সাবেক সংসদ সদস্য মোঃ নুরুল ইসলাম তালুকদারের মৃত্যুতে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান-এর শোক বার্তা।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সংসদ সদস্য মোঃ নুরুল ইসলাম তালুকদারের মৃত্যুতে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান-এর শোক বার্তা।

সিরাজগঞ্জ-০৬ আসন থেকে দুই বার নির্বাচিত জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য, বিশিষ্ট সমাজসেবক আলহাজ্ব মোঃ নুরুল ইসলাম তালুকদার ওরফে চাঁন মিঞা (৯৭) গতকাল দিবাগত রাতে বার্ধক্যজনিত কারণে ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রজিউন।

জাতীয় পার্টির মাননীয় চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের,সাবেক সংসদ সদস্য ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মোঃ নুরুল ইসলাম তালুকদারের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
তিনি মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।

পৃথক এক শোকবার্তায় জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, সাবেক সংসদ সদস্য মোঃ নুরুল ইসলাম তালুকদারের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
তিনি মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।

আজ বাদ যোহর সিরাজগঞ্জের কৈজুরী বাজার মাদ্রাসা মাঠে জানাজা শেষে মরহুমকে চর কৈজুরী কবরস্থানে দাফন করা হয়।
মৃত্যকালে তিনি এক ছেলে তিন মেয়ে সহ অসংখ্য আত্মীয় স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।




ময়মনসিংহ–৮: রুহুল আমিন, নুরুল কবির, লিটনকে ঘিরে চলছে ত্রিমুখী দ্বন্দ্ব; কার দখলে যাবে দলের আশা?

ময়মনসিংহ প্রতিনিধিঃ ময়মনসিংহ–৮ ঈশ্বরগঞ্জ আসনে বিএনপির প্রার্থী নির্বাচনের ব্যাপারে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। বর্তমানে লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবুর নাম প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় থাকলেও নানা অভিযোগ, অনিয়ম এবং দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধের কারণে তার মনোনয়ন বাতিলের সম্ভাবনা জোরালো হচ্ছে। দলের ভেতরে এবং এলাকায় সাধারণ নেতাকর্মীদের মধ্যেও এই নিয়ে মতবিরোধ দেখা গেছে।

এই পরিস্থিতিতে বাবুর বিকল্প হিসেবে তিনজন নেতা আলোচনায় আসছেন। প্রথমেই রয়েছে রুহুল আমিন মাস্টার। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ময়মনসিংহ–৮ আসনে বিএনপির তৃণমূল রাজনীতি এবং আদর্শ ধরে রেখেছেন। শিক্ষকতার কারণে কিছু সময় তিনি সরাসরি রাজনীতি থেকে দূরে থাকলেও এলাকায় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন। বর্তমানে তিনি ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। স্থানীয় নেতাকর্মীদের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা এবং পরিচ্ছন্ন ইমেজ তাকে মনোনয়নের ক্ষেত্রে শক্ত অবস্থানে রাখছে।

দ্বিতীয় আলোচিত প্রার্থী হলেন নুরুল কবির শাহীন। সাবেক সংসদ সদস্য হিসেবে ঈশ্বরগঞ্জে তার পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা এখনো শক্তিশালী। তিনি বর্তমানে ময়মনসিংহ জেলা বিএনপির সদস্য এবং ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সম্মানিত সদস্য হিসেবে কাজ করছেন। দলীয় বিভিন্ন পর্যায়ে তার অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং জনপ্রিয়তা তাকে মনোনয়নের লড়াইয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থী হিসেবে এগিয়ে রেখেছে।

তৃতীয় বিকল্প প্রার্থী হলেন কামরুজ্জামান লিটন। তিনি ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক এবং আগে ময়মনসিংহ উত্তর যুবদলের সভাপতি ছিলেন। ফলে তরুণদের মধ্যে তার গ্রহণযোগ্যতা বেশ বেশি। মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয়তার পাশাপাশি তৃণমূলের মধ্যেও তার প্রভাব ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তার সাংগঠনিক শক্তি তাকে মনোনয়নের প্রতিযোগিতায় গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরেছে।

এখন প্রশ্ন শুধু একটাই—ধানের শীষ কার হাতে উঠবে। রুহুল আমিন মাস্টারের তৃণমূল গ্রহণযোগ্যতা, নুরুল কবির শাহীনের অভিজ্ঞতা, নাকি কামরুজ্জামান লিটনের জনভিত্তি—দল এগুলো বিবেচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। ঈশ্বরগঞ্জের মানুষও মুখিয়ে আছে, দেখার জন্য কে হবে বিএনপির শেষ ভরসা।




পল্লবী থানা যুবদলের সদস্যসচিব কিবরিয়াকে গুলি করে হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ পল্লবী থানা যুবদলের সদস্যসচিব গোলাম কিবরিয়াকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। আজ সোমবার সন্ধ্যায় মিরপুর ১২ নম্বর সেকশনের সি ব্লকে এ ঘটনা ঘটে।

আজ রাত সাড়ে ৭টার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক।তবে কে বা কারা গুলি করেছে তাৎক্ষণিক তা তিনি জানাতে পারেননি।

আমিনুল হক বলেন, গুলিবিদ্ধ কিবরিয়াকে মুমূর্ষু অবস্থায় সোহরাওয়াদী হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

কিবরিয়া খুনের ঘটনায় পল্লবী-মিরপুরসহ আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

পল্লবী থানার ওসি মফিজুর রহমান গুলিতে গোলাম কিবরিয়ার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, কিবরিয়া পল্লবী থানা যুবদলের নেতা ছিলেন। তবে কে বা কারা গুলি করেছে, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যায় মিরপুর ১২ নম্বর সেকশনের সি ব্লকে বিক্রমপুর হার্ডওয়্যার অ্যান্ড স্যানিটারি দোকানে বসেছিলেন গোলাম কিবরিয়া। এ সময় মোটরসাইকেলে এসে তিন যুবক দোকানের ভেতরে ঢুকে কিবরিয়ার মাথা, বুক ও পিঠে গুলি করে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে ৭ রাউন্ড গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়।




হাসিনাকে ফেরত দেওয়া না পর্যন্ত ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক হবে না: সারজিস আলম

ডেস্ক নিউজঃ জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘ভারত যতদিন না মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি খুনি হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে দিয়ে রায় কার্যকর করতে সহযোগিতা করবে; ততদিন পর্যন্ত ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের এবং বাংলাদেশের জনগণের সম্পর্ক স্বাভাবিক হবে না।’ 

সোমবার (১৭ নভেম্বর) নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পোস্টে এ বার্তা দেন। এর আগে দুপুরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে করা মামলার রায় দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। দুটি অভিযোগে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাশাপাশি এই মামলার অন্য দুই আসামি হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ও পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন।

রায়ে ট্রাইব্যুনাল বলেছেন, শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির অপরাধ প্রমাণিত। দুটি অভিযোগে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

একটি অভিযোগে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অ্যাপ্রুভার (রাজসাক্ষী) হওয়ায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল–মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আসামির মধ্যে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান পলাতক। দুজনই এখন ভারতে অবস্থান করছেন।

রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে এদিন সকালে কারাগারে থাকা মামলার একমাত্র আসামি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনকে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। পরে তাকে রাখা হয় হাজতখানায়।

এদিকে রায় পরবর্তী সময়ে সোমবার বিকেলে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, গণঅভ্যুত্থানের সময় সংগঠিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ভারতের কাছে আবারও চিঠি পাঠানো হবে

তিনি বলেন, আমরা শেখ হাসিনাকে দেশে প্রত্যর্পণের জন্য ভারতের কাছে আবারও চিঠি লিখব। ভারত যদি এই গণহত্যাকারীকে আশ্রয় দেওয়া অব্যাহত রাখে, তাহলে ভারতকে বুঝতে হবে বাংলাদেশ ও দেশের মানুষের বিরুদ্ধে একটা শত্রুতা এবং একটা নিন্দনীয় আচরণ।




ঢাকা–১২ আসনে আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ারকে ধানের শীষে মনোনয়ন দেওয়ার দাবিতে জনতার ঢল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ঢাকা–১২ (তেজগাঁও) আসনে বিএনপির প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে টানা আন্দোলনে নেমেছেন দলটির মনোনয়নবঞ্চিত নেতা আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ারের সমর্থকেরা। শনিবার (১৫ নভেম্বর) বিকেলে ফার্মগেট আনন্দ সিনেমা হলের সামনে থেকে শুরু হওয়া এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, হাতিরঝিল ও শেরে বাংলা নগর থানার বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের হাজারো নেতাকর্মী।

ফার্মগেট থেকে মিছিলটি বিজয় সরণি, ফার্মগেট হয়ে তেজগাঁও কলেজের সামনে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। পুরো পথজুড়ে “আনোয়ার ভাইকে আমরা চাই”, “প্রার্থী পরিবর্তন চাই”, “রাজপথের আনোয়ার ভাই”, “আমরা তোমাকে চাই”—এমন নানা শ্লোগানে মুখর ছিল এলাকা।

ফার্মগেট-তেজগাঁও-বিজয় সরণী এলাকা জুড়ে ঘণ্টাব্যাপী অবস্থান-মিছিলে নেতারা বলেন, ঢাকা–১২ আসনে তৃণমূলের পছন্দের প্রার্থী আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার। তাঁকে বাদ দিয়ে দল ঘোষিত প্রার্থী সাইফুল আলম নিরবকে মনোনয়ন দেওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

গত ৩ নভেম্বর জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাইফুল আলম নিরবকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করার পর থেকেই আনোয়ারের অনুসারীরা রাস্তায় রয়েছেন। ৪ নভেম্বর, ৬ নভেম্বরের পর আজ ছিল তৃতীয় দফা বিক্ষোভ। তাঁদের দাবি—তৃণমূলের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করলে নির্বাচনী মাঠে বিরূপ প্রভাব পড়বে।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন শেরে বাংলা নগর থানা বিএনপি সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক তোফায়েল আহমেদ, যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল কাদের মুকুল, এম জি আজম তৌহিদ, কামাল সরকার শাহিন, আরিফুরুজ্জামান চপল, জামাল উদ্দিন ভূইয়া, তেজগাঁও থানা বিএনপি যুগ্ম আহবায়ক এডভোকেট দুলাল, মনিরুজ্জামান টগর, ইমাম উদ্দিন ইমন, আব্দুল হাই, শিল্পাঞ্চল থানা বিএনপি সিনিয়র সদস্য আমজাদ হোসেন, ২৭ নং ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মোঃ বোরহান উদ্দিনসহ হাতিরঝিল থানা বিএনপি, তেজগাঁও কলেজ ছাত্রদল, স্হানীয় বিভিন্ন ইউনিট বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবকদল, মহিলাদল, শ্রমিকদল, কৃষকদল, জিয়া মঞ্চের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

নেতারা বলেন, ঢাকা–১২ আসনে আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ারের জনপ্রিয়তা এবং সাংগঠনিক গ্রহণযোগ্যতা সবচেয়ে বেশি। তাঁকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা না দিলে আন্দোলন আরও বড় আকার ধারণ করবে।

তৃণমূলের দাবি, “দলকে জেতাতে চাইলে তেজগাঁওয়ে আনোয়ার ভাই এর বিকল্প নেই।”




৯৪ নং ওয়ার্ডে শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনের মতবিনিময় সভা

এসএম বদরুল আলমঃ ঢাকা–১৫ আসনের অধীনস্থ ৯৪ নং ওয়ার্ডের পশ্চিম কাজীপাড়া বাড়ি ও ফ্ল্যাট মালিক কল্যাণ সোসাইটি এবং এলাকাবাসীর সাথে মতবিনিময় সভা করেন ঢাকা–১৫ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জনাব শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন।

সভায় মিল্টন বলেন, তিনি এলাকার দীর্ঘদিনের অবহেলা, উন্নয়নের বৈষম্য ও নাগরিক সেবার সংকট দূর করতে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে একটি কার্যকর ও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চান। তিনি উল্লেখ করেন যে, বিএনপির ঘোষিত সংস্কারভিত্তিক ৩১ দফা ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের রোডম্যাপই আগামী দিনের পরিবর্তনের ভিত্তি।

এলাকাবাসীরা মিল্টনের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের সমস্যা ও উন্নয়নের কথা যে মানুষটি আন্তরিকভাবে শুনছেন এবং সমাধানের অঙ্গীকার করছেন— তিনি মিল্টন ভাই।”

মতবিনিময় সভাটি ছিল পূর্ণ উদ্দীপনা, স্বতঃস্ফূর্ত ভিড় এবং জনগণের প্রত্যাশার এক বাস্তব প্রতিচ্ছবি।




অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জাতীয় পার্টিকে হাত পা বেধে সাঁতার প্রতিযোগিতায় নামাতে চাইছে- জি.এম কাদের

এসএম বদরুল আলমঃ গতকাল ১৪ নভেম্বর, ২০২৫ দিনাজপুর জেলায় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী নির্বাচনী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সিনিয়র নেতাদের একটি দল নিয়ে দিনাজপুরে স্থানীয় দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে বৈঠক করতে যান। কিন্তু সেখানে এনসিপি ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাদের বাধা দেয়ার অজুহাতে স্থানীয় প্রশাসন পুলিশের সহায়তায় নিরাপত্তা না দিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে বৈঠক করতে বাধা দেয়।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আশঙ্কা করছি, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি পাতানো একতরফা নীলনকশার নির্বাচনের দিকে দেশকে পরিচালিত করছেন। সে নির্বাচনের গ্রহন যোগ্যতা কিছুটা হলেও বাড়াতে, মনে করি জাতীয় পার্টিকে নির্বাচন থেকে একদম বাইরে রাখা সমীচীন মনে করছেন না। তবে, একই সাথে জাতীয় পার্টি যাতে সরকারী দল ও সরকারের পছন্দের দল গুলির জয়লাভে কোন ঝুকি তৈরি করতে না পারে সেদিকে বিশেষ মনোযোগ দিচ্ছেন। সে উদ্দেশ্যে নানা বাধা বিপত্তি সৃষ্টি করে জাতীয় পার্টি যাতে নির্বাচনে স্বাভাবিক পরিবেশ না পায় সে বিষয়ে সচেস্ট।

তিনি বলেন, অবস্থাদৃষ্টে ধারনা করি, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জাতীয় পার্টিকে হাত পা বেধে সাঁতার প্রতিযোগিতায় নামাতে চাইছেন। একইভাবে গত ৭ নভেম্বর শুক্রবার কেরানীগঞ্জের স্থানীয় একটি কমিউনিটি সেন্টারে জাতীয় পার্টির ঢাকা জেলার এক কর্মী সমাবেশ এবং ১২ নভেম্বর ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রতিনিধি সভায় প্রথমে এনসিপি ও গণঅধিকার পরিষদ বাধা দেয় পরে পুলিশ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিবর্তে বরং সমাবেশ বন্ধ করে দেয়।
এর আগে জাতীয় পার্টির নির্বাচনী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গত ১১ অক্টোবর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে শান্তিপূর্ন কর্মী সমাবেশ পুলিশ বিনা উস্কানিতে পন্ড করে দেয়।

জাতীয় পার্টির কার্যক্রম স্থবির করতে সরকারের মদতে সারা দেশের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অসংখ্য মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা দায়ের করা হচ্ছে। একাধিক মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা দায়ের করা হয়েছে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান সহ অনেক জেষ্ঠ্য নেতাদের বিরুদ্ধে।

দোষী সাব্যস্ত না হওয়া সত্বেও মিথ্যা মামলায় এখনো এক বছরের বেশি সময় ধরে কারাভোগ করছেন জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম কিবরিয়া টিপু ও ঢাকা মহানগর উত্তরের নেতা এ এন এম সেলিম। তারা একটি মামলায় জামিন পেলেও আবার নতুন করে আরেকটি মামলা দেয়া হচ্ছে বা মামলায় অজ্ঞাতনামা তালিকায় শোন এ্যারেষ্ট দেখিয়ে তাদেরকে কারাগারে আটকে রাখা হচ্ছে।

সরকারের উপরোক্ত কার্যকলাপের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, জাতীয় পার্টি নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত একটি ঐতিহ্যবাহী পুরনো দল। সারা দেশব্যাপী এ দলের সংগঠন আছে। এ দলের জন সমর্থন আছে ব্যাপক। জাতীয় পার্টির আছে দীর্ঘ দিনের দেশ পরিচালনার অভিজ্ঞতা। দেশ ও জাতির কল্যানে জাতীয় পার্টির অনেক উন্নয়নমূলক ও সংস্কার কার্যক্রম এখনও দেশবাসী কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরন করে। এ দলটি সব সময় জনগনের সঙ্গে ছিল, আছে ও ভবিষ্যতেও থাকবে।

ফলে অগণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে মানুষের অধিকার হরন ও প্রচলিত আইনের অপ্রয়োগ করে জাতীয় পার্টির প্রতি দমন নিপীড়নের ফল দেশ ও জাতির জন্য মঙ্গলজনক হবে না। এ সকল সব ধরনের কর্মকান্ড থেকে বিরত থাকার জন্য তিনি সরকারের প্রতি আহবান জানান।




ঝিলপাড়ে জনসমুদ্র—ঢাকা-১৫ এ বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনের মতবিনিময় সভা

এসএম বদরুল আলমঃ ঢাকা-১৫ আসনের অধীনস্থ ১৩ নং ওয়ার্ডের পীরেরবাগ (ঝিলপাড়) এলাকাবাসীর সাথে এক প্রাণবন্ত ও উচ্ছ্বসিত মতবিনিময় সভা করেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জনাব শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন।
এলাকাজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ, নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি—সব মিলিয়ে ঝিলপাড় পরিণত হয় মিল্টন সমর্থনে এক আবেগঘন মিলনমেলায়।

সভামঞ্চে বক্তারা মিল্টনের দীর্ঘদিনের গণসংযোগ, এলাকার মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক, ও উন্নয়ন–অঙ্গীকার তুলে ধরেন। এলাকাবাসীও তাদের প্রত্যাশা, সমস্যাবলি ও ভবিষ্যৎ উন্নয়নের দাবি মিল্টনের সামনে স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করেন।

জনগণের ভালোবাসায় অভিভূত মিল্টন ঢাকা-১৫’কে একটি আধুনিক, নিরাপদ ও সেবামুখী আসন হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।




দেশের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে সাধারন মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের

এসএম বদরুল আলমঃ আজ এক বিবৃতে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের দেশের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে সাধারন মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

বিবৃতিতে তিনি আরো বলেন, তিনি বলেন, সারাদেশে আশঙ্কা জনকভাবে খুন জখম ও রাহাজানির সংখ্যা বেড়েই চলেছে। দেশের মানুষ আজ তাদের জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে শংকিত। নদীতে ফেলে দেয়া লাশের পাশাপাশি আজ জাতীয় ঈদগাহ মাঠের পাশে ২৬ টুকরা লাশের সন্ধান মিলেছে।

রাজশাহীতে দায়রা জজ আদালতের বিচারকের বাসায় ঢুকে তার ছেলেকে হত্যা এবং স্ত্রীকে জখম করা হয়েছে। প্রতিদিন খবরের কাগজে এইরকম হত্যাকান্ডের খবর আমাদেরকে উদ্বিগ্ন করে তুলছে।

তিনি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি সহ দেশের সাধারন মানুষের জানমালের নিরাপত্তা রক্ষার জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান।




শৈলকুপার নাজনীনের চিকিৎসা ব্যয়ে সহযোগিতা তারেক রহমানের

বিশেষ প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক তারেক রহমান ঝিনাইদহের শৈলকুপার প্রতিবন্ধী নাজনীনের চিকিৎসার জন্য তার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। নাজনীনের বাড়ি ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার ত্রিবেণী ইউনিয়নের আনন্দনগর গ্রামে।

শুক্রবার সকালে সংশ্লিষ্ট পরিবারটির সাথে সাক্ষাৎ করতে যান ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর একটি প্রতিনিধি দল।

মানবিক এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কোষাধ্যক্ষ ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর উপদেষ্টা এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। সাক্ষাৎকালে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর পক্ষ থেকে নাজনীনের পিতা নাছির মন্ডলের হাতে চিকিৎসা সহায়তা তুলে দেন বিএনপি’র কোষাধ্যক্ষ।

পাশাপাশি অসহায় নাছির মন্ডলের পরিবারের প্রতি তারেক রহমান-এর সহমর্মিতার বার্তা পৌঁছে দেন এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।

এদিকে, তারেক রহমান-এর পক্ষ থেকে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন সংশ্লিষ্ট পরিবারটির সার্বিক খোঁজ-খবর নেন এবং তাদের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

মানবিক এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য জাহিদুল ইসলাম রনি, ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্য মাসুদ রানা লিটন, ফরহাদ আলী সজীব, বুয়েট ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আবু হানিফ ও বনানী থানা বিএনপি নেতা সাইয়াম সিকান্দার খান পাপ্পু।

এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ জেলা বিএনপি’র সভাপতি অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ, জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি মুন্সী কামাল আজাদ পাননু, সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক আবদুল মজিদ, শৈলকূপা উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি আবুল হোসেন, শৈলকুপা পৌর বিএনপি’র সভাপতি সেলিম রেজা ঠান্ডু, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্য সোহেল খান প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, প্রতিবন্ধী নাজনীন-এর বর্তমান বয়স ১৮ বছর। কিন্তু অসুস্থ অবস্থায় ১৩ বছর ধরে ঘরের মধ্যে শিকলে বাঁধা অবস্থায় রয়েছে। অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে পারেনি তার পরিবার। এছাড়া নাজনীনের ভাই জোবায়ের মানসিক প্রতিবন্ধী। বর্তমানে দিনমজুর নাছির মন্ডল ও বুলবুলি বেগম দম্পতি তাদের দুই সন্তান নিয়ে অসহায়ভাবে দিন অতিবাহিত করছেন।