রাঙ্গুনিয়ায় সাহিত্য পরিষদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় হেমন্তকাল কবিতা উৎসব ও পিঠা উৎসব-২০২৫

রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধিঃ হেমন্তের কোমল রোদ, শীতের আগমনী বার্তা আর সাহিত্যপ্রেমীদের উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে উঠেছিল চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা। শনিবার (৮ নভেম্বর) বিকেলে উপজেলার ঐতিহ্যবাহী গুমাইবিলে রাঙ্গুনিয়া সাহিত্য পরিষদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় হেমন্তকাল কবিতা উৎসব ও পিঠা উৎসব-২০২৫।
উৎসবে অংশ নেন উপজেলার বিভিন্ন প্রজন্মের কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও সংস্কৃতিপ্রেমীরা। কবিতা পাঠ, সংগীত, পিঠা উৎসব ও কবিতা প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী এ আয়োজন পরিণত হয় মিলনমেলায়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাঙ্গুনিয়া সাহিত্য পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি কবি পারভীন আক্তার এবং সঞ্চালনা করেন প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক শাহী মুহাম্মদ ইলিয়াছ।
আলোচনা পর্বে বক্তব্য দেন পরিষদের উপদেষ্টা মাস্টার মুহাম্মদ সেলিম, রহিম উদ্দিন সিকদার, সমিরণ বড়ুয়া, পুষ্প বড়ুয়া,পরিষদের পক্ষে  আব্দুল কাইয়ুম, মোরশেদ আলম, সাংবাদিক মুহাম্মদ তৈয়্যবুল ইসলাম, শান্ত বড়ুয়া আপন, নাছিমা আক্তার শিল্পী, সাদিয়া সেলিম, সানজিদা আক্তার লিজা, রুমি আক্তার, শেখ রায়হান আকাশ, সুজয় বড়ুয়া, ও জাহেদুর রহমান প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, সাহিত্য চর্চা একটি সমাজের সাংস্কৃতিক চেতনার প্রতিফলন। কবিতা, গান ও গল্পের মাধ্যমে মানুষ নিজেকে ও সমাজকে নতুনভাবে চিনে। রাঙ্গুনিয়ার তরুণ কবি ও লেখকদের মধ্যে এই আয়োজন নব উদ্দীপনা যোগাবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠান শেষে স্থানীয় কবিদের পরিবেশনায় কবিতা আবৃত্তি ও সংগীত পরিবেশন করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন গ্রামীণ স্বাদের পিঠা প্রদর্শনী দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল।
হেমন্তকাল কবিতা প্রতিযোগিতায় প্রথম কবি ও শিক্ষক নোমান জাভিদ তালুকদার, দ্বিতীয় কবি নাছিমা আকতার শিল্পী, তৃতীয় কবি সুজয় বড়ুয়া এবং শিশুদের মধ্যে কবিতা পাঠ করে পুরষ্কার পান আয়শা সিদ্দিকা জান্নাত। অতিথিরা বিজয়ীদের পুরস্কার তুলে দেন।
স্থানীয় সাহিত্যপ্রেমীদের মতে, এই আয়োজন রাঙ্গুনিয়ার সংস্কৃতি ও সাহিত্যচর্চাকে আরও সমৃদ্ধ করবে এবং নতুন প্রজন্মকে সাহিত্য অনুরাগে উদ্বুদ্ধ করবে।



ধামরাইয়ে সাহসী পুলিশ অফিসার জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে ২৫ পিস ইয়াবাসহ কুখ্যাত রিপন গ্রেপ্তার

সুমন খানঃ সাহসী অফিসার এস.আই মোঃ জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে, ধামরাইয়ে আবারও প্রমাণ হলো, আইনের চোখ ফাঁকি দিয়ে কেউ রেহাই পায় না।

গতকাল বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে ধামরাই থানার পুলিশের বিশেষ অভিযানে ২৫ পিস ইয়াবাসহ কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী মোঃ রিপন হোসেন (৩৫) গ্রেপ্তার হয়েছেন। অভিযানটি পরিচালনা করেন ধামরাই থানার সাহসী ও সৎ পুলিশ কর্মকর্তা এস.আই (নিঃ) মোঃ জিয়াউর রহমান, বিপি-৮৪০৩০৪৮২৩৪। তাকে সহায়তা করেন কং/৭৬৩ আলিমুল হক ও কং/২০১৬ আবু আনছারসহ থানার একটি চৌকস টিম।গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ সুতিপাড়া ইউনিয়নের শ্রীরামপুর লোকাল বাস স্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালায়।

পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে রিপন পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ সদস্যরা দক্ষতার সঙ্গে তাকে আটক করে। পরে তার দেহ তল্লাশি করে একটি সাদা পলিথিনে মোড়ানো ২৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট (ওজন ২.৫ গ্রাম) উদ্ধার করা হয়, যার বাজারমূল্য আনুমানিক ৭,৫০০ টাকা।জিজ্ঞাসাবাদে রিপন স্বীকার করে যে, সে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ইয়াবা বিক্রি করে আসছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রিপনের বিরুদ্ধে পূর্বেও পাঁচটি মাদক মামলা রয়েছে। এবারে তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ এর ৩৬(১) সারণির ১০(ক) ধারায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে।

এস.আই মোঃ জিয়াউর রহমানের দৃঢ় অবস্থান

মাদকবিরোধী এই অভিযানে নেতৃত্বদানকারী অফিসার এস.আই (নিঃ) মোঃ জিয়াউর রহমান বলেন, ধৃত রিপন একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। সমাজ থেকে মাদক নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। ধামরাইকে মাদকমুক্ত করার জন্য আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

জনগণের আস্থা ফিরে আসছে পুলিশের প্রতি,ধামরাইয়ে একের পর এক সফল অভিযানে পুলিশের প্রতি জনসাধারণের আস্থা ও সমর্থন বাড়ছে। স্থানীয়রা বলেন, এস.আই জিয়াউর রহমানের মতো সাহসী ও নির্ভীক কর্মকর্তার কারণে ধামরাইয়ে অপরাধীরা আর নিরাপদ নয়।

মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি নির্মূলে ধামরাই থানা পুলিশের এই ধারাবাহিক অভিযান এলাকায় প্রশংসিত হচ্ছে।

মাদক সমাজের শত্রু—এর শিকড় উপড়ে ফেলতে হলে এমন সাহসী উদ্যোগ ও পুলিশের সততা আরও বিস্তৃত হোক,এটাই এখন এলাকার মানুষের প্রত্যাশা।




খাজনা দিতে গিয়ে প্রতারণা, রসিদে কম টাকা দেখালেন ভূমি কর্মকর্তা আল-আমিন

মিঠাপুকুর প্রতিনিধিঃ রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার জায়গীরহাট ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দুর্নীতির অভিযোগে তোলপাড় চলছে। অভিযোগ উঠেছে—অফিসের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আল-আমিন মিয়া সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে বেশি টাকা নিয়ে রসিদে কম পরিমাণ দেখাচ্ছেন। বিষয়টি জানাজানি হলে দুই ভুক্তভোগী রংপুর জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ করেছেন।

ভুক্তভোগীদের মধ্যে লতিবপুর এলাকার কামরুজ্জামান অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, জমির খাজনা দিতে গেলে আল-আমিন মিয়া তার কাছে মোট ৩৩ হাজার ৭৫৯ টাকা দাবি করেন। পরে তিনি ২৬ হাজার ৫০০ টাকা পরিশোধ করলেও রসিদে দেখানো হয় মাত্র দুইটি পরিমাণ—একটি ১ হাজার ৫৬২ টাকা এবং আরেকটি ১ হাজার ৮৭৯ টাকা। বাকি টাকার হিসাব জানতে চাইলে কর্মকর্তা কোনো উত্তর না দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান বলে অভিযোগ তার।

একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন তাহিয়ারপুর উত্তরপাড়া গ্রামের মোকলেছুর রহমানও। তিনি জানান, খাজনা বাবদ ৬ হাজার ৮৩ টাকা পরিশোধ করলেও রসিদে লেখা হয় মাত্র ১ হাজার ৮৩ টাকা। তার অভিযোগ, “ভূমি কর্মকর্তা আল-আমিন নানা কৌশলে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করছেন, কিন্তু রসিদে খুব অল্প দেখান।”

স্থানীয়রা জানান, জায়গীরহাট ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দুর্নীতি এখন নিত্যদিনের ব্যাপার। কোনো কাজ—খারিজ, নামজারি, রেকর্ড সংশোধন বা খাজনা প্রদান—টাকা ছাড়া হয় না। অফিসে একটি দালাল চক্রও কাজ করছে বলে অভিযোগ তাদের। এই চক্র সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে ঘুষ দিতে বাধ্য করে।

স্থানীয় বাসিন্দা হাফিজুর রহমান বলেন, “এই অফিস এখন ঘুষের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। ভূমি কর্মকর্তা আল-আমিনের অনুমতি ছাড়া কোনো ফাইল সামনে এগোয় না।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আল-আমিন মিয়া নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন, “আমরা এখন হাতে হাতে টাকা নেই না। সব কিছু অনলাইনে হয়। আমার বিরুদ্ধে করা অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা।”

তবে মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল আলম বলেন, “ঘটনাটি আগে জানা ছিল না, এখন বিষয়টি অবগত হয়েছি। জেলা প্রশাসকের কাছে যেহেতু লিখিত অভিযোগ গেছে, নির্দেশ পেলেই তদন্ত শুরু হবে।”

রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রবিউল ফয়সাল নিশ্চিত করেছেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, “তদন্তে অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”




চট্টগ্রাম-১০ আসনে ধানের শীষে লড়বেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৩৭ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিএনপি। এতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী চট্টগ্রাম-১০ আসন থেকে নির্বাচন করবেন।

সোমবার বিকালে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

প্রার্থী ঘোষণার আগে দুপুর সাড়ে ১২টায় জরুরি বৈঠকে বসেন বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। প্রায় পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী চলা এই বৈঠকে লন্ডন থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত ও চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে করণীয় ঠিক করতে এই বৈঠক হয়।

আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির শুরুতে অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ভোট। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে জানায় নির্বাচন কমিশন।




যশোর-৬: ধানের শীষে লড়বেন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ

জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ২৩৭টি সংসদীয় আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এ তালিকায় এবার এসেছে ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণের নাম। যশোর-৬ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে লড়বেন তিনি।

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ বর্তমানে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য।

সোমবার সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ তালিকা প্রকাশ করেন।

প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করতে এদিন দুপুর সাড়ে ১২টায় গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে লন্ডন থেকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে সভায় সভাপতিত্ব করেন। টানা সাড়ে তিন ঘণ্টা বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে আসেন বিএনপি মহাসচিব।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান, হাফিজ উদ্দিন আহমদ, এজেডএম জাহিদ হোসেনসহ সাংগঠনিক সম্পাদক ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকরা উপস্থিত ছিলেন।

 




যশোর-৬: ধানের শীষে লড়বেন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ২৩৭টি সংসদীয় আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এ তালিকায় এবার এসেছে ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণের নাম। যশোর-৬ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে লড়বেন তিনি।

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ বর্তমানে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য।

সোমবার সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ তালিকা প্রকাশ করেন।

প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করতে এদিন দুপুর সাড়ে ১২টায় গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে লন্ডন থেকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে সভায় সভাপতিত্ব করেন। টানা সাড়ে তিন ঘণ্টা বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে আসেন বিএনপি মহাসচিব।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান, হাফিজ উদ্দিন আহমদ, এজেডএম জাহিদ হোসেনসহ সাংগঠনিক সম্পাদক ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকরা উপস্থিত ছিলেন।

(/৩নভেম্বর/এলএম)




মায়ের পুরনো আসনে তারেকের প্রথম নির্বাচন

১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে এ আসন থেকে ভোট করে জয়ী হন তারেকের মা খালেদা জিয়া।h

প্রায় দুই দশক ধরে দল ও নির্বাচন পরিচালনায় ওতপ্রোতভাবে জড়িত থাকলেও তিনি কখনো সরাসরি ভোটের মাঠে প্রার্থী হননি; তবে এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

২০২৬ সালের অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে তিনি যে প্রার্থী হচ্ছেন, তার ইঙ্গিত আগেই দিয়েছিলেন। অক্টোবরের শুরুতে বিবিসি বাংলার এক সাক্ষাৎকারে যখন তারেক রহমানকে প্রশ্ন করা হল, তিনি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন কি না, তিনি বলেছিলেন, “জি, ইনশাআল্লাহ।”

সোমবার বিকালে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে ২৩৭ আসনের প্রার্থীদের নাম পড়ে শোনান দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সেখানে তারেক রহমান বগুড়া-৬ (সদর) আসন থেকে প্রার্থী হবেন বলে ঘোষণা করা হয়।

প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মস্থান বগুড়া ‘বিএনপির ঘাঁটি’ হিসেবে পরিচিত দলের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সেই ১৯৯১ সাল থেকে বগুড়া-৭ (গাবতলী ও শাহজাহানপুর) এবং ১৯৯৬ (জুন) সাল থেকে বগুড়া-৬ (সদর) আসনে নির্বাচন করছেন। এ দুটি আসনে তিনি কখনো পরাজয়ের মুখ দেখেননি।

এর আগে ১৯৭৯ সালে এই আসন থেকে বিএনপির ওয়াজেদ হোসেন তরফদার, ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালের নির্বাচন বিএনপি বয়কট করে। ১৯৯১ ও ১৯৯৬ (ফেব্রুয়ারি) সালে মজিবর রহমান ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে জয়লাভ করেন।

১৯৯৬ সালে (জুন) সপ্তম সংসদ নির্বাচনে খালেদা জিয়া এই আসন থেকে নির্বাচিত হলেও পরে তিনি আসনটি ছেড়ে দেন। তখন উপ-নির্বাচনে জয়লাভ করেন বিএনপির জহুরুল ইসলাম।

২০০১ ও ২০০৮ সালেও খালেদা জিয়া এই আসনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন। ২০০৮ সালের উপ-নির্বাচনে এই আসন থেকে জয় পান ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার।

২০১৪ সালের নির্বাচন বয়কট করে বিএনপি। ২০১৮ সালের নির্বাচনে খালেদা জিয়া দণ্ডিত হওয়ায় প্রার্থী হতে পারেননি। তখন এই আসনে বিএনপির হয়ে লড়াই করেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বিজয়ী হলেও সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। পরে উপ-নির্বাচনে বিএনপি নেতা গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ ধানের শীষে ভোট করে বিজয়ী হন।

২০২৪ সালের নির্বাচনে অংশ নেয়নি বিএনপি।

১১ অক্টোবর ঢাকার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বগুড়ার সাতটি আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সভা ছিল। সেই সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন তারেক রহমান। সভায় মোট ২২ জন নেতা উপস্থিত ছিলেন।

সেই সভার তিন দিন পর পাঁচজনকে ফোন করে নির্বাচনি প্রচার জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে বগুড়া-৬ এবং বগুড়া-৭ নিয়ে কাউকে ফোন দেওয়া হয়নি। তখন থেকেই স্থানীয় নেতাকর্মীদের ধারণা ছিল, হয়ত এ দুটি আসনে ‘জিয়া পরিবারের’ কেউ প্রার্থী হবেন।

তাই হয়েছে; বগুড়া-৭ আসনের বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং বগুড়া-৬ আসনে তারেক রহমান নির্বাচন করবেন বলে দলের পক্ষ থেকে ঘোষণা এসেছে।

খালেদা জিয়া তিনটি আসনে (বগুড়া-৭, ফেনী-১ এবং দিনাজপুর-৩) প্রার্থী হলেও তারেক রহমান একটি আসন থেকেই নির্বাচন করবেন।

যদিও অনেকের ধারণা ছিল, হয়ত তারেক রহমান বগুড়া-৭ আসন থেকে নির্বাচন করবেন।