মিড ডে মিলের খাবার খেয়ে ৩৫ শিক্ষার্থী অসুস্থ

ডেস্ক নিউজ : ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে মিড ডে মিলের দুধ ও পাউরুটি খেয়ে ৩৫ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। সোমবার দুপুরে উপজেলার চাড়োল ইউনিয়নের তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। পরে অসুস্থ শিক্ষার্থীদের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

অসুস্থ শিক্ষার্থীদের মধ্যে মধুপুর-১ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩১ জন, তুলসীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন এবং মধ্য গোয়ালকারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তিনজন রয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল কর্মকর্তা তুষার চন্দ্র সিংহ।

বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুরে মধুপুর-১, তুলসীপাড়া ও মধ্য গোয়ালকারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মিড ডে মিলের খাবার হিসেবে দুধ ও পাউরুটি দেওয়া হয়। খাবার খাওয়ার কিছুক্ষণ পর একে একে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদের পেটে ব্যথাসহ বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দেয়।

মধুপুর-১ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী সুমি বলে, ‘মিড ডে মিলের দুধ ও পাউরুটি খাওয়ার পরপরই অসুস্থ হয়ে পড়ি। খাবার ভালো ছিল না।’

মধ্য গোয়ালকারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মনিকা দেবনাথের বাবা মানিক দেবনাথ বলেন, দুধ ও পাউরুটি খাওয়ার পর তার মেয়ে পেটে ব্যথায় ছটফট করতে থাকে। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার অভিযোগ, মিড ডে মিলে নিম্নমানের দুধ ও পাউরুটি দেওয়া হয়েছিল।

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অতুল চন্দ্র রায় বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের সাতটি উপজেলার মধ্যে বালিয়াডাঙ্গীতে গত জানুয়ারি থেকে পাইলট প্রকল্প হিসেবে মিড ডে মিল চালু হয়েছে। উপজেলার ১৩৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। রোববার ডিম ও পাউরুটি, সোমবার দুধ ও পাউরুটি, মঙ্গলবার কলা ও বিস্কুট এবং বুধবার ও বৃহস্পতিবার ডিম ও পাউরুটি দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, কেন মিড ডে মিলের খাবার খেয়ে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়েছে, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অঞ্জন কুমার দাস বলেন, খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে অসুস্থ শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




আশুলিয়ায় অগ্নিকাণ্ডে আহত ও দগ্ধ অন্তত ৭, দুজন আশঙ্কাজনক

ডেস্ক নিউজ : সাভারের আশুলিয়ার জামগড়া চৌরাস্তা এলাকায় প্রীতি গ্রুপের একটি পোশাক কারখানায় বিস্ফোরণের পর ভয়াবহ আগুনের ঘটনায় অন্তত সাতজন আহতের খবর পাওয়া গেছে। অগ্নিদগ্ধ হয়ে এবং বিস্ফোরণের চাপে বিভিন্ন কিছু (লোহার/পাইপের টুকরো) পড়ে তাদের কেউ আহত ও কেউ দগ্ধ হয়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে দগ্ধ ‍দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে প্রীতি গ্রুপের এফ অ্যান্ড এফ কারখানার সীমানা ঘেরা প্রাচীরের কোণায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের পর আগুন ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় আতঙ্ক তৈরি হয়।

সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। তবে আগুনের তীব্রতার কারণে ঘটনাস্থলের ভেতরে পুরোপুরি প্রবেশ করে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করতে বেগ পেতে হচ্ছে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের।

বিশেষভাবে তৈরি একটি লরিতে থাকা গ্যাস সিলিন্ডার থেকে বিস্ফোরণ এবং সেখান থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেলেও বিস্ফোরণের প্রকৃত উৎস এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। এটি বয়লার নাকি গ্যাস সিলিন্ডার থেকে বিস্ফোরণ হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

প্রীতি গ্রুপের এফ অ্যান্ড এফ কারখানার অ্যাডমিন ম্যানেজার হেমায়েত জানান, কারখানার ভেতরে কোনো শ্রমিক আটকে নেই। কারখানার সীমানা ঘেরা প্রাচীরের কোণায় আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের পর আগুনের সূত্রপাত হলেও কারখানার ভেতরে শ্রমিক আটকে থাকার কোনো তথ্য তারা পাননি।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী রনি জানান, বিস্ফোরণের প্রচণ্ড শব্দের পর আগুন ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণের আঘাত ও আগুনে বেশ কয়েকজন আহত হন। তিনি নিজে ঘটনাস্থল থেকে দুইজন দগ্ধ ও গুরুতর আহত শ্রমিককে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছেন। এছাড়া বিস্ফোরণের ধাক্কায় এবং বয়লার বা পাইপের লোহার বিভিন্ন অংশ ছিটকে পড়ে পাশের রাস্তা ও বাড়িঘরে আঘাত করলে রিকশাচালকসহ অন্তত আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

অগ্নিকাণ্ডের পর আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়।

নারী ও শিশু হাসপাতালের ব্যবস্থাপক হারুন অর রশীদ জানান, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এ পর্যন্ত চার থেকে পাঁচজন দগ্ধ বা আহত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চিকিৎসাধীন রোগীদের মধ্যে দুইজনের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। তাদের শরীরের বিভিন্ন অংশ মারাত্মকভাবে দগ্ধ হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের জন্য রেফার করা হচ্ছে।

এদিকে খবর পেয়ে জিরাবো ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।

জিরাবো ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার শাহাবুদ্দিন অগ্নিকাণ্ডের তথ্য নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। আগুনের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে এই মুহূর্তে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না বলেও জানান তিনি।

শিল্প পুলিশ-১ এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ঘটনাস্থলে উদ্ধার ও আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ চলছে। বিস্ফোরণটি বয়লার নাকি গ্যাস সিলিন্ডার থেকে হয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ভেতরে প্রচণ্ড আগুন থাকায় উদ্ধারকর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে পুরোপুরি ভেতরে প্রবেশ করতে পারছেন না।

তিনি আরও বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষণ করে বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ এবং হতাহতের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে। বর্তমানে উদ্ধার ও আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ চলছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ শেষে হতাহতের সঠিক সংখ্যা জানানো হবে।




তুহিনের বিরুদ্ধে আগে থেকেই ছিল বাইক চুরির অভিযোগ

ডেস্ক নিউজঃ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষকের ছেলে অপ্রতিম (১৩) হত্যাকাণ্ডে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক তুহিনের (১৯) বিরুদ্ধে এবার মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগ তুলেছেন এক ভুক্তভোগী। একইসঙ্গে অতীতে তুহিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে গেলে সদর দক্ষিণ থানা পুলিশ ব্যবস্থা না নিয়ে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেয় বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) তুহিন আটকের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি বিস্তারিত পোস্ট দেন আসাদুল্লাহ সোহাগ নামের ওই তরুণ।

ফেসবুক পোস্টে সোহাগ দাবি করেন, তুহিন তাকেও একইভাবে কৌশলে ডেকে নিয়ে তার মোটরসাইকেলটি আত্মসাৎ করেছিল। তিনি লেখেন, “চোর তুহিন থেকে আজকে সে খুনি তুহিন! আমাকে ডেকে নিয়ে কৌশলে বাইকটি নিয়ে যায়। সদর দক্ষিণ থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা না নিয়ে শুধু একটি জিডি নেয়। কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো পুলিশ বলেছিল—ওর মাথার ওপর রাজনৈতিক বড় নেতার হাত আছে, ওকে যেন কিছু না করা হয়। ছোট অপরাধ পার পেয়ে গেলে অপরাধীরা পরবর্তীতে বড় অপরাধ করার সাহস পায়।”

পোস্টের সত্যতার প্রমাণ হিসেবে তিনি থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগের অনুলিপি, খোয়া যাওয়া বাইকের ছবি এবং তুহিনের ছবি যুক্ত করেন।

এদিকে জেলা পুলিশের একটি গোপন সূত্রের বরাতে জানা গেছে, অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার সময় তার সঙ্গে থাকা মায়ের আইফোনটি আটক তুহিনের বাড়ি থেকেই উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, মূল্যবান আইফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই অপ্রতিমকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুরো ঘটনার বিস্তারিত জানাতে আজ রোববার দুপুরে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে পুলিশ।

হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে এখন পর্যন্ত তুহিন ও আনাস নামে দুজনকে আটক করার খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর বাইরে ফাহিম নামে আরও একজনকে আটকের তথ্য বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়ালেও রাত পৌনে ১২টা পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি।

উল্লেখ্য, নিহত অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম ও ফিরোজ শাহরিয়ার দম্পতির একমাত্র ছেলে। সে কোটবাড়ি বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মায়ের আইফোন নিয়ে ছবি তোলার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় সে। পরে নিখোঁজের প্রায় ২০ ঘণ্টা পর শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ গেট সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ঘেঁষা সানন্দা গ্রামের একটি ঝোপ থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।




শাহজালাল মাজারের দানবাক্সে ৩৬ দিনে মিললো ৮৯ লাখ টাকা

ডেস্ক নিউজ : সিলেটে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের তিনটি ডেগ ও পাঁচটি দানবাক্স খুলে ৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৮ টাকা পাওয়া গেছে। এছাড়া ১ ভরি ৯ আনা ২ রতি স্বর্ণ এবং ১৫ দেশের বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়া গেছে।

এর আগে ৩৬ দিনের মাথায় শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে সিলগালা অবস্থায় থাকা তিনটি ডেগ ও পাঁচটি দানবাক্স খোলা হয়। এ সময় সিলেট জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এরপর পাওয়া নগদ অর্থ, স্বর্ণ ও বৈদেশিক মুদ্রার হিসাব করা হয়।

মাজার কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, দানবাক্স ও ডেগ থেকে পাওয়া নগদ অর্থের পরিমাণ ৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৮ টাকা। স্বর্ণ পাওয়া গেছে ১ ভরি ৯ আনা ২ রতি।

পাওয়া বৈদেশিক মুদ্রার মধ্যে রয়েছে, যুক্তরাজ্যের ৫ পাউন্ড, ভারতের ৩ হাজার ৯৯৪ রুপি, থাইল্যান্ডের ৫ বাত, সৌদি আরবের ৯৯ রিয়াল ২৫ পয়সা, মালয়েশিয়ার ২৯ রিঙ্গিত, যুক্তরাষ্ট্রের ৮ ডলার ২ সেন্ট, ওমানের ৯০৩ বায়সা, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ৫৭ দিরহাম ২৫ সেন, ইরাকের ১ দিনার, কাতারের ২১ রিয়াল ৫০ পয়সা, ইউরোপের ৩০ ইউরো ১০ সেন্ট, বাহরাইনের ০.০২৫ পয়সা, পাপুয়া নিউ গিনির ৫০ কিনা, চীনের ১৫ ইউয়ান এবং ইন্দোনেশিয়ার ৫ হাজার রুপিয়া।

এর আগে ১৫ আগস্ট সর্বশেষ দানবাক্স ও মানতের বাক্স খোলা হয়েছিল। সেদিন গণনা করে পাওয়া যায় ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা। এ সময় বিভিন্ন দেশের মুদ্রা ছাড়াও স্বর্ণ ও রুপার সামগ্রী পাওয়া যায়। তাছাড়া ১১ জুলাই দানবাক্সের অর্থ গণনা করে পাওয়া যায় ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা। সেবারও বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণ ও রুপার সামগ্রী পাওয়া যায়।

একইভাবে ২২ জুন দানবাক্স খোলা হলে পাওয়া যায় ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা। পরে জেলা প্রশাসনের তহবিল থেকে ৫ লাখ টাকা যোগ হওয়ায় ওই দফায় মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ২২ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা।




চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের ৬০ বছর পূর্তি উদযাপন

নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের ৬০ বছর পূর্তি উদযাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে শনিবার শোভাযাত্রা, স্মৃতিচারণ, আলোচনা সভা ও কেক কাটার আয়োজন করা হয়।

সকাল সাড়ে ১০টায় প্রেসক্লাব চত্বর থেকে সদস্য ও অতিথিদের অংশগ্রহণে একটি শোভাযাত্রা বের হয়। এটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রেসক্লাব মিলনায়তনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল হক স্বপনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদ প্রশাসক মো. শরীফুজ্জামান ও পুলিশ সুপার মো. রুহুল কবীর খান।

এ ছাড়া চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক সিদ্দিকুর রহমান, সাংবাদিক সমিতির সভাপতি রফিকুল ইসলাম এবং চুয়াডাঙ্গা সম্পাদক পরিষদের আহ্বায়ক সরদার আল আমিন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। স্বাগত বক্তব্য দেন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম সনি।

অনুষ্ঠানে প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য কামরুল আরেফিনসহ প্রবীণ সাংবাদিকেরা স্মৃতিচারণ করেন। এর আগে জেলার বিভিন্ন উপজেলা প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। পরে অতিথিরা কেক কেটে প্রেসক্লাবের ৬০ বছর পূর্তি উদযাপন করেন।




বগুড়া টেলিভিশন রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মোহন, সম্পাদক সুজন

বগুড়া টেলিভিশন রিপোর্টার্স ইউনিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকালে বগুড়া প্রেস ক্লাবের নতুন ভবনে ভোটগ্রহণ শেষে সন্ধ্যায় ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

নির্বাচনে সভাপতি পদে আমিনুর রহমান মোহন আখন্দ এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মেহেরুল সুজন নির্বাচিত হয়েছেন।

সভাপতি পদে আমিনুর রহমান মোহন আখন্দ পেয়েছেন ১৮ ভোট, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তানভীর আলম রিমন পেয়েছেন ৯ ভোট। সাধারণ সম্পাদক পদে মেহেরুল সুজন পেয়েছেন ১৫ ভোট, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আতিকুর রহমান সোহাগ পেয়েছেন ১২ ভোট।

বিকাল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে। সংগঠনের ২৭ জন ভোটারের সবাই ভোট দিয়েছেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বগুড়ার সিনিয়র সাংবাদিক মতিউল ইসলাম সাদী ফলাফল ঘোষণা করেন।

নির্বাচনে সহ-সভাপতি পদে এসএম আবু সাঈদ ১৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সুমন সরদার পেয়েছেন ১১ ভোট। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে রাজিব সেলিম ১৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আবুল কালাম আজাদ পেয়েছেন ১১ ভোট। সাংগঠনিক সম্পাদক পদে সঞ্জু রায়, কোষাধ্যক্ষ পদে আব্দুল আউয়াল নির্বাচিত হয়েছে।

এছাড়া সদস্য পদে নির্বাচিত হয়েছেন ববিন রহমান, আব্দুর রহিম মন্ডল, শাহনেওয়াজ শাওন ও হুমায়রা আকতার জাহান। নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন সিনিয়র সাংবাদিক গণেশ দাস ও আতিকুর রহমান সোহাগ।




চতুর্থবারের মতো প্রকাশ্যে শাহজালাল মাজারে দানের টাকা গণনা শুরু

সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানের টাকা চতুর্থবারের মতো প্রকাশ্যে গণনা শুরু হয়েছে। মাজারের দান বাক্স ও ডেকিচিগুলোর তালা খোলা হয়েছে।

শনিবার সকাল ৯টায় সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে তালাগুলো খুলে মাজার প্রাঙ্গণে গণনার কাজ শুরু হয়। দুপুর ১২টায় এ রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত টাকা গণনা চলছিল।

এসময় সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তা ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত আছেন। এছাড়াও সিলেটের গণমাধ্যম কর্মীরাসহ সচেতন সিলেটবাসী এবং মাজার কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরাও গণনার কাজ পর্যবেক্ষণ করছেন।

উল্লেখ্য, প্রায় একমাস ৪ দিন পর আবার শাহজালাল (র.) মাজারে দান বাক্সগুলো খোলা হয়েছে।




কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে গোসলে নেমে পর্যটক নিখোঁজ

ডেস্ক নিউজ : কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে বন্ধুদের সঙ্গে গোসলে নেমে স্রোতের টানে ভেসে গিয়ে সীমান্ত নামের এক পর্যটক নিখোঁজ হয়েছেন। এ সময় স্রোতে ভেসে যাওয়া আরও দুই পর্যটককে জীবিত উদ্ধার করেছেন লাইফগার্ড ও বিচকর্মীরা।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ছয়টার দিকে সৈকতের সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টের মধ্যবর্তী গ্রিন নেচার হোটেলসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিখোঁজ সীমান্ত কিশোরগঞ্জ শহরের শোলাকিয়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি গত বুধবার বন্ধুদের সঙ্গে কক্সবাজারে বেড়াতে আসেন। তাঁরা শহরের কলাতলী এলাকার একটি হোটেলে অবস্থান করছিলেন।

বিচকর্মীরা জানান, শুক্রবার বিকেলে সীমান্তসহ তাঁর বন্ধুরা সমুদ্রসৈকতে গোসলে নামেন। একপর্যায়ে স্রোতের টানে তিনজন ভেসে যেতে থাকেন। খবর পেয়ে লাইফগার্ড ও বিচকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে দুজনকে জীবিত উদ্ধার করেন। তবে সীমান্তকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

বিচকর্মীদের সুপারভাইজার মাহবুবুল আলম বলেন, সীমান্ত সমুদ্রের পানিতে তলিয়ে যান। তাঁকে উদ্ধারে সাগরের বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।




ভবনে এডিস মশার লার্ভা, দুই মালিককে জরিমানা

ডেস্ক নিউজ : কুমিল্লা নগরীতে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে এডিস মশার প্রজননস্থল শনাক্ত ও ধ্বংসে অভিযান চালিয়েছে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক)। অভিযানে দুটি ভবনে এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় দুই ভবন মালিককে মোট ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার নগরীর ঝাউতলা ও বাদুরতলা ডাক্তারপাড়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানকালে ঝাউতলা এলাকায় ডা. আব্দুল করিমের বাসভবনে এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একইভাবে বাদুরতলা ডাক্তারপাড়া এলাকায় নোমান নামের এক ব্যক্তির ভবনে এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

কুসিকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজিয়া হোসেনের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে ভবনমালিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জমে থাকা পানি অপসারণ এবং এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের বিষয়ে সতর্ক করা হয়।

কুসিক প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, ডেঙ্গু মশার উপদ্রবের হটস্পট শনাক্ত, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান অব্যাহত থাকবে।




ডোপ টেস্টের খবর পেয়ে ২ দিন ধরে নিখোঁজ পুলিশ কর্মকর্তা

ডেস্ক নিউজ : মাদক গ্রহণের সন্দেহে ডোপ টেস্ট করানোর উদ্যোগ নেওয়ার খবর পেয়ে চাঁদপুরের নতুন বাজার পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মামুন উর রশিদ গত দুই দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। তার ব্যক্তিগত মুঠোফোন বন্ধ রয়েছে এবং তিনি কর্মস্থলেও অনুপস্থিত। পুলিশ একাধিকবার তার বাসায় গিয়েও কোনো সন্ধান পায়নি।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নতুন বাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম।

তিনি জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে গত মঙ্গলবার ও আজ বুধবার পুলিশ সদস্যরা এসআই মামুনের বাসায় খোঁজ নিতে গেলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরটিও বন্ধ রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নতুন বাজার পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত ১৮ জন সদস্যের মধ্যে এসআই মামুনের গতিবিধি ও আচরণ নিয়ে কর্তৃপক্ষের সন্দেহ তৈরি হয়। তার বিরুদ্ধে নিয়মিত মাদক সেবনের অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নিশ্চিত হতে তাকে ডোপ টেস্টের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। তবে ডোপ টেস্টের বিষয়টি জানতে পারার পর থেকেই তিনি ফাঁড়িতে আসা বন্ধ করে দেন।

বিষয়টি নজরে আসার পর চাঁদপুরের পুলিশ সুপারের নির্দেশে তাকে খুঁজে বের করে ফাঁড়িতে নিয়ে আসার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে দুই দিন ধরে তার কোনো হদিস মিলছে না।

ফাঁড়ি সূত্র জানায়, পুলিশ বাহিনীর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সন্দেহভাজন সদস্যদের পর্যায়ক্রমে ডোপ টেস্টের আওতায় আনার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তবে এসআই মামুন উর রশিদের বিরুদ্ধে ওঠা মাদক সেবনের অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হতে ল্যাব পরীক্ষার ফলাফল প্রয়োজন বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।