সাম্রাজ্যবাদীদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব-সংঘাত বৃদ্ধি ও তাদের প্রতিযোগিতা-প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে এবং সাম্রাজ্যবাদী লুটেরা অর্থনীতির লুটপাটে দেশে বিরাজ করছে গভীর অর্থনৈতিক, রাজনৈতিকসহ সামগ্রিক সংকট।

মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের পরিকল্পনায় দেশে খুনি শেখ হাসিনা সরকারের পতনের মাধ্যমে মার্কিনের বিশ্বস্ত দালাল ডঃ ইউনুসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দেশের জাতীয় ও জনস্বার্থ বিরোধী NDA(Non Discloser Agreement) চুক্তি, চট্টগ্রাম বন্দর মার্কিন নৌবাহিনীর সাথে সম্পৃক্ত কোম্পানি (ডিপি ওয়ার্ড)-এর হাতে তুলে দেওয়ার মতো নগ্ন ভূমিকা চালিয়ে যাচ্ছে। দেশে বিভিন্ন সংস্কারের নামে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ও পশ্চিমাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে চলেছে।

অপরদিকে মার্কিনের প্রধান প্রতিপক্ষ সাম্রাজ্যবাদী চীন-রাশিয়া দেশে স্বীয় অবস্থান শক্ত করতে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। এমন কঠিন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধে মার্কিনের পক্ষে সম্পৃক্ত করতে ষড়যন্ত্র-চক্রান্তের স্বরূপ উন্মোচন করে আন্দোলন-সংগ্রাম গড়ে তুলতে হবে। সাথে সাথে সাম্রাজ্যবাদী পরিকল্পনায় দেশে জাতীয় নির্বাচনে এক সাম্রাজ্যবাদের দালালের পরিবর্তে আরেক দালাল রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলে প্রতিবারের মতো শ্রমিক-কৃষক মেহনতি মানুষের কোনো লাভ হবে না।

তাই শ্রমজীবী মানুষের প্রকৃত মুক্তি অর্জন করতে সকল সাম্রাজ্যবাদ ও তার এদেশীয় দালালদের (তথাকথিত ভোট) রাজনীতির বিরুদ্ধে রুখে দাড়াতে হবে এবং শ্রমিক-কৃষক মেহনতি মানুষের রাষ্ট্র, সরকার ও সংবিধান প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য বাস্তবায়নে জন‌্য জাতীয় গণতান্ত্রিক বিপ্লব সফল করতে সংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সা‌থে সা‌থে প্রধান অ‌তি‌থি নওয়াপাড়া বন্দরের শ্রমিক‌দের উত্থা‌পিত সমস্যা সমাধা‌নে কর্তৃপ‌ক্ষের দৃ‌ষ্টি আকর্ষণ ক‌রেন।




গাইবান্ধা কারাগারে আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু।

মোঃ জাহিদ হোসেন জিমু, গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধিঃ গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মলীগের সভাপতি ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ তারিক রিফাত (৫৫) কারাগারে বন্দী অবস্থায় মারা গেছেন।

রবিবার (২৩ নভেম্বর) বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে গাইবান্ধা জেলা কারাগারে তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। এদিকে, হঠাৎ তাঁর এ মৃত্যুর ঘটনায় জেলা জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

মারা যাওয়া আওয়ামী লীগ নেতা তারিক রিফাত উপজেলার রাজাহার ইউনিয়নের প্রভুরামপুর এলাকার বাসিন্দা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবু তাহের বিএসসির ছেলে।

তিনি ২০১৭ সালে উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ যুব সংগঠক এবং ২০২৪ সালে শ্রেষ্ঠ মৎস্য চাষী হিসেবে পুরস্কার পান। এছাড়া তিনি ২০২১ সালে রাজাহার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

জেলা কারা সূত্রে জানা গেছে, আজ (রবিবার) বিকালে তারিক রিফাত অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত তাকে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে নেয়া হয়।

সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে মৃত্যুর কারণ নিয়ে এখনো রহস্য রয়ে গেছে।

এদিকে, গাইবান্ধা সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। ইসিজি করে দেখা গেছে সে বেঁচে নেই।

পরিবারের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে তাকে একের পর এক মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করা হচ্ছিল। অন্যদিকে কারা কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, এটি স্বাভাবিক মৃত্যু।

এ বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা কারাগারের জেলার আতিকুর রহমান জানান, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মারা যাওয়া ব্যক্তির লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

প্রসঙ্গত, ২০২২ সালে বিএনপি কার্যালয়ে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ২ বছর পর দায়েরকৃত মামলায় গত ১৭ অক্টোবর পুলিশ তাকে এজাহারনামীয় আসামী হিসেবে গ্রেপ্তার করে।

কয়েক বছর আগে হার্টে রিং পড়ানোর কারণে গ্রেপ্তারের তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে বগুড়ায় ও রংপুরে একমাসেরও বেশী সময় ধরে পুলিশের জিম্মায় চিকিৎসাধীন ছিলেন।

পরে আজ (রবিবার) দুপুরে আদালতে বিচারকের সামনে জবানবন্দি শেষে তাকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়।




ঢাকা-১৫ এর ৪ নং ওয়ার্ডে এলাকাবাসীর সাথে মতবিনিময়ে মিল্টন: “জনগণের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনাই আমার প্রধান অঙ্গীকার”

এসএম বদরুল আলমঃ ঢাকা ১৫ আসনের অন্তর্ভুক্ত ৪ নং ওয়ার্ড এলাকাবাসীর সাথে মতবিনিময় সভা করেছেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী জনাব শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। সভায় তিনি এলাকার নানা সমস্যা, নাগরিক ভোগান্তি এবং আগামী দিনের পরিকল্পনা তুলে ধরে জনগণের পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, “ঢাকা-১৫ এ ন্যায়বিচার, উন্নয়ন এবং মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনা আমার প্রথম কাজ।” “এলাকার রাস্তাঘাট, পানি–গ্যাস সংকট এবং নিরাপত্তা—এসব সমস্যা সমাধানে জনগণের ম্যান্ডেট পেলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করবো।” “এই আসনের মানুষ পরিবর্তন চায়, উন্নয়ন চায়, স্বচ্ছ রাজনীতি চায়। আমি আপনাদের সন্তান—আপনাদের সহযোগিতা পেলেই আমরা মিলেই এই পরিবর্তন আনবো।”“দমন-পীড়ন আর মিথ্যা মামলার রাজনীতি বন্ধ করে একটি শান্তিপূর্ণ এলাকাই আমার লক্ষ্য।” “আমি ব্যক্তিগত স্বার্থে রাজনীতি করি না—এই এলাকার প্রতিটি মানুষের অধিকার রক্ষা করতে চাই।”

মতবিনিময় সভায় ওয়ার্ডের গণ্যমান্য ব্যক্তি, যুবসমাজ, ব্যবসায়ী ও সাধারণ ভোটাররা উপস্থিত ছিলেন। তারা মিল্টনকে সমর্থন জানিয়ে এলাকার উন্নয়নে তার পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।




ঢাকায় সফররত কমনওয়েলথ প্রতিনিধি দলের সাথে জাতীয় পার্টির বৈঠক অনুষ্ঠিত।

এসএম বদরুল আলমঃ আজ ২৩ নভেম্বর ২০২৫, সন্ধ্যায় হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল এ কমনওয়েলথ প্রতিনিধি দলের সাথে জাতীয় পার্টির এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে জাতীয় পার্টির নেতৃত্ব দেন দলের চেয়ারম্যান জিএম কাদের এবং কমনওয়েলথ এর পক্ষে নেতৃত্ব দেন কমনওয়েলথ এর মহাসচিব শার্লি আয়োরকর বচওয়েক।

উক্ত বৈঠকে আলোচনার মুল বিষয় ছিলো, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে মাঠপর্যায়ের অবস্থা, রাজনৈতিক পরিবেশ এবং আর্ন্তজাতিক ভাবে গ্রহনযোগ্য নির্বাচনী প্রক্রিয়া।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের অভিযোগ করে বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহনমুলক নির্বাচনে সকলের জন্য সমান সুযোগ (লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড) নিশ্চিত করছে না অন্তবর্তীকালীন সরকার। ঐক্যমত কমিশন এবং নির্বাচন কমিশনের বৈঠকে জাতীয় পার্টিকে অংশগ্রহনের সুযোগ দেয়া দেয়া হয় নাই।

এই বৈঠকে জাতীয় পার্টির প্রতিনিধি দলের সাথে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী, প্রেসিডিয়াম সদস্য মীর আবদুস সবুর আসুদ, ইঞ্জিনিয়ার মইনুর রাব্বি চৌধুরী, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মেজর (অব:) মোঃ মাহফুজুর রহমান এবং কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক মাহমুদ আলম প্রমুখ। কেমনওয়েলথ এর পক্ষে আরো ছিলেন কমনওয়েলথ এর আইনী উপদেষ্টা ডাঃ দিনুষা পন্ডিত রত্ন, সহকারী গবেষণা কর্মকর্তা মিঃ সার্থক রায়।




ঝালকাঠির জেলা প্রশাসকের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন এবি পার্টির শেখ জামাল

ঝালকাঠি প্রতিনিধি: ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক মোঃ মমিন উদ্দিন এর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন এবি শ্রমিক পার্টির কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক শেখ জামাল হোসেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন আমার বাংলাদেশ পার্টির ঝালকাঠি জেলা আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক জামাল হোসেন হাওলাদার, সদস্য সচিব জাহিদুল ইসলাম বশির, এবি শ্রমিক পার্টির জেলা আহ্বায়ক শেখ মিজানুর রহমানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

এসময় জেলা প্রশাসক এর সাথে আন্তরিক পরিবেশে ঝালকাঠির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। ঝালকাঠি -২ আসনের এবি পার্টির সংসদ সদস্য প্রার্থী শেখ জামাল হোসেন তার দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ এর পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকে সালাম ও শুভেচ্ছা জানান।




ঢাকা-১৫ আসনে ভোটার জরিপে বড় ব্যবধানে এগিয়ে মিল্টন

এসএম বদরুল আলমঃ ঢাকা-১৫ আসনে ভোটারদের সাম্প্রতিক মতামত জরিপে বিএনপির ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী ও যুবদলের কেন্দ্রীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনকে এগিয়ে দেখা গেছে। এলাকার ২০০ জন ভোটারকে নিয়ে করা এই জরিপে প্রায় ৭৮ শতাংশ জানিয়েছেন যে তারা মিল্টনকে ভোট দিতে চান। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী ড. শফিকুর রহমানের পক্ষে এসেছে প্রায় ২২ শতাংশ ভোটারের সমর্থন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ঢাকা-১৫ সবসময়ই প্রতিযোগিতামূলক একটি আসন হিসেবে পরিচিত। এবারও দুইজন হেভিওয়েট প্রার্থী মাঠে থাকলেও জরিপে লড়াইটা আপাতত একতরফা বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। জরিপে আরও দেখা গেছে, জামায়াত আমির ড. শফিকুর রহমান এলাকায় মোটামুটি গ্রহণযোগ্য অবস্থায় থাকলেও জাতীয় পার্টি বা আওয়ামী লীগের প্রতি উল্লেখযোগ্য সমর্থন পাওয়া যায়নি।

এ এলাকার ভোটাররা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিনের উন্নয়ন স্থবিরতা, স্থানীয় সমস্যার জট, এবং প্রার্থীদের ব্যক্তিগত ভাবমূর্তিই তাদের সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রেখেছে। যদিও বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের সময় যতই ঘনিয়ে আসবে, প্রচারণা, মাঠের কার্যক্রম এবং সামগ্রিক জাতীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতি ভোটারদের মনোভাবে পরিবর্তন আনতে পারে। তাই শেষ পর্যন্ত ফল কী হবে, তা নির্ভর করছে আসন্ন সপ্তাহগুলোর রাজনৈতিক পরিবেশ ও ভোটার উপস্থিতির ওপর।