মাহফুজ আলম ও এনসিপি নেতাদের দুর্নীতির প্রমাণ ফাঁস করব : মুনতাসির

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ উপদেষ্টা মাহফুজ আলম এবং এনসিপি নেতাদের দুর্নীতির প্রমাণ ফাঁস করার হুমকি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি থেকে (এনসিপি) স্থায়ীভাবে অব্যাহতি পাওয়া কেন্দ্রীয় সংগঠক মুনতাসির মাহমুদ।

তিনি বলেন, ‘একটু চুপ আছি। কষ্ট হচ্ছে, মেনে নিয়েছি। অনেকদিন পর ৫ ঘণ্টা ঘুমালাম। খুব মজা করে পরোটা-ডাল খাইলাম। ধৈর্য ধরে আছি। আমার কোনো ব্যাকআপ নেই, কেউ নাই সাথে। জামাত-শিবিরের পক্ষে পোস্ট দেখে ভাবতে পারেন, সেদিক থেকে সমর্থন পাচ্ছি। আমি নিশ্চিত করছি, জামাত শিবির থেকেও আমি কোনো সাপোর্ট পাচ্ছি না। জামাত সাপোর্ট দিলে রেড ক্রিসেন্টে আমার এই অবস্থা হতো না, তাদের সাহায্য আমি চেয়েছিলাম।’

দুর্নীতি ফাঁস করবেন জানিয়ে মুনতাসির বলেন, ‘সময় নিয়ে উপদেষ্টা মাহফুজ আলম এবং এনসিপি নেতাদের দুর্নীতির প্রমাণ ফাঁস করব আমি। যা আমি বলি, তা আমি করি। প্রমাণের অভাব নাই, কিন্ত এগুলা গুছিয়ে আনা লাগে। আমার কোনো টিম নাই, ভিডিও আমি করি, এডিটও আমি করি। লাইভ করি, ইউটিউবে আপলোড করি, সেটার থাম্বনেইলও আমাকে বানাতে হয়। আমার দুর্নীতির টাকা নাই।’ 

তিনি বলেন, ‘নিরাপত্তা নাই। একাধিক উপদেষ্টা আমার বিরুদ্ধে সরাসরি কাজ করছেন। সুযোগ পাইলেই আমার ক্ষতি করবে। আমার ফেসবুক সর্বোচ্চ রেস্ট্রিকটেড করে রাখা হয়েছে। যেখানে সেদিন ৭০০০ লোক একসঙ্গে লাইভ দেখেছে, সেখানে এখন ৫০ জনও একসঙ্গে লাইভ দেখে না। এটা ক্ষমতার অপব্যবহার। আমি হতাশ নই তবে বেশ কষ্টে আছি। মেনে নিয়েছি, আমি জানি, আমি জিতবো, এটা আল্লাহর ওয়াদা।’

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এই কেন্দ্রীয় সংগঠক বলেন, ‘যারা আমাকে এই সংক্রান্ত কাজগুলোতে সহযোগিতা করতে পারবেন, তারা যোগাযোগ কইরেন। দয়া করে কেউ হাই হ্যালো কইরেন না, যথাযথ কারণসহ মেসেজ দিয়েন। আমি এন্ড্রয়েড ফোনের জন্য ভালো একটা মাইক্রোফোন কিনতে চাই, অভিজ্ঞরা সাজেস্ট কইরেন। যারা নির্বাচনী ব্যানার ফেস্টুনের কাজে সহযোগিতা করতে চান, কইরেন। টাকার অভাবে কাজটা শেষ করতে পারছি না!  সর্বোপরি, আমার জন্য দোয়া কইরেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘সততা এবং দুর্নীতি ছাড়াও রাজনীতি হয়, সেটা আমি দেখিয়ে দেব। এত এত ঘৃণার ভিড়েও কিছু মানুষ আমাকে ভালোবাসেন, আমি জানি। আমিও তাদের ভালোবাসি, ভালোবাসি বাংলাদেশ।’ 

 




এত আলেম, মসজিদ-মাদ্রাসা থাকতে দেশে অন্যায়-দুর্নীতি কেন: মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশে অগণিত মুসলমান, মাদ্রাসা, মসজিদ, ইমাম-উলামা থাকা সত্ত্বেও কেন এত অন্যায়, দুর্নীতি, চুরি ও অর্থপাচার হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘একটা মসজিদ তৈরি করতে মানুষ যে আগ্রহ দেখায়, সেই আগ্রহ ভালো মানুষ তৈরিতে কোথায় হারিয়ে যায়, বুঝি না।’ 

শনিবার (২২ নভেম্বর) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মসজিদভিত্তিক গণশিক্ষার কেয়ারটেকারদের আলোচনা সভায় তিনি এসব মন্তব্য করেন।

ফখরুল বলেন, ধর্ম ও নৈতিকতা সমাজে কীভাবে প্রয়োগ করা যায়, তা নিয়ে দেশে আরও গভীর আলোচনা ও কার্যকর উদ্যোগ জরুরি। এ প্রসঙ্গে তিনি ইন্দোনেশিয়ার উদাহরণ তুলে বলেন, ‘সেখানে সরকার যেই হোক—কমিউনিস্ট বা ইসলামী—গণতান্ত্রিক অ্যাসোসিয়েশন অব উলামা নামের শক্তিশালী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে বাদ দিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয় না।’ তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই ধরনের শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো নেই।

বিএনপিকে ‘উদারপন্থী গণতান্ত্রিক দল’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, গণতন্ত্র না থাকলে কোনো শ্রেণি বা ধর্মের অধিকারই প্রতিষ্ঠিত হয় না। তার অভিযোগ, গত ১৫–১৬ বছরে শেখ হাসিনা সরকারের অধীনে মানুষের ভোটাধিকার থেকে শুরু করে ধর্ম পালনের অধিকার পর্যন্ত কেড়ে নেওয়া হয়েছে।

সমালোচনার সুরে তিনি আরও বলেন, কিছু আলেম–ওলামা শেখ হাসিনাকে ‘কওমি জননী’ উপাধি দিয়েছেন—যা বহু প্রশ্নের জন্ম দেয়। তার দাবি, আওয়ামী লীগের দলীয়করণে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়ে গেছে। তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ইসলামী ফাউন্ডেশনকে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে পুনর্গঠন করা হবে এবং রাজস্ব খাতে স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, প্রতিদিন সংবাদপত্র খুললেই অসংখ্য অপকর্মের খবর চোখে পড়ে। কিন্তু নৈতিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠিত করতে পারলে দেশে হত্যা, রাহাজানি ও অপরাধ অনেকটাই কমে আসত। নৈতিকতার উৎস মাদ্রাসা, স্কুল, শিক্ষক ও পরিবার—এসব প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করাই হওয়া উচিত অগ্রাধিকার।

তিনি সভায় আহ্বান জানান, সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটি সুন্দর, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে হবে। তার মতে, এমন নির্বাচনের মাধ্যমেই একটি গণতান্ত্রিক সরকার ও গণতান্ত্রিক পার্লামেন্ট গঠন সম্ভব হবে, যেখানে জাতীয় সমস্যাগুলো উত্থাপন ও সমাধান করা যাবে এবং তা-ই হবে জনগণের প্রকৃত সিদ্ধান্ত।




আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: ইশরাক

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ঢাকা–৬ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ইশরাক হোসেন বলেছেন, বাংলাদেশে আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না।

শনিবার (২২ নভেম্বর) দুপুরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের সমাবেশে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।

সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে ইশরাক অভিযোগ করে বলেন, ‘শেখ হাসিনা গুপ্ত সন্ত্রাসীদের দিয়ে নির্বাচন ঠেকানোর চেষ্টা করছে। বাংলাদেশে আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না।’

নিজেদের মধ্যে বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিভেদ আমাদের দুর্বল করবে। জুলাই আন্দোলনের সব দল একত্রিত না থাকতে পারলে বহিঃশত্রু আমাদের করদ রাষ্ট্রে পরিণত করবে।’

বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, ‘দেশকে করদ রাষ্ট্রে পরিণত করতে দেওয়া যাবে না। দেশের জন্য সব বিভেদ ভুলে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।’




তারেক রহমানের ৬১তম জন্মদিন আজ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৬১তম জন্মদিন বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর)। ১৯৬৫ সালের ২০ নভেম্বর তিনি জন্মগ্রহণ করেন। জিয়াউর রহমান এবং খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ পুত্র তিনি। 

তারেক রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে কেক কাটা, পোস্টার, ব্যানার লাগানো ও আলোচনা সভাসহ কোনও ধরনের আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠান বা উৎসব পালন না করতে ঢাকাসহ দেশব্যাপী বিএনপি’র সকল ইউনিটের নেতাকর্মীদেরকে দলটির পক্ষে থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। যারা এই ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজনের কথা ভাবছেন তাদের অর্থ দান করার জন্য বলা হয়েছে।

তারেক রহমানকে শৈশবে তার বাবা-মা তাকে ঢাকা সেনানিবাসের শাহীন হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভর্তি করিয়েছিলেন, যা তখন একটি ইংরেজি-মাধ্যমিক স্কুল ছিল, যেখানে কেবল সেনা সদস্যদের সন্তানদের জন্য উন্মুক্ত ছিল। তিনি তার মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট ও অনার্স-মাস্টার্স পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন। স্নাতকোত্তর অধ্যয়নের জন্য, তিনি তার প্রিয় বিষয় হিসেবে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে (আইআর) লেখাপড়া করেন।

তারেক রহমান ১৯৮৮ সালে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত বগুড়া জেলার গাবতলী উপজেলায় প্রাথমিক সদস্যপদ গ্রহণের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। ১৯৯৩ সালে তিনি বগুড়া জেলা বিএনপির সদস্য হন। ১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনের সময় তিনি তার দলের পক্ষে জনমত গঠনে কাজ করেন।

দলের জাতীয় প্রচারণা কৌশল কমিটির সদস্য হিসেবে, তারেক রহমান তার মা যে পাঁচটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিলেন, তার নির্বাচনী প্রচারণার সমন্বয় সাধন করেছিলেন। পাঁচটি আসনেই তার (বেগম খালেদা জিয়া) বিশাল জয় প্রমাণ করে যে তিনি (তারেক রহমান) একজন সূক্ষ্ম সংগঠক হিসেবে ভবিষ্যতে দলের নেতৃত্বের ভূমিকা গ্রহণ করতে সক্ষম।




আগামী নির্বাচনে জাতীয় পার্টির ইস্তেহারে শিশুদের নিরাপত্তা বিষয়ে ইউনিসেফের সাথে বৈঠক।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ গতকাল ১৯ নভেম্বর ২০২৫, ইউনিসেফের গুলশানস্থ বাংলাদেশ, কার্যালয়ে ইউনিসিফের একটি প্রতিনিধি দলের সাথে জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারীর নেতৃত্বে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
উক্ত বৈঠকের মুল বিষয় ছিলো আগামী নির্বাচনে জাতীয় পার্টি ইশতেহারে শিশু নিরাপত্তা। বৈঠকে জাতীয় পার্টি তাদের নির্বাচনী ইস্তেহারে শিশুদের নিরাপত্তা বিধানে ৫টি বিষয় সন্নিবেশন করার আশ্বাস প্রদান করেন।

বিষয়গুলো হলো,

১) শিশু ও মহিলা বিষয়ক মন্ত্রনালয় হতে শিশুদের জন্য বাজেট বৃদ্ধি এবং শিশুদের জন্য একটি স্বতন্ত্র বিভাগ চালু করা।
২) ১৮ বছরের নীচে সকল মেয়ে শিশুদের শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা এবং শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা।
৩) ঝড়ে পড়া (ড্রপট আউট) শিক্ষার্থীদের ডাটাবেজ তৈরী করা এবং তাদের পুনরায় বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহন করা।
৪) বিভিন্ন পর্যায়ে ৩০ হাজার স্থানীয় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে শিশু নিরাপত্তা কার্যক্রম বৃদ্ধি করা। প্রায় ৪০ হাজার প্রশিক্ষনার্থী সিসিসিপি কর্মীদের দ্বারা শিশুর সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করা।
৫) শুধুমাত্র শিশুদের নিরাপত্তার জন্য সাইবার মিডিয়া এক্ট-এ প্রয়োজনীয় ধারা সন্নিবেশন করা।

উক্ত বৈঠকে জাতীয় পার্টির প্রতিনিধি দলের সাথে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, প্রেসিডিয়াম সদ্য হাজী সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন, এডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভুইয়া, আরমান হোসেন মিয়া এবং জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মেজর (অব:) মোঃ মাহফুজুর রহমান ।

ইউনিসেফ প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন, রানা ফ্লাওয়ার্স, রিপ্রেজেনেটিটিভ ইউনিসেফ, দীপিকা মেহরিশ শর্মা, চিফ চাইল্ড নিউট্রেশন এন্ড ডেভলোপমেন্ট সেকশন, মিগুয়েল মেটোস মুনাজ, চিফ কমিউনিকেশন এন্ড এডভোকেসী।




হাসিনার পতন দেখে যেতে পারেননি মওদুদ, এটা দুঃখজনক: মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আমরা একটা অস্থিরতার মধ্যে বাস করছি। এই অস্থিরতা থেকে যে মানুষগুলো আমাদের পথ দেখাতে পারতেন, তাদের মধ্যে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ছিলেন নিঃসন্দেহে অন্যতম। আমার দুঃখ হয়, তিনি ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতন দেখে যেতে পারেননি। যেটি তিনি আন্তরিকভাবেই দেখতে চেয়েছিলেন।’

মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ রচিত বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রয়াত সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের লেখা ‘ডিমিস অব ডেমোক্রেসি’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘হাসিনার শাসনামলের মতো শেখ মুজিবুর রহমানের সময়েও একইভাবে দেশে দুঃশাসন চলেছে। রক্ষীবাহিনী তৈরি করে মানুষকে নির্যাতন-নিপীড়ন করা হয়েছে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘ব্যারিস্টার মওদুদ নিষ্ঠার সঙ্গে ইতিহাস চর্চা করতেন। রাজনীতিবিদ মওদুদের কিছুটা সমালোচনা বা বিতর্ক থাকতে পারে, তবে ইতিহাস লেখার ক্ষেত্রে তার সমালোচনা করার কিছু রয়েছে বলে আমার মনে হয় না।’

মওদুদ রাজনীতির বিচিত্রধর্মী পুরুষ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আপাদমস্তক গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক নেতা ছিলেন মওদুদ। বিভিন্ন কারণে বিভিন্ন সময় তিনি বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান নিয়েছেন।

যদি খুঁজে দেখি, গণতন্ত্রে ফিরে আসার উপায়টা বের করতেই তিনি সেখানে গিয়েছেন। এতে তাকে মূল্যায়ন করার ভালো পথ হবে।’

এই মুহূর্তে ব্যারিস্টার মওদুদকে খুব বেশি দরকার ছিল উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, ‘কারণ আমরা একটা অস্থিরতার মধ্যে বাস করছি। এই অস্থিরতা থেকে যে মানুষটি আমাদের পথ দেখাতে পারতেন, দিশা দেখাতে পারতেন তাদের মধ্যে মওদুদ ছিলেন অন্যতম। তিনি ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতন দেখে যেতে পারেননি, এটা দুঃখজনক।’

যে তরুণসমাজ আমাদের ফ্যাসিস্টদের হাত থেকে উদ্ধার করেছে, তাদের জন্য মওদুদের লেখনী গুরুত্বপূর্ণ বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের এই নেতা।




সাবেক সংসদ সদস্য মোঃ নুরুল ইসলাম তালুকদারের মৃত্যুতে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান-এর শোক বার্তা।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সংসদ সদস্য মোঃ নুরুল ইসলাম তালুকদারের মৃত্যুতে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান-এর শোক বার্তা।

সিরাজগঞ্জ-০৬ আসন থেকে দুই বার নির্বাচিত জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য, বিশিষ্ট সমাজসেবক আলহাজ্ব মোঃ নুরুল ইসলাম তালুকদার ওরফে চাঁন মিঞা (৯৭) গতকাল দিবাগত রাতে বার্ধক্যজনিত কারণে ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রজিউন।

জাতীয় পার্টির মাননীয় চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের,সাবেক সংসদ সদস্য ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মোঃ নুরুল ইসলাম তালুকদারের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
তিনি মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।

পৃথক এক শোকবার্তায় জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, সাবেক সংসদ সদস্য মোঃ নুরুল ইসলাম তালুকদারের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
তিনি মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।

আজ বাদ যোহর সিরাজগঞ্জের কৈজুরী বাজার মাদ্রাসা মাঠে জানাজা শেষে মরহুমকে চর কৈজুরী কবরস্থানে দাফন করা হয়।
মৃত্যকালে তিনি এক ছেলে তিন মেয়ে সহ অসংখ্য আত্মীয় স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।




ময়মনসিংহ–৮: রুহুল আমিন, নুরুল কবির, লিটনকে ঘিরে চলছে ত্রিমুখী দ্বন্দ্ব; কার দখলে যাবে দলের আশা?

ময়মনসিংহ প্রতিনিধিঃ ময়মনসিংহ–৮ ঈশ্বরগঞ্জ আসনে বিএনপির প্রার্থী নির্বাচনের ব্যাপারে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। বর্তমানে লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবুর নাম প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় থাকলেও নানা অভিযোগ, অনিয়ম এবং দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধের কারণে তার মনোনয়ন বাতিলের সম্ভাবনা জোরালো হচ্ছে। দলের ভেতরে এবং এলাকায় সাধারণ নেতাকর্মীদের মধ্যেও এই নিয়ে মতবিরোধ দেখা গেছে।

এই পরিস্থিতিতে বাবুর বিকল্প হিসেবে তিনজন নেতা আলোচনায় আসছেন। প্রথমেই রয়েছে রুহুল আমিন মাস্টার। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ময়মনসিংহ–৮ আসনে বিএনপির তৃণমূল রাজনীতি এবং আদর্শ ধরে রেখেছেন। শিক্ষকতার কারণে কিছু সময় তিনি সরাসরি রাজনীতি থেকে দূরে থাকলেও এলাকায় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন। বর্তমানে তিনি ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। স্থানীয় নেতাকর্মীদের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা এবং পরিচ্ছন্ন ইমেজ তাকে মনোনয়নের ক্ষেত্রে শক্ত অবস্থানে রাখছে।

দ্বিতীয় আলোচিত প্রার্থী হলেন নুরুল কবির শাহীন। সাবেক সংসদ সদস্য হিসেবে ঈশ্বরগঞ্জে তার পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা এখনো শক্তিশালী। তিনি বর্তমানে ময়মনসিংহ জেলা বিএনপির সদস্য এবং ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সম্মানিত সদস্য হিসেবে কাজ করছেন। দলীয় বিভিন্ন পর্যায়ে তার অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং জনপ্রিয়তা তাকে মনোনয়নের লড়াইয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থী হিসেবে এগিয়ে রেখেছে।

তৃতীয় বিকল্প প্রার্থী হলেন কামরুজ্জামান লিটন। তিনি ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক এবং আগে ময়মনসিংহ উত্তর যুবদলের সভাপতি ছিলেন। ফলে তরুণদের মধ্যে তার গ্রহণযোগ্যতা বেশ বেশি। মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয়তার পাশাপাশি তৃণমূলের মধ্যেও তার প্রভাব ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তার সাংগঠনিক শক্তি তাকে মনোনয়নের প্রতিযোগিতায় গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরেছে।

এখন প্রশ্ন শুধু একটাই—ধানের শীষ কার হাতে উঠবে। রুহুল আমিন মাস্টারের তৃণমূল গ্রহণযোগ্যতা, নুরুল কবির শাহীনের অভিজ্ঞতা, নাকি কামরুজ্জামান লিটনের জনভিত্তি—দল এগুলো বিবেচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। ঈশ্বরগঞ্জের মানুষও মুখিয়ে আছে, দেখার জন্য কে হবে বিএনপির শেষ ভরসা।




পল্লবী থানা যুবদলের সদস্যসচিব কিবরিয়াকে গুলি করে হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ পল্লবী থানা যুবদলের সদস্যসচিব গোলাম কিবরিয়াকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। আজ সোমবার সন্ধ্যায় মিরপুর ১২ নম্বর সেকশনের সি ব্লকে এ ঘটনা ঘটে।

আজ রাত সাড়ে ৭টার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক।তবে কে বা কারা গুলি করেছে তাৎক্ষণিক তা তিনি জানাতে পারেননি।

আমিনুল হক বলেন, গুলিবিদ্ধ কিবরিয়াকে মুমূর্ষু অবস্থায় সোহরাওয়াদী হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

কিবরিয়া খুনের ঘটনায় পল্লবী-মিরপুরসহ আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

পল্লবী থানার ওসি মফিজুর রহমান গুলিতে গোলাম কিবরিয়ার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, কিবরিয়া পল্লবী থানা যুবদলের নেতা ছিলেন। তবে কে বা কারা গুলি করেছে, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যায় মিরপুর ১২ নম্বর সেকশনের সি ব্লকে বিক্রমপুর হার্ডওয়্যার অ্যান্ড স্যানিটারি দোকানে বসেছিলেন গোলাম কিবরিয়া। এ সময় মোটরসাইকেলে এসে তিন যুবক দোকানের ভেতরে ঢুকে কিবরিয়ার মাথা, বুক ও পিঠে গুলি করে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে ৭ রাউন্ড গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়।




হাসিনাকে ফেরত দেওয়া না পর্যন্ত ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক হবে না: সারজিস আলম

ডেস্ক নিউজঃ জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘ভারত যতদিন না মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি খুনি হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে দিয়ে রায় কার্যকর করতে সহযোগিতা করবে; ততদিন পর্যন্ত ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের এবং বাংলাদেশের জনগণের সম্পর্ক স্বাভাবিক হবে না।’ 

সোমবার (১৭ নভেম্বর) নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পোস্টে এ বার্তা দেন। এর আগে দুপুরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে করা মামলার রায় দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। দুটি অভিযোগে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাশাপাশি এই মামলার অন্য দুই আসামি হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ও পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন।

রায়ে ট্রাইব্যুনাল বলেছেন, শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির অপরাধ প্রমাণিত। দুটি অভিযোগে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

একটি অভিযোগে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অ্যাপ্রুভার (রাজসাক্ষী) হওয়ায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল–মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আসামির মধ্যে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান পলাতক। দুজনই এখন ভারতে অবস্থান করছেন।

রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে এদিন সকালে কারাগারে থাকা মামলার একমাত্র আসামি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনকে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। পরে তাকে রাখা হয় হাজতখানায়।

এদিকে রায় পরবর্তী সময়ে সোমবার বিকেলে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, গণঅভ্যুত্থানের সময় সংগঠিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ভারতের কাছে আবারও চিঠি পাঠানো হবে

তিনি বলেন, আমরা শেখ হাসিনাকে দেশে প্রত্যর্পণের জন্য ভারতের কাছে আবারও চিঠি লিখব। ভারত যদি এই গণহত্যাকারীকে আশ্রয় দেওয়া অব্যাহত রাখে, তাহলে ভারতকে বুঝতে হবে বাংলাদেশ ও দেশের মানুষের বিরুদ্ধে একটা শত্রুতা এবং একটা নিন্দনীয় আচরণ।