রাজনীতিতে দয়া করে মিথ্যা কথা বলবেন না: মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বিএনপি সব সময় কাজে বিশ্বাসী, সমালোচনার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না বলে মন্তব্য করেছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। 

তিনি বলেন, বর্তমানে একটি দল রাজনীতিতে সামনে আসছে—যাদের আমরা আগে কখনো দেখিনি। আমাদের সঙ্গেই ছিল, একসাথে চলেছে, এখন নির্বাচনে অংশ নিতে আসছে। এতে আপত্তি নেই, তবে রাজনীতিতে দয়া করে মিথ্যা কথা বলবেন না, গীবতকারীদের মতো গীবত গাইবেন না এবং অন্যের কুৎসা রটাবেন না।

তিনি বলেন, চরমোনাইসহ দেশের আলেম-ওলামারা বলেছেন জামায়াতে ইসলামী কোনো ইসলামিক দল নয়। তারা ইসলামের কথা বলে প্রতারণা করছে। জামায়াতে ইসলামী বলছে, দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে জান্নাতে যাওয়া যাবে—নাউজুবিল্লাহ। কোনো প্রকৃত মুসলমান এমন কথা বিশ্বাস করতে পারে না। মুসলমান বিশ্বাস করে আমলের ওপর; আল্লাহ তায়ালা তাকে জান্নাত দেবেন কি দেবেন না, তা আমলের ওপরই নির্ভর করে।

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, টেলিভিশন ও পত্রিকায় এসেছে—জামায়াতের আমীর সাহেব নারীদের নিয়ে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেছেন। যে দলের একজন নেতা মা-বোনদের ইজ্জত ও সম্মান করতে পারে না, তাদের সম্পর্কে কটু কথা বলে—কখনো বেহেশতে যেতে পারবে? তারা কি ভালো কাজ করতে পারবে?

বুধবার (০৪ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় ঠাকুরগাঁও-১ আসনের নির্বাচনী এলাকার নারগুণ ইউনিয়নের কিসমত দৌলতপুর দাখিল মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত এক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

পথসভায় তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ছেলে তারেক রহমান একেবারেই জিয়ার মতো হয়ে উঠেছেন। দেশে ফিরেই তারেক রহমান বলেছেন— ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’, অর্থাৎ তার একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, আগামী এক বছরের মধ্যে ১ কোটি ছেলে-মেয়ের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। মা-বোনদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড চালু করা হবে এবং সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হবে। এছাড়া যারা এনজিও থেকে ঋণ নিয়েছেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে সেই ঋণ পরিশোধের দায়িত্ব সরকার নেবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ে সর্বপ্রথম ভুট্টা চাষের সূচনা করা হয়েছে বিএনপির হাত ধরেই। কাজী ফার্মস আনার মাধ্যমে জেলায় ভুট্টা চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে, কৃষকরা উপকৃত হয়েছেন এবং বহু মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে ঠাকুরগাঁওয়ে সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

শেষে তিনি আগামী ১২ তারিখ সকালে কেন্দ্রে গিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান।




নির্বাচন সুষ্ঠু হলে জাতীয় পার্টি জিতবে: জিএম কাদের

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ আগের তুলনায় লাঙ্গলের ভোট বেড়েছে উল্লেখ করে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেছেন, আসন্ন সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে হলে জাতীয় পার্টি জিতবে।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রংপুর জাহাজ কোম্পানি মোড় এলাকায় জনসংযোগকালে তিনি এসব কথা বলেন।

জিএম কাদের বলেন, যে যাই বলুক ইতোপূর্বেও পারেনি, ভবিষ্যতেও কেউ জাতীয় পার্টির কবর রচনা করতে পারবে না। অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে কিন্তু জাতীয় পার্টিকে বাদ দিয়ে কেউ কিছু করতে পারবে না।

এ সময় জিএম কাদের বলেন, জাতীয় পার্টিকে রংপুরের মানুষ যেভাবে আগলে রেখেছে, সেভাবেই সারাজীবন আগলে রাখবে। জাতীয় পার্টি আগের চেয়ে আরও বেশি উজ্জীবিত ও সংগঠিত।




সেনা সদস্যদের সঙ্গে তর্ক: জামায়াত প্রার্থীকে এক্স-ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশনের আলটিমেটাম

ডেস্ক নিউজঃ ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় গানম্যানসহ প্রবেশের চেষ্টা এবং দায়িত্বরত সেনা সদস্যদের সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের অভিযোগে ঢাকা-১৭ আসনের জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী ডা. এস এম খালিদুজ্জামানকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার আলটিমেটাম দিয়েছে সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক সদস্যদের সংগঠন ‘এক্স-ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশন’। অন্যথায় তাকে ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় ‘পারসোনা নন গ্রেটা’ (পিএনজি) বা অবাঞ্ছিত ঘোষণা করার দাবি জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকেলে সংগঠনটির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানানো হয়।

এক্স-ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট লেফটেন্যান্ট সাইফুল্লাহ খান সাইফ (অব.) স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী ডা. খালিদুজ্জামান ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় অস্ত্রসহ প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সেনা সদস্যরা তাকে বাধা দিলে তিনি তাঁদের উদ্দেশ্যে কুরুচিপূর্ণ ও অবমাননাকর মন্তব্য করেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ ধরনের আচরণ সশস্ত্র বাহিনীর মনোবল, মর্যাদা ও রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলার ওপর সরাসরি আঘাত। রাজনৈতিক পরিচয় কাউকে সংবিধান ও আইনের ঊর্ধ্বে অবস্থান করার অধিকার দেয় না। ক্যান্টনমেন্ট কোনো রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের জায়গা নয়; এটি একটি সংবেদনশীল রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা এলাকা।

সংগঠনটি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানায়, অভিযুক্ত প্রার্থী যদি আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা না চান এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের আচরণ না করার অঙ্গীকার না করেন, তাহলে তাকে ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় ‘পারসোনা নন গ্রেটা’ ঘোষণা করার দাবি জানানো হবে। রাষ্ট্রের আইন, সামরিক বাহিনীর মর্যাদা এবং জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

এর আগে সেনা সদস্যদের সঙ্গে তর্কের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মঙ্গলবার দুপুরে ডা. খালিদুজ্জামান ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বিষয়টিকে ‘ভুল বোঝাবুঝি’ এবং ‘নিষ্পত্তি হওয়া ইস্যু’ বলে উল্লেখ করেন। তবে তার সেই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এক্স-ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে এ কঠোর বিবৃতি ও আলটিমেটাম দেওয়া হয়।




‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট দিতে হবে: তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ আসন্ন গণভোটে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

শুক্রবার রাতে রংপুরের ঐতিহাসিক কালেক্টরেট ঈদগাঁও মাঠে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

তারেক রহমান বলেন, রংপুর আবু সাঈদের পবিত্র রক্ত মেশানো মাটি। আবু সাঈদ ও ওয়াসিমসহ প্রায় ১৪০০ শহীদ যে স্বপ্ন নিয়ে জীবন উৎসর্গ করেছেন, সেই ‘জুলাই সনদ’ রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

তিনি বলেন, ৫ আগস্টের বিপ্লবে সাধারণ মানুষের যে অংশগ্রহণ ছিল, সেই ঐক্য ধরে রাখতে হবে। নিশিরাত বা ডামি নির্বাচনের দিন শেষ উল্লেখ করে তিনি জনগণকে অধিকার প্রয়োগে সজাগ থাকার আহ্বান জানান।

রংপুরের উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, রংপুরকে অনেকে গরিব অঞ্চল বললেও এটি আসলে অত্যন্ত সম্ভাবনাময় এলাকা। আমাদের লক্ষ্য রংপুরকে ঢেলে সাজানো। এখানে কৃষিজাত পণ্যের শিল্পকারখানা গড়ে তোলা হবে এবং ব্যবসায়ীদের বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে, যাতে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। এ ছাড়া স্থানীয় আইটি প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দিষ্ট মেয়াদে কর ছাড় দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে আমাদের।

কৃষক ও নারীদের কল্যাণে দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফ করা হবে এবং তাদের হাতে কৃষি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। অন্তত এক ফসলের বীজ ও কীটনাশক বিনামূল্যে দেওয়া হবে। এ ছাড়া ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর মাধ্যমে নারীদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও অধিকার নিশ্চিত করা হবে।

উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, আমরা আমাদের পরিকল্পনা জানালাম, এখন আপনাদের পরিকল্পনা কী? জবাবে জনতা ‘ধানের শীষ’ বলে স্লোগান দিলে তিনি সবাইকে ফজরের নামাজ পড়েই ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান।




কাল রংপুরে যাচ্ছেন তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ নির্বাচনী জনসভায় অংশ নিতে আগামীকাল বিভাগীয় শহর রংপুরে যাচ্ছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার আগমন ঘিরে পুরো বিভাগজুড়ে বিরাজ করছে সাজ সাজ রব। সেই সাথে জমে উঠেছে নির্বাচনী প্রচারণা।

সমাবেশকে সফল করতে এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে বিভক্তি ভুলে এক হয়ে কাজ করছেন নেতাকর্মীরা।যারা মনোনয়ন পাননি, তারাও অভিমান ভুলে এক কাতারে দাঁড়িয়ে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ৩০ জানুয়ারি শুক্রবার বিকেল ৪টায় তারেক রহমান রংপুরের পীরগঞ্জে জুলাই বিপ্লবে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করবেন। এরপর বিকেল সাড়ে ৪টায় কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে জনসভায় বক্তব্য রাখবেন বিএনপি চেয়ারম্যান।

রংপুরে ৬টি  নির্বাচনী  আসন রয়েছে। বিএনপির মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার আগে প্রতিটি আসনে চার থেকে পাঁচজন মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। চূড়ান্ত মনোনয়নের পরে যারা মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েছেন তাদের অনেকের মাঝে কিছুটা মান-অভিমান দেখা গিয়েছিল।

প্রচার প্রচারণায়  অংশ না নেয়ায় বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের একাধিক নেতাকে শোকজ করা হয়েছিল। তবে তারকে রহমানের আগমনের কারণে অভিমান ভুলে প্রচারণায় নেমেছেন নেতাকর্মীরা। বিএনপি এবং অঙ্গ সংগঠনের সকল নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। তারা ধানের শীষ প্রতীককে বিজয়ী  করতে জনগণের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন।

বিএনপির একাধিক নেতা বলেন, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আগমন রংপুর বিএনপির সকল ভেদাভেদ ভুলিয়ে দিয়েছে। সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করছেন। তারেক রহমানের সফর রংপুর বিভাগের ৩৩ আসনে বিএনপির প্রার্থীকে বিজয়ী করতে কার্যকর ভূমিকা পালন করবেন।

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসনের প্রার্থী সাইফুল ইসলাম বলেন, সমাবেশকে সফল করতে সব ধরনের প্রস্তুতি চলছে। আর রংপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ব ও রংপুর-৩ আসনের (সদর ও আংশিক সিটি) সামসুজ্জামান সামু বলেন, দলের প্রধানের রংপুর আগমন ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ও উদ্দীপনা কাজ করছে। নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।




একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হতে হলে সব রাজনৈতিক দলকে সমান সুযোগ দিতে হবে- জি এম কাদের

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও রংপুর-৩ আসনের লাঙল প্রতীকের প্রার্থী জি এম কাদের বলেছেন, সরকার একটি বিশেষ দলকে নির্বাচনী সুযোগ-সুবিধা দিতে পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে। যার ফলে এখন পর্যন্ত নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত হয়নি। বরং জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের ভোটের মাঠে নানাভাবে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। এসব বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ নির্বাক ভূমিকা পালন করছে।

রবিবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে রংপুর নগরীর স্কাইভিউ বাসভবনে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

জি এম কাদের বলেন, ‘একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হতে হলে সব রাজনৈতিক দলকে সমান সুযোগ দিতে হবে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে—একটি বিশেষ দলকে সুবিধা দিতে গিয়ে অন্য দলগুলোকে পরিকল্পিতভাবে চাপে রাখা হচ্ছে। এ অবস্থায় নির্বাচন কখনোই জনগণের কাছে বিশ্বাসযোগ্য হবে না।

গণভোট প্রসঙ্গে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, একটি পক্ষ থেকে জনগণের ওপর ‘হ্যাঁ ভোট’ দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। সরকারি ক্ষমতা, প্রশাসনিক প্রভাব এবং নানামুখী ভয়ভীতি ব্যবহার করে মানুষকে ‘হ্যাঁ’ ভোটে বাধ্য করার চেষ্টা চলছে।

জি এম কাদের বলেন, “এই গণভোট সংবিধানসম্মত নয়। যদি ‘হ্যাঁ’ ভোট পাস করানো হয়, তাহলে সংসদ আর সার্বভৌম ও স্বাধীন থাকবে না।

সংসদ পরিণত হবে একটি নির্দিষ্ট শক্তির আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানে। তাই দেশ ও গণতন্ত্র বাঁচাতে জাতীয় পার্টি না ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।”

তিনি আরো বলেন, “দেশ বাঁচানোর জন্য যেকোনো মূল্যে ‘না’ ভোটকে পাস করাতে হবে। দেশের স্বার্থে ‘হ্যাঁ’ ভোট বয়কট করে জনগণকে ‘না’ ভোট দিতে হবে। এটি কোনো দলীয় বিষয় নয়, এটি দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্ন।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান দাবি করেন, এবারের নির্বাচনে জাতীয় পার্টির পক্ষে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে এক ধরনের অদ্ভুতপূর্ব সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। মাঠের বাস্তবতা বলছে—মানুষ বিকল্প শক্তি হিসেবে জাতীয় পার্টির দিকেই তাকিয়ে আছে।

তিনি বলেন, ‘মানুষ বুঝে গেছে, দেশকে স্থিতিশীল রাখতে জাতীয় পার্টির বিকল্প নেই। আমরা ক্ষমতার জন্য নয়, দেশের জন্য রাজনীতি করি। জনগণের অধিকার ও ভোটের মর্যাদা রক্ষাই আমাদের মূল লক্ষ্য।’

এ সময় জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য রংপুর মহানগর সাধারণ সম্পাদক এস এম ইয়াসির, প্রেসিডিয়াম সদস্য ও রংপুর জেলা আহ্বায়ক মো. আজমল হোসেন লেবু, কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও রংপুর জেলা সদস্যসচিব হাজী আব্দুর রাজ্জাক, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও রংপুর মহানগর সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. লোকমান হোসেন, রংপুর মহানগর সহসভাপতি হাসানুজ্জামান নাজিমসহ জাতীয় পার্টির জেলা ও মহানগরের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।




দুধ দিয়ে গোসল করে জামায়াতে যোগ দিলেন মৎস্যজীবী দল নেতা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ পটুয়াখালীর বাউফলে এক কলস দুধ দিয়ে গোসল করে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন ইউনিয়ন মৎস্যজীবী দল নেতা মো. জালাল হাওলাদার। তিনি বাউফল উপজেলার বগা ইউনিয়ন মৎস্যজীবী দলের সহ-সভাপতি ছিলেন বলে জানিয়েছেন উপজেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি মোশারফ হোসেন লিটন।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) রাত ৯টার দিকে উপজেলার বগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে পটুয়াখালী-২ আসনে দশ দলীয় ঐক্য জোটের দাড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মো. শফিকুল ইসলাম মাসুদের উঠান বৈঠকে দুধ দিয়ে গোসল করে আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে যোগ দেন তিনি।

যোগদান অনুষ্ঠানে মো. জালাল হাওলাদার বলেন, দলের নেতাদের অবহেলা ও মানসিক কষ্ট সহ্য করতে না পেরে তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তিনি বলেন, “বিগত ১৭ বছর দলের দুর্দিনে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি। ভেবেছিলাম এখন একজন অভিভাবক পাব, যার আশ্রয়ে রাজনীতি করব। কিন্তু যাকে বিএনপির মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, তিনি সে ধরনের অভিভাবক নন। তিনি আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনে ব্যস্ত। আমাদের খোঁজখবর নেন না, বরং যারা বিগত ১৭ বছর আমাদের ওপর হামলা-মামলা ও নির্যাতন চালিয়েছেন, তাঁদের সঙ্গেই চলাফেরা করছেন। এ কারণেই আমি জামায়াতে যোগ দিয়েছি। আগামী দিনে জামায়াতের পক্ষে কাজ করব।”

এ সময় বগা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সদস্য আবুল কালাম, উপজেলা যুবদলের সাবেক সদস্য এস এম আমিনুল ইসলাম, বগা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মো. জাহিদুল ইসলাম, বগা ইউনিয়ন মৎস্যজীবী দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি জামাল খান, বগা ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক ফারুক শরীফসহ প্রায় তিন শতাধিক বিএনপির নেতা-কর্মী ও সমর্থক জামায়াতে যোগ দেন।

যোগদান অনুষ্ঠানে পটুয়াখালী-২ আসনের দশ দলীয় জোটের প্রার্থী ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সেক্রেটারি নবাগতদের হাতে উপহার হিসেবে জমজম কূপের পানি ও সৌদি আরবের খেজুর তুলে দেন।

এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মো. তসলিম তালুকদার বলেন, কেউ যদি দলীয় পদ-পদবীতে থেকে শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে, তবে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি দলীয় ফোরামে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।




ময়মনসিংহের পথে তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার অংশ হিসেবে দীর্ঘ ২২ বছর পর ময়মনসিংহ সফরে যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এই সফরে তিনি ময়মনসিংহ, গাজীপুর ও রাজধানীর উত্তরার জনসভায় ভাষণ দেবেন।

তারেক রহমান গাড়ি বহর নিয়ে ময়মনসিংহের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বেলা ১১টা ৪ মিনিটে গুলশানের বাসা থেকে তিনি রওনা হন।

সফর সূচী অনুযায়ী, আজ দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে ময়মনসিংহ সার্কিট হাউজ মাঠে আয়োজিত জনসভায় তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন।

ময়মনসিংহ থেকে ফেরার পথে একই দিন সন্ধ্যা ৬টায় গাজীপুর জেলা শহরের ঐতিহাসিক রাজবাড়ী মাঠে আয়োজিত জনসভায় যোগ দেবেন তারেক রহমান। এরপর সন্ধ্যা ৭টায় রাজধানীর উত্তরার আজমপুর ঈদগাহ মাঠে স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত জনসভায় যোগ দেবেন।

কর্মসূচি শেষে তিনি গুলশানের বাসভবনে ফিরবেন বলে বিএনপির মিডিয়া উইং থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।




ফরিদপুরে কাফনের কাপড় পরে নির্বাচনী প্রচারণা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ আজ ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, সকাল দশটায়, ফরিদপুর-৪ আসন (ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসন)-এ জাতীয় পার্টি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মুফতি রায়হান জামিল রায়হান জামিল -এর নির্বাচনী প্রচারণাকালে হুমকি ও গালাগালির ঘটনার প্রতিবাদে ব্যতিক্রমধর্মী কর্মসূচি পালন করেছেন তাঁর সমর্থকরা।

চরভদ্রাসন উপজেলার ম্যাজিস্ট্রেট বাজার এলাকায় মুফতি রায়হান জামিলের নেতৃত্বে ও তাঁর সমর্থকদের অংশগ্রহণে কাফনের কাপড় পরিধান করে শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচনী প্রচারণা চালানো হয়। এ কর্মসূচির মাধ্যমে তারা নির্বাচনী পরিবেশে বাধা, ভয়ভীতি ও অশালীন আচরণের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানান।

এ সময় মুফতি রায়হান জামিল বলেন,
“নির্বাচনী প্রচারণায় হুমকি ও গালাগালি জনগণের অধিকার ও ন্যায়সংগত নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পরিপন্থী। আমরা শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চাই। জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষ ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি।”

সমর্থকরা অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি জানিয়ে বলেন, সব ধরনের ভয়ভীতি বা বাধা উপেক্ষা করেই তারা জনগণের অধিকার রক্ষায় মাঠে থাকবেন।

উল্লেখ্য, মুফতি রায়হান জামিল দীর্ঘদিন ধরে ফরিদপুর-৪ এলাকায় সমাজসেবা ও মানবিক কার্যক্রমের মাধ্যমে পরিচিত। গত ১৭ সেপ্টেম্বর ১০ টাকায় ইলিশ মাছ, ৩০ নভেম্বর ১ টাকা কেজি দরে গরুর মাংস এবং ১১ জুলাই ২ টাকা কেজি দরে চাল বিতরণের মতো উদ্যোগ নিয়ে তিনি ব্যাপক আলোচনায় আসেন। এ ছাড়া নির্বাচনী গেট ও ব্যানার ভাঙচুরের প্রতিবাদে ঝাড়ু হাতে মিছিল, পাশাপাশি গভীর রাতে দরিদ্র মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে নিজে মাথায় করে চালের বস্তা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার ঘটনাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলে।




গণভোট সংবিধানসম্মত নয়, এটি বেআইনি ও অবৈধ- জাপা চেয়ারম্যান জিএম কাদের

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রংপুর-৩ (সদর) আসনের প্রার্থী জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী ও দলটির চেয়ারম্যান জিএম কাদের গণভোট প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘এটা নিয়ে পার্লামেন্টে কথা হবে। পার্লামেন্টের বাইরে কথা হবে, চায়ের দোকানে কথা হবে ইউটিউবে কথা হবে। তখন মানুষ বুঝবে, এখানে এই জিনিসটা ভালো, এই জিনিসটা খারাপ– আমি হ্যাঁ ভোট দেবো, না “না” ভোট দেবো। আপনারা কেন আগে থেকে বলছেন– যেখানে মানুষকে আপনি সবগুলো জিনিস বুঝিয়ে দিচ্ছেন না। এবং এই কাজটি যেহেতু সংবিধানসম্মত নয়, এই জন্য আমি মনে করি এই গণভোট বেআইনি ও অবৈধ।’

শনিবার বিকালে রংপুর নগরীর পায়রা চত্বর গ্রান্ড হোটেল মোড় এলাকায় গণসংযোগ করে লিফলেট বিতরণের সময় সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় বিপুলসংখ্যক দলীয় নেতাকর্মী তার সঙ্গে ছিলেন।

জিএম কাদের গণভোট প্রসঙ্গে আরও বলেন, ‘এখন বলা হচ্ছে, যারা “না” ভোটের পক্ষে বলছেন তারা স্বৈরাচারের দোসর। আমি বলতে চাই, যারা “হ্যাঁ” ভোটের পক্ষে বলছেন তারা নাৎসিবাদের দোসর। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী “হ্যাঁ” ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন, এটা বেআইনি। এ জন্য যে সরকারি অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে সেটাও বেআইনি এবং অবৈধ।’

এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় কালে জিএম কাদের বলেন, ‘আমি রংপুরের সন্তান আমাকে রংপুরের জনগণ বিপুল ভোটে লাঙ্গল মার্কায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবে।’ তিনি সমবেত জনতাকে আবারও ভোট দিয়ে জয়ী করার আহ্বান জানান।

শনিবার বিকাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান। তিনি রংপুর নগরীর বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করে লিফলেট বিতরণ করে লাঙ্গল প্রতীকে ভোট চান।

বিকালে রংপুর নগরীর সেন্ট্রাল রোড এলাকায় জেলা ও মহানগর জাতীয় পার্টি কার্যালয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন জিএম কাদের। এ সময় তিনি নেতাকর্মীদের নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ এবং লাঙ্গল মার্কার পক্ষে ব্যাপকভাবে গণসংযোগ করার আহ্বান জানান।

এ সময় মহানগর জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক এসএম ইয়াসিরসহ জাতীয় পার্টির জেলা ও মহানগর নেতৃবৃন্দ তার সঙ্গে ছিলেন।