নৌকা নেই, নিশ্চিত ভোটও নেই: হবিগঞ্জ-০৪ এ অনিশ্চয়তার রাজনীতি

বিশেষ প্রতিবেদকঃ স্বাধীনতার পর থেকে আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত হবিগঞ্জ-০৪ আসন (চুনারুঘাট–মাধবপুর) এবার একেবারেই ভিন্ন বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে। নৌকা প্রতীক না থাকায় ভোটারদের মধ্যে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা, কৌতূহল আর চাপা উত্তেজনা। প্রায় ৫ লাখ ১০ হাজার ভোটারের এই আসনে দীর্ঘদিন ধরে নৌকার পক্ষে থাকা একটি বড় অংশ এবার কোন দিকে যাবে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

এই আসনের রাজনীতিতে এবার মুখোমুখি অবস্থানে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শিল্পপতি ও রাজনীতিবিদ এস এম ফয়সল এবং আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ইসলামি বক্তা মুফতী গিয়াস উদ্দিন তাহেরি। দুজনের প্রচার, বক্তব্য ও সমর্থন ঘিরে শুরু থেকেই চলছে নানা আলোচনা ও বিতর্ক।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এস এম ফয়সলের ঘোষিত সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২৮ কোটি টাকা হলেও তার বিরুদ্ধে প্রায় ২০০০ কোটি টাকার ঋণের অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষের ওপর পেশিশক্তি প্রয়োগ, ভয়ভীতি দেখানো এবং নির্বাচনী মাঠে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও উঠেছে। এছাড়া তার পরিবারের একাধিক সদস্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতৃত্বে থাকায় বিষয়টি নিয়ে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে এস এম ফয়সলের ভাই এস এম কায়সার যুদ্ধাপরাধের মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত ছিলেন—এই ইতিহাস নতুন করে আলোচনায় এসেছে। যদিও আদালতের রায় কার্যকরের আগেই তিনি কারাগারে মৃত্যুবরণ করেন।

এদিকে এস এম ফয়সলের ভাতিজা সৈয়দ তানভীর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতা হওয়ায় এলাকাজুড়ে আরও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগপন্থী অনেক নিরীহ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, গ্রেপ্তার আতঙ্ক এবং তথাকথিত মামলা-বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে, যেখানে এস এম ফয়সলের অনুসারীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, ৫ আগস্টের পর মাধবপুর বাজারের স্বর্ণপট্টি এলাকায় এক রাতেই প্রায় ৮০ লাখ টাকা চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় জড়িত বিতর্কিত কিছু নেতাকে নির্বাচনী কার্যক্রমে সক্রিয় দেখা গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি সাংবাদিকদের মধ্যেও বিভাজন তৈরি, মতের অমিল থাকা সাংবাদিকদের চাপের মুখে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করার কথাও শোনা যাচ্ছে।

অন্যদিকে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের প্রার্থী মুফতী গিয়াস উদ্দিন তাহেরি নিজেকে একজন ঋণমুক্ত প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরছেন। তিনি ইসলামি মূল্যবোধ, সংযত ভাষা ও ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে ভোটারদের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তার পক্ষে পীর-মাশায়েখদের সমর্থন এবং সাবেক স্বতন্ত্র এমপি ব্যারিস্টার সাইদুল হক সুমনের সমর্থনের কথাও আলোচনায় রয়েছে।

যদিও মুফতী গিয়াস উদ্দিন তাহেরির স্থায়ী ঠিকানা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায়, তবুও তিনি হবিগঞ্জ-০৪ আসনে উল্লেখযোগ্য জনসমর্থন পাচ্ছেন বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা চলছে। অনেকের মতে, বহিরাগত হয়েও তার জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকায় প্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।

ইটাখোলা দাখিল মাদ্রাসার এক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এস এম ফয়সলের পরিবারের বিরুদ্ধে অতীতে নিজ দলের লোকজনের ওপরও হামলা, মারধর ও গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ রয়েছে। তার মতে, নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারে এসব নতুন কিছু নয়। তিনি আরও বলেন, মুফতী তাহেরির কর্মীদের ওপর হামলা ও হুমকির ঘটনাও সেই ধারাবাহিকতার অংশ বলে অনেকেই মনে করছেন।

মুফতী গিয়াস উদ্দিন তাহেরি নিজেও অভিযোগ করেছেন যে, তাকে গাড়ি আটকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং মত প্রকাশে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। তবে এসব ঘটনায় তিনি বিচলিত নন বলে জানান। তার ভাষায়, “আমি আল্লাহর ওপর ভরসা করে এগোচ্ছি। জনগণ ব্যালটেই জবাব দেবে।”

এই আসনে প্রায় ২২টি চা বাগানের প্রায় ৭০ হাজার চা শ্রমিক ভোটার দীর্ঘদিন ধরে নৌকার প্রতি অনুগত বলে পরিচিত। নৌকা না থাকায় তাদের ভোট কোন দিকে যাবে, সেটিই এখন নির্বাচনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। অনেকের ধারণা, প্রকাশ্যে মিছিল-মিটিংয়ের চিত্র একরকম হলেও গোপন ব্যালটে ভিন্ন ফল দেখা যেতে পারে।

সব মিলিয়ে হবিগঞ্জ-০৪ আসনের নির্বাচন এবার শুধু ভোটের লড়াই নয়, বরং অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ, ইতিহাস আর নতুন সমীকরণের এক জটিল চিত্র হয়ে উঠেছে। শেষ পর্যন্ত ব্যালট বাক্সই ঠিক করবে—এই উত্তাল মাঠে কে হাসবে শেষ হাসি।




আগামী নির্বাচন হবে মতলববাজ রাজনীতির কবর রচনার নির্বাচন: জামায়াত আমির

জহুরুল হক জনি, লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডাঃ শফিকুর রহমান বলেছেন, জামায়াত সরকার গঠন করলে সব ধরনের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।

একই সঙ্গে তিস্তাকে জীবন্ত নদীতে রূপ দিয়ে উত্তরবঙ্গকে কৃষি ও শিল্পের রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

বুধবার লালমনিরহাটের তিস্তা ব্যারাজ এলাকার হেলিপ্যাড মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে আয়োজিত এই জনসভায় তিনি বলেন, তিস্তা উত্তরবঙ্গের মানুষের জন্য আশীর্বাদ হওয়ার কথা থাকলেও ভুল পরিকল্পনা ও অবহেলার কারণে এটি আজ এই অঞ্চলের মানুষের জন্য অভিশাপে পরিণত হয়েছে।

এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ডাঃ শফিকুর রহমান বলেন, আগামী নির্বাচন হবে মতলববাজ রাজনীতির কবর রচনার নির্বাচন। মানুষ এখন পরিবর্তন চায় এবং সেই পরিবর্তনের মাধ্যম হতে পারে ন্যায়ভিত্তিক রাজনীতি।

জনসভায় তিনি লালমনিরহাট ও নীলফামারীর সাতটি আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থীদের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন এবং আসন্ন নির্বাচনে এ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

জনসভা শুরুর আগেই তিস্তা ব্যারাজ এলাকার হেলিপ্যাড মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।

লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত হাজারো নেতাকর্মী ও সমর্থকের উপস্থিতিতে মাঠে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। দুপুর একটার দিকে জামায়াত আমির মঞ্চে ওঠেন।

জনসভায় সভাপতিত্ব করেন লালমনিরহাট জেলা জামায়াতের আমির ও লালমনিরহাট-০৩ আসনের প্রার্থী মোঃ আবু তাহের।

সমাবেশ সঞ্চালনা করেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ফিরোজ হায়দার লাভলু।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন লালমনিরহাট-০১ আসনের প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম রাজু, নীলফামারী জেলা জামায়াতের আমীর ও নীলফামারী-০১ আসনের প্রার্থী অধ্যক্ষ আব্দুস সাত্তার।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন নীলফামারী-০২ আসনের প্রার্থী অ্যাডভোকেট আল-ফারুক আব্দুল লতীফ, নীলফামারী-০৩ আসনের প্রার্থী ওবায়দুল্লাহ সালাফী এবং নীলফামারী-০৪ আসনের প্রার্থী আব্দুল মুনতাকিম।




টাঙ্গাইল পৌরকৃষক দলের উদ্যোগে আলহাজ সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ধানের শীষের নির্বাচনী প্রচারণা সভায়

টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধ: টাঙ্গাইল পৌরকৃষক দলের উদ্যোগে আলহাজ সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ভাইয়ের ধানের শীষের নির্বাচনী উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

এতে প্রধান অতিথি জেলা কৃষকদলের আহবায়ক ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক জনাব দিপু হায়দার খান। আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব জনাব শামীমুর রহমান খান ভিপি শামীম।

এতে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ভাইয়ের পক্ষে ভোট প্রার্থনা করেন তার সহধর্মিনী জনাব ছিম্মি ভাবী। আরো উপস্থিত ছিলেন পৌর কৃষকদের আহবায়ক জনাব সাইফুল ইসলাম লিটন ভাই।

সকল বক্তারা উন্নয়নের স্বার্থে আগামীর রাষ্ট্রনায়ক জনাব তারেক রহমানের দেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে ধানের শীষের পক্ষে ভোট দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।




গুনিয়াউক দরবার শরীফের তৃতীয় ও শেষ দিনের ওরশ সম্পন্ন

বিশেষ প্রতিনিধিঃ ব্রাহ্মণ বাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার গুনিয়াউক দরবার শরীফের বার্ষিক ওরশ মোবারক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

৩১ জানুয়ারি বাদ জোহর চার তরিকার অনুসারী পীরে তরিকত রাহনুমায়ে শরীয়ত হয়রত মাওলানা সৈয়দ আব্দুস সামাদ (র:) এর ছোট সাহেব জাদা সৈয়দ আব্দুল আওয়াল বুলবুল চিশতী (র:) ও উনার ছেলে সৈয়দ গোলাম হোসাইন আলিফ চিশতীর ওরশ মোবারক হাজার হাজার আশেকান মুরিদান ভক্তবৃন্দের উপস্থিতিতে সারারাত ব্যাপী জিকির আসকারের সমন্বয়ে সারা জাহানের মুসলিম উম্মাহর জন্য দোয়া করা হয়।

শুরুতে ওরসেকুল ফাতেহা শরীফ পাঠ,মিলাদ মাহফিল ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে তাবারক বিতরন, হামদ ও নাত পাঠের ফাকে ফাকে জিকির আজকার করা হয়৷

দেশের বিভিন্ন স্হান থেকে আগত ওলামায়ে কেরামগন রাত ব্যাপী ওয়াজ নসিহত করে বাদ ফজর আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে ওরশ মোবারকের সমাপ্তি ঘোষণা করেন সৈয়দ আব্দুল আওয়াল বুলবুল চিশতী সাহেব।
এক প্রশ্নের জবাবে সৈয়দ আব্দুল আওয়াল বুলবুল চিশতী বলেন, মানবজাতির কল্যাণে যুগেযুগে আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন নবী রাসুল প্রেরণ করেছেন৷ উনাদের সিলসিলা অনুসরণ করেই মুলত ইসালে সওয়াব, নসিহতের উদ্দ্যেশ্য এবং আমার বাপ দাদার ও পীর মাশায়েখের রুহানী তাওয়াজ্জুহ কামনা, আশেকান মুরিদানদের জন্য দোয়া করাই ওরশ মোবারকের মুল উদ্দেশ্য।

রাত বাড়ার সাথে সাথে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা আগামী সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে দোয়া নিতে হাজির হন৷ বিশেষ করে হবিগঞ্জ ০৪ আসনের আলোচিত প্রার্থী মুফতি গিয়াস উদ্দিন আততাহেরীর উপস্থিতি ওরশ মোবারকে এক অনন্য নজির স্হাপন করে।

এলাকা ঘুরে দেখা যায়, শুধু মুসলিম ই নয় নওমুসলিম পুরুষ মহিলারা ও দল বেধে ওরশ মোবারকে অংশগ্রহণ করেন। যা ভ্রাতৃত্বের অপরুপ নিদর্শন বটে।




টঙ্গীর শিল্পনগরীতে মাদকের ‘নিরাপদ ঘাঁটি’ জাভান হোটেল সন্ধ্যার পর নাচানাচি ও মাদক সেবনের অভিযোগ –পর্ব ২য়

কনা আক্তার: শিল্পনগরী টঙ্গীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত টঙ্গী জাভান হোটেলকে কেন্দ্র করে মাদক সেবন, অবৈধ মাদক বাণিজ্য ও অসামাজিক কার্যকলাপের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও একাধিক সূত্রের দাবি, সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত হোটেলটিতে নিয়মিতভাবে মাদকের আসর বসে এবং বিভিন্ন স্থান থেকে আনা নারীদের দিয়ে চলে উশৃঙ্খল নাচানাচি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, দিনের বেলায় সাধারণ আবাসিক হোটেল হিসেবে কার্যক্রম চললেও সন্ধ্যার পর হোটেলটির চিত্র সম্পূর্ণ বদলে যায়। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে সন্দেহজনক ব্যক্তিদের আনাগোনা বেড়ে যায় এবং প্রকাশ্যেই চলে মাদক সেবন ও কেনাবেচা এমন অভিযোগ করছেন এলাকাবাসী।
যুবসমাজ ধ্বংসের আশঙ্কা।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, শিল্প এলাকায় কর্মরত তরুণ শ্রমিক ও যুবসমাজ সহজেই এই হোটেলকে মাদক সেবনের নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বেছে নিচ্ছে। ফলে দিন দিন যুবসমাজ নৈতিক ও সামাজিকভাবে ধ্বংসের পথে এগিয়ে যাচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল।
এতসব অভিযোগের পরও কীভাবে টঙ্গী জাভান হোটেল বৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছে—তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, হোটেলটির লাইসেন্স প্রদান ও নবায়ন প্রক্রিয়ায় যথাযথ যাচাই হয়েছে কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাব প্রয়োজন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এর আগেও টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশ একাধিকবার অভিযান চালিয়ে মাদক ও অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে কয়েকজনকে আটক করেছে। কোনো কোনো অভিযানে মাদকদ্রব্য ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরও আটক করা হয়। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব অভিযান সাময়িক হলেও হোটেলটির মূল কার্যক্রম বন্ধ হয়নি।
সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে প্রশাসনের ভূমিকা গোপন সূত্রে জানা যায় যে, মালিকপক্ষ প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে প্রশাসনের একটি অংশকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। তবে এই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এলাকাবাসী ও সচেতন নাগরিকরা দ্রুত স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত, হোটেলের লাইসেন্স যাচাই, এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে টঙ্গী পূর্ব থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।



পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় সেনাবাহিনীর একটি চৌকস দল যৌথ অভিযান চালিয়ে বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে

মোহাম্মদ লোকমান হোসেনঃ পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় সেনাবাহিনীর একটি চৌকস দল যৌথ অভিযান চালিয়ে বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে। সোমবার গভীর রাতে ভাণ্ডারিয়া পৌর শহরের ১ নম্বর ওয়ার্ডের লক্ষিপুরা মহল্লায় ইকবাল মল্লিকের বাড়িতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

ভাণ্ডারিয়া সেনা ক্যাম্প সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার রাতেই ওই বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় বাড়ি থেকে দুইটি রামদা, একটি কুঠার, একটি ছেনি, একটি হাতুড়ি, একটি বাটাল, একটি ড্রিল মেশিন এবং কয়েকটি চাকুসহ বিভিন্ন ধরনের দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
তবে অভিযানের সময় অভিযুক্ত ইকবাল মল্লিককে বাড়িতে পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে সেনাবাহিনী। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সেনা সূত্র আরও জানায়, অভিযানের নেতৃত্ব দেন ভাণ্ডারিয়া সেনা ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোস্তাক ফাহাদ জোয়ারদ্দার। উদ্ধারকৃত অস্ত্রগুলো পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সেনাবাহিনীর এই অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এমন অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন।



পিরোজপুরে ‎নিখোঁজের ৩ দিন পরে শিশুর বস্তাভর্তি লাশ উদ্ধার : চাচা সহ গ্রেপ্তার ৪

পিরোজপর প্রতিনিধি: ‎পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় মোঃ রাইয়ান মল্লিক নামে এক শিশুর বস্তাভর্তি লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টার দিকে প্রতিবেশী এক গৃহস্থের গোয়ালঘরের খড়ের গাদার ভেতর থেকে শিশুটির মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৫ টায় এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পিরোজপরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মঞ্জুর আহম্মেদ সিদ্দিকী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

‎নিহত রাইয়ান (০৫) ভাণ্ডারিয়া উপজেলার ইকড়ি ইউনিয়নের আতরখালী গ্রামের প্রবাসি রাসেল মল্লিক এর ছেলে। শিশুটি স্থানীয় পশারিবুনীয়া আফছারিয়া নূরানী কিণ্ডার গার্টেন এ শিশু শ্রেণিতে পড়ালেখা করতো। পরিবারের অভিযোগ প্রতিপক্ষ চাচা আব্দুল কাদের মল্লিক শিশুটিকে হত্যার পর লাশ খড়ের গাদায় লুকিয়ে রেখেছে।

‎
‎গ্রেপ্তাররা হলেন, মো. রিয়াদ মল্লিক (১৯), মো. মিজান মল্লিক (৪২), মো. সাইদুল ইসলাম (৩৬), মোসা. পারভীন বেগম (৩৫)। গ্রেপ্তার হওয়া সবার বাড়ি ভান্ডারিয়া উপজেলার উত্তর আতরখালী গ্রামে।
‎
‎পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার শিশু রাইয়ান সকলের অগোচরে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। খুঁজে না পেয়ে শিশুটির মা তন্নী আক্তার ভাণ্ডারিয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পরে ভাণ্ডারিয়া থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশের একটি দল অনুসন্ধান চালিয়ে প্রতিবেশী এক গৃহস্থের খড়ের গাদার ভেতর থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে।
‎
‎পিরোজপরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মঞ্জুর আহম্মেদ সিদ্দিকী  জানান, আসামী রিয়াদ মল্লিককে জিজ্ঞাসাবাদ করলে  ভিকটিম রাইয়ান মল্লিক কোথায় আছে তা জানে বলে জানান। পরবর্তিতে রিয়াদ মল্লিককে সঙ্গে নিয়ে ভান্ডারিয়া ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে রিয়াদ মল্লিক এর দেখানো মতে তাদের বসত ঘরের সামনের গোয়াল ঘরের মধ্য হতে খরকুটার ভিতর বস্তাভর্তি অবস্থায় ভিকটিমের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে পুলিশ সুপার জানিয়েছেন।



বরিশালে যাত্রী বাহী বাস থেকে জাটকা উদ্ধার

শান্ত ইসলাম, বরিশাল ব্যুরোঃ গত কাল বেলা ১০:৩০ এর দিকে বিভাগীয় কমিশনার এর কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি যাত্রী বাহী বাস থেকে বিপুল পরিমাণ জাটকা আটক করা হয়েছে। এন এস আই এর তথ্যের ভিত্তিতে ও তাদের মাধ্যমে যাত্রী বাহী বাসে এই অবৈধ মাছ তোলার সময় আটক করা হয়েছে বলে জানা যায়। পরে বরিশাল সদর উপজেলা মৎস কর্মকর্তা দের খবর দিলে তারা ধ্রুত ঘটনা স্থলে উপস্থিত হয়ে তাদের হেফাজতে নেয়। পরবর্তীতে মাজিস্ট্রেট এর মাধ্যমে বরিশালের বিভিন্ন এতিম খানায় ও বৃদ্ধাশ্রম এ এ সকল জাটকা বিতরন করা হয়।
জাটকা নিধন সারা বছর ব্যাপী নিষিদ্ধ। কিন্তু অসাধু জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা মিলে একটি শক্ত সিন্ডিকেট তৈরি করে সারা দেশে এসকল জাটকা মাস স্বীকার করে ছড়িয়ে দিচ্ছে রাজধানী সহ বিভিন্ন জেলায়।
বরিশাল সদর উপজেলা মৎস কর্মকর্তা জনাব জামাল হোসেন সাংবাদিকদের বলেন জেলেরা সচেতন না হলে কোনো ক্রমেই এই জাটকা নিধন বন্ধ করা সম্ভব না। তাছাড়া জনগনের ও সচেতন ভাবে সহযোগিতা করা দরকার। তারা যদি জাটকা না কিনে তাহলেই জাটকা মাছ স্বীকার বন্ধ হতে পারে বলে মনে করেন।



আসন্ন নির্বাচনে ভোটার সচেতনতা বাড়াতে লালমনিরহাটে ইমাম সম্মেলন অনুষ্ঠিত

জহুরুল হক জনি, লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধিঃ সাধারণ ভোটারদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সক্রিয় অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে লালমনিরহাটে জেলা ইমাম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে জেলা মডেল মসজিদ সংলগ্ন মাঠে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দার। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার মোঃ আসাদুজ্জামান।
ইসলামী ফাউন্ডেশন লালমনিরহাটের উপ-পরিচালক রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ফাউন্ডেশনের অর্থ ও হিসাব বিভাগের পরিচালক মোঃ আব্দুল হামিদ খান এবং ইসলামী ফাউন্ডেশন রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক মোস্তফা মনসুর আলম খানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও জেলার বিভিন্ন মসজিদের ইমামগণ।
সম্মেলনে আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন লালমনিরহাট নেছারিয়া কামিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা মোঃ রফিকুল ইসলাম এবং আদিতমারী মারকাজুল কুরআন মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা জয়নুল আবেদীন।
বক্তারা আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সাধারণ ভোটারদের নৈতিক দায়িত্ব পালনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তারা বলেন, একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেশের গণতন্ত্রকে আরও সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এছাড়া সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং ভোটাধিকার সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরিতে ইমাম ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন বলেও বক্তারা উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে ইসলামী ফাউন্ডেশন লালমনিরহাটের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।



দুধ দিয়ে গোসল করে জামায়াতে যোগ দিলেন মৎস্যজীবী দল নেতা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ পটুয়াখালীর বাউফলে এক কলস দুধ দিয়ে গোসল করে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন ইউনিয়ন মৎস্যজীবী দল নেতা মো. জালাল হাওলাদার। তিনি বাউফল উপজেলার বগা ইউনিয়ন মৎস্যজীবী দলের সহ-সভাপতি ছিলেন বলে জানিয়েছেন উপজেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি মোশারফ হোসেন লিটন।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) রাত ৯টার দিকে উপজেলার বগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে পটুয়াখালী-২ আসনে দশ দলীয় ঐক্য জোটের দাড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মো. শফিকুল ইসলাম মাসুদের উঠান বৈঠকে দুধ দিয়ে গোসল করে আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে যোগ দেন তিনি।

যোগদান অনুষ্ঠানে মো. জালাল হাওলাদার বলেন, দলের নেতাদের অবহেলা ও মানসিক কষ্ট সহ্য করতে না পেরে তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তিনি বলেন, “বিগত ১৭ বছর দলের দুর্দিনে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি। ভেবেছিলাম এখন একজন অভিভাবক পাব, যার আশ্রয়ে রাজনীতি করব। কিন্তু যাকে বিএনপির মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, তিনি সে ধরনের অভিভাবক নন। তিনি আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনে ব্যস্ত। আমাদের খোঁজখবর নেন না, বরং যারা বিগত ১৭ বছর আমাদের ওপর হামলা-মামলা ও নির্যাতন চালিয়েছেন, তাঁদের সঙ্গেই চলাফেরা করছেন। এ কারণেই আমি জামায়াতে যোগ দিয়েছি। আগামী দিনে জামায়াতের পক্ষে কাজ করব।”

এ সময় বগা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সদস্য আবুল কালাম, উপজেলা যুবদলের সাবেক সদস্য এস এম আমিনুল ইসলাম, বগা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মো. জাহিদুল ইসলাম, বগা ইউনিয়ন মৎস্যজীবী দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি জামাল খান, বগা ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক ফারুক শরীফসহ প্রায় তিন শতাধিক বিএনপির নেতা-কর্মী ও সমর্থক জামায়াতে যোগ দেন।

যোগদান অনুষ্ঠানে পটুয়াখালী-২ আসনের দশ দলীয় জোটের প্রার্থী ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সেক্রেটারি নবাগতদের হাতে উপহার হিসেবে জমজম কূপের পানি ও সৌদি আরবের খেজুর তুলে দেন।

এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মো. তসলিম তালুকদার বলেন, কেউ যদি দলীয় পদ-পদবীতে থেকে শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে, তবে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি দলীয় ফোরামে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।