আমরা জনগণের সমর্থন দিয়ে সরকার গঠন করতে চাই: ঠাকুরগাঁওয়ে তারেক রহমান

মোঃ শফিকুল ইসলামঃ ঠাকুরগাঁওয়ে বিশ্ববিদ্যালয়, ক্যাডেট কলেজ, মেডিকেল কলেজ, বিমানবন্দর ও আইটি হাব করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনি জনসভায় তিনি এসব প্রতিশ্রুতি দেন।

তিনি বলেন, আমরা দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে চাই। এজন্য ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী, দিনাজপুর ও পঞ্চগড়কে শিল্পে রূপান্তর করতে চাই। আমাদের পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করতে হলে ধানের শীষে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করতে হবে।
তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে মানুষের যে অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল সেটা ভোটের মাধ্যমে ফিরিয়ে দেবে। বিগত ১৬ বছর স্বৈরাচার শুধু নিজের স্বার্থ দেখেছে। আমরা জনগণের সমর্থন দিয়ে সরকার গঠন করতে চাই। দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে চাই।
পঞ্চগড়ে চিনিকল, চা ও রেশন শিল্প চালু করা হবে। জনগণের হারিয়ে যাওয়ার অধিকার ভোগ করার সময় এসেছে।
তারেক রহমান বলেন, এই এলাকা কৃষনির্ভর। কৃষকদের পাশে যেমন দাঁড়াবো তেমনভাবে এই এলাকায় কৃষিনির্ভর শিল্প বিকশিত করবো। যাতে কর্মসংস্থান হয়। বহু যুবক আছে যারা বেকার। যুবকদের ট্রেনং দিয়ে দক্ষ শ্রমিক করতে চাই। আমরা আন্দোলন সংগ্রাম করেছি। মানুষকে সাথে নিয়ে দেশ পুনর্গঠন করতে চাই। এই কাজ করতে হলে জনগণের সহযোগীতা লাগবে।
বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, নির্বাচনী জনসভায় এক দল আরেক দলের বিপক্ষে কথা বললে জনগণের কোনও লাভ হবে না। জনগণ জানতে চায় আমরা মানুষের জন্য কি করবো। এজন্য আমরা আমাদের পরিকল্পনা তুলে ধরেছি। খালেদা জিয়া বলতেন বাংলাদেশ ছাড়া তার আর কোনও ঠিকানা নেই। বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মী বিশ্বাস করে বাংলাদেশ তাদের প্রথম এবং শেষ ঠিকানা। এজন্য আমরা জনগণের সামনে দাঁড়িয়েছি। জনগণের শক্তিতে দেশ পুনর্গঠন করতে চাই।
তিনি আরও বলেন, ২৪ সালে অভ্যুত্থান দিয়ে দেশকে রক্ষা করেছি। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় আমরা দেখিনি কে কোন ধর্মের। ২৪ এও একই। এই দেশে হাজার বছর ধরে প্রত্যেক ধর্মের মানুষ শান্তিতে বসবাস করেছে। আগামীতেও তাই হবে। ধর্ম দিয়ে কাউকে বিচার করা হবে না।



নৌকা নেই, নিশ্চিত ভোটও নেই: হবিগঞ্জ-০৪ এ অনিশ্চয়তার রাজনীতি

বিশেষ প্রতিবেদকঃ স্বাধীনতার পর থেকে আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত হবিগঞ্জ-০৪ আসন (চুনারুঘাট–মাধবপুর) এবার একেবারেই ভিন্ন বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে। নৌকা প্রতীক না থাকায় ভোটারদের মধ্যে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা, কৌতূহল আর চাপা উত্তেজনা। প্রায় ৫ লাখ ১০ হাজার ভোটারের এই আসনে দীর্ঘদিন ধরে নৌকার পক্ষে থাকা একটি বড় অংশ এবার কোন দিকে যাবে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

এই আসনের রাজনীতিতে এবার মুখোমুখি অবস্থানে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শিল্পপতি ও রাজনীতিবিদ এস এম ফয়সল এবং আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ইসলামি বক্তা মুফতী গিয়াস উদ্দিন তাহেরি। দুজনের প্রচার, বক্তব্য ও সমর্থন ঘিরে শুরু থেকেই চলছে নানা আলোচনা ও বিতর্ক।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এস এম ফয়সলের ঘোষিত সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২৮ কোটি টাকা হলেও তার বিরুদ্ধে প্রায় ২০০০ কোটি টাকার ঋণের অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষের ওপর পেশিশক্তি প্রয়োগ, ভয়ভীতি দেখানো এবং নির্বাচনী মাঠে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও উঠেছে। এছাড়া তার পরিবারের একাধিক সদস্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতৃত্বে থাকায় বিষয়টি নিয়ে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে এস এম ফয়সলের ভাই এস এম কায়সার যুদ্ধাপরাধের মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত ছিলেন—এই ইতিহাস নতুন করে আলোচনায় এসেছে। যদিও আদালতের রায় কার্যকরের আগেই তিনি কারাগারে মৃত্যুবরণ করেন।

এদিকে এস এম ফয়সলের ভাতিজা সৈয়দ তানভীর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতা হওয়ায় এলাকাজুড়ে আরও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগপন্থী অনেক নিরীহ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, গ্রেপ্তার আতঙ্ক এবং তথাকথিত মামলা-বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে, যেখানে এস এম ফয়সলের অনুসারীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, ৫ আগস্টের পর মাধবপুর বাজারের স্বর্ণপট্টি এলাকায় এক রাতেই প্রায় ৮০ লাখ টাকা চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় জড়িত বিতর্কিত কিছু নেতাকে নির্বাচনী কার্যক্রমে সক্রিয় দেখা গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি সাংবাদিকদের মধ্যেও বিভাজন তৈরি, মতের অমিল থাকা সাংবাদিকদের চাপের মুখে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করার কথাও শোনা যাচ্ছে।

অন্যদিকে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের প্রার্থী মুফতী গিয়াস উদ্দিন তাহেরি নিজেকে একজন ঋণমুক্ত প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরছেন। তিনি ইসলামি মূল্যবোধ, সংযত ভাষা ও ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে ভোটারদের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তার পক্ষে পীর-মাশায়েখদের সমর্থন এবং সাবেক স্বতন্ত্র এমপি ব্যারিস্টার সাইদুল হক সুমনের সমর্থনের কথাও আলোচনায় রয়েছে।

যদিও মুফতী গিয়াস উদ্দিন তাহেরির স্থায়ী ঠিকানা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায়, তবুও তিনি হবিগঞ্জ-০৪ আসনে উল্লেখযোগ্য জনসমর্থন পাচ্ছেন বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা চলছে। অনেকের মতে, বহিরাগত হয়েও তার জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকায় প্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।

ইটাখোলা দাখিল মাদ্রাসার এক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এস এম ফয়সলের পরিবারের বিরুদ্ধে অতীতে নিজ দলের লোকজনের ওপরও হামলা, মারধর ও গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ রয়েছে। তার মতে, নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারে এসব নতুন কিছু নয়। তিনি আরও বলেন, মুফতী তাহেরির কর্মীদের ওপর হামলা ও হুমকির ঘটনাও সেই ধারাবাহিকতার অংশ বলে অনেকেই মনে করছেন।

মুফতী গিয়াস উদ্দিন তাহেরি নিজেও অভিযোগ করেছেন যে, তাকে গাড়ি আটকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং মত প্রকাশে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। তবে এসব ঘটনায় তিনি বিচলিত নন বলে জানান। তার ভাষায়, “আমি আল্লাহর ওপর ভরসা করে এগোচ্ছি। জনগণ ব্যালটেই জবাব দেবে।”

এই আসনে প্রায় ২২টি চা বাগানের প্রায় ৭০ হাজার চা শ্রমিক ভোটার দীর্ঘদিন ধরে নৌকার প্রতি অনুগত বলে পরিচিত। নৌকা না থাকায় তাদের ভোট কোন দিকে যাবে, সেটিই এখন নির্বাচনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। অনেকের ধারণা, প্রকাশ্যে মিছিল-মিটিংয়ের চিত্র একরকম হলেও গোপন ব্যালটে ভিন্ন ফল দেখা যেতে পারে।

সব মিলিয়ে হবিগঞ্জ-০৪ আসনের নির্বাচন এবার শুধু ভোটের লড়াই নয়, বরং অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ, ইতিহাস আর নতুন সমীকরণের এক জটিল চিত্র হয়ে উঠেছে। শেষ পর্যন্ত ব্যালট বাক্সই ঠিক করবে—এই উত্তাল মাঠে কে হাসবে শেষ হাসি।




দেশ বাঁচাতে লাঙলে ভোট দিতে হবে: শামীম হায়দার পাটোয়ারী

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেছেন, একটি দল দেশটাকে পাকিস্তান বানাতে চায়। তারা মা-বোনদের অসম্মান করছেন এবং আজকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক পরিবর্তন করছেন। এই দেশটাকে বাঁচাতে পারে একমাত্র জাতীয় পাটি। সেই সঙ্গে সুন্দরগঞ্জের মানুষকে নিরাপত্তা দিতে পারবে জাতীয় পার্টি। তাই লাঙলে ভোট দিতে হবে। ধুবনী কঞ্চিবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে জাতীয় পার্টির নির্বাচনী সভায় প্রাধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, এই সরকার দেশ চালাতে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ। মবের ভয়ে এই সরকার বিচার করতে পারছেন না। যারা ৭১ এর চেতনাকে ধুলিসাৎ করেছেন, তাদের বিচার এই দেশের মাটিতে হবে। দেশের জন্য সকল রাজনৈতিক দল আন্দোলন করেছে। সকল দলের ভুলত্রুটি আছে, সেজন্য কোনো দলকে নিষিদ্ধ করা রাজনৈতিক সমাধান হতে পারে না।

শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, দেশে সুশাসন নেই। দেশ একটি ক্লান্তি লগ্নে দাড়িয়ে আছে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করার জন্য জাতীয় পার্টিকে ভোট দিতে হবে। দেড় বছরে সরকার এই দেশকে নরকে পরিণত করেছে। তিনি দলীয় নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ থেকে মবকে মোকাবিলা করার আহ্বান জানান। সুন্দরগঞ্জের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য লাঙলে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে সংসদে পাঠাতে হবে। তাহলে সুন্দরগঞ্জের মানুষ শান্তিতে থাকতে পারবেন।

জাপা মহাসচিব বলেন, নির্বাচিত হলে ধুবনী কঞ্চিবাড়িকে একটি আলাদা উপজেলা করব। এটি আমার একটি অসমাপ্ত কাজ।

সভায় আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় পাটির সাবেক এমপি মো. ওয়াহেদুজ্জামান সরকার বাদশা, উপজেলা জাতীয় পাটির সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল মান্নান মন্ডল প্রমুখ।




আগামী নির্বাচন হবে মতলববাজ রাজনীতির কবর রচনার নির্বাচন: জামায়াত আমির

জহুরুল হক জনি, লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডাঃ শফিকুর রহমান বলেছেন, জামায়াত সরকার গঠন করলে সব ধরনের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।

একই সঙ্গে তিস্তাকে জীবন্ত নদীতে রূপ দিয়ে উত্তরবঙ্গকে কৃষি ও শিল্পের রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

বুধবার লালমনিরহাটের তিস্তা ব্যারাজ এলাকার হেলিপ্যাড মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে আয়োজিত এই জনসভায় তিনি বলেন, তিস্তা উত্তরবঙ্গের মানুষের জন্য আশীর্বাদ হওয়ার কথা থাকলেও ভুল পরিকল্পনা ও অবহেলার কারণে এটি আজ এই অঞ্চলের মানুষের জন্য অভিশাপে পরিণত হয়েছে।

এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ডাঃ শফিকুর রহমান বলেন, আগামী নির্বাচন হবে মতলববাজ রাজনীতির কবর রচনার নির্বাচন। মানুষ এখন পরিবর্তন চায় এবং সেই পরিবর্তনের মাধ্যম হতে পারে ন্যায়ভিত্তিক রাজনীতি।

জনসভায় তিনি লালমনিরহাট ও নীলফামারীর সাতটি আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থীদের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন এবং আসন্ন নির্বাচনে এ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

জনসভা শুরুর আগেই তিস্তা ব্যারাজ এলাকার হেলিপ্যাড মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।

লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত হাজারো নেতাকর্মী ও সমর্থকের উপস্থিতিতে মাঠে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। দুপুর একটার দিকে জামায়াত আমির মঞ্চে ওঠেন।

জনসভায় সভাপতিত্ব করেন লালমনিরহাট জেলা জামায়াতের আমির ও লালমনিরহাট-০৩ আসনের প্রার্থী মোঃ আবু তাহের।

সমাবেশ সঞ্চালনা করেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ফিরোজ হায়দার লাভলু।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন লালমনিরহাট-০১ আসনের প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম রাজু, নীলফামারী জেলা জামায়াতের আমীর ও নীলফামারী-০১ আসনের প্রার্থী অধ্যক্ষ আব্দুস সাত্তার।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন নীলফামারী-০২ আসনের প্রার্থী অ্যাডভোকেট আল-ফারুক আব্দুল লতীফ, নীলফামারী-০৩ আসনের প্রার্থী ওবায়দুল্লাহ সালাফী এবং নীলফামারী-০৪ আসনের প্রার্থী আব্দুল মুনতাকিম।




টাঙ্গাইল পৌরকৃষক দলের উদ্যোগে আলহাজ সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ধানের শীষের নির্বাচনী প্রচারণা সভায়

টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধ: টাঙ্গাইল পৌরকৃষক দলের উদ্যোগে আলহাজ সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ভাইয়ের ধানের শীষের নির্বাচনী উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

এতে প্রধান অতিথি জেলা কৃষকদলের আহবায়ক ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক জনাব দিপু হায়দার খান। আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব জনাব শামীমুর রহমান খান ভিপি শামীম।

এতে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ভাইয়ের পক্ষে ভোট প্রার্থনা করেন তার সহধর্মিনী জনাব ছিম্মি ভাবী। আরো উপস্থিত ছিলেন পৌর কৃষকদের আহবায়ক জনাব সাইফুল ইসলাম লিটন ভাই।

সকল বক্তারা উন্নয়নের স্বার্থে আগামীর রাষ্ট্রনায়ক জনাব তারেক রহমানের দেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে ধানের শীষের পক্ষে ভোট দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।




রাজনীতিতে দয়া করে মিথ্যা কথা বলবেন না: মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বিএনপি সব সময় কাজে বিশ্বাসী, সমালোচনার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না বলে মন্তব্য করেছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। 

তিনি বলেন, বর্তমানে একটি দল রাজনীতিতে সামনে আসছে—যাদের আমরা আগে কখনো দেখিনি। আমাদের সঙ্গেই ছিল, একসাথে চলেছে, এখন নির্বাচনে অংশ নিতে আসছে। এতে আপত্তি নেই, তবে রাজনীতিতে দয়া করে মিথ্যা কথা বলবেন না, গীবতকারীদের মতো গীবত গাইবেন না এবং অন্যের কুৎসা রটাবেন না।

তিনি বলেন, চরমোনাইসহ দেশের আলেম-ওলামারা বলেছেন জামায়াতে ইসলামী কোনো ইসলামিক দল নয়। তারা ইসলামের কথা বলে প্রতারণা করছে। জামায়াতে ইসলামী বলছে, দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে জান্নাতে যাওয়া যাবে—নাউজুবিল্লাহ। কোনো প্রকৃত মুসলমান এমন কথা বিশ্বাস করতে পারে না। মুসলমান বিশ্বাস করে আমলের ওপর; আল্লাহ তায়ালা তাকে জান্নাত দেবেন কি দেবেন না, তা আমলের ওপরই নির্ভর করে।

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, টেলিভিশন ও পত্রিকায় এসেছে—জামায়াতের আমীর সাহেব নারীদের নিয়ে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেছেন। যে দলের একজন নেতা মা-বোনদের ইজ্জত ও সম্মান করতে পারে না, তাদের সম্পর্কে কটু কথা বলে—কখনো বেহেশতে যেতে পারবে? তারা কি ভালো কাজ করতে পারবে?

বুধবার (০৪ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় ঠাকুরগাঁও-১ আসনের নির্বাচনী এলাকার নারগুণ ইউনিয়নের কিসমত দৌলতপুর দাখিল মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত এক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

পথসভায় তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ছেলে তারেক রহমান একেবারেই জিয়ার মতো হয়ে উঠেছেন। দেশে ফিরেই তারেক রহমান বলেছেন— ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’, অর্থাৎ তার একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, আগামী এক বছরের মধ্যে ১ কোটি ছেলে-মেয়ের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। মা-বোনদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড চালু করা হবে এবং সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হবে। এছাড়া যারা এনজিও থেকে ঋণ নিয়েছেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে সেই ঋণ পরিশোধের দায়িত্ব সরকার নেবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ে সর্বপ্রথম ভুট্টা চাষের সূচনা করা হয়েছে বিএনপির হাত ধরেই। কাজী ফার্মস আনার মাধ্যমে জেলায় ভুট্টা চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে, কৃষকরা উপকৃত হয়েছেন এবং বহু মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে ঠাকুরগাঁওয়ে সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

শেষে তিনি আগামী ১২ তারিখ সকালে কেন্দ্রে গিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান।




নির্বাচন সুষ্ঠু হলে জাতীয় পার্টি জিতবে: জিএম কাদের

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ আগের তুলনায় লাঙ্গলের ভোট বেড়েছে উল্লেখ করে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেছেন, আসন্ন সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে হলে জাতীয় পার্টি জিতবে।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রংপুর জাহাজ কোম্পানি মোড় এলাকায় জনসংযোগকালে তিনি এসব কথা বলেন।

জিএম কাদের বলেন, যে যাই বলুক ইতোপূর্বেও পারেনি, ভবিষ্যতেও কেউ জাতীয় পার্টির কবর রচনা করতে পারবে না। অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে কিন্তু জাতীয় পার্টিকে বাদ দিয়ে কেউ কিছু করতে পারবে না।

এ সময় জিএম কাদের বলেন, জাতীয় পার্টিকে রংপুরের মানুষ যেভাবে আগলে রেখেছে, সেভাবেই সারাজীবন আগলে রাখবে। জাতীয় পার্টি আগের চেয়ে আরও বেশি উজ্জীবিত ও সংগঠিত।




সেনা সদস্যদের সঙ্গে তর্ক: জামায়াত প্রার্থীকে এক্স-ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশনের আলটিমেটাম

ডেস্ক নিউজঃ ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় গানম্যানসহ প্রবেশের চেষ্টা এবং দায়িত্বরত সেনা সদস্যদের সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের অভিযোগে ঢাকা-১৭ আসনের জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী ডা. এস এম খালিদুজ্জামানকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার আলটিমেটাম দিয়েছে সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক সদস্যদের সংগঠন ‘এক্স-ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশন’। অন্যথায় তাকে ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় ‘পারসোনা নন গ্রেটা’ (পিএনজি) বা অবাঞ্ছিত ঘোষণা করার দাবি জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকেলে সংগঠনটির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানানো হয়।

এক্স-ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট লেফটেন্যান্ট সাইফুল্লাহ খান সাইফ (অব.) স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী ডা. খালিদুজ্জামান ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় অস্ত্রসহ প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সেনা সদস্যরা তাকে বাধা দিলে তিনি তাঁদের উদ্দেশ্যে কুরুচিপূর্ণ ও অবমাননাকর মন্তব্য করেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ ধরনের আচরণ সশস্ত্র বাহিনীর মনোবল, মর্যাদা ও রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলার ওপর সরাসরি আঘাত। রাজনৈতিক পরিচয় কাউকে সংবিধান ও আইনের ঊর্ধ্বে অবস্থান করার অধিকার দেয় না। ক্যান্টনমেন্ট কোনো রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের জায়গা নয়; এটি একটি সংবেদনশীল রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা এলাকা।

সংগঠনটি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানায়, অভিযুক্ত প্রার্থী যদি আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা না চান এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের আচরণ না করার অঙ্গীকার না করেন, তাহলে তাকে ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় ‘পারসোনা নন গ্রেটা’ ঘোষণা করার দাবি জানানো হবে। রাষ্ট্রের আইন, সামরিক বাহিনীর মর্যাদা এবং জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

এর আগে সেনা সদস্যদের সঙ্গে তর্কের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মঙ্গলবার দুপুরে ডা. খালিদুজ্জামান ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বিষয়টিকে ‘ভুল বোঝাবুঝি’ এবং ‘নিষ্পত্তি হওয়া ইস্যু’ বলে উল্লেখ করেন। তবে তার সেই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এক্স-ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে এ কঠোর বিবৃতি ও আলটিমেটাম দেওয়া হয়।




‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট দিতে হবে: তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ আসন্ন গণভোটে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

শুক্রবার রাতে রংপুরের ঐতিহাসিক কালেক্টরেট ঈদগাঁও মাঠে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

তারেক রহমান বলেন, রংপুর আবু সাঈদের পবিত্র রক্ত মেশানো মাটি। আবু সাঈদ ও ওয়াসিমসহ প্রায় ১৪০০ শহীদ যে স্বপ্ন নিয়ে জীবন উৎসর্গ করেছেন, সেই ‘জুলাই সনদ’ রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

তিনি বলেন, ৫ আগস্টের বিপ্লবে সাধারণ মানুষের যে অংশগ্রহণ ছিল, সেই ঐক্য ধরে রাখতে হবে। নিশিরাত বা ডামি নির্বাচনের দিন শেষ উল্লেখ করে তিনি জনগণকে অধিকার প্রয়োগে সজাগ থাকার আহ্বান জানান।

রংপুরের উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, রংপুরকে অনেকে গরিব অঞ্চল বললেও এটি আসলে অত্যন্ত সম্ভাবনাময় এলাকা। আমাদের লক্ষ্য রংপুরকে ঢেলে সাজানো। এখানে কৃষিজাত পণ্যের শিল্পকারখানা গড়ে তোলা হবে এবং ব্যবসায়ীদের বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে, যাতে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। এ ছাড়া স্থানীয় আইটি প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দিষ্ট মেয়াদে কর ছাড় দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে আমাদের।

কৃষক ও নারীদের কল্যাণে দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফ করা হবে এবং তাদের হাতে কৃষি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। অন্তত এক ফসলের বীজ ও কীটনাশক বিনামূল্যে দেওয়া হবে। এ ছাড়া ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর মাধ্যমে নারীদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও অধিকার নিশ্চিত করা হবে।

উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, আমরা আমাদের পরিকল্পনা জানালাম, এখন আপনাদের পরিকল্পনা কী? জবাবে জনতা ‘ধানের শীষ’ বলে স্লোগান দিলে তিনি সবাইকে ফজরের নামাজ পড়েই ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান।




কাল রংপুরে যাচ্ছেন তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ নির্বাচনী জনসভায় অংশ নিতে আগামীকাল বিভাগীয় শহর রংপুরে যাচ্ছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার আগমন ঘিরে পুরো বিভাগজুড়ে বিরাজ করছে সাজ সাজ রব। সেই সাথে জমে উঠেছে নির্বাচনী প্রচারণা।

সমাবেশকে সফল করতে এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে বিভক্তি ভুলে এক হয়ে কাজ করছেন নেতাকর্মীরা।যারা মনোনয়ন পাননি, তারাও অভিমান ভুলে এক কাতারে দাঁড়িয়ে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ৩০ জানুয়ারি শুক্রবার বিকেল ৪টায় তারেক রহমান রংপুরের পীরগঞ্জে জুলাই বিপ্লবে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করবেন। এরপর বিকেল সাড়ে ৪টায় কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে জনসভায় বক্তব্য রাখবেন বিএনপি চেয়ারম্যান।

রংপুরে ৬টি  নির্বাচনী  আসন রয়েছে। বিএনপির মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার আগে প্রতিটি আসনে চার থেকে পাঁচজন মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। চূড়ান্ত মনোনয়নের পরে যারা মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েছেন তাদের অনেকের মাঝে কিছুটা মান-অভিমান দেখা গিয়েছিল।

প্রচার প্রচারণায়  অংশ না নেয়ায় বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের একাধিক নেতাকে শোকজ করা হয়েছিল। তবে তারকে রহমানের আগমনের কারণে অভিমান ভুলে প্রচারণায় নেমেছেন নেতাকর্মীরা। বিএনপি এবং অঙ্গ সংগঠনের সকল নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। তারা ধানের শীষ প্রতীককে বিজয়ী  করতে জনগণের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন।

বিএনপির একাধিক নেতা বলেন, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আগমন রংপুর বিএনপির সকল ভেদাভেদ ভুলিয়ে দিয়েছে। সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করছেন। তারেক রহমানের সফর রংপুর বিভাগের ৩৩ আসনে বিএনপির প্রার্থীকে বিজয়ী করতে কার্যকর ভূমিকা পালন করবেন।

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসনের প্রার্থী সাইফুল ইসলাম বলেন, সমাবেশকে সফল করতে সব ধরনের প্রস্তুতি চলছে। আর রংপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ব ও রংপুর-৩ আসনের (সদর ও আংশিক সিটি) সামসুজ্জামান সামু বলেন, দলের প্রধানের রংপুর আগমন ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ও উদ্দীপনা কাজ করছে। নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।