ঘন কুয়াশায় দৌলতদিয়া–পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ঘন কুয়াশার কারণে দৌলতদিয়া–পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।  বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সকাল ৫টা ৫০ মিনিট থেকে দুর্ঘটনা এড়াতে এ সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি)।

বিআইডব্লিউটিসি সূত্র জানায়, ভোর থেকেই নদীতে কুয়াশার তীব্রতা বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে কুয়াশা এতটাই ঘন হয়ে যায় যে নৌপথের চ্যানেল মার্কিং পয়েন্টগুলো স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল না। নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করতে সকাল ৫টা ৫০ মিনিট থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ করা হয়।

বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয়ের সহকারী ব্যবস্থাপক নূর আহম্মেদ জানান, কুয়াশার তীব্রতা কমে এলে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক করা হবে।

এদিকে ঘন কুয়াশার কারণে মানিকগঞ্জের আরিচা এবং পাবনার কাজিরহাট নৌপথেও সাময়িকভাবে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়। এতে মাঝ নদীতে দুটি ফেরি আটকা পড়ে বলে জানা গেছে।




ঈশ্বরদীতে জেঁকে বসেছে শীত, তাপমাত্রা নেমেছে ১১ ডিগ্রিতে

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ পৌষের শুরুতেই উত্তরের ঈশ্বরদীতে তীব্র শীতের দাপট বিরাজ করছে। শীতের কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে, বিশেষ করে শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষের কর্মজীবনে পড়েছে বড় ধরনের ভাটা। গত চার দিন ধরে অব্যাহত শীতের সঙ্গে যোগ হয়েছে ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাস। দুপুর পর্যন্ত সূর্যের দেখা মিলছে না, ফলে হাট-বাজার ও রাস্তাঘাটে মানুষের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। 

বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) ঈশ্বরদীতে চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।

বুধবার সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত উপজেলার রেলগেট, আলহাজ্ব মোড়, বাজার ও স্টেশন এলাকা ঘুরে দেখা যায়—ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতের কারণে শ্রমজীবী মানুষগুলো কাজের অভাবে অলস সময় কাটাচ্ছেন। অনেক জায়গায় শীত নিবারণের জন্য খড়কুটো জোগাড় করে আগুন জ্বালাতে দেখা গেছে। কুয়াশার ঘনত্ব কিছুটা কমলেও শীতের তীব্রতা কমেনি।

আবহাওয়া অফিসের সহকারী পর্যবেক্ষক নাজমুল হক রঞ্জন জানান, বুধবার দিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন। এর আগে সোমবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২.৮ ডিগ্রি এবং মঙ্গলবার ১২.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

রেলগেট এলাকায় প্রতিদিন শ্রমিক হাটে কাজের অপেক্ষায় বসে থাকা লালপুর উপজেলার বিলমারি গ্রামের রিয়াজুল জানান, ভোর থেকেই কাজের আশায় এখানে বসতে হয়। কিন্তু এত কুয়াশা আর শীতের কারণে কেউ কাজ নিতে আসছে না। টানা দুই দিন ধরে বসে আছি, কোনো কাজ নেই।

শহরের আমবাগানে পাইকারি সবজি বাজারে ঢাকি ভরে লালশাক বিক্রি করতে আসা জয়নগর গ্রামের আলিফ হোসেন বলেন, তীব্র শীত ও কুয়াশার কারণে বেচাকেনা অনেক কমে গেছে। বাইরে মানুষের সমাগমও খুবই কম।

পৌর শহরের রহিমপুর এলাকার রিকশাচালক সেকেন্দার আলী বলেন, প্রতিদিন সকাল ৭–৮টার মধ্যে বের হই। কিন্তু আজ সকালে কুয়াশায় কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। হিমেল বাতাসে শীতের তীব্রতা দেখে ৯টার পর বের হয়েছি। তবু রাস্তায় যাত্রী নেই। আয় করা খুব কঠিন হয়ে পড়েছে।

স্টেশন ও মালগুদাম এলাকায় শীতের তীব্রতায় ছিন্নমূল মানুষগুলোকে চরম কষ্টে দিন কাটাতে দেখা গেছে। খড়কুটো জোগাড় করে আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন তারা। গরম কাপড়ের অভাবে তাদের দুর্ভোগ আরও বেড়ে গেছে।

শুষ্ক আবহাওয়া ও ঠান্ডা বাতাসের কারণে বায়ুদূষণ বেড়েছে। এর ফলে শিশু ও বৃদ্ধরা ঠান্ডাজনিত নানা সমস্যায় ভুগছেন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর চাপও বৃদ্ধি পেয়েছে।




বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাব (B.C.P.C) কক্সবাজার জেলা কমিটির আনুষ্ঠানিক অনুমোদন- সভাপতি খোরশেদ আলম,সাধারণ সম্পাদক নুরুল হোসাইন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাব (B.C.P.C)-এর কক্সবাজার জেলা কমিটির আনুষ্ঠানিক অনুমোদন প্রদান করা হয়েছে।

গত ২১ ডিসেম্বর (রোববার) রাজধানী ঢাকার মিরপুর-১০ এলাকায় অবস্থিত সংগঠনের প্রধান কার্যালয়ে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ অনুমোদন প্রদান করা হয়।

প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি খান সেলিম রহমান,প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক মো. মাহিদুল হাসান সরকার এবং সিনিয়র সহ-সভাপতি সেহলী পারভীন-এর স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সভাপতি খোরশেদ আলম, নুরুল হোসাইন কে সাধারণ সম্পাদক করে ৩১ জন বিশিষ্ট কক্সবাজার জেলা কমিটির অনুমোদন ঘোষণা করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি খান সেলিম রহমান, সিনিয়র সহ-সভাপতি সেহলী পারভীন, সহ-সভাপতি মোহাম্মদ মাহবুব উদ্দিন, সহ-সভাপতি লায়ন ড. এ.জেড.এম. মাইনুল ইসলাম পলাশ, সহ-সভাপতি মো. শফিকুর রহমান মামুন, মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা সাঈদা সুলতানা, যুগ্ম সম্পাদক মো. মিটু মোল্লা, প্রচার সম্পাদক ওসামা বিন শিহাব এবং সিনিয়র সাংবাদিক সোহাগ টিপু প্রমুখ সহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক মো. মাহিদুল হাসান সরকার, সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. শিহাব উদ্দিন, সহ-সভাপতি মো. মোজাম্মেল হক বাবু, সহ-সভাপতি শাহাবুদ্দিন শান রিপন, সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদুল মামুন সোহাগ এবং সাংগঠনিক সম্পাদক হায়দার খান নগর।
অনুষ্ঠানে সংগঠনের পক্ষ থেকে নব-নির্বাচিত সিনিয়র সহ-সভাপতি সেহলী পারভীনকে প্রধান কার্যালয়ে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।

কক্সবাজার জেলা কমিটির পক্ষে প্রধান কার্যালয়ের দাপ্তরিক অনুমোদিত নথি গ্রহণ করেন কেন্দ্রীয় মহিলা সম্পাদিকা সাঈদা সুলতানা ও যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মিটু মোল্লা।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি খান সেলিম রহমান বলেন,বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাব একটি আদর্শ, দায়িত্বশীল ও পেশাদার সাংবাদিক সংগঠন হিসেবে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সাংবাদিকতার নৈতিক মান রক্ষা এবং পেশাগত স্বার্থ সংরক্ষণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। দেশের প্রতিটি জেলা ও বিভাগে সাংগঠনিক কার্যক্রম বিস্তারের ধারাবাহিকতায় কক্সবাজার জেলা কমিটির অনুমোদন একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ।

তিনি আরো বলেন,কক্সবাজার একটি আন্তর্জাতিক পর্যটন নগরী ও সীমান্তবর্তী গুরুত্বপূর্ণ জেলা। এই জেলার সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বস্তুনিষ্ঠ ও সত্যনির্ভর সংবাদ পরিবেশন এবং গণমাধ্যমের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখতে একটি শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ জেলা কমিটির ভূমিকা অপরিসীম। আমরা আশা করি, কক্সবাজার জেলা কমিটি সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সংগঠনের আদর্শ বাস্তবায়নে কাজ করবে।

তিনি সাংবাদিকদের দক্ষতা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ, নৈতিকতা চর্চা ও পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংগঠনের সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে বলেন,
দেশ ও মানুষের কল্যাণে নির্ভীক, স্বাধীন ও সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকতা চর্চাই আমাদের প্রধান অঙ্গীকার।

অনুষ্ঠানের শেষপর্বে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ কক্সবাজার জেলা কমিটির নবনিযুক্ত সকল সদস্যকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান এবং ভবিষ্যতে সংগঠনের কার্যক্রম আরও সুসংগঠিত, গতিশীল ও কার্যকর হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।




সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য বনভোজন ও মিলনমেলা

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাংবাদিকদের পারস্পরিক সৌহার্দ্য, ঐক্য ও কল্যাণের বন্ধন আরও সুদৃঢ় করতে গত বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হলো এক আনন্দঘন বনভোজন ও মিলনমেলা। উৎসবমুখর এই আয়োজনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ৪০০ জন সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় দৈনিক মাতৃজগত পত্রিকার সম্পাদক ও বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি খান সেলিম রহমান, সভাপতি আরঙ্গজেব কামাল, মোহাম্মদ ফরিদ খান (বাংলাদেশ প্রেসক্লাব, মোগল), সম্রাট (প্রকাশক ও সম্পাদক, বিডি লাইভ ২৪ নিউজ), কামরুজ্জামান জনি (প্রকাশক ও সম্পাদক), সুবীর আহমেদ (প্রকাশক ও সম্পাদক, সাপ্তাহিক সংবাদপত্র), মোহাম্মদ বশির আহমেদ (সহকারী সম্পাদক, ক্রাইম নিউজ) এবং মোঃ মাসুদ মৃধা (স্টাফ রিপোর্টার, রাজধানী টেলিভিশন)।

অনুষ্ঠান সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মোঃ দেলোয়ার হোসেন। তাঁদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানকে আরও প্রাণবন্ত ও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে।

দিনব্যাপী আয়োজিত মিলনমেলায় অংশগ্রহণকারীদের জন্য ছিল পরিপূর্ণ আপ্যায়নের ব্যবস্থা। সকালের নাস্তা দিয়ে শুরু হয়ে দুপুরে সুস্বাদু খাবার এবং বিকেলের নাস্তা পরিবেশিত হয়। পাশাপাশি আয়োজন করা হয় বিভিন্ন খেলাধুলা ও বিনোদনমূলক প্রতিযোগিতা, যেখানে সাংবাদিকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানের আরেকটি আকর্ষণ ছিল পুরস্কার বিতরণ পর্ব। খেলাধুলা ও প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়, যা উপস্থিত সকলের মাঝে উৎসাহ ও আনন্দ যোগ করে। এছাড়াও ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যেখানে গান, আবৃত্তি ও মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা মিলনমেলাকে নিয়ে যায় এক ভিন্ন মাত্রায়।

আয়োজকরা জানান, সাংবাদিকদের পেশাগত চাপ ও ব্যস্ততার মধ্যেও এমন মিলনমেলা পারস্পরিক সম্পর্ক দৃঢ় করে এবং ভবিষ্যতে সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রেরণা জোগায়। দিনশেষে আনন্দ, হাসি ও সৌহার্দ্যের স্মৃতি নিয়ে অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন—এ ধরনের আয়োজন নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।




সুনামগঞ্জের ছাতকে লন্ডন প্রবাসীর বিরুদ্ধে পবিত্র মক্কা-মদিনা অবমাননার অভিযোগ

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় লন্ডন প্রবাসী কথিত পীর গিয়াস উদ্দিন তালুকদারের বিরুদ্ধে পবিত্র মক্কা-মদিনা ও মসজিদের অবমাননার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

তার একটি সাম্প্রতিক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিজের প্রতিষ্ঠিত ‘গিয়াস উদ্দিন তালুকদার দরবার শরীফ’-কে পবিত্র মক্কা-মদিনা ও মসজিদের সঙ্গে তুলনা করে বক্তব্য দিয়েছেন, যা ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের অনুভূতিতে আঘাত করেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ছাতক উপজেলার ভাতগাঁও ইউনিয়নের শক্তিয়ারগাঁও গ্রামে অবস্থিত ওই দরবার শরীফকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই নানা বিতর্ক চলছিল। তবে সম্প্রতি কথিত পীরের বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।
অভিযোগকারীদের দাবি, বক্তব্যে তিনি বলেছেন— মক্কা-মদিনা ও মসজিদে গিয়ে যে পরিমাণ সওয়াব ও নেকি অর্জিত হয়, তার দরবার শরীফে গেলেও নাকি একই পরিমাণ সওয়াব পাওয়া যাবে। এ ধরনের বক্তব্যকে তারা ‘ধর্মীয় বিভ্রান্তি’ ও ‘পবিত্র স্থান সমূহের অবমাননা’ হিসেবে দেখছেন।
এ ঘটনায় কথিত পীরের ছোট ভাই ইসলাম উদ্দিনসহ স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মানুষজন গত ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, গিয়াস উদ্দিন তালুকদার দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে অলৌকিক ক্ষমতাসম্পন্ন পীর হিসেবে প্রচার করে সাধারণ মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাসকে পুঁজি করে অর্থ আদায় করে আসছেন।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড ইসলামের মৌলিক আকিদা ও শরিয়তের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। অভিযোগের সবচেয়ে স্পর্শকাতর অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে পবিত্র মদিনা শরীফ অবমাননার প্রসঙ্গ। অভিযোগপত্রে বলা হয়, কথিত পীর ভক্তদের সামনে নিজের শারীরিক অবস্থার সঙ্গে পবিত্র মদিনা শরীফের তুলনা করে বক্তব্য দিয়েছেন। এই বক্তব্যকে তারা ‘অত্যন্ত আপত্তিকর, বিভ্রান্তিকর ও হৃদয়বিদারক’ বলে আখ্যা দেন। অভিযোগকারী ইসলাম উদ্দিন বলেন, “পবিত্র মদিনা শরীফের সঙ্গে কোনো মানুষের শরীরের তুলনা করা মারাত্মক ধর্মীয় অবমাননার শামিল। এর মাধ্যমে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের আবেগকে ব্যবহার করে বাণিজ্যিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।”
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, দরবার শরীফে নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশার সুযোগ সৃষ্টি করা হয়, যা ইসলামী অনুশাসনের পরিপন্থী। কথিত পীর ও তার স্ত্রী মাহিমা বেগমের বিরুদ্ধে অশ্লীল কার্যকলাপ, মদ ও গাঁজা সেবনসহ নানা কুরুচিপূর্ণ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগও আনা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব কর্মকাণ্ড ইচ্ছাকৃতভাবে পরিচালিত হয় ভক্তদের আকৃষ্ট করার কৌশল হিসেবে।
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, দরবার শরীফে নিয়মিতভাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ, স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান সামগ্রী ‘নজরানা’ হিসেবে আদায় করা হচ্ছে। পরে এসব অর্থ দেশের বাইরে পাচার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারী ইসলাম উদ্দিন বলেন, “এই দরবারটি মূলত একটি বাণিজ্যিক প্রতারণা কেন্দ্র। ধর্মীয় আবরণে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায় করে তা বিদেশে পাচার করা হচ্ছে। এর ফলে অনেক পরিবার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।”
অভিযোগকারীদের মতে, এই দরবারের কার্যক্রম সামাজিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে। এলাকার একাধিক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দরবার শরীফে নিয়মিত যাতায়াতের ফলে অনেক মানুষ পারিবারিক কলহ, আর্থিক সংকট ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতার শিকার হয়েছেন। কেউ কেউ দাবি করেছেন, দরবারের বিরোধিতা করায় তাদের হুমকিও দেওয়া হয়েছে।
এলাকাবাসীর একটি অংশ মনে করছেন, এই ধরনের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হতে পারে এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তারা অবিলম্বে দরবার শরীফের কার্যক্রম বন্ধ করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগপত্রে এলাকার বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ধর্মপ্রাণ মানুষের নাম সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তারা প্রত্যেকেই অভিযোগের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। অভিযোগকারীরা বলেন, আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয় ও জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। তারা বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে আশ্বাস দেন তারা।
অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে কথিত পীর গিয়াস উদ্দিন তালুকদারের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, ছাতকসহ সুনামগঞ্জ অঞ্চলে বিভিন্ন দরবার ও কথিত পীরকেন্দ্রিক কর্মকাণ্ড নিয়ে এর আগেও নানা বিতর্ক ও অভিযোগ উঠেছে। সচেতন মহল মনে করছেন, ধর্মীয় বিশ্বাসের নামে প্রতারণা ও বিভ্রান্তি রোধে প্রশাসনের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতাও জরুরি। বর্তমান অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটিত হলে তা ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেছেন।



ঈশ্বরদীর লক্ষ্মীকুন্ডা ইউনিয়ন জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে একজন নিহত

মামুনুর রহমান, পাবনাঃ  বুধবার ১৭ ডিসেম্বর’ ২৫ সকালে লক্ষ্মিকুন্ডার কামালপুর গ্রামে। সে ঐ গ্রামের আবুল মোল্লার ছেলে এবং লক্ষ্মিকুন্ডা ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক। মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর’২৫) নিহত বিরু মোল্লার আপন চাচাতো ভাই মৃত ইসলাম মোল্লার ছেলে জহুরুল মোল্লা বিরু মোল্লার মালিকানা দাবিকৃত জমি থেকে ইটভাটায় ব্যবহারের জন্য মাটি কেটে নিয়ে যায়। এই জমিটি নিয়ে উভয়ে মালিকানা দাবি করার কারণে দীর্ঘদিন থেকে বিরোধ।
এই জমিটি নিয়ে উভয়ে মালিকানা দাবি করার কারণে দীর্ঘদিন থেকে বিরোধ চলে আসছে। সাম্প্রতিককালে এ নিয়ে দ্বন্দ্ব প্রকট আকার ধারণ করে। বুধবার (১৭ ডিসেম্বর’২৫) সকালে বিরু মোল্লা লোকজন নিয়ে জহুরুল মোল্লার বাড়িতে যায় এবং কেন মাটি কাটা হয়েছে এপ্রসঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদ করার এক পর্যায়ে উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি, বাকবিতন্ডা ও চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
এসময় বিরু মোল্লার লোকজন ইটপাটকেল ছুঁড়লে জহুরুল মোল্লা ও তার ছেলে ফাঁকা গুলি বর্ষণ করে বিরু মোল্লাসহ তার লোকজনকে সরে যেতে বলেন। কিন্তু বিরু মোল্লার লোকজন সরে না গিয়ে মারমুখী আচরণে অনড় থাকে। পরিস্থিতি ভয়াবহ পর্যায়ে গেলে বিরু মোল্লাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়া হয়। এসময় মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে বিরু মোল্লা ঘটনাস্থলেই নিহত হন। ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার সরকার ও ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মমিনুজ্জামানকে জিজ্ঞাসা করা হলে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে তারা বলেন, জমিজমা সংক্রান্ত পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণে বিরু মোল্লা নিহত হয়েছেন। নিহত বিরু মোল্লার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে এবং আইনী ব্যবস্থা গ্রহণে যথাযথ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আকস্মিক এই হত্যাকান্ড সংঘটিত হওয়ার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে পুলিশ দাবি করেছেন। উল্লেখ্য, নিহত বিরু মোল্লা এবং ঘাতক জহুরুল মোল্লা উভয়ই বিএনপি রাজনীতির সাথে জড়িত এবং তারা দুজনেই বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও পাবনা জেলা বিএনপির আহবায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের ঘনিষ্ঠ সহচর ও সমর্থক বলে উভয়ের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করেন।



লালমনিরহাটে সবজি চাষে কৃষক; বঞ্চিত লাভে মধ্যস্বত্বভোগী

জহুরুল হক জনি, লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধিঃ দেশজুড়ে কৃষকরা যখন ঘাম ঝরিয়ে উৎপাদন করছেন নানান ধরনের সবজি, তখন বাজারে সেই সবজির দাম আকাশছোঁয়া। কিন্তু চরম বাস্তবতা হলো এর অধিকাংশ লাভ চলে যাচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগীদের পকেটে, আর প্রথম স্রোতের নায়ক কৃষক রয়ে যাচ্ছেন প্রান্তে।

লালমনিরহাটের আদিতমারী, কালীগঞ্জ, হাতীবান্ধা, পাটগ্রাম ও সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন টনকে টন সবজি উৎপাদিত হচ্ছে। ফুলকপি, বাঁধাকপি, লাউ, টমেটো, মরিচ, মুলা, শিমসহ বিভিন্ন মৌসুমী সবজি স্থানীয় কৃষকরা কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। একদিকে পরিবহন খরচ অন্যদিকে পর্যাপ্ত বাজার ব্যবস্থাপনার অভাব সব মিলিয়ে কৃষকরা সবজি তুলেই যেন লোকসানে পড়ছেন। একই সবজি মাঠ থেকে কৃষক বিক্রি করছেন ১০–১২টাকায়, যা ভোক্তার কাছে গিয়ে দাঁড়াচ্ছে ৩০–৪০ টাকা।

এই ব্যবধান কোথায় যাচ্ছে…?

উত্তর একটাইঃ মধ্যস্বত্বভোগীদের হাতে।

কীভাবে লাভ চলে যাচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগীদের হাতে.?

কৃষকদের কাছ থেকে পাইকাররা কম দামে সবজি কিনে নেন। এরপরে শহরের আড়তে গিয়ে তা বিক্রি হয় দ্বিগুণ বা তিগুণ দামে। এই চক্রে জড়িত থাকে: স্থানীয় দালাল,পরিবহন সিন্ডিকেট, আড়ৎদার ও শহরের খুচরা বিক্রেতারা। ফলে প্রকৃত উৎপাদক কৃষককে তার ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হতে হয়।

কৃষকের কণ্ঠে ক্ষোভ:

আদিতমারী উপজেলার কৃষক রহিম উদ্দিন বলেন, দ্রুত পচনশীল হওয়ায় আমরা লোকসান দিয়ে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছি। অন্যদিকে হাতীবান্ধার কৃষক ফারুক হোসেন বলেন, মাঠপর্যায়ে কার্যকর তদারকি না থাকায় সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বেড়েছে।

পাইকাররা কম দামে সবজি কিনে নেয়,

আর আড়তে বিক্রি করতে গেলে পরিবহন ও শ্রমিক খরচ যোগ হওয়ায় কৃষকের লাভ আরও কমে যায়। সরকার যদি সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে কিনতো, আমরা কিছুটা হলেও বাঁচতাম। দালালরা সব খেয়ে ফেলছে।

কৃষি বিশেষজ্ঞদের মত:

কৃষি অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সরাসরি কৃষক-ভোক্তা সংযোগ তৈরি না হলে কৃষি ব্যবস্হাপনা কখনোই টেকসই হবে না।

⇨প্রান্তিক কৃষকদের সংগঠন গড়ে তুলে সরাসরি বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করতে হবে।

⇨কৃষিপণ্য সংরক্ষণ ও পরিবহনের জন্য আধুনিক অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে।

করণীয় কী..?

⇨কৃষকের ন্যায্য দামের নিশ্চয়তায় সরকারিভাবে সরাসরি ক্রয় কেন্দ্র চালু করা।

⇨ডিজিটাল কৃষিপণ্য বিপণন ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

⇨স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষি অফিসের নজরদারি বাড়ানো

⇨কৃষকদের সংগঠিত করে পাইকারি বাজারে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে,

চলতি মৌসুমে জেলায় আলু বাদে প্রায় ৫ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজির আবাদ সম্পন্ন হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এ আবাদ আরও বাড়বে।

পাশাপাশি নিরাপদ ও বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন নিশ্চিত করতে কৃষি বিভাগ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।

উপসংহার:

“কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে”

এই কথা কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তবায়ন করতে হবে। মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ না হলে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষকের ভবিষ্যৎ দুটোই বিপন্ন হতে পারে।




পিরোজপুরে নারী ও কন্যার প্রতি প্রযুক্তির জেন্ডার ভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে প্রেস ব্রিফিং

পিরোজপুর প্রতিনিধি : নারী ও কন্যার প্রতি প্রযুক্তির অপব্যবহারের মাধ্যমে সংঘটিত জেন্ডার ভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান বিষয়ে প্রেস ব্রিফিং  অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার দুপুরে পিরোজপুর প্রেসক্লাব মিলন আয়তনে গণউন্নয়ন সমিতির আয়োজনে প্রতিরোধ, প্রশমন ও সর্বপক্ষীয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রেস ব্রিফিং  অনুষ্ঠিত হয়।
প্রেস ব্রিফিং এ নারী ও কন্যা শিশুর প্রতি  প্রযুক্তি-নির্ভর জেন্ডার ভিত্তিক সহিংসতা রোধে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা যথেষ্ট নয়। সরকার, বেসরকারি সংস্থা, গণমাধ্যম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকদের সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য বলে জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন,পিরোজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মো. জিয়াউর রহমান। গণউন্নয়ন সমিতির নির্বাহী পরিচালক জিয়াউল আহসান এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, সিনিয়র সাংবাদিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা এম. এ. রব্বানী ফিরোজ। পিরোজপুর প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি ইমাম হোসেন মাসুদ, প্রেসক্লাব সহ-সভাপতি মো. খেলাফত হোসেন খসরু, এডভোকেট ওয়াহিদ হাসান বাবু, জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক  নাইন তালুকদার, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার ভাণ্ডারিয়া উপজেলা সভাপতি এইচ. এম. জুয়েল প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তির বিস্তারের ফলে নারী ও কিশোরীরা অনলাইনে হয়রানি, ব্ল্যাকমেইল, সাইবার বুলিং ও মানহানির মতো সহিংসতার শিকার হচ্ছেন, যা ভুক্তভোগীদের মানসিক স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। তারা ডিজিটাল নিরাপত্তা বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, ভুক্তভোগীদের জন্য সহজ অভিযোগ ব্যবস্থাপনা, দ্রুত আইনি সহায়তা এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফল অবদানের জন্য ১৪ জন নারী প্রতিনিধিকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। প্রেস ব্রিফিংয়ে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সচেতন নাগরিক, শিক্ষাবিদ ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ মোট ৪৬ জন অংশগ্রহণ করেন।



“মহান বিজয় দিবস ২০২৫” উপলক্ষে লালমনিরহাট জেলা পুলিশের শ্রদ্ধা নিবেদন

জহুরুল হক জনি, স্টাফ রিপোর্টারঃ ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫, মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে লালমনিরহাট জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বীরদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়।

সকালে জেলার কেন্দ্রীয় মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও দোয়া মোনাজাতের আয়োজন করা হয়। শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানে নেতৃত্ব দেন লালমনিরহাট জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার মোঃ আসাদুজ্জামান। এ সময় তিনি শহীদদের আত্মত্যাগকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন এবং তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, জনাব মোঃ শাহাদত হোসেন সুমা, বিপিএম +বার), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ), জনাব শেখ মোঃ জিন্নাহ আল মামুন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড (অপস্), জনাব এ কে এম ফজলুল হক,  অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এ-সার্কেল)

ডিআইও-১, জেলা বিশেষ শাখা, অফিসার ইনচার্জ, লালমনিরহাট থানা, অফিসার ইনচার্জ, জেলা গোয়েন্দা শাখাসহ জেলা পুলিশের অন্যান্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

এই শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে শহীদদের প্রতি সম্মান এবং দেশের প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।




বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কমিটির অনুমোদন

সৈয়দ উসামা বিন শিহাব স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাব (B.C.P.C) ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার নবগঠিত কমিটির আনুষ্ঠানিক অনুমোদন প্রদান করা হয়েছে।

সোমবার (১ ডিসেম্বর) রাজধানী ঢাকার মিরপুর-১০ নম্বরে বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাব (B.C.P.C) প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সংগঠনটির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ নবগঠিত জেলা কমিটির সদস্যদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাব (B.C.P.C) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও জাতীয় দৈনিক মাতৃজগত এবং দৈনিক বাংলাদেশ ক্রাইম সংবাদ পত্রিকার সম্পাদক খান সেলিম রহমান।

এসময় ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন হিউম্যান এইড ইন্টারন্যাশনাল-এর প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাব (B.C.P.C) কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি, সময়ের জনপ্রিয় মানবাধিকার নেতা সেহলী পারভীন; ঢাকা প্রেসক্লাবের সভাপতি আরঙ্গজেব কামাল এবং বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাব (B.C.P.C) প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক মাতৃজগত পত্রিকার সিনিয়র সহ-সম্পাদক মো. মাহিদুল হাসান সরকার।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দৈনিক গণ জাগরণ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি শিহাব উদ্দিন; কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি মো. মাহাবুব উদ্দিন; শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক ও দৈনিক মাতৃজগতের বার্তা সম্পাদক ওয়ারেছ আহমেদ ভুঁইয়া (তাপস); প্রচার সম্পাদক সৈয়দ উসামা বিন শিহাবসহ আরও অনেকে।

অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি খান সেলিম রহমান।

প্রধান অতিথির বক্তব্য, খান সেলিম রহমান বলেন, সাংবাদিকতা শুধু পেশা নয়, এটি জাতির প্রতি দায়বদ্ধতার প্রতিশ্রুতি। তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকতা ন্যায়, সত্য, মানবিকতা এবং সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধের নাম। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কমিটির অনুমোদনের মাধ্যমে এখানকার সংবাদকর্মীরা পেশাদারিত্ব, নৈতিকতা ও বস্তুনিষ্ঠতার মান আরও উঁচুতে নিয়ে যাবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি জনগণের সমস্যাকে প্রাধান্য দিয়ে সাহসিকতার সঙ্গে সংবাদ তুলে ধরার আহ্বান জানান এবং সাংবাদিকদের উন্নয়ন, সুরক্ষা, প্রশিক্ষণ ও অধিকার রক্ষায় কেন্দ্রীয় কমিটি সবসময় পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

অনুষ্ঠানের বক্তারা বলেন, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ডিজিটাল সাংবাদিকতায় প্রশিক্ষণ, তথ্য যাচাই ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের দক্ষতা বৃদ্ধি, তরুণ সংবাদকর্মীদের পেশাগত দিকনির্দেশনা এবং আইনগত সহায়তার জন্য হেল্প ডেস্ক চালু—এসবকে সামনে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কমিটি কাজ করবে।
তারা জানান, প্রতি মাসে নিয়মিত সেমিনার, ট্রেনিং এর আয়োজন করা হবে।

বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাব ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কমিটি (২০২৫–২০২৭)
নবগঠিত কমিটির অনুমোদিত তালিকা
১. সভাপতি
মো. জানে আলম
২. সহ-সভাপতি
২.১ মো. আবুল কালাম ইউসুফ
২.২ মো. মাসেকুর রহমান
৩. সাধারণ সম্পাদক
আবদুল্লা আল সাঈদ
৪. সহ-সাধারণ সম্পাদক
সালমান হোসেন
৫. সাংগঠনিক সম্পাদক
মো. ছালেক আহাম্মেদ তারেক

৬. সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক
মো. বকুল মিয়া
৭. অর্থ সম্পাদক
মো. রুবেল মিয়া
৮. সহ-অর্থ সম্পাদক
শারমিন ইসলাম
৯. দপ্তর সম্পাদক
মো. খাদেমুল ইসলাম (জীবন)
১০. প্রচার সম্পাদক
আরিফ চৌধুরী
১১. সাংস্কৃতিক সম্পাদক
এস এম খোকন
১২. মহিলা বিষয়ক সম্পাদক
সানজিদা বেগম
১৩. ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক
মাওলানা মাসুদ আযহার
১৪. আইন বিষয়ক সম্পাদক
জাহিদুল মনির
১৫. সমাজকল্যাণ সম্পাদক
স্বপন আহমেদ
১৬. স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক
রাবেয়া খাতুন
১৭. তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক
মো. সুফল আমিন
১৮. ত্রাণ সম্পাদক
মো. হিরা আলম
১৯. দুর্যোগ ও পরিবেশ সম্পাদক
মো. তোফাজ্জল ইসলাম
২০. জনশক্তি সম্পাদক
মো. সালাউদ্দিন
২১. ক্রীড়া সম্পাদক
সোহাগ মোল্লা শিমুল
২২. কার্যনির্বাহী সদস্য
২২.১ হারুন মিয়া
২২.২ শারমিন জাহান।

নবগঠিত কমিটির সদস্যদের শুভেচ্ছা জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, সত্য সংবাদ প্রকাশের পথে বাধা আসলেও থেমে থাকা যাবে না। গণমাধ্যম রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ, আর সংবাদকর্মীরা জনগণের কণ্ঠস্বর। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কমিটির প্রতিটি সদস্য সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে।

কমিটি ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ সব উপজেলার সাংবাদিকদের উন্নয়নে যেসব উদ্যোগ গ্রহণ করবে:
উপজেলা ইউনিটে প্রেসক্লাব কার্যক্রম সম্প্রসারণ, সাংবাদিকদের আইডি কার্ড বিতরণ ও ডাটাবেজ তৈরি, আইনগত সহায়তা ইউনিট চালু, জেলা-ভিত্তিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন উৎসাহনা, জরুরি ঘটনায় র‌্যাপিড রেসপন্স টিম গঠন, প্রবীণ সাংবাদিকদের সম্মাননা ও কল্যাণ তহবিল চালু, ডিজিটাল নিরাপত্তা ও ফ্যাক্ট-চেকিং প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা।
এসব উদ্যোগ সাংবাদিক মহলে ইতোমধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।

বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাব ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কমিটির এই অনুমোদনের মাধ্যমে জেলার সাংবাদিকতা আরও সুসংগঠিত, গতিশীল এবং জনমুখী হবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা। নতুন নেতৃত্ব জেলার সাংবাদিক সমাজকে আরও এগিয়ে নেবে বলেও তারা আশাবাদী।