লালমনিরহাটে মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত

জহুরুল হক জনি, লালমনিরহাট: লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে স্থানীয় সচেতন মহল ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন।

বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার তুষভান্ডার সুপার মার্কেট এলাকায় এ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, “আমরা আমাদের আগামী প্রজন্মকে মাদক ও জুয়ার ভয়াল ছোবল থেকে রক্ষা করতে চাই। সম্প্রতি এ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অনলাইন জুয়া ও মাদক সেবনের প্রবণতা বেড়ে গেছে, যা সামাজিক ও পারিবারিক জীবনে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে।” অনলাইন ক্যাসিনো জুয়াসহ সকল ধরণের জুয়া বর্তমানে সামাজিক অবক্ষয়ের প্রধান কারণ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। জুয়ায় আসক্ত একজন মানুষ সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে। আজ এই জুয়ার কারণেই শত শত সংসার ভেঙ্গে যাচ্ছে। এখনই যদি এই অনলাইন জুয়া ও মাদক বন্ধে সরকার কোনো উদ্যোগ গ্রহণ না করেন তবে সামনের দিনে আরও চরম খারাপ পরিস্থিতির শিকার হবে যুব সমাজ।

এসময় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বক্তারা বলেন, যুব সমাজকে রক্ষা করতে মাদক ব্যবসায়ী ও জুয়াড়িদের দ্রুত গ্রেফতার করে মাদক ও জুয়া নির্মূলে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।  আমরা চাই যুব সমাজ বাঁচুক মাদক ও জুয়ার কবল থেকে, মাদক মুক্ত এবং সচেতন হোক যুব সমাজ। অবিলম্বে মাদক ও জুয়া বন্ধ না হলে আরো কঠিন কর্মসূচির ডাক দেয়ার  হুঁশিয়ারি দেন মানববন্ধনে অংশগ্রহনকারীরা।




লালমনিরহাটে সীমান্ত সুরক্ষা জোরদারে নতুন বিওপি ক্যাম্প উদ্বোধন

জহুরুল হক জনি, লালমনিরহাট প্রতিনিধি: লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার জোংরা ইউনিয়নে সীমান্ত সুরক্ষায় নতুন বিওপি (বর্ডার আউট পোস্ট) ক্যাম্প “চতুরবাড়ী বিওপি” এর উদ্বোধন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রংপুর তিস্তা ব্যাটালিয়নের (৬১ বিজিবি) অধীনে এ ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন উত্তর-পশ্চিম রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ এস এম নাছের।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, বিজিবি দেশের সীমান্তরক্ষায় আস্থা ও নিরাপত্তার প্রতীক। সীমান্ত দিয়ে মাদক, চোরাচালান ও অনুপ্রবেশ রোধে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় কাজ করে যাচ্ছে। তিনি সাংবাদিকদের প্রতি গুজব ও অপপ্রচার প্রতিরোধে সহযোগিতার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ৬১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল শেখ মোঃ মুসাহিদ মাসুমসহ বিজিবির অন্যান্য কর্মকর্তা। এই বিওপি স্থাপনের ফলে সীমান্ত এলাকাজুড়ে নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।




লালমনিরহাটে “টপ সয়েল” কেটে নেওয়ার হিরিকঃ নিঃশেষ হচ্ছে উর্বর মাটি, প্রশাসন নিরব

জহুরুল হক জনি,লালমনিরহাট প্রতিনিধি: ​উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা লালমনিরহাটে ফসলি জমির প্রাণ হিসেবে পরিচিত উপরিভাগের মাটি বা ‘টপ সয়েল’ কাটার মহোৎসব চলছে।

আমন ধান ঘরে তোলার পরপরই শুরু হয়েছে এই মাটি লুটের যজ্ঞ। জেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের উর্বর কৃষিজমি থেকে দেদারসে মাটি কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে স্থানীয় ইটভাটাগুলোতে। এতে আশঙ্কাজনক হারে কমছে আবাদি জমি, নষ্ট হচ্ছে মাটির উর্বরতা। প্রশাসন মাঝেমধ্যে অভিযান চালিয়ে জরিমানা করলেও থামছে না ‘মাটিখেকো’ সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য।

​২০২৪ সালের সরকারি তালিকা অনুযায়ী, লালমনিরহাটে নিবন্ধিত ইটভাটার সংখ্যা ২০টির কিছু বেশি। অথচ অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছে অন্তত ৩৪টি ভাটা। প্রশাসনের অভিযানে মাঝেমধ্যে এসব ভাটা বন্ধ বা জরিমানা করা হলেও, নানা অজুহাতে কিছুদিন পরই তা পুনরায় চালু হয়। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় প্রশাসনের চোখের সামনেই ফসলি জমির মাটি কেটে ট্রাকে করে ভাটায় নেওয়া হচ্ছে, অথচ কর্তৃপক্ষ দেখেও না দেখার ভান করছে।

​ইটভাটার মালিকদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। ফসলি জমি রক্ষায় কেবল সচেতনতা নয়, অবৈধ ভাটাগুলোর বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর ও স্থায়ী পদক্ষেপ জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।ভাটা মালিকদের প্রলোভন আর পারিপার্শ্বিক চাপে পড়ে কৃষকরা তাদের জমির মাটি বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।

বানবাসা মোড় এলাকার কৃষক মাহাফুজ রহমান জানান, আবাদি জমির পাশেই ভাটা তৈরি হওয়ায় এবং পাশের জমির মালিকরা মাটি বিক্রি করে দেওয়ায় আমরা বিপাকে পড়েছি। পাশের জমি নিচু হয়ে যাওয়ায় আমার জমি উঁচু হয়ে আছে, ফলে জমিতে সেচের পানি (মটরের পানি) উঠছে না। তাই ক্ষতি হবে জেনেও বাধ্য হয়ে ভাটা কর্তৃপক্ষের কাছে মাটি বিক্রি করতে হচ্ছে।

​একই পরিস্থিতির শিকার সাপটিবাড়ি ইউনিয়নের কৃষক নয়ন ইসলাম। তিনি বলেন, এখনও জমির ফসল ঘরে তুলতে পারিনি, অথচ পাশের জমির মাটি বিক্রি হয়ে গেছে। এখন আমি মাটি বিক্রি না করলে আমার জমি উঁচু হয়ে থাকবে, সেখানে আর ফসল হবে না। আবার মাটি কাটলে সেই জমিতে নতুন করে ফসল ফলাতেও অনেক কষ্ট হবে। আমরা চাই ইটভাটাগুলো যেন কৃষিজমি থেকে মাটি না কেনে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাটির উপরিভাগের ৮-১০ ইঞ্চি স্তর বা টপ সয়েলে ফসলের জন্য প্রয়োজনীয় জৈব পদার্থ ও পুষ্টি উপাদান সবচেয়ে বেশি থাকে। কৃষি বিভাগের মতে, এই স্তর কেটে নিলে জমির উর্বরতা মারাত্মকভাবে হ্রাস পায় এবং তা পুনরায় ফিরে আসতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হয়।

টপ সয়েল সরে গেলে মাটির নিচের শক্ত ও পাথুরে স্তর বেরিয়ে আসে, যেখানে পানি ধারণক্ষমতা থাকে না বললেই চলে। এতে জমি ধীরে ধীরে অনাবাদি হয়ে মরুভূমিতে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। কৃষি প্রধান এই জেলায় আবাদি জমি কমে যাওয়ায় ভবিষ্যতে খাদ্য ঘাটতির আশঙ্কাও প্রবল হচ্ছে।

লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (কৃষিবিদ) মো. মতিউর রহমান বলেন, সীমান্তবর্তী এই জেলার মানুষের আয়ের প্রধান উৎস কৃষি। কিন্তু ইটভাটার কারণে আবাদি জমি কমে যাচ্ছে। আমরা কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করছি যেন তারা টপ সয়েল বিক্রি না করেন। রাসায়নিক ও জৈব সারের সমন্বয়ে যে উর্বর স্তর তৈরি হয়, তা একবার নষ্ট হলে পূরণ করা কঠিন।

​তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বালু ও সিমেন্ট দিয়ে পরিবেশবান্ধব ‘ইকো ব্রিকস’ বা ব্লক ইট তৈরি হচ্ছে। সমাজের মানুষকে এই ইটের প্রতি আগ্রহী হতে হবে। মাটির ইটের চাহিদা কমলে ফসলি জমির টপ সয়েল রক্ষা পাবে।




অটোরিকশা–মোটরসাইকেল সংঘর্ষে দুই যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় হৃদয় হোসেন (২৫) ও নাজমুল হাসান (২৪) নামে দুই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। মোটরসাইকেল ও সিএনজির চালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংর্ঘষে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।

শুক্রবার বিকেলে উপজেলার খলিফার দরজা ও কাটাখালি এলাকায় রামগঞ্জ-হাজীগঞ্জ সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত হৃদয় উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের উদনপাড়া গ্রামের আটিয়া বাড়ীর মো. শাহজাহানের ছেলে এবং অপর নিহত নাজমুল একই এলাকার মো. শফিকের ছেলে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ঘটনার সময় হৃদয় ও নাজমুল মোটরসাইকেলযোগে কাটাখালি এলাকা থেকে রামগঞ্জ উপজেলা শহরে যাচ্ছিল। এসময় ঘটনাস্থলে অটোরিকশার সঙ্গে তাদের মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে হৃদয় ও নাজমুল সড়কে ছিটকে পড়ে। দুর্ঘটনায় হৃদয় ঘটনাস্থলেই মারা যায়৷ নাজমুলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকায় রেফার্ড করে। পরে ঢাকায় নেওয়ার পথে নাজমুলও মারা যায়।

উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আনোয়ার হোসেন বলেন, দুর্ঘটনায় একজনকে আহত ও একজনকে নিহত অবস্থায় হাসপাতাল আনা হয়৷ আহত যুবক ঢাকায় পাঠানোর পথে মারা গেছে।

রামগঞ্জ থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) আনোয়ার হোসেন জানান, মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। অটোরিকশা চালক ঘটনার পরপরই পালিয়ে গেছে। তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি। নিহতদের পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




লালমনিরহাটে প্রাণিসম্পদ সেবা সপ্তাহ-২০২৫ এর উদ্বোধনঃ সেবা ও সচেতনতায় নতুন দিগন্ত

জহুরুল হক জনি, লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ লালমনিরহাটে জাতীয় প্রাণিসম্পদ সেবা সপ্তাহ-২০২৫ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ বছরের প্রতিপাদ্য—“দেশীয় জাত, আধুনিক প্রযুক্তিঃ প্রাণিসম্পদে হবে উন্নতি।”

উপলক্ষে আয়োজিত এ কর্মসূচি প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়ন, সচেতনতা ও সেবা সম্প্রসারণে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বক্তারা।

অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল।

সকালে কালেক্টরেট মাঠ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে জেলা প্রশাসক, এইচ এম রকিব হায়দার ফিতা কেটে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ জাহাঙ্গীর আলম এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, পুলিশ সুপার মোঃ তরিকুল ইসলাম, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক, ডাঃ শায়খুল আরিফিন, জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ আব্দুল হাকিম ও সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ বেলাল হোসেন।

সেবা সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনীতে স্থানীয় খামারিদের ৩০টি স্টল অংশ নেয়।

বক্তারা প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে প্রযুক্তিনির্ভর খামার গড়ে তোলার আহ্বান জানান এবং খামারিদের আধুনিক প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

দুপুর ৩টায় সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সপ্তাহব্যাপী আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।




লালমনিরহাটে যৌথ আয়োজনে স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষায় পয়ঃবর্জ্য ব্যবস্থাপনা ক্যাম্পেইনের শুভ উদ্বোধন

জহুরুল হক জনি, লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ  “নিরাপদে পয়ঃবর্জ্য পরিষ্কার, পরিছন্ন পরিবেশ’ সবার অধিকার” – এই প্রতিপাদ্যে লালমনিরহাটে যাত্রা শুরু করল পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে পয়ঃবর্জ্য অপসারণ ক্যাম্পেইন-২০২৫।

মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) বিকেল ৩ ঘটিকায় লালমনিরহাট পৌরসভা চত্বরে লালমিরহাট পৌরসভা ও এসএনভি এর যৌথ আয়োজনে এ ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন লালমনিরহাট পৌরসভার প্রশাসক রাজীব আহসান।

উক্ত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে লালমনিরহাট পৌরসভার প্রশাসক মোঃ রাজীব আহসানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন এস কে এস ফাউন্ডেশনের প্রকল্প ব্যবস্থাপক আব্দুল মতিন, ওয়াটার এইড প্রতিনিধি সুমন সাহা, লালমনিরহাট পৌরসভার মেডিকেল অফিসার ডাঃ শরীফ মোঃ বজলুল হক।

শহর ব্যাপী ক্যাম্পেইনের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করেন রিসপনস লিমিটেডের আবু হানিফ, ক্যাম্পেইনের উদ্দেশ্য বর্ণনা করেন এসএনভি এর ক্লাষ্টার কো-অর্ডিনেটর আব্দুল হালিম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন লালমনিরহাট পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা বাবু হরানন্দ রায়।

এ সময় লালমনিরহাট পৌরসভা ও এসএনভির অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ উপস্থিত ছিলেন।




ইমাম-মুয়াজ্জিন-খাদেমদের বঞ্চনার গল্প; দায়িত্ব বেশি, সম্মানী কম

জহুরুল হক জনি, লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ বর্তমান সময়ে সমাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সম্মানজনক দায়িত্ব পালন করছেন মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমগণ। তবে তাদের জীবনযাত্রা ও আর্থিক বাস্তবতা যেন এর সম্পূর্ণ বিপরীত।

একদিকে তারা মুসল্লিদের সঠিক পথ দেখাতে, নামাজ আদায় করাতে, ইসলামি শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করতে রাতদিন পরিশ্রম করছেন। অন্যদিকে বেশিরভাগ মসজিদে তাদের মাসিক সম্মানী অপ্রতুল ও অনেক ক্ষেত্রে নিয়মিতও না। অনেক জায়গায় একজন ইমামকে মাসে ৩-৫ হাজার টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে হয়।

মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের অবস্থা আরও করুণ। বিশেষত গ্রামীণ মসজিদগুলোতে এই অবস্থা আরও উদ্বেগজনক।

একজন ইমামকে শুধু নামাজ পড়ানোই নয়- বিয়ে, দোয়া মাহফিল, জানাজা, ইসলামি শিক্ষা, এমনকি সমাজিক বিরোধ মীমাংসার মতো দায়িত্বও পালন করতে হয়। কিন্তু সেই দায়িত্বের মূল্যায়ন হয় না সম্মানীর দিক থেকে।

ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের অনেকেই মনে করছেন, ইমাম-মুয়াজ্জিন-খাদেমদের যথাযথ সম্মানী নিশ্চিত করা সময়ের দাবি। স্থানীয় প্রশাসন, ধর্ম মন্ত্রণালয় এবং সমাজের সচেতন ব্যক্তিদের উচিত তাদের পাশে দাঁড়ানো। এখন প্রয়োজন সম্মানীর সুনির্দিষ্ট নীতিমালা এবং ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ। শুধু দোয়া নয়, চাই অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও সম্মান।

ইসলামের এই খেদমতকারীদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত না করলে ভবিষ্যতে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কাঠামো হুমকির মুখে পড়তে পারে। সময় এসেছে শুধু দোয়া নয়, বাস্তব সহায়তা দেয়ার।




লালমনিরহাটে স্বামীর জীবন বাঁচাতে স্ত্রীর কিডনি দান; ভালোবাসার অনন্য দৃষ্টান্ত

জহুরুল হক জনি, লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নে ঘটেছে ভালোবাসা ও আত্মত্যাগের এক ব্যতিক্রমী ঘটনা। আব্দুল হক (৫০) নামে এক ব্যক্তির দুটি কিডনি বিকল হয়ে পড়লে তার স্ত্রী বিজলি বেগম (৪৫) নিজের একটি কিডনি দান করে নজির স্থাপন করেছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে কিডনি রোগে ভুগছিলেন আব্দুল হক। চিকিৎসকেরা কিডনি প্রতিস্থাপনের পরামর্শ দিলে পরিবার পড়েছিল দুশ্চিন্তায়। সেই সময় পাশে দাঁড়ান তার প্রিয়তমা স্ত্রী বিজলি বেগম, যিনি নিজের একটি কিডনি স্বামীর জন্য দিতে রাজি হন।

সব ধরনের মেডিকেল পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর দেখা যায়, স্ত্রীর কিডনি স্বামীর শরীরের জন্য উপযোগী। এরপর ঢাকায় ২৪ নভেম্বর দুপুরে সফল অস্ত্রোপচার হয়।

স্বামী-স্ত্রী দু’জনেই সুস্থ আছেন।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় প্রশংসার ঝড় বইছে। আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয়রা বলছেন, বিজলি বেগম শুধু একজন স্ত্রী নন, তিনি একজন প্রকৃত জীবনসঙ্গী এবং ভালোবাসার প্রতীক।

এই ঘটনাটি প্রমাণ করে, ভালোবাসা এখনো বেঁচে আছে, ত্যাগের মধ্যেই ভালোবাসার প্রকৃত রূপ খুঁজে পাওয়া যায়।




ব্যবসায়ী অশোক কুমার শাস্ত্রী পরলোক গমন করেছেন

অভয় নগর প্রতিনিধিঃ অভয় নগরের মহাকাল এলাকার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী অশোক কুমার শাস্ত্রী পরলোক গমন করেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬২ বছর।

অশোক কুমার শাস্ত্রী’র শেষকৃত্য সম্পন্ন হচ্ছে মহাকাল মহাশ্মশানে।




যশোর-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী এম মাসুদ আহমেদের গণসংযোগ

অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধিঃ যশোর-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম মাসুদ আহমেদ অভয়নগর উপজেলার চেঙ্গুটিয়া, বসুন্দিয়া ও সুন্দলী এলাকায় দিনব্যাপী গণসংযোগ করেছেন। সোমবার সকালে তিনি এসব এলাকার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা ঘুরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময়, অভাব-অভিযোগ শোনা এবং স্থানীয় উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা, প্রবীণ ভোটার, তরুণ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে আলাপচারিতায় এম মাসুদ আহমেদ বলেন, “৩৬ বছরের দীর্ঘ সামরিক জীবনে আমি দেশের অর্পিত দায়িত্ব নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে পালন করেছি। এখন জীবনের অভিজ্ঞতা ও দায়িত্ববোধ থেকে জনগণের কল্যাণে কাজ করতে চাই। আমি কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থী নই—নির্বিশেষে সকল মানুষের সেবা করতে এবং একটি সুশাসনভিত্তিক জন-উদ্যোগ গড়ে তুলতে চাই। এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি উন্নয়ন, যুবসমাজের কর্মসংস্থান ও গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়নে বিশেষ পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করতে আমি বিশেষভাবে আগ্রহী।