প্রধান উপদেষ্টার ভাষণে জুলাই সনদ লঙ্ঘিত হয়েছে: সালাহউদ্দিন আহমদ

প্রধান উপদেষ্টা ভাষণের মাধ্যমে স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ লঙ্ঘন করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার ভাষণের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এ কথা বলেন তিনি।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদ নতুন ধারনা। ঐকমত্য কমিশনে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়নি।

এদিকে দুপুরে জাতীয় উদ্দেশে দেয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আদেশে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিধান গ্রহণ করা হয়েছে। 

এর মধ্যে রয়েছে, সনদের সংবিধান বিষয়ক সংস্কার প্রস্তাবণার ওপর গণভোট এবং পরবর্তী সময়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের সিদ্ধান্ত। গণভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট ‘হ্যাঁ’ সূচক হলে নির্বাচিত প্রতিনিধি নিয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন হবে। এই প্রতিনিধিরা একইসাথে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

এই প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদ প্রথম অধিবেশন শুরুর তারিখ থেকে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংবিধান সংস্কার করবে। এরপর ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে নির্বাচনে পাওয়া ভোটের সংখ্যানুপাতে উচ্চকক্ষ গঠন করা হবে। এর মেয়াদ নিম্নকক্ষের শেষ কার্যদিবস পর্যন্ত হবে।




দেশে এই মুহূর্তে গৃহযুদ্ধের ভাব বিরাজ করছে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দেশে এই মুহূর্তে ‘গৃহযুদ্ধের ভাব বিরাজ করছে’ বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। বুধবার (১২ নভেম্বর) বিকেলে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে স্বাস্থ্য পেশাজীবী ও শিক্ষার্থীদের যৌথ মঞ্চের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, জামায়াতসহ আট দল দাবি আদায় করেই ঘরে ফিরবেন বলে আশা করি। আর গণভোট বাংলাদেশে হবেই। বিএনপি ১০০ বছর অপেক্ষা করলেও গণভোট ঠেকাতে পারবে না।

বিএনপি চাঁদাবাজি ও মামলাবাজি করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শোনা যাচ্ছে আওয়ামী লীগের নাকি মামলা তুলে নেওয়া হবে। এক বছরে টাকার বিনিময়েতো সব মামলা তুলেই নেওয়া হয়েছে, সেটার স্বীকৃতি দিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আর বিএনপির এক বছরের সফলতা চাঁদাবাজি আর মামলাবাজি। এছাড়া আর কোনো সফলতা নেই, এই সফলতা নিয়েই জনগণের কাছে ভোট চাইবেন?

সংস্কার চান জানিয়ে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য সংস্কার চেয়েছিলাম। কিন্তু একটি দল বেরিয়ে গেছে এই প্রক্রিয়া থেকে। দেশের একটা বড় জেনারেশন সংস্কার চায়। জনগণ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে চায়, সেটাকে অবশ্যই সম্মান করতে হবে।

বিএনপিকে সংস্কারের পথে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া জনগণের পালস ধরতে পেরেছিলেন। তাই দেশের হাল ধরতে পেরেছিলেন। কিন্তু এখন যারা আছেন বিএনপিতে, তারা জনগণের পালস বোঝেন না। তাই তাদের প্রতি আহবান, ইগো না রেখে সংস্কারের পথে আসুন।

সরকারের সমালোচনা করে নাসীরুদ্দীন বলেন, এখন সবচেয়ে বড় সংকট রাষ্ট্র, জনগণ থেকে সরকারের বিচ্ছিন্নতা ও দূরত্ব। ইউনূস সরকার জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে একা চলা শুরু করেছে। পুলিশ দিয়ে পিটিয়েছে আন্দোলনকারী শিক্ষক, চিকিৎসক ও নার্সদের। এখন সবার একটাই প্রশ্ন, সংস্কার প্রয়োজন আছে, নাকি নাই। রাষ্ট্রের যে ফ্যাসিবাদি সিস্টেম, সেভাবে একটি দেশ চলতে পারে না।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকারের দায়িত্ব হলো, যে মানুষগুলো বঞ্চনার শিকার হয়েছেন এতদিন, তাদের অধিকার নিশ্চিত করা। সরকারের চেয়ারে বসা মানে জনগণের যে দাবিগুলো আছে, সেগুলো জনগণকে বুঝিয়ে দেওয়া। তাই সরকারের প্রতি আহ্বান, জনগণকে একটি স্বাস্থ্য কাঠামো দিন।

নাসীরুদ্দীন বলেন, কালকে নাকি আওয়ামী লীগের লকডাউন। কাল সকল দল মাঠে থাকবে। আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসকে ঠেকাতে হাসনাত আবদুল্লাহ একাই যথেষ্ট।




মির্জা ফখরুলের সঙ্গে ফরাসি রাষ্ট্রদূতের বৈঠক

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ফ্রান্সের নতুন রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শার্লেট। 

বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) দুপুর ১২টায় বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে আসেন ফরাসি রাষ্ট্রদূত।

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য জানান।

বিএনপি মহাসচিবের সঙ্গে ফরাসি রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎকালে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ উপস্থিত ছিলেন।




৩০০ কোটি টাকায় মনোনয়ন কেনার ঘোষণা ও ২ হাজার কোটি টাকার সম্পদের অনুসন্ধান দাবি- মোস্তফা জামানের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ

এসএম বদরুল আলমঃ ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব হাজী মোস্তফা জামান-এর বিরুদ্ধে বিপুল সম্পদ অর্জন ও অস্বচ্ছ আর্থিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে, যেখানে অনুসন্ধান চাওয়া হয়েছে তার সম্পদের উৎস ও নির্বাচনী তহবিলের অর্থের উৎস সম্পর্কে।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৮ আসনে বিএনপির প্রার্থী হতে গিয়ে মোস্তফা জামান তিনশত কোটি টাকা ব্যয় করতে ইচ্ছুক—এমন মন্তব্য তিনি বিভিন্ন ব্যক্তি ও গণমাধ্যমে প্রকাশ্যে করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ৮ থেকে ১০ বছরে মোস্তফা জামান রাজধানীর উত্তরার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ২০ একর জমি, ১০ থেকে ১২টি বহুতল ভবন এবং ২০টিরও বেশি ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন। অভিযোগকারীরা বলেন, তার দৃশ্যমান কোনো বড় ব্যবসা বা প্রকাশ্য আয়ের উৎস নেই, কিন্তু তিনি হঠাৎ করেই প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দুদকে জমা দেওয়া নথিতে বলা হয়, ২০২০ সালের ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ৫৩ নম্বর ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে অংশ নেন মোস্তফা জামান। নির্বাচনের সময় দাখিল করা হলফনামা অনুযায়ী, তার মালিকানাধীন জমির পরিমাণ ছিল প্রায় ৪৭৭ শতাংশ, এবং বার্ষিক আয় উল্লেখ করা হয়েছিল মাত্র ৫ লাখ ৩১ হাজার টাকা।

কিন্তু অভিযোগকারীদের দাবি, বর্তমানে তার ভাড়াজনিত আয়ই মাসিক প্রায় দুই কোটি টাকা, যা বাৎসরিক হিসাবে ২৪ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। অথচ আয়কর বিবরণীতে এমন কোনো পরিমাণ অর্থের উৎস বা ঘোষণা দেখা যায় না।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, “২০২০ সালের পর থেকে মোস্তফা জামানের সম্পদ বৃদ্ধির হার অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। কৃষক পরিবার থেকে উঠে এসে মাত্র এক দশকের মধ্যে শত শত কোটি টাকার সম্পদের মালিক হওয়া একটি বড় প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।”

এছাড়া, অভিযোগে দাবি করা হয়, জুলাই বিপ্লবের পর বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হন মোস্তফা জামান। এর আগে তিনি তুরাগ থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। দলীয় রাজনীতিতে পুনরায় প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্যে তিনি নাকি ২০ কোটি টাকার বিনিময়ে মহানগর উত্তর বিএনপির পদ অর্জন করেছেন, এমন অভিযোগও উত্থাপন করা হয়েছে চিঠিতে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, “মোস্তফা জামান প্রকাশ্যে দাবি করেছেন, প্রয়োজনে তিনশত কোটি টাকা খরচ করে হলেও তিনি ঢাকা-১৮ আসনের মনোনয়ন নিশ্চিত করবেন। প্রকাশ্যে কোনো ব্যবসা-বাণিজ্য না থাকলেও কীভাবে তার পরিবার হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদের মালিক হলো—দুদকের উচিত বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে অনুসন্ধান করা।”

এ বিষয়ে মোস্তফা জামানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

দুদক সূত্র জানিয়েছে, অভিযোগপত্রটি কমিশনের রিসিভ সেকশনে জমা হয়েছে এবং প্রাথমিক যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় পাঠানো হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধরনের অভিযোগ বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার সুযোগ তৈরি করতে পারে।




‘‘জামাত-ই- ইসলামীর সাথে জাতীয় পার্টির জোটবদ্ধ নির্বাচন ও বৈঠক করার খবরটি অসত্য’’- জিএম কাদের

এসএম বদরুল আলমঃ ‘‘জামাত-ই- ইসলামীর সাথে জাতীয় পার্টির জোটবদ্ধ নির্বাচন করার জন্য বৈঠক করেছে মর্মে কিছু প্রচার মাধ্যমে প্রকাশিত খবরটি অসত্য।’’

আবার কোন কোন মিডিয়ায় প্রচার করা হচ্ছে যে ‘‘সুযোগ পেলে জাতীয় পার্টি বিএনপি অথবা জামাত-ই-ইসলামীর সাথে জোটবদ্ধ নির্বাচন করবে’’- প্রচারিত এ সংবাদটিও ভিত্তিহীন। আজ এক বিবৃতিতে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের এই কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন জাতীয় পার্টি এখনো কোন জোটের সাথে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত গ্রহন করে নাই।




ঢাকা-১৫ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনের প্রায় লক্ষাধিক লোকের বিশাল শোডাউন

এসএম বদরুল আলমঃ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা-১৫ আসনের জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন-এর নেতৃত্বে মঙ্গলবার বিকেলে এক বিশাল শোডাউন অনুষ্ঠিত হয়।

সরকারি আয়ুর্বেদিক কলেজ থেকে শুরু হয়ে এই মহাশোভাযাত্রা শেওড়াপাড়া তালতলা প্রদক্ষিণ করে শেওড়াপাড়া কেন্দ্রীয় মঞ্চে এসে শেষ হয়। পুরো এলাকাজুড়ে হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল, কৃষক দল, তাঁতি দল, শ্রমিক দলসহ দলের সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা মিছিলের সারিতে যোগ দেন।

প্রায় লক্ষাধিক মানুষের অংশগ্রহণে শোভাযাত্রাটি ঢাকায় এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক সমাবেশে পরিণত হয়। শোভাযাত্রার পুরো পথজুড়ে “ধানের শীষের জয়ধ্বনি” ও “গণতন্ত্র মুক্তির লড়াইয়ে শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনের নেতৃত্ব”–এর স্লোগানে মুখরিত ছিল বাতাস।

শোভাযাত্রার আগে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেন, “দীর্ঘ ১৭ বছর এই এলাকার মানুষ ভোট দেওয়ার সুযোগ পায়নি। জনগণ এবার পরিবর্তন চায়, ভোটের মাধ্যমে নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে চায়। আমি এই আসনকে একটি গ্রীন ঢাকা, ক্লিন ঢাকা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। উন্নয়ন ও নাগরিক সেবায় এই আসনকে মডেল সিটি করব ইনশাআল্লাহ।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা ভোট চাই জনগণের বিশ্বাসে, জনগণের শক্তিতে। কিন্তু জামায়াত ইসলামের আমির ড. শফিকুর রহমান ভোটে বিশ্বাসী নন। তারা গণভোট বিলম্বিত করতে বিভিন্ন পাঁয়তারা করছে। আমি স্পষ্ট করে বলছি—যদি তারা এ ধরনের তালবাহানা করে, তাহলে জনগণ তাদের মন থেকে চিরতরে মুছে ফেলবে।”

শফিকুল ইসলাম মিল্টন বলেন, “ঢাকা-১৫ হবে ঐক্যের প্রতীক। আমি রাজনীতি করি মানুষের জন্য, উন্নয়নের জন্য। এই এলাকার রাস্তা, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে আমূল পরিবর্তন আনবো। আমি চাই তরুণ প্রজন্মের স্বপ্ন পূরণের রাজনীতি।”

তিনি আরও যোগ করেন যে, বিএনপি নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের এই ধারা অব্যাহত রেখে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য জনগণের ঐক্য এখন অপরিহার্য।

শোভাযাত্রা ঘিরে এলাকাজুড়ে উৎসবের আমেজ দেখা যায়। নারীরা ছাদে দাঁড়িয়ে হাত নাড়েন, তরুণরা শ্লোগানে মাতেন, বৃদ্ধরা বলেন—“এবার ভোট চাই, পরিবর্তন চাই।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ঢাকা-১৫ আসনে শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন এখন জনমতের শীর্ষে অবস্থান করছেন এবং তাঁর জনপ্রিয়তা দিন দিন বেড়ে চলেছে।

একজন প্রবীণ নেতা বলেন, “মিল্টন ভাই শুধু রাজনীতিক নন, তিনি এলাকার উন্নয়নের প্রতীক। তরুণদের হৃদয়ে তাঁর নাম এখন আশার আলো।”

শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনের এই মহাশোডাউন প্রমাণ করেছে—ধানের শীষের পক্ষে ঢাকায় এখনো ব্যাপক গণজোয়ার রয়েছে। জনগণ এবার পরিবর্তনের স্বপ্নে উজ্জীবিত, আর এই পরিবর্তনের নেতৃত্বে রয়েছেন শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন, যিনি দৃঢ়ভাবে বলছেন— “গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনব, মানুষকে তার ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দেব। এটা শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, এটি আমার অঙ্গীকার।”




দফতর সম্পাদক মাহমুদ আলমের বাবা হাফেজ জাহাঙ্গীর আলমের ইন্তেকালে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান- এর শোক বার্তা।

বিশেষ প্রতিবেদকঃ জাতীয় পার্টির দফতর সম্পাদক মাহমুদ আলমের বাবা হাফেজ জাহাঙ্গীর আলম (৭৬) ইন্তেকাল করেছেন। “ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রজিউন।”

জাতীয় পার্টির মাননীয় চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের, মরহুম জাহাঙ্গীর আলমের ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

তিনি মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।

পৃথক এক শোকবার্তায় জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, মরহুম জাহাঙ্গীর আলমের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
তিনি মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।

মৃত্যুকালে তিনি ৩ ছেলে ২ মেয়ে, নাতি নাতনি সহ অসংখ্য আত্মীয় স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

গতকাল বাদ এশা জানাযা শেষে মরহুমকে আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।




মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র হচ্ছে: মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ভুলিয়ে দিতে একটি মহল গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। সোমবার বেলা ১১টায় বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ঠাকুরগাঁও জেলা ইউনিট কমান্ড আয়োজিত জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

ফখরুল বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলোকে মুছে দিতে চাওয়া হচ্ছে, কিন্তু সেই ইতিহাস কখনো ভুলে যাওয়া সম্ভব নয়। আমরা বুকের ভেতর মুক্তিযুদ্ধকে বয়ে বেড়াচ্ছি। এটি আমাদের অস্তিত্বের অংশ।’

তিনি আরও বলেন, যারা মুক্তিযুদ্ধের সময়ে মা-বোনদের পাকিস্তানি হানাদারদের হাতে তুলে দিয়েছিল বা হাজার হাজার নিরীহ মানুষকে হত্যায় সহযোগিতা করেছিল, তাদের সঙ্গে কোনো আপস হতে পারে না। এরা বারবার মুখ বদলে সামনে আসছে এবং দেশকে অন্ধকারে ঠেলে দিতে চায়।

নির্বাচন প্রসঙ্গে ফখরুল সতর্ক করে বলেন, ‘নির্বাচনকে বানচালের ষড়যন্ত্র চলছে। নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়া মানে দেশের সর্বনাশ ডেকে আনা। জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে কেউ ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবে না।’

সভায় বীর মুক্তিযোদ্ধা নুর করিমের সভাপতিত্বে, কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা নাঈম জাহাঙ্গীর, সদস্যসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক আহম্মদ খান, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীন, সাধারণ সম্পাদক মো. পয়গাম আলীসহ জেলার নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।




ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জাতীয় তরুণ পার্টির মতবিনিময় সভায় ঐক্যের আহ্বান

এসএম বদরুল আলমঃ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জাতীয় তরুণ পার্টির উদ্যোগে এক প্রাণবন্ত মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় তরুণ পার্টির আহবায়ক জাকির হোসেন মৃধা। সভায় প্রধান বক্তা ছিলেন মোড়ল জিয়াউর রহমান।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন জাতীয় তরুণ পার্টি ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহবায়ক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম এবং সঞ্চালনা করেন সদস্য সচিব মহিন উদ্দিন মন্ডল।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন যুগ্ম আহবায়কবৃন্দ— এডভোকেট সাদেকুর মিয়া, মোঃ মান্নান হাওলাদার, খবীর গাজী, এডভোকেট এনামুল হক, মোঃ তৌহিদ খান, আবুজার ইসলাম ও শ্রী উজ্জ্বল শাহা।

এছাড়া মহানগর নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মোঃ আরিফুর রহমান আরমান, মোঃ আবদুল হালিম হাওলাদার, মাহবুব তালুকদার, শরীফ হোসেন, আমির হোসেন, রুহুল আমিন, মিরাজ হোসেন, জাকির হোসেন, মাহবুবর রহমান, মিনারা সুলতানা, সোহেব মুন্সি, আরিফ হোসেন, তরিকুল ইসলাম, নুরে আলম, নাহিদ ইসলাম, জব্বার আহমেদ, এরশাদ চৌধুরী, সাইদুল হক, রমজান আলী ও মেজ্জামেল হক।

বক্তারা বলেন, দেশের রাজনীতিতে তরুণদের ভূমিকা এখন সময়ের দাবি। জাতীয় তরুণ পার্টিকে আরও সংগঠিত, সক্রিয় ও ঐক্যবদ্ধ করে তোলার মাধ্যমে জাতীয় পার্টির ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।

অনুষ্ঠানে দলীয় নেতাকর্মীরা ঐক্য ও নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রেখে দলীয় কর্মকাণ্ডে নব উদ্যমে অংশগ্রহণের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।




সাবেক যুবলীগ সদস্য পারভেজ গাজি এখন কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাজধানীর মিরপুরে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। একসময় আওয়ামী যুবলীগের সক্রিয় সদস্য হিসেবে পরিচিত পারভেজ গাজি এখন বিএনপি-ঘরানার রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। সম্প্রতি তিনি মিরপুর থানা কৃষক দলের নবগঠিত কমিটির ৩নং যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন।

‎দলীয় সূত্রে জানা গেছে, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই পারভেজ গাজি, পিতা: মো:মনোহর গাজি, মাতা:পারভীন বেগম, বিএনপি ঘরানার রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে শুরু করেন। কৃষক দলের স্থানীয় কমিটিতে তাকে গুরুত্বপূর্ণ পদে মনোনয়ন দেওয়ার পর থেকেই এ নিয়ে মিরপুরের রাজনীতিতে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

‎বাংলাদেশের রাজনীতিতে দলবদল নতুন কিছু নয়, তবে পারভেজ গাজির মতো পরিচিত নেতার অবস্থান পরিবর্তন রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ক্ষমতার পরিবর্তনের পর অনেকে নতুন দলে যোগ দিয়ে নিজেদের অবস্থান টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন।

‎‎মিরপুরের এই দলবদল ঘটনাটি স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে, যা আগামীর নির্বাচনী মাঠে প্রভাব ফেলতে পারে।