কুমিল্লায় ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড

ডেস্ক নিউজ : কুমিল্লায় তৃতীয় শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় মফিজুল ইসলাম মফু নামে এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) কুমিল্লার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মো. ইয়াছিন আরাফাত এ রায় দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত মফিজুল ইসলাম মফু জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার খিলপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল খালেকের ছেলে।

আদালত ও মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২৯ এপ্রিল কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার গলিয়ারা ইউনিয়নের খেয়াইশ গ্রামের ৯ বছরের ওই শিক্ষার্থী স্কুল শেষে বাড়ি ফেরার পথে নিখোঁজ হন। নির্ধারিত সময়ে সে বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে এলাকার একটি ধানক্ষেতে ঝুমুরের মরদেহ পাওয়া যায়। পুলিশ  ঘটনাস্থল থেকে তার স্কুলব্যাগ, স্কুলড্রেস ও জুতা উদ্ধার করে।

পুলিশ জানায়, শিশুটিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। ঘটনার সময় স্থানীয় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী ঘটনাস্থল থেকে মফিজুল ইসলাম মফুকে দ্রুত চলে যেতে দেখেন। এ ঘটনার পরদিন নিহত শিশুটির মা বাদী হয়ে সদর দক্ষিণ উপজেলার খিলপাড়া এলাকার বাসিন্দা মফিজুল ইসলাম মফুকে একমাত্র আসামি করে সদর দক্ষিণ থানায় মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর আত্মগোপনে চলে যান আসামি মফু। এ ঘটনার ৩ দিন পর র‍্যাব চাঁদপুরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. ইমাম উদ্দিন বলেন, গ্রেপ্তারের পর আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে আসামি শিশুটিকে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেন। এছাড়াও ডিএনএ রিপোর্টেও আসামি ওই শিশুকে ধর্ষণের প্রমাণ মিলেছে। মামলার অভিযোগপত্রে (চার্জশিট) এসব বিষয় আনা হয়েছে।

নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইবুনাল-১ এর পিপি মো. বদিউল আলম সুজন বলেন, মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরুর পর ১৯ কার্যদিবসের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করে আদালত মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন। এ রায় সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। রায় ঘোষণার পর আসামি মফুকে আদালত থেকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।




করতোয়া নদীর ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন

ডেস্ক নিউজ : গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার চকরহিমাপুর পূর্বপাড়া শ্মশানঘাট-সংলগ্ন করতোয়া নদীর ভাঙন রোধ এবং বসতবাড়ি ও ফসলি জমি রক্ষায় দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

বুধবার বিকেল চারটার দিকে উপজেলার সাপমারা ইউনিয়নের চকরহিমাপুর পূর্বপাড়া শ্মশানঘাট এলাকায় এলাকাবাসীর উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সাপমারা ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক সায়োয়ার মণ্ডল, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব মনির হোসেন সরকার, ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শাহ আলম সরদার, জেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সদস্য ও প্রভাষক সজল দেবনাথ এবং সহকারী শিক্ষক নিকুঞ্জ দেবনাথ।

বক্তারা বলেন, করতোয়া নদীর ভাঙন দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। গত কয়েক দিনে নদীগর্ভে একটি মাদ্রাসাসহ শতাধিক বিঘা ফসলি জমি বিলীন হয়েছে। ভাঙনের কারণে ঢাকা–দিনাজপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক, বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন, ঈদগাহ মাঠ, শ্মশানঘাট, একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দুটি হিন্দুপাড়া এবং বিস্তীর্ণ ফসলি জমি হুমকির মুখে পড়েছে বলে তারা দাবি করেন।

তারা আরও বলেন, ভাঙন রোধে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে আবেদন জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বাধ্য হয়ে স্থানীয়রা গাছের ডালপালা ও বাঁশ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করছেন। তবে এতে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না।

মানববন্ধন থেকে বক্তারা করতোয়া নদীর ভাঙন রোধে দ্রুত স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান। তাদের ভাষ্য, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে নদীপাড়ের গ্রামটি অস্তিত্ব সংকটে পড়বে।




রাজশাহীতে নিজ ঘর থেকে স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার

ডেস্ক নিউজ : রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় নিজ বাড়ি থেকে স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার বাজুবাঘা ইউনিয়নের আরিফপুর গ্রামের নিজ ঘরের বিছানা থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়।

এসময় বিছানার একপাশ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে একটি খালি বিষের বোতলও। এদিকে পুলিশের ধারণা, তারা বিষ পান করে আত্মহত্যা করে থাকতে পারে। তবে কেন তারা আত্মহত্যা করেছে তদন্ত ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ছাড়া বিস্তারিত কিছুই বলতে পারছে না পুলিশ।

নিহতরা হলেন ওই গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা জামাল উদ্দিনের ছেলে মনিরুল ইসলাম (৪৫) ও তার স্ত্রী স্বপ্না বেগম (৩৮)।মনিরুল পেশায় একজন ভ্যানচালক। দীর্ঘ প্রায় একযুগ আগে বিয়ে করলেও তাদের কোনো সন্তান হয়নি বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টার পরও মনিরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী ঘুম থেকে উঠতে না দেখে প্রতিবেশী ও আশেপাশের লোকজনের সন্দেহ হয়। কয়েক দফা ডাকাডাকির পরও দরজা না খোলায় ওই ঘরের পাশের একটি কক্ষের তালা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করলে একই বিছানায় স্বামী-স্ত্রীকে নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন স্বজনরা। খবর পেয়ে বাঘা থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুপুর ১টার দিকে এই দম্পতির মরদেহ উদ্ধার করে।

স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য আলাউদ্দিন বলেছেন, ‘প্রায় ১ যুগ আগে তারা বিয়ে করেছে। তবে তাদের কোনো সন্তান হয়নি। মনিরুল ভ্যান চালাত। দাম্পত্য জীবনেও তাদের কোনো মনোমালিন্য দেখিনি। তবে হঠাৎ কেন তারা এমন আত্মহত্যার পথ বেছে নিল তা বুঝতে পারছি না।’

স্বপ্না বেগমের ভগ্নিপতি ঈমাম উদ্দিন বললেন, ‘বেলা ১১টার দিকে খরব পেয়ে ঘটনাস্থলে আসি। এসে দেখি ঘরের দরজা ভেতর থেকে লাগানো। তখন পাশের কক্ষের দরজার তালা ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করে দেখি, তাদের মরদেহ বিছানায় পড়ে আছে। পাশেই বিষের একটি খালিত বোতল। পুরো রুমে বিষের গন্ধ ছিল। আমরা মনে করছি যে, তারা হয়তো আত্মহত্যাই করেছে। তবে কেন আত্মহত্যা করেছে সেটি আমরা বুঝতে পারছি না।’

নিহতের ভাইয়ের স্ত্রী পাখি খাতুন বলেন, ‘আমার ভাসুর আলাদা ঘর করে সেখানে থাকতেন। আশেপাশে কোন বাড়ি নেই। হঠাৎ কেন এমন ঘটনা ঘটলো আমরা বুঝতে পারছি না। আমার জা-ও আমাকে কখনো কিছু বলেনি। তাদের সন্তান হয় না এটি একটি কষ্ট ছিল। তবে এই কষ্টে মারা যাওয়ার কথা না।’

বাঘা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেরাজুল হক বলেছেন, ‘ঘটনাস্থল থেকে একটি বিষের বোতল উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া মরদেহের মুখে বিষের গন্ধ পাওয়া গেছে। তবে এটি আত্মহত্যা নাকি এর পেছনে অন্য কোন কারণ আছে সেটি নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত চলছে।’

তিনি আরও বললেন, ‘সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতের পর মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং অন্যান্য আলামত পর্যালোচনার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।’




কক্সবাজারে আবারও পাহাড়ধস, তরুণীর মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ : কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আবারও পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক রোহিঙ্গা তরুণীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তিন বছর বয়সী এক শিশু আহত হয়েছে।

সোমবার (২০ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টার দিকে উখিয়া উপজেলার রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৮ ইস্টের ব্লক ডি/৫ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পাহাড়ের ঢালে অবস্থিত একটি শেল্টারের ওপর মাটি ধসে পড়লে হতাহতের এ ঘটনা ঘটে।

নিহত তরুণীর নাম বিবি হাফসা (১৮)।

তিনি সুমি উল্লাহর মেয়ে। আহত শিশু আব্দুল মজিদ (৩) নুর ইসলামের ছেলে। স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠান।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পাহাড়ধসের সময় শেল্টারের ভেতরে অবস্থান করছিলেন বিবি হাফসা ও আব্দুল মজিদ। মাটিচাপায় বিবি হাফসা ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে আহত শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

উখিয়া থানার ওসি আতিকুর রহমান বলেন পাহাড়ধসে এক রোহিঙ্গা তরুণী মৃত্যু হয়েছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।




ভাঙনে কুতুবদিয়ায় বাড়ছে ভূমিহীন মানুষের সংখ্যা, আতঙ্কে উপকূলবাসী

ডেস্ক নিউজ : কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ায় সাগরের ভাঙন ও জোয়ারের পানিতে প্রতিবছরই বসতভিটা হারাচ্ছেন শত শত মানুষ। বর্ষা মৌসুম এলেই তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে দেখা দেয় নতুন আতঙ্ক। অকার্যকর জিও ব্যাগ ও ভাঙাচোরা বেড়িবাঁধের কারণে ভাঙন রোধ সম্ভব না হওয়ায় দিন দিন ভূমিহীন মানুষের সংখ্যা বাড়ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, গত কয়েক বছরে সাগরভাঙনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অসংখ্য বসতভিটা বিলীন হয়েছে। সরকারি হিসাবের চেয়েও বাস্তব পরিস্থিতি অনেক বেশি ভয়াবহ বলে দাবি স্থানীয়দের। একসময় স্বচ্ছল থাকা অনেক পরিবার এখন অন্যের জমিতে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

গত বছর আলী আকবর ও বড়ঘোপ ইউনিয়নের মুস্তফা, বদর উদ্দিন, মো. বাবুল, আব্দুল গফুর, জাহাঙ্গীর আলম, ফরিদ আলম, গোলাম মোস্তফা ও মোক্তার আহমেদসহ অনেকেই ভিটেমাটি হারিয়ে ভূমিহীন হয়েছেন। চলতি বর্ষায় একই এলাকার আব্দুল কাদের, আব্দু শুক্কুর, রুবেল, জসিম উদ্দিন, নুরুল হোছাইন, আমির হোছাইন, আবুল হোছাইন ও শাহাবুদ্দিনসহ প্রায় শতাধিক পরিবার নতুন করে ভাঙনের শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। একই পরিস্থিতি উত্তর ধূরুং, দক্ষিণ ধূরুং, কৈয়ারবিল ও লেমশীখালী ইউনিয়নেও।

ভুক্তভোগী মোস্তফা বেগম (৬০) বলেন, ‘সাগর আমার সব কেড়ে নিয়েছে। এখন পরিবার নিয়ে অন্যের আশ্রয়ে আছি। নিজের কোনো ঘর নেই, নেই কোনো ঠিকানা। দ্রুত সরকারি সহায়তা ও নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা চাই।’

আরেক ভুক্তভোগী আব্বাস উদ্দিন বলেন, দুই বছর আগে একবার ভিটেমাটি হারিয়েছিলেন। অনেক কষ্টে নতুন করে ঘর তুললেও এবার সেটিও সাগরে বিলীন হয়েছে। বর্তমানে আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে তাদের।

বড়ঘোপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আ.ন.ম শহিদ উদ্দিন ছোটন বলেন, ইতোমধ্যে ১৫ থেকে ২০টি বসতবাড়ি সাগরগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ফেলার কথা থাকলেও কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত পুনর্বাসন এবং প্রয়োজনীয় জিও ব্যাগ সরবরাহের পাশাপাশি কুতুবদিয়াকে রক্ষায় স্থায়ী ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, সাগরভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।




শীতলক্ষ্যায় নিখোঁজের ৮ ঘণ্টা পর রাষ্ট্রীয় পদকপ্রাপ্ত ডুবুরি সাদিকের মরদেহ উদ্ধার

ডেস্ক নিউজ : নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীতে কচুরিপানা পরিষ্কার করতে গিয়ে পানিতে পড়ে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ৮ ঘণ্টা পর ফায়ার সার্ভিসের রাষ্ট্রীয় পদকপ্রাপ্ত ডুবুরি সাদিক হোসেন শুভর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বেলায় ১১টার দিকে শহরের নিতাইগঞ্জ এলাকার ফায়ার সার্ভিস জেটিতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত সাদিক রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার কুমড়াকান্দি গ্রামের আশরাফ শেখের ছেলে। তিনি নারায়ণগঞ্জ নদী ফায়ার স্টেশনের একজন অভিজ্ঞ ডুবুরি ছিলেন এবং বিভিন্ন উদ্ধার অভিযানে সাহসিকতার স্বীকৃতি হিসেবে রাষ্ট্রীয় পদক অর্জন করেছিলেন।

জানা গেছে, ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি সদস্য সাদিক, শামসুল ও স্পিডবোটচালক সজল মিলে জেটিতে জমে থাকা কচুরিপানা পরিষ্কার করছিলেন। এ সময় হঠাৎ স্পিডবোট থেকে নদীতে পড়ে গিয়ে তলিয়ে যান সাদিক। ধারণা করা হচ্ছে, পানিতে পড়ার সময় তিনি মাথায় বা শরীরের অন্য কোথাও আঘাত পেয়ে দ্রুত তলিয়ে যান।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও বিআইডব্লিউটিএ-এর ডুবুরিদল উদ্ধার অভিযান চালায়। দীর্ঘ তল্লাশির পর সন্ধ্যা ৭টার দিকে নিতাইগঞ্জের কেরোসিন ঘাট এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।




থানা প্রাঙ্গণে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেওয়ার চেষ্টা ৭ মামলার আসামির

ডেস্ক নিউজ : নারায়ণগঞ্জের বন্দরে থানা প্রাঙ্গণে নিজের শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করেছেন রমজান আলী (৩৫) নামে এক যুবক। রমজান তালিকাভুক্ত মাদক মামলার আসামি এবং তার বিরুদ্ধে ৭টি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেল ৩টায় বন্দর থানা চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। রামজান আলী বন্দরের একরামপুর ইস্পাহানী বাজার এলাকার হাবিবুর রহমান হবির ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সপ্তাহে এলাকাবাসী তার মাদকের আস্তানা গুঁড়িয়ে দেয় এবং তাকে এলাকা থেকে বিতারিত করে। গত তিনদিন আগে সে এলাকায় ফিরে এলে স্থানীয়রা তাকে মাদক বিক্রি না করার জন্য সতর্ক করে। বুধবার বিকেলে হঠাৎ সে ৫ লিটারের বোতলে কেরোসিন নিয়ে থানায় গিয়ে নিজ শরীরে কেরোসিন ঢেলে ‘ওসি.. ওসি..’ বলে চিৎকার করতে থাকে। এসময় তাকে বলতে  শোনা যায়, ‘আমি মাদক ব্যবসায়ী। আমি মাদক ব্যবসা ছেড়ে দিতে চাই। তবু এলাকায় আমাকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। তাই আমি নিজ শরীরে আগুন জ্বালিয়ে আত্মহত্যা করব।’
পরে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে গোসল করিয়ে থানা হাজতে আটক রাখে।

বন্দর থানার ওসি জামাল উদ্দিন বলেন, রমজান আলী একজন তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে সাতটি মামলা রয়েছে। বুধবার হঠাৎ থানা প্রাঙ্গনে এসে সে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করে। পরে আমরা তাকে নির্বৃত্ত করি। পরে তাকে আটক করে হাজতে রাখা হয়েছে। এই ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।




শিক্ষককে ঘরে আটকে মাথায় ১০ কোপ, শিক্ষার্থীর মা গ্রেফতার

ডেস্ক নিউজ : কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ঘরে আটকে সিঁথি সীমিতা (২৮) নামের এক স্কুলশিক্ষককে নৃশংসভাবে কুপিয়েছেন এক নারী শিক্ষার্থীর মা। এ ঘটনায় শিক্ষকের মাথায় ১০টি কোপের আঘাত লেগেছে। এছাড়া, একটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) চিকিৎসাধীন। টিউশনির টাকা চাওয়ায় ওই শিক্ষার্থীর মা প্রিয়া বেগম (২৫) এ ঘটনা ঘটান বলে অভিযোগ উঠেছে।

গতকাল সোমবার সকালে উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের পানাউল্লাহরচর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, সিঁথি সীমিতা স্থানীয় একটি বেসরকারি স্কুলে শিক্ষকতা করেন। প্রিয়ার এক সন্তানকে তিন মাস ধরে বাসায় গিয়ে পড়ান তিনি। এ জন্য সিঁথি মাসে দেড় হাজার টাকা করে নেন। কিছুদিন আগে সিঁথি টিউশনির টাকা চান। এতে প্রিয়া ক্ষুব্ধ হন। গতকাল সকালে ওই শিক্ষার্থীকে আবারও পড়াতে যান সিঁথি। পড়ানো শেষ করে চলে আসার আগমুহূর্তে শিক্ষার্থীর মা প্রিয়া দরজা বন্ধ করে দা দিয়ে সিঁথিকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন।

দরজা আটকানো থাকায় চেষ্টা করেও সিঁথি ঘর থেকে বের হতে পারেননি। তার সারা শরীরে অসংখ্য কোপ লেগেছে। তার সাতটি আঙুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। পরে সিঁথির চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে প্রথমে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢামেক হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন। তার মাথায় ১০টি কোপ লেগেছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। মাথায় ৫০টি সেলাই দিতে হয়েছে।

আহত সিঁথি সীমিতা বলেন, মাথায় প্রথম কোপটি দেওয়ার পর আমি দৌড়ে দরজা খোলার চেষ্টা করি। তখন দেখি দরজান ছিটকিনি লাগানো। পরে আর বের হতে পারিনি।

এদিকে, স্থানীয় লোকজন তাৎক্ষণিক হামলাকারী প্রিয়াকে পুলিশে দেন। তিনি একই এলাকার খাবারের হোটেল ব্যবসায়ী বায়েজিদ মিয়ার স্ত্রী।

এ ঘটনায় থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা হয়েছে। ওই মামলায় অভিযুক্ত গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কিশোরগঞ্জ কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ভৈরব থানার জ্যেষ্ঠ উপ-পরিদর্শক এমদাদুল কবির বলেন, হামলার পেছনে আরও কোনো কারণ রয়েছে কিনা, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।




চাঁদপুরে সাবেক নারী ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

ডেস্ক নিউজ : চাঁদপুরের শাহরাস্তি পৌরসভার দোয়াভাঙ্গা এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে নাজমুন নাহার স্বপ্না (৩৩) নামে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সাবেক নারী ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে দোয়াভাঙ্গা নিউ লাইফ হাসপাতাল ভবনের পঞ্চম তলার একটি ভাড়া বাসা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় স্বপ্নার দুই শিশু সন্তান বাসায় ছিল। সকাল ৮টার দিকে শিশুদের কান্নার শব্দ শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে গিয়ে একটি কক্ষে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে শাহরাস্তি মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহত নাজমুন নাহার স্বপ্নার বাড়ি কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার লালচাঁদপুর ইউনিয়নের বাংলাইশ গ্রামে। তিনি নজরুল ইসলাম ও ফিরোজা বেগমের মেয়ে। সর্বশেষ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে ‘কলস’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। এছাড়া তিনি খিলা বাজার এলাকায় একটি বিউটি পার্লার পরিচালনা করতেন।

স্বজনরা জানান, স্বপ্নার তিনটি বিয়ে হয়েছিল। প্রথম দুই সংসার বিচ্ছেদের পর সর্বশেষ শাহরাস্তি উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের প্রবাসী রাসেল চৌধুরী রাজুর সঙ্গে তার বৈবাহিক সম্পর্ক ছিল। স্থানীয়দের ভাষ্য, চার দিন আগে তিনি নিউ লাইফ হাসপাতাল ভবনের পঞ্চম তলায় দুই কক্ষের একটি বাসা ভাড়া নেন।

বাসার মালিক মেহেদী হাসান জানান, চার দিন আগে রাসেল চৌধুরী রাজু স্বামী পরিচয়ে ওই নারীর জন্য বাসাটি ভাড়া নেন।

শাহরাস্তি মডেল থানার এসআই শমশেদ হোসেন ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠান।

শাহরাস্তি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, প্রাথমিকভাবে ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা আলামত এবং তদন্তের ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এটি আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।




‘টাইগার খেয়েছি, আর্জেন্টিনার খেলা দেখেছি, এরপর কী হয়েছে, জানি না’

ডেস্ক নিউজঃ শরীয়তপুরের গোসাইরহাটে সহকারি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। 

এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ। রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে গোসাইরহাট উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রোববার দুপুরে উপজেলার আওলালপুর ইউনিয়নের চর জালালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিএম জসিম উদ্দিন রেইনকোট, মুখে মাস্ক ও চোখে সানগ্লাস পরে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে প্রবেশ করেন। 

একপর্যায়ে তিনি সুযোগ বুঝে সঙ্গে থাকা ব্যাগ থেকে একটি কুড়াল বের করে সহকারি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শাকিল আহমেদের ওপর হামলা চালান। এতে শাকিল আহমেদ আহত হন।

এ সময় অফিসে উপস্থিত অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দ্রুত এগিয়ে এসে হামলাকারীকে প্রতিহত করে আহত কর্মকর্তাকে উদ্ধার করেন। পরে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটকে রেখে গোসাইরহাট থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়।

তবে হামলার বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক বিএম জসিম উদ্দিন সুস্পষ্ট কোনো উত্তর দিতে পারেননি।

একটি ভিডিওতে তাকে অসংলগ্ন উত্তর দিতে দেখা যায়। তিনি বলেন, আমি সকালে টাইগার খেয়েছি, আর্জেন্টিনার খেলা দেখেছি। এরপর কী হয়েছে, আমি জানি না।

এ বিষয়ে আহত সহকারি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শাকিল আহমেদ বলেন, অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিএম জসিম উদ্দিনের বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে আমি একাধিকবার তাকে সতর্ক ও জবাবদিহির আওতায় আনার চেষ্টা করেছি।

এরই জের ধরে তিনি পরিকল্পিতভাবে মুখ ঢেকে আমার কার্যালয়ে এসে কুড়াল দিয়ে হামলা চালিয়েছেন। সহকর্মীরা দ্রত এগিয়ে না এলে আরও বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। বর্তমানে আমি থানায় রয়েছি। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

এ ব্যাপারে গোসাইরহাট থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বোরহান উদ্দিন বলেন, আমরা অভিযুক্ত শিক্ষককে পুলিশ হেফাজতে নিয়েছি। এখন পর্যন্ত কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।