দুধ দিয়ে গোসল করে জামায়াতে যোগ দিলেন মৎস্যজীবী দল নেতা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ পটুয়াখালীর বাউফলে এক কলস দুধ দিয়ে গোসল করে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন ইউনিয়ন মৎস্যজীবী দল নেতা মো. জালাল হাওলাদার। তিনি বাউফল উপজেলার বগা ইউনিয়ন মৎস্যজীবী দলের সহ-সভাপতি ছিলেন বলে জানিয়েছেন উপজেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি মোশারফ হোসেন লিটন।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) রাত ৯টার দিকে উপজেলার বগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে পটুয়াখালী-২ আসনে দশ দলীয় ঐক্য জোটের দাড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মো. শফিকুল ইসলাম মাসুদের উঠান বৈঠকে দুধ দিয়ে গোসল করে আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে যোগ দেন তিনি।

যোগদান অনুষ্ঠানে মো. জালাল হাওলাদার বলেন, দলের নেতাদের অবহেলা ও মানসিক কষ্ট সহ্য করতে না পেরে তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তিনি বলেন, “বিগত ১৭ বছর দলের দুর্দিনে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি। ভেবেছিলাম এখন একজন অভিভাবক পাব, যার আশ্রয়ে রাজনীতি করব। কিন্তু যাকে বিএনপির মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, তিনি সে ধরনের অভিভাবক নন। তিনি আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনে ব্যস্ত। আমাদের খোঁজখবর নেন না, বরং যারা বিগত ১৭ বছর আমাদের ওপর হামলা-মামলা ও নির্যাতন চালিয়েছেন, তাঁদের সঙ্গেই চলাফেরা করছেন। এ কারণেই আমি জামায়াতে যোগ দিয়েছি। আগামী দিনে জামায়াতের পক্ষে কাজ করব।”

এ সময় বগা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সদস্য আবুল কালাম, উপজেলা যুবদলের সাবেক সদস্য এস এম আমিনুল ইসলাম, বগা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মো. জাহিদুল ইসলাম, বগা ইউনিয়ন মৎস্যজীবী দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি জামাল খান, বগা ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক ফারুক শরীফসহ প্রায় তিন শতাধিক বিএনপির নেতা-কর্মী ও সমর্থক জামায়াতে যোগ দেন।

যোগদান অনুষ্ঠানে পটুয়াখালী-২ আসনের দশ দলীয় জোটের প্রার্থী ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সেক্রেটারি নবাগতদের হাতে উপহার হিসেবে জমজম কূপের পানি ও সৌদি আরবের খেজুর তুলে দেন।

এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মো. তসলিম তালুকদার বলেন, কেউ যদি দলীয় পদ-পদবীতে থেকে শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে, তবে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি দলীয় ফোরামে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।




ময়মনসিংহের পথে তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার অংশ হিসেবে দীর্ঘ ২২ বছর পর ময়মনসিংহ সফরে যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এই সফরে তিনি ময়মনসিংহ, গাজীপুর ও রাজধানীর উত্তরার জনসভায় ভাষণ দেবেন।

তারেক রহমান গাড়ি বহর নিয়ে ময়মনসিংহের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বেলা ১১টা ৪ মিনিটে গুলশানের বাসা থেকে তিনি রওনা হন।

সফর সূচী অনুযায়ী, আজ দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে ময়মনসিংহ সার্কিট হাউজ মাঠে আয়োজিত জনসভায় তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন।

ময়মনসিংহ থেকে ফেরার পথে একই দিন সন্ধ্যা ৬টায় গাজীপুর জেলা শহরের ঐতিহাসিক রাজবাড়ী মাঠে আয়োজিত জনসভায় যোগ দেবেন তারেক রহমান। এরপর সন্ধ্যা ৭টায় রাজধানীর উত্তরার আজমপুর ঈদগাহ মাঠে স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত জনসভায় যোগ দেবেন।

কর্মসূচি শেষে তিনি গুলশানের বাসভবনে ফিরবেন বলে বিএনপির মিডিয়া উইং থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।




ফরিদপুরে কাফনের কাপড় পরে নির্বাচনী প্রচারণা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ আজ ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, সকাল দশটায়, ফরিদপুর-৪ আসন (ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসন)-এ জাতীয় পার্টি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মুফতি রায়হান জামিল রায়হান জামিল -এর নির্বাচনী প্রচারণাকালে হুমকি ও গালাগালির ঘটনার প্রতিবাদে ব্যতিক্রমধর্মী কর্মসূচি পালন করেছেন তাঁর সমর্থকরা।

চরভদ্রাসন উপজেলার ম্যাজিস্ট্রেট বাজার এলাকায় মুফতি রায়হান জামিলের নেতৃত্বে ও তাঁর সমর্থকদের অংশগ্রহণে কাফনের কাপড় পরিধান করে শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচনী প্রচারণা চালানো হয়। এ কর্মসূচির মাধ্যমে তারা নির্বাচনী পরিবেশে বাধা, ভয়ভীতি ও অশালীন আচরণের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানান।

এ সময় মুফতি রায়হান জামিল বলেন,
“নির্বাচনী প্রচারণায় হুমকি ও গালাগালি জনগণের অধিকার ও ন্যায়সংগত নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পরিপন্থী। আমরা শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চাই। জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষ ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি।”

সমর্থকরা অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি জানিয়ে বলেন, সব ধরনের ভয়ভীতি বা বাধা উপেক্ষা করেই তারা জনগণের অধিকার রক্ষায় মাঠে থাকবেন।

উল্লেখ্য, মুফতি রায়হান জামিল দীর্ঘদিন ধরে ফরিদপুর-৪ এলাকায় সমাজসেবা ও মানবিক কার্যক্রমের মাধ্যমে পরিচিত। গত ১৭ সেপ্টেম্বর ১০ টাকায় ইলিশ মাছ, ৩০ নভেম্বর ১ টাকা কেজি দরে গরুর মাংস এবং ১১ জুলাই ২ টাকা কেজি দরে চাল বিতরণের মতো উদ্যোগ নিয়ে তিনি ব্যাপক আলোচনায় আসেন। এ ছাড়া নির্বাচনী গেট ও ব্যানার ভাঙচুরের প্রতিবাদে ঝাড়ু হাতে মিছিল, পাশাপাশি গভীর রাতে দরিদ্র মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে নিজে মাথায় করে চালের বস্তা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার ঘটনাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলে।




গণভোট সংবিধানসম্মত নয়, এটি বেআইনি ও অবৈধ- জাপা চেয়ারম্যান জিএম কাদের

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রংপুর-৩ (সদর) আসনের প্রার্থী জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী ও দলটির চেয়ারম্যান জিএম কাদের গণভোট প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘এটা নিয়ে পার্লামেন্টে কথা হবে। পার্লামেন্টের বাইরে কথা হবে, চায়ের দোকানে কথা হবে ইউটিউবে কথা হবে। তখন মানুষ বুঝবে, এখানে এই জিনিসটা ভালো, এই জিনিসটা খারাপ– আমি হ্যাঁ ভোট দেবো, না “না” ভোট দেবো। আপনারা কেন আগে থেকে বলছেন– যেখানে মানুষকে আপনি সবগুলো জিনিস বুঝিয়ে দিচ্ছেন না। এবং এই কাজটি যেহেতু সংবিধানসম্মত নয়, এই জন্য আমি মনে করি এই গণভোট বেআইনি ও অবৈধ।’

শনিবার বিকালে রংপুর নগরীর পায়রা চত্বর গ্রান্ড হোটেল মোড় এলাকায় গণসংযোগ করে লিফলেট বিতরণের সময় সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় বিপুলসংখ্যক দলীয় নেতাকর্মী তার সঙ্গে ছিলেন।

জিএম কাদের গণভোট প্রসঙ্গে আরও বলেন, ‘এখন বলা হচ্ছে, যারা “না” ভোটের পক্ষে বলছেন তারা স্বৈরাচারের দোসর। আমি বলতে চাই, যারা “হ্যাঁ” ভোটের পক্ষে বলছেন তারা নাৎসিবাদের দোসর। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী “হ্যাঁ” ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন, এটা বেআইনি। এ জন্য যে সরকারি অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে সেটাও বেআইনি এবং অবৈধ।’

এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় কালে জিএম কাদের বলেন, ‘আমি রংপুরের সন্তান আমাকে রংপুরের জনগণ বিপুল ভোটে লাঙ্গল মার্কায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবে।’ তিনি সমবেত জনতাকে আবারও ভোট দিয়ে জয়ী করার আহ্বান জানান।

শনিবার বিকাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান। তিনি রংপুর নগরীর বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করে লিফলেট বিতরণ করে লাঙ্গল প্রতীকে ভোট চান।

বিকালে রংপুর নগরীর সেন্ট্রাল রোড এলাকায় জেলা ও মহানগর জাতীয় পার্টি কার্যালয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন জিএম কাদের। এ সময় তিনি নেতাকর্মীদের নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ এবং লাঙ্গল মার্কার পক্ষে ব্যাপকভাবে গণসংযোগ করার আহ্বান জানান।

এ সময় মহানগর জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক এসএম ইয়াসিরসহ জাতীয় পার্টির জেলা ও মহানগর নেতৃবৃন্দ তার সঙ্গে ছিলেন।




‘মব আর নির্বাচন একসঙ্গে চলতে পারে না’: ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ গাইবান্ধা-৫ (সাঘাটা–ফুলছড়ি) আসনে জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী ও দলটির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেছেন, তফসিল ঘোষণার পর যদি কোথাও ‘মব পরিস্থিতি’ তৈরি হয়, তবে তা রাষ্ট্রীয় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের স্পষ্ট দুর্বলতারই বহিঃপ্রকাশ। তিনি বলেন, ‘মব আর নির্বাচন একসঙ্গে চলতে পারে না।’

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেলে ফুলছড়ি উপজেলা প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, জাতীয় পার্টি একটি মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের রাজনৈতিক দল, যারা সবসময় দেশের সাধারণ মানুষের পক্ষে কথা বলে। তিনি বলেন, ‘দেশ আজ দুই ভাগে বিভক্ত—একটি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে, আরেকটি বিপক্ষে। তিনি আরও বলেন, দেশে বর্তমানে নির্বাচনের প্রকৃত আমেজ নেই, মানুষের মুখে হাসিও দেখা যাচ্ছে না। জনসংখ্যার একটি বড় অংশকে বাদ দিয়ে নির্বাচন আয়োজন করলে দ্বিধা ও দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়, যার উদাহরণ ২০১৪ সালের নির্বাচন। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘২০১৪ সালের তুলনায় এবারের নির্বাচন তুলনামূলকভাবে ভালো হবে।’

সাংবাদিকদের উদ্দেশে জাতীয় পার্টির মহাসচিব বলেন, তার উন্নয়ন ভাবনা ও সৃষ্টিশীল কর্মকাণ্ড জনগণের সামনে তুলে ধরতে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি নির্বাচিত হলে চরাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নে ‘চরাঞ্চল ফাউন্ডেশন’ গঠন এবং বহুল আলোচিত বালাশী–বাহাদুরাবাদ সেতু নির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা রাখার প্রতিশ্রুতি দেন। মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন গাইবান্ধা জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি সরোয়ার হোসেন শাহীন, সাংগঠনিক সম্পাদক আনোরুল ইসলাম লেবু, জেলা যুব সংহতির সভাপতি একেএম নুরুন্নবী সরকার মিথুন, ফুলছড়ি উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি শফিউল ইসলাম চাঁন, সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া সবুজসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। এর আগে ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী লাঙ্গল প্রতীকে ভোট চেয়ে ফুলছড়ি হাটে গণসংযোগ করেন এবং উপজেলা হেলিপ্যাড মাঠে আয়োজিত এক কর্মীসভায় যোগ দেন।




চাঁদাবাজদের ভালো পথে ফিরে আসতে অনুরোধ করলেন জামায়াত আমির

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ চাঁদাবাজিতে যুক্তদের ভালো পথে ফিরে আসার অনুরোধ জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, চাঁদাবাজি ভিক্ষার চেয়েও নিকৃষ্ট। আমরা ইনশাআল্লাহ কারো মায়ের সন্তানকে চাঁদাবাজি করতে দেব না।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে ঢাকা ৪ ও ৫ আসনের নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আজকের জনসভা থেকে যারা এই পেশায় (চাঁদাবাজিতে) যুক্ত তাদেরকে অনুরোধ করবো ভালো পথে ফিরে আসুন। আমরা আপনাদের হালাল রুজির জন্য জায়গা করে দেব, ইনশাল্লাহ।’

তিনি বলেন, ‘এই দেশে নতুন একটি পেশা এখন ভালো চলছে। এই পেশার নাম কি আপনারা বলতে পারবেন? কি নাম? চাঁদাবাজি।’

উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আপনারা কেউ চাঁদাবাজের ভাই হতে রাজি আছেন? পিতা হতে রাজি আছেন? সন্তান হতে রাজি আছেন? কেউ চাঁদাবা্জের স্ত্রী হতে রাজি আছেন? মা হতে রাজি আছেন? বোন হতে রাজি আছেন? নাই।’

জামায়াত আমির বলেন, ‘কিন্তু যদি এ পথ বাদ না দেন আমরা একদম সাফ জানিয়ে দিচ্ছি, আমাদের পক্ষ থেকে কমপ্লিট লালকার্ড। এই চাঁদা আমরাতো করার প্রশ্নই উঠে না, চাঁদাকে আমরা ঘৃণা করি। এটা ভিক্ষার চেয়েও নিকৃষ্ট। আমরা ইনশাআল্লাহ কারো মায়ের সন্তানকে চাঁদাবাজি করতে দেব না। কথা একদম সাফ। এখানে কোনো রাগডাক নাই।’




চট্টগ্রামে বিএনপির নির্বাচনী সমাবেশ শুরু, মঞ্চে তারেক রহমান

ডেস্ক নিউজঃ চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে নির্বাচনি মহাসমাবেশ শুরু হয়েছে। রবিবার কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে বেলা ১২টা ১৪ মিনিটে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান মঞ্চে ওঠেন। সে সময় মুহুমুর্হু করতালিতে পুরো সমাবেশস্থল মুখরিত হয়ে উঠে।

হাস্যজ্জ্বল বিএনপি চেয়ারম্যানও হাত নেড়ে নেতা-কর্মী-সমর্থকদের শুভেচ্ছার জবাব দেন। এটি তারেকের নির্বাচনি প্রচার দ্বিতীয় পর্ব; গত ২২ জানুয়ারি সিলেট থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু করেন বিএনপি চেয়ারম্যান।

২০০৫ সালের ৬ মে চট্টগ্রামের লালদীঘি মাঠে সর্বশেষ জনসভা করেছিলেন তারেক রহমান। সে সময় তিনি ছিলেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব। এবার দলের চেয়ারম্যান হিসেবে চট্টগ্রাম সফরে এসেছেন তিনি।

তবে পলোগ্রাউন্ড মাঠে তারেক রহমানের এটি প্রথম সমাবেশ। এর আগে ২০১২ সালের ৯ জানুয়ারি চট্টগ্রাম নগরীর সবচেয়ে বড় এ মাঠে তার মা বেগম খালেদা জিয়ার জনসভা হয়েছিল।

জনসভা ঘিরে ভোর থেকে চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ড, উপজেলা, কক্সবাজার ও তিন পার্বত্য জেলা থেকে ব্যানার ফেস্টুন, রঙ বেরঙের পোশাক পরে মিছিল নিয়ে লোকজন আসতে শুরু করে সমাবেশস্থলে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পলোগ্রাউন্ড মাঠ পূর্ণ হয়ে যায়।

এ সমাবেশে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, পাবর্ত্য চট্টগ্রামের সংসদীয় আসনের বিএনপির প্রার্থীরা উপস্থিত রয়েছেন।

পলোগ্রাউন্ডের সমাবেশে যোগ দেয়ার আগে নগরীর র‌্যাডিসন ব্লু বে ভিউ হোটেলের মেজবান হলে ‘ইয়ুথ পলিসি টক উইথ তারেক রহমান’ শিরোনমারে আয়োজনে তরুণদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন তারেক। চট্টগ্রাম ও আশেপাশের ৫০টি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের ৩৪০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী অংশ নেন এই ইয়ুথ পলিসি টকে। সেখানে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন তারেক রহমান।

যুক্তরাজ্যে দেড় দশকের নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। সেদিন দেশের মাটিতে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান।’

চট্টগ্রামের বিএনপি নেতারা আশা করছেন, তাদের দলীয় প্রধান চট্টগ্রামবাসীকে তার সেই ‘প্ল্যান’ শোনাবেন।

চট্টগ্রামের সমাবেশ শেষে তারেক রহমান বিকাল ৪টায় ফেনী পাইলট স্কুল মাঠে, সাড়ে ৫টায় কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম হাই স্কুল মাঠে, সন্ধ্যা ৭টায় সোয়াগাজী ডিগবাজির মাঠে, সাড়ে ৭টায় দাউদকান্দি ঈদগাঁ মাঠে এবং রাত সাড়ে ১১টায় কাঁচপুর বালুরমাঠে নির্বাচনি সমাবেশে বক্তব্য দেবেন তারেক রহমান।




ভাইয়া ডাকলে ভালো লাগবে: তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ নির্বাচনি প্রচারের অংশ হিসেবে চট্টগ্রামে তরুণদের সঙ্গে আলোচনায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাকে ‘স্যার’ না ডেকে ‘ভাইয়া’ ডাকার পরামর্শ দিলেন।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) সকালে চট্টগ্রামের র‌্যাডিসন ব্লু বে ভিউ হোটেলের মেজবান হলে ‘ইয়ুথ পলিসি টক উইথ তারেক রহমান’ শুরু হয়।

অনুষ্ঠানের সূচনা বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, ‘এ মুহূর্তে অ্যাডভান্টেজ হল, আমাদের ইয়ুথ ফোর্স অনেক বেশি, যা আগামী ১৫-২০ বছর থাকবে। এই ওয়ার্ক ফোর্সের সুবিধা আমরা পাব। বাংলাদেশকে আমরা কীভাবে আগামী দিনে সাজাতে চাই সেটা বলব।

বললে অনেক কথা বলতে পারি, এ খারাপ ও খারাপ। কিন্তু তাতে সমাধান আসবে না। অনেক সমস্যা আছে সেগুলো নিরসনে কিছু প্ল্যান গ্রহণ করেছি। ভবিষ্যতে আপনারা যারা দেশকে পরিচালনা করবেন তারা কীভাবে দেশকে পরিচালনা করবেন তা শুনতে চাই।’

এরপর প্রশ্ন করার সুযোগ দেওয়া হলে একজন তরুণী মাইক নিয়ে বলেন, ‘আসসালামুআলাইকুম স্যার, আমি তাসনুভা তাসরিন। আমি পড়াশুনা করছি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের চতুর্থ বর্ষে।’

এসময় তারেক রহমান বলেন, ‘একটু পজ দিই। আপনি, আপনারা যারা প্রশ্ন করবেন, হয় আমাকে ভাইয়া বলতে পারেন, অথবা আমাকে…।’

তাসনুভা এ সময় বলে ওঠেন, ‘থ্যাংক ইউ স্যার।’

এরপর তারেক রহমান তার অসম্পূর্ণ বাক্য শেষ করেন। তিনি বলেন, ‘বয়সের হিসেবে আঙ্কেল ডাকতে পারেন। তবে আঙ্কেল ডাকটা শুনতে খুব একটা পছন্দ করব না। ভাইয়া বললে ভালো লাগবে।’

এরপর ‘আচ্ছা ধন্যবাদ, আচ্ছা ভাইয়া’ বলে প্রশ্ন শুরু করেন তাসনুভা।

তিনি বলেন, ২০২০ সালে মহামারীর মধ্যে তারা মাশুরমের ব্যবসা শুরু করেছিলেন। কিন্তু পুঁজির সংকটে বেশিদিন চালাতে পারেননি।

জামানত দেওয়ার নিয়মের কারণে তরুণ উদ্যোক্তারা ঋণ নিতে গিয়ে যে জটিলতায় পড়েন, সে কথা তুলে ধরে তাসনুভা বলেন, বিএনপি নির্বাচিত হলে ভবিষ্যতে উদ্যোক্তাদের সহায়তায় কী পদক্ষেপ নেবে।

জবাবে তারেক রহমান বলেন, দেশে ব্যাংকঋণের ক্ষেত্রে অনেক জটিলতা আছে। নির্বাচিত হলে আইন সংশোধন করে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সহায়তা করার পরিকল্পনা তাদের আছে।

পাশাপাশি যারা পড়ালেখা করতে বিদেশে যেতে চায়, তাদের জন্য ‘স্টুডেন্ট লোন’ দেওয়া যায় কিনা সে ভাবনা আছে বলেও তারেক রহমান জানান।

এরপর চট্টগ্রাম মা ও শিশু মেডিকেল কলেজের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ মোহাম্মদ রাফসান প্রশ্ন করতে উঠে জানতে চান, ‘আপনি কেমন আছেন?’

উত্তরে তারেক রহমান বলেন, ‘একটু হালকা জ্বর আছে।’

এরপর আবদুল্লাহ মোহাম্মদ রাফসান জলাবদ্ধতা সংকট, উন্নয়ন ও পরিবেশ সুরক্ষা সমন্বয় এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে বিএনপির পরিকল্পনা জানতে চান।

জবাবে তারেক রহমান বলেন, ‘চট্টগ্রাম ঢাকাসহ সব বড় শহরে জলাবদ্ধতা আছে। এটা কাটাতে একটা কাজ করতে হবে তা হলো খাল খনন। বৃষ্টি হলে পানি জমে যায়। পানিগুলো তো কোথাও যেতে হবে। তাই দরকার খাল খনন। সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমমিটার খাল আমরা খনন করব।’

চট্টগ্রাম ও আশেপাশের ৫০টি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের ৩৪০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী অংশ নেন এই ইয়ুথ পলিসি টকে।

দীর্ঘ দুই দশক পর চট্টগ্রামে এলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। নগরীর পলোগ্রাউন্ড মাঠে নির্বাচনি সমাবেশে যোগ দেবেন তিনি।

এ উপলক্ষে ভোর থেকেই পলোগ্রাউন্ডে নেতাকর্মীদের ঢল নেমেছে। চট্টগ্রাম জেলার নানা প্রান্ত থেকে মানুষ জড়ো হয়েছে তারেক রহমানের বক্তব্য শুনতে।

চট্টগ্রামের সমাবেশ শেষে তারেক রহমান বিকাল সাড়ে ৪টায় ফেনী পাইলট স্কুল মাঠে, সাড়ে ৫টায় কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম হাই স্কুল মাঠে, সন্ধ্যা ৭টায় সোনাগাজী, সাড়ে ৭টায় দাউদকান্দি ঈদগাঁ মাঠে এবং রাত মাড়ে ১১টায় কাঁচপুর বালুরমাঠে নির্বাচনি সমাবেশে বক্তব্য দেবেন।




ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সরকারের সুবিধাগুলোকে এক জায়গায় আনতে চাই: তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সরকারের সুবিধাগুলোকে এক জায়গায় আনতে চান বলে জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বুধবার (২৪ জানুয়ারি) রাজধানীর গুলশানে বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ পার্কে ‘আমার ভাবনায় বাংলাদেশ’ জাতীয় রিল-মেকিং প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের নিয়ে ‘মিট অ‍্যান্ড গ্রিট উইথ তারেক রহমান’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তারেক রহমান বলেন, সরকারের অনেক প্রজেক্ট চালু আছে। কিন্তু সংগঠিত না। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে এই সুবিধাগুলো আমরা এক জায়গায় আনতে চাই। জনসংখ্যা বাড়ছে, প্রডাকশন বাড়াতে হবে। তৈরিকারকের সঙ্গে ক্রেতার মাঝে বিভিন্ন জন কাজ করেন। এটি স্বাভাবিক নিয়ম। কিন্তু অনৈতিকভাবে কেউ লাভ করতে চাইলে সেটি ঠেকাতে হবে। এছাড়া যোগাযোগ ব্যবস্থা খারাপ হওয়ায়ও দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়ে অনেক সময়। কৃষককে প্রণোদনা দেয়ার পাশাপাশি এ বিষয়গুলো খেয়াল রাখতে হবে।

তারেক রহমান বলেন, যেই পরিকল্পনাই করি না কেনো, সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। দুর্নীতি রোধ করতে হবে। এগুলো ঠিক করা গেলে অন্য বিষয়গুলো ঠিক হয়ে যাবে।

মব জাস্টিজ নিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে তারেক বলেন, শুধু অবকাঠামো নির্মাণ নয়, শিক্ষকদের যোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে। বাচ্চাদেরকে সঠিক শিক্ষা দিতে হবে। ছোটবেলা থেকেই সামাজিক মূল্যবোধের শিক্ষা দিতে হবে।

পড়ালেখাকে ফান হিসেবে আনতে হবে উল্লেখ করে তারেক বলেন, পড়ালেখা সহজ করতে হবে। যাতে বাচ্চারা আগ্রহী হয়। শিক্ষা ব্যবস্থাকে সাজাতে চাই। শুধু একাডেমিক পড়াশোনা নয়, খেলাধুলাকেও শিক্ষায় যুক্ত করবো। খেলাধুলাতেও পাস করতে হবে। আর্ট এন্ড কালচার অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তাহলে ইন্টারনেট ব্রাউজ করা থেকে ঠেকানো যাবে। এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে নিয়ে আলাদা টিম করে কাজ করবো আমরা।

নগরের ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে বলেন, রোড ডিজাইনিং, পাবলিক ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম এবং চাকরি; সবকিছু ঢাকা কেন্দ্রীক গড়ে উঠায় ট্রাফিক জ্যাম বাড়ছে। ঢাকার বাইরে স্যাটেলাইট টাউন গড়ে তুলবো। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের সুবিধা সেখানে থাকবে। প্ল্যানিং চলছে এ বিষয়ে।

তিনি বলেন, ফ্লাইওভারে হয়েছে, মেট্রোরেল দেখছি। মেট্রোরেল কস্টলি, জায়গা বেশি নেয়। এক্ষেত্রে মনোরেল সুবিধা। ছোট ছোট বগি এবং মেট্রোর সঙ্গে ঢাকার সব জায়গায় এটিকে কানেক্ট করা যায়।

প্রবাসীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অদক্ষ অবস্থায় বিদেশ যাচ্ছেন তরুণরা। তাদেরকে দক্ষ করে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছি। প্রবাসীরা সঠিক চ্যানেলে রেমিটেন্স পাঠালে তাদের জন্য প্রণোদনা রাখতে পারি।

আরেক প্রশ্নের জবাবে তারেক বলেন, মাকে মিস করছি। কিন্তু রাত ৫টার সময়ও যখন দেখি মানুষ দাঁড়িয়ে আছে, তখন আর ক্লান্তি থাকে না।




সরস্বতী পূজা উপলক্ষে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানালেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বিদ্যা, বুদ্ধি ও সৃজনশীলতার দেবী মা সরস্বতীর পবিত্র পূজা উপলক্ষে দেশের হিন্দু ধর্মাবলম্বী জনগণ এবং শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সংস্কৃতিকর্মীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের।

এক শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে দেশ এক গভীর রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকট অতিক্রম করছে। এই সংকট উত্তরণে জ্ঞান, যুক্তিবোধ, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চা অত্যন্ত জরুরি। মা সরস্বতী সেই আলোকিত চেতনার প্রতীক, যা অজ্ঞতা, বিভ্রান্তি ও অসহিষ্ণুতার বিপরীতে সত্য ও বিবেকের পথ দেখায়।

তিনি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গড়তে হলে শিক্ষাকে মুক্ত চিন্তা, সৃজনশীলতা ও মানবিক চর্চার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষাঙ্গনে সহনশীলতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সাংস্কৃতিক বিকাশ নিশ্চিত না হলে জাতির ভবিষ্যৎ নিরাপদ হয় না।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এ সময় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ধর্মীয় সহাবস্থানের প্রশ্নে দলের প্রতিষ্ঠাতা পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের দূরদর্শী রাষ্ট্রচিন্তা ও ঐতিহাসিক অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, পল্লীবন্ধু এরশাদ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন—ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। সেই দর্শন থেকেই তিনি বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মর্যাদা ও অধিকার রক্ষায় কার্যকর ও যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, পল্লীবন্ধু এরশাদের নেতৃত্বেই ঢাকেশ্বরী মন্দির জাতীয় মন্দিরের মর্যাদা লাভ করে; পুরোহিত ও শ্মশান ঠাকুরদের জন্য পৌরসভা কর্তৃক ভাতা প্রদানের ব্যবস্থা চালু হয়; হিন্দু, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধ কল্যাণ ট্রাস্ট গঠনের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। একই সঙ্গে কালী পূজায় সরকারি ছুটি ঘোষণা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরস্বতী পূজা আয়োজনের সুযোগ সৃষ্টি এবং সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ ও পানি বিল মওকুফের মতো সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তিনি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে রাষ্ট্রীয় নীতির অংশে পরিণত করেছিলেন।

জি এম কাদের বলেন, জাতীয় পার্টি পল্লীবন্ধু এরশাদের সেই মানবিক, অসাম্প্রদায়িক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্রদর্শনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

তিনি দেশবাসীর শান্তি, নিরাপত্তা ও সার্বিক কল্যাণ কামনা করে বলেন, মা সরস্বতীর আশীর্বাদে অজ্ঞতার অন্ধকার দূর হয়ে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত হোক ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র।