হাকালুকি হাওরে বেড়েছে জলচর পাখি, কমেছে শিকার ও বিষটোপের ঘটনা

নুসরাত জাহানঃ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ মিঠাপানির জলাভূমি হাকালুকি হাওরে চলতি মৌসুমে জলচর পাখির সংখ্যা গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। পাশাপাশি আগের বছরগুলোর মতো পাখি শিকার, বিষটোপ ব্যবহার কিংবা নিষিদ্ধ জালে আটকে পাখি মারা যাওয়ার ঘটনা এবার প্রায় দেখা যায়নি। বিষয়টি জানিয়েছেন বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ও পাখি বিশেষজ্ঞ ইনাম আল হক। তাঁর নেতৃত্বে ১২ সদস্যের একটি দল গত ৪ ও ৫ ফেব্রুয়ারি হাওরের ৪৩টি বিলে পাখিশুমারি চালায়।

এই শুমারির আয়োজন করে বাংলাদেশ বার্ড ক্লাব ও আইইউসিএন। এতে সহযোগিতা করে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, সিলেট। শুমারিতে অংশ নেন বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম, বার্ড ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সরওয়ার আলম দীপু, সহসভাপতি জেনিফার আজমেরি, সদস্য অণু তারেকসহ আরও অনেকে।

শুমারির ফলাফল সম্পর্কে সরওয়ার আলম দীপু জানান, এ বছর হাকালুকি হাওরে মোট ৫৩ প্রজাতির ৫৪ হাজার ৪৮৬টি জলচর পাখি দেখা গেছে। এর মধ্যে ১৮টি প্রজাতি স্থানীয় এবং ৩৫টি প্রজাতি পরিযায়ী পাখি। গত বছর এখানে ৬০ প্রজাতির মাত্র ৩৫ হাজার ২৬৮টি পাখি পাওয়া গিয়েছিল। সেই তুলনায় এবার পাখির সংখ্যা বেশ বেড়েছে। তাঁর মতে, হাওরের চিনাউরা ও হাওরখালসহ কয়েকটি বিলে এবার পরিবেশ তুলনামূলক ভালো ছিল এবং সেখানে পানি বেশি ছিল। অন্য অনেক স্থানে পানি কমে যাওয়ায় অনেক পাখি এসব বিলে এসে জমায়েত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গত বছর হাওরের নাগুয়া-লরিবাই বিল এলাকায় পাখি শিকারের জন্য প্রায় ১০০ মিটার দীর্ঘ একটি নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল পাওয়া গিয়েছিল। সেই জালে আটকে টিমেঙ্কের চাপাখি নামের বিরল দুটি পাখির মৃতদেহও উদ্ধার করা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, পিংলা বিলের পাশে ‘কার্বোটাফ’ নামের এক ধরনের শক্তিশালী রাসায়নিক কীটনাশকের প্যাকেটও পাওয়া যায়। শিকারিরা ধানের সঙ্গে এই বিষ মিশিয়ে বিলের আশপাশে ছিটিয়ে রাখত। পাখিরা খাবার ভেবে সেই ধান খেয়ে বিষক্রিয়ায় মারা যেত। তবে এবারের শুমারিতে এমন কোনো জাল বা বিষটোপের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। সরওয়ার আলম দীপু মনে করেন, স্থানীয় মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়ানোর কারণে শিকারিদের তৎপরতা কমে থাকতে পারে।

এবারের শুমারিতে একটি অত্যন্ত বিরল প্রজাতির পাখি—সাদা কপাল রাজহাঁস—দেখা গেছে। বাংলাদেশে এই পাখি সাধারণত ১০ থেকে ১২ বছরে একবার দেখা যায়। এছাড়া প্রথমবারের মতো হাওরে একসঙ্গে ১৯৪টি রাজহাঁস দেখা গেছে, যা দেশের জন্যও একটি বিরল ঘটনা।

এ বছর উপকূলীয় অঞ্চলে সাধারণত দেখা যায় এমন কিছু সৈকতপ্রিয় পাখির সংখ্যাও হাওরে বেশি পাওয়া গেছে। লালপা, গুলিন্দা ও জৌরালিসহ বিভিন্ন প্রজাতির সৈকতপাখি মিলিয়ে প্রায় সাত হাজারের বেশি পাখি দেখা গেছে। এর মধ্যে শুধু জৌরালি পাখির সংখ্যাই প্রায় সাড়ে তিন হাজার।

হাকালুকি হাওর মৌলভীবাজারের কুলাউড়া, জুড়ী ও বড়লেখা এবং সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ ও গোলাপগঞ্জ উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে আছে। প্রায় ২৮ হাজার হেক্টর আয়তনের এই হাওরে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ২৩৮টি বিল রয়েছে। ১৯৯৯ সালে সরকার এই হাওরকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে ঘোষণা করে।

তবে সামগ্রিকভাবে পাখির সংখ্যা আগের তুলনায় কমে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। বার্ড ক্লাব ও আইইউসিএনের তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ বছরে সারা দেশে পরিযায়ী পাখির সংখ্যা প্রায় ৩৫ শতাংশ কমে গেছে। হাকালুকি হাওরের ক্ষেত্রে এই হার প্রায় ৪৫ শতাংশ। ২০০০ সালের আগে এখানে ৭৫ থেকে ৮০ হাজার পাখি দেখা যেত।

পূর্বের পাখিশুমারির তথ্যেও ওঠানামা দেখা যায়। ২০২৩ সালে এখানে ৫২ প্রজাতির ৩৭ হাজার ৭৭৮টি, ২০২২ সালে ৫১ প্রজাতির ৩৬ হাজার ৫০১টি, ২০২১ সালে ৪৫ প্রজাতির ২৪ হাজার ৫৫১টি, ২০২০ সালে ৫৩ প্রজাতির ৪০ হাজার ১২৬টি, ২০১৯ সালে ৫১ প্রজাতির ৩৭ হাজার ৯৩১টি, ২০১৮ সালে ৪৪ প্রজাতির ৪৫ হাজার ১০০টি এবং ২০১৭ সালে ৫০ প্রজাতির ৫৮ হাজার ২৮১টি জলচর পাখি দেখা গিয়েছিল। ২০২৪ সালে সেখানে কোনো শুমারি হয়নি।

পাখির সংখ্যা কমে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে ইনাম আল হক বলেন, শুধু হাকালুকি হাওর নয়, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশেই কয়েক বছর ধরে পাখির সংখ্যা কমছে। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে পাখির আবাসস্থল ধ্বংস হয়ে যাওয়া এবং বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি। অর্থনৈতিক উন্নয়নের কারণে অনেক জলাভূমি ভরাট হয়ে যাচ্ছে বা মানুষের দখলে চলে যাচ্ছে। ফলে পাখিদের নিরাপদ আবাসস্থল কমে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, হাওর এলাকায় কৃষিকাজে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের প্রভাব পড়ছে জলজ পরিবেশের ওপর। কীটনাশকের কারণে ফড়িংসহ বিভিন্ন পোকামাকড় ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, যেগুলো মাছের প্রধান খাদ্য। এতে মাছের উৎপাদনও কমে যাচ্ছে এবং পুরো জীববৈচিত্র্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

এ বিষয়ে কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন বলেন, হাকালুকি হাওরের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। হাওরের পরিবেশ যাতে নষ্ট না হয়, সে জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে নজরদারি আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।




কক্সবাজারে বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাবের ইফতার মাহফিল, দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

কক্সবাজার প্রতিনিধিঃ পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব (B.C.P.C) কক্সবাজার জেলা শাখার উদ্যোগে এক ইফতার মাহফিল, দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৯ মার্চ ২০২৬) বিকেল ৩টায় কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কক্সবাজার জেলা শাখার সভাপতি খোরশেদ আলম এবং অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক নুরুল হোসাইন।

সদস্য কামরুল ইসলামের পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন কক্সবাজার জেলা শাখার সভাপতি খোরশেদ আলম।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন হিউম্যান এইড ইন্টারন্যাশনাল কক্সবাজার জেলা শাখার সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম খোকন, বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব কক্সবাজার জেলা শাখার সহ-সভাপতি মো. আবু বক্কর ছিদ্দিক, যুগ্ম সম্পাদক ফরহাদ রহমান, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক নাছিমা আক্তার, দপ্তর সম্পাদক জিন্নাতুন নেছা জিন্নাত, উখিয়া উপজেলা কমিটির সভাপতি মোসলেহ উদ্দিন এবং সাধারণ সম্পাদক এন. আলম।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব কক্সবাজার জেলার সদস্য ও দৈনিক আলোকিত কাগজের প্রতিনিধি মোহাম্মদ রাসেল, দৈনিক দেশ বুলেটিনের প্রতিনিধি আফতাব হোসেন আশিক, মানবাধিকার প্রতিদিনের প্রতিনিধি সোলতান আহমদ, দর্পণ টিভির প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর আলম, দৈনিক আজকের দিগন্তের সংবাদ প্রতিনিধি কামরুল ইসলাম, দৈনিক পরিবর্তন সংবাদের প্রতিনিধি সালাউদ্দিন, দৈনিক সময় বায়ান্নের প্রতিনিধি আব্দুর রহিমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যবৃন্দ।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব (B.C.P.C)-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি খান সেলিম রহমান, সিনিয়র সহ-সভাপতি সেহলী পারভীন এবং সাধারণ সম্পাদক মাহিদুল হাসান সরকারের স্বাক্ষরিত অনুমোদনের মাধ্যমে কক্সবাজার জেলা শাখা আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন লাভ করে।

আলোচনা সভায় বক্তারা সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, মারধর ও মিথ্যা মামলা দায়েরের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করতে গিয়ে অনেক সাংবাদিক নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ায় পরিস্থিতি দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে।

সভাপতির বক্তব্যে খোরশেদ আলম বলেন, “সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কিন্তু বাস্তবে আমরা উল্টো চিত্র দেখতে পাচ্ছি। যারা জনগণের কাছে সত্য তুলে ধরেন, তারাই আজ নানা নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সারাদেশে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও মিথ্যা মামলা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত।”

তিনি আরও বলেন, “এভাবে চলতে থাকলে সাংবাদিকরা নির্ভয়ে কাজ করার সাহস হারাবেন এবং জনগণও সঠিক তথ্য জানা থেকে বঞ্চিত হবে।”

বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব কক্সবাজার জেলার সাধারণ সম্পাদক নুরুল হোসাইন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি বা গোষ্ঠী নিজেদের অপকর্ম আড়াল করতে সাংবাদিকদের টার্গেট করছে। দুর্বল তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতার কারণে অনেক অপরাধী সহজেই পার পেয়ে যাচ্ছে।”

তিনি অবিলম্বে সাংবাদিক সুরক্ষা আইন বাস্তবায়ন এবং সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও মিথ্যা মামলায় জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান। পাশাপাশি সারাদেশে সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।

সভায় উপস্থিত নেতৃবৃন্দ বলেন, গণতান্ত্রিক সমাজে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাংবাদিকদের নির্বিঘ্নে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব। সাংবাদিক নির্যাতন ও মিথ্যা মামলা সংবিধান ও আইনের শাসনের পরিপন্থী।

আলোচনা সভা শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। পরে ইফতার মাহফিলের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।




পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে সাভার ক্যান্টনমেন্টে বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাবের ইফতার বিতরণ, দোয়া ও মাহফিল অনুষ্ঠিত।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে ইফতার বিতরণ, দোয়া ও মাহফিলের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাব। শনিবার সাভার ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। (৭’ই মার্চ ২০২৬) শনিবার, সাভার ক্যান্টনমেন্টে আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, জাতীয় দৈনিক মাতৃজগত পত্রিকার সম্পাদক ও বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব (B.C.P.C)-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি খান সেলিম রহমান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা প্রেস ক্লাব ও আন্তর্জাতিক প্রেস ক্লাব, বাংলাদেশ এর সভাপতি আরঙ্গজেব কামাল।

সভাপতির বক্তব্যে খান সেলিম রহমান বলেন, রমজান মাস আত্মশুদ্ধি, সংযম ও মানবিকতার শিক্ষা দেয়। এই মাসে সমাজের অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো প্রত্যেক সামর্থ্যবান মানুষের নৈতিক দায়িত্ব। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাব সব সময় মানবিক ও সামাজিক কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা রেখে আসছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আরঙ্গজেব কামাল বলেন, পবিত্র রমজান মুসলিম উম্মাহর জন্য রহমত, বরকত ও মাগফিরাতের মাস। তিনি এ ধরনের সামাজিক ও মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, সাংবাদিক সমাজ যদি মানুষের কল্যাণে এগিয়ে আসে, তাহলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় দৈনিক মাতৃজগত পত্রিকার সিনিয়র সহ-সম্পাদক ও বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব (B.C.P.C)-এর সাধারণ সম্পাদক মোঃ মাহিদুল হাসান সরকার, বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব (B.C.P.C)-এর সিনিয়র সহ-সভাপতি ও দৈনিক জন জাগরণ প্রকাশক ও সম্পাদক মোঃ শিহাব উদ্দিন, বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব (B.C.P.C)-এর মোহাম্মদ মাহবুব উদ্দিন, সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব (B.C.P.C)-এর সহ-সভাপতি ভূঁইয়া কামরুল হাসান সোহাগ, জাতীয় দৈনিক মাতৃজগত পত্রিকার চিফ রিপোর্টার ও বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব (B.C.P.C)-এর দপ্তর সম্পাদক শেখ মোঃ হুমায়ুন কবির, বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব (B.C.P.C)-এর সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়জুল্লাহ স্বাধীন, দপ্তর সম্পাদক মোঃ শফিকুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ লাইজু আহমেদ, আশুলিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি, ডাঃ মোঃ দুলাল আহম্মেদ, গণি জেনারেল হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মোঃ বাকি উল্লাহ, অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মজিদ শেখ ও মোঃ জহির উদ্দিন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী। এছাড়াও সমাজসেবক মোঃ ফিরোজ প্রামাণিক উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন মোহাম্মদ রমজান সরকার, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক, বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাব (B.C.P.C), এসময় উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক তাসলিমা আক্তার, মোঃ জাহাঙ্গীর আলম রাজু, মোঃ আসাদুজ্জামান, মোঃ নজরুল ইসলাম ও শেখ রিবণ রায়হানসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

অনুষ্ঠান শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয় এবং অসহায় মানুষের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা হয়।




বিকেএমইএর সভাপতি ‘ফ্যাসিস্টদের দোসর’ বলে মন্তব্য করায় অবরুদ্ধ করা হয় সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ্কে দুই ঘণ্টা পর পুলিশ উদ্ধার করে।

নিজস্ব সংবাদদাতাঃ বিকেএমইএর সভাপতি ‘ফ্যাসিস্টদের দোসর’ বলে মন্তব্য করায় অবরুদ্ধ করা হয় সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ্কে দুই ঘণ্টা পর পুলিশ উদ্ধার করে। সদর উপজেলার ফতুল্লায় জামায়াতের ইফতার অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ্ আল আমিন।

‎পঞ্চবটি বিসিক শিল্পনগরী এলাকায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জামায়াতে ইসলামী পেশাজীবী ফোরাম নারায়ণগঞ্জ পূর্ব থানা।আব্দুল্লাহ্ আল আমিন নারায়ণগঞ্জ-৪ (সদর উপজেলার একাংশ) আসনের সংসদ সদস্য। তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব। তিনি এ আসনে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী হয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।জাতীয় পার্টি–দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান বিকেএমইএ সভাপতি থাকাকালে ওই কমিটির নির্বাহী সভাপতি ছিলেন মোহাম্মদ হাতেম। চব্বিশের গণ–অভ্যুত্থানের পর নিটওয়্যার প্রস্তুতকারকদের এই সংগঠনের সভাপতি নির্বাচিত হন মোহাম্মদ হাতেমপ্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, আজ বিকেলে ওই ইফতার অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ্ আল আমিন ও মোহাম্মদ হাতেম আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন। অনুষ্ঠানের শেষের দিকে সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ্ আল আমিন এসে উপস্থিত হন এবং তিনি মঞ্চে বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমকে দেখে ‘ফ্যাসিস্টদের দোসর’ হিসেবে অভিহিত করে সেখানে বসতে অস্বীকৃতি জানান। তাঁর এই বক্তব্যে বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদহাতেমসহ তাঁর অনুসারী ব্যবসায়ীদের নিয়ে ইফতার অনুষ্ঠান বর্জন করেন। সেখানে সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ্ আমিনকে অবরুদ্ধ করেন মোহাম্মদ হাতেমের অনুসারী ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বিএনপি নেতা–কর্মীরা। এ সময় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ রাত আটটার দিকে আব্দুল্লাহ্ আল আমিনকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক সার্কেল) মো. হাসিনুজ্জামান একটি ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্যের বক্তব্য ঘিরে বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম ইফতার অনুষ্ঠান থেকে ওয়াক আউট করেন। এ সময় সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে এমপি মহোদয়কে নিরাপত্তা দিয়ে তাঁর কার্যালয়ে নিয়ে যান।



বাবার সঙ্গে বিরোধের ‘বলি’ শিশু ইরা মনি

ডেস্ক নিউজঃ প্রতিবেশীর সঙ্গে পারিবারিক বিরোধের জেরে আট বছরের শিশু ইরা মনিকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন বাবু শেখ (৪৫)। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তাকে ফুঁসলিয়ে সীতাকুণ্ডের পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা এবং পরে গলা কেটে হত্যাচেষ্টা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সন্ধ্যায় সীতাকুণ্ড থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁন এ তথ্য জানান। পুলিশের ভাষ্য, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার বাবু শেখ এসব তথ্য স্বীকার করেছেন।

জেলা পুলিশের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নিহত শিশুর বাবা মনিরুল ইসলামের সঙ্গে বাবু শেখের দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধ ছিল। বিভিন্ন সময় তাদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ হতো। এরই প্রতিশোধ নিতে মনিরুল ইসলামের মেয়েকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।

পুলিশ জানায়, গত রোববার সকালে ইরা মনিকে চকলেট কিনে দেওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের করে বাবু শেখ। পরে বাসে করে কুমিরা থেকে সীতাকুণ্ডে নিয়ে যান। সেখান থেকে হেঁটে বোটানিক্যাল গার্ডেন এলাকার দুর্গম পাহাড়ে ওঠেন। সেখানে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। এ সময় ইরা চিৎকার করে ঘটনাটি জানিয়ে দেওয়ার কথা বললে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার গলা কেটে রেখে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত।

রক্তাক্ত অবস্থায় জঙ্গল থেকে হেঁটে বোটানিক্যাল গার্ডেনের নির্মাণাধীন সড়কের কাছে পৌঁছালে শ্রমিকরা তাকে দেখতে পান। পরে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং সেখান থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকালে তার মৃত্যু হয়।

শিশুটির বাড়ি ছোট কুমিরা মাস্টারপাড়ায়। তার বাবা মনিরুল ইসলাম পেশায় টমটম চালক। স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল ইরা মনি।

মঙ্গলবার সকালে কুমিরার কাজীপাড়া এলাকা থেকে বাবু শেখকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধায় হলেও তিনি কুমিরায় মনিরুল ইসলামের বাড়ির পাশেই ভাড়া থাকতেন।

পুলিশ জানিয়েছে, আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে কি না, তা ফরেনসিক প্রতিবেদনের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।




হাজারীবাগে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ, একই পরিবারের ৪ জন দগ্ধ

ডেস্ক নিউজঃ রাজধানীর হাজারীবাগ এলাকায় গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে শিশুসহ একই পরিবারের চারজন দগ্ধ হয়েছেন। সোমবার (২৩ জানুয়ারি) ভোর ৪টার দিকে পূর্ব রায়েরবাজারের একটি ছয়তলা ভবনের নিচতলায় এ ঘটনা ঘটে।

দগ্ধরা হলেন শেখ রোমান (৩৫), তার স্ত্রী পিংকি আক্তার (৩২), তাদের তিন বছরের ছেলে রুহান এবং রোমানের শ্যালক অপু (২৩)। গুরুতর অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট-এ ভর্তি করা হয়েছে।

দগ্ধ রোমানের গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনায়। তিনি একটি রিয়েল এস্টেট কোম্পানিতে চাকরি করতেন এবং পরিবার নিয়ে রায়েরবাজারে ভাড়া বাসায় থাকতেন।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, ভোরে রান্না করতে গিয়ে গ্যাসের চুলা জ্বালানোর সঙ্গে সঙ্গে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ধারণা করা হচ্ছে, চুলা থেকে গ্যাস লিক হয়ে ঘরে জমে ছিল। আগুন লাগার পর মুহূর্তেই চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং পরিবারের সদস্যরা দগ্ধ হন।

বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন শাওন বিন রহমান জানান, চারজনের অবস্থাই আশঙ্কাজনক। শেখ রোমানের শরীরের ৭০ শতাংশ, পিংকি আক্তারের ৭৫ শতাংশ, রুহানের ৩৫ শতাংশ এবং অপুর ৫০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।




ঈশ্বরদীর সাহান পড়ে থাকা জমির চারিদিকে আইল বেঁধে মাছ চাষে পথ চলা শুরু করেন

জাহিদুল ইসলাম নিক্কন, ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি: ঈশ্বরদী উপজেলার মুলাডুলি ইউনিয়নের আটঘরিয়া গ্রামের মৃত ওমর আলীর ছেলে শাহ আলম সাহান অনেক আশা ও স্বপ্ন নিয়ে মৎস্য চাষে পথ চলা শুরু করেন। তিনি দীর্ঘ ১৬ বছর কুয়েত প্রবাসী ছিলেন। দেশে ফিরে তিনি বেকার জীবন যাপন করছিলেন। বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে বিভিন্ন জানার কাছ থেকে মৎস্য চাষের পরামর্শ নিয়ে নিজ বাড়ির পাশের একটি পুকুর দিয়ে মাছ চাষ শুরু করেন।
 
আটঘরিয়া গ্রামবাসীর পক্ষে মোঃ সাইফুল ইসলাম পিতাঃ মোঃ গিয়াস উদ্দিন শেখ বলেন,সাহান বিদেশ থেকে আসার পর একটি পুকুর দিয়ে মাছ চাষ শুরু করেন। পুকুরের পাশের জমিটি নিচু হাওয়ায় বছরের প্রায় সময় পানি জমে থাকে। এই জমিতে ফসল হয় না মাছও চাষ করা যায় না। সে কারণে জমির চারিদিকে আইল তৈরি করে মাছ চাষের উপযোগী করছেন সাহান। এই জমির চারিদিকে আইল হলে আমাদের তেমন কোন ক্ষতি হবে না। বরং এখানে মাছ চাষ হলে এলাকার বেকার ছেলেদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে বলে আমি মনে করছি।
শাহ আলম সাহান বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছর কুয়েতে প্রবাসী ছিলাম। সে সময় কুয়েত থেকে দেশে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছি।দেশে ফিরে এক রকমের বেকার জীবন যাপন করতে ছিলাম। বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে এলাকার বিভিন্ন মাছ চাষির কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে নিজ বাড়ির পাশের একটি পুকুর দিয়ে অনেক আশা ও স্বপ্ন নিয়ে মৎস্য চাষে পথ চলা শুরু করি। পুকুরের পাশে আমার একটি নিচু জমি রয়েছে। এখানে তেমন কোন ফসল হয় না। জমি নিচু হওয়ার কারণে সারা বছরই জলাবদ্ধ থাকে। সঠিক ভাবে মাছ চাষ করতে পারলে কিছুটা হলেও দেশের আমিষের চাহিদা মেটাতে পারবো বলে আশা পোষণ করছি। আমার পুকুরটি সংস্কার এবং পাশের পতিত পড়ে থাকা জমির চারিদিকে আইল বেঁধে মাছ চাষ করার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্যারের কাছে আবেদন করেছি।



আশুলিয়ার মরিচকাটা কলতাসূতী এলাকায় রাস্তা ও মসজিদ উদ্বোধন।

মোঃ বশির উদ্দিনঃ আশুলিয়ার মরিচকাটা কলতাসূতী এলাকায় রাস্তা ও মসজিদ উদ্বোধন। ঢাকা জেলার সাভার উপজেলার আশুলিয়া ১নং শিমুলিয়া ইউনিয়নের মরিচকাটা কলতাসূতী এলাকায় নবনির্মিত রাস্তা ও মসজিদের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. কামরুজ্জামান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো. শরিফ হোসেন ।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন শিমুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৮নং ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) মো. মান্নান। এছাড়া রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শিমুলিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি মো. ওসমান গনি সাগর, ভারারিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদল সভাপতি মো. আদিল এবং শিমুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মোবারক হোসেন।
স্থানীয় যুবসমাজের পক্ষ থেকে মো. আসাদুল ইসলাম মুকুল ও মো. বিল্লাল হোসেনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, মুরব্বি ও মুসল্লিরা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
স্থানীয়রা বলেন, একটি এলাকার উন্নয়নে যোগাযোগ ব্যবস্থা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নবনির্মিত এ রাস্তা স্থানীয়দের চলাচল সহজ করবে এবং মসজিদটি এলাকাবাসীর ধর্মীয় কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। উন্নয়নের এ ধারা অব্যাহত থাকবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়।
উদ্বোধন শেষে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে আরও উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।



রাজশাহীতে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থককে মারধর, হত্যার হুমকি

ডেস্ক নিউজঃ রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর এক সমর্থককে মারধর ও হত্যার হুমকি দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পুঠিয়া উপজেলার বিড়ালদহ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আহত আহসান হাবীব জানান, তিনি নির্বাচনে বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী ইসফা খায়রুল হক (শিমুল)-এর ঘোড়া প্রতীকের পক্ষে কাজ করেছিলেন। এ কারণে ধানের শীষের সমর্থকেরা তার ওপর হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, তার ডান হাতের দুটি আঙুলে ব্যান্ডেজ করা এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

আহসান হাবীবের ভাষ্য, শনিবার দুপুর ১২টার দিকে বিড়ালদহ বাজারে কেনাকাটার সময় একই গ্রামের রশিদসহ ১৫–১৬ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাকে ঘিরে ধরেন। হামলাকারীরা তাকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘শালা, তুই ইসফা খায়রুল হক শিমুলের (ঘোড়া) প্রতীকের ভোট করেছিস, আজ তোকে জানে মেরে ফেলব।’

তিনি অভিযোগ করেন, রশিদের নির্দেশে তার ছেলে রাসেল লোহার রড দিয়ে মাথায় আঘাত করেন। মাথা বাঁচাতে গেলে ডান হাতের মাঝের দুটি আঙুল ভেঙে যায়। এ সময় আজাদ, শাকিল, মারুফ, লাল্টু, ইমনসহ আরও কয়েকজন লাঠি, রড ও হকিস্টিক দিয়ে মারধর করেন। প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে একটি চালের দোকানে আশ্রয় নিতে গেলে সেখানেও তাকে ফেলে পেটানো হয় বলে দাবি করেন তিনি।

পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার চেষ্টা করেন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

অভিযুক্ত রাসেলের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

এ বিষয়ে বিজয়ী বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ সমর্থক ও রাজশাহী জেলা যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জুলফিকার রহমান বলেন, নির্বাচিত সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম এ ধরনের সহিংসতার বিরোধী। তিনি সবাইকে নিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের পক্ষের মানুষ। তিনি এই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনার কথা শুনেছেন তবে এ বিষয়ে এখনো থানায় লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি।




সুষ্ঠু ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে নির্বাচন ও ভোট কেন্দ্র ধুমপানমুক্ত ঘোষণা বরগুনা জেলা প্রশাসকের

রিপোর্ট – মৃধা বেলালঃ সুষ্ঠু ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন করতে বরগুনা-১ আসনের ৩১২ ভোটদান কেন্দ্রগুলোকে ধুমপানমুক্ত ঘোষণা করেছেন বরগুনা জেলা প্রশাসক ও রিটানিং অফিসার তাছলিমা আক্তার। গত রবিবার এ বিষয়ে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন তিনি। এ গণবিজ্ঞপ্তি ওইদিন রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে সর্বস্তরের মানুষ জেলা প্রশাসকের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।
জানাগেছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদ্বশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে বরগুনা জেলায় দুইটি সংসদীয় আসন রয়েছে। এ সংসদীয় আসন দুটিতে সুষ্ঠু, সুন্দর ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন করতে ভোটের দিন ৩১২টি ভোটদান কেন্দ্রগুলোতে ধুমপানমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। বরগুনা জেলা প্রশাসক তাছলিমা আক্তারের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ পোস্ট করেছেন। এতে জেলা প্রশাসনের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন তারা।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্টদাতা বরগুনা প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক আবু সালেহ জাফর বলেন, ভালো উদ্যোগ। এর বাস্তবায়ন চাই।
আমতলী সাংবাদিক ইউনিয়ন সভাপতি পরিতোষ কর্মকার বলেন, বরগুনা জেলা প্রশাসকের গণবিজ্ঞপ্তি দিয়ে উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন। এমন গণবিজ্ঞপ্তি সহসা দেখা যায় না। জেলা প্রশাসকের এমন মহতী উদ্যোগ সমাজে ভালো কিছু বয়ে আনবে। বরগুনা জেলা প্রশাসক ও রিটানিং অফিসার তাছলিমা আক্তার বলেন, সুষ্ঠু, সুন্দর ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন করতে এ গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।