বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বিএনপির বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলের চেয়ারম্যান হিসেবে পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। শুক্রবার রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির কার্যালয়ে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তাঁকে এই পদে আসীন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এই দায়িত্ব গ্রহণ করায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।

স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গুলশান কার্যালয়ের সামনে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, দলের গঠনতন্ত্রের বিধান অনুসারে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বিএনপির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারেক রহমানের উত্তরবঙ্গ সফর আপাতত স্থগিত করা হয়েছে বলেও জানান মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, পরবর্তীতে সফরের নতুন সময়সূচি জানানো হবে।

স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন তারেক রহমান। বৈঠকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম ও অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটি দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের শুক্রবারের জরুরি বৈঠকেও দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও দলের করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় বলে জানা গেছে।

পরে দলের পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে দলের চেয়ারম্যান পদটি শূন্য হয়। এ প্রেক্ষিতে বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জাতীয় স্থায়ী কমিটির এক সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সর্বসম্মতিক্রমে শূন্য পদে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমানকে দায়িত্ব দেয়া হয়। এর মাধ্যমে তিনি দলীয় গঠনতন্ত্র অনুসারে বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।




নির্বাচন করতে পারবেন তাসনিম জারা

ডেস্ক নিউজঃ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। এ ছাড়া কক্সবাজার-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী এবং দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন।

আপিল শুনানিতে কমিশনের এই সিদ্ধান্তে তাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের পথে থাকা আইনি বাধা দূর হলো।

শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিল আবেদনের শুনানি শেষে কমিশন এই রায় দেয়। এর মাধ্যমে মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে করা আপিলে সফল হন উভয় প্রার্থী।

শনিবার থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে করা আপিল শুনানি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন ভবনের অডিটোরিয়ামে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এই শুনানি চলবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ কমিশনের সব সদস্য এ শুনানি গ্রহণ করছেন।

ইসি সূত্র জানায়, শুনানির প্রথম দিনেই ১ থেকে ৭০ নম্বর আপিল আবেদনের ওপর সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যেই তাসনিম জারা ও হামিদুর রহমান আযাদের আপিল নিষ্পত্তি করা হয় এবং তাদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়।

নির্বাচন কমিশনের পরিচালক (জনসংযোগ) মো. রুহুল আমিন মল্লিক জানান, আগামী ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে আপিল শুনানি চলবে। সূচি অনুযায়ী—

১১ জানুয়ারি (রোববার): ৭১ থেকে ১৪০ নম্বর আপিল
১২ জানুয়ারি (সোমবার): ১৪১ থেকে ২১০ নম্বর আপিল
১৩ জানুয়ারি (মঙ্গলবার): ২১১ থেকে ২৮০ নম্বর আপিল

অবশিষ্ট আপিলগুলোর শুনানির তারিখ পরে জানানো হবে বলে তিনি জানান।

এর আগে গত ৪ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের শেষ দিনে দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনে দাখিল করা ২ হাজার ৫৬৮টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে ১ হাজার ৮৪২টি বৈধ এবং ৭২৬টি বাতিল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। এসব সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে মোট ৬৪৫টি আপিল আবেদন জমা পড়ে। চলমান এই শুনানির মধ্য দিয়ে আগামী কয়েক দিনে আরও অনেক প্রার্থীর রাজনৈতিক ভাগ্য নির্ধারিত হতে যাচ্ছে।




পিরোজপুরে জেলা যুবদলের আয়োজনে বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল

পিরোজপুর প্রতিনিধি: বিএনপি’র চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় পিরোজপুরে জেলা যুবদলের আয়োজনে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার দুপুরে পিরোজপুর জেলা যুবদলের আয়োজনে পিরোজপুর টাউন ক্লাব মাঠে এ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে জেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক কামরুজ্জামান তুষার এর সভাপতিত্বে ও জেলা যুবদলের সদস্য সচিব এমদাদুল হক মাসুদ এর সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন, পিরোজপুর-১ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন। জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম খান, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এলিজা জামান, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাইদুল ইসলাম কিসমত।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সালমান জাকির, যুগ্ম আহবায়ক রিয়াজ সরদার, যুগ্ম আহ্বায়ক তানজিদ হাসান শাওন প্রমুখ।
এ সময় বক্তারা বলেন, দেশমাতা আমাদের মাঝে আরো কিছুদিন বেঁচে থাকতে পারতেন, যদি তার সুচিকিৎসা হত। স্বৈরাচার শেখ হাসিনা দেশমাতার চিকিৎসা হতে দেয়নি। সকলে মিলে দোয়া করি আল্লাহ তা’আলা যেন দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়াকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করেন এবং তারেক রহমানকে আগামী দিনে বাংলাদেশের প্রধান মন্ত্রী হিসেবে কবুল করেন।
পিরোজপুর জেলা যুবদল  ও বিভিন্ন উপজেলা যুবদলের নেতৃবৃন্দ সহ বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতা কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন ।



সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় মিরপুর প্রেসক্লাবের উদ্যোগে সারাদিনব্যাপী দোয়া ও মিলাদ মাহফিল

এসএম বদরুল আলমঃ সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেছে মিরপুর প্রেসক্লাব, ঢাকা। শুক্রবার, ০২জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে (শুক্রবার) মিরপুর প্রেসক্লাবের উদ্যোগে এই দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য, গত ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। তার ইন্তেকালের পর সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হয় জানাজা, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ জানাজাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

মিরপুর প্রেসক্লাবের উদ্যোগে সারাদিনব্যাপী এই মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে কোরআন তেলাওয়াত, ওয়াজ মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। ওয়াজে বক্তারা বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে তার অবদান এবং দেশ ও জনগণের প্রতি তার ত্যাগের কথা স্মরণ করেন। তারা বলেন, বেগম খালেদা জিয়া শুধু একজন রাজনৈতিক নেত্রীই নন, তিনি এ দেশের মানুষের হৃদয়ে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
বিশেষ মোনাজাতে আল্লাহর দরবারে হাত তুলে দোয়া করা হয়—যেন মহান আল্লাহ বেগম খালেদা জিয়াকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন এবং তার কবরকে প্রশস্ত করেন। একই সঙ্গে দেশ ও জাতির শান্তি, গণতন্ত্র ও কল্যাণ কামনা করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মিরপুর প্রেসক্লাবের প্রধান উপদেষ্টা ও দৈনিক পাঞ্জেরীর সম্পাদক তালুকদার রুমী। তিনি বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন আপসহীন নেতৃত্বের প্রতীক। তার রুহের মাগফিরাত কামনায় এই আয়োজন আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।”

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মিরপুর প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এস এম বদরুল আলম। তিনি বলেন, “সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী দেশের গণতন্ত্র ও স্বাধীন মত প্রকাশের পক্ষে আজীবন সংগ্রাম করেছেন। আমরা তার আত্মার শান্তির জন্য আজ সারাদিনব্যাপী দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেছি।”

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মিরপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক জনজাগরণ পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক মোঃ শিহাব উদ্দিন। তিনি বলেন,
“আজকের এই মিলাদ ও দোয়া মাহফিল প্রমাণ করে—বেগম খালেদা জিয়া আজও কোটি মানুষের হৃদয়ে জীবিত।”

বিশেষ বক্তব্য দেন মিরপুর প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা ও খবর বাংলাদেশের সম্পাদক মোঃ জাকির হোসেন, সিনিয়র সহ-সভাপতি এস এম ইসলাম উকিলসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। তারা সবাই বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া করেন এবং তার রাজনৈতিক অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সহ-সভাপতি মাইনুল ইসলাম পলাশ, সহ-সভাপতি মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, সভাপতি খাইরুল ইসলাম, সহ-সভাপতি শহীদ, যুগ্ম সম্পাদক সুমন খান, যুগ্ম সম্পাদক মুন্না, মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক সাইমন, দপ্তর সম্পাদক এম এ গাফফার, প্রচার সম্পাদক মনজুর আহমেদ, সহ-সম্পাদক জাকির হোসেন মোল্লাসহ কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে দেশ টিভি, এশিয়ান টিভি, মাই টিভি, নাগরিক টিভি, চ্যানেল আইসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং সমকাল, বাংলাদেশ প্রতিদিন, আমার দেশসহ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকের শতাধিক সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন।

দোয়া ও মিলাদ মাহফিল শেষে উপস্থিত সাংবাদিক ও অতিথিদের অংশগ্রহণে একসঙ্গে ডিনারের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।




তারেক রহমান ও জাইমা রহমান ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। দলটির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

শায়রুল কবিরের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, নির্বাচন কমিশনের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটার হিসেবে তারেক রহমানের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

এদিকে, রবিবার নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ শাখা থেকেও এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

এর আগে, ২৭ ডিসেম্বর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ে যান তারেক রহমান। সেখানে ভোটার হিসেবে নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন তিনি।

২৭ ডিসেম্বরই ভোটার হচ্ছেন তারেক রহমান-বিএনপির পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছিল আগেই। সেজন্য সব প্রস্তুতিও সেরে রাখে নির্বাচন কমিশন কর্তৃপক্ষ।

বিএনপি মিডিয়া সেল শনিবার দুপুরে দেওয়া এক পোস্টে জানায়, শনিবার আঙুলের ছাপ, চোখের মণির (আইরিশ) প্রতিচ্ছবি ও বায়োমেট্রিক তথ্য দেওয়ার পর তারেক রহমানের এনআইডি পেতে সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টা লাগবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক এস এম হুমায়ুন কবীর।

২০০৭-২০০৮ সালে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়ন করা হয়। ২০০৮ সালে কারামুক্তির পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তারেক রহমান লন্ডনে যান। এরপর আর দেশে ফিরতে না পারায় তিনি ভোটার তালিকায় নাম লেখাতে পারেননি।




ঢাকা–১৭ আসন থেকে নির্বাচন করবেন তারেক রহমান, মনোনয়নপত্র সংগ্রহ

ডেস্ক নিউজঃ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঢাকা–১৭ সংসদীয় আসন থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) সকালে তার পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে।

বিএনপি চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার সকাল ১১টার দিকে সেগুনবাগিচায় অবস্থিত ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরীর কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। বিএনপির মিডিয়া সেল এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এর আগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমদ জানান, তারেক রহমান বগুড়া–৬ আসনের পাশাপাশি ঢাকা–১৭ আসন থেকেও নির্বাচনে অংশ নেবেন। একই সময়ে ঢাকা–১৭ আসন ছেড়ে ভোলা–১ আসন থেকে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, দেশে ফেরার পর ঢাকা–১৭ আসনের ভোটার হওয়ার জন্য আবেদন করেছেন তারেক রহমান। পরবর্তীতে দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা তাকে এই আসন থেকে নির্বাচন করার অনুরোধ জানান। এ সিদ্ধান্তের কথা জানার পর তারেক রহমানকে সম্মান জানিয়ে ঢাকা–১৭ আসন ছেড়ে ভোলা–১ আসন থেকে প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন আন্দালিব রহমান পার্থ।

উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোলা–১ আসন থেকে বিএনপির সমর্থনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন আন্দালিব রহমান পার্থ। তার বাবা সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত নাজিউর রহমান মঞ্জুও এই আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন।

এদিকে এর আগে বগুড়া–৬ আসন থেকে তারেক রহমানের পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া তিনটি আসন—বগুড়া–৭, ফেনী–১ ও দিনাজপুর–৩—থেকে নির্বাচনে অংশ নেবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।




ভোটার হওয়ার আনুষ্ঠানিকতা সারলেন তারেক রহমান

ডেস্ক নিউজঃ জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নিবন্ধনের কাজ সম্পন্ন করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার দুপুর ১টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে আসেন তারেক রহমান।

নির্বাচন কমিশনে পৌঁছে ভোটার তালিকায় নাম লেখান তিনি। সেখানে আইরিশের প্রতিচ্ছবি, আঙ্গুলের ছাপসহ যাবতীয় বায়োমেট্রিক তথ্য দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। তার এনআইডি পেতে ‘সর্বোচ্চ একদিন লাগবে’ বলে জানিয়েছেন এনআইডি উইংয়ের ডিজি এ এস এম হুমায়ুন কবীর।

বাংলাদেশের সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে দেশের যেকোনো নির্বাচনি এলাকার ভোটার হওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান রাজধানীর ঢাকা-১৭ আসনের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের (গুলশান এলাকা) ভোটার হওয়ার জন্য অনলাইনে আবেদন করেছেন।




শহীদ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করলেন তারেক রহমান

ডেস্ক নিউজঃ ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান হাদির কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার কিছু আগে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে অবস্থিত ওসমান হাদির কবরে পৌঁছে জিয়ারত করেন।

ওসমান হাদির কবরে ফুল দিয়ে সেখানে হাদিসহ সকল জুলাই শহীদদের জন্য দোয়া করা হয়। পাশাপাশি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরেও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান তারেক রহমান।

এর আগে বেলা পৌনে ১১টার দিকে গুলশানের বাসা থেকে রওনা হন তারেক রহমান। বিএনপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে জানানো হয়, তিনি ওসমান হাদির কবর জিয়ারতের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছেন।

এদিন আগের দুই দিনের মতো লাল–সবুজ রঙে সাজানো বাস ব্যবহার না করে সাদা রঙের একটি গাড়িতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যান তারেক রহমান। গাড়িটি ফুল দিয়ে সাজানো ছিল। এ সময় রাস্তার দুপাশে বিএনপির নেতা-কর্মীদের অবস্থান করতে দেখা যায়। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো।

তারেক রহমানের আগমনকে ঘিরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। টিএসসি থেকে হাদির কবর পর্যন্ত দুই স্তরের ব্যারিকেড বসানো হয়। শাহবাগ দিকেও পুলিশের ব্যারিকেড ও নজরদারি ছিল।

এর আগে তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে টিএসসি এলাকায় অবস্থান নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। সংগঠনের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস ও সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপনের নেতৃত্বে তারা রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অবস্থান করেন।

বিএনপির মিডিয়া সেলের এক ফেসবুক পোস্টে জানানো হয়, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের কোনো আহত ব্যক্তি বর্তমানে পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি না থাকায় সেখানে যাওয়ার কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছে। হাদির কবর জিয়ারত শেষে তারেক রহমান আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনে জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধনের জন্য যাবেন।

উল্লেখ্য, দীর্ঘ ১৭ বছর পর গত বৃহস্পতিবার লন্ডন থেকে দেশে ফেরেন তারেক রহমান। তাঁর প্রত্যাবর্তন ঘিরে ঢাকায় বিএনপির নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়। পূর্বাচলের ৩০০ ফিট এলাকায় আয়োজিত সংবর্ধনা সমাবেশে সারা দেশ থেকে দলের মনোনীত প্রার্থীরা অংশ নেন।




মাত্র ২৯ ঘণ্টায় ৪৭ লাখ টাকা অনুদানের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করলেন তাসনিম জারা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ঢাকা-৯ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারার নির্বাচনী তহবিল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়েছে। মাত্র ২৯ ঘণ্টায় প্রায় ৪৭ লাখ টাকা অনুদান পাওয়ায় আপাতত আর কোনো অনুদান গ্রহণ করা হবে না বলে জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানান ডা. তাসনিম জারা। তিনি লেখেন, ‘আমাদের ফান্ড রেইজিং লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ৪৭ লাখ টাকা আপনারা মাত্র ২৯ ঘণ্টায় পূরণ করে ফেলেছেন। আপনাদের এই অভূতপূর্ব সাড়া পুরোনো রাজনৈতিক ধারার মূলে কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছে। আপনাদের অসংখ্য ধন্যবাদ। আমরা আর কোনো অনুদান গ্রহণ করছি না।’

তিনি বলেন, এখন শুরু হচ্ছে ‘আসল লড়াই’। তাঁর ভাষায়, এই নির্বাচনে অধিকাংশ প্রার্থী ১০ থেকে ৫০ কোটি টাকা ব্যয় করবেন। অনেকেই মনে করেন টাকা দিয়ে ভোট কেনা যায়, তবে তারা ভুলে যান যে নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে সাধারণ মানুষ নিজেদের পকেটের টাকা খরচ করতেও প্রস্তুত।

নির্বাচনী কৌশল ব্যাখ্যা করে ডা. তাসনিম জারা জানান, ঢাকা-৯ আসনে প্রায় পাঁচ লাখ ভোটার রয়েছেন। একজন প্রার্থী হিসেবে দিনে ১২ ঘণ্টা হেঁটে প্রতিটি পরিবারের সঙ্গে পাঁচ মিনিট করে কথা বললেও দিনে সর্বোচ্চ ১০০ থেকে ১১০টি পরিবারের কাছে পৌঁছানো সম্ভব। পুরো প্রচারণা জুড়ে তিনি বড়জোর চার হাজার পরিবারের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারবেন, ফলে কয়েক লাখ পরিবারের কাছে বার্তা পৌঁছাবে না।

তিনি বলেন, ‘আমরা টাকার রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করতে এসেছি। তাই পেইড কর্মী নিয়োগ দেব না। মানুষের কাছে আমাদের কথা পৌঁছাতে স্বেচ্ছাসেবকদের ভূমিকা অপরিহার্য।’

এনসিপির এই নেতা বলেন, অনেক সমর্থকই ঢাকা-৯ আসনের ভোটার না হলেও তাঁদের আত্মীয়, বন্ধু বা পরিচিতজন এ এলাকায় বসবাস করেন। একজন পরিচিত মানুষের একটি কথাই পোস্টার, ব্যানার বা ব্যয়বহুল প্রচারণার চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর হতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, নিয়ম মেনে তিনি পোস্টার লাগাননি, যেখানে অন্য প্রার্থীরা তা করেছেন; এই অসমতা কাটাতে একটি ফোন কলও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

এ সময় তিনি সমর্থকদের প্রতি দুটি সুনির্দিষ্ট আহ্বান জানান। প্রথমত, সপ্তাহে চার থেকে আট ঘণ্টা সময় দিয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে দলবদ্ধভাবে বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচারণায় যুক্ত হওয়ার অনুরোধ জানান তিনি। দ্বিতীয়ত, পোলিং এজেন্ট হিসেবে কিংবা নির্বাচনের দিন ভোটারদের সহায়তায় টিমে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর ভাষায়, ভোটের দিন প্রতিটি কেন্দ্রে এমন মানুষ প্রয়োজন, যারা অন্যায়ের সামনে মাথা নত করবেন না।

ডা. তাসনিম জারা বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে প্রমাণ করব, জনগণের সম্মিলিত শক্তির সামনে কোটি কোটি কালো টাকা কতটা অসহায়।’

ফান্ড ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা নিয়েও বিস্তারিত তুলে ধরেন তিনি। জানান, কোনো নগদ অনুদান গ্রহণ করা হয়নি; সব অর্থ একটি বিকাশ ও একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সংগৃহীত, যা বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণাধীন এবং ভবিষ্যতে যাচাইযোগ্য। কোন মাধ্যমে কত টাকা এসেছে, সে তথ্য নিয়মিত জানানো হচ্ছে এবং সব নথি নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, অনুদানের জন্য ব্যবহৃত বিকাশ ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট দুটি নতুন, সেখানে ব্যক্তিগত কোনো লেনদেন নেই এবং অ্যাকাউন্টের শতভাগ অর্থই অনুদান হিসেবে সংগৃহীত। সংগৃহীত অর্থ কোন খাতে কত ব্যয় করা হবে, তা-ও স্পষ্টভাবে প্রকাশ করা হবে বলে তিনি জানান।




সংবর্ধনা শেষে মায়ের কাছে যাবেন তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ১৭ বছর পর বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, দেশে ফিরেই তিনি প্রথমে সংবর্ধনা গ্রহণ করবেন এবং এভারকেয়ার হাসপাতালে তার মা বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে যাবেন।

তিনি আরও জানান, ২৭ ডিসেম্বর (শনিবার) তারেক রহমান ভোটার নিবন্ধনের জন্য রেজিস্ট্রেশন করবেন। একই দিন তিনি শেরেবাংলানগরে অবস্থিত পঙ্গু হাসপাতালে জুলাই যোদ্ধাদের খোঁজখবর নেবেন এবং শহিদ ওসমান বিন হাদির কবর জিয়ারত করবেন।

এর আগে ২৬ ডিসেম্বর (শুক্রবার) বাদ জুম্মা তিনি শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত করবেন এবং পরে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধের শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন।

দেশে প্রত্যাবর্তনের সময় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানাবেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। সালাহউদ্দিন আহমদ জনগণকে সতর্ক করে বলেছেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের আগমনের কারণে কিছু জনদূর্ভোগ হতে পারে, যা নিয়ে ক্ষমা চাওয়া হয়েছে।