নতুন টার্মিনাল থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট শুরু

ডেস্ক নিউজ : কক্সবাজার বিমানবন্দরের নবনির্মিত টার্মিনাল ভবন থেকে আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনা শুরু হচ্ছে। এ জন্য বিমানবন্দরের সংশ্লিষ্ট সব শাখা ও যাত্রীবাহী এয়ারলাইনসগুলোকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কক্সবাজার বিমানবন্দরের পরিচালক মো. গোলাম মোর্তজা হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়।

চিঠিতে বলা হয়েছে, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (সিএএবি) সদর দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে নবনির্মিত টার্মিনাল ভবন থেকে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনার কার্যক্রম শুরু হবে। এ জন্য বিমানবন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব শাখা এবং যাত্রীবাহী এয়ারলাইনসকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে বিমানবন্দরের এটিএম, সিএনএস, নিরাপত্তা, ই/এম, সিভিল, ফায়ার ও এমটি শাখাকে অবহিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস, নভোএয়ার ও এয়ার অ্যাস্ট্রার কক্সবাজার স্টেশন ম্যানেজারদেরও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

বর্তমানে দেশের ব্যস্ততম অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরগুলোর অন্যতম কক্সবাজার বিমানবন্দর। এখান থেকে প্রতিদিন গড়ে ২৮ থেকে ৩০টি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ ওঠানামা করে।

প্রায় ১৭ হাজার ৯৫৬ বর্গমিটার আয়তনের নতুন টার্মিনালটি প্রায় ৩৬২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা অনুমোদিত ব্যয়ে একটি প্রকল্পের আওতায় নির্মাণ করা হয়েছে।

টার্মিনালটিতে ৪৫০ জন আন্তর্জাতিক যাত্রীর ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ডিপার্চার লাউঞ্জ, শুল্কমুক্ত দোকান, বোর্ডিং ব্রিজ, লিফট, এসকেলেটর, কনভেয়ার বেল্ট, চেক-ইন ডেস্ক, বহির্গমন ও আগমন ইমিগ্রেশন কাউন্টার এবং অ্যারাইভাল লাউঞ্জ রয়েছে।




সুন্দরবনে দুই দিনে ২১ জেলে অপহরণ

ডেস্ক নিউজ : সুন্দরবনের বনদস্যুরা একটি ট্রলারসহ মুক্তিপণের দাবিতে আরোও ১৫ জেলেকে অপহরণ করেছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে শরণখোলা রেঞ্জের ভাঙ্গা, আমবাড়ীয়া ও নারিকেলবাড়ীয়া এলাকা থেকে এসব জেলেদের অপহরণ করা হয়।

এর আগে শুক্রবার দিবাগত রাতে সুন্দরবনের নারিকেলবাড়ীয়া, কালামেয়া, আমবাড়ীয়া ও ঝাপসি এলাকার ভদ্রা নদী থেকে আরো ৬ জেলেকে অপহরণ করে। এ নিয়ে গত দুই দিনে ২১ জেলেকে অপহরণের ঘটনায় জেলে ও মহাজনদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের দুবলা টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেষ্ট রেঞ্জার মিল্টন রায় জানান, গতকাল গভীর রাতে বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন সুন্দরবনের ভাঙ্গা, আমবাড়ীয়া ও নারিকেলবাড়ীয়া এলাকায় মাছ ধরার সময় জেলেদের বহরে হামলা চালায় বনদস্যু মজনু বাহিনী সদস্যরা। এ সময়ে তারা একটি ফিশিং ট্রলারসহ ১৫টি নৌকা থেকে একজন করে সার্বমোট ১৫জন জেলেকে মুক্তিপণের দাবিতে আপহরণ করে। অপহৃত জেরেদের মধ্যে ১০ জেলের নাম জানা গেছে।

তার হলেন, আরিফ (২৫), সগীর (৩৪), মিঠু (৩০), ফেরদাউস (২৮), ইব্রাহিম (৩৫), ইমরান (২৫), মোস্তাফিজ (৩৫), আলাআমিন (২৮), হানিফ (৩৮), মারুফ (৪৯)। এসব জেলেদের বাড়ি খুলনা, বরগুনার পাথরঘাটা ও তালতলী এলাকায়। এ সকল জেলেরা বনবিভাগের অনুমতি নিয়ে নিয়েচর পাটা, পোকাজাল ও বড়শি দিয়ে সুন্দরবনের খালে মাছ ধরছিল।

এর আগে দিন শুক্রবার দিবাগত রাতে সুন্দরবনের নারিকেলবাড়ীয়া, কালামেয়া, আমবাড়ীয়া ও ঝাপসি এলাকার ভদ্রা নদী থেকে বনদস্যু মজনু বাহিনী ও বনদস্যু করিম-শরীফ বাহিনীর সদস্যরা আরো ৬ জেলেকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।সুন্দরনের দুবলা ফিসারম্যান গ্রুপের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা কামাল উদ্দিন আহমেদ অপহৃত  জেলেদের দ্রুত মুক্ত করাসহ দস্যু দমনে কঠোর যৌথ অভিযানের দাবি জানয়েছেন।




জয়পুরহাটে বিশাল বেলেপাথর উদ্ধার, ওজন ৩২০ কেজি

জয়পুরহাট প্রতিনিধি: জয়পুরহাটে চোরাকারবারীদের হাত থেকে ৮ম-৯ম শতকের একটি প্রাচীন ও মূল্যবান প্রত্নতাত্ত্বিক বেলেপাথর উদ্ধার করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কাছে হস্তান্তর করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। উদ্ধার হওয়া বেলেপাথরের তৈরি পিলারের অংশবিশেষটির ওজন প্রায় ৩২০ কেজি, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা বলে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের প্রাথমিক যাচাইয়ে জানা গেছে।

​রবিবার দুপুরে জয়পুরহাট ২০ বিজিবি ব্যাটালিয়ন থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তথ্যটি নিশ্চিত করা হয়।
​বিজিবির প্রেস বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা যায়, জয়পুরহাট ২০ বিজিবির ধারাবাহিক প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ও কষ্টিপাথর উদ্ধার অভিযানের অংশ হিসেবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে একটি প্রাচীন বস্তু হস্তান্তরের বিষয়টি বিজিবিকে জানানো হয়। খবর পেয়ে বিজিবির ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে ২০ বিজিবির একটি বিশেষ টহল দল পূর্বনির্ধারিত স্থানে গিয়ে বেলেপাথরটি নিজেদের জিম্মায় গ্রহণ করে।

​স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, একটি সংঘবদ্ধ পাচারকারী চক্র প্রত্নবস্তুটি পাচারের উদ্দেশ্যে স্থানীয় একটি খেলার মাঠের পাশের পুকুরের পানিতে লুকিয়ে রেখেছিল। বিষয়টি পরবর্তীতে নিয়ামতপুর থানা পুলিশ এবং নওগাঁর বদলগাছীর পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবগত করা হয়।

​বিজিবির কাছে বেলেপাথরটি হস্তান্তরের সময় প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের একজন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন এবং শিলাখণ্ডটির প্রাথমিক সমীক্ষা ও যাচাই সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার কর্তৃপক্ষ পাথরটি বিশদ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এটি ৮ম-৯ম শতকে ব্যবহৃত বেলেপাথরের পিলারের অংশবিশেষ বলে নিশ্চিত করেন এবং এর একটি সনদ প্রদান করেন।

​উদ্ধার করা এই মূল্যবান প্রত্নবস্তুটি বর্তমানে সংরক্ষণের জন্য নওগাঁর বদলগাছীতে অবস্থিত পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘরে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে বিজিবির বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।




যমুনার ভয়াবহ ভাঙনে তিন মাসে বিলীন বসতভিটা-ফসলি জমি

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: পানি কমা-বাড়ার সঙ্গে সিরাজগঞ্জের যমুনা নদীর ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত তিন মাসে শাহজাদপুর, চৌহালী ও কাজিপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শত শত বাড়িঘর ও বিঘার পর বিঘা ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনে মসজিদ-মাদ্রাসা, বিদ্যালয়, বাজার ও অসংখ্য গাছপালাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত তিন মাসে শাহজাদপুর উপজেলার সোনাতনী ইউনিয়নের কুরসি ও ধীতপুর গ্রামে দুই শতাধিক বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। শ্রীপুর, ধীতপুর, কুরসি, বারপাখিয়া, গালা ইউনিয়নের মোহনপুর ও হাতকোড়া এলাকাতেও ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। এ পর্যন্ত এসব এলাকায় প্রায় দুই হাজার বিঘা আবাদি জমি নদীগর্ভে চলে গেছে।

সম্প্রতি ভাঙনকবলিত কুরসি বাজার এলাকায় বালুভর্তি বস্তা ফেলে ভাঙন রোধের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, ভাঙন ঠেকাতে দ্রুত জিওটিউব ও বালুভর্তি বস্তা ফেলা প্রয়োজন হলেও এখনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা ইয়াসিন মোল্লা বলেন, যমুনার ভাঙনে আমার আট বিঘা জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এসব জমিতে ধান, ভুট্টা, সরিষা, বেগুন ও টমেটোসহ বিভিন্ন ফসল চাষ করে আমি সংসার চালাতাম। এখন আমার সবকিছু শেষ হয়ে গেছে।

ধীতপুর গ্রামের আছিয়া খাতুন বলেন, ভাঙনে তাদের বাড়িঘর বিলীন হয়ে গেছে। এখন খালি ভিটায় পলিথিন টানিয়ে থাকতে হচ্ছে। বৃষ্টি হলে ঘরের সবকিছু ভিজে যায়।

ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত শামছুল হক জানান, বাড়িঘর নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ায় পাশের শ্রীপুর গ্রামে অন্যের জমি বছরে পাঁচ হাজার টাকা ভাড়ায় নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন।

ভাঙনে শুধু বসতভিটা ও ফসলি জমিই নয়, ধীতপুর-কুরসি এলাকার গরুর হাট ও বাজারও নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এতে কৃষিপণ্য ও গবাদিপশু কেনাবেচায় সমস্যায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা।

এদিকে চৌহালী উপজেলার চরসলিমাবাদ, খাসকাউলিয়া ও জোতপাড়া এবং কাজিপুরের নাটুয়ারপাড়া ও চরগিরিশ এলাকাতেও ভাঙন চলছে। স্থানীয়দের জানান, গত শুক্রবার চৌহালীর জোতপাড়ায় এক দিনেই প্রায় ৩০০ মিটার এলাকার বসতভিটা, গাছপালা ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এতে বহু পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ভাঙনকবলিত এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, ত্রাণ হিসেবে চাল ও শুকনো খাবার দেওয়া হলেও স্থায়ী পুনর্বাসনের উদ্যোগ এখনো দৃশ্যমান নয়। অনেক পরিবার পলিথিনের ছাউনি কিংবা জরাজীর্ণ ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরিনা সারমিন বলেন, ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বলা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ত্রাণের চাল ও শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। অসহায়দের পুনর্বাসনের উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।

চৌহালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান শাকিল বলেন, বন্যা, নদীভাঙন ও অসহায় মানুষের মধ্যে বিতরণের জন্য বরাদ্দ করা প্রায় সাড়ে সাত টন জিআরের চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দুই ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিষয়টি জেলা প্রশাসককে জানানো হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সাজ্জাদ হোসেন বলেন, চরাঞ্চলের ভাঙন রোধে বর্তমানে কোনো সরকারি প্রকল্প বা বরাদ্দ নেই। তবে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ঝুঁকিতে থাকলে সেগুলো রক্ষায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ড মূলত নদীর তীর রক্ষায় কাজ করে; নদীর ডান বা বাম তীরে সমস্যা দেখা দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।




ঝিনাইদহে বিদ্যুতের তার চুরি করতে গিয়ে যুবকের মৃত্যু

ডেস্ক নিউজঃ ঝিনাইদহে বিদ্যুতের তার চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে রকি নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। রবিবার ভোররাতে সদর উপজেলার বিষয়খালী গ্রামের উত্তরপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত রকি সদর উপজেলার কানুহরপুর গ্রামের মৃত আবদুর রাজ্জাকের ছেলে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিষয়খালী গ্রামের উত্তরপাড়ার একটি ঘাসের জমিতে রকির মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে তারা পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

পুলিশ ও স্থানীয়দের প্রাথমিক ধারণা, ভোররাতে বিদ্যুতের তার চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে রকির মৃত্যু হয়েছে।

ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।’




টাঙ্গাইলে রাস্তা পারাপারের সময় বাসচাপায় প্রাণ গেল দুই বন্ধুর

ডেস্ক নিউজ : টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে মহাসড়ক পারাপার হওয়ার সময় বাসচাপায় রুদ্র (১৪) ও ঝলক (১৫) নামে দুই বন্ধু নিহত হয়েছেন।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুর উপজেলার জামুর্কি অভারব্রিজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন—জামুর্কি গ্রামের ডালিম সাহার ছেলে রুদ্র (১৪) এবং তার বন্ধু কালিয়াকৈর উপজেলার সফীপুরের আনসার ক্যাম্পের নষ্কার চালা গ্রামের পানচু সরকারের ছেলে ঝলক (১৫)।
নিহতের স্বজনরা জানায়, শনিবারে রুদ্র সাহার বন্ধু ঝলক তাদের বাড়িতে বেড়াতে আসে। এদিন ছিল হাটবার। দুই বন্ধু মিলে হাটে যাওয়ার পথে জামুর্কি অভারবিজ্রের সামনে দিয়ে পারাপারের সময় উত্তরবঙ্গ আসা থেকে ঢাকাগামী একটি বাস তাদের চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুজনেরই মৃত্যু হয়। এ সময় বাসটি পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো এলাকায়।

মির্জাপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন ও গোড়াই হাইওয়ে থানার ওসি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, দুই বন্ধুকে চাপা দেওয়ার পর বাসটি পালিয়ে গেছে। বাস সনাক্তের চেষ্টা চলছে। নিহতদের লাশ আইনি প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের চেষ্টা চলছে।




বাড়ছে তিস্তার পানি, নিম্নাঞ্চলে বন্যার শঙ্কা

ডেস্ক নিউজ : উজানের ঢল ও দুই দিনের টানা ভারি বৃষ্টিতে বাড়ছে তিস্তা নদীর পানি প্রবাহ। ফলে লালমনিরহাটের তিস্তাপাড়ের নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় অবস্থিত দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজ ডালিয়া পয়েন্টে পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ১১ মিটার। যা বিপদসীমার (স্বাভাবিক ৫২ দশমিক ১৫ মিটার) ৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, গত দুই দিনের টানা ভারি বৃষ্টি আর উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি প্রবাহ বাড়তে শুরু করেছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় লালমনিরহাটসহ উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় তিস্তা নদীর পানি সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে। এতে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে, গত দুই দিনের অতিভারি বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তার পানি দ্রুত বাড়ছে। এতে তিস্তার বাম তীরের জেলা লালমনিরহাটের নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রতিবছর সেপ্টেম্বর মাসের শেষ দিকে বড় বন্যা হয়ে থাকে। সেই বন্যার শ্বঙ্কা করছেন তিস্তাপাড়ের মানুষ।

গোবর্দ্ধন চরের বাসিন্দা আব্দুর রশিদ বলেন, এবারে স্থায়ী বড় কোন বন্যা হয়নি। তবে আজকে নদীর পানি যেভাবে বাড়ছে তাতে মনে হচ্ছে বড় বন্যা হতে পারে। বন্যা হলে নদীপাড়ের মানুষের কষ্টের শেষ থাকে না।

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনিল কুমার বলেন, বৃষ্টি আর উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি বাড়ছে। ডালিয়া পয়েন্টে সন্ধ্যা ৬টায় বিপদসীমার ৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা পানি সমতলে বাড়তে পারে। সেক্ষেত্রে নিম্নাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।




মেঘনায় ট্রলারডুবে নিহত ১, নিখোঁজ একই পরিবারের ৪ জন

ডেস্ক নিউজ : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে আত্মীয়ের বিয়েতে আসার পথে ১৪ জন যাত্রী নিয়ে মেঘনা নদীতে একটি ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় রায়েসা বেগম (৪০) নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। ৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে একই পরিবারের বাবা, দুই ছেলে ও মেয়েসহ চারজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের সোনামই এলাকায় আমান সিমেন্ট কারখানাসংলগ্ন মেঘনা নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিখোঁজ একই পরিবারের চার সদস্য হলেন হেলাল উদ্দিন (৫৫), সজীব (২৪), সামিয়া (১৭) ও সামিন (৫)। নিখোঁজরা ও নিহত নারী কুমিল্লার হোমনা থানা এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। ওই পরিবারের শিরিন বেগম (৪৫) ও তার আরেক মেয়ে লামিয়া আক্তারকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের হাড়িয়া এলাকার সাজিয়া আক্তার ও শিশিরের বিয়েতে অংশ নিতে স্বজনেরা হোমনা থেকে একটি ট্রলারে করে সোনারগাঁয়ের হাড়িয়া এলাকায় আসছিলেন। মেঘনা নদী পার হওয়ার সময় ট্রলারটি ডুবে গেলে যাত্রীরা পানিতে পড়ে যান।

এসময় ঘটনাস্থলের কাছাকাছি থাকা আমান কোম্পানির একটি ট্রলার দ্রুত উদ্ধারে গিয়ে ৯ জনকে জীবিত ও রায়েসাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত একই পরিবারের চার সদস্য নিখোঁজ রয়েছেন।

সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমাদের এখানে একজন নারী রোগী আনা হয়েছে। তিনি মারা গেছেন।’

সোনারগাঁ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মোহাম্মদ জাহেদ চৌধুরী বলেন, আনুমানিক দেড়টার দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটে। তবে আমরা খবর পাই বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটে। খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করি। নিখোঁজদের সন্ধানে নদীতে উদ্ধার অভিযান চলছে।




শ্যাম্পুর খালি প্যাকেট নিয়ে শিশুদের ঝগড়া থেকে বড়দের সংঘর্ষ; মুরগি ব্যবসায়ীর মৃত্যু, আহত ১৫

ডেস্ক নিউজ : নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার বালাগ্রাম ইউনিয়নে শিশুদের খেলাকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শ্যাম্পুর খালি প্যাকেট নিয়ে শিশুদের ঝগড়াকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই বিরোধে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন। এর মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মকবুল হোসেন (৪৫) নামের এক মুরগি ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ সেপ্টেম্বর সকালে বালাগ্রাম ইউনিয়নে শ্যাম্পুর খালি প্যাকেট নিয়ে কয়েকজন শিশুর খেলাকে কেন্দ্র করে প্রথমে কথাকাটাকাটি ও হাতাহাতি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা বড়দের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে এবং দুই পক্ষের সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে ধারালো দেশীয় অস্ত্র ব্যবহারের ফলে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন।

গুরুতর আহত অবস্থায় মকবুল হোসেনকে প্রথমে জলঢাকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার তার মৃত্যু হয়।

মঙ্গলবার বিকেলে মকবুলের মরদেহ জলঢাকার বালাগ্রামের নিজ বাড়িতে নেওয়ার পথে ক্ষুব্ধ স্বজন ও স্থানীয়রা জলঢাকা বাজারে লাশবাহী গাড়ি আটকে দেন। এ সময় প্রায় এক ঘণ্টা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন তারা।

বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। তারা অভিযোগ করেন, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থাতেই প্রতিপক্ষ মামলা করেছে এবং পুলিশি ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তারা। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।

জলঢাকা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল আলম জানান, এই সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষের পক্ষ থেকে থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে (একটি ১৭ সেপ্টেম্বর এবং অন্যটি ১৯ সেপ্টেম্বর)। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে এবং খুব দ্রুত তাদের আইনের আওতায় এনে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।




হবিগঞ্জে ফুটপাতের শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

হবিগঞ্জ শহরে প্রধান সড়কের পাশে অবৈধভাবে গড়ে উঠা স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান চালিয়েছে হবিগঞ্জ পৌরসভা ও জেলা প্রশাসন। আজ মঙ্গলবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় গুড়িয়ে দেয়া হয় শতাধিক অবৈধ স্থাপনা।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পৃথিন্দ্র চাকমা ও হবিগঞ্জ পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা জাবেদ ইকবাল চৌধুরী। ভ্রাম্যমান আদালতকে সহযোগিতা করেন সদর থানার একদল পুলিশ।

জানা যায়, হবিগঞ্জ শহরের প্রধান সড়কের ফুটপাত দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করে ব্যবসা চালিয়ে আসছিল একদল লোক। এরমধ্যে রয়েছে ফলের দোকান, টং দোকান, চায়ের দোকানসহ ভ্রাম্যমান ভ্যানের দোকান।

পৌর কর্তৃপক্ষ জানায়, জনগণের চলাচলের সুবিধার্থে এবং জনদুর্ভোগ লাগবে এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। শহরের শায়েস্তানগর থেকে শুরু করে থানার মোড় ও হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালের প্রধান গেট পর্যন্ত এই অভিযান চালানো হয়। এসময় অবৈধ স্থাপনাগুলো গুড়িয়ে দেয়ার পাশাপাশি পৌরসভার ট্রাকে করে তুলে নেওয়া হয় ভ্রাম্যমান দোকানগুলো।

হবিগঞ্জ পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা জাবেদ ইকবাল চৌধুরী বলেন, পৌরসভার পক্ষ থেকে জনস্বার্থে এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে। অভিযানের সময় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পাশাপাশি ৩ জন ব্যবসায়ীকে আড়াই হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।