বৈদ্যুতিক মিটার নিয়ে চোর পালালো; মহাখালী রাজউক অফিসে দুর্ধর্ষ চুরি
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাজধানীর মহাখালীতে অবস্থিত রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) জোন-৩ এর কার্যালয়ে এক চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনা ঘটেছে। ২১ এপ্রিল রাতের আধারে ভবনের প্রধান বিদ্যুৎ মিটারটি চোরেরা কেটে নিয়ে যাওয়ায় প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎহীন ভাবে চলছে পুরো অফিসের কার্যক্রম। এতে ব্যাহত হচ্ছে দাপ্তরিক গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম এবং চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন সেবাগ্রহীতারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সকালে রাজউক অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কাজে যোগ দেওয়ার পর দেখতে পান কোন ধরনের বিদ্যুৎ চলছে না। প্রাথমিকভাবে একে সাধারণ লোডশেডিং মনে করা হলেও দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎ না আসায় সন্দেহ তৈরি হয়। পরে বিদ্যুৎ কক্ষ পরীক্ষা করতে গিয়ে দেখা যায়, মেইন গেট বা নির্ধারিত স্থানের বিদ্যুৎ মিটারটি কৌশলে কেটে নিয়ে গেছে চোর চক্রের সদস্যরা।
বিদ্যুৎ না থাকায় সকাল থেকে রাজউকের সার্ভার এবং কম্পিউটার সিস্টেম বন্ধ হয়ে পড়ে। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা সেবাগ্রহীতারা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও কোনো কাজ সম্পন্ন করতে পারছেন না তারা। রাজউকের এক কর্মকর্তা জানান, প্রায় ৫ ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র যাচাই ও ডিজিটাল কাজগুলো স্থবির হয়ে পড়ছে।
তবে একসূত্রে জানা যায়, এমন ঘটনা এর আগেও একবার ঘটেছে। অন্য একজন বলছেন এমন ঘটনা কেন ই বা ঘটবে না অফিস সময় শেষে সবাই চলে যায় আগে নৈশপ্রহরী ছিল এমন ঘটনা ঘটার সুযোগ কম ছিল। এখন অনেক মাস ধরে এখানে নৈশপ্রহরী নেই যে কারণে এমন ঘটনা ঘটা অস্বাভাবিক নয়।
ঘটনার পরপরই ডেসকো (DESCO) কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়। রাজউক জোন-৩ এর কর্মকর্তারা জানান, একটি সরকারি অফিসের মিটার চুরির ঘটনাটি বেশ উদ্বেগের। নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও কীভাবে মিটারটি চুরি হলো তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বর্তমান অবস্থা দীর্ঘ ৫ ঘণ্টা হয়ে গেলেও জেনারেটর বা বিকল্প ব্যবস্থায় কিংবা নতুন মিটার স্থাপনের মাধ্যমে কোন রকম বিদ্যুৎ সংযোগ সচল করা হয়নি। এ ঘটনায় স্থানীয় থানায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ থেকে কোন অভিযোগ বা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার প্রস্ততি নেওয়া হয়েছে কি না জানা যায়নি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৪০ শতাংশ বিদ্যুৎ ঘাটতি, লোডশেডিং বেড়েছে
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধিঃ চাঁপাইনবাবগঞ্জে গরমের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে ৪০ শতাংশ বিদ্যুৎ ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ফলে বেড়েছে লোডশেডিং। তবে শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে কয়েকগুণ বেশি লোডশেডিং হচ্ছে। এ অবস্থায় ভোগান্তিতে পড়ছেন জেলা শহরসহ পাঁচ উপজেলার বাসিন্দারা। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা নাজেহাল হয়ে পড়েছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, গরমের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে। কিন্তু চাহিদার তুলনায় বিদ্যুতের সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। তাই স্থান ও সময় ভেদে লোডশেডিং দিয়ে বিদ্যুৎ সরবারহ করতে হচ্ছে।
এই প্রসঙ্গে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি-নেসকো চাঁপাইনবাবগঞ্জ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আলিউল আজিম বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরে বিদ্যুতের চাহিদা ৩১ থেকে ৩২ মেগাওয়াট। কিন্তু সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে সাড়ে ২৫ থেকে ২৬ মেগাওয়াট। সে হিসেবে ঘাটতি রয়েছে ৫ থেকে ৬ মেগাওয়াট। এ কারণে এলাকাভেদে লোডশেডিং হচ্ছে।
অন্যদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার হাওলাদার মো. ফজলুর রহমান বলেন, এপ্রিলের শুরু থেকেই গরম বেড়েছে। এ কারণে বিদ্যুতের চাহিদাও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এ ছাড়া গ্রামাঞ্চলে বোরো চাষের জন্য বিদ্যুতের বাড়তি চাহিদা রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে চাহিদার চেয়ে ৩০ থেকে ৪০ ভাগ বিদ্যুৎ সরবরাহ কম পাওয়া যাচ্ছে তাই স্থান ও সময় ভেদে বিভিন্ন সময় লোডশেডিং দেয়া হচ্ছে। তবে আগামীতে লোডশেডিং বাড়বে কিনা তা চাহিদা ও সরবরাহের উপর নির্ভর করবে বলেও জানান তিনি।
দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে বন্ধ দোকানে মিলল ব্যবসায়ীরা মরদেহ
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সিলেট নগরীর লালদিঘীরপাড় এলাকা থেকে একটি বন্ধ দোকান থেকে পচা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা মরদেহের সন্ধান পান। বুধবার (১৫ এপ্রিল) মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন ধরে এলাকায় তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল। প্রথমে ব্যবসায়ীরা ধারণা করেন, কোনো ইঁদুর মারা গিয়ে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। তবে গন্ধ সহ্যের বাইরে চলে গেলে তারা নিজেরাই অনুসন্ধানে নামেন। একপর্যায়ে পাশের একটি দোকানের ভেতরে উঁকি দিয়ে তারা একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। দোকানটি তালাবদ্ধ ছিল না।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরের পর ব্যবসায়ী নাজিম আহমদ (২৫) ও পাভেল আহমদ (২৬) মরদেহটি দেখতে পান এবং পুলিশকে খবর দেন। পরে বিকেলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
পুলিশ জানায়, নিহত ব্যক্তির নাম নুরুল ইসলাম (৫০)। তিনি দক্ষিণ সুরমার কামালবাজার এলাকার পুরানগাঁও গ্রামের আরফান আলীর ছেলে। তিনি দীর্ঘ ২০ বছর ধরে তরকারি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী নাজিম ও পাভেল জানান, গত দুই দিন ধরে দোকান এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছিল। প্রথমে তারা বিষয়টিকে সাধারণ মনে করলেও পরে গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে মরদেহ দেখতে পান।
সিলেট কোতোয়ালি থানার বন্দরবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মো. সুলেমান মিয়া বলেন, ধারণা করা হচ্ছে নুরুল ইসলামের মৃত্যু অন্তত দুই দিন আগে হয়েছে। বিষয়টি তার পরিবারের সদস্যদের জানানো হয়েছে এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে।
লালদিঘীরপাড় নতুন হকার্স মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সামছুল আলম জানান, নুরুল ইসলাম দুই কন্যা সন্তানের জনক ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওই মার্কেটে ব্যবসা করতেন এবং বিভিন্ন বাজার থেকে কাঁচামাল সংগ্রহ করে বন্দরবাজার এলাকায় বিক্রি করতেন।
ঢাকা মিরপুর প্রেসক্লাবে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত
এসএম বদরুল আলমঃ ঢাকা মিরপুর প্রেসক্লাবে ঈদ পরবর্তী এক আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার অসংখ্য সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন। পুরো অনুষ্ঠানটি ছিল উৎসবমুখর পরিবেশে ভরপুর, যেখানে সহকর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, ঐক্য ও পেশাগত বন্ধন আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক পাঞ্জেরীর সম্পাদক ও মিরপুর প্রেসক্লাবের প্রধান উপদেষ্টা তালুকদার রুমী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক মাতৃ জগত পত্রিকার সম্পাদক ও মিরপুর প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা খান সেলিম রহমান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মিরপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি এস এম বদরুল আলম এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মোঃ শিহাব উদ্দিন।
প্রধান অতিথির বক্তব্য
প্রধান অতিথি তালুকদার রুমী তার বক্তব্যে বলেন, সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা, যা সমাজের দর্পণ হিসেবে কাজ করে। তিনি বলেন, সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নিয়ে সাংবাদিকদের কাজ করতে হবে এবং কোনো ধরনের ভয় বা চাপের কাছে নতি স্বীকার করা যাবে না। তিনি আরও বলেন, মিরপুর প্রেসক্লাব শুধু একটি সংগঠন নয়, এটি সাংবাদিকদের একটি পরিবার। এই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ঐক্য, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতা বজায় রাখতে হবে। তিনি তরুণ সাংবাদিকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, নৈতিকতা বজায় রাখা এবং পেশাদারিত্বের সাথে কাজ করার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য
বিশেষ অতিথি খান সেলিম রহমান তার বক্তব্যে বলেন, বর্তমান সময়ে সাংবাদিকদের সামনে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ঐক্যবদ্ধ থাকা অত্যন্ত জরুরি। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। তিনি মিরপুর প্রেসক্লাবের কার্যক্রমের প্রশংসা করে বলেন, এই ধরনের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান সহকর্মীদের মধ্যে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করে এবং পেশাগত উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।
সভাপতির বক্তব্য
সভাপতি এস এম বদরুল আলম তার বক্তব্যে বলেন, মিরপুর প্রেসক্লাব সবসময় সাংবাদিকদের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, সংগঠনের প্রতিটি সদস্যের অংশগ্রহণেই প্রেসক্লাব আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে। তিনি সকল সদস্যকে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিভেদ নয়—ঐক্যই আমাদের মূল শক্তি। তিনি ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে এমন অনুষ্ঠান আয়োজনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্য
সাধারণ সম্পাদক মোঃ শিহাব উদ্দিন তার বক্তব্যে বলেন, এই পুনর্মিলনী শুধুমাত্র একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি আমাদের পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তিনি বলেন, প্রেসক্লাবের প্রতিটি কার্যক্রমে সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণই সংগঠনের প্রাণ। তিনি সকলকে একসাথে থেকে সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় কাজ করার আহ্বান জানান এবং ভবিষ্যতে আরও কার্যকর ও ফলপ্রসূ উদ্যোগ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্য
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম সায়মন তার বক্তব্যে বলেন, সাংবাদিকদের পেশাগত উন্নয়নের জন্য প্রশিক্ষণ, কর্মশালা এবং পারস্পরিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের গড়ে তুলতে সিনিয়রদের ভূমিকা অপরিসীম। তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, মিরপুর প্রেসক্লাবকে একটি আদর্শ সংগঠন হিসেবে গড়ে তুলতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে মিরপুর প্রেসক্লাবের অন্যান্য নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাইনুল ইসলাম পলাশ, সহ-সভাপতি মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, সহসভাপতি খাইরুল ইসলাম, যুগ্ন সাধারন সম্পাদক শফিকুল ইসলাম সায়মন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনজুর আহমেদ, যুগ্ন সাধারন সম্পাদক সুমন খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সারোয়ার আলম, অর্থ সম্পাদক জিএস জয় ও সোহরাব হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক ইকবাল হোসেন নিপু, দপ্তর সম্পাদক এমএ গাফফার, প্রচার সম্পাদক দুলাল হোসেন, মানবাধিকার সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন তালুকদার, কার্যনির্বাহী সদস্য মোঃ আখতারুজ্জামান, রশিদি মাহবুব, আলী হোসেন, জাহাঙ্গীর তুষার, ফিরোজ আল মামুন, আপ্যায়ন সম্পাদক এম এ মালেকসহ অসংখ্য প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।
অনুষ্ঠানটি পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময় ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।
তাহেরীর মাহফিলে ইউএনওর ১৪৪ ধারা, স্বেচ্ছাচারিতা নাকি তাবেদারি
মাধবপুর থেকে ফিরে : হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার শিমুলঘর গ্রামে ইসলামী বক্তা মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরী’র ওয়াজ মাহফিলকে কেন্দ্র করে ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি “নাটকীয় পরিস্থিতি” সৃষ্টি করে প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করেছে।
জানা যায়, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত কমিটির উদ্যোগে শনিবার(২৮ মার্চ) অনুষ্ঠিতব্য মাহফিলের সব প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন, আয়োজকদের দাবি, প্রস্তুতি শেষ হওয়ার পর থেকেই প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে মাহফিল বন্ধের তৎপরতা শুরু হয়।
পরবর্তীতে ২৭ মার্চ শুক্রবার মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ বিন কাসেম স্বাক্ষরিত এক আদেশে এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়।
অনুসন্ধানে জানা যায়, “নূরে মদিনা গাউছিয়া” নামে একটি পৃথক কমিটির ব্যানারে ভুয়া একটি ওয়াজ মাহফিলের পোস্টার ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে উল্লেখিত সভাপতি ও বক্তাদের কেউই বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি স্বার্থান্বেষী মহল ভুয়া পোস্টার তৈরি করে এলাকায় পাল্টাপাল্টি মাহফিলের পরিস্থিতি সৃষ্টি করে প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করেছে।
ভুয়া পোস্টারে সভাপতি হিসেবে দেখানো স্থানীয় মসজিদের ইমাম মাওলানা রোকন উদ্দিন সালেহী বলেন,“আমার নাম ব্যবহার করে যে পোস্টার তৈরি করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভুয়া। আমি এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেব।”
তিনি আরও জানান, প্রকৃত মাহফিলটি আয়োজন করছেন মুফতি মুজাম্মেল হকের নেতৃত্বাধীন কমিটি। এতে প্রধান বক্তা হিসেবে থাকছেন মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরী। প্রধান অতিথি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চীফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম এবং সভাপতিত্ব করার কথা স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মিনহাজ উদ্দিন চৌধুরীর।
মাহফিল পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে মুফতি মুজাম্মেল হক মাসুমী অভিযোগ করেন,
“একটি চক্র প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করে আমাদের মাহফিল বন্ধ করার চেষ্টা করছে। আমরা জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। প্রয়োজনে আমরা আইনগত ব্যবস্থায় যাব।”
স্থানীয় ইউপি সদস্য কামাল মিয়া বলেন,“তাহেরী হুজুরের মাহফিলকে বাধাগ্রস্ত করতেই একটি চক্র এ কাজ করেছে। আমরা প্রশাসনকে বলেছি ১৪৪ ধারার প্রয়োজন ছিল না। তারপরও এটি জারি করা হয়েছে। আমরা চাই মাহফিলটি অনুষ্ঠিত হোক।”
এদিকে, ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ক্ষোভ ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ১৪৪ ধারার সমালোচনা করে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন সাংবাদিক অলিউল্লাহ নোমান।
এ বিষয়ে ইউএনও জাহিদ বিন কাসেমের কাছে মাহফিল ও ভুয়া পোস্টার প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
তবে এলাকার কয়েকজন প্রবীণ নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রতিবেদককে বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে এ মাহফিল বন্ধ করা হয়েছে। কারণ হিসাবে উনারা জানান বিগত নির্বাচনে হবিগঞ্জ -০৪ আসন থেকে চীপ প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার আমিনুল ইসলাম বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশি ছিলেন। তাছাড়া মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরি সরাসরি নির্বাচনে অনশগ্রহণ করেন পরাজিত হন। রাজনীতির মারপ্যাঁচে মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরি ও চীপ প্রসিকিউটর এক মঞ্চে মানেই নতুন সমীকরণ। ভবিষ্যৎ নির্বাচনে এর প্রভাব পড়বে তাই কৌশলে স্হানীয় গণমাধ্যম কর্মী (এম,এ,কাদের) কে বলির পাঠা বানিয়ে ধূম্রজাল সৃষ্টি করে প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে। কেউ কেউ এই ১৪৪ ধারা কে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর স্বেচ্ছাচারিতা হিসাবে মনে করলেও অনেকের মতে তাবেদারির শামিল।
কারণ শুক্রবার বিকেলে ই কথিত আরেকটি মাহফিলের প্যান্ডেল উধাও করে ফেলে কুচক্রীমহল। তাছাড়া কথিত প্যান্ডেল টি বিএনপির একটা মিটিংয়ের জন্য তৈরি বলে ডেকোরেটার্স মালিক জানান৷ সুশীল সমাজের ব্যাক্তিবর্গ মনে করেন বিএনপির অনুষ্ঠান শুক্রবার আর ওয়াজ মাহফিল শনিবার তাই এখানে ১৪৪ জারি উদ্দেশ্য প্রনোদিত।
ট্রেনে কাটা পড়ে নিহত ৫ জনের বাড়ি একই গ্রামে, এলাকাজুড়ে শোক
ডেস্ক নিউজঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ট্রেনে কাটা পড়ে একই পরিবারের সদস্যসহ পাঁচ গার্মেন্টস শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যুতে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে শোকের মাতম চলছে। নিহত সবার বাড়ি সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের নিজপাড়া গ্রামে।
শনিবার (২৮ মার্চ) সকালে মরদেহগুলো গ্রামে পৌঁছালে স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকার আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। ইতোমধ্যে কবর খননের কাজ চলছে। দুপুর বেলা বাদ যোহর জানাজার পর পারিবারিক কবরস্থানে তাদের সমাহিত করা হবে।
গতকাল শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাত ৮টার দিকে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার ধলাটেংগর এলাকায় এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন—নিজপাড়া গ্রামের আজিজার রহমানের ছেলে সুলতান মাহমুদ (২৮), তার চাচাতো বোন রিফা রেসা (২৪), প্রতিবেশী নার্গিস আক্তার (৪২), তার ১২ বছর বয়সী ছেলে নিরব এবং নিরবের বড় ভাইয়ের শাশুড়ি দোলা বেগম (৪৫)। নিহত নার্গিস আক্তার ওই গ্রামের হামিদুজ্জামানের স্ত্রী। তারা সবাই সম্পর্কে একে অপরের আত্মীয় এবং জীবিকার তাগিদে ঢাকায় গার্মেন্টস শ্রমিকের কাজ করতেন।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, নিহতরা সবাই একটি যাত্রীবাহী বাসে করে ঢাকা যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে ধলাটেংগর এলাকায় পৌঁছালে বাসটির জ্বালানি তেল শেষ হয়ে যায়। এ সময় যাত্রীরা বাস থেকে নেমে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের পাশের রেললাইনে বসে অপেক্ষা করছিলেন। দীর্ঘ যাত্রার ক্লান্তি কাটাতে তারা যখন গল্পে মগ্ন ছিলেন, ঠিক তখনই সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনটি ওই এলাকা অতিক্রম করছিল। রেললাইনে বসে থাকা যাত্রীরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই ট্রেনের নিচে কাটা পড়েন। এতে ঘটনাস্থলেই এক শিশু ও দুই নারীসহ পাঁচজন প্রাণ হারান।
ধাপেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. শাহাদাত হোসেন নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করে জানান, মৃতরা সবাই অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের সদস্য ছিলেন। কাজের সন্ধানে তারা ঢাকা যাচ্ছিলেন, কিন্তু পথিমধ্যে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা তাদের চিরতরে স্তব্ধ করে দিল। প্রিয়জনদের হারিয়ে দিশেহারা পরিবারগুলোকে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন প্রতিবেশীরাও। ঘাতক ট্রেনের চাকায় পিষ্ট হয়ে একই গ্রামের পাঁচটি তাজা প্রাণ ঝরে যাওয়ার ঘটনায় পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
হাকালুকি হাওরে বেড়েছে জলচর পাখি, কমেছে শিকার ও বিষটোপের ঘটনা
নুসরাত জাহানঃ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ মিঠাপানির জলাভূমি হাকালুকি হাওরে চলতি মৌসুমে জলচর পাখির সংখ্যা গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। পাশাপাশি আগের বছরগুলোর মতো পাখি শিকার, বিষটোপ ব্যবহার কিংবা নিষিদ্ধ জালে আটকে পাখি মারা যাওয়ার ঘটনা এবার প্রায় দেখা যায়নি। বিষয়টি জানিয়েছেন বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ও পাখি বিশেষজ্ঞ ইনাম আল হক। তাঁর নেতৃত্বে ১২ সদস্যের একটি দল গত ৪ ও ৫ ফেব্রুয়ারি হাওরের ৪৩টি বিলে পাখিশুমারি চালায়।
এই শুমারির আয়োজন করে বাংলাদেশ বার্ড ক্লাব ও আইইউসিএন। এতে সহযোগিতা করে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, সিলেট। শুমারিতে অংশ নেন বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম, বার্ড ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সরওয়ার আলম দীপু, সহসভাপতি জেনিফার আজমেরি, সদস্য অণু তারেকসহ আরও অনেকে।
শুমারির ফলাফল সম্পর্কে সরওয়ার আলম দীপু জানান, এ বছর হাকালুকি হাওরে মোট ৫৩ প্রজাতির ৫৪ হাজার ৪৮৬টি জলচর পাখি দেখা গেছে। এর মধ্যে ১৮টি প্রজাতি স্থানীয় এবং ৩৫টি প্রজাতি পরিযায়ী পাখি। গত বছর এখানে ৬০ প্রজাতির মাত্র ৩৫ হাজার ২৬৮টি পাখি পাওয়া গিয়েছিল। সেই তুলনায় এবার পাখির সংখ্যা বেশ বেড়েছে। তাঁর মতে, হাওরের চিনাউরা ও হাওরখালসহ কয়েকটি বিলে এবার পরিবেশ তুলনামূলক ভালো ছিল এবং সেখানে পানি বেশি ছিল। অন্য অনেক স্থানে পানি কমে যাওয়ায় অনেক পাখি এসব বিলে এসে জমায়েত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত বছর হাওরের নাগুয়া-লরিবাই বিল এলাকায় পাখি শিকারের জন্য প্রায় ১০০ মিটার দীর্ঘ একটি নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল পাওয়া গিয়েছিল। সেই জালে আটকে টিমেঙ্কের চাপাখি নামের বিরল দুটি পাখির মৃতদেহও উদ্ধার করা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, পিংলা বিলের পাশে ‘কার্বোটাফ’ নামের এক ধরনের শক্তিশালী রাসায়নিক কীটনাশকের প্যাকেটও পাওয়া যায়। শিকারিরা ধানের সঙ্গে এই বিষ মিশিয়ে বিলের আশপাশে ছিটিয়ে রাখত। পাখিরা খাবার ভেবে সেই ধান খেয়ে বিষক্রিয়ায় মারা যেত। তবে এবারের শুমারিতে এমন কোনো জাল বা বিষটোপের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। সরওয়ার আলম দীপু মনে করেন, স্থানীয় মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়ানোর কারণে শিকারিদের তৎপরতা কমে থাকতে পারে।
এবারের শুমারিতে একটি অত্যন্ত বিরল প্রজাতির পাখি—সাদা কপাল রাজহাঁস—দেখা গেছে। বাংলাদেশে এই পাখি সাধারণত ১০ থেকে ১২ বছরে একবার দেখা যায়। এছাড়া প্রথমবারের মতো হাওরে একসঙ্গে ১৯৪টি রাজহাঁস দেখা গেছে, যা দেশের জন্যও একটি বিরল ঘটনা।
এ বছর উপকূলীয় অঞ্চলে সাধারণত দেখা যায় এমন কিছু সৈকতপ্রিয় পাখির সংখ্যাও হাওরে বেশি পাওয়া গেছে। লালপা, গুলিন্দা ও জৌরালিসহ বিভিন্ন প্রজাতির সৈকতপাখি মিলিয়ে প্রায় সাত হাজারের বেশি পাখি দেখা গেছে। এর মধ্যে শুধু জৌরালি পাখির সংখ্যাই প্রায় সাড়ে তিন হাজার।
হাকালুকি হাওর মৌলভীবাজারের কুলাউড়া, জুড়ী ও বড়লেখা এবং সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ ও গোলাপগঞ্জ উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে আছে। প্রায় ২৮ হাজার হেক্টর আয়তনের এই হাওরে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ২৩৮টি বিল রয়েছে। ১৯৯৯ সালে সরকার এই হাওরকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে ঘোষণা করে।
তবে সামগ্রিকভাবে পাখির সংখ্যা আগের তুলনায় কমে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। বার্ড ক্লাব ও আইইউসিএনের তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ বছরে সারা দেশে পরিযায়ী পাখির সংখ্যা প্রায় ৩৫ শতাংশ কমে গেছে। হাকালুকি হাওরের ক্ষেত্রে এই হার প্রায় ৪৫ শতাংশ। ২০০০ সালের আগে এখানে ৭৫ থেকে ৮০ হাজার পাখি দেখা যেত।
পূর্বের পাখিশুমারির তথ্যেও ওঠানামা দেখা যায়। ২০২৩ সালে এখানে ৫২ প্রজাতির ৩৭ হাজার ৭৭৮টি, ২০২২ সালে ৫১ প্রজাতির ৩৬ হাজার ৫০১টি, ২০২১ সালে ৪৫ প্রজাতির ২৪ হাজার ৫৫১টি, ২০২০ সালে ৫৩ প্রজাতির ৪০ হাজার ১২৬টি, ২০১৯ সালে ৫১ প্রজাতির ৩৭ হাজার ৯৩১টি, ২০১৮ সালে ৪৪ প্রজাতির ৪৫ হাজার ১০০টি এবং ২০১৭ সালে ৫০ প্রজাতির ৫৮ হাজার ২৮১টি জলচর পাখি দেখা গিয়েছিল। ২০২৪ সালে সেখানে কোনো শুমারি হয়নি।
পাখির সংখ্যা কমে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে ইনাম আল হক বলেন, শুধু হাকালুকি হাওর নয়, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশেই কয়েক বছর ধরে পাখির সংখ্যা কমছে। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে পাখির আবাসস্থল ধ্বংস হয়ে যাওয়া এবং বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি। অর্থনৈতিক উন্নয়নের কারণে অনেক জলাভূমি ভরাট হয়ে যাচ্ছে বা মানুষের দখলে চলে যাচ্ছে। ফলে পাখিদের নিরাপদ আবাসস্থল কমে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, হাওর এলাকায় কৃষিকাজে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের প্রভাব পড়ছে জলজ পরিবেশের ওপর। কীটনাশকের কারণে ফড়িংসহ বিভিন্ন পোকামাকড় ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, যেগুলো মাছের প্রধান খাদ্য। এতে মাছের উৎপাদনও কমে যাচ্ছে এবং পুরো জীববৈচিত্র্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
এ বিষয়ে কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন বলেন, হাকালুকি হাওরের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। হাওরের পরিবেশ যাতে নষ্ট না হয়, সে জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে নজরদারি আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
কক্সবাজারে বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাবের ইফতার মাহফিল, দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
কক্সবাজার প্রতিনিধিঃ পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব (B.C.P.C) কক্সবাজার জেলা শাখার উদ্যোগে এক ইফতার মাহফিল, দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (৯ মার্চ ২০২৬) বিকেল ৩টায় কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কক্সবাজার জেলা শাখার সভাপতি খোরশেদ আলম এবং অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক নুরুল হোসাইন।
সদস্য কামরুল ইসলামের পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন কক্সবাজার জেলা শাখার সভাপতি খোরশেদ আলম।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন হিউম্যান এইড ইন্টারন্যাশনাল কক্সবাজার জেলা শাখার সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম খোকন, বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব কক্সবাজার জেলা শাখার সহ-সভাপতি মো. আবু বক্কর ছিদ্দিক, যুগ্ম সম্পাদক ফরহাদ রহমান, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক নাছিমা আক্তার, দপ্তর সম্পাদক জিন্নাতুন নেছা জিন্নাত, উখিয়া উপজেলা কমিটির সভাপতি মোসলেহ উদ্দিন এবং সাধারণ সম্পাদক এন. আলম।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব কক্সবাজার জেলার সদস্য ও দৈনিক আলোকিত কাগজের প্রতিনিধি মোহাম্মদ রাসেল, দৈনিক দেশ বুলেটিনের প্রতিনিধি আফতাব হোসেন আশিক, মানবাধিকার প্রতিদিনের প্রতিনিধি সোলতান আহমদ, দর্পণ টিভির প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর আলম, দৈনিক আজকের দিগন্তের সংবাদ প্রতিনিধি কামরুল ইসলাম, দৈনিক পরিবর্তন সংবাদের প্রতিনিধি সালাউদ্দিন, দৈনিক সময় বায়ান্নের প্রতিনিধি আব্দুর রহিমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যবৃন্দ।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব (B.C.P.C)-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি খান সেলিম রহমান, সিনিয়র সহ-সভাপতি সেহলী পারভীন এবং সাধারণ সম্পাদক মাহিদুল হাসান সরকারের স্বাক্ষরিত অনুমোদনের মাধ্যমে কক্সবাজার জেলা শাখা আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন লাভ করে।
আলোচনা সভায় বক্তারা সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, মারধর ও মিথ্যা মামলা দায়েরের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করতে গিয়ে অনেক সাংবাদিক নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ায় পরিস্থিতি দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে।
সভাপতির বক্তব্যে খোরশেদ আলম বলেন, “সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কিন্তু বাস্তবে আমরা উল্টো চিত্র দেখতে পাচ্ছি। যারা জনগণের কাছে সত্য তুলে ধরেন, তারাই আজ নানা নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সারাদেশে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও মিথ্যা মামলা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত।”
তিনি আরও বলেন, “এভাবে চলতে থাকলে সাংবাদিকরা নির্ভয়ে কাজ করার সাহস হারাবেন এবং জনগণও সঠিক তথ্য জানা থেকে বঞ্চিত হবে।”
বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব কক্সবাজার জেলার সাধারণ সম্পাদক নুরুল হোসাইন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি বা গোষ্ঠী নিজেদের অপকর্ম আড়াল করতে সাংবাদিকদের টার্গেট করছে। দুর্বল তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতার কারণে অনেক অপরাধী সহজেই পার পেয়ে যাচ্ছে।”
তিনি অবিলম্বে সাংবাদিক সুরক্ষা আইন বাস্তবায়ন এবং সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও মিথ্যা মামলায় জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান। পাশাপাশি সারাদেশে সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।
সভায় উপস্থিত নেতৃবৃন্দ বলেন, গণতান্ত্রিক সমাজে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাংবাদিকদের নির্বিঘ্নে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব। সাংবাদিক নির্যাতন ও মিথ্যা মামলা সংবিধান ও আইনের শাসনের পরিপন্থী।
আলোচনা সভা শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। পরে ইফতার মাহফিলের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে সাভার ক্যান্টনমেন্টে বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাবের ইফতার বিতরণ, দোয়া ও মাহফিল অনুষ্ঠিত।
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে ইফতার বিতরণ, দোয়া ও মাহফিলের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাব। শনিবার সাভার ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। (৭’ই মার্চ ২০২৬) শনিবার, সাভার ক্যান্টনমেন্টে আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, জাতীয় দৈনিক মাতৃজগত পত্রিকার সম্পাদক ও বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব (B.C.P.C)-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি খান সেলিম রহমান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা প্রেস ক্লাব ও আন্তর্জাতিক প্রেস ক্লাব, বাংলাদেশ এর সভাপতি আরঙ্গজেব কামাল।
সভাপতির বক্তব্যে খান সেলিম রহমান বলেন, রমজান মাস আত্মশুদ্ধি, সংযম ও মানবিকতার শিক্ষা দেয়। এই মাসে সমাজের অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো প্রত্যেক সামর্থ্যবান মানুষের নৈতিক দায়িত্ব। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাব সব সময় মানবিক ও সামাজিক কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা রেখে আসছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আরঙ্গজেব কামাল বলেন, পবিত্র রমজান মুসলিম উম্মাহর জন্য রহমত, বরকত ও মাগফিরাতের মাস। তিনি এ ধরনের সামাজিক ও মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, সাংবাদিক সমাজ যদি মানুষের কল্যাণে এগিয়ে আসে, তাহলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় দৈনিক মাতৃজগত পত্রিকার সিনিয়র সহ-সম্পাদক ও বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব (B.C.P.C)-এর সাধারণ সম্পাদক মোঃ মাহিদুল হাসান সরকার, বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব (B.C.P.C)-এর সিনিয়র সহ-সভাপতি ও দৈনিক জন জাগরণ প্রকাশক ও সম্পাদক মোঃ শিহাব উদ্দিন, বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব (B.C.P.C)-এর মোহাম্মদ মাহবুব উদ্দিন, সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব (B.C.P.C)-এর সহ-সভাপতি ভূঁইয়া কামরুল হাসান সোহাগ, জাতীয় দৈনিক মাতৃজগত পত্রিকার চিফ রিপোর্টার ও বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব (B.C.P.C)-এর দপ্তর সম্পাদক শেখ মোঃ হুমায়ুন কবির, বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব (B.C.P.C)-এর সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়জুল্লাহ স্বাধীন, দপ্তর সম্পাদক মোঃ শফিকুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ লাইজু আহমেদ, আশুলিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি, ডাঃ মোঃ দুলাল আহম্মেদ, গণি জেনারেল হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মোঃ বাকি উল্লাহ, অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মজিদ শেখ ও মোঃ জহির উদ্দিন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী। এছাড়াও সমাজসেবক মোঃ ফিরোজ প্রামাণিক উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন মোহাম্মদ রমজান সরকার, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক, বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাব (B.C.P.C), এসময় উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক তাসলিমা আক্তার, মোঃ জাহাঙ্গীর আলম রাজু, মোঃ আসাদুজ্জামান, মোঃ নজরুল ইসলাম ও শেখ রিবণ রায়হানসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠান শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয় এবং অসহায় মানুষের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা হয়।