ওমানে নিহত চার ভাইয়ের মরদেহ বাড়িতে, পাশাপাশি খোঁড়া হয়েছে কবর

ডেস্ক নিউজঃ চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর গ্রামে এখন শোকের মাতম। ওমানে বিষাক্ত গ্যাসে নিহত একই পরিবারের চার ভাইয়ের মরদেহ বুধবার (২০ মে) সকালে গ্রামের বাড়িতে পৌঁছেছে। চারটি অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহ আনার পর থেকেই বাড়িটিতে ভিড় করছেন স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয়রা। 

লালানগরের বান্দারাজার পাড়ার আবদুল মজিদের বাড়িতে এখন শুধুই কান্নার আহাজারি। সাদা কাফনে মোড়ানো চার ভাইয়ের নিথর দেহ ঘিরে স্বজনদের বিলাপে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। প্রতিবেশীরাও বলছেন, একসঙ্গে একই পরিবারের চার ভাইয়ের মরদেহ বাড়িতে ফেরার এমন হৃদয়বিদারক ঘটনা তারা আগে কখনো দেখেননি।

ওমানে মারা যাওয়া চার ভাই হলেন রাশেদুল ইসলাম, সাহেদুল ইসলাম, মো. সিরাজ ও মো. শহিদ। জীবিকার সন্ধানে তারা দীর্ঘদিন ধরে ওমানে কর্মরত ছিলেন।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ওমানের আল মিলিদ্দা এলাকার আল মোছানা স্টেট অব আল বাতিনাহতে একটি গাড়ির ভেতরে বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে তাদের মৃত্যু হয়। খবরটি দেশে পৌঁছানোর পর থেকেই পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে মরদেহগুলো ঢাকায় পৌঁছালে পরিবারের সদস্যদের কাছে সেগুলো হস্তান্তর করেন চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী। পরে বিশেষ ফ্রিজার অ্যাম্বুল্যান্সে করে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়।

সকাল ১১টায় হোসনাবাদ লালানগর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে চার ভাইয়ের জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি খোঁড়া চারটি কবরে তাদের দাফন করা হবে।




‘কুরবানির জন্য পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে গরু আনার প্রয়োজন নেই’

ডেস্ক নিউজ : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু বলেছেন, পবিত্র ঈদুল আজহায় দেশের চাহিদা মেটাতে পর্যাপ্ত পশু মজুত রয়েছে। কুরবানির জন্য পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে গরু আনার কোনো প্রয়োজন নেই। বাইরে থেকে যেন কোনো পশু দেশে প্রবেশ করতে না পারে, সে বিষয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশ পশু রপ্তানির দিকেও এগিয়ে যাবে।

রোববার (১৭ মে) বিকালে বগুড়া মহানগরীর গোকুল এলাকায় হোটেল মম ইন কনভেনশন সেন্টারে ‘টেকসই প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন: আধুনিক খামার ব্যবস্থাপনা, বাজার সংযোগ ও ভ্যালু চেইন’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পশুর চামড়ার দাম কমে যাওয়ার বিষয়টি সরকারের নজরে রয়েছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, চামড়ার দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি খামারিরা যাতে সহজ শর্তে ঋণ পেতে পারেন, সে বিষয়েও সরকার কাজ করছে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহজামাল খানের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন- বগুড়া-৬ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব দেলোয়ার হোসেন।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ডা. মোস্তফা কামাল। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (সম্প্রসারণ) ডা. বেগম শামছুন্নাহার আহমদ। মূল প্রবন্ধের ওপর আলোচনা করেন রাজশাহী বিভাগীয় পরিচালক ডা. আনন্দ কুমার অধিকারী এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আবদুল মান্নান মিয়া। অনুষ্ঠানে পাঁচ শতাধিক খামারি ও বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা অংশ নেন।




হরিণ বিক্রির ঘোষণা, কেনা যাবে ৫০ হাজার টাকায়

ডেস্ক নিউজঃ হরিণ বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) পরিচালিত কেন্দ্রীয় উদ্যান ও বোটানিক্যাল গার্ডেন কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, বর্তমানে উদ্যানে ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি হরিণ রয়েছে। বন বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি হরিণের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ জায়গা প্রয়োজন হলেও সেই মান বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে অতিরিক্ত হরিণগুলোকে নির্ধারিত মূল্য ও শর্তসাপেক্ষে হস্তান্তর বা বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রাসিকের ভেটেরিনারি সার্জন ড. ফরহাদ উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, বর্তমানে উদ্যানে প্রায় ৪০ হাজার বর্গফুট জায়গায় হরিণের জন্য সেড রয়েছে, যেখানে স্বাভাবিকভাবে সর্বোচ্চ ৮০-৮৫টি হরিণ রাখা সম্ভব। কিন্তু বর্তমানে ১২৯টি হরিণ রয়েছে, যা ব্যবস্থাপনায় চাপ তৈরি করছে। তাই বাড়তি হরিণগুলো আমরা নির্ধারিত ৫০ হাজার টাকা মূল্যে বিক্রি করতে চাই।

তিনি আরও বলেন, এর আগেও আমরা নিয়ম মেনে বিক্রি করেছি। তবে বন বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে অতিরিক্ত হরিণ বিক্রি বা হস্তান্তর করা হবে এবং যিনি কিনবেন তার অবশ্যই সুনির্দিষ্ট লাইসেন্স থাকতে হবে। এরপর যাচাই-বাছাই শেষে হরিণগুলো বিক্রি করা যেতে পারে। তবে শর্ত থাকবে, এসব হরিণ কোনোভাবেই জবাই করা যাবে না এবং কেবলমাত্র লালন-পালনের উদ্দেশ্যেই রাখা যাবে।

রাসিক সূত্রে জানা গেছে, এবার উদ্যানটিকে ‘বার্ড পার্ক’ হিসেবে গড়ে তোলার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেলে পুরো এলাকাকে পাখিভিত্তিক আধুনিক বিনোদনকেন্দ্র ও অভয়ারণ্যে রূপান্তর করা হবে। প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন প্রজাতির দেশি-বিদেশি রঙিন পাখি আনা, পাখিদের জন্য নিরাপদ আবাসস্থল তৈরি, প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ এবং দর্শনার্থীদের জন্য আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।




গাজীপুরের এক পরিবারের ৫ জনকে গলা কেটে হত্যা

ডেস্ক নিউজঃ গাজীপুরের কাপাসিয়ায় এক পরিবারের পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। শনিবার (৯ মে) ভোরে উপজেলার রাউৎকোনা গ্রামের ফোরকান মিয়ার বাড়িতে পাঁচজনের লাশ পড়ে থাকতে দেখা যায়।
বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কাপাসিয়া-কালীগঞ্জ সার্কেল) আসাদুজ্জামান।

স্থানীয়রা জানান, শনিবার ভোরে ঘরের মেঝেতে তিন শিশু, নারী ও এক যুবকের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ভিড় করেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে যে গৃহকর্তা ফোরকান মিয়া এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। তিনি তার তিন সন্তান, স্ত্রী ও শ্যালককে গলা কেটে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক।




বৈদ্যুতিক মিটার নিয়ে চোর পালালো; মহাখালী রাজউক অফিসে দুর্ধর্ষ চুরি

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাজধানীর মহাখালীতে অবস্থিত রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) জোন-৩ এর কার্যালয়ে এক চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনা ঘটেছে। ২১ এপ্রিল রাতের আধারে ভবনের প্রধান বিদ্যুৎ মিটারটি চোরেরা কেটে নিয়ে যাওয়ায় প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎহীন ভাবে চলছে পুরো অফিসের কার্যক্রম। এতে ব্যাহত হচ্ছে দাপ্তরিক গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম এবং চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন সেবাগ্রহীতারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সকালে রাজউক অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কাজে যোগ দেওয়ার পর দেখতে পান কোন ধরনের বিদ্যুৎ চলছে না। প্রাথমিকভাবে একে সাধারণ লোডশেডিং মনে করা হলেও দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎ না আসায় সন্দেহ তৈরি হয়। পরে বিদ্যুৎ কক্ষ পরীক্ষা করতে গিয়ে দেখা যায়, মেইন গেট বা নির্ধারিত স্থানের বিদ্যুৎ মিটারটি কৌশলে কেটে নিয়ে গেছে চোর চক্রের সদস্যরা।

বিদ্যুৎ না থাকায় সকাল থেকে রাজউকের সার্ভার এবং কম্পিউটার সিস্টেম বন্ধ হয়ে পড়ে। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা সেবাগ্রহীতারা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও কোনো কাজ সম্পন্ন করতে পারছেন না তারা। রাজউকের এক কর্মকর্তা জানান, প্রায় ৫ ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র যাচাই ও ডিজিটাল কাজগুলো স্থবির হয়ে পড়ছে।

তবে একসূত্রে জানা যায়, এমন ঘটনা এর আগেও একবার ঘটেছে। অন্য একজন বলছেন এমন ঘটনা কেন ই বা ঘটবে না অফিস সময় শেষে সবাই চলে যায় আগে নৈশপ্রহরী ছিল এমন ঘটনা ঘটার সুযোগ কম ছিল। এখন অনেক মাস ধরে এখানে নৈশপ্রহরী নেই যে কারণে এমন ঘটনা ঘটা অস্বাভাবিক নয়।

‎ঘটনার পরপরই ডেসকো (DESCO) কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়। রাজউক জোন-৩ এর কর্মকর্তারা জানান, একটি সরকারি অফিসের মিটার চুরির ঘটনাটি বেশ উদ্বেগের। নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও কীভাবে মিটারটি চুরি হলো তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

‎বর্তমান অবস্থা দীর্ঘ ৫ ঘণ্টা হয়ে গেলেও জেনারেটর বা  বিকল্প ব্যবস্থায় কিংবা নতুন মিটার স্থাপনের মাধ্যমে কোন রকম বিদ্যুৎ সংযোগ সচল করা হয়নি। এ ঘটনায় স্থানীয় থানায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ থেকে কোন অভিযোগ বা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার প্রস্ততি নেওয়া হয়েছে কি না জানা যায়নি।




চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৪০ শতাংশ বিদ্যুৎ ঘাটতি, লোডশেডিং বেড়েছে

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধিঃ চাঁপাইনবাবগঞ্জে গরমের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে ৪০ শতাংশ বিদ্যুৎ ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ফলে বেড়েছে লোডশেডিং। তবে শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে কয়েকগুণ বেশি লোডশেডিং হচ্ছে। এ অবস্থায় ভোগান্তিতে পড়ছেন জেলা শহরসহ পাঁচ উপজেলার বাসিন্দারা। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা নাজেহাল হয়ে পড়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, গরমের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে। কিন্তু চাহিদার তুলনায় বিদ্যুতের সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। তাই স্থান ও সময় ভেদে লোডশেডিং দিয়ে বিদ্যুৎ সরবারহ করতে হচ্ছে।

এই প্রসঙ্গে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি-নেসকো চাঁপাইনবাবগঞ্জ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আলিউল আজিম বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরে বিদ্যুতের চাহিদা ৩১ থেকে ৩২ মেগাওয়াট। কিন্তু সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে সাড়ে ২৫ থেকে ২৬ মেগাওয়াট। সে হিসেবে ঘাটতি রয়েছে ৫ থেকে ৬ মেগাওয়াট। এ কারণে এলাকাভেদে লোডশেডিং হচ্ছে।

অন্যদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার হাওলাদার মো. ফজলুর রহমান বলেন, এপ্রিলের শুরু থেকেই গরম বেড়েছে। এ কারণে বিদ্যুতের চাহিদাও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এ ছাড়া গ্রামাঞ্চলে বোরো চাষের জন্য বিদ্যুতের বাড়তি চাহিদা রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে চাহিদার চেয়ে ৩০ থেকে ৪০ ভাগ বিদ্যুৎ সরবরাহ কম পাওয়া যাচ্ছে তাই স্থান ও সময় ভেদে বিভিন্ন সময় লোডশেডিং দেয়া হচ্ছে। তবে আগামীতে লোডশেডিং বাড়বে কিনা তা চাহিদা ও সরবরাহের উপর নির্ভর করবে বলেও জানান তিনি।




দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে বন্ধ দোকানে মিলল ব্যবসায়ীরা মরদেহ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সিলেট নগরীর লালদিঘীরপাড় এলাকা থেকে একটি বন্ধ দোকান থেকে পচা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা মরদেহের সন্ধান পান। বুধবার (১৫ এপ্রিল) মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন ধরে এলাকায় তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল। প্রথমে ব্যবসায়ীরা ধারণা করেন, কোনো ইঁদুর মারা গিয়ে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। তবে গন্ধ সহ্যের বাইরে চলে গেলে তারা নিজেরাই অনুসন্ধানে নামেন। একপর্যায়ে পাশের একটি দোকানের ভেতরে উঁকি দিয়ে তারা একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। দোকানটি তালাবদ্ধ ছিল না।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরের পর ব্যবসায়ী নাজিম আহমদ (২৫) ও পাভেল আহমদ (২৬) মরদেহটি দেখতে পান এবং পুলিশকে খবর দেন। পরে বিকেলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

পুলিশ জানায়, নিহত ব্যক্তির নাম নুরুল ইসলাম (৫০)। তিনি দক্ষিণ সুরমার কামালবাজার এলাকার পুরানগাঁও গ্রামের আরফান আলীর ছেলে। তিনি দীর্ঘ ২০ বছর ধরে তরকারি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ী নাজিম ও পাভেল জানান, গত দুই দিন ধরে দোকান এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছিল। প্রথমে তারা বিষয়টিকে সাধারণ মনে করলেও পরে গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে মরদেহ দেখতে পান।

সিলেট কোতোয়ালি থানার বন্দরবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মো. সুলেমান মিয়া বলেন, ধারণা করা হচ্ছে নুরুল ইসলামের মৃত্যু অন্তত দুই দিন আগে হয়েছে। বিষয়টি তার পরিবারের সদস্যদের জানানো হয়েছে এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে।

লালদিঘীরপাড় নতুন হকার্স মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সামছুল আলম জানান, নুরুল ইসলাম দুই কন্যা সন্তানের জনক ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওই মার্কেটে ব্যবসা করতেন এবং বিভিন্ন বাজার থেকে কাঁচামাল সংগ্রহ করে বন্দরবাজার এলাকায় বিক্রি করতেন।




ঢাকা মিরপুর প্রেসক্লাবে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত

এসএম বদরুল আলমঃ ঢাকা মিরপুর প্রেসক্লাবে ঈদ পরবর্তী এক আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার অসংখ্য সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন। পুরো অনুষ্ঠানটি ছিল উৎসবমুখর পরিবেশে ভরপুর, যেখানে সহকর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, ঐক্য ও পেশাগত বন্ধন আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক পাঞ্জেরীর সম্পাদক ও মিরপুর প্রেসক্লাবের প্রধান উপদেষ্টা তালুকদার রুমী।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক মাতৃ জগত পত্রিকার সম্পাদক ও মিরপুর প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা খান সেলিম রহমান।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মিরপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি এস এম বদরুল আলম এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মোঃ শিহাব উদ্দিন।

প্রধান অতিথির বক্তব্য
প্রধান অতিথি তালুকদার রুমী তার বক্তব্যে বলেন, সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা, যা সমাজের দর্পণ হিসেবে কাজ করে। তিনি বলেন, সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নিয়ে সাংবাদিকদের কাজ করতে হবে এবং কোনো ধরনের ভয় বা চাপের কাছে নতি স্বীকার করা যাবে না। তিনি আরও বলেন, মিরপুর প্রেসক্লাব শুধু একটি সংগঠন নয়, এটি সাংবাদিকদের একটি পরিবার। এই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ঐক্য, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতা বজায় রাখতে হবে। তিনি তরুণ সাংবাদিকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, নৈতিকতা বজায় রাখা এবং পেশাদারিত্বের সাথে কাজ করার আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য
বিশেষ অতিথি খান সেলিম রহমান তার বক্তব্যে বলেন, বর্তমান সময়ে সাংবাদিকদের সামনে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ঐক্যবদ্ধ থাকা অত্যন্ত জরুরি। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। তিনি মিরপুর প্রেসক্লাবের কার্যক্রমের প্রশংসা করে বলেন, এই ধরনের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান সহকর্মীদের মধ্যে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করে এবং পেশাগত উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।

সভাপতির বক্তব্য
সভাপতি এস এম বদরুল আলম তার বক্তব্যে বলেন, মিরপুর প্রেসক্লাব সবসময় সাংবাদিকদের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, সংগঠনের প্রতিটি সদস্যের অংশগ্রহণেই প্রেসক্লাব আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে। তিনি সকল সদস্যকে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিভেদ নয়—ঐক্যই আমাদের মূল শক্তি। তিনি ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে এমন অনুষ্ঠান আয়োজনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্য
সাধারণ সম্পাদক মোঃ শিহাব উদ্দিন তার বক্তব্যে বলেন, এই পুনর্মিলনী শুধুমাত্র একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি আমাদের পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তিনি বলেন, প্রেসক্লাবের প্রতিটি কার্যক্রমে সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণই সংগঠনের প্রাণ। তিনি সকলকে একসাথে থেকে সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় কাজ করার আহ্বান জানান এবং ভবিষ্যতে আরও কার্যকর ও ফলপ্রসূ উদ্যোগ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্য
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম সায়মন তার বক্তব্যে বলেন, সাংবাদিকদের পেশাগত উন্নয়নের জন্য প্রশিক্ষণ, কর্মশালা এবং পারস্পরিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের গড়ে তুলতে সিনিয়রদের ভূমিকা অপরিসীম। তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, মিরপুর প্রেসক্লাবকে একটি আদর্শ সংগঠন হিসেবে গড়ে তুলতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে মিরপুর প্রেসক্লাবের অন্যান্য নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাইনুল ইসলাম পলাশ, সহ-সভাপতি মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, সহসভাপতি খাইরুল ইসলাম, যুগ্ন সাধারন সম্পাদক শফিকুল ইসলাম সায়মন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনজুর আহমেদ, যুগ্ন সাধারন সম্পাদক সুমন খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সারোয়ার আলম, অর্থ সম্পাদক জিএস জয় ও সোহরাব হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক ইকবাল হোসেন নিপু, দপ্তর সম্পাদক এমএ গাফফার, প্রচার সম্পাদক দুলাল হোসেন, মানবাধিকার সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন তালুকদার, কার্যনির্বাহী সদস্য মোঃ আখতারুজ্জামান, রশিদি মাহবুব, আলী হোসেন, জাহাঙ্গীর তুষার, ফিরোজ আল মামুন, আপ্যায়ন সম্পাদক এম এ মালেকসহ অসংখ্য প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।
অনুষ্ঠানটি পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময় ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।




তাহেরীর মাহফিলে ইউএনওর ১৪৪ ধারা, স্বেচ্ছাচারিতা নাকি তাবেদারি

মাধবপুর থেকে ফিরে : হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার শিমুলঘর গ্রামে ইসলামী বক্তা মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরী’র ওয়াজ মাহফিলকে কেন্দ্র করে ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি “নাটকীয় পরিস্থিতি” সৃষ্টি করে প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করেছে।

জানা যায়, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত কমিটির উদ্যোগে শনিবার(২৮ মার্চ) অনুষ্ঠিতব্য মাহফিলের সব প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন, আয়োজকদের দাবি, প্রস্তুতি শেষ হওয়ার পর থেকেই প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে মাহফিল বন্ধের তৎপরতা শুরু হয়।

পরবর্তীতে ২৭ মার্চ শুক্রবার মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ বিন কাসেম স্বাক্ষরিত এক আদেশে এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, “নূরে মদিনা গাউছিয়া” নামে একটি পৃথক কমিটির ব্যানারে ভুয়া একটি ওয়াজ মাহফিলের পোস্টার ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে উল্লেখিত সভাপতি ও বক্তাদের কেউই বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি স্বার্থান্বেষী মহল ভুয়া পোস্টার তৈরি করে এলাকায় পাল্টাপাল্টি মাহফিলের পরিস্থিতি সৃষ্টি করে প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করেছে।

ভুয়া পোস্টারে সভাপতি হিসেবে দেখানো স্থানীয় মসজিদের ইমাম মাওলানা রোকন উদ্দিন সালেহী বলেন,“আমার নাম ব্যবহার করে যে পোস্টার তৈরি করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভুয়া। আমি এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেব।”

তিনি আরও জানান, প্রকৃত মাহফিলটি আয়োজন করছেন মুফতি মুজাম্মেল হকের নেতৃত্বাধীন কমিটি। এতে প্রধান বক্তা হিসেবে থাকছেন মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরী। প্রধান অতিথি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চীফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম এবং সভাপতিত্ব করার কথা স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মিনহাজ উদ্দিন চৌধুরীর।

মাহফিল পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে মুফতি মুজাম্মেল হক মাসুমী অভিযোগ করেন,
“একটি চক্র প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করে আমাদের মাহফিল বন্ধ করার চেষ্টা করছে। আমরা জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। প্রয়োজনে আমরা আইনগত ব্যবস্থায় যাব।”

স্থানীয় ইউপি সদস্য কামাল মিয়া বলেন,“তাহেরী হুজুরের মাহফিলকে বাধাগ্রস্ত করতেই একটি চক্র এ কাজ করেছে। আমরা প্রশাসনকে বলেছি ১৪৪ ধারার প্রয়োজন ছিল না। তারপরও এটি জারি করা হয়েছে। আমরা চাই মাহফিলটি অনুষ্ঠিত হোক।”

এদিকে, ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ক্ষোভ ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় ১৪৪ ধারার সমালোচনা করে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন সাংবাদিক অলিউল্লাহ নোমান।

এ বিষয়ে ইউএনও জাহিদ বিন কাসেমের কাছে মাহফিল ও ভুয়া পোস্টার প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
তবে এলাকার কয়েকজন প্রবীণ নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রতিবেদককে বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে এ মাহফিল বন্ধ করা হয়েছে। কারণ হিসাবে উনারা জানান বিগত নির্বাচনে হবিগঞ্জ -০৪ আসন থেকে চীপ প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার আমিনুল ইসলাম বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশি ছিলেন। তাছাড়া মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরি সরাসরি নির্বাচনে অনশগ্রহণ করেন পরাজিত হন। রাজনীতির মারপ্যাঁচে মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরি ও চীপ প্রসিকিউটর এক মঞ্চে মানেই নতুন সমীকরণ। ভবিষ্যৎ নির্বাচনে এর প্রভাব পড়বে তাই কৌশলে স্হানীয় গণমাধ্যম কর্মী (এম,এ,কাদের) কে বলির পাঠা বানিয়ে ধূম্রজাল সৃষ্টি করে প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে। কেউ কেউ এই ১৪৪ ধারা কে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর স্বেচ্ছাচারিতা হিসাবে মনে করলেও অনেকের মতে তাবেদারির শামিল।

কারণ শুক্রবার বিকেলে ই কথিত আরেকটি মাহফিলের প্যান্ডেল উধাও করে ফেলে কুচক্রীমহল। তাছাড়া কথিত প্যান্ডেল টি বিএনপির একটা মিটিংয়ের জন্য তৈরি বলে ডেকোরেটার্স মালিক জানান৷ সুশীল সমাজের ব্যাক্তিবর্গ মনে করেন বিএনপির অনুষ্ঠান শুক্রবার আর ওয়াজ মাহফিল শনিবার তাই এখানে ১৪৪ জারি উদ্দেশ্য প্রনোদিত।




ট্রেনে কাটা পড়ে নিহত ৫ জনের বাড়ি একই গ্রামে, এলাকাজুড়ে শোক

ডেস্ক নিউজঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ট্রেনে কাটা পড়ে একই পরিবারের সদস্যসহ পাঁচ গার্মেন্টস শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যুতে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে শোকের মাতম চলছে। নিহত সবার বাড়ি সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের নিজপাড়া গ্রামে।

শনিবার (২৮ মার্চ) সকালে মরদেহগুলো গ্রামে পৌঁছালে স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকার আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। ইতোমধ্যে কবর খননের কাজ চলছে। দুপুর বেলা বাদ যোহর জানাজার পর পারিবারিক কবরস্থানে তাদের সমাহিত করা হবে।

গতকাল শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাত ৮টার দিকে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার ধলাটেংগর এলাকায় এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন—নিজপাড়া গ্রামের আজিজার রহমানের ছেলে সুলতান মাহমুদ (২৮), তার চাচাতো বোন রিফা রেসা (২৪), প্রতিবেশী নার্গিস আক্তার (৪২), তার ১২ বছর বয়সী ছেলে নিরব এবং নিরবের বড় ভাইয়ের শাশুড়ি দোলা বেগম (৪৫)। নিহত নার্গিস আক্তার ওই গ্রামের হামিদুজ্জামানের স্ত্রী। তারা সবাই সম্পর্কে একে অপরের আত্মীয় এবং জীবিকার তাগিদে ঢাকায় গার্মেন্টস শ্রমিকের কাজ করতেন।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, নিহতরা সবাই একটি যাত্রীবাহী বাসে করে ঢাকা যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে ধলাটেংগর এলাকায় পৌঁছালে বাসটির জ্বালানি তেল শেষ হয়ে যায়। এ সময় যাত্রীরা বাস থেকে নেমে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের পাশের রেললাইনে বসে অপেক্ষা করছিলেন। দীর্ঘ যাত্রার ক্লান্তি কাটাতে তারা যখন গল্পে মগ্ন ছিলেন, ঠিক তখনই সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনটি ওই এলাকা অতিক্রম করছিল। রেললাইনে বসে থাকা যাত্রীরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই ট্রেনের নিচে কাটা পড়েন। এতে ঘটনাস্থলেই এক শিশু ও দুই নারীসহ পাঁচজন প্রাণ হারান।

ধাপেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. শাহাদাত হোসেন নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করে জানান, মৃতরা সবাই অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের সদস্য ছিলেন। কাজের সন্ধানে তারা ঢাকা যাচ্ছিলেন, কিন্তু পথিমধ্যে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা তাদের চিরতরে স্তব্ধ করে দিল। প্রিয়জনদের হারিয়ে দিশেহারা পরিবারগুলোকে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন প্রতিবেশীরাও। ঘাতক ট্রেনের চাকায় পিষ্ট হয়ে একই গ্রামের পাঁচটি তাজা প্রাণ ঝরে যাওয়ার ঘটনায় পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।