বিকেএমইএর সভাপতি ‘ফ্যাসিস্টদের দোসর’ বলে মন্তব্য করায় অবরুদ্ধ করা হয় সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ্কে দুই ঘণ্টা পর পুলিশ উদ্ধার করে।

নিজস্ব সংবাদদাতাঃ বিকেএমইএর সভাপতি ‘ফ্যাসিস্টদের দোসর’ বলে মন্তব্য করায় অবরুদ্ধ করা হয় সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ্কে দুই ঘণ্টা পর পুলিশ উদ্ধার করে। সদর উপজেলার ফতুল্লায় জামায়াতের ইফতার অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ্ আল আমিন।

‎পঞ্চবটি বিসিক শিল্পনগরী এলাকায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জামায়াতে ইসলামী পেশাজীবী ফোরাম নারায়ণগঞ্জ পূর্ব থানা।আব্দুল্লাহ্ আল আমিন নারায়ণগঞ্জ-৪ (সদর উপজেলার একাংশ) আসনের সংসদ সদস্য। তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব। তিনি এ আসনে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী হয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।জাতীয় পার্টি–দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান বিকেএমইএ সভাপতি থাকাকালে ওই কমিটির নির্বাহী সভাপতি ছিলেন মোহাম্মদ হাতেম। চব্বিশের গণ–অভ্যুত্থানের পর নিটওয়্যার প্রস্তুতকারকদের এই সংগঠনের সভাপতি নির্বাচিত হন মোহাম্মদ হাতেমপ্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, আজ বিকেলে ওই ইফতার অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ্ আল আমিন ও মোহাম্মদ হাতেম আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন। অনুষ্ঠানের শেষের দিকে সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ্ আল আমিন এসে উপস্থিত হন এবং তিনি মঞ্চে বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমকে দেখে ‘ফ্যাসিস্টদের দোসর’ হিসেবে অভিহিত করে সেখানে বসতে অস্বীকৃতি জানান। তাঁর এই বক্তব্যে বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদহাতেমসহ তাঁর অনুসারী ব্যবসায়ীদের নিয়ে ইফতার অনুষ্ঠান বর্জন করেন। সেখানে সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ্ আমিনকে অবরুদ্ধ করেন মোহাম্মদ হাতেমের অনুসারী ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বিএনপি নেতা–কর্মীরা। এ সময় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ রাত আটটার দিকে আব্দুল্লাহ্ আল আমিনকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক সার্কেল) মো. হাসিনুজ্জামান একটি ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্যের বক্তব্য ঘিরে বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম ইফতার অনুষ্ঠান থেকে ওয়াক আউট করেন। এ সময় সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে এমপি মহোদয়কে নিরাপত্তা দিয়ে তাঁর কার্যালয়ে নিয়ে যান।



বাবার সঙ্গে বিরোধের ‘বলি’ শিশু ইরা মনি

ডেস্ক নিউজঃ প্রতিবেশীর সঙ্গে পারিবারিক বিরোধের জেরে আট বছরের শিশু ইরা মনিকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন বাবু শেখ (৪৫)। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তাকে ফুঁসলিয়ে সীতাকুণ্ডের পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা এবং পরে গলা কেটে হত্যাচেষ্টা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সন্ধ্যায় সীতাকুণ্ড থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁন এ তথ্য জানান। পুলিশের ভাষ্য, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার বাবু শেখ এসব তথ্য স্বীকার করেছেন।

জেলা পুলিশের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নিহত শিশুর বাবা মনিরুল ইসলামের সঙ্গে বাবু শেখের দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধ ছিল। বিভিন্ন সময় তাদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ হতো। এরই প্রতিশোধ নিতে মনিরুল ইসলামের মেয়েকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।

পুলিশ জানায়, গত রোববার সকালে ইরা মনিকে চকলেট কিনে দেওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের করে বাবু শেখ। পরে বাসে করে কুমিরা থেকে সীতাকুণ্ডে নিয়ে যান। সেখান থেকে হেঁটে বোটানিক্যাল গার্ডেন এলাকার দুর্গম পাহাড়ে ওঠেন। সেখানে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। এ সময় ইরা চিৎকার করে ঘটনাটি জানিয়ে দেওয়ার কথা বললে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার গলা কেটে রেখে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত।

রক্তাক্ত অবস্থায় জঙ্গল থেকে হেঁটে বোটানিক্যাল গার্ডেনের নির্মাণাধীন সড়কের কাছে পৌঁছালে শ্রমিকরা তাকে দেখতে পান। পরে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং সেখান থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকালে তার মৃত্যু হয়।

শিশুটির বাড়ি ছোট কুমিরা মাস্টারপাড়ায়। তার বাবা মনিরুল ইসলাম পেশায় টমটম চালক। স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল ইরা মনি।

মঙ্গলবার সকালে কুমিরার কাজীপাড়া এলাকা থেকে বাবু শেখকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধায় হলেও তিনি কুমিরায় মনিরুল ইসলামের বাড়ির পাশেই ভাড়া থাকতেন।

পুলিশ জানিয়েছে, আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে কি না, তা ফরেনসিক প্রতিবেদনের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।




হাজারীবাগে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ, একই পরিবারের ৪ জন দগ্ধ

ডেস্ক নিউজঃ রাজধানীর হাজারীবাগ এলাকায় গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে শিশুসহ একই পরিবারের চারজন দগ্ধ হয়েছেন। সোমবার (২৩ জানুয়ারি) ভোর ৪টার দিকে পূর্ব রায়েরবাজারের একটি ছয়তলা ভবনের নিচতলায় এ ঘটনা ঘটে।

দগ্ধরা হলেন শেখ রোমান (৩৫), তার স্ত্রী পিংকি আক্তার (৩২), তাদের তিন বছরের ছেলে রুহান এবং রোমানের শ্যালক অপু (২৩)। গুরুতর অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট-এ ভর্তি করা হয়েছে।

দগ্ধ রোমানের গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনায়। তিনি একটি রিয়েল এস্টেট কোম্পানিতে চাকরি করতেন এবং পরিবার নিয়ে রায়েরবাজারে ভাড়া বাসায় থাকতেন।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, ভোরে রান্না করতে গিয়ে গ্যাসের চুলা জ্বালানোর সঙ্গে সঙ্গে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ধারণা করা হচ্ছে, চুলা থেকে গ্যাস লিক হয়ে ঘরে জমে ছিল। আগুন লাগার পর মুহূর্তেই চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং পরিবারের সদস্যরা দগ্ধ হন।

বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন শাওন বিন রহমান জানান, চারজনের অবস্থাই আশঙ্কাজনক। শেখ রোমানের শরীরের ৭০ শতাংশ, পিংকি আক্তারের ৭৫ শতাংশ, রুহানের ৩৫ শতাংশ এবং অপুর ৫০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।




ঈশ্বরদীর সাহান পড়ে থাকা জমির চারিদিকে আইল বেঁধে মাছ চাষে পথ চলা শুরু করেন

জাহিদুল ইসলাম নিক্কন, ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি: ঈশ্বরদী উপজেলার মুলাডুলি ইউনিয়নের আটঘরিয়া গ্রামের মৃত ওমর আলীর ছেলে শাহ আলম সাহান অনেক আশা ও স্বপ্ন নিয়ে মৎস্য চাষে পথ চলা শুরু করেন। তিনি দীর্ঘ ১৬ বছর কুয়েত প্রবাসী ছিলেন। দেশে ফিরে তিনি বেকার জীবন যাপন করছিলেন। বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে বিভিন্ন জানার কাছ থেকে মৎস্য চাষের পরামর্শ নিয়ে নিজ বাড়ির পাশের একটি পুকুর দিয়ে মাছ চাষ শুরু করেন।
 
আটঘরিয়া গ্রামবাসীর পক্ষে মোঃ সাইফুল ইসলাম পিতাঃ মোঃ গিয়াস উদ্দিন শেখ বলেন,সাহান বিদেশ থেকে আসার পর একটি পুকুর দিয়ে মাছ চাষ শুরু করেন। পুকুরের পাশের জমিটি নিচু হাওয়ায় বছরের প্রায় সময় পানি জমে থাকে। এই জমিতে ফসল হয় না মাছও চাষ করা যায় না। সে কারণে জমির চারিদিকে আইল তৈরি করে মাছ চাষের উপযোগী করছেন সাহান। এই জমির চারিদিকে আইল হলে আমাদের তেমন কোন ক্ষতি হবে না। বরং এখানে মাছ চাষ হলে এলাকার বেকার ছেলেদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে বলে আমি মনে করছি।
শাহ আলম সাহান বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছর কুয়েতে প্রবাসী ছিলাম। সে সময় কুয়েত থেকে দেশে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছি।দেশে ফিরে এক রকমের বেকার জীবন যাপন করতে ছিলাম। বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে এলাকার বিভিন্ন মাছ চাষির কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে নিজ বাড়ির পাশের একটি পুকুর দিয়ে অনেক আশা ও স্বপ্ন নিয়ে মৎস্য চাষে পথ চলা শুরু করি। পুকুরের পাশে আমার একটি নিচু জমি রয়েছে। এখানে তেমন কোন ফসল হয় না। জমি নিচু হওয়ার কারণে সারা বছরই জলাবদ্ধ থাকে। সঠিক ভাবে মাছ চাষ করতে পারলে কিছুটা হলেও দেশের আমিষের চাহিদা মেটাতে পারবো বলে আশা পোষণ করছি। আমার পুকুরটি সংস্কার এবং পাশের পতিত পড়ে থাকা জমির চারিদিকে আইল বেঁধে মাছ চাষ করার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্যারের কাছে আবেদন করেছি।



আশুলিয়ার মরিচকাটা কলতাসূতী এলাকায় রাস্তা ও মসজিদ উদ্বোধন।

মোঃ বশির উদ্দিনঃ আশুলিয়ার মরিচকাটা কলতাসূতী এলাকায় রাস্তা ও মসজিদ উদ্বোধন। ঢাকা জেলার সাভার উপজেলার আশুলিয়া ১নং শিমুলিয়া ইউনিয়নের মরিচকাটা কলতাসূতী এলাকায় নবনির্মিত রাস্তা ও মসজিদের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. কামরুজ্জামান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো. শরিফ হোসেন ।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন শিমুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৮নং ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) মো. মান্নান। এছাড়া রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শিমুলিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি মো. ওসমান গনি সাগর, ভারারিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদল সভাপতি মো. আদিল এবং শিমুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মোবারক হোসেন।
স্থানীয় যুবসমাজের পক্ষ থেকে মো. আসাদুল ইসলাম মুকুল ও মো. বিল্লাল হোসেনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, মুরব্বি ও মুসল্লিরা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
স্থানীয়রা বলেন, একটি এলাকার উন্নয়নে যোগাযোগ ব্যবস্থা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নবনির্মিত এ রাস্তা স্থানীয়দের চলাচল সহজ করবে এবং মসজিদটি এলাকাবাসীর ধর্মীয় কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। উন্নয়নের এ ধারা অব্যাহত থাকবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়।
উদ্বোধন শেষে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে আরও উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।



রাজশাহীতে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থককে মারধর, হত্যার হুমকি

ডেস্ক নিউজঃ রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর এক সমর্থককে মারধর ও হত্যার হুমকি দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পুঠিয়া উপজেলার বিড়ালদহ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আহত আহসান হাবীব জানান, তিনি নির্বাচনে বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী ইসফা খায়রুল হক (শিমুল)-এর ঘোড়া প্রতীকের পক্ষে কাজ করেছিলেন। এ কারণে ধানের শীষের সমর্থকেরা তার ওপর হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, তার ডান হাতের দুটি আঙুলে ব্যান্ডেজ করা এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

আহসান হাবীবের ভাষ্য, শনিবার দুপুর ১২টার দিকে বিড়ালদহ বাজারে কেনাকাটার সময় একই গ্রামের রশিদসহ ১৫–১৬ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাকে ঘিরে ধরেন। হামলাকারীরা তাকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘শালা, তুই ইসফা খায়রুল হক শিমুলের (ঘোড়া) প্রতীকের ভোট করেছিস, আজ তোকে জানে মেরে ফেলব।’

তিনি অভিযোগ করেন, রশিদের নির্দেশে তার ছেলে রাসেল লোহার রড দিয়ে মাথায় আঘাত করেন। মাথা বাঁচাতে গেলে ডান হাতের মাঝের দুটি আঙুল ভেঙে যায়। এ সময় আজাদ, শাকিল, মারুফ, লাল্টু, ইমনসহ আরও কয়েকজন লাঠি, রড ও হকিস্টিক দিয়ে মারধর করেন। প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে একটি চালের দোকানে আশ্রয় নিতে গেলে সেখানেও তাকে ফেলে পেটানো হয় বলে দাবি করেন তিনি।

পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার চেষ্টা করেন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

অভিযুক্ত রাসেলের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

এ বিষয়ে বিজয়ী বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ সমর্থক ও রাজশাহী জেলা যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জুলফিকার রহমান বলেন, নির্বাচিত সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম এ ধরনের সহিংসতার বিরোধী। তিনি সবাইকে নিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের পক্ষের মানুষ। তিনি এই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনার কথা শুনেছেন তবে এ বিষয়ে এখনো থানায় লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি।




সুষ্ঠু ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে নির্বাচন ও ভোট কেন্দ্র ধুমপানমুক্ত ঘোষণা বরগুনা জেলা প্রশাসকের

রিপোর্ট – মৃধা বেলালঃ সুষ্ঠু ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন করতে বরগুনা-১ আসনের ৩১২ ভোটদান কেন্দ্রগুলোকে ধুমপানমুক্ত ঘোষণা করেছেন বরগুনা জেলা প্রশাসক ও রিটানিং অফিসার তাছলিমা আক্তার। গত রবিবার এ বিষয়ে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন তিনি। এ গণবিজ্ঞপ্তি ওইদিন রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে সর্বস্তরের মানুষ জেলা প্রশাসকের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।
জানাগেছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদ্বশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে বরগুনা জেলায় দুইটি সংসদীয় আসন রয়েছে। এ সংসদীয় আসন দুটিতে সুষ্ঠু, সুন্দর ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন করতে ভোটের দিন ৩১২টি ভোটদান কেন্দ্রগুলোতে ধুমপানমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। বরগুনা জেলা প্রশাসক তাছলিমা আক্তারের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ পোস্ট করেছেন। এতে জেলা প্রশাসনের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন তারা।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্টদাতা বরগুনা প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক আবু সালেহ জাফর বলেন, ভালো উদ্যোগ। এর বাস্তবায়ন চাই।
আমতলী সাংবাদিক ইউনিয়ন সভাপতি পরিতোষ কর্মকার বলেন, বরগুনা জেলা প্রশাসকের গণবিজ্ঞপ্তি দিয়ে উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন। এমন গণবিজ্ঞপ্তি সহসা দেখা যায় না। জেলা প্রশাসকের এমন মহতী উদ্যোগ সমাজে ভালো কিছু বয়ে আনবে। বরগুনা জেলা প্রশাসক ও রিটানিং অফিসার তাছলিমা আক্তার বলেন, সুষ্ঠু, সুন্দর ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন করতে এ গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।



গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রামে আশার বাতিঘর আব্দুল আজিজ

নিজস্ব সংবাদদাতাঃ ​নাটোর-৪ আসনের রাজনৈতিক দিগন্তে বর্তমানে আশার বাতিঘর হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন জননন্দিত নেতা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আব্দুল আজিজ। গুরুদাসপুর ও বড়াইগ্রামের মাটি ও মানুষের সাথে তাঁর যে আত্মার সম্পর্ক, তা আজ এক বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে সাধারণ ভোটারদের সাথে কথা বললে একবাক্যে সবার মুখে শোনা যায় ওনার সততা ও নিঃস্বার্থ জনসেবার কথা। এলাকার সাধারণ মানুষের বক্তব্য হলো, “আমরা এমন একজনকে নেতৃত্বে চাই যাকে বিপদে-আপদে কাছে পাওয়া যায়, আর আব্দুল আজিজ ভাই সবসময় আমাদের সুখে-দুঃখে পাশে ছিলেন।” তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা মনে করেন, তিনি কেবল একজন নেতা নন, বরং এই অঞ্চলের প্রতিটি বঞ্চিত মানুষের কণ্ঠস্বর।

 

​তরুণ প্রজন্মের কাছে মো. আব্দুল আজিজ এক আধুনিক ও প্রগতিশীল নেতৃত্বের নাম। এলাকার তরুণ সমাজ আজ ওনার মাঝে এমন এক ব্যক্তিত্বকে খুঁজে পেয়েছে, যিনি তাদের কর্মসংস্থান ও ক্রীড়া-সংস্কৃতির উন্নয়নে আন্তরিক। তরুণদের মতে, “আব্দুল আজিজ ভাই ক্ষমতায় আসা মানেই গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রামে পরিবর্তনের ছোঁয়া লাগা, তিনি আমাদের স্বপ্নগুলো বোঝেন।” অন্যদিকে, ছাত্রদের বক্তব্যে উঠে এসেছে এক শিক্ষিত ও সমৃদ্ধ জনপদ গড়ার প্রত্যাশা। সাধারণ ছাত্ররা মনে করে, শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং মেধাবীদের মূল্যায়ন করার জন্য ওনার মতো একজন দূরদর্শী নেতার বিকল্প নেই।
​প্রতিকূল সময়েও দমে না গিয়ে তিনি যেভাবে তৃণমূলের মানুষকে আগলে রেখেছেন, তা তাঁকে এক অনন্য অভিভাবকের আসনে বসিয়েছে। আব্দুল আজিজ মানেই এখন অবহেলিত জনপদের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি এবং সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতিফলন। বর্তমান সময়ে যখন মানুষ একজন যোগ্য ও সাহসী নেতৃত্বের সন্ধানে উন্মুখ, ঠিক তখনই আব্দুল আজিজ তাঁর পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি নিয়ে সবার সামনে দাঁড়িয়েছেন। রাস্তাঘাটের উন্নয়ন থেকে শুরু করে সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা—সবক্ষেত্রেই তাঁর স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গি এলাকাবাসীকে এক নতুন ভোরের স্বপ্ন দেখাচ্ছে। আসন্ন ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে গুরুদাসপুর ও বড়াইগ্রামের আনাচে-কানাচে যে গণজোয়ার তৈরি হয়েছে, তার মূল কারণ হলো ওনাকে ঘিরে মানুষের অগাধ প্রত্যাশা। সাধারণ ভোটারদের বিশ্বাস, আব্দুল আজিজ নির্বাচিত হলে অবহেলিত এই জনপদ একটি মডেল এলাকায় পরিণত হবে। এই ভালোবাসা আর জনসমর্থনই প্রমাণ করে যে, নাটোর-৪ আসনের ভাগ্য পরিবর্তনের কারিগর হিসেবে আব্দুল আজিজ আজ এক অপ্রতিরোধ্য নাম, যাঁর হাত ধরেই আসবে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন।



লালমনিরহাট-০৩ আসনে প্রচারণার শেষ লগ্নে দুই দলের শোডাউন

জহুরুল হক জনি, লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধিঃ লালমনিরহাট-০৩ সদর আসনে জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে শেষ দিনের প্রচারণায় পৃথকভাবে শক্তি প্রদর্শন করেছে বিএনপি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

সোমবার (৯ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শেষ হওয়ার আগে শেষ মুহূর্তে নিজেদের সাংগঠনিক অবস্থান জানান দিতে দুই দলই শোডাউন কর্মসূচি পালন করে।

সকালে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আসাদুল হাবিব দুলুর সমর্থনে রেলওয়ে এম টি হোসেন ইনস্টিটিউট মাঠ থেকে ধানের শীষ প্রতীকের বিশাল নির্বাচনী মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহর প্রদক্ষিণ শেষে জেলা কালেক্টরেট মাঠে গিয়ে শেষ হয়।

এতে বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠন, বিভিন্ন ক্লাব এবং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। হাজারো মানুষের অংশগ্রহণে মিছিলটি জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

অপরদিকে, জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবু তাহেরের সমর্থনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের নির্বাচনী মিছিল নয়ারহাট এলাকা থেকে বের হয়।

মিছিলটি শহর প্রদক্ষিণ শেষে মিশন মোড় গোলচত্বরে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী ও জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অ্যাডভোকেট আবু তাহেরসহ জেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।

এর আগে মিশন মোড় এলাকার মুনস্টার চাইনিজ  রেস্টুরেন্টে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন অ্যাডভোকেট আবু তাহের।




আমরা জনগণের সমর্থন দিয়ে সরকার গঠন করতে চাই: ঠাকুরগাঁওয়ে তারেক রহমান

মোঃ শফিকুল ইসলামঃ ঠাকুরগাঁওয়ে বিশ্ববিদ্যালয়, ক্যাডেট কলেজ, মেডিকেল কলেজ, বিমানবন্দর ও আইটি হাব করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনি জনসভায় তিনি এসব প্রতিশ্রুতি দেন।

তিনি বলেন, আমরা দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে চাই। এজন্য ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী, দিনাজপুর ও পঞ্চগড়কে শিল্পে রূপান্তর করতে চাই। আমাদের পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করতে হলে ধানের শীষে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করতে হবে।
তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে মানুষের যে অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল সেটা ভোটের মাধ্যমে ফিরিয়ে দেবে। বিগত ১৬ বছর স্বৈরাচার শুধু নিজের স্বার্থ দেখেছে। আমরা জনগণের সমর্থন দিয়ে সরকার গঠন করতে চাই। দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে চাই।
পঞ্চগড়ে চিনিকল, চা ও রেশন শিল্প চালু করা হবে। জনগণের হারিয়ে যাওয়ার অধিকার ভোগ করার সময় এসেছে।
তারেক রহমান বলেন, এই এলাকা কৃষনির্ভর। কৃষকদের পাশে যেমন দাঁড়াবো তেমনভাবে এই এলাকায় কৃষিনির্ভর শিল্প বিকশিত করবো। যাতে কর্মসংস্থান হয়। বহু যুবক আছে যারা বেকার। যুবকদের ট্রেনং দিয়ে দক্ষ শ্রমিক করতে চাই। আমরা আন্দোলন সংগ্রাম করেছি। মানুষকে সাথে নিয়ে দেশ পুনর্গঠন করতে চাই। এই কাজ করতে হলে জনগণের সহযোগীতা লাগবে।
বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, নির্বাচনী জনসভায় এক দল আরেক দলের বিপক্ষে কথা বললে জনগণের কোনও লাভ হবে না। জনগণ জানতে চায় আমরা মানুষের জন্য কি করবো। এজন্য আমরা আমাদের পরিকল্পনা তুলে ধরেছি। খালেদা জিয়া বলতেন বাংলাদেশ ছাড়া তার আর কোনও ঠিকানা নেই। বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মী বিশ্বাস করে বাংলাদেশ তাদের প্রথম এবং শেষ ঠিকানা। এজন্য আমরা জনগণের সামনে দাঁড়িয়েছি। জনগণের শক্তিতে দেশ পুনর্গঠন করতে চাই।
তিনি আরও বলেন, ২৪ সালে অভ্যুত্থান দিয়ে দেশকে রক্ষা করেছি। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় আমরা দেখিনি কে কোন ধর্মের। ২৪ এও একই। এই দেশে হাজার বছর ধরে প্রত্যেক ধর্মের মানুষ শান্তিতে বসবাস করেছে। আগামীতেও তাই হবে। ধর্ম দিয়ে কাউকে বিচার করা হবে না।