আজ শ্রমিক নেতা দিদারুল হকের ১০ম মৃত্যুবার্ষিকী

এসএম বদরুল আলমঃ আজ (২৩শে নভেম্বর) শ্রমিক নেতা দিদারুল হকের দশম মৃত্যুবার্ষিকী। এ উপলক্ষ্যে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও তার কবরে পুষ্পর্পণ করেন, গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট,বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ, বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন, বাংলাদেশ কৃষক সংগ্রাম সমিতি যশোর জেলা ও অভয়নগর থানা কমিটির নেতৃবৃন্দ সহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ। পুষ্পর্পণ শেষে দাঁড়িয়ে ১ মিনিট শোক নীরবতা পালন ও শপথ পাঠ করা হয়।

এছাড়া আগামীকাল দশম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রতিবছরের ন্যায় এক বিশাল শোক সভা আগামীকাল বিকাল তিনটায় নোয়াপাড়া বাস স্ট্যান্ডে অনুষ্ঠিত হবে। সভাটি সভাপতিত্ব করবেন বাহারুল ইসলাম (বাহার), সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মোঃ শাহ আলম ভূঁইয়া, প্রধান বক্তা হিসেবে থাকবেন চৌধুরী আশিকুল আলম এবং বক্তা হিসেবে থাকবেন প্রকাশ দত্ত। আশা করি আপনারা সকলে দলে দলে যোগ দিয়ে শোক সভাকে সফল্যমুন্ডিত করে তুলবেন।

মরহুম দিদারুল হক ছিলেন বারবার নির্বাচিত কার্পেটিং জুট মিলের নেতা, গণতান্ত্রিক ফন্টের যশোর জেলা সাবেক সভাপতি, ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের কেন্দ্রীয় কমিটির কোষাধ্যক্ষ, নৌযান ফেডারেশনের অন্যতম নেতা। তিনি নোয়াপাড়া নৌ বন্দরের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি রাজনৈতিক সামাজিক বিভিন্ন কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এছাড়াও তিনি নোয়াপাড়া বাজার কমিটির ও একজন সদস্য ছিলেন। তিনি তার সকল দায়িত্ব সততা, নিষ্ঠা ও সুনামের সাথে পালন করে গিয়েছেন।

পরিবারের পক্ষ থেকে আজ কোরআন খতম ও মসজিদে-মাদ্রাসায় দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। পরিবার ও সংগঠনের নেতৃবৃন্দ দেশবাসীর কাছে দিদারুল হকের জন্য দোয়া চেয়েছেন ।

এছাড়া পরিবার ও সংগঠনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন জায়গায় দোয়া ও মিলাদ-মাহফিলের সাথে সাথে অসহায় দরিদ্রের মাঝে খাদ্য বিতরণ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

 




ঝালকাঠিতে সুগন্ধা নদী তীর রক্ষা প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম: নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারে ক্ষোভ

ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীর তীর রক্ষা প্রকল্পে নানান অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ৬৮০ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ব্যয়ের এই বড় প্রকল্পটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। অভিযোগ রয়েছে, ১৩ কিলোমিটারের বেশি এলাকায় চলমান কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে নিম্নমানের বালু, ব্লক তৈরিতে কম সিমেন্ট এবং কম ওজনের জিও ব্যাগ। মান নিয়ন্ত্রণে বড় ধরনের ত্রুটি পাওয়ায় ইতোমধ্যে প্রকল্প থেকে এসও তানভীর শাহরিয়ারকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

সুগন্ধা নদীর ভাঙন থেকে ঝালকাঠি সদর ও নলছিটি উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ এলাকা রক্ষায় নেওয়া এই প্রকল্পটি একনেকের সভায় অনুমোদন পায়। মোট ১৩.২১৫ কিলোমিটারের এই কাজ শুরু হয়েছে চলতি বছরের জানুয়ারিতে, আর শেষ হওয়ার কথা ২০২৭ সালের জুনে। পুরো প্রকল্পে ৩৪টি প্যাকেজ থাকলেও এখনো কাজ শুরু হয়নি অর্ধেকের বেশি—মাত্র ১৭টি প্যাকেজে কাজ চলছে।

ওয়ার্ক এসিস্ট্যান্ট পংকজ কুমার সরকার জানান, নিয়ম অনুযায়ী ১.৫০ এফএম মানের বালু ব্যবহারের কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমভিবি ও এমটিআই (জয়েন্ট ভেঞ্চার) মাত্র ১.৩৭ এওএম মানের বালু ব্যবহার করছিল। মান ঠিক না থাকায় টাস্কফোর্স সেই বালু বাতিল করে দেয়। এমনকি একমাস কাজ বন্ধ থাকায় প্রকল্পের অগ্রগতি আরও ধীর হয়ে গেছে।

ভাঙনপ্রবণ চর ভাটারাকান্দা এলাকার বাসিন্দা জামাল হোসেন বলেন, যেখানে নদীর পানি বেশি গভীর, সেখানে জিও ব্যাগ ফেলা হয়নি। আবার যেসব ব্যাগ ব্যবহার করা হয়েছে, সেগুলোর বালুর পরিমাণও কম। এর আগেও টাস্কফোর্স ৪০০টি জিও ব্যাগ বাতিল করেছে।

ঝালকাঠি পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নিলয় পাশা জানান, লোকবল সংকটের কারণে সব কাজ নিয়মিত মনিটর করা যাচ্ছে না। ফলে অনেক জায়গায় তদারকি দুর্বল থেকে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) পার্থ প্রতিম সাহা বলেন, এই অনিয়ম নিয়ে তিনি আগে জানতেন না। সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি জানার পর তিনি নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

৬৮০ কোটি টাকা ব্যয়ের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে একের পর এক অভিযোগ উঠতে থাকায় সাধারণ মানুষ মনে করছে, তদারকি ও মান নিয়ন্ত্রণ জোরদার না হলে প্রকল্পটির উদ্দেশ্য বিফল হতে পারে।




পিঠা-পুলিতে রাঙা শীত, বাঙালির ঐতিহ্যের উৎসব

জহুরুল হক জনি, লালমনিরহাটঃ শীতকাল মানেই বাঙালির ঘরে ঘরে পিঠার উৎসব। ঠান্ডা হাওয়ার পরশ লাগলেই যেন জিভে জল আনে নারিকেল, গুড়, চালের গুঁড়ার মিশ্রণে তৈরি বাহারি সব পিঠার গন্ধ।

বাংলার গ্রামীণ জীবনে শীত মানে শুধু ঠান্ডা নয়, বরং পিঠা-পুলি আর আত্মীয়স্বজনকে নিয়ে আনন্দ ভাগাভাগির এক মৌসুম। নতুন ধানের চাল থেকে তৈরি আতপ চালের গুঁড়ো, খেজুর গুড় আর নারিকেলের সংমিশ্রণে পিঠা বানানো যেন শীতের আগমনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

বাঙালির লোকজ ইতিহাস-ঐতিহ্যে পিঠাপুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে প্রাচীনকাল থেকেই। পিঠা-পায়েস সাধারণত শীতকালের রসনাজাতীয় খাবার হিসেবে অত্যন্ত পরিচিত এবং মুখরোচক খাদ্য হিসেবে বাঙালি সমাজে বেশ আদরণীয়। আত্মীয়স্বজন ও পারস্পরিক সম্পর্কের বন্ধন আরও দৃঢ় ও মজবুত করে তুলতে পিঠাপুলির উৎসব বিশেষ ভূূমিকা পালন করে। গ্রামবাংলার ঘরে ঘরে পিঠা-পায়েস তৈরির ধুম শীতকালেই বেশি পড়ে। কুয়াশাচ্ছন্ন ভোর বা সন্ধ্যায় গাঁয়ের বধূরা চুলার পাশে বসে ব্যস্ত সময় কাটান পিঠা তৈরিতে। বিশেষ করে জামাইদের এ সময় দাওয়াত করে পিঠা খাওয়ানো হয়। এ সময় খেজুরের রস থেকে গুড়, পায়েস এবং নানারকম মিষ্টান্ন তৈরি হয়। খেজুরের রসের মোহনীয় গন্ধে তৈরি পিঠা-পায়েস আরও বেশি মধুময় হয়ে ওঠে। শীতকালের সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় পিঠা হচ্ছে ভাপা পিঠা। এ ছাড়া আছে চিতই পিঠা, দুধচিতই, ছিট পিঠা, দুধকুলি, ক্ষীরকুলি, তিলকুলি, পাটিসাপটা, ফুলঝুরি, ধুপি পিঠা, নকশি পিঠা, মালাই পিঠা, মালপোয়া, পাকন পিঠা, ঝাল পিঠা ইত্যাদি। বাংলাদেশে শতাধিক ধরনের পিঠার প্রচলন রয়েছে। কালের গভীরে কিছু হারিয়ে গেলেও এখনও পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে যায়নি। শীতকালে শুধু গ্রামবাংলায়ই নয়, শহর এলাকায়ও শীতের পিঠা খাওয়ার রেওয়াজ রয়েছে। ইদানীং শহরেও পাওয়া যায় শীতের পিঠার সুবাস।

শীত এলে শহর এলাকার বিভিন্ন ফুটপাত, জনবহুল এলাকা, বিভিন্ন টার্মিনালে পিঠা বিক্রির ধুম পড়ে যায়। যদিও খোলামেলা স্থানে এসব পিঠা তৈরি ও বিক্রি সম্পূর্ণ অস্বাস্থ্যকর, এর পরও এ ব্যবসা বিশেষ করে ভাপা পিঠা বিক্রি শীতকালে বেশ জমজমাট হয়ে ওঠে।

এক সময় সোনার বাংলায় যেমন শত শত নামের ধান ছিল, তেমনি সেসব ধানের পিঠারও অন্ত ছিল না। কত কী বিচিত্র নামের পিঠা! পিঠা তৈরি ছিল আবহমান বাংলার মেয়েদের ঐতিহ্য। পিঠা-পায়েসকে নিয়ে গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে এখনও অসংখ্য গান-কবিতা ও ছড়া প্রচলিত। পিঠাকে কেন্দ্র করে বিখ্যাত কবি বেগম সুফিয়া কামাল লিখেছেন, ‘পৌষ পার্বণে পিঠা খেতে বসি খুশিতে বিষম খেয়ে/ আরও উল্লাস বাড়িয়াছে মনে মায়ের বকুনি পেয়ে।’ পিঠাপুলি আমাদের লোকজ ও নান্দনিক সংস্কৃতিরই বহিঃপ্রকাশ। আমাদের হাজারো সমস্যা সত্ত্বেও গ্রামবাংলায় এসব পিঠা-পার্বণের আনন্দ-উদ্দীপনা এখনও মুছে যায়নি।

আজকাল শহরের অভিজাত রেস্তোরাঁতেও গ্রামবাংলার পিঠাপুলি জায়গা করে নিয়েছে। তাছাড়া শহরের প্রতিটি গলিতে, রাস্তার মোড়ে মোড়ে এখন পিঠা বিক্রি হয়।

শহরের নাগরিক জীবনেও আজকাল পিঠা উৎসব হয়, কিন্তু গ্রামে এর আবেদন ভিন্নরকম। মাঠের ধান ঘরে ওঠার আনন্দ, নতুন চালের ঘ্রাণ আর পারিবারিক একতা মিলেই যেন পিঠাকে করে তোলে শীতের পরম আনন্দদায়ী রসনা বিলাস। শীত এলেই তাই আমাদের মনে পড়ে মায়ের হাতের ভাপা পিঠা, দাদীর তৈরি পাটিসাপটা।

এই ঐতিহ্য ধরে রাখাই এখন সময়ের দাবি। পিঠা-পার্বণের এ আনন্দ ও ঐতিহ্য যুগ যুগ ধরে টিকে থাকুক বাংলার ঘরে ঘরে।




লালমনিরহাটে কৃষকের পাকা ধান কেটে দিল কৃষক দল

মোঃ জহুরুল হক জনি, লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ লালমনিরহাট সদর উপজেলা কৃষকদলের উদ্যোগে গরিব অসহায় কৃষকদের পাকা ধান কেটে দিয়েছেন কৃষক দল।

শ্রমিক ও যন্ত্রের অভাবে গরিব কৃষকদের ধান সময় মত কাটতে না পারায় এ এটা কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল দুপুরে মহেন্দ্রনগর ইউনিয়নের কাজিরচওড়া গ্রামের কৃষক এন্তাজুল  হকের ২ একর ও সোলায়মান আলীর ৩০ শতক হারাটি  ইউনিয়ন ৪ নং ওয়ার্ডের আশরাফুল হকের ৪৫ শতক  সিরাজুল হকের ৪০ শতাংশ  জমির ধান  কেটে দেন কৃষক দলের নেতকর্মীরা।

জেলা কৃষক দলের সভাপতি নুরন্নবী মোস্তফা প্রধান অতিথি থেকে ধান কাটা কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী কৃষক দল লালমনিরহাট জেলা শাখার যুগ্নু  সাধারণ সম্পাদক  এ কে এম জাহেরুল হক( দুলু) সদর উপজেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক সারোয়ারুল হক লিংকন এর নেতৃত্বে জেলা ও সদর উপজেলার পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী কর্মী এ কর্মসূচিতে অংশ নেন।

এ সময় উপস্থিত  ছিলেন, জেলা কৃষক দলের  যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রাজ্জাক,  জাতীয়তাবাদী কৃষক দল  কুলাঘাট  ইউনিয়ন শাখার সংগ্রামী সভাপতি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। মোগলহাট  ইউনিয়ন শাখার সভাপতি এ এইচ এম রাশেদ। হারাটি ইউনিয়ন শাখার সংগ্রামী সভাপতি ফরহাদ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ মশিয়ার রহমান। গোকুন্ডা  ইউনিয়ন শাখার সভাপতি মোহাম্মদ আনিসুর রহমান। বড় বাড়ি ইউনিয়ন শাখার সভাপতি  মোহাম্মদ জাহিদুল হক।

বাংলাদেশ প্রেসক্লাব লালমনিরহাট  জেলা শাখার  সাধারন  সম্পাদক ও কৃয়ক দলের দপ্তর সম্পাদক সাদেকুল ইসলাম প্রমুখ।

ধান কাটা কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি জানান,

সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে গরিব অসহায় কৃষকদের পাশে আমরা দাঁড়াবো এবং যারা অর্থের অভাবে ধান কাটতে পারেন না তাদের খুঁজে বের করে আমরা তাদের ধান কেটে দিবো।

এ মৌসুমের ধান কাটা শেয না হওয়া পর্যন্ত এ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

এ সময় জেলা ও সদর উপজেলার কৃষক দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।




পদোন্নতি বঞ্চনায় ক্ষোভ, লালমনিরহাটে প্রভাষকদের ‘No Promotion, No Work’ কর্মসূচিতে উত্তাল শিক্ষা ক্যাডার

জহুরুল হক জনি, লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ বাংলাদেশের বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের দীর্ঘদিনের পদোন্নতি বৈষম্য ও প্রশাসনিক জটিলতা দূরীকরণের দাবিতে সারাদেশের মতো লালমনিরহাটেও কঠোর কর্মসূচি পালন করেছেন প্রভাষকরা।

“No Promotion, No Work” এই স্লোগানকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার লালমনিরহাট সরকারি কলেজ চত্বরে কয়েক ঘণ্টা অবস্থান কর্মসূচি পালন করে জেলা ইউনিটের সদস্যরা। কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন বিভিন্ন বিভাগের প্রভাষক, সহকারী অধ্যাপকসহ জেলার শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা।

প্রভাষক পরিষদের নেতৃবৃন্দের অভিযোগ ৩২তম থেকে ৩৭তম বিসিএস ব্যাচের ২,৩৯৯ জন কর্মকর্তা দীর্ঘ ১১ বছরেরও বেশি সময় ধরে পদোন্নতি বঞ্চিত। অন্য সকল ক্যাডার নিয়মিত পদোন্নতি পেলেও শিক্ষা ক্যাডারে এখনও স্থবিরতা, বৈষম্য ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা অব্যাহত রয়েছে।

“১১ বছরের বঞ্চনা, এটা আর মেনে নেওয়া যায় না”: জেলা ইউনিটের সভাপতির ক্ষোভ,

প্রভাষক পরিষদ লালমনিরহাট জেলা ইউনিটের সভাপতি ও ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক আবু সাদেক মো. জুন্নুন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন—

“অন্যান্য সকল ক্যাডার ৩৭তম বিসিএস পর্যন্ত পদোন্নতি পেলেও শিক্ষা ক্যাডারের ৩২ থেকে ৩৭ ব্যাচের ২,৩৯৯ জন কর্মকর্তা দীর্ঘ এক যুগ পদোন্নতি বঞ্চিত। এটি শুধু অন্যায় নয়—এটি রাষ্ট্রীয় বৈষম্য। দ্রুত সব জটিলতা সমাধান করে মন্ত্রণালয়কে প্রভাষকদের পদোন্নতির জিও জারি করতে হবে। একই সঙ্গে ২০০০ বিধি ভঙ্গ করে আত্মীকৃত শিক্ষকদের পক্ষে করা অবৈধ ৫৭টি আদেশ বাতিল করতে হবে। তিনি আরও বলেন, শিক্ষা ক্যাডার হলো জ্ঞানভিত্তিক সমাজের ভিত্তি; অথচ এখানেই সবচেয়ে বেশি অবহেলা দেখা যাচ্ছে।

ভূতাপেক্ষিক পদোন্নতির দাবি, “এটাই শিক্ষাঙ্গনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনবে” ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আরমান রহমান বলেন, পদোন্নতি বঞ্চনায় পিষ্ট বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের প্রভাষকদের ভূতাপেক্ষিক (time-scale based) পদোন্নতি বাস্তবায়ন ছাড়া সমাধান নেই। এতে শিক্ষাঙ্গনে যেমন শৃঙ্খলা ফিরবে, তেমনি শিক্ষকরা কাজে নতুন উদ্যম ফিরে পাবেন।”

তার মতে, প্রশাসনিক গতি স্থবির হয়ে পড়ায় শিক্ষকরা যেমন মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছেন, তেমনি শিক্ষার্থীরাও সরাসরি এর প্রভাব অনুভব করছেন।

“বারবার রাস্তায় দাঁড়ানো-এটাই রাষ্ট্রের ব্যর্থতার প্রমাণ” উম্মে তাজ এ জান্নাত,

১১ বছর ধরে পদোন্নতি বঞ্চিত রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক উম্মে তাজ এ জান্নাত বলেন, “গত পাঁচ বছর ধরে কয়েক দফা আন্দোলন করেছি। প্রতিবারই ব্যানার হাতে রাস্তায় দাঁড়াতে হয়েছে। যে অধিকার প্রাপ্য, সেটার জন্য যদি ঘন ঘন রাস্তায় নামতে হয়—তাহলে রাষ্ট্র তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হবে। শিক্ষককে বারবার আন্দোলনে যেতে হলে শিক্ষার মান কীভাবে রক্ষা পাবে?” তিনি বলেন, অবহেলার শিকার হওয়ার পরও শিক্ষকেরা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আপসহীন চেষ্টা চালাচ্ছেন।

কলেজ অধ্যক্ষের সরব সংহতি লালমনিরহাট সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আবু ইমাম মো. রাশেদুন্নবী এ আন্দোলনের প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করে বলেন, শিক্ষা দেশের মেরুদণ্ড। আর শিক্ষকরা সেই মেরুদণ্ডের কারিগর। তাদের ন্যায্য দাবি ও পদোন্নতির অধিকার উপেক্ষা করলে শিক্ষা ব্যবস্থায় অস্থিরতা তৈরি হবে—যার দায় রাষ্ট্রকেই নিতে হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় দ্রুত সমস্যার সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেবে।

পদোন্নতি স্থবিরতায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষা ব্যবস্থা প্রভাষকদের অভিযোগ দীর্ঘদিন পদোন্নতি না পাওয়ায় কর্মস্পৃহা কমে যাচ্ছে সু প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে ওঠছে না শিক্ষকরা আর্থিক ও পেশাগতভাবে পিছিয়ে পড়ছেন মেধাবীদের শিক্ষা ক্যাডারে আসার আগ্রহ কমে যাচ্ছে। এ কারণে পুরো উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাই ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রভাষক পরিষদের দাবি ১. ৩২তম–৩৭তম বিসিএস ব্যাচের ২,৩৯৯ জন কর্মকর্তার দ্রুত পদোন্নতি ২. ২০০০ বিধি লঙ্ঘন করে দেওয়া অবৈধ ৫৭টি আত্মীকরণ আদেশ বাতিল ৩. সকল ব্যাচে সমানুপাতে নিয়মিত পদোন্নতি কাঠামো বাস্তবায়ন ৪. ভূতাপেক্ষিক (time-scale) পদোন্নতি পুনর্বহাল

শেষ কথা শিক্ষা ক্যাডারের প্রভাষকদের অভিযোগ এবং দীর্ঘদিনের বৈষম্য এখন জাতীয় সমস্যার রূপ নিয়েছে। লালমনিরহাটের আন্দোলন শুধু জেলা নয় সারাদেশে শিক্ষক সমাজের ক্ষোভ, হতাশা ও বঞ্চনার প্রতিচ্ছবি। সমাধান এখন সময়ের দাবি।




শীতের আগমনে লালমনিরহাটে লেপ-তোশক তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা

জহুরুল হক জনি, লালমনিরহাটঃ উত্তরবঙ্গের সীমান্তবর্তী জেলা লালমনিরহাটে শীতের আগমন বেশ জোরালোভাবে জানান দিচ্ছে নিজের উপস্থিতি। ভোরে কুয়াশার চাদর, রাতভর শিশির আর ঠান্ডা বাতাসে দিন দিন জমাট বাঁধছে শীতের প্রকোপ।

মঙ্গলবার সরেজমিনে জেলা শহরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ক্রেতারা বিভিন্ন ধরনের তুলা ও কাপড় বেছে নিচ্ছেন, আর দোকানিরা অর্ডার নিচ্ছেন। শহরের ১৪ থেকে ১৫টি লেপ-তোশক কারখানায় সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ চলছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, সব ধরনের পণ্যের দাম বাড়ায় লেপ-তোশক তৈরির উপকরণের খরচও বৃদ্ধি পেয়েছে। এ মৌসুমে লেপ তৈরির প্রতি গজ কাপড়ের দাম ৫০ থেকে ৬০ টাকা, তোশকের কাপড় ৪৫ থেকে ৫০ টাকা এবং জাজিম ১২০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রকারভেদে গার্মেন্টস তুলা কেজিপ্রতি ৫০ থেকে ১০০ টাকা, ফোম তুলা ২০০ টাকা এবং শিমুল তুলা ৩০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। জুটের দাম কেজিপ্রতি ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। তুলার দাম এবার প্রায় সব প্রকারে ২০ থেকে ১০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।

তারা জানান, বর্তমানে রেডিমেড লেপ বিক্রি হচ্ছে ৯০০ থেকে ২ হাজার টাকায়, তোশক ৮০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা, জাজিম ২ হাজার ৫০০ থেকে ৪ চার হাজার টাকা এবং বালিশ ১০০ থেকে ২০০ টাকায়।

জেলা শহরের মোগলহাট রেলগেট এলাকার মেসার্স জামাল ক্লাথ স্টলের প্রবীণ কারিগর মো. আমিন (৬৫) ও সাত্তার আলি (৬৮) জানান, শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কাজের চাপও বেড়ে গেছে।

এই শীত মোকাবিলায় প্রস্তুত হচ্ছে লালমনিরহাটের মানুষ। শহর থেকে গ্রাম, সর্বত্রই লেপ-তোশক তৈরির কাজ এখন পুরোদমে চলছে। ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা—তারা কেউ পুরোনো তুলা খুলছেন, কেউ বা নতুন তুলা ভর্তি করছেন লেপে।

আরেক দল কাজ করছেন সেলাই ও বাহারি রঙের কাপড়ে আকর্ষণীয় নকশা তৈরিতে।

লেপ-তোশক কারিগরদের মতে, শীতের সময়টাই তাদের মূল কর্মমৌসুম। এ সময়ের আয় দিয়েই বছরের অনেকটা সময় টিকে থাকতে হয় তাদের। তাই এখন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজের ভিড়ে সময় কাটে তাদের।

শীত যত বাড়বে, চাহিদাও ততই বাড়বে বলে মনে করছেন বিক্রেতা ও ক্রেতারা। অনেকে আবার পুরোনো লেপ-তোশক নতুন করে তৈরি বা মেরামত করিয়ে নিচ্ছেন।

সব মিলিয়ে শীত আসার আগেই প্রস্তুত লালমনিরহাটবাসী, আর প্রস্তুতির এক বড় অংশজুড়েই রয়েছে এই লেপ-তোশক তৈরির কর্মব্যস্ততা।




আত্মকর্মী থেকে উদ্যোক্তা যুব উন্নয়ন দিনের প্রশিক্ষণের উদ্বোধন।

পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধিঃ প্রযুক্তি নির্ভর যুব শক্তি গড়ে তোলা ও বহুপাক্ষিক অংশীদারিত্বের  মাধ্যমে অগ্রগতির লক্ষ্য সামনে রেখে পটুয়াখালীতে শুরু হয়েছে “আত্মকর্মী থেকে উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ।
জেলার বিভিন্ন উপজেলা স্ব স্ব উদ্যোগে নিয়োজিত ৩২জন তরুণদের নিয়ে পাঁচ দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণ ১৬ নভেম্বর থেকে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে, যার মূল উদ্দেশ্য তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন, সুযোগ সৃষ্টি এবং নিজস্ব কর্মসংস্থানের পথ তৈরি করা। “কর্মই জীবন” এই মূলনীতিকে ধারণ করে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করেছে।
রোববার (১৬ নভেম্বর) সকালে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের হলরুমে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরে সীড ফাইন্যান্সিং শাখার উপপরিচালক ইকবাল বিন মতিন।
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, পটুয়াখালীর উপপরিচালক (অঃদাঃ) আব্দুর রশীদ খানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক (পি.আর.এল) ওবায়েদুল ইসলাম।
এসময় পটুয়াখালী ইয়ুথ ফোরামের নির্বাহী পরিচালক জহিরুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্টরা বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা বলেন, প্রযুক্তি-নির্ভর বর্তমান যুগে তরুণদের দক্ষতা বিকাশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আত্মকর্মী থেকে সফল উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার জন্য প্রয়োজন বাস্তবভিত্তিক প্রশিক্ষণ, হাতে-কলমে দক্ষতা অর্জন এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের সক্ষমতা। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যুবরা শুধু আত্মনির্ভরশীলই হবে না, বরং সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলেও তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পটুয়াখালী জেলার আগ্রহী তরুণ-তরুণীদের অংশগ্রহণে শুরু হওয়া এ আয়োজনে বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক সেশন, ব্যবসায় পরিকল্পনা, তথ্যপ্রযুক্তি, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে উদ্যোক্তা তৈরি এবং সীড ফান্ডিং–সংক্রান্ত দিকনির্দেশনা প্রদান করা হবে। প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের দক্ষতা অনুযায়ী উদ্যোগ গ্রহণে সক্ষম হবে বলে আয়োজকরা জানান।
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, পটুয়াখালীর উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।



বাংলাদেশ স্পেশালাইজড টেক্সেটাইল মিলস্ এন্ড পাওয়ার লুম ইন্ডাস্ট্রিজ এসোসিয়েশনের ২০২৫ -২০২৬ নির্বাচনে

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
আলহামদুলিল্লাহ
সকল প্রশংসা মহান আল্লাহর,
বাংলাদেশ স্পেশালাইজড টেক্সেটাইল মিলস্ এন্ড পাওয়ার লুম ইন্ডাস্ট্রিজ এসোসিয়েশনের ২০২৫ -২০২৬ নির্বাচনে গোলাম মোহাম্মদ ফারুক প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। মাহবুবুর রহমান মনির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট পরিচালকসহ ২৫ জন নির্বাচিত হন। সাবেক প্রেসিডেন্ট মানবিক মানুষ মোহাম্মদ হামিদুল হক খোকন নতুন কমিটিকে বরণ করে নেন। সুন্দর সুষ্ঠুভাবে দু মাস যাবত নির্বাচন কমিশনারের কাজ করেছি… নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ মাহতাব উদ্দিন এর পক্ষ থেকে সবাইকে জানাই অভিনন্দন শুভেচ্ছা।



পল্লবী–রূপনগরে আমিনুল হকের উদ্যোগে স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যতিক্রমী কুইজ আয়োজন

এসএম বদরুল আলমঃ পল্লবী ও রূপনগর এলাকায় স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য এক ভিন্নধর্মী কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে আবারও আলোচনায় আসলেন জনপ্রিয় জননেতা আমিনুল হক। এলাকার ২২টি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেয়, আর অনুষ্ঠান ঘিরে পুরো এলাকা যেন উৎসবের রঙে রঙিন হয়ে ওঠে। স্থানীয়দের মতে, এভাবে বড় পরিসরে শিক্ষামূলক কুইজ আগে কেউ আয়োজন করেছে বলে তাদের জানা নেই। এজন্যই আমিনুল হকের উদ্যোগটিকে তারা দেখছেন তরুণ প্রজন্মকে উৎসাহিত করার এক অনন্য ও প্রশংসনীয় প্রচেষ্টা হিসেবে।

এলাকাবাসীর ভাষায়— আমিনুল হক যখন কোনো কাজ হাতে নেন, তাতে থাকে নতুনত্ব আর পরিকল্পনার ছাপ। এই কুইজ প্রতিযোগিতাও শিক্ষার্থীদের জ্ঞান বাড়ানোর পাশাপাশি এলাকায় একটি ইতিবাচক, শিক্ষামুখী পরিবেশ তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সবাই। প্রায় প্রতিদিনই পল্লবী ও রূপনগরের মানুষের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে তিনি যে মানবিক নেতৃত্বের উদাহরণ তৈরি করছেন, এটিও তারই ধারাবাহিকতা।

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “আমিনুল হক ভাই থাকলে এলাকায় সবসময়ই উন্নয়ন আর ভালো উদ্যোগের ছোঁয়া পাওয়া যায়। নতুন চিন্তা আর নতুন কাজ— এটাই তাঁর আলাদা পরিচয়।”




প্রধান উপদেষ্টাকে প্রাণনাশের হুমকি, ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ নিজ ফেসবুক লাইভে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে বাঁশখালীর ছাত্রলীগ নেতা শেফায়েতুল ইসলাম ইমরানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার (১২ নভেম্বর) ভোরে কক্সবাজার সদর থানা পুলিশের একটি টিম অভিযান চালিয়ে শহরের একটি এলাকা থেকে তাকে আটক করে। পুলিশ জানায়, হুমকিমূলক ভিডিও প্রকাশের পর থেকে ইমরান পলাতক ছিলেন এবং তাকে ধরতে চট্টগ্রাম, গোপালগঞ্জ, ঢাকা ও কক্সবাজারে অভিযান চালানো হয়।

ইমরান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরকারের বিরোধী প্রচারণা ও উস্কানিমূলক বক্তব্য ছড়াতেন। সর্বশেষ ৯ নভেম্বর বাঁশখালীর প্রধান সড়কে একটি নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের নেতৃত্ব দেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইমরান বাঁশখালী উপজেলার ছনুয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের মধুখালী এলাকার রেজাউল করিমের ছেলে। সম্প্রতি তিনি বিএম কনটেইনার ডিপোতে নিরাপত্তা প্রহরী হিসেবে কর্মরত ছিলেন, কিন্তু ফেসবুক লাইভের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়।

বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, ইমরানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।