জাতীয় পার্টিকে আওয়ামী লীগের দোসর আখ্যা দেওয়ার তীব্র প্রতিবাদ

এসএম বদরুল আলমঃ জাতীয় ছাত্র সমাজের সদস্য সচিব মো. আরিফ আলী অভিযোগ করেছেন যে জাতীয় পার্টিকে (জাপা) স্বৈরাচারের দোসর হিসেবে প্রচারের যে অপচেষ্টা চলছে—তা “স্পষ্ট মিথ্যাচার এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার”।

শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের প্রথম দিন থেকেই জাতীয় ছাত্র সমাজ ও জাতীয় পার্টি রাজপথে সক্রিয় ছিল। অথচ এ সত্যটি গোপন করে উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে, যা তিনি “নিন্দনীয় ও ধিক্কারযোগ্য” বলে মন্তব্য করেন।

বিবৃতিতে তিনি জানান, আন্দোলনের সময়ে রংপুর মহানগর জাতীয় পার্টির নেতা মেরাজুল ইসলাম এবং জাতীয় অটো শ্রমিক পার্টির নেতা মানিক মিয়া শহিদ হন। ১৩ জুলাই জাতীয় ছাত্র সমাজ আন্দোলনে আনুষ্ঠানিক সমর্থন জানায় এবং ১৬ জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ডের পর দেশের প্রথম সংগঠিত বিক্ষোভ রংপুরে জাপার ব্যানারে অনুষ্ঠিত হয়—যেখানে পুলিশি হামলায় বহু নেতা-কর্মী আহত হন।

আরিফ আলী বলেন, ১৭ জুলাই আবু সাইদের গায়েবানা জানাজা থেকে শুরু করে ২১ জুলাই তাকে এবং জাতীয় যুব সংহতির রংপুর মহানগরের সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ আহম্মেদসহ সাতজনকে গ্রেফতার ও নির্যাতন করা হয়। পরে ১১টি “মিথ্যা মামলা” দিয়ে ৭ জনকে গ্রেফতার এবং ৩৩ জন নেতা-কর্মীকে অভিযুক্ত করা হয়, যা জাতীয় গণমাধ্যমেও প্রচারিত হয়েছে।

তিনি আরও জানান, জিএম কাদেরের নির্দেশে সারা দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে গিয়ে জাতীয় পার্টির তিন শতাধিক কর্মী টিয়ারশেল, লাঠিচার্জ ও রাবার বুলেটে আহত হয়েছেন।

তার দাবি, ৩ আগস্ট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে একদফা আন্দোলনে জাতীয় পার্টির প্রকাশ্য একাত্মতা এবং ৫ আগস্ট সরকার পতন পর্যন্ত দলের অবিচল উপস্থিতি—এসব প্রমাণ করে জাপা আন্দোলনের অংশীদার ছিল। “এমন ইতিহাস থাকার পরও যারা জাপাকে আওয়ামী লীগের দোসর বলছে, তারা জুলাই বিপ্লবের শহিদদের রক্তকে অপমান করছে,”—বলেন তিনি।

বিবৃতিতে আরিফ আলী বলেন, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের সংসদ, জনসভা ও গণমাধ্যমে শুরু থেকেই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমর্থনে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছেন।
তার ভাষায়, তাদের বিরুদ্ধে চলমান অপপ্রচার “রাজনৈতিক হীন স্বার্থের বহিঃপ্রকাশ”।

বিবৃতির শেষে তিনি এ ধরনের “উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যাচার ও শিষ্টাচারবহির্ভূত আচরণের” তীব্র প্রতিবাদ জানান।




তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন মায়ের প্রতি ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ এবং অতীতের নির্মম স্মৃতি- ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার

বিশেষ প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশের রাজনীতিতে আজ সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্ন—তারেক রহমান দেশে ফিরছেন না কেন? তিনি কি নিজের দেশকে ভালোবাসেন না? সত্যটা অনেক গভীর। এর ভিতরে আছে মায়ের জন্য সন্তানের হৃদয়ভাঙা অপেক্ষা, আছে নিরাপত্তার অজানা শঙ্কা, আর আছে ইতিহাসের নির্মমতা।

তারেক রহমান বহুবার বলেছেন যে, বাংলাদেশই তাঁর হৃদয়। বাংলাদেশই তাঁর বাড়ি, তাঁর শেকড়। তাঁর মা, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, যাঁর জন্য তিনি সবসময় ব্যাকুল। মায়ের অসুস্থতার প্রতিটি মুহূর্ত তাঁর জন্য অসহনীয় কষ্টের। একজন সন্তানের কাছে এর চেয়ে বড় ট্র্যাজেডি আর কী হতে পারে? প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে তাঁর একটাই ভাবনা – কবে আমি মায়ের পাশে দাঁড়াতে পারব?

কিন্তু বাস্তবতা অন্য কথা বলে। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী বেগম জিয়ার জরুরি উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। যে কোনো সময় তাঁকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে লন্ডনে স্থানান্তর করতে হতে পারে। সেই প্রস্তুতি নিয়েই তারেক রহমান এবং তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান লন্ডনে প্রতিটি দিন কাটাচ্ছেন – বাংলাদেশ সহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বিশ্বসেরা চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে, চিকিৎসার সব ব্যবস্থা করে, শুধু নির্দেশের অপেক্ষায়। লন্ডন তাদের জন্য এখন বিশ্রামের নিবাস নয়; লন্ডন এখন মায়ের জীবন বাঁচানোর অপেক্ষার ঘর।

এখানেই শেষ নয়। বাংলাদেশে তারেক রহমানের ওপর এখনো গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকি রয়েছে। অতীতের স্মৃতি তাঁর পরিবার এবং দলের কাছে এখনো তাজা। ফখরুদ্দিন-মইন মদদপুষ্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তিনি রাষ্ট্রযন্ত্রের নামে অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। আইনের ন্যূনতম সুরক্ষা পাননি। সমাজের বিবেক – মিডিয়া ও সিভিল সোসাইটি – তখন নীরব ছিল। তখন ওনার উপর যে ভয়াবহ নির্মমতা হয়েছিল, তা ছিল মানবাধিকারের প্রকাশ্য লঙ্ঘন। রাষ্ট্র যখন নিজেই প্রতিশোধে মেতে ওঠে, সুরক্ষা ছাড়া দেশে ফেরা বীরত্ব নয় – এটি ফাঁদ।

আজও সেই অজানা ভয়, সেই রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের সম্ভাবনা একেবারে চলে যায়নি। তাই তাঁর ফিরে আসা শুধু আবেগ নয়, এটি রাজনৈতিক হিসাব, ভবিষ্যতের দায়িত্ব এবং জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত।

তবু দূরে থেকেও তারেক রহমান নেতৃত্ব দিচ্ছেন গণতন্ত্রের অধিকারের জন্য, মানুষের ভোটের মর্যাদার জন্য, দেশকে নতুন ভবিষ্যতের পথে নিয়ে যাওয়ার জন্য যার মধ্যে প্রাধান্য পেয়েছে কৃষি, স্বাস্থ্য, সহ নারী ও তরুণ-যুবাদের জীবন ও জীবিকার উন্নতি। দূরত্ব তাঁর নেতৃত্বকে কমিয়ে দেয়নি; বরং আরও প্রখর করেছে।

যারা প্রশ্ন করেন “এখনই কেন ফিরছেন না?” – তাদের মনে রাখতে হবে: একজন দায়িত্ববান নেতা শুধু আবেগ দিয়ে সিদ্ধান্ত নেন না; সঠিক সময়ের অপেক্ষা করেন।

আজ তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব—মাকে বাঁচানো। আর দেশের জন্য তাঁর সবচেয়ে বড় প্রতিশ্রুতি, একদিন ফিরে এসে জনগণের অধিকার পুনরুদ্ধার করা।

তারেক রহমানের দেশের প্রতি ভালোবাসা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তাঁর ফেরা হবে। কিন্তু, তা হবে শক্তভাবে, নিরাপদে এবং দেশের নেতৃত্ব দেওয়ার পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে। সেই প্রত্যাবর্তন হবে বাংলাদেশের নতুন সূচনার দিন।

লেখকঃ বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য ও বিশ্ব ব্যাংকের সাবেক স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিশেষজ্ঞ।




জেলা ট্রাক ট্যাংলরী ও কাভার্ড ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের আয়োজনে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার আশু রোগমুক্তি কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

জহুরুল হক জনি, লালমনিরহাট প্রতিনিধি: সোমবার (১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় লালমনিরহাট জেলা ট্রাক ট্যাংকলরী কাভার্ড ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন কার্যালয়ে বিএনপি চেয়ারপার্সন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আশু রোগমুক্তি ও দীর্ঘায়ু কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

দোয়া মাহফিলে বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনার পাশাপাশি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও জিয়া পরিবারের সদস্যদের মঙ্গল কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।

দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়নের সভাপতি জালাল উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, রেল শ্রমিক দলের সভাপতি আব্দুল মতিন, জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি উমর ফারুক বাবলু ও সাধারণ সম্পাদক আনিচুর রহমানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

দোয়া মাহফিল শেষে নেতারা দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করেন এবং সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে পাশে থাকার আহ্বান জানান।




আমি আশ্বাসের রাজনীতিতে মোটেই বিশ্বাস করি না: জামায়াত আমির

ডেস্ক নিউজঃ আমি আশ্বাসের রাজনীতিতে মোটেই বিশ্বাস করি না, আমি বিশ্বাস করি অ্যাকশনের রাজনীতি-এমনটাই মন্তব্য করেছেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। রোববার (৩০ নভেম্বর) দুপুরে ‘প্রন্তিক পর্যায়ে স্বাভাবিক প্রসব সেবা প্রদানে কমিউনিটি হেলথকেয়ার প্রোভাইডারদের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ কথা জানান।  

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আশ্বাস এবং ওয়াদা নয় বরং কাজের মাধ্যমে প্রমাণ হবে হোয়াট উই আর ফর এন্ড হোয়াট ফর আই। বাংলায় একটা কথা আছে। ও গাছ তোমার পরিচয় কি? গাছ বলতেসে আমার ফলের দিকে তাকাইয়া আমার পরিচয়টা জেনে নাও। আমাদের প্রয়োজন এখন ফল। এই ফলের ফসলের চাষটা আমাদের সবাইকে মিলে করতে হবে।’

দেশের মানুষকে ভালো উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, ‘তবে খারাপ রাজনীতিবিদদের কারণে দেশে কিছুই হয় না। কিন্তু আমরা মূল ধরে টান দিবো।’

দেশে মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থা নেই জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘মা বাবা নয়, সন্তান কী নিয়ে পড়াশোনা করবে তা নির্ধারণ করবে শিক্ষক। আমাদের টার্গেট সব শিশুকে গড়ে তোলা। আগামীতে বোঝা নয়, সম্পদ হয়ে উঠবে তারা।’

এখন জাস্টিস পয়সা দিয়ে কিনতে হয় মন্তব্য করে জামায়াত আমির বলেন, ‘এর পরিবর্তন করতে হবে আমাদের।’

তিনি বলেন, ‘আমরা সরকারে গেলে কোনো দাবি নিয়ে দপ্তরে দপ্তরে ধরনা দিতে হবে না, আন্দোলন করতে হবে না। সরকার তার দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেবে।’

সরকারে না গেলেও জামায়াতের পক্ষ থেকে ১০০ ক্লিনিকে সোলার প্যানেল লাগানোর কথা জানান ডা. শফিকুর রহমান।




খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় দোয়ার আহ্বান হেফাজতের

ডেস্ক নিউজঃ হাসপাতালে গুরুতর অসুস্থ সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আশু সুস্থতা কামনায় দেশবাসীকে দোয়ার আহ্বান জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলামের আমির মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব সাজেদুর রহমান।

শনিবার (২৯ নভেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তারা বলেন, আমরা দোয়া করছি, আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাকে দ্রুত সুস্থ করে জাতির এই দুর্দিনে আবারও দেশের হাল ধরার তাওফিক দান করুন, আমিন। ২০১৩ সালে শাহবাগের ইসলামবিদ্বেষী নাস্তিকদের বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান নিয়ে ইসলাম, দেশ ও জাতির স্বার্থের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন খালেদা জিয়া।

‘ভারতপন্থি সেকুলার প্রগতিশীলদের চক্রান্ত উপেক্ষা করে হেফাজতের আন্দোলনে সমর্থন দিয়েছিলেন। হেফাজতের পাশে থাকতে তার দলের নেতাকর্মীদেরও নির্দেশ দিয়েছিলেন। তিনি একজন দেশপ্রেমিক ও সাহসী ঈমানদার নারী। তার কাছ থেকে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের শিক্ষা নেওয়া সময়ের অপরিহার্য দাবি।’

হেফাজত নেতারা বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া শুধু সাবেক প্রধানমন্ত্রীই নন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানেরও সহধর্মিনী। শহীদ জিয়া আলেম-ওলামাকে ভালোবাসতেন। স্বামীর আদর্শ ও পদাঙ্ক অনুসরণ করে ভারতীয় আধিপত্যবাদ ও আওয়ামী ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়া আপসহীনভাবে লড়াই করে গেছেন। মিথ্যা মামলায় জেল খেটেছেন। নানা প্রোপাগান্ডার শিকার হয়েছেন। ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে তার সুদীর্ঘ ত্যাগ-তিতিক্ষা ও সংগ্রাম দেশপ্রেমিক জনগণের জন্য অনুপ্রেরণা।




তিন দিন পর কথা বললেও ঝুঁকিমুক্ত নন খালেদা জিয়া

ডেস্ক নিউজঃ এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পাঁচ দিন ধরে সিসিইউতে থাকা গুরুতর অসুস্থ খালেদা জিয়া গত বুধবার থেকে প্রায় সাড়াহীন ছিলেন। তিন দিন পর গতকাল শনিবার সকালে তিনি সংক্ষিপ্তভাবে কথা বলেছেন—এ তথ্য নিশ্চিত করেছে চিকিৎসক ও পরিবার-ঘনিষ্ঠ সূত্র।

সামান্য উন্নতি, তবে সংকট কাটেনি

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, গত তিন দিনের তুলনায় তাঁর অবস্থায় সামান্য উন্নতি দেখা গেলেও সামগ্রিক সংকট এখনো কাটেনি। বিশেষ করে কিডনির কার্যক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ায় তাঁকে চার দিন ধরে টানা ডায়ালাইসিসে রাখা হয়েছে। শরীরে অতিরিক্ত তরল জমে শ্বাসকষ্ট বাড়ায় তাঁর অবস্থা আরও জটিল হয়ে পড়ে। সচেতন থাকলেও তিনি সাড়া দিচ্ছিলেন না বলে জানানো হয়।

শুক্রবার রাত থেকে সামান্য অগ্রগতি দেখা গেলে গতকাল সকালে পুত্রবধূ শামিলা রহমানের সঙ্গে কয়েকটি কথা বলেন তিনি। এটিকে চিকিৎসকেরা ইতিবাচক লক্ষণ হিসেবে দেখছেন।

বিদেশে নেওয়ার বিষয়ে নতুন সিদ্ধান্ত

দেশি–বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড তাঁর উন্নত চিকিৎসার জন্য আবারও বিদেশে নেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে বিমানযাত্রার ধকল সহ্য করার মতো শারীরিক সক্ষমতা আছে কি না—এটি বিবেচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সূত্র জানায়, সম্ভব হলে তাঁকে লন্ডন ক্লিনিকে নেওয়া হবে। তা সম্ভব না হলে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতাল হতে পারে বিকল্প। এদিকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার বর্তমান শারীরিক অবস্থা বিদেশে নেওয়ার মতো নয়।

ডায়ালাইসিস চলছে, পর্যবেক্ষণে মেডিকেল বোর্ড

একটানা ডায়ালাইসিস দেওয়ার পরও শরীরের পানি নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারায় তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হয়। কয়েক দিনের ডায়ালাইসিস শেষে অবস্থার ওপর ভিত্তি করে নতুন চিকিৎসা পরিকল্পনা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। তাঁরা সতর্ক করে বলেছেন, এখনো যেকোনো সময় পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটতে পারে।

৮০ বছর বয়সী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে হৃদ্‌রোগ, ডায়াবেটিস, লিভার সিরোসিস, আর্থ্রাইটিস ও কিডনির জটিলতায় ভুগছেন।

বিএনপির শীর্ষ নেতাদের অবস্থান

শুক্রবার রাতে আড়াই ঘণ্টার আলোচনায় মেডিকেল বোর্ড জানিয়েছিল, তাঁর বিদেশে চিকিৎসা জরুরি। পরিবারের পক্ষ থেকেও এয়ার অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়। তবে বিএনপি মহাসচিবের ভাষায়—“সব প্রস্তুতি থাকলেও তাঁর শরীর এখন সে ধকল নেওয়ার মতো নয়।”

রাষ্ট্রপতির দোয়ার আহ্বান

গতকাল রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা করে দেশবাসীর কাছে দোয়া প্রার্থনা করেছেন। এর আগে প্রধান উপদেষ্টাও একই আহ্বান জানান।

হাসপাতালের সামনে ভিড়, ফখরুলের অনুরোধ

খালেদা জিয়ার অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়লে এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে নেতাকর্মীদের ভিড় বাড়তে থাকে। কেউ কেউ ব্যানার নিয়ে দোয়া মাহফিলও করেন, যা যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

মির্জা ফখরুল সাংবাদিকদের মাধ্যমে অনুরোধ জানান—
“দয়া করে হাসপাতালে ভিড় করবেন না। এতে চিকিৎসায় বিঘ্ন ঘটছে এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিব্রত হচ্ছেন।”

বিএনপি, খেলাফত মজলিসসহ বিভিন্ন দলের নেতা–কর্মীরা গতকাল হাসপাতালে খালেদা জিয়ার খোঁজ নিতে যান। পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর ছেলে তারেক রহমান সবার দোয়া ও ভালোবাসার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।




খালেদা জিয়ার আশু রোগমুক্তি কামনায় লালমনিরহাটে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

জহুরুল হক জনি, লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ বিএনপি চেয়ারপার্সন ও তিন বারের সাবেক সফল প্রধানমন্ত্রী আপোষহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আশু রোগমুক্তি ও সুস্থতা কামনায় লালমনিরহাটে এক দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (২৯ নভেম্বর) সকালে জেলা বিএনপির আয়োজনে সদর উপজেলার মিশনমোড়ে বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ে হামার বাড়ীতে এই দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন, লালমনিরহাট জেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু।

জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট ফজলুল হক সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই মাহফিলে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ কে এম মমিনুল হক ও ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও পৌর বিএনপির সভাপতি আফজাল হোসেন-সহ বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

আলোচনা শেষে দেশনেত্রীর সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

নেতারা বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া শুধু একজন রাজনৈতিক নেত্রী নন, তিনি গণতন্ত্রের প্রতীক। তাঁর মুক্তি ও সুস্থতা আজ দেশের আপামর জনতার প্রাণের দাবি।”

দোয়া মাহফিলে দলীয় নেতাকর্মী ও সর্বস্তরের জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।




সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে এভারকেয়ার হাসপাতালে জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারীর নেতৃত্বে দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ

এসএম বদরুল আলমঃ আজ রাতে জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারীর নেতৃত্বে পার্টির নেতৃবৃন্দ রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে যান।

এসময় উপস্থিত ছিলেন—
জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য হাজী সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন, আব্দুর রশিদ সরকার, অ্যাডভোকেট মো. রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, আলমগীর সিকদার লোটন, ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল হোসেন তাপস, আজমল হোসেন লেবু, আলহাজ্ব আবু তাহের, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মোঃ খলিলুর রহমান খলিল, জাহিদ হাসান, ভাইস চেয়ারম্যান আহাদ ইউ. চৌধুরী শাহিন, এম. এ. সোবহান, আক্তার হোসেন দেওয়ান, যুগ্ম মহাসচিব আমির হোসেন ভূঁইয়া, আব্দুর রাজ্জাক, সাংগঠনিক সম্পাদক আনিসুর রহমান খোকন, কাজী আবুল খায়ের, আজহার সরকার, মিজানুর রহমান মিরু, আব্দুল হান্নান, আবুল কালাম আজাদ, কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুল ওয়াহাব, আল-আমীন সরকার, আরিফুল ইসলাম রুবেল, জহিরুল ইসলাম, মেহেদী হাসান শিপন, আব্দুর রহিম, আব্দুল জলিল, মাহমুদুল হক মনি, হাবিব মিয়া, মাহমুদ হাসান অয়ন, মনির হোসেন, ময়নুল ইসলাম প্রামাণিক প্রমুখ।

নেতৃবৃন্দ বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি ও দ্রুত সুস্থতা কামনা করে মহান আল্লাহর দরবারে দো’আ করেন।




খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া চাইলেন তাসনিম জারা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। এমন অবস্থায় রাজনীতি, দল-মত, মতাদর্শ, সবকিছুর ঊর্ধ্বে উঠে তার জন্য সবার দোয়া কাছে দোয়া চেয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা। 

শনিবার (২৯ নভেম্বর) সকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক পোস্টে তিনি খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার কথা তুলে ধরে সবার কাছে দোয়া চান।

তাসনিম জারা তার পোস্টে লিখেছেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। রাজনীতি, দল–মত, মতাদর্শ, সবকিছুর ঊর্ধ্বে উঠে তার জন্য সবার দোয়া কামনা করি।

এক সপ্তাহ আগে এক অনুষ্ঠানে তার সঙ্গে খুব অল্প সময়ের দেখা হয়েছিল। তিনি বলেছিলেন, “দেশে থাকো, দেশের জন্য কাজ করো।”

অসংখ্য মানুষ একই উপদেশ দেন। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া যখন এই কথা বলেন তার গভীরতা, ইতিহাস, আর সত্যতা অন্যরকম। জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়গুলোতেও তিনি দেশ ও দেশের মানুষের পাশ থেকে সরে দাঁড়াননি। বেদনা, অপমান ও সীমাহীন প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি নিজের অবস্থান এবং বিশ্বাস থেকে আপোষ করেননি।

বছরের পর বছর ধরে তিনি যে ধৈর্য ও সহনশীলতার দৃষ্টান্ত দেখিয়েছেন, তা আমাদের জন্য অনুকরণীয়।
মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে দোয়া করি, তিনি যেন বেগম খালেদা জিয়াকে রহমত, আরোগ্য ও শান্তি দান করেন।’




খালেদা জিয়ার অসুস্থতা: তারেক রহমান দেশে ফিরতে পারেন দ্রুতই

ডেস্ক নিউজঃ বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সংকটজনক হওয়ায় দ্রুতই দেশে ফিরতে পারেন লন্ডনে অবস্থানরত দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দলীয় সূত্রগুলো জানায়, পরিকল্পনা বদলে তার ফেরার সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট তারিখ এখনো নিশ্চিত নয়।

বর্তমানে খালেদা জিয়া এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার গুরুতর অসুস্থতার খবর দলের নেতা-কর্মীদের মাঝে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। লন্ডনে থাকা তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান সার্বক্ষণিক খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার খোঁজ রাখছেন। জুবাইদা রহমান মেডিকেল বোর্ডের একজন সদস্য হিসেবে চিকিৎসা-সংক্রান্ত আপডেটও পাচ্ছেন। পরিবার থেকে ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শামিলা রহমান এবং খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম এস্কান্দারও হাসপাতালে অবস্থান করছেন।

গতকাল শুক্রবার বিকেলে অসুস্থ খালেদা জিয়াকে দেখতে হাসপাতালে যান মির্জা ফখরুল ইসলাম। তিনি রাতে আবারও হাসপাতালে ছুটে যান। এ সময় বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারাও সেখানে ভিড় জমান। এ পরিস্থিতিতে তারেক রহমান শিগগিরই দেশে ফিরছেন বলে জানা গেছে।

আগামী ডিসেম্বরের শুরুতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার কথা রয়েছে। সে পরিপ্রেক্ষিতে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহকে তারেক রহমানের সম্ভাব্য দেশে ফেরার সময় হিসেবে আগে থেকেই আলোচনা হচ্ছিল। বিএনপির উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, তিনি দেশে ফিরে ভোটার হবেন এবং নির্বাচনী প্রচারেও যুক্ত হওয়ার পরিকল্পনা ছিল।

দলীয় সূত্র আরও জানায়, ১৭ বছর পর দ্বিতীয় শীর্ষ নেতার প্রত্যাবর্তন ঘিরে তার নিরাপত্তা, বাসভবন সংস্কার, অফিস সজ্জা—সব ধরনের প্রস্তুতি আগেই সম্পন্ন হয়েছে। পরিকল্পনা ছিল ওমরাহ পালন শেষে সৌদি আরব থেকে লন্ডনে ফিরে সেখান থেকেই সরাসরি ঢাকায় আসবেন তিনি।

কিন্তু খালেদা জিয়ার হঠাৎ গুরুতর অসুস্থতা পুরো পরিকল্পনাই বদলে দিতে পারে। শীর্ষ নেতাদের মতে, পরিস্থিতি বিবেচনায় তারেক রহমানকে আগেই দেশে ফিরতে হতে পারে।