লালমনিরহাট সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত, লাশ নিয়ে গেছে ভারতীয় বাহিনী

জহুরুল হক জনি, লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার জগতবেড় সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর গুলিতে সবুজ (২৫) নামের এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। নিহত সবুজ উপজেলার পঁচাভান্ডার এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে।

ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) ভোরে, ৮৬৪ ও ৮৬৫ নম্বর আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলারের মাঝামাঝি ভারতের অভ্যন্তরে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সবুজসহ কয়েকজন গরু আনতে সীমান্ত পার হয়ে ভারতের দিকে গেলে, ভারতীয় ১৬৯ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের চেনাকাটা ক্যাম্প থেকে গুলি ছোড়া হয়। গুলিবিদ্ধ হয়ে সবুজ ঘটনাস্থলেই মারা যান।

পরে বিএসএফ সদস্যরা তার লাশ ভারতের ভেতরে নিয়ে যায়।

ঘটনার পর সীমান্তে উত্তেজনা দেখা দেয় এবং বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে যোগাযোগ শুরু হয়।

৬১ বিজিবির শমসেরনগর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার কামাল উদ্দিন জানান, বিকেলে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিএসএফের সঙ্গে নিহত যুবকের লাশ হস্তান্তরের বিষয়ে আলোচনা চলবে।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে শোক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করেছে বিজিবি।

সীমান্তে এ ধরনের প্রাণঘাতী ঘটনা প্রতিরোধে দ্রুত কূটনৈতিক ও দ্বিপাক্ষিক উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে স্থানীয় মানবাধিকারকর্মী ও জনপ্রতিনিধিরা।




লালমনিরহাটে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের কর্মবিরতি: ১০ম গ্রেড বাস্তবায়নের দাবিতে অর্ধদিবস কর্মসূচি পালন

জহুরুল হক জনি, লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ ১০ম গ্রেড বাস্তবায়নের দাবিতে অর্ধদিবস কর্মবিরতি পালন করেছেন লালমনিরহাট ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টরা।

বুধবার (৩ ডিসেম্বর) সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত হাসপাতালের মূল ফটকে তারা এ কর্মসূচি পালন করেন।

মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্ট ১০ম গ্রেড বাস্তবায়ন পরিষদ, লালমনিরহাটের ব্যানারে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য দাবি জানিয়ে আসলেও সরকার এখনো ১০ম গ্রেড বাস্তবায়ন করেনি। অথচ আমরা চিকিৎসা সেবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছি। চিকিৎসকদের মতোই দায়িত্ব পালন করলেও আমরা আমাদের ন্যায্য গ্রেড পাচ্ছি না।

বক্তারা আরও জানান, দাবি বাস্তবায়ন না হলে পরবর্তীতে লাগাতার কর্মসূচি দেয়া হবে।

পূর্ব-ঘোষিত ০৪-১২-২০২৫ ইং (বৃহস্পতিবার)। পূর্ন কর্মদিবস বিরতি (কমপ্লিট শাটডাউন) কর্মসূচি পালন করা হবে। তারা সরকারের প্রতি দ্রুত দাবি পূরণের আহ্বান জানান।

কর্মসূচিতে লালমনিরহাট জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, ফার্মাসিস্ট ও ল্যাব কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এতে হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম কিছুটা ব্যাহত হয়। তবে জরুরি বিভাগ ও ইনডোর সেবা চালু ছিল।




দুর্গাপুর সীমান্তে সক্রিয় পাচারচক্র, কুয়াশার আড়ালে চলছে গরু বানিজ্য

জহুরুল হক জনি, লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের বানিয়াটারী সীমান্ত দিয়ে প্রতিনিয়ত ভারতীয় গরু বাংলাদেশে প্রবেশ করছে এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে স্থানীয়দের কাছ থেকে।

এলাকাবাসীর দাবি, কুয়াশাচ্ছন্ন রাতকে সুযোগ হিসেবে নিয়ে একটি সংগঠিত চক্র সীমান্ত পেরিয়ে গরুর চালান নিয়ে আসছে এবং পরে সেগুলো লালমনিরহাটের বিভিন্ন হাট-বাজারে বিক্রি করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুয়াশা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাচারকারীরা আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, এ চক্রটি নিজেদেরকে বিজিবির সোর্স পরিচয়ে সীমান্ত এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে। স্থানীয়দের ভাষ্য, গরুর চালান আনার সময় তারা মাঝে মাঝে বিজিবিকে ২–১টি গরু দিয়ে সহযোগিতা নিলেও বাকি গরুগুলো বাজারে বিক্রি করে বড় অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

অভিযোগে আরও উঠে এসেছে,

কাম্পেরটারী এলাকার মোঃ এপাছি ফারুক, দুর্গাপুরের মেডিকেল মোড় এলাকার মোঃ ঢ্যাম্প আশরাফুল, বানিয়াটারীর মোঃ নোচ্চা ফারুক (পিতা: মুক্তার) এবং কুটিবাড়ির মোঃ টেপু মিয়া এই চারজন দীর্ঘদিন ধরে এ কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত বলে স্থানীয়দের দাবি।

তাদের সমন্বয়ে গঠিত সিন্ডিকেটটি সংগঠিতভাবে সীমান্ত পেরিয়ে গরুর চালান আনার কাজ পরিচালনা করে থাকে বলে অভিযোগ করা হয়।

এ বিষয়ে লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি দেখা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, অভিযোগের বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অন্যদিকে, স্থানীয়রা পাচার বন্ধে সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো, রাতের টহল জোরদার করা ও নিয়মিত অভিযানের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, পাচারকারীদের দৌরাত্ম্য কমাতে না পারলে সীমান্তের নিরাপত্তা আরও ঝুঁকিতে পড়তে পারে।




ঈশ্বরদীতে ৮টি কুকুর ছানাকে পুকুরে ডুবিয়ে হত্যার অভিযোগ, শহরজুড়ে ক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ঈশ্বরদী উপজেলা পরিষদ চত্বরে মা কুকুরের অজ্ঞাতে জন্ম নেওয়া ৮টি ছানাকে বস্তায় ভরে পুকুরে ডুবিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ক্ষুদ্র কৃষক ফাউন্ডেশনের এক কর্মকর্তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে।  

সোমবার (১ ডিসেম্বর) নৃশংস ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ফেসবুকজুড়ে চলছে নিন্দা, সমালোচনা আর দোষীর কঠোর শাস্তির দাবি।

স্থানীয়সূত্রে জানা যায়, উপজেলা পরিষদ চত্বরের আবাসিক এলাকায় গেজেটেড ভবনে থাকা এক মা কুকুর সম্প্রতি আটটি ছানা প্রসব করে। রোববার (১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যার পর হঠাৎ ছানাগুলোকে খুঁজে না পেয়ে মা কুকুরটি এদিক–ওদিক ছুটোছুটি করতে থাকে, পাশাপাশি প্রচণ্ড আর্তচিৎকার করতে থাকে। সারারাত তাকে আবাসিক এলাকা, অফিসার্স ক্লাব ও বিভিন্ন বাড়ির সামনে ঘুরতে দেখা যায়। খাবার দিলেও সে মুখ দেয়নি। তখনও কেউ বুঝতে পারেননি—ছানাগুলোর কী হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বাসভবনের কেয়ারটেকার জাহাঙ্গির আলম বলেন, ‘‘সোমবার সকালে নয়ন স্যার মোটরসাইকেলে যাচ্ছিলেন। আমি ছানাগুলোর কথা জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন কিছু জানেন না। তখন তার ছেলে বলে—‘আম্মু নাকি ছানাগুলোকে বস্তায় ভরে পুকুরে ফেলে দিয়েছে।’ এরপর আমরা দ্রুত পুকুরে গিয়ে দেখতে পাই মুখ বাঁধা একটি বস্তা ভাসছে। তুলে এনে খোলার পর ৮টি ছানাকেই মৃত পাওয়া যায়।”

ঘটনার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শত শত মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সাবেক ইউএনও সুবির কুমার দাশ তার মন্তব্যে লিখেছেন, “এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।’

আরও অনেকেই লিখেছেন, “মানুষ নামের কলঙ্ক”, “ঘৃণিত কাজের উপযুক্ত শাস্তি হওয়া উচিত”, “প্রকৃতি কাউকে ছাড় দেয় না”, “দোষীর তদন্ত হোক” এ রকম অসংখ্য মন্তব্য।

অভিযুক্ত নিশি বেগমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার স্বামী ক্ষুদ্র কৃষক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা হাসানুর রহমান নয়ন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘এ ঘটনায় আমি মানসিকভাবে ভীষণ বিপর্যস্ত। এর বেশি কিছু বলতে পারছি না।’

উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা আকলিমা খাতুন বলেন, ‘এটা অত্যন্ত অমানবিক ঘটনা। মা কুকুর ইতোমধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়েছে; তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ইউএনও স্যার ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন। আমি মামলা করতে পারি কিনা যাচাই করছি—সম্ভব হলে অবশ্যই করব।’

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘পরিষদ চত্বরে সংঘটিত এ ঘটনায় আমি অত্যন্ত মর্মাহত। সকালে আমরা অফিসারদের নিয়ে জরুরি সভা করেছি। তদন্ত চলছে। দোষী প্রমাণিত হলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’




জেলা ট্রাক ট্যাংলরী ও কাভার্ড ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের আয়োজনে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার আশু রোগমুক্তি কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

জহুরুল হক জনি, লালমনিরহাট প্রতিনিধি: সোমবার (১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় লালমনিরহাট জেলা ট্রাক ট্যাংকলরী কাভার্ড ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন কার্যালয়ে বিএনপি চেয়ারপার্সন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আশু রোগমুক্তি ও দীর্ঘায়ু কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

দোয়া মাহফিলে বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনার পাশাপাশি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও জিয়া পরিবারের সদস্যদের মঙ্গল কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।

দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়নের সভাপতি জালাল উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, রেল শ্রমিক দলের সভাপতি আব্দুল মতিন, জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি উমর ফারুক বাবলু ও সাধারণ সম্পাদক আনিচুর রহমানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

দোয়া মাহফিল শেষে নেতারা দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করেন এবং সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে পাশে থাকার আহ্বান জানান।




সেন্টমার্টিন রুটে জাহাজ চলাচল শুরু, ১১০০ পর্যটক নিয়ে কক্সবাজার ছাড়লো তিন জাহাজ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দীর্ঘ নয় মাস বন্ধ থাকার পর ১ ডিসেম্বর থেকে পুনরায় চালু হয়েছে কক্সবাজার–সেন্টমার্টিন নৌরুটে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল। মৌসুমের প্রথম দিন সোমবার সকাল ৭টায় নুনিয়ারছড়া বিআইডব্লিউটিএ জেটিঘাট থেকে ১,১০০ পর্যটক নিয়ে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে রওনা দেয় এমভি বার আউলিয়া, এমভি কর্ণফুলী ও কেয়ারি সিন্দাবাদ।

জেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর ও ট্যুরিস্ট পুলিশের কঠোর তদারকিতে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ন্ত্রণ ও প্লাস্টিক ব্যবহারে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। সচেতনতার অংশ হিসেবে প্রথম দিন যাত্রীদের হাতে অ্যালুমিনিয়ামের পানির বোতল তুলে দেওয়া হয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক এম এ মান্নান।

সকালে ঘাটে এসে পর্যটকদের স্বাগত জানান জেলা প্রশাসকসহ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহিদুল আলম, কক্সবাজার সদরের ইউএনও নীলুফা ইয়াসমিন চৌধুরী এবং ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ। তারা সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন তদারকি করেন।

সরকার ঘোষিত ১২ দফা নির্দেশনা মেনে সোমবার (১ ডিসেম্বর) থেকে আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত পর্যটকদের জন্য সেন্টমার্টিনে রাত্রিযাপনের সুযোগ থাকছে। জাহাজ কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রথম দিনের সব টিকিট আগেই বিক্রি হয়েছিল এবং তিনটি জাহাজে মোট ১,১০০ যাত্রী দ্বীপের উদ্দেশে রওনা হন।

‘সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’ (স্কোয়াব)-এর সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর বলেন, মৌসুমের প্রথম যাত্রার সব প্রস্তুতি আগে থেকেই সম্পন্ন ছিল। প্রশাসনের সহযোগিতায় পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ পরিবেশে যাত্রা শুরু করা গেছে। আগামী মৌসুমে কমপক্ষে চার মাস রাত্রিযাপনের সুযোগ মিললে জাহাজ মালিকরা ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

গত ১ নভেম্বর থেকে সেন্টমার্টিনে পর্যটক প্রবেশ উন্মুক্ত হলেও রাত্রিযাপন নিষেধাজ্ঞা থাকার কারণে এতদিন কোনো জাহাজ চলাচল করেনি। এবারও নুনিয়ারছড়া জেটি থেকে চারটি জাহাজ চলাচলের অনুমতি পেয়েছে। প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটক বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিয়ে সেন্টমার্টিন যেতে পারবেন।

প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিদিন সকাল ৭টায় জাহাজ সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে ছাড়বে এবং পরদিন দুপুর ৩টায় কক্সবাজারে ফিরবে। টিকিট সংগ্রহ বাধ্যতামূলকভাবে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের অনুমোদিত অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে করতে হবে। প্রতিটি টিকিটে ট্রাভেল পাস ও কিউআর কোড থাকবে, যা ছাড়া কোনো টিকিট বৈধ হিসেবে গণ্য হবে না। জেটিঘাটে টিকিট যাচাইয়ে ২০ জন ভলান্টিয়ার দায়িত্ব পালন করছেন; একইভাবে ভলান্টিয়ার থাকবেন সেন্টমার্টিনেও।

দীর্ঘ বিরতির পর পর্যটকদের আগমনে সেন্টমার্টিনে আবারও প্রাণচাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। তবে জেটিঘাটের নির্মাণকাজ এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি বলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এসএস রহমান ইন্টারন্যাশনালের প্রতিনিধি আলী হায়দার জানান।

দ্বীপের ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম জানান, গত এক দশক ধরে পর্যটনই স্থানীয়দের প্রধান জীবিকা। যেকোনো সংকট সত্ত্বেও পর্যটকদের আতিথেয়তায় ঘাটতি রাখা হবে না।

সেন্টমার্টিনের নাজুক প্রতিবেশ ব্যবস্থা রক্ষায় ঘোষিত ১২ দফা নির্দেশনা এবার কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে—রাতে সৈকতে আলো জ্বালানো নিষেধ, উচ্চ শব্দে অনুষ্ঠান-বারবিকিউ নিষিদ্ধ, কেয়াবনে প্রবেশ বা কেয়াফল সংগ্রহ নিষিদ্ধ, কাছিম–পাখি–রাজকাঁকড়া–প্রবালসহ যেকোনো জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত করে এমন সকল কার্যক্রম বন্ধ, মোটরচালিত যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ এবং প্লাস্টিকমুক্ত দ্বীপ উদ্যোগের অংশ হিসেবে একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিক কঠোরভাবে নিরুৎসাহিত। পরিবেশ অধিদপ্তর পর্যটকদের বিনামূল্যে অ্যালুমিনিয়াম বোতল সরবরাহ করছে।

পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের উপপরিচালক খন্দকার মাহমুদ পাশা বলেন, প্লাস্টিক দূষণ কমাতে অ্যালুমিনিয়াম বোতল ব্যবহারে কঠোরতা আনা হয়েছে। এটি সফলভাবে কার্যকর হলে ভালো ফল পাওয়া যাবে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক এম এ মান্নান বলেন, “সেন্টমার্টিন আমাদের জাতীয় সম্পদ। পরিবেশ রক্ষা ও দায়িত্বশীল পর্যটনের স্বার্থে নির্দেশনা মেনে চলা সবার দায়িত্ব।” প্রশাসন, জাহাজ মালিক ও সংশ্লিষ্টদের সমন্বিত তদারকির মধ্য দিয়ে দ্বীপের জীববৈচিত্র্য রক্ষা নিশ্চিত করা হবে বলেও তিনি জানান।




লালমনিরহাটে স্বামী হত্যা মামলায় স্ত্রী ও পরকীয়া প্রেমিকের যাবজ্জীবন

জহুরুল হক জনি, লালমনিরহাট প্রতিনিধি: লালমনিরহাট পৌরসভার তিনদিঘী এলাকায় আলোচিত আব্দুল জলিল হত্যা মামলায় স্ত্রী মমিনা বেগম ও তার পরকীয়া প্রেমিক গোলাম রব্বানীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা এবং অনাদায়ে তিন মাসের অতিরিক্ত কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রবিবার (৩০ নভেম্বর) দুপুরে লালমনিরহাট অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. হায়দার আলী এ রায় ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) আনোয়ার হোসেন মিঠু।

দণ্ডপ্রাপ্ত মমিনা বেগম (২৭) জেলা শহরের মাঝাপাড়া এলাকার রহমত আলী মোল্লার মেয়ে। তার প্রেমিকা গোলাম রব্বানী সদর উপজেলার কিসমত ঢঢগাছ (পাঙ্গাটারি) এলাকার রমজান মুন্সির ছেলে।

মামলার নথিতে উল্লেখ আছে, ২০২১ সালের ২১ জুলাই রাতে পরকীয়ার সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে পরিকল্পনা করে জলিলকে হত্যা করা হয়। প্রথমে তাকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করা হয়, পরে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনার পরদিন জলিলের ভাই আব্দুর রশিদ সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) মাহমুদুন নবী আদালতে চার্জশিট জমা দেন। ২৭ জন সাক্ষীর জবানবন্দি ও প্রমাণ উপস্থাপনের ভিত্তিতে আদালত এই রায় দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের পিপি আনোয়ার হোসেন মিঠু বলেন, চার বছরের শুনানি শেষে প্রমাণিত হয়েছে যে জলিলকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছিল। তাই আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে এ রায় দিয়েছেন।

রায় ঘোষণার পর নিহতের ভাই আব্দুর রশিদ বলেন, আসামিদের ফাঁসি হলে আমাদের মনটা আরও শান্ত হতো। তারা পরিকল্পিতভাবেই আমার ভাইকে হত্যা করেছে, এবং আমরা আদালতে সেটি প্রমাণ করতে পেরেছি।




খালেদা জিয়ার আশু রোগমুক্তি কামনায় লালমনিরহাটে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

জহুরুল হক জনি, লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ বিএনপি চেয়ারপার্সন ও তিন বারের সাবেক সফল প্রধানমন্ত্রী আপোষহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আশু রোগমুক্তি ও সুস্থতা কামনায় লালমনিরহাটে এক দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (২৯ নভেম্বর) সকালে জেলা বিএনপির আয়োজনে সদর উপজেলার মিশনমোড়ে বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ে হামার বাড়ীতে এই দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন, লালমনিরহাট জেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু।

জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট ফজলুল হক সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই মাহফিলে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ কে এম মমিনুল হক ও ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও পৌর বিএনপির সভাপতি আফজাল হোসেন-সহ বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

আলোচনা শেষে দেশনেত্রীর সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

নেতারা বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া শুধু একজন রাজনৈতিক নেত্রী নন, তিনি গণতন্ত্রের প্রতীক। তাঁর মুক্তি ও সুস্থতা আজ দেশের আপামর জনতার প্রাণের দাবি।”

দোয়া মাহফিলে দলীয় নেতাকর্মী ও সর্বস্তরের জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।




পিরোজপুর জেলা সরকারি চাকুরিজীবী কল্যাণ পরিষদের বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

পিরোজপুর প্রতিনিধি : পিরোজপুর জেলা সরকারি চাকুরিজীবী কল্যাণ পরিষদ (১১–২০ গ্রেড) এর বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শনিবার (২৯ নভেম্বর) বিকেলে শহীদ ওমর ফারুক মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ আলাউদ্দিন ভূঞা জনী। সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ শামসুদ্দোহা। সাধারণ সম্পাদক মোঃ সাদ্দাম হোসেন অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ মতিউর রহমান, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (অঃ দাঃ) এস এম আল আমীন, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোঃ সাইদুল ইসলাম কিসমত, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মোঃ জহিরুল হক, পিরোজপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এস এম তানভীর আহমেদ, সদর থানার ওসি (তদন্ত) মোঃ তরিকুল ইসলাম।
সভায় বক্তারা বলেন, সরকারি চাকুরিজীবীদের পেশাগত উন্নয়ন, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং মানবিক মূল্যবোধ বিকাশে এই পরিষদের কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে ও ভবিষ্যতেও রাখবে।



লালমনিরহাটে মহাসড়ক বন্ধঃ জনদুর্ভোগে ক্ষুব্ধ জনতা, অবস্থান কর্মসূচি পালিত

জহুরুল হক জনি, লালমনিরহাট প্রতিনিধি: লালমনিরহাট-বুড়িমারী জাতীয় মহাসড়কের মহেন্দ্রনগর এলাকার বিশ্ব সার গোডাউন সংলগ্ন সড়কটি সড়ক দুর্ঘটনার কারণে গত এক সপ্তাহ ধরে বন্ধ থাকলেও প্রশাসনের কোনো কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। এই দুর্ভোগের প্রতিবাদে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন জেলার সর্বস্তরের মানুষ।

শনিবার (২৯ নভেম্বর) সকাল ১০টায় লালমনিরহাট শহরের প্রাণকেন্দ্র মিশনমোড়ে সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে ঘন্টাব্যাপী এ কর্মসূচি পালিত হয়।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও লালমনিরহাট জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু।

বক্তারা জানান, গত ২৪ নভেম্বর নির্মাণাধীন সড়কসেতুর পাশে একটি পণ্যবাহী ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে পড়ে গেলে পাশে থাকা বৈদ্যুতিক খুঁটি হেলে যায়। এরপর থেকে ওই গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে, ফলে সাধারণ মানুষ এবং ব্যবসায়ীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

তারা দ্রুত বিকল্প রাস্তা চালুর দাবি জানান এবং বলেন, “প্রশাসনের উদাসীনতা ও অব্যবস্থাপনার কারণে মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। অবিলম্বে পদক্ষেপ না নিলে আরও বড় আন্দোলনে যাওয়া হবে।”

কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ীগণ অংশগ্রহণ করেন।