১০ ভিক্ষুক পেলেন বিকল্প কর্মসংস্থান ব্যবস্থা

ডেস্ক নিউজ : দিনাজপুরে সমাজসেবা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ১০জন ভিক্ষুককে পুনর্বাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে মালামাল ও নগদ অর্থ প্রদান করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের নিচতলায় শহর সমাজসেবা কার্যালয়ে এ উপহার তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে ২জন ভিক্ষুককে ভ্যানে করে মুরগি ব্যবসা করার জন্য ব্যবসার উপকরণ ও নগদ অর্থ, ৩জন ভিক্ষুককে বাড়ি বাড়ি গিয়ে কাপড় বিক্রির জন্য কাপড় ও নগদ অর্থ, ১জনকে মুদি ব্যবসার জন্য দোকানের মালামাল ও নগদ অর্থ, ১জন ভিক্ষুককে ভাংড়ি বকরা দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ পরিচালক ও দিনাজপুর পৌরসভার প্রশাসক মো. রিয়াজ উদ্দিন বলেন, এই মালামাল ও নগদ অর্থ দ্বারা আপনারা ব্যবসার উন্নয়ন ঘটাবেন। পুজি বাড়িয়ে আরও অনেক বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে সরকার এই অর্থ প্রদান করছেন। ব্যবসার অগ্রগতি সম্পর্কে আমরা নিয়মিত দেখভাল করব। যারা পুজি নস্ট করবেন তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মনে রাখবেন দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূল স্রোতধারায় আনতে সরকার ভিক্ষুকদের পুনর্বাসন এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের প্রকল্প চালু করেছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. আব্দুল মতিন, সহকারী পরিচালক মো. মুনির হোসেন, স্বাগত বক্তব্য রাখেন শহর সমাজসেবা অফিসার মো. মাইনুল ইসলাম।




তনু হত্যা মামলায় সাবেক দুই সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, রেড নোটিশ জারির নির্দেশ

ডেস্ক নিউজ : কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান (তনু) হত্যা মামলায় সাবেক দুই সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (৮ বিকেলে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (১) আদালতের বিচারক মুমিনুল হক এ আদেশ দেন।

কুমিল্লা আদালত পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ মামুনুর রশীদ জানান, যাদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি হয়েছে তারা হলেন তৎকালীন কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত সার্জেন্ট জাহিদুজ্জামান ওরফে জাহিদ এবং সৈনিক শাহীন আলম।

মামলার নথি অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের সময় জাহিদ কুমিল্লা সেনানিবাসের ১২ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়নে কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলার গড়ঘাটা এলাকায়। শুরু থেকেই তনুর পরিবারের অভিযোগ, নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্বে ছিলেন জাহিদ। বর্তমানে তার বয়স ৪৮ বছর। তিনি সেনাবাহিনী থেকে অবসর নিয়েছেন বা অবসরে পাঠানো হয়েছেন।

অপর আসামি শাহীন আলম হত্যার সময় ২ সিগন্যাল ব্যাটালিয়নে কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার পীরযাত্রাপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামে। সূত্র জানিয়েছে, তিনি বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। তার বয়স ৩৭ বছর এবং তিনিও অবসর নিয়েছেন বা অবসরে পাঠানো হয়েছেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম আদালতে আবেদন করে সন্দেহভাজন এই দুই সাবেক সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারির নির্দেশ চান। একই আবেদনে তিনি তনু হত্যাকাণ্ড-সংক্রান্ত কোনো তদন্ত-তথ্য সেনাবাহিনীর কাছে থাকলে তা তদন্ত কর্মকর্তার কাছে সরবরাহের অনুরোধ করেন। সোমবার মামলার ধার্য তারিখে আদালত এ আদেশ দেন।

তবে তদন্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘আজ মামলাটির ধার্য তারিখ ছিল। আমরা কুমিল্লায় যাইনি। আদালত কী নির্দেশ দিয়েছেন, সেটি এখনো জানতে পারিনি। আদেশের কপি হাতে পেলে বিস্তারিত বলা যাবে।’

এদিকে মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে সোমবার সকাল ১১টার দিকে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। তার পক্ষে কোনো জামিন আবেদন না হওয়ায় আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বর্তমানে তার বয়স ৫২ বছর। ২০২৩ সালে তিনি সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেন বা অবসরে পাঠানো হন। গত ২১ এপ্রিল ঢাকার কেরানীগঞ্জের বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। হত্যাকাণ্ডের সময় তিনিও কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন।

নতুন তথ্য ও তদন্ত অগ্রগতি
সম্প্রতি মামলার তদন্তে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। তনুর পোশাক থেকে সংগ্রহ করা নমুনায় আরও একজনের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা। ডিএনএ পরীক্ষায় তনুর পোশাকে মোট চারজনের নমুনা মিলেছে। আগে তিনজনের শুক্রাণু পাওয়া যাওয়ার তথ্য প্রকাশিত হলেও নতুন ব্যক্তির ক্ষেত্রে রক্তের নমুনা মিলেছে।

প্রেক্ষাপট
২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন সোহাগী জাহান তনু। পরে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের কাছাকাছি ঝোপের মধ্যে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং দীর্ঘদিন ধরে মামলাটির তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা চলছে।




দেশের সব বিভাগে আগামী তিনদিন বৃষ্টির আভাস

ডেস্ক নিউজ : টানা তাপপ্রবাহে যখন রাজধানীবাসী ছিল অতিষ্ট। শুক্রবার (৫ জুন) রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কম-বেশি বৃষ্টি হওয়ার পর কমেছে তাপমাত্রা, ফিরেছে স্বস্তি। আগামী তিন দিন এমন বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে বলে আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক শুক্রবার রাতে বলেন, “আজ যেমন বৃষ্টি হয়েছে, আগামী তিন দিন সারাদেশের সব বিভাগেই কম-বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে।”

আবহাওয়া অধিদপ্তরের শুক্রবার সন্ধ্যার বুলেটিনে বলা হয়েছে, সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

সেই সাথে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি বর্ষণ হতে পারে। এই সময়ে সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় নরসিংদীতে দেশের সর্বোচ্চ ৪৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।এই সময়ে চুয়াডাঙ্গায় ৪৪, চাঁদপুরে ৩৯, টাঙ্গাইলে ৩২ ও শ্রীমঙ্গলে ২৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত নথিবদ্ধ করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

এদিন দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল কক্সবাজারে; ৩৬ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা উঠেছিল ৩৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।

শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৩টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত সময়ে রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাংগাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের উপর দিয়ে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

সে কারণে এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।




খানজাহান আলী মাজারের দীঘি থেকে সেই কুমিরকে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি

ডেস্ক নিউজঃ বাগেরহাটের খানজাহান আলী (রহ.) এর মাজার সংলগ্ন দীঘিতে থাকা কুমিরটিকে সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন। সে লক্ষ্যে কুমিরটিকে দীঘি থেকে উঠিয়ে খুলনা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

এর আগে, গত মঙ্গলবার রাত ১০টায় অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় কুমিরটিকে স্থানান্তরের এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন।

সভা শেষে তিনি জানান, মাজার এলাকায় আসা দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আপাতত দীঘিতে থাকা কুমিরটিকে সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মাজার এলাকায় পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ও নজরদারি আরও জোরদার করা হবে।

বাগেরহাট পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, মাজারের দীঘি থেকে কুমিরটি সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বুধবার খুলনা থেকে বিশেষজ্ঞদের একটি দল বাগেরহাটে আসবে।

তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে কুমিরটি ধরার কৌশল, স্থানান্তরের সময় এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য বিষয় নির্ধারণ করবেন।

উল্লেখ্য গত সোমবার রাত ৮টার দিকে মাজার সংলগ্ন দীঘিতে গোসল করতে নেমে সাত বছর বয়সী শিশু ফাতেমা আক্তার কুমিরের আক্রমণের শিকার হয়।




বাগেরহাটে মাজারের দীঘিতে কুমির টেনে নেওয়া শিশুর মরদেহ উদ্ধার

ডেস্ক নিউজঃ বাগেরহাটের খান জাহান আলী (রহ) এর মাজার সংলগ্ন দিঘিতে কুমিরের টেনে নেওয়া শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার ভোরে মহিলা ঘাটের পাশ থেকে ওই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে খাদেম ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা।

এর আগে সোমবার রাত সাড়ে ৮ টার দিকে খানজাহান আলীর (রহ) মাজার সংলগ্ন দীঘির পূর্ব পাশে নারীদের ঘাটে গোসল করতে নামলে শিশু ফাতেমা আক্তারকে (৭) মাজারে থাকা একমাত্র কুমিরটি টেনে নিয়ে যায়। এ সময় চারদিকে চিৎকার চেঁচামেচি শুরু হয়। স্থানীয়রা মাজারের মধ্যে নৌকা নামিয়ে শুরু করে উদ্ধার অভিযান। পরে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, জেলা প্রশাসন অংশ নেয় উদ্ধার অভিযানে।

কুমিরে টেনে নিয়ে যাওয়া ফাতেমা আক্তার মাজারে ভবঘুরে হিসেবে থাকা এক মানসিক প্রতিবন্ধী নারীর মেয়ে। এর বেশি পরিচয় জানাতে পারেনি মাজার সংশ্লিষ্টরা ও পুলিশ প্রশাসন।

প্রতক্ষদর্শীরা জানান, রাতে ওই ঘাটে অনেক লোকজন ছিল। মেয়েটি গোসলে নামলে তাকে কুমিরে টেনে নিয়ে যায়। মেয়েটি ও ঘাটে থাকা লোকজন চিৎকার-চেঁচামেচি করলেও, সাহস করে কেউ এগিয়ে আসেনি।

ঘাটের পাশে থাকা দোকানি বিনা বলেন, মেয়েটিকে উদ্ধার করা হয়েছে। তার শরীরের কয়েক জায়গায় কুমিরের কামড়ের দাগ রয়েছে।

মাজারের প্রধান খাদেম ফকির তারিকুল ইসলাম বলেন, ভোরে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহ মহিলা ঘাটে রাখা হয়েছে। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ প্রশাসনের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে মরদেহ দাফন ও পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন বলেন,‘আমরা জানতে পেয়েছি মারা যাওয়া শিশুটির মা ভবঘুরে ও মানসিক প্রতিবন্ধী। তাই শিশুটির দাফনসহ যাবতীয় খরচ সরকার বহন করবে।’




যমুনার পানি বাড়ছে, তলিয়ে যাচ্ছে নিম্নাঞ্চল

ডেস্ক নিউজ : যমুনা নদীর পানি সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সিরাজগঞ্জ হার্ড পয়েন্টে ৩২ সে.মি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার (বিপদসীমা-১২.৯০ মিটার) ২৯৩ সে.মি. নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কাজিপুর পয়েন্টে ৩৬ সে.মি. বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার (বিপদসীমা-১৪.৮০ মি.) ৩৪৯ সে.মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বাড়ায় চরাঞ্চলের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে শুরু করেছে। অন্যদিকে যমুনার অরক্ষিত অঞ্চলসমূহে ভাঙন আতঙ্কে রয়েছে নদী তীরের বাসিন্দারা।

কাওয়াকোলা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক আব্দুর রাজ্জাক জানান, গত কয়েকদিনে যমুনার নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে চরাঞ্চলের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হলেও এখনো ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তবে পানি আর দুই একদিন বাড়তে থাকলে ইরিধান, পাট, তিল, মরিচ, বেগুনসহ সবজির ক্ষতি হবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোকলেসুর রহমান জানান, উজানে প্রবল বৃষ্টির কারণে যমুনার নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। হয়তো আর দুই একদিন বাড়বে। তারপর আবার কমার সম্ভাবনা রয়েছে। নিম্নাঞ্চল কিছুটা প্লাবিত হলেও ভাঙন আতঙ্কের কিছু নেই।




কত দিন থাকতে পারে বৃষ্টি?

ডেস্ক নিউজ : প্রায় এক সপ্তাহ ধরে দেশের আবহাওয়ায় দেখা যাচ্ছে ভিন্নমুখী আচরণ। কোথাও প্রচণ্ড গরম, আবার কোথাও ভারী বৃষ্টি। এই পরিবর্তনের কারণে কোথাও শীতল পরিবেশ তৈরি হলেও, কিছু এলাকায় এখনো তাপপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে।

সোমবার দক্ষিণাঞ্চলের একাধিক এলাকায় তাপপ্রবাহ দেখা গেছে। একই সময়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দফায় দফায় ভারী বৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবারও সেই প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে, বরং কিছু এলাকায় বৃষ্টির পরিমাণ আরও বেড়েছে।

মঙ্গলবার ভোর ৬টা থেকে রাজধানীতে পরবর্তী ছয় ঘণ্টায় ৪২ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়। রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন স্থানে সকাল থেকেই বৃষ্টি হয়েছে। রংপুর বিভাগ ছাড়া দেশের প্রায় সব বিভাগেই কোথাও না কোথাও বৃষ্টিপাত হয়েছে। তবে দক্ষিণাঞ্চলে বৃষ্টির পরিমাণ তুলনামূলক কম ছিল।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ফেনীতে ৬৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবীর বলেন,’বিকেলের দিকে মেঘমালা বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দিকে সরে গিয়েছে। আজ বাকিটা সময় বৃষ্টি কম হতে পারে। তবে আগামীকাল (বুধবার) ঢাকা, রাজশাহী, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের বেশ কিছু স্থানে বৃষ্টি হতে পারে।’

তিনি আরও জানান, রাজধানীতে আগামীকাল রাতের দিকে তুলনামূলক বেশি বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এছাড়া বৃহস্পতিবার রাজধানীতে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনার কথাও জানান তিনি।

তরিফুল নেওয়াজ কবীর বলেন,’তাপপ্রবাহ কমে যেতে পারে। স্থানীয়ভাবে মেঘ সৃষ্টি হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদি পরিস্থিতি অনেক সময় বোঝা যায় না। তবে একটি অঞ্চলে মেঘলা থাকলেও অন্য অঞ্চলে তাপ থাকে। এটা কয়েকদিন ধরে দেখাও যাচ্ছে।’




ওমানে নিহত চার ভাইয়ের মরদেহ বাড়িতে, পাশাপাশি খোঁড়া হয়েছে কবর

ডেস্ক নিউজঃ চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর গ্রামে এখন শোকের মাতম। ওমানে বিষাক্ত গ্যাসে নিহত একই পরিবারের চার ভাইয়ের মরদেহ বুধবার (২০ মে) সকালে গ্রামের বাড়িতে পৌঁছেছে। চারটি অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহ আনার পর থেকেই বাড়িটিতে ভিড় করছেন স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয়রা। 

লালানগরের বান্দারাজার পাড়ার আবদুল মজিদের বাড়িতে এখন শুধুই কান্নার আহাজারি। সাদা কাফনে মোড়ানো চার ভাইয়ের নিথর দেহ ঘিরে স্বজনদের বিলাপে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। প্রতিবেশীরাও বলছেন, একসঙ্গে একই পরিবারের চার ভাইয়ের মরদেহ বাড়িতে ফেরার এমন হৃদয়বিদারক ঘটনা তারা আগে কখনো দেখেননি।

ওমানে মারা যাওয়া চার ভাই হলেন রাশেদুল ইসলাম, সাহেদুল ইসলাম, মো. সিরাজ ও মো. শহিদ। জীবিকার সন্ধানে তারা দীর্ঘদিন ধরে ওমানে কর্মরত ছিলেন।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ওমানের আল মিলিদ্দা এলাকার আল মোছানা স্টেট অব আল বাতিনাহতে একটি গাড়ির ভেতরে বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে তাদের মৃত্যু হয়। খবরটি দেশে পৌঁছানোর পর থেকেই পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে মরদেহগুলো ঢাকায় পৌঁছালে পরিবারের সদস্যদের কাছে সেগুলো হস্তান্তর করেন চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী। পরে বিশেষ ফ্রিজার অ্যাম্বুল্যান্সে করে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়।

সকাল ১১টায় হোসনাবাদ লালানগর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে চার ভাইয়ের জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি খোঁড়া চারটি কবরে তাদের দাফন করা হবে।




‘কুরবানির জন্য পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে গরু আনার প্রয়োজন নেই’

ডেস্ক নিউজ : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু বলেছেন, পবিত্র ঈদুল আজহায় দেশের চাহিদা মেটাতে পর্যাপ্ত পশু মজুত রয়েছে। কুরবানির জন্য পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে গরু আনার কোনো প্রয়োজন নেই। বাইরে থেকে যেন কোনো পশু দেশে প্রবেশ করতে না পারে, সে বিষয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশ পশু রপ্তানির দিকেও এগিয়ে যাবে।

রোববার (১৭ মে) বিকালে বগুড়া মহানগরীর গোকুল এলাকায় হোটেল মম ইন কনভেনশন সেন্টারে ‘টেকসই প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন: আধুনিক খামার ব্যবস্থাপনা, বাজার সংযোগ ও ভ্যালু চেইন’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পশুর চামড়ার দাম কমে যাওয়ার বিষয়টি সরকারের নজরে রয়েছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, চামড়ার দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি খামারিরা যাতে সহজ শর্তে ঋণ পেতে পারেন, সে বিষয়েও সরকার কাজ করছে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহজামাল খানের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন- বগুড়া-৬ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব দেলোয়ার হোসেন।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ডা. মোস্তফা কামাল। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (সম্প্রসারণ) ডা. বেগম শামছুন্নাহার আহমদ। মূল প্রবন্ধের ওপর আলোচনা করেন রাজশাহী বিভাগীয় পরিচালক ডা. আনন্দ কুমার অধিকারী এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আবদুল মান্নান মিয়া। অনুষ্ঠানে পাঁচ শতাধিক খামারি ও বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা অংশ নেন।




হরিণ বিক্রির ঘোষণা, কেনা যাবে ৫০ হাজার টাকায়

ডেস্ক নিউজঃ হরিণ বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) পরিচালিত কেন্দ্রীয় উদ্যান ও বোটানিক্যাল গার্ডেন কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, বর্তমানে উদ্যানে ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি হরিণ রয়েছে। বন বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি হরিণের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ জায়গা প্রয়োজন হলেও সেই মান বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে অতিরিক্ত হরিণগুলোকে নির্ধারিত মূল্য ও শর্তসাপেক্ষে হস্তান্তর বা বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রাসিকের ভেটেরিনারি সার্জন ড. ফরহাদ উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, বর্তমানে উদ্যানে প্রায় ৪০ হাজার বর্গফুট জায়গায় হরিণের জন্য সেড রয়েছে, যেখানে স্বাভাবিকভাবে সর্বোচ্চ ৮০-৮৫টি হরিণ রাখা সম্ভব। কিন্তু বর্তমানে ১২৯টি হরিণ রয়েছে, যা ব্যবস্থাপনায় চাপ তৈরি করছে। তাই বাড়তি হরিণগুলো আমরা নির্ধারিত ৫০ হাজার টাকা মূল্যে বিক্রি করতে চাই।

তিনি আরও বলেন, এর আগেও আমরা নিয়ম মেনে বিক্রি করেছি। তবে বন বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে অতিরিক্ত হরিণ বিক্রি বা হস্তান্তর করা হবে এবং যিনি কিনবেন তার অবশ্যই সুনির্দিষ্ট লাইসেন্স থাকতে হবে। এরপর যাচাই-বাছাই শেষে হরিণগুলো বিক্রি করা যেতে পারে। তবে শর্ত থাকবে, এসব হরিণ কোনোভাবেই জবাই করা যাবে না এবং কেবলমাত্র লালন-পালনের উদ্দেশ্যেই রাখা যাবে।

রাসিক সূত্রে জানা গেছে, এবার উদ্যানটিকে ‘বার্ড পার্ক’ হিসেবে গড়ে তোলার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেলে পুরো এলাকাকে পাখিভিত্তিক আধুনিক বিনোদনকেন্দ্র ও অভয়ারণ্যে রূপান্তর করা হবে। প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন প্রজাতির দেশি-বিদেশি রঙিন পাখি আনা, পাখিদের জন্য নিরাপদ আবাসস্থল তৈরি, প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ এবং দর্শনার্থীদের জন্য আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।