“দেশে এখন স্বাধীনভাবে কথা বলাও কঠিন”-বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘অপশাসনের ধারাবাহিকতা’ বললেন জিএম কাদের

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের দাবি করেছেন, ২০১৪ সালের পর থেকে দেশে যেসব জাতীয় নির্বাচন হয়েছে, সবই আগে থেকেই পরিকল্পিত ও নিয়ন্ত্রিত ছিল। তাঁর অভিযোগ, ভোটের ফল জনগণের রায়ে নয়, বরং কৌশল আর প্রভাব খাটিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে। শনিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে নিজের দু’টি বইয়ের প্রকাশনা ও আলোচনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

জিএম কাদের বলেন, সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনেও ভোটের প্রকৃত চিত্র আড়াল করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ভোটার সংখ্যা বাড়লেও ভোটকেন্দ্রের বুথ কমিয়ে দেওয়া হয়েছিল পরিকল্পিতভাবে। তিনি বলেন, দায়িত্বশীল মহল আগেই বুঝেছিল সাধারণ মানুষ ভোট দিতে কেন্দ্রে আসবে না। তাই কৃত্রিমভাবে ভোটের পরিবেশ তৈরি করতে এবং পরে ফলাফল নিজেদের মতো সাজাতে বুথ সংখ্যা কমানো হয়।

তিনি নির্বাচন কমিশনের দেওয়া ভোটের হার নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য, ঘোষিত ভোটের হিসাব বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না। তিনি গাণিতিক ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এত বিপুল সংখ্যক ভোট গ্রহণ করা বাস্তবে সম্ভব নয়। ভোটারের পরিচয় যাচাই, আঙুলে কালি দেওয়া, ব্যালট নেওয়া, ভোট দিয়ে বাক্সে ফেলা—সব মিলিয়ে যে সময় লাগে, তাতে ঘোষিত ভোটের সংখ্যা বিশ্বাসযোগ্য নয় বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর মতে, বাস্তবে অধিকাংশ কেন্দ্রে দীর্ঘ সময় ভোটারশূন্য অবস্থা ছিল এবং প্রকৃত ভোট পড়েছে অনেক কম।

জাপা চেয়ারম্যান আরও অভিযোগ করেন, বিপুল সংখ্যক ভুয়া ভোট দেখিয়ে পছন্দের প্রার্থীদের জেতানো হয়েছে। তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী বাস্তব ভোটের চেয়ে অনেক বেশি সংখ্যা দেখিয়ে ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। তাঁর ভাষায়, সাধারণ মানুষের ভোটাধিকারকে কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ করে ফেলা হয়েছে।

গণমাধ্যম নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন জিএম কাদের। তিনি বলেন, দেশে এখন আর প্রকৃত মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নেই। সংবাদমাধ্যমের অনেকেই চাপ, ভয় কিংবা বিভিন্ন কারণে আত্মনিয়ন্ত্রণের মধ্যে কাজ করছে। তাঁর অভিযোগ, তিনি যে তথ্য ও হিসাব তুলে ধরেছেন, তা দেশের সংবাদমাধ্যম প্রকাশ করতে সাহস পায়নি।

সাংবাদিক আনিস আলমগীরমঞ্জুরুল হাসান পান্না-সহ কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীর বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপেরও সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর দাবি, ভিন্নমত দমন করতে এখনও আগের মতো ভয়ভীতি ও নিয়ন্ত্রণের রাজনীতি চলছে। মানুষের বাকস্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকার সংকুচিত হয়ে পড়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়েও দুর্নীতি বেড়েছে বলে অভিযোগ করে জিএম কাদের বলেন, দেশে এখন নতুন ধরনের “মামলা বাণিজ্য” শুরু হয়েছে। নিরীহ মানুষকে মামলা, গ্রেফতার বা “শোন অ্যারেস্ট” দেখানোর ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে টাকা আদায় করা হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, কেউ রাজনৈতিকভাবে ভিন্ন মতের হলেই তাকে হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে। বিমানবন্দরে আটকে রেখে ভয় দেখানো, পরে অর্থ আদায়ের মতো ঘটনাও ঘটছে বলে দাবি করেন তিনি।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-র সমালোচনা করে তিনি বলেন, একতরফাভাবে সংবিধান পরিবর্তনের চেষ্টা অতীতেও স্থায়ী হয়নি। বর্তমান সরকারও যদি রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষের মতামত উপেক্ষা করে নিজেদের মতো সংস্কার চালাতে চায়, তাহলে সেই উদ্যোগও দীর্ঘস্থায়ী হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে জিএম কাদের বলেন, প্রতীক নিয়ে তারা চিন্তিত নন। মামলা বা চাপ যাই আসুক, দলকে ধরে রেখে রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যাবেন। তবে দলের ভেতরে বিশ্বাসঘাতকতা করলে কাউকে আর ছাড় দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রকাশক আলমগীর সিকদার লোটন। প্রধান আলোচক ছিলেন আবুল কাশেম ফজলুল হক। এছাড়া বক্তব্য দেন আব্দুস সাত্তার, শামীম হায়দার পাটোয়ারী, কাজী রওনক হোসেন, মাসুদ কামাল-সহ আরও অনেকে।




“বিএনপির ৪০০ মনোনয়নপ্রত্যাশীর প্রথম ধাপের সাক্ষাৎকার শেষ”

বিশেষ প্রতিবেদকঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সঙ্গে প্রথম ধাপের সাক্ষাৎকার শেষ হয়েছে।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে প্রথম ধাপে পাঁচ বিভাগের প্রায় ৪০০ মনোনয়ন প্রত্যাশীর সাক্ষাৎকার নিয়েছে মনোনয়ন বোর্ড।

এতে সভাপতিত্ব করেন বোর্ডের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ স্থায়ী কমিটির সদস্যরা।

দুদিনের সাক্ষাৎকার পর্বের প্রথমদিনে রাজশাহী, রংপুর, খুলনা, বরিশাল ও ফরিদপুর বিভাগের প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেয়া হয়।

সূত্রে জানা গেছে, সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থী মনোনয়নে, আন্দোলন সংগ্রামে অবদান জানতে চাওয়া হয় মনোনয়ন বোর্ডে।

আগামীকাল শনিবার চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা, ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের প্রার্থীদের সঙ্গে বিকেল ৩টায় সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হবে।




স্মৃতিসৌধে জাতীয় পার্টি-ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীদের হাতাহাতি, জাতীয় পার্টির নেতা আহত

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে ঢাকার সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদনের আগমুহূর্তে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সহযোগী সংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।

আজ বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে লাইনে অপেক্ষা করার সময় এ ঘটনা ঘটে।

হাতাহাতি ও উত্তেজনার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির (জাপা) মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী। অন্যদিকে ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক ও জাতীয় ছাত্রশক্তির সিনিয়র সহ-সভাপতি আহসান লাবীব।

এ ঘটনায় জাতীয় পার্টির অন্তত একজন নেতা আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তার বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি।

জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, মহান স্বাধীনতা ও বিজয় দিবস উপলক্ষে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ব্যানারসহ মিছিল ও ফুল নিয়ে লাইনে অপেক্ষা করার সময় একটি গ্রুপ তাদের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। এ সময় জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা ভদ্রভাবে তা প্রতিরোধ করেন।

অন্যদিকে জাতীয় ছাত্রশক্তির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, জাতীয় পার্টি স্লোগান দেওয়ার সময় ছাত্রশক্তির পক্ষ থেকেও “মুজিববাদের দালালেরা হুশিয়ার সাবধান”সহ বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া শুরু হলে জাতীয় পার্টির এক নেতা ছাত্রশক্তির সিনিয়র জয়েন্ট সেক্রেটারি নাঈম আবেদিনের ওপর হামলা করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা জাতীয় পার্টির ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন।

ঘটনার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় জাতীয় পার্টির (জাপা) মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী গণমাধ্যমকে বলেন, “আমরা এখনো জানি না কারা করেছে (হামলা)। তবে আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, একাত্তরবিরোধী চক্র—যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে বিশ্বাস করে না, যারা পাকিস্তানকে ধারণ করে, যারা পাকিস্তানে আবার ফিরে যেতে চায়—তারা এই পবিত্র জায়গায় এই অপবিত্র কাজটি করতে পারে।”

তিনি বলেন, “আমরা যখন মিছিল নিয়ে আসছিলাম, তখন কিছু ছেলেপেলে আমাদের মিছিলে আক্রমণ করেছে। তবে আমাদের নেতাকর্মীরা সেটিকে ভদ্রভাষায় প্রতিহত করেছে।”

তিনি আরও দাবি করেন, “এই ঘটনায় জাতীয় পার্টির কেউ হতাহত হয়নি। আমরা সর্বোচ্চ সাহসিকতার সঙ্গে ব্যাপারটি দেখেছি, আমরা তাদের উগ্র ফাঁদে পা দেইনি।”

অন্যদিকে জাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক ও জাতীয় ছাত্রশক্তির সিনিয়র সহ-সভাপতি আহসান লাবীব বলেন, “সেখানে জাতীয় পার্টির লোকজন নানা ধরনের স্লোগান দিচ্ছিল। এসময় আমরাও স্লোগান দেওয়া শুরু করি, ‘মুজিববাদের দালালেরা হুঁশিয়ার, সাবধান’। এসময় জাতীয় পার্টির একজন নেতা আমাদের ছাত্রশক্তির একজন নেতার ওপর হামলা করেন, পরে আমাদের ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা তাদের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন।”

এদিকে শামীম হায়দার পাটোয়ারী দাবি করেন, নির্বাচনে হীন প্রক্রিয়া ও নীল নকশার মাধ্যমে জাতীয় পার্টিকে পার্লামেন্ট থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, “একটা হীন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে, একটা নীল নকশার মাধ্যমে জাতীয় পার্টিকে পার্লামেন্ট থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা মনে করি, দীর্ঘমেয়াদে এই ষড়যন্ত্র সফল হবে না। জাতীয় পার্টি ফিরে আসছে এবং বারবার ফিরে আসবে।”

তিনি বলেন, “২৬শে মার্চ আমাদের হাজার বছরের বাঙালির অর্জন। স্বাধীনতার চেতনা নিয়ে জাতীয় পার্টি এগিয়ে চলছে এবং সামনেও এগিয়ে চলবে।”

“আমরা একটা বৈষম্যহীন বাংলাদেশ চাই, একটা সমতার বাংলাদেশ চাই, একটা সকলের বাংলাদেশ চাই। কিছু ব্যক্তি মনে করে বাংলাদেশ তার নিজস্ব দলের। কিছু ব্যক্তি মনে করে বাংলাদেশ তাদের পৈতৃক ধন। এই বাংলাদেশের মালিক বাংলাদেশের জনগণ, আর জনগণের প্রতিনিধিত্বশীল দল হিসাবে জাতীয় পার্টি রাজনীতি করছে। সামনেও রাজনীতি করবে”, যোগ করেন শামীম।




দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হলেন অধ্যক্ষ হাবিব দুলু

জহুরুল হক জনি, লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধিঃ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকারের মন্ত্রিসভায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, লালমনিরহাট জেলা বিএনপির সভাপতি এবং লালমনিরহাট-০৩ (সদর) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে তিনি শপথ গ্রহণ করেন। শপথ পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন।

পূর্ব অভিজ্ঞতা ও প্রশাসনিক ভূমিকা: আসাদুল হাবিব দুলুর সংসদীয় রাজনীতি ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা দীর্ঘদিনের। তিনি ১৯৯৬ সালে পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবার লালমনিরহাট-০৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

সে সময় উত্তরবঙ্গের মঙ্গা নিরসন ও ত্রাণ ব্যবস্থাপনায় তার সক্রিয় ভূমিকা আলোচিত হয়। এবার তিনি পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে বৃহত্তর পরিসরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, ত্রাণ কার্যক্রম ও দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব পেলেন।

শিক্ষা ও ব্যক্তিগত জীবন: ১৯৬০ সালের ০৪ জুলাই জন্মগ্রহণ করেন আসাদুল হাবিব দুলু। বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ আবুল কাশেম মিঞা ও প্রয়াত হাবিবা খাতুনের সন্তান তিনি। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত, তার সহধর্মিণী লায়লা হাবিব। তাদের দুই পুত্র আহনাফ হাবিব ইনতিসার ও আহমিক হাবিব ইয়ারদান।

শিক্ষাজীবন শুরু করেন আমবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। পরে রংপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন। উচ্চ মাধ্যমিক ও অর্থনীতিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন কারমাইকেল কলেজ থেকে এবং অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।

রাজনৈতিক পথচলা: ১৯৭৬ সালে ছাত্র রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে তার রাজনৈতিক জীবন শুরু। ১৯৮৬ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এর নেতৃত্বে বিএনপিতে যোগ দেন। একই বছর লালমনিরহাট সদর উপজেলার বড়বাড়ী ইউনিয়নে শহীদ আবুল কাশেম মহাবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন এবং অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৯০ সালে লালমনিরহাট সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালে লালমনিরহাট জেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হয়ে অদ্যাবধি দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বর্তমানে তিনি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক। এছাড়াও তিনি তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলন “জাগো বাহে তিস্তা বাঁচাই”-এর প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লালমনিরহাট-০৩ (সদর) আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে এবার মন্ত্রিসভায় স্থান পেলেন তিনি।

দলীয় নেতাকর্মীদের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় পূর্বের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে তিনি কার্যকর ভূমিকা রাখবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। আসাদুল হাবিব দুলু মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়ায় লালমনিরহাট জেলায় আনন্দের জোয়ার বয়ে যাচ্ছে।




সন্ধ্যায় চরমোনাই পীরের বাসায় যাবেন তারেক রহমান

ডেস্ক নিউজঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান আজ সোমবার সন্ধ্যায় মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম (পীর চরমোনাই)-এর বাসায় যাবেন।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’র এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আজ সন্ধ্যা ৭টায় রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী রোডে অবস্থিত চরমোনাই পীরের বাসায় যাবেন তারেক রহমান।

এর আগে, গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় জামায়াতে ইসলামির আমির ডা. শফিকুর রহমান ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বাসায় যান বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।




জামায়াতের এমপিরা ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি ও সরকারি প্লট নেবেন না: শিশির মনির

ডেস্ক নিউজঃ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির জানিয়েছেন, জামায়াতের নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি ও সরকারি প্লট গ্রহণ করবেন না।

সোমবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ তথ্য জানান।

পোস্টে মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, ‘পূর্বঘোষণা অনুযায়ী আমাদের এমপি মহোদয়গণ ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি এবং সরকারি প্লট গ্রহণ করবেন না, ইনশাআল্লাহ।’

নির্বাচনের আগে ২০২৫ সালের ৭ নভেম্বর সিলেট নগরের একটি কনভেনশন হলে মহানগর জামায়াত আয়োজিত সুধী সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. আমির শফিকুর রহমান ঘোষণা দেন, আগামীতে আমাদের একজনও যদি এমপি নির্বাচিত হন, তাদের কেউ সরকারি প্লট নেবেন না ও বিনা ট্যাক্সের গাড়িতে চলবেন না।




কেন্দ্রীয় সমন্বয় বোর্ডের সিদ্ধান্তে খালেদা জিয়া পরিষদের ২০২৬–২৮ আংশিক কার্যনির্বাহী পরিষদ ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ খালেদা জিয়া পরিষদ দলের কেন্দ্রীয় আংশিক কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিগত রবিবার (০২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ খ্রিঃ ) কেন্দ্রীয় সমন্বয় বোর্ড সংগঠনের সাংগঠনিক গঠনতন্ত্রের অনুচ্ছেদ ২,৩ ও ৪ এর স্ব-পদ কার্যবিবরণী অনুসারে অনুচ্ছেদ-২০ এর ক্ষমতা বলে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদ সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ-১৪ অনুযায়ী পরিষদের সকল শর্তা পূরণ সাপেক্ষে কেন্দ্রীয় সমন্বয় বোর্ডের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ০৪(চার) সদস্য বিশিষ্ট খালেদা জিয়া পরিষদ দলের এ কমিটি অনুমোদন করেন।

উক্ত কমিটিতে সভাপতি হিসেবে দায়িত্বে আছেন জনাব মোঃ মাসুদুর রহমান মোল্লা, সাধারন সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে আছেন জনাব কাজী আব্দুল্লাহ আল মামুন, আইন সম্পাদক (সহ সভাপতি পদ-মর্যাদায়) দায়িত্বে আছেন এ্যাভঃ আহসান হাবিব এবং দপ্তর সম্পাদকের দায়িত্বে আছেন জনাব মোঃ আরিফ হোসেন মিলন।

আংশিক কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদ ২০২৬-২৮ খ্রিঃ এর পর্যায়ক্রমিক আংশিক প্যানেল হিসেবে ২০ জনকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত এবং মনোনীত করা হবে।




“লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই, তবুও লড়ছি”—নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে জি এম কাদেরের খোলামেলা বক্তব্য

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সারা দেশে এখন ভোটের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ (জি এম) কাদের নির্বাচনি পরিবেশ, দলীয় অবস্থান, পোস্টাল ব্যালট ও গণভোট নিয়ে নিজের মতামত তুলে ধরেছেন।

জি এম কাদের বলেন, রংপুর এলাকায় তারা মোটামুটি স্বাভাবিকভাবে প্রচার চালাতে পারছেন এবং সদর আসনে আপাতত বড় কোনো বাধা দেখছেন না। তবে বগুড়ায় তাদের এক প্রার্থী নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তার দাবি, ওই প্রার্থীর বিরুদ্ধে থাকা একাধিক মামলাকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের মধ্যে ভয়ভীতি তৈরি হয়েছিল। অনেক কর্মীকে নাকি পরোক্ষভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল—যেকোনো সময় গ্রেপ্তার করা হতে পারে। জি এম কাদের অভিযোগ করেন, বর্তমানে গ্রেপ্তারের পর সহজে জামিন পাওয়া যায় না, বছরের পর বছর কারাগারে থাকতে হয়। এমনকি জামিন পেলেও আবার নতুন মামলা দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। এসব কারণে কর্মীরা আতঙ্কিত, যা সুষ্ঠু প্রতিযোগিতার পরিবেশ নষ্ট করছে বলে তার বক্তব্য।

তিনি আরও বলেন, দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হওয়ায় নিরপেক্ষতা নিয়ে তাদের সন্দেহ আছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি দল এনসিপি সক্রিয় রয়েছে এবং জামায়াত অনেক ক্ষেত্রে তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। এই পরিস্থিতিতে সরকার ও সরকারি দলের প্রভাবমুক্ত নির্বাচন সম্ভব কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। অতীতে দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়নি বলেও মন্তব্য করেন জি এম কাদের।

জাতীয় পার্টি এবার কোনো জোটে না গিয়ে এককভাবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অতীতে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ—দুই বড় দলই নানা কৌশলে জাতীয় পার্টিকে দুর্বল করেছে বলে তাদের অভিযোগ। মামলা, রাজনৈতিক চাপ, বাধা ও দমন-পীড়নের মাধ্যমে দলকে কোণঠাসা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে এবার প্রতিকূলতার মধ্যেও তারা জনগণের কাছে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কারভাবে তুলে ধরছেন। বিশেষ করে নির্যাতিত, বঞ্চিত ও বৈষম্যের শিকার মানুষের কণ্ঠস্বর হিসেবে জাতীয় পার্টিকে মানুষ গ্রহণ করছে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আসনসংখ্যা নিয়ে সরাসরি কিছু বলতে না চাইলেও জি এম কাদের জানান, এবার তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই তাদের মূল লক্ষ্য। শুধু শীর্ষ নেতৃত্ব নয়, গোড়া থেকে সংগঠন শক্তিশালী করতেই তারা এককভাবে নির্বাচনে লড়ছেন। ফলাফল যাই হোক, এই নির্বাচনের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান যাচাই করতে চান তারা।

পোস্টাল ব্যালট নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন জি এম কাদের। তার দাবি, এ ব্যবস্থায় কারচুপি বা ফলাফল প্রভাবিত করার সুযোগ রয়েছে। নির্বাচন কমিশনে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন তাদের বিশেষজ্ঞরা এবং সম্ভাব্য অনিয়মের বিষয়ে তাকে অবহিত করেছেন। তিনি জানান, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখার জন্য বিএনপিকেও অবহিত করেছেন।

গণভোট প্রসঙ্গে জাতীয় পার্টির অবস্থান ‘না’-এর পক্ষে। জি এম কাদেরের ভাষ্য, এই গণভোটের উদ্দেশ্য ও প্রক্রিয়া স্বচ্ছ নয়। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, ‘না’ ভোট জয়ী না হলে দেশের স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার ও স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়তে পারে। তার মতে, এ মুহূর্তে গণভোটের প্রয়োজনীয়তা নেই এবং এটি দেশের জন্য অস্থিরতা ডেকে আনতে পারে।




নির্বাচিত হলে ঢাকা শহরে ৪০টি আধুনিক খেলার মাঠ নির্মাণ করবেন: তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাজধানী ঢাকা শহরে অন্তত ৪০টি খেলার মাঠ নির্মাণ করবে এবং নগর উন্নয়ন ব্যবস্থা ঢেলে সাজাবে, এমন একটি বহুমাত্রিক প্রতিশ্রুতিসহ নির্বাচনী ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী তারেক রহমান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার অংশ হিসেবে গতকাল রোববার  মিরপুরের ইসিবি চত্বরে আয়োজিত নির্বাচনী পথসভায় নির্বাচিত হলে ঢাকা শহরে ৪০টি আধুনিক খেলার মাঠ নির্মাণ করবেন। তারেক রহমান প্রতিশ্রুতি দিলেন উন্নত নগর পরিবেশ ও নাগরিক কল্যাণের স্বপ্ন নিয়ে।

তারেক রহমান বলেছেন, যদি বিএনপি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন জয়ের মাধ্যমে সরকার গঠন করতে পারে, তাহলে রাজধানীর যেকোনো এলাকা এবং নির্দিষ্ট নগর শ্রেণীর জন্য কমপক্ষে ৪০টি নতুন খেলার মাঠ নির্মাণ করা হবে। এসব মাঠ শিশু ও কিশোরদের জন্য খেলাধুলার পাশাপাশি বয়স্ক এবং নারীদের হাঁটা-চলা, ব্যায়ামের সুবিধা হিসেবে ব্যবহৃত হবে। তিনি আলোচনায় তুলে ধরেছেন যে ঢাকা শহরের দ্রুত নগরায়ন ও জনঘনত্বের কারণে খোলা স্থান ও মাঠ ক্রমেই কমে যাচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য উদ্বেগের বিষয়। নতুন পরিকল্পনার মাধ্যমে ‘স্বাস্থ্যকর ও সামাজিকতর পরিবেশ’ তৈরি করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন তিনি।

এছাড়া তারেক রহমান ইসিবি চত্বর থেকে মানিকদী-বালুঘাট হয়ে জসীমউদ্দিন পর্যন্ত মূল সড়কটিকে ৬০ ফুট পর্যন্ত প্রশস্ত করার পরিকল্পনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, স্থানীয়দের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে। এই উন্নয়ন প্রকল্প মূলত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও যানজট হ্রাসের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত। এই প্রতিশ্রুতিগুলো এসেছে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের (১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) নির্বাচনী প্রচারণার সময়, যেখানে তানিক সময়ের মধ্যে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক অঙ্গীকার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে।

তারেক রহমান একাধিক জনসভায় অংশ নিয়ে ঢাকাকে নিরাপদ ও বসবাসযোগ্য শহর করার দিকেও পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন।  মাঠ নির্মাণ সামাজিক ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ গঠনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষত শিশু ও কিশোরদের সার্বিক বিকাশে।

সড়ক সম্প্রসারণ এবং খোলা স্থানের উন্নয়ন ঘনবসতি মোকাবেলায় দীর্ঘমেয়াদি উপকারি হলেও বাস্তবায়ন বাজেট ও ভূমি ব্যবস্থাপনা নিয়ে কিছু প্রাথমিক খটকা সৃষ্টি হতে পারে। এই ধরণের প্রতিশ্রুতি সাধারণত নির্বাচনী সময় ভোটার আকৃষ্টকরণ কৌশল হিসেবেও ব্যবহৃত হয়; বিশেষত যেখানে নগর উন্নয়ন ও নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বড় ভোটব্যাঙ্ক আকর্ষণের বিষয়।




আমরা জনগণের সমর্থন দিয়ে সরকার গঠন করতে চাই: ঠাকুরগাঁওয়ে তারেক রহমান

মোঃ শফিকুল ইসলামঃ ঠাকুরগাঁওয়ে বিশ্ববিদ্যালয়, ক্যাডেট কলেজ, মেডিকেল কলেজ, বিমানবন্দর ও আইটি হাব করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনি জনসভায় তিনি এসব প্রতিশ্রুতি দেন।

তিনি বলেন, আমরা দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে চাই। এজন্য ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী, দিনাজপুর ও পঞ্চগড়কে শিল্পে রূপান্তর করতে চাই। আমাদের পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করতে হলে ধানের শীষে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করতে হবে।
তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে মানুষের যে অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল সেটা ভোটের মাধ্যমে ফিরিয়ে দেবে। বিগত ১৬ বছর স্বৈরাচার শুধু নিজের স্বার্থ দেখেছে। আমরা জনগণের সমর্থন দিয়ে সরকার গঠন করতে চাই। দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে চাই।
পঞ্চগড়ে চিনিকল, চা ও রেশন শিল্প চালু করা হবে। জনগণের হারিয়ে যাওয়ার অধিকার ভোগ করার সময় এসেছে।
তারেক রহমান বলেন, এই এলাকা কৃষনির্ভর। কৃষকদের পাশে যেমন দাঁড়াবো তেমনভাবে এই এলাকায় কৃষিনির্ভর শিল্প বিকশিত করবো। যাতে কর্মসংস্থান হয়। বহু যুবক আছে যারা বেকার। যুবকদের ট্রেনং দিয়ে দক্ষ শ্রমিক করতে চাই। আমরা আন্দোলন সংগ্রাম করেছি। মানুষকে সাথে নিয়ে দেশ পুনর্গঠন করতে চাই। এই কাজ করতে হলে জনগণের সহযোগীতা লাগবে।
বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, নির্বাচনী জনসভায় এক দল আরেক দলের বিপক্ষে কথা বললে জনগণের কোনও লাভ হবে না। জনগণ জানতে চায় আমরা মানুষের জন্য কি করবো। এজন্য আমরা আমাদের পরিকল্পনা তুলে ধরেছি। খালেদা জিয়া বলতেন বাংলাদেশ ছাড়া তার আর কোনও ঠিকানা নেই। বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মী বিশ্বাস করে বাংলাদেশ তাদের প্রথম এবং শেষ ঠিকানা। এজন্য আমরা জনগণের সামনে দাঁড়িয়েছি। জনগণের শক্তিতে দেশ পুনর্গঠন করতে চাই।
তিনি আরও বলেন, ২৪ সালে অভ্যুত্থান দিয়ে দেশকে রক্ষা করেছি। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় আমরা দেখিনি কে কোন ধর্মের। ২৪ এও একই। এই দেশে হাজার বছর ধরে প্রত্যেক ধর্মের মানুষ শান্তিতে বসবাস করেছে। আগামীতেও তাই হবে। ধর্ম দিয়ে কাউকে বিচার করা হবে না।