ভোটার হওয়ার আনুষ্ঠানিকতা সারলেন তারেক রহমান

ডেস্ক নিউজঃ জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নিবন্ধনের কাজ সম্পন্ন করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার দুপুর ১টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে আসেন তারেক রহমান।

নির্বাচন কমিশনে পৌঁছে ভোটার তালিকায় নাম লেখান তিনি। সেখানে আইরিশের প্রতিচ্ছবি, আঙ্গুলের ছাপসহ যাবতীয় বায়োমেট্রিক তথ্য দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। তার এনআইডি পেতে ‘সর্বোচ্চ একদিন লাগবে’ বলে জানিয়েছেন এনআইডি উইংয়ের ডিজি এ এস এম হুমায়ুন কবীর।

বাংলাদেশের সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে দেশের যেকোনো নির্বাচনি এলাকার ভোটার হওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান রাজধানীর ঢাকা-১৭ আসনের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের (গুলশান এলাকা) ভোটার হওয়ার জন্য অনলাইনে আবেদন করেছেন।




শহীদ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করলেন তারেক রহমান

ডেস্ক নিউজঃ ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান হাদির কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার কিছু আগে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে অবস্থিত ওসমান হাদির কবরে পৌঁছে জিয়ারত করেন।

ওসমান হাদির কবরে ফুল দিয়ে সেখানে হাদিসহ সকল জুলাই শহীদদের জন্য দোয়া করা হয়। পাশাপাশি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরেও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান তারেক রহমান।

এর আগে বেলা পৌনে ১১টার দিকে গুলশানের বাসা থেকে রওনা হন তারেক রহমান। বিএনপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে জানানো হয়, তিনি ওসমান হাদির কবর জিয়ারতের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছেন।

এদিন আগের দুই দিনের মতো লাল–সবুজ রঙে সাজানো বাস ব্যবহার না করে সাদা রঙের একটি গাড়িতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যান তারেক রহমান। গাড়িটি ফুল দিয়ে সাজানো ছিল। এ সময় রাস্তার দুপাশে বিএনপির নেতা-কর্মীদের অবস্থান করতে দেখা যায়। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো।

তারেক রহমানের আগমনকে ঘিরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। টিএসসি থেকে হাদির কবর পর্যন্ত দুই স্তরের ব্যারিকেড বসানো হয়। শাহবাগ দিকেও পুলিশের ব্যারিকেড ও নজরদারি ছিল।

এর আগে তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে টিএসসি এলাকায় অবস্থান নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। সংগঠনের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস ও সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপনের নেতৃত্বে তারা রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অবস্থান করেন।

বিএনপির মিডিয়া সেলের এক ফেসবুক পোস্টে জানানো হয়, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের কোনো আহত ব্যক্তি বর্তমানে পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি না থাকায় সেখানে যাওয়ার কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছে। হাদির কবর জিয়ারত শেষে তারেক রহমান আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনে জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধনের জন্য যাবেন।

উল্লেখ্য, দীর্ঘ ১৭ বছর পর গত বৃহস্পতিবার লন্ডন থেকে দেশে ফেরেন তারেক রহমান। তাঁর প্রত্যাবর্তন ঘিরে ঢাকায় বিএনপির নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়। পূর্বাচলের ৩০০ ফিট এলাকায় আয়োজিত সংবর্ধনা সমাবেশে সারা দেশ থেকে দলের মনোনীত প্রার্থীরা অংশ নেন।




মাত্র ২৯ ঘণ্টায় ৪৭ লাখ টাকা অনুদানের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করলেন তাসনিম জারা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ঢাকা-৯ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারার নির্বাচনী তহবিল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়েছে। মাত্র ২৯ ঘণ্টায় প্রায় ৪৭ লাখ টাকা অনুদান পাওয়ায় আপাতত আর কোনো অনুদান গ্রহণ করা হবে না বলে জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানান ডা. তাসনিম জারা। তিনি লেখেন, ‘আমাদের ফান্ড রেইজিং লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ৪৭ লাখ টাকা আপনারা মাত্র ২৯ ঘণ্টায় পূরণ করে ফেলেছেন। আপনাদের এই অভূতপূর্ব সাড়া পুরোনো রাজনৈতিক ধারার মূলে কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছে। আপনাদের অসংখ্য ধন্যবাদ। আমরা আর কোনো অনুদান গ্রহণ করছি না।’

তিনি বলেন, এখন শুরু হচ্ছে ‘আসল লড়াই’। তাঁর ভাষায়, এই নির্বাচনে অধিকাংশ প্রার্থী ১০ থেকে ৫০ কোটি টাকা ব্যয় করবেন। অনেকেই মনে করেন টাকা দিয়ে ভোট কেনা যায়, তবে তারা ভুলে যান যে নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে সাধারণ মানুষ নিজেদের পকেটের টাকা খরচ করতেও প্রস্তুত।

নির্বাচনী কৌশল ব্যাখ্যা করে ডা. তাসনিম জারা জানান, ঢাকা-৯ আসনে প্রায় পাঁচ লাখ ভোটার রয়েছেন। একজন প্রার্থী হিসেবে দিনে ১২ ঘণ্টা হেঁটে প্রতিটি পরিবারের সঙ্গে পাঁচ মিনিট করে কথা বললেও দিনে সর্বোচ্চ ১০০ থেকে ১১০টি পরিবারের কাছে পৌঁছানো সম্ভব। পুরো প্রচারণা জুড়ে তিনি বড়জোর চার হাজার পরিবারের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারবেন, ফলে কয়েক লাখ পরিবারের কাছে বার্তা পৌঁছাবে না।

তিনি বলেন, ‘আমরা টাকার রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করতে এসেছি। তাই পেইড কর্মী নিয়োগ দেব না। মানুষের কাছে আমাদের কথা পৌঁছাতে স্বেচ্ছাসেবকদের ভূমিকা অপরিহার্য।’

এনসিপির এই নেতা বলেন, অনেক সমর্থকই ঢাকা-৯ আসনের ভোটার না হলেও তাঁদের আত্মীয়, বন্ধু বা পরিচিতজন এ এলাকায় বসবাস করেন। একজন পরিচিত মানুষের একটি কথাই পোস্টার, ব্যানার বা ব্যয়বহুল প্রচারণার চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর হতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, নিয়ম মেনে তিনি পোস্টার লাগাননি, যেখানে অন্য প্রার্থীরা তা করেছেন; এই অসমতা কাটাতে একটি ফোন কলও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

এ সময় তিনি সমর্থকদের প্রতি দুটি সুনির্দিষ্ট আহ্বান জানান। প্রথমত, সপ্তাহে চার থেকে আট ঘণ্টা সময় দিয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে দলবদ্ধভাবে বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচারণায় যুক্ত হওয়ার অনুরোধ জানান তিনি। দ্বিতীয়ত, পোলিং এজেন্ট হিসেবে কিংবা নির্বাচনের দিন ভোটারদের সহায়তায় টিমে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর ভাষায়, ভোটের দিন প্রতিটি কেন্দ্রে এমন মানুষ প্রয়োজন, যারা অন্যায়ের সামনে মাথা নত করবেন না।

ডা. তাসনিম জারা বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে প্রমাণ করব, জনগণের সম্মিলিত শক্তির সামনে কোটি কোটি কালো টাকা কতটা অসহায়।’

ফান্ড ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা নিয়েও বিস্তারিত তুলে ধরেন তিনি। জানান, কোনো নগদ অনুদান গ্রহণ করা হয়নি; সব অর্থ একটি বিকাশ ও একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সংগৃহীত, যা বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণাধীন এবং ভবিষ্যতে যাচাইযোগ্য। কোন মাধ্যমে কত টাকা এসেছে, সে তথ্য নিয়মিত জানানো হচ্ছে এবং সব নথি নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, অনুদানের জন্য ব্যবহৃত বিকাশ ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট দুটি নতুন, সেখানে ব্যক্তিগত কোনো লেনদেন নেই এবং অ্যাকাউন্টের শতভাগ অর্থই অনুদান হিসেবে সংগৃহীত। সংগৃহীত অর্থ কোন খাতে কত ব্যয় করা হবে, তা-ও স্পষ্টভাবে প্রকাশ করা হবে বলে তিনি জানান।




সংবর্ধনা শেষে মায়ের কাছে যাবেন তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ১৭ বছর পর বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, দেশে ফিরেই তিনি প্রথমে সংবর্ধনা গ্রহণ করবেন এবং এভারকেয়ার হাসপাতালে তার মা বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে যাবেন।

তিনি আরও জানান, ২৭ ডিসেম্বর (শনিবার) তারেক রহমান ভোটার নিবন্ধনের জন্য রেজিস্ট্রেশন করবেন। একই দিন তিনি শেরেবাংলানগরে অবস্থিত পঙ্গু হাসপাতালে জুলাই যোদ্ধাদের খোঁজখবর নেবেন এবং শহিদ ওসমান বিন হাদির কবর জিয়ারত করবেন।

এর আগে ২৬ ডিসেম্বর (শুক্রবার) বাদ জুম্মা তিনি শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত করবেন এবং পরে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধের শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন।

দেশে প্রত্যাবর্তনের সময় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানাবেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। সালাহউদ্দিন আহমদ জনগণকে সতর্ক করে বলেছেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের আগমনের কারণে কিছু জনদূর্ভোগ হতে পারে, যা নিয়ে ক্ষমা চাওয়া হয়েছে।




ওসমান হাদিকে ‘গিনিপিগ’ বললেন বিএনপি নেত্রী, সমালোচনার ঝড়

ডেস্ক নিউজঃ আততায়ীর গুলিতে নিহত ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে ‘গিনিপিগ’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্বনির্ভরবিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য নিলুফার চৌধুরী মনি। তার এই বক্তব্য ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। শহীদ ওসমান হাদিকে নিয়ে এমন মন্তব্যের জন্য মনির কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানাচ্ছেন অনেকে।

মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) রাতে আব্দুন নূর তুষারের সঞ্চালনায় ‘চলে যাওয়া মানে প্রস্থান নয়’ শীর্ষক চ্যানেল নাইন আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠান ‘নাইন সংলাপে’ অংশ নিয়ে নিলুফার চৌধুরী মনি বলেন, ‘হাদিকে আমার কাছে এই মুহূর্তে একটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ গিনিপিগ ছাড়া আর কিছুই মনে হয় নাই। আপনারা যারা ডাক্তার, এখানে অনেকে আছেন, আপনারা তেলাপোকা কাটতেন, সেলাই-টেলাই করে ছেড়ে দিতেন—চলত। বাট হাদি হয়তো চলতে পারে নাই।’

এ সময় সঞ্চালক আব্দুন নূর তুষার আলোচকদের উদ্দেশে হাদিকে নিয়ে কোনো আপত্তিকর বক্তব্য না দেওয়ার অনুরোধ জানান। একপর্যায়ে তিনি নিলুফার চৌধুরী মনির বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে প্রশ্ন রাখেন—কেউ কি ওসমান হাদিকে ব্যবহার করে কোনো উদ্দেশ্য হাসিলের চেষ্টা করেছে বলে তিনি মনে করেন?

জবাবে মনি বলেন, ‘হ্যাঁ, অবশ্যই। এটা বলার কোনো অপেক্ষাই রাখে না। যদি এটা না হতো, হাদির দলের কয়টা লোক ছিল বা আছে বলেন? আমি তাঁকে ছোট করে বলছি না, আমি তার দলটাকে বলছি। এত মানুষ সারা দেশ থেকে এলো বা আনা হলো—এটার মধ্যে বড় একটা প্রশ্নবোধক চিহ্ন আছে। এই প্রশ্নবোধক চিহ্নটা নির্বাচনকে বানচাল করার চেষ্টা করছে।’

অনুষ্ঠানেই মনির বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট হুমায়রা নূর। তিনি বলেন, ‘হাদি কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের নেতা ছিলেন না। ইনকিলাব মঞ্চও কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল নয়, এটি একটি সামাজিক সংগঠন। তিনি সমাজের দুর্নীতি, অপতৎপরতা ও গণতন্ত্রবিরোধী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন।’

হুমায়রা নূর বলেন, ‘হাদির জানাজার উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা কষ্টদায়ক। যারা জানাজায় এসেছিলেন, তারা কোনো রাজনৈতিক দলের ডাকে আসেননি। তারা এসেছিলেন একজন মানুষ ওসমান হাদির জন্য।’

এই সংলাপে আরও অংশ নেন এনডিএমের চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ, জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য ডা. জাহেদ উর রহমান এবং সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ডা. সাজেদুল হক রুবেল।

এদিকে মনির বক্তব্যের সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক রাজনৈতিক ও নাগরিক সংগঠনের নেতারা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব জয়নাল আবেদিন শিশির ফেসবুকে লেখেন, শহীদ ওসমান হাদিকে নিয়ে এমন মন্তব্য ‘অমর্যাদাকর’ এবং তিনি এ বক্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান।

ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশের (আপ বাংলাদেশ) আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ লেখেন, একজন দায়িত্বশীল রাজনৈতিক নেত্রীর কাছ থেকে এমন বক্তব্য অনভিপ্রেত। একই সঙ্গে তিনি বিএনপির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান জানান।

এ ছাড়া আপ-বাংলাদেশের চিফ কো-অর্ডিনেটর রাফে সালমান রিফাতসহ আরও অনেকে মনির বক্তব্যের সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।




দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ ঢাকা ৩ আসনে মনোনীত প্রার্থী বাবুর গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের পক্ষে নির্বাচনীয় প্রচারণায় দিনরাত মাঠে হাজী মোঃ জাকির হোসেন

মোঃ মাসুদ মৃধা – স্টাফ রিপোর্টার: আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকা-৩ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের পক্ষে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে ব্যাপক গণসংযোগ ও নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা বিএনপির অন্যতম সদস্য হাজী মোহাম্মদ জাকির হোসেন। নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই প্রচারণার গতি বাড়ছে। দিনরাত মাঠে থেকে তিনি নিজের এলাকার নেতাকর্মীদের নিয়ে সাধারণ মানুষের দুয়ারে দুয়ারে পৌঁছে যাচ্ছেন।

হাজী মোহাম্মদ জাকির হোসেনের নেতৃত্বে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে নিয়মিত উঠান বৈঠক, পথসভা, লিফলেট বিতরণ ও জনসংযোগ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এসব কর্মসূচিতে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রচারণার প্রতিটি মুহূর্তে তার একটাই প্রত্যাশা—ঢাকা-৩ আসন থেকে বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে বিপুল ভোটে বিজয়ী করা।
স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, হাজী মোহাম্মদ জাকির হোসেন দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। দলের দুঃসময়েও তিনি মাঠ ছেড়ে যাননি। এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়ানো এই নেতা বর্তমানে নির্বাচনী প্রচারণায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত তিনি নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ভোটারদের কাছে ধানের শীষের পক্ষে ভোট প্রার্থনা করছেন।

হাজী মোহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, “ঢাকা-৩ আসনের জনগণ দীর্ঘদিন ধরে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত। মানুষ পরিবর্তন চায়। বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায় একজন সৎ, সাহসী ও পরীক্ষিত নেতা। আমরা বিশ্বাস করি, জনগণ এবার ধানের শীষের পক্ষেই রায় দেবে। ইনশাআল্লাহ বিপুল ভোটে বিজয় নিশ্চিত হবে।”

এদিকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা বিএনপির সভাপতি এডভোকেট নিপুন রায় চৌধুরীর নেতৃত্বে থানা বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনী মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন। যুবদল, শ্রমিক দল, ছাত্রদলসহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও প্রচারণায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক আলাদা আলাদা টিম গঠন করে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করা হচ্ছে। নেতাকর্মীরা বলছেন, ঢাকা-৩ আসনে এবার নির্বাচনী পরিবেশ অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি প্রাণবন্ত। জনগণের মধ্যে বিএনপির প্রার্থীর প্রতি আগ্রহ ও সমর্থন দিন দিন বাড়ছে।

স্থানীয় একাধিক ভোটার জানান, তারা বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে একজন অভিজ্ঞ ও জনবান্ধব নেতা হিসেবে দেখেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি সবসময় সাধারণ মানুষের পক্ষে কথা বলেছেন। তাই আসন্ন নির্বাচনে তারা তাকে ভোট দেওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী।

নেতাকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি সুসংগঠিত। এই ঐক্য ও গণসংযোগের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে ঢাকা-৩ আসনে ধানের শীষের বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না।

সব মিলিয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের নির্বাচনী প্রচারণা এখন তুঙ্গে। হাজী মোহাম্মদ জাকির হোসেনসহ থানা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা আশাবাদী—আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৩ আসনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করবেন।




ঝালকাঠির কাঠালিয়ায় নিজ দলের নেতাকর্মীদের হাতে লাঞ্চিত হলেন উপজেলা বিএনপির পদ স্থাগিত সাধারন সম্পাদক আখতার হোসেন নিজাম মীররহর।

ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ বিষয়টি নিশ্চিত করে উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জালালুর রহমান আকন জানান, নিজেদের মধ্যে ভুলবুঝাবুঝির কারণে সামান্য হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এটা আমরা মিমাংশা করার চেষ্টা করছি। ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস উপলক্ষে কাঠালিয়া উপজেলা পরিষদের সামনে কেন্দ্রিয় শহীদ মিনারে দলের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে ফেরার পথে মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সকালে উপজেলার বাসস্টান্ডে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
এসময় উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো.জালালুর রহমান আকন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি মো.হাসিব ভুট্রো, সাংগঠনিক সম্পাদক মো.শাহীন হাওলাদার ও সদর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. নুরুজ্জামান বাদলসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো.আলিমুল ইসলাম মুন্সি জানান, মহান বিজয় দিবসে শহীদ মিনারে ফুল দিতে দলের মাত্র নয়জন শহীদ মিনারে উপস্থিত হয়। দলের পক্ষ থেকে ছাত্রদলসহ অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের কাউকে দাওয়াত দেওয়া হয়নি। এনিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে মনোমলিন্য হয়। পরে বাসস্টান্ডে ওই সব নেতাকর্মীদের সাথে নিজাম মীরবহরের তর্কবির্তক হয়। এক পযার্য় বহিস্কিকৃত সাধারন সম্পাদক আখতার হোসেন নিজামকে লাঞ্চিত করে দলের কয়েকজন। আমি তাকে উদ্ধার করে বাড়ীতে পাঠিয়ে দেই।
আখতার হোসেন নিজাম মীরবহর জানান, শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে ফেরার পথে বাসস্টান্ডে বসে মটর সাইকেল থামিয়ে তাকে লাঞ্চিত করা হয়। তিনি আরও বলেন, এটা আমাদের সাংগঠনিক দূর্বলতার কারণে হয়েছে। যারা এটা করেছে তারা দলের ভালো চায় না।
উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো.জালালুর রহমান আকন জানান, শহীদ মিনারে ফুল দিতে দলীয় নেতাকর্মীদের দাওয়াত দেওয়া হয়েছে। এরপরও ভুলবুঝাবিুজির কারণে এ ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি একান্ত দলীয়, এটা আমরা মিমাংশা করে নিচ্ছি।
থানার ওসি নাছের রায়হান জানান, বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে বসে এমন খবর শুনেছি। তবে কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি। পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের বিষয়ে বিকেলে ব্রিফ করবেন ডা. জাহিদ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের সবশেষ অবস্থা নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করবেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

শুক্রবার রাজধানীর এভার কেয়ার হাসপাতালের সামনে এ ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হবে। বিএনপির মিডিয়া সেলের অন্যতম সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের সর্বশেষ আপডেট নিয়ে সাংবাদিক সঙ্গে কথা বলবেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এজেড এম জাহিদ হোসেন।




হাজারীবাগে হোস্টেলে মিললো এনসিপি নেত্রী জান্নাতারার মরদেহ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাজধানীর হাজারীবাগের জিগাতলা কাঁচাবাজার সংলগ্ন একটি ছাত্রীবাস থেকে জান্নাতারা রুমী (৩০) নামে এক তরুণীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ঢাকা মহানগর দক্ষিণ (ধানমন্ডি থানা) সমন্বয় কমিটির যুগ্ম সমন্বয়কারী ছিলেন।

বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) সকালে ছাত্রীবাস থেকে ওই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, জান্নাতারা রুমী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। জান্নাতারা রুমী নওগাঁ জেলার পত্নীতলা উপজেলার নাজিরপুর থানাধীন মো. জাকির হোসেনের মেয়ে। তার মায়ের নাম নুরজাহান বেগম।

হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, সে এলাকায় থাকাকালীন এনসিপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল। এটি আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড, তা ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে।




‘সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা থাকলেও ভোটে যেতে আগ্রহী জাপা’- শামীম হায়দার পাটোয়ারী

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী। তবে ‘নো ইলেকশনের চেয়ে খারাপ নির্বাচনও ভালো’-এই যুক্তিতে দলটির ভোটে যাওয়ার আগ্রহ রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন শামীম হায়দার।

জাপা মহাসচিব বলেন, ‘আমরা মনে করি বর্তমান পরিস্থিতিতে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব না। মব তীব্রভাবে দেশকে আকড়ে ধরেছে। মব সচিবালয়ে ঢুকে পড়েছে, মব ডিসি অফিসে ঢুকে পড়েছে। সেই প্রশাসন কীভাবে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করবে। তারপরও আমরা ভোটে যেতে আগ্রহী, কারণ কোনো কোনো ক্ষেত্রে ‘এ ব্যাড ইলেকশন বেটার দ্যান নো ইলেকশন’। কিন্তু সামনের দিনে আমরা প্রতিনিয়ত গভীরভাবে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করব। নিরাপত্তাহীনতা দেখলে আমরা আমাদের প্রার্থীদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিতে পারি না। আমরা পরিবেশ-পরিস্থিতি দেখে সিদ্ধান্ত নেব।’

বিজয় দিবসের কথা বলতে গিয়ে শামীম হায়দার বলেন, ‘এই দিনে পাকিস্তান হানাদার বাহিনী মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে সারেন্ডার করেছিল। এটি আমাদের হাজার বছরের ইতিহাসে সর্বশ্রেষ্ঠ দিন। যে বৈষম্য, যে হীন মানসিকতা, যার প্রতিবাদে আমরা স্বাধীন হয়েছিলাম, এত বছর পরেও আমরা সেই বৈষম্যহীন সমাজ গড়তে পারিনি। সেই সমতার সমাজ গড়তে পারিনি, সেই গণতান্ত্রিক সমাজ গড়তে পারিনি।

‘বর্তমান সরকারকে আমরা মনে করেছিলাম তারা সমতার বাংলাদেশ গড়বে, ঐক্যের বাংলাদেশ গড়বে। আমরা দুঃখ ভারাক্রান্ত মনে দেখেছি, ঐক্যের জায়গায় অনৈক্যকে আনা হয়েছে, মবতন্ত্রের উত্থান ঘটেছে, হত্যার রাজনীতি শুরু হয়েছে, রক্তের রাজনীতি শুরু হয়েছে। নির্বাচনের তফসিল দেওয়ার পর গুরুত্বপূর্ণ একজন প্রার্থী, একজন গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠস্বর ওসমান হাদিকে হত্যার জন্য অত্যন্ত নির্মমভাবে গুলি করা হয়েছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ করি। এর মাধ্যমে রাষ্ট্রব্যবস্থার চিড় উদীয়মান হচ্ছে, এর মাধ্যমে রাষ্ট্রব্যবস্থার যে ভঙ্গুর অবস্থা, সেটি উদীয়মান হচ্ছে। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হচ্ছে যে সরকার আসলে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত কি না।’

জাপা মহাসচিব বলেন, ‘আমরা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন চাই, আমরা একটা সমতার নির্বাচন চাই, আমরা একটা রাষ্ট্র কাঠামো দেখতে চাই, সরকার কাঠামো দেখতে চাই। কিন্তু আমরা দেখছি, সরকার দুর্বল হচ্ছে, মব শক্তিশালী হচ্ছে। আমরা দেখছি সরকার দুর্বল হচ্ছে, অপশক্তি শক্তিশালী হচ্ছে। আমাদের এখন সকলকে মিলে ঐক্যমত সৃষ্টি করে একটা ঐক্যমতের নির্বাচন, একটা সমঝোতা করতে হবে—রাজনৈতিক সমঝোতা, সকলকে নিয়ে। তার মাধ্যমে দেশ গঠন করতে হবে।’

শামীম হায়দার বলেন, ‘আজকে ১৬ ডিসেম্বর বাঙালি জাতির ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ দিন, যেদিনে সারা পৃথিবীতে আমরা মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছিলাম। সেই দিনে সকলের শপথ হওয়া উচিত—সামনের বাংলাদেশ হবে একাত্তরের বাংলাদেশ। সামনের বাংলাদেশ হবে বৈষম্যহীনতার বাংলাদেশ। সামনের বাংলাদেশ হবে ঐক্যের বাংলাদেশ। সামনের বাংলাদেশ হবে সার্বভৌমত্বের বাংলাদেশ। সামনের বাংলাদেশ হবে সমঝোতার বাংলাদেশ। সেটি আমাদের সকলকে, সকল দেশপ্রেমিক মানুষকে একত্রিত হয়ে সেই সমঝোতা করতে হবে—দেশের স্বার্থে, দেশের মানুষের স্বার্থে। আমরা মনে করি, সেখান থেকে আমরা যোজন যোজন বিচ্যুতি ঘটে গেছে।

‘কোন একজন ব্যক্তিকে, কোন একটি দলকে ঐক্যের আহ্বান দিতে হবে, জানাতে হবে। জাতীয় পার্টি সেই ঐক্যের ডাক দিচ্ছে। একাত্তরের সমস্ত শক্তিকে আমরা বলব—জাতীয় পার্টির আন্ডারে আসেন। আমরা একতাবদ্ধ হয়ে সকলকে নিয়ে একাত্তরের চেতনায় দেশ গড়ব।’

একাত্তরকে ছাড়া কোনো রাজনৈতিক আদর্শ হতে পারে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, চব্বিশে একটি অসম্ভব আন্দোলন হয়েছে, অনেক ছাত্র-জনতা জীবন দিয়েছে। তবে একাত্তর একাত্তরের জায়গায় মহিমান্বিত, চব্বিশ চব্বিশের জায়গায় মহিমান্বিত। একাত্তরকে ছাড়া কোনো রাজনৈতিক আদর্শ হতে পারে না।

‘যারা একাত্তরকে বিশ্বাস করবে না, তারা বাংলাদেশকে ভালোবাসে না। যারা একাত্তরকে বিকৃত করছে, তারা বাংলাদেশকে বিকৃতি করছে। তারা বাংলাদেশের শত্রু। একাত্তরকে নিয়ে যে ‘ডিস্টরশন অব হিস্ট্রি’ হচ্ছে, ‘স্যাফ্রোনাইজেশন অব হিস্ট্রি’ হচ্ছে—আমরা তার তীব্র প্রতিবাদ জানাই। একাত্তর একাত্তরের জায়গায় আছে, কেউ এটিকে নষ্ট করতে চাইলেও নষ্ট করতে পারবে না।’

এক প্রশ্নের জবাবে জাপা মহাসচিব বলেন, ‘তফসিল ঘোষণার পরে এক প্রার্থীকে গুলি করা হয়েছে এবং এখনো প্রকৃত আসামিরা ধরা পড়েনি। এর মাধ্যমে আমরা প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে খুবই শঙ্কিত। আমরা আমাদের পোলিং এজেন্ট, তাদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত; প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। দেড় বছর একটা সরকার থেকে এই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারার দায় এই সরকারকে ইতিহাসে নিতে হবে। আমরা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। যদি আমরা দেখতে পারি যে আমাদের প্রার্থীর নিরাপত্তা নাই, তাহলে আমরা আমাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হব। সরকার এবং নির্বাচন কমিশনকে নিশ্চিত করতে হবে যে এই নিরাপত্তা বর্তমানে দেশে আছে। এটি তাদের দায়িত্ব। ঠিক এই কাজের জন্যই তারা শপথ নিয়েছেন। তারা যদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারেন বা আন্তরিক না হন, তাহলে তাদের শপথ ভঙ্গ হয়েছে।